Tag: Nalanda University

Nalanda University

  • Rajgir: উষ্ণ প্রস্রবণ, গুহা, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়! ঘুরে আসুন ‘পাঁচ পাহাড়ের দেশ’ রাজগীর

    Rajgir: উষ্ণ প্রস্রবণ, গুহা, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়! ঘুরে আসুন ‘পাঁচ পাহাড়ের দেশ’ রাজগীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সময় নাম ছিল রাজগৃহ (Rajgir)। রত্নগিরি, বিপুলগিরি, বৈভবগিরি, শোনগিরি, উদয়গিরি-এই পাঁচটি পাহাড় দিয়ে ঘেরা, তাই কেউ কেউ একে ‘পাঁচ পাহাড়ের দেশ’ বলেও অভিহিত করেন। আর আপামর পর্যটকের কাছে এর পরিচিতি রাজগীর নামে। মগধরাজ জরাসন্ধের রাজধানী ছিল এই রাজগীর। সম্রাট অশোকের পিতা সম্রাট বিম্বিসারের রাজধানী ছিল এই রাজগীর। পরবর্তী কালে সম্রাট অশোক এখান থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন তৎকালীন পাটলিপুত্র, বর্তমানের পাটনাতে। ভগবান বুদ্ধ তাঁর জীবনের ১২টি বসন্ত কাটিয়েছেন এখানে। নালন্দার কাছে কুন্দলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর। সেই অর্থে রাজগীর হল বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের অনুগামীদের জন্য এক পবিত্র তীর্থস্থান। রাজগীরের সেরা আকর্ষণ হল গৃধ্যকূট পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বিশ্বশান্তি স্তূপ। গৌতম বুদ্ধের স্মরণে জাপানের বৌদ্ধ সংঘ এই বিশ্বশান্তি নির্মাণ করেন।

    প্রধান আকর্ষণ উষ্ণ প্রস্রবণ (Rajgir)

    রাজগীরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল এখানকার উষ্ণ প্রস্রবণগুলি। বৈভব পাহাড়ের পাদদেশে ব্রহ্মা মন্দিরের পাশেই এই উষ্ণ প্রস্রবণ। অনেকেই মনে করেন এই উষ্ণ প্রস্রবণের (Hot Springs) জলে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ থাকায় এই জলে স্নান করলে বহু রোগের নিরাময় হয়। এর কাছেই জয়প্রকাশ নারায়ণ পার্ক। এর বিপরীতে রয়েছে মনিয়ার মঠ। এটিকে অনেকেই ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন ও মহাভারতে বর্ণিত মণিনাগের মন্দির বা মনসা মন্দির বলেন। এখান থেকে একটু এগোলেই বাঁ দিকে মৃগ উদ্যান আর সামান্য দূরে জরাসন্ধের রত্নাগার।

    সপ্তপর্ণী গুহা

    এর পরের দ্রষ্টব্য সপ্তপর্ণী গুহা (Rajgir)। বৈভব পাহাড়ের এই গুহায় বসেই লেখা হয়েছিল বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক। এবার চলুন বেনুবন।একটি বিশাল সরোবরসহ এই সুন্দর বাগানটি ভগবান বুদ্ধকে উপহার স্বরূপ দিয়েছিলেন নৃপতি বিম্বিসার। এছাড়াও দেখুন ভীরায়তন মিউজিয়াম, রথচক্র দাগ, রণক্ষেত্র, জাপানি ও বার্মিজ টেম্পল, জৈন তীর্থঙ্কর আদিনাথের মন্দির, নওলখা মন্দির প্রভৃতি।

    নালন্দা দর্শন (Rajgir)

