Tag: Nandigram By Election

  • Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দুই নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে থাকবে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি বাহিনী।

    নির্বাচন কমিশনের তরফে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত হিসাব জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনই নয়, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টিং করা হবে। ফলে ভোটগ্রহণের সময় বুথগুলির পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকছে।

    নন্দীগ্রামে ৩৭, রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। রেজিনগরে থাকবে ৩৪ কোম্পানি। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সাধারণত এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রায় ১০০ জন অফিসার ও জওয়ান থাকেন। সেই হিসেবে দুই কেন্দ্রে কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেই বাহিনীর মধ্য থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য ৭১ কোম্পানি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

    ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং

    নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। নন্দীগ্রামে মোট বুথ রয়েছে ২৮২টি এবং রেজিনগরে বুথের সংখ্যা ৩১৫টি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুথের পাশাপাশি সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাতেও নজরদারি চালাবেন। ভোটের আগে এলাকায় রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন উপনির্বাচন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে?

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

    অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের পর। তিনিও রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি।

    তৃণমূলের প্রতীক-জটিলতায় নজর

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—দুই শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এই পরিস্থিতিতেই দুই শিবির আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করেছে।

    ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, তেমনই দুই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর গণনা

    নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা হবে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপরই দুই কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হবে।

    নন্দীগ্রামে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন হরি লাল চৌহান এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক সন্তোষ দাস। রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন এম বি বোরলিঙ্গাইয়া এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক হর্ষল পঞ্চোলী।

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে কমিশনের এই বিপুল নিরাপত্তা আয়োজনের ফলে ভোটের প্রস্তুতি এখন আরও তুঙ্গে।

LinkedIn
Share