Tag: Nalli Nihari

  • BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনে কূটনীতির পাশাপাশি বন্ধুত্বের বার্তা দেবে ভারতের খাবার, জেনে নিন মেনু

    BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনে কূটনীতির পাশাপাশি বন্ধুত্বের বার্তা দেবে ভারতের খাবার, জেনে নিন মেনু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে শুরু হয়ে গিয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit 2026), ২০২৬। চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেই উপলক্ষে রাজধানীর তাজমহল হোটেলে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের খাদ্যঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের ঘরের স্বাদও ফিরিয়ে দেওয়ার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে (India Friendship Menu)।

    এই বিশেষ খাদ্যপরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছেন হোটেলটির প্রধান রন্ধনশিল্পী কৌশিক মিশ্র। কয়েক মাস ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর তৈরি হয়েছে এমন এক মেনু, যেখানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের আঞ্চলিক স্বাদ, পরিচিত ঘরোয়া খাবার এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির খাদ্যাভ্যাস—সব কিছুকে একসূত্রে বাঁধা হয়েছে।

    কৌশিকের কাছে এই আয়োজন শুধুমাত্র বিপুল সংখ্যক পদ সাজিয়ে পরিবেশন করার বিষয় নয়। তাঁর লক্ষ্য, খাবারকে বন্ধুত্বের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে বিদেশি অতিথিদের ভারতীয় মশলা, ভেষজ উপাদান, ফুল, আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও ঘরোয়া রান্নার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব খাদ্যপছন্দকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’ (BRICS Summit 2026)

    কৌশিক বলেন, “এই ঐতিহ্য ৪৮ বছর ধরে চলে আসছে। আমাদের কাছে আসা এবং আসতে চলা অতিথিদের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্যভাবনা তৈরি করেছি। আমাদের দেশের নিজস্ব নানা স্বাদ—মশলা, ভেষজ উপাদান এবং ফুলকে মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রতিনিধিরা নিজেদের বাড়িতে যে ধরনের পরিচিত ও স্বস্তিদায়ক খাবার খান, তার সঙ্গে ভারতীয় স্বাদের সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা ঘরে বসে খাবারের জন্য ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’ তৈরি করেছি। এতে দিল্লি এবং গোটা ভারতের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী পদ রয়েছে। নল্লি নিহারি, বাদাম দিয়ে গোলমরিচের ঝাল ভাজা-সহ আরও বেশ কিছু পদ রাখা হয়েছে।”

    বিদেশি প্রতিনিধিদের পছন্দ ও তাঁদের দেশের খাদ্যসংস্কৃতিকেও এই আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত পদ্মফুল, অর্কিড-সহ নানা ফুল ও উপাদান থেকেও নেওয়া হয়েছে ভাবনা। সেই অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের মিষ্টি, প্রালিন এবং নোনতা খাবার।

    কৌশিক বলেন, “এই উপাদানগুলিকে মাথায় রেখেই প্রালিন, মিষ্টি এবং নোনতা খাবারের সুন্দর নকশা তৈরি করা হয়েছে। আমরা ভারতের একটি মানচিত্রও তৈরি করেছি, যেখানে দেশের বিভিন্ন রাজধানী ও রাজ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব বিশেষ খাবার রয়েছে—যেমন বিভিন্ন ধরনের নোনতা পদ ও কাজুবাদামের মিষ্টি। এর মাধ্যমে প্রতিনিধিদের ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কী ধরনের খাবার পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।”

    এই আয়োজনের সঙ্গে একটি ব্যাখ্যামূলক নথিও রাখা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি খাবার ও উপাদান কেন বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সম্মেলনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়েই ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে বিদেশি অতিথিদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

    এই সম্পূর্ণ আয়োজনের জন্য তিন থেকে ছ’মাস ধরে গবেষণা করেছে হোটেলের দল। প্রতিনিধিদের পছন্দ-অপছন্দ, তাঁদের পরিচিত খাবার এবং খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর চূড়ান্ত মেনু তৈরি করা হয়েছে।