    রাজগীর ভ্রমণের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল নালন্দা দর্শন। রাজগীর থেকে প্রায় ১৪ কিমি দূরে এই প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ। এটিই হল নালন্দার প্রধান আকর্ষণ। এর প্রবেশ পথের ঠিক উল্টো দিকেই রয়েছে মিউজিয়াম। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ থেকে পাওয়া বিভিন্ন এবং অন্যান্য স্থানের বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য ও আকর্ষণীয় জিনিসপত্র প্রদর্শিত হয়েছে।
    ইচ্ছে এবং হাতে সময় থাকলে একই সঙ্গে ঘুরে নেওয়া যায় রাজগীর থেকে ৩১ কিমি দূরে পাওয়াপুরি থেকেও। পাওয়াপুরির জল মন্দিরটি ভালো লাগবেই।

    যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া

    যাতায়াত-কলকাতা/হাওড়া থেকে পাটনাগামী যে কোনও ট্রেন ধরে আসতে হবে পাটনার একটু আগে বখতিয়ারপুর স্টেশনে। সেখান থেকে বাস বা গাড়িতে যেতে হবে ঘণ্টা দেড়েক দূরে রাজগীর (Rajgir)।
    থাকা-খাওয়া-এখানে রয়েছে সারদা গ্রুপের বেশ কয়েকটি হোটেল। এর মধ্যে রয়েছে ১) হোটেল রাজলক্ষ্মী ২) মা সারদা লজ ৩) বঙ্গবাসী লজ ৪) হোটেল সারদা প্রভৃতি। যোগাযোগ-০৯৩৩৯৮৯৯৪৯৩, ০৯৪৩১৪৮৭৬৪৬। এদের কলকাতায় নিজস্ব অফিস আছে ৫ বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট-এ । ফোন-৮৫৮২৯১৬৪৯৯ , ৯৪৩৩৭৫২৭২৩, ৯০৫১২৪৮৫৫৭২। প্রসঙ্গত জানাই, এখানে বাস বা গ্রুপ পার্টির থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে।

  • Nalanda University: অক্সফোর্ড প্রতিষ্ঠার পাঁচশো বছরেরও আগে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি ছিল বিশ্বজুড়ে

    Nalanda University: অক্সফোর্ড প্রতিষ্ঠার পাঁচশো বছরেরও আগে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি ছিল বিশ্বজুড়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ৫০০ বছরেরও বেশি আগে ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Nalanda University) খ্যাতি পৃথিবী জুড়ে ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির তিনটি ভবন ছিল। তার মধ্যে একটি ছিল ন’তলার। ইতিহাসবিদদের মতে, সেখানে সংগ্রহে ছিল ৯০ লাখ বই। সারা পৃথিবী থেকে দশ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া আবাসিক ছাত্র হিসেবে পাঠ নিতেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবেই গড়ে ওঠে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। আশপাশের শহর বলতে বিখ্যাত বৌদ্ধ ধর্মের কেন্দ্র বোধগয়া। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল ইটের ধ্বংসাবশেষ আজও যেন কথা বলে।

    ৪২৭ খ্রিস্টাব্দ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল

    ইতিহাসবিদদের মতে, ৪২৭ খ্রিস্টাব্দ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (Nalanda University) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটা ছিল পৃথিবীর প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ বর্তমান দিনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধরনের হস্টেলে আমরা দেখতে পাই যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে পড়ুয়ারা পাঠ নিতে আসেন, আজ থেকে ১,৬০০ বছর আগে তা প্রথম করে দেখিয়েছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হত চিকিৎসাবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা, গণিত, সর্বোপরি বৌদ্ধ নীতি। জানা যায়, পূর্ব এবং মধ্য এশিয়া থেকে সব থেকে বেশি ছাত্ররা এখানে আসতেন। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে দলাই লামা একবার বলেছিলেন, ”আমাদের সমস্ত জ্ঞানের উৎস নালন্দা থেকে এসেছে।” ৭০০ বছর ধরে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমশ বিকশিত হয়েছিল। পৃথিবীতে এমন বিশ্ববিদ্যালয় আর একটিও ছিল না। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক পরে প্রায় পাঁচ শতক পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানতে পারা যায়। শিক্ষার পীঠস্থান হিসেবে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় যে সারা পৃথিবীকে পথ দেখাত- এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

    নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব

    নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে (Nalanda University) বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব দেখা যায়। গুপ্ত সাম্রাজ্যের রাজারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশে অনেক অবদান রেখেছিলেন বলে জানা যায়। তাঁরা বৌদ্ধ ধর্মের দর্শনকে প্রচার করতেন। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়ুর্বেদ শিক্ষার ওপরে জোর দেওয়া হত। আয়ুর্বেদিক শিক্ষাতে ওষুধের বদলে প্রকৃতিভিত্তিক নিরাময় পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়। সেখানে এই পাঠ ছাত্রদের দেওয়া হতো। ছাত্ররা তা শিখে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তার প্রয়োগ করতেন। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল প্রার্থনা হল, বক্তৃতা কক্ষ, পাশাপাশি ছিল হ্রদ এবং পার্ক।

    ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইডের মর্যাদা পেয়েছে 

    জানা যায়, বৌদ্ধশিক্ষা এবং দর্শন প্রচারের জন্য নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (Nalanda University) থেকে নিয়মিতভাবে চিন, কোরিয়া, জাপান, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলি থেকে পন্ডিত এবং অধ্যাপকরা আসতেন। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পন্ডিত এবং অধ্যাপকরা আবাসিকভাবে এসে গবেষণা করতেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক এমন ভাব বিনিময়ের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছিল নালন্দা। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইডের মর্যাদা পেয়েছে।

    মুসলমান আক্রমণকারী বক্তিয়ার খিলজি 

    ১১৯০ সালের পর মুসলমান আক্রমণকারী বক্তিয়ার খিলজি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্বংসলীলা চালায় এবং নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে পুড়িয়ে দেয় বলে জানা যায়। জানা যায়, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ইখতিয়ারউদ্দিন বখতিয়ার খিলজির বাহিনী আগুন জ্বালালে তা তিন মাস ধরে জ্বলেছিল। এতটাই বিস্তৃত ছিল নালন্দার প্রাঙ্গণ। ঐতিহাসিকদের মতে, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Nalanda University) একটি শ্রেণিকক্ষে বসতে পারতেন ৩০০ জন ছাত্র। বর্তমান দিনের মতোই টিচারদের জন্য পোডিয়াম রাখা থাকত। জানা যায়, বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে আগত পড়ুয়াদের জন্য আবাসনগুলিও আলাদা আলাদা হত।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কিন্তু অত সহজ ছিল না 

    প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কিন্তু অত সহজ ছিল না। যথেষ্ট কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে পড়ুয়ারা পেতেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সুযোগ। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা পড়ুয়াদের মৌখিক পরীক্ষা নিতেন বলে জানা যায়। মৌখিক পরীক্ষা যাঁরা নিতেন সেই অধ্যাপকদের জন্য তৈরি করা হত একটি টিম। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যাপক হিসেবে নাম উঠে আসে ধর্মপাল এবং শীলভদ্রের!

    তালপাতার পান্ডুলিপি নিয়ে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছিলেন কয়েকজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী 

    প্রথমেই বলা হয়েছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (Nalanda University) গ্রন্থাগারের ছিল ৯০ লাখ বই। এগুলো সবটাই হাতে লেখা। এগুলি ছিল তালপাতার পান্ডুলিপি। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে তিনটি লাইব্রেরি ভবনের মধ্যে একটি লাইব্রেরী ছিল নয় তলা বিল্ডিং। এটিকে ‘মেঘের মধ্যে উড্ডয়ন’ লাইব্রেরী বলে বর্ণনা করেছেন তিব্বতীয় বুদ্ধ পন্ডিত তারানাথ। ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি যখন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের আগুন লাগিয়েছিল তখন অনেকে বই পুড়ে গেলেও বেশ কতগুলি তালপাতার পান্ডুলিপি নিয়ে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছিলেন কয়েকজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী। যেগুলি বর্তমানে রাখা আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেন্সে কাউন্টিং মিউজিয়াম অফ আর্ট এবং তিব্বতের ইয়ারলিং মিউজিয়ামে।