    কৌশিক বলেন, “প্রতিটি প্রতিনিধির পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে আমরা অনেক গবেষণা করেছি, যাতে তাঁরা খাবার উপভোগ করতে পারেন। আমাদের টিম প্রচুর পরিশ্রম করেছে। ভারতীয় এবং তাঁদের নিজস্ব স্বাদের সমন্বয়ে এমন একটি বিস্তৃত আয়োজন করা হয়েছে, যাতে এখানে এসে তাঁরা দু’দেশের স্বাদই অনুভব করতে পারেন। আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত এবং আত্মবিশ্বাসী যে এই আয়োজন তাঁদের মনে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।”

    প্রধান রন্ধনশিল্পীর বাছাই

    শুধু খাবার পরিবেশন করেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে একটি বিশেষ রান্নার বই। তাতে প্রধান রন্ধনশিল্পীর বাছাই করা বিভিন্ন রান্নার প্রণালী রয়েছে। এর ফলে সম্মেলন শেষ হওয়ার পরেও ভারতীয় খাবারের স্বাদ ও স্মৃতি তাঁদের সঙ্গে দেশে ফিরে যাবে।

    ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’তে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় পদ রাখা হয়েছে। নল্লি নিহারি এবং বাদাম দিয়ে গোলমরিচের ঝাল ভাজার মতো পদ যেমন থাকছে, তেমনই থাকছে নানা ধরনের আঞ্চলিক খাবার।

    খাবার পরিবেশনেও ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পদ্মফুল, অর্কিড এবং অন্যান্য ফুল ও উপাদানের অনুপ্রেরণায় তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের মিষ্টি ও নোনতা খাবার। ফলে খাবার শুধু স্বাদের বিষয় থাকছে না, তার উপস্থাপনাও হয়ে উঠছে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।

    এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ভারতের বিশেষ খাদ্যমানচিত্র। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও রাজধানীকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মানচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের ভৌগোলিক ও খাদ্যবৈচিত্র্য। দেশের একেক অঞ্চলের নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্যকে ছোট ছোট বিশেষ পদ বা নোনতা খাবারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রধান রন্ধনশিল্পীর কথায়, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়ন করা নয়, তাঁদের ভারতের খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে জানানোও। খাবারের সঙ্গে দেওয়া ব্যাখ্যামূলক নথিতে প্রতিটি উপাদান ও রান্নার পেছনের ভাবনা এবং তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Summit 2026)।

    ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা

    এবারের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা, “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। উন্নয়ন, স্থায়িত্ব ও উদ্ভাবন সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।

    উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ব্রিকস বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই জোটে আলোচনা হয়।

    ব্রিকসের সদস্য দেশ

    বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশ ১১টি—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সম্মিলিতভাবে এই দেশগুলির হাতে রয়েছে বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন এবং ২৬ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আবহে নয়াদিল্লির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হোটেলের রান্নাঘরও যেন কূটনীতির একটি নরম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। খাবারের মাধ্যমে ভারতের পরিচয়কে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের স্বাদ ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতিও সম্মান দেখানো হচ্ছে।

    ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ খাবারের সঙ্গে বিদেশি অতিথিদের পরিচিত স্বাদের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে নতুনত্বের পাশাপাশি থাকবে পরিচিতির স্বস্তিও (India Friendship Menu)।

    আর এই পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন সংযোজন সম্ভবত সেই রান্নার বই। কৌশিকের বক্তব্য, বইটিতে তাঁদের মায়েদের রান্নার প্রণালীও রয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি উপহার নয়, সম্মেলন শেষে প্রতিনিধিদের সঙ্গে (BRICS Summit 2026) দেশে ফিরে যাওয়া এক টুকরো স্মৃতিও।

     

LinkedIn
Share