    পরিব্রাজক হিউয়েন সাং নালন্দায় অধ্যাপনা করতেন

    জানা যায় চিনা বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং পরিব্রাজক হিউয়েন সাং নালন্দায় অধ্যাপনা করতেন। ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ তিনি চিনে ফিরে যান। তখন তিনি ৬৫৭টি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থ সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এগুলি তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন চিনা ভাষায় অনুবাদ করবেন বলে। হিউয়েন সাংয়ের জাপানি শিষ্য ছিলেন দোসো, তিনিও পরবর্তীকালে তার গুরুর পথ ধরে ওই বইগুলিকে জাপানি ভাষায় অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলার কারণ ছিল সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয়

    ঐতিহাসিকদের মতে, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলার কারণ ছিল সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয়। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ধর্মের পীঠস্থান হয়ে উঠেছে এবং তা ইসলামের পক্ষে বিপজ্জনক এই ধারণা থেকেই বখতিয়ার খিলজির বাহিনী গোটা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Nalanda University) গ্রন্থাগারকে জ্বালিয়ে দেয়। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় খননের সময় বুদ্ধের ব্রোঞ্জের মূর্তি, হাতির দাঁত, হাড়ের টুকরো প্রভৃতি উদ্ধার হয়েছিল। কোনও কোনও মহলের বক্তব্য হল, হুণ রাজাদের আমলে মিহিরকুল প্রথম নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছিলেন। পঞ্চম শতাব্দীতে আবার বাংলার গৌড় রাজারাও নাকি আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তবে এই তথ্যের কোনও প্রমাণ সে অর্থে পাওয়া যায় না।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ancient Universities of India: নালন্দা থেকে তক্ষশীলা! প্রাচীন ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

    Ancient Universities of India: নালন্দা থেকে তক্ষশীলা! প্রাচীন ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাচীন ভারত ছিল শিক্ষার পীঠস্থান (Ancient Universities of India)। অতীত ভারতের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় ছিল যা নিয়ে আজও আমরা গর্ব অনুভব করি। পঠনপাঠন শিক্ষাদানের কৌশল- এ সমস্ত কিছুতে প্রাচীন ভারত অনেকটাই এগিয়েছিল। তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নালন্দা ভারতের এই দুই প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় আজও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সারিতে স্থান পেয়েছে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়। সে সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও ভারতে আসতেন পড়ুয়ারা। দর্শন, গণিত, চিকিৎসাবিদ্যা, কলা বিদ্যা, প্রভৃতি বিষয়ে পাঠদান চলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে। আজকে আমরা ভারতবর্ষের এমনই কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আলোচনা করব।

    নালন্দা ও তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়

    নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়

    – জানা যায়, ভারতে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (Ancient Universities of India) ৪২৭ থেকে ১১৯৭ সাল পর্যন্ত ভারতের উচ্চ শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।

    – নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম শতাব্দীতে স্থাপিত হয়েছিল। অবস্থান ছিল বর্তমান দক্ষিণ নেপাল সীমান্তের কাছে উত্তর-পূর্ব ভারতে।

    – নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৌদ্ধ বিষয়গুলিতে পাঠদান করা হতো। এর পাশাপাশি চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, রাজনীতি, যুদ্ধবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ে সেখানে পাঠদান চলত বলে জানা যায়।

    – নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ৮ টি বড় বড় প্রাঙ্গণ ছিল। দশটি মন্দির ছিল। ধ্যান ঘর ছিল, আলাদা আলাদা বিষয়ে পাঠদানের জন্য শ্রেণীকক্ষ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই ছিল হ্রদ। সময় কাটানোর জন্য পার্কও ছিল। একটি নয় তলা লাইব্রেরী ছিল, যেখানে সন্ন্যাসীরা হাতে লিখে বিভিন্ন বইকে অনুবাদ করতেন।

    – নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসও ছিল। সেখানে ১০,০০০ এরও বেশি ছাত্রদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। জানা যায়, অধ্যাপকদের থাকার জন্য সেখানে আবাসন গড়ে উঠেছিল এবং এগুলিতে দুই হাজারেরও বেশি অধ্যাপক থাকতেন।

    – নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরিয়া, জাপান, চিন, তিব্বত, ইন্দোনেশিয়া, তৎকালীন পারস্য বা বর্তমান দিনের ইরান, তুরস্ক সহ অন্যান্য দেশ থেকে পন্ডিত ও ছাত্ররা আসতেন বলে জানা যায়।

    – বর্তমান দিনে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (Ancient Universities of India) হদিশ মেলে রাজগীর থেকে ঠিক আধাঘন্টা বাসযাত্রার করলেই। এখানে পাওয়া যায় বৌদ্ধ ধর্মের সারিপুত্রের স্তূপ। এগুলোতেই সন্ন্যাসীরা থাকতেন এবং পড়াশোনা করতেন বলে জানা যায়।

    – নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। চিন থেকে এসেছিলেন হিউয়েন সাং। অন্যান্য বিদেশী পর্যটকরাও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণা করতেন।

    – ৭০০ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করেছিল। কিন্তু দ্বাদশ শতকে ইখতিয়ারউদ্দিন বখতিয়ার খিলজি, এই বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণ করে। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীকেও তিনি জ্বালিয়ে দেন। তখনই ধ্বংস হয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।

    – উনিশ শতকের শেষের দিক থেকে খননকার্য শুরু হয় এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে।

    – নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণটি বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে একটি ছোট জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

     তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়

    – তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতবর্ষের অন্যতম একটি প্রাচীন শিক্ষা কেন্দ্র। জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে।

    – পঞ্চম শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে সে সময় জাতকের গল্পে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।

    – তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে চাণক্যের নাম, যিনি বিখ্যাত অর্থশাস্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় বহু শতাব্দী ধরে শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল ভারত সহ বিশ্বে।

    – জানা যায়, তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেদ কলা বিভাগের বিভিন্ন বিষয়, আইন শাস্ত্র, চিকিৎসা, সামরিক বিজ্ঞান- এ সমস্ত কিছুতেই শিক্ষা প্রদান করা হত।

    – তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষের খোঁজ পাওয়া যায় তিনটি আলাদা আলাদা শহরে।

    – তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে অবস্থিত ছিল তার আশেপাশে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার ও স্তুপ।

    – জানা যায়, রাজা তক্ষ বা তক্ষকের নামানুসারেই শহরের নাম হয় তক্ষশীলা এবং সেখান থেকেই তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়।

    – হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের কাছে তক্ষশীলার ব্যাপক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষত, বৌদ্ধ ধর্মের মহাজান সম্প্রদায়ের বিকাশে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল বলে মনে করা হয়।

    – চাণক্য, সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এবং চরকের মতো খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ভারতের অন্যান্য প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়

    ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয় (Ancient Universities of India)

    – দেশের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বিহারে অবস্থিত ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়। পাল রাজবংশের রাজা প্রথম গোপালের সময় এটি নির্মিত হয়েছিল বলে জানা যায়।

    – ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ মহাবিহার হিসেবে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার কেন্দ্র ছিল এবং তা মঠ হিসেবেও কাজ করতো
    – কিন্তু পরবর্তীকালে মুসলিম আক্রমণে ওদন্তপুরীদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয় এই আক্রমণ করেন

    বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয়

    – জানা যায়, বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান বিহারের ভাগলপুর জেলায় অবস্থিত। পাল বংশের রাজা ধর্মপাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন করেছিলেন।

    – জানা যায়, বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের জন্য শুধু ভারত নয়, সারা বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার হয়েছিল।

    – বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয় চলত বৌদ্ধ ধর্মের বজ্রযান মত অনুসারে।

    – বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন বিষয় অধ্যয়নের পাশাপাশি এখানে যুক্তিবিদ্যা, বেদ, জ্যোতির্বিদ্যা, নগর পরিকল্পনা, আইন, ব্যাকরণ দর্শন সমেত অন্যান্য বিষয়ে পাঠদান চলতো।
     
    জগদ্দল বিশ্ববিদ্যালয় (Ancient Universities of India)

    – বাংলায় অবস্থিত ছিল জগদ্দল বিশ্ববিদ্যালয়। জানা যায়, বৌদ্ধ ধর্মের বজ্রযান সম্প্রদায়ের মত অনুসারে এই বিশ্ববিদ্যালয় পাঠদান চলত।

    – নালন্দা ও বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম আক্রমণে ধ্বংস হওয়ার পরে অসংখ্য পণ্ডিত জগদ্দল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন বলে জানা যায়।

    – রাজবংশের রাজা রামপাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

    ভালভী  বিশ্ববিদ্যালয়

    – গুজরাটের সৌরাষ্ট্রে অবস্থিত হল ভালভী বিশ্ববিদ্যালয়। বৌদ্ধ ধর্মের হীনযান মত অনুসারে এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হত।

    – প্রশাসন, শিল্প, আইন, দর্শন প্রভৃতি বিষয়ক পাঠদান করানো হত এখানে।

    – চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

    কাঞ্চীপুরম বিশ্ববিদ্যালয়

    – প্রথম শতাব্দীতে নির্মিত কাঞ্চীপুরম বিশ্ববিদ্যালয় হিন্দু ধর্ম, জৈন ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।

    – জানা যায়, পল্লব রাজবংশের আমলে এই বিশ্ববিদ্যালয় খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

    মানখেতা বিশ্ববিদ্যালয়

    – মানখেতা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান কর্ণাটকে মালখেত নামে পরিচিত।

    – রাষ্ট্রকূট রাজবংশের আমলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি দুনিয়া ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

    পুষ্পগিরি বিহার ও ললিতগিরি

    – ওড়িশার পুষ্পগিরি বিহার এবং ললিতাগিরি খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে কলিঙ্গ রাজাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা যায়। উদয়গিরি পাহাড়ের কাছে বৌদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি গড়ে উঠেছিল।

    শারদা পীঠ

    – শারদা পীঠ বর্তমানে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত। এটি সংস্কৃত শিক্ষাবিদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

    – দেবী শারদাকে উৎসর্গ করে তৈরি করা হয়েছিল এই পীঠ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস এখানে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব বাস করেন।

    নাগার্জুনকোন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়

    – অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতী থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাগার্জুনকোন্ডা একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ কেন্দ্র ছিল।

    – শ্রীলঙ্কা, চিন সহ বিভিন্ন দেশের পণ্ডিতরা এখানে এসেছিলেন বলে জানা যায়।

    – নাগার্জুনকোণ্ডা নামটি দক্ষিণ ভারতের একজন বিশিষ্ট মহাযন বৌদ্ধ শিক্ষক নাগার্জুনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি হয়েছিল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Nalanda University: ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়! শুরু শিক্ষাদান

    Nalanda University: ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়! শুরু শিক্ষাদান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাচীন ভারতের শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতি কেমন ছিল, তা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস জানলেই আমরা বুঝতে পারি। সমগ্র এশিয়া মহাদেশ ও বিশ্বজুড়ে এর খ্যাতি ছিল। প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Nalanda University) ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে সঠিক অবস্থান সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানান বিবাদ আছে। প্রাচীন ভারতের ১৬ টি মহাজনপদের অন্যতম শক্তিশালী জনপদ মগধের রাজধানী রাজগৃহ, যা বর্তমনকালের রাজগীর। সেই রাজগীরের কাছেই এই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এসেছিলেন শিক্ষা গ্রহণ করতে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি এখানে অধ্যাপক হিসাবে বহুদিন কাজ করেন। 

    কেমন ছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়?

    এটি ছিল একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়  (Nalanda University)। এখানে সবরকম সুযোগসুবিধা পাওয়া যেত। এখানে ছিল এক মস্ত বড় গ্রন্থাগার, যার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। এই গ্রন্থাগারটি ছিল সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বিশাল গ্রন্থাগার, যেখানে অজস্র বইয়ের সমাহার ছিল। দূর দূর থেকে ছাত্ররা ছুটে আসতেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে। চিন, কোরিয়া, তিব্বত, সুমাত্রা ইত্যাদি দেশ থেকে দলে দলে ছাত্ররা আসতেন। এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষাদান করা হত। সমগ্র বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এটি। ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নালন্দা মহাবিহার ছিল ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আনুমানিক ১২০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বখতিয়ার খিলজি এই মহাবিহার ধ্বংস করেন, যার ধ্বংসাবশেষ ১৯৯৫ সালে খনন করা হয়। বেদ, ‘হেতুবিদ্যা’ (ন্যায়শাস্ত্র), ‘শব্দবিদ্যা’ (ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্ব), ‘চিকিৎসাবিদ্যা’ (ভেষজবিদ্যা), জাদুবিদ্যা-সংক্রান্ত অন্যান্য গ্রন্থ (অথর্ববেদ) ও সাংখ্য দর্শন সম্মন্ধে এখানে শিক্ষাদান করা হত। গবেষণা অনুযায়ী আইন, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও নগর-পরিকল্পনা প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষাদান করা হত।

    নালন্দার পুনরুজ্জীবন, আবার শুরু হয়েছে শিক্ষাদান

    প্রথমে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম ২০০৬ সালে নালন্দাকে (Nalanda University) আবার ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। তার বছর চারেক বাদে অর্থাৎ ২০১০ সালে ভারতীয় পার্লামেন্টে পাশ হয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বিল, যেখানে প্রস্তাব রাখা হয় নতুন আকারে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং তাতে পড়ানো হবে ভাষাতত্ত্ব, ইতিহাস, পররাষ্ট্রনীতি, পরিবেশবিদ্যা বা বৌদ্ধ দর্শনের মতো নির্বাচিত কিছু বিষয়। যাতে নালন্দা আবার সেই আগের মতো এক উচ্চশিক্ষা দানকারী বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে। তার জন্য গড়ে তোলা হয় ‘নালন্দা মেন্টর গ্রুপ’-যার নেতৃত্বে ছিলেন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার পর অমর্ত্য সেন আচার্যের পদে মনোনীত হন। সেই বিশ্ববিদ্যালয় আজ আবার তার শিক্ষাদান শুরু করেছে। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, দেশ বিদেশ থেকে আসছে ছাত্ররা, এখানে শিক্ষা গ্রহণ করতে। 

    কী কী বিষয় এখন পড়ানো হয়?

    বর্তমানে এখানে (Nalanda University) ৬টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পড়ানো হয়। সেগুলি হল-হিন্দু স্টাডিজ, বিশ্ব সাহিত্য, Sustainable Development, বাস্তুশাস্ত্র ও পরিবেশ বিদ্যা, ইতিহাস, বুদ্ধিস্ট স্টাডি এবং দর্শন। 
    তাছাড়া এই বিষয় গুলিতে PhD ও করানো হয় এখান থেকে। আবার ধীরে ধীরে পুরনো জায়গা ফিরে পাচ্ছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের গর্ব, ভারতবাসীর গর্ব নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share