Tag: Nandigram Bypoll

  • Suvendu Adhikari: ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের পর বুধবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন বিজেপির দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উপস্থিতিতে বেলা ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই বিধায়ককে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি উপনির্বাচনের ফলাফল, বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট’, বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা

    শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের কাঁধে উত্তরীয় পরিয়ে তাঁদের নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ফলতায় দেবাংশু পণ্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে শাখারভ সরকারের ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ তো সবে ব্রেকফাস্ট হচ্ছে। যা দেখছেন, তা সকালের চা-বিস্কুট। এখনও লাঞ্চ হয়নি। দেখতে থাকুন।” নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামে বিরোধীরা ভোটের আগেই ময়দান ছেড়ে পালিয়েছিল। রেজিনগরে বিরোধীরা জামানতের টাকাও বাঁচাতে পারেনি বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

    চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

    এদিনের অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানি রথের ছেলে চন্দ্রনাথ একসময় তাঁর সহযোগী ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর সহযোগী হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের জন্য ২ কোটি টাকার সুপারি কে দিয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হওয়া বাকি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেই সুপারি কি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে দেওয়া হয়েছিল, নাকি ডায়মন্ড হারবার কিংবা কালীঘাট থেকে—সেটা স্পষ্ট হলেই গোটা তদন্তের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সুপারি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও সামনে আসেনি।

    মমতাকে নিশানা, নন্দীগ্রাম বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা

    কেন ভবানীপুরের পরিবর্তে নন্দীগ্রাম আসনটি বেছে নিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গও এদিন ফের সামনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমি যদি ওই আসন ছেড়ে আসতাম, তবে উনি ফের উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। কিন্তু এই বয়সে আর ওসব করা উচিত নয়, অনেক বয়স হয়েছে, ওঁর এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত।”

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফলকে সামনে রেখে বিরোধীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, উপনির্বাচনের ফলকে আগামী দিনের রাজনীতিতে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে শাসক শিবির।

    ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা খারিজে রেজিনগরের উদাহরণ

    বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে আক্রমণ করার বিরোধী প্রচারকেও এদিন চ্যালেঞ্জ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলাফলকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিজেপির প্রতি সমর্থন বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম বোনেরা যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরাও আমাদের ভোট দিয়েছেন।”

    রেজিনগরের বুথভিত্তিক ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দুর দাবি, প্রায় ৩০০টি বুথের মধ্যে মাত্র ১০০টি বুথ সনাতনী অধ্যুষিত। বাকি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা সনাতনী, আমরা হিন্দু, আমরা মাথায় টিকা লাগাই। কিন্তু সরকার চালাতে গেলে আমরা দলের সংকীর্ণতা পেরিয়ে সমস্ত মানুষের উন্নয়কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই।”

    দুই বিধায়কের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে এদিন বিধানসভায় যেমন নতুন জনপ্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগ্রহণ সম্পন্ন হল, তেমনই উপনির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও আরও তীব্র হল। বিজেপির জয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু সমর্থন এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান—এই তিনটি বিষয়কেই বিশেষ গুরুত্ব দিলেন।

  • Suvendu Adhikari: উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরসভা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, এবার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর এ বার রাজ্যের পুরসভাগুলিকে (Suvendu Adhikari) পাখির চোখ করল বিজেপি। সোমবার মুরলীধর সেন লেন থেকে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস পর্যন্ত আয়োজিত বিজয় মিছিলের শেষে জনসভা থেকে আসন্ন পুরভোটের রণকৌশল স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বার্তা, এ বার পুরসভাগুলিতেও ফুটবে পদ্ম। রাজ্যে উন্নয়নের ‘ত্রিশক্তি’ সরকার গড়তে কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভা দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাতে হবে দলীয় কর্মীদের (Municipal Elections)। পুজোর মরশুম শেষ হলেই কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা। তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার পর আপাতত কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কমিশনার। হাওড়াতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দুই শহরের পুরসভা দখলের ডাক দিয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন শুভেন্দু।

    উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা (Suvendu Adhikari)

    ভিক্টোরিয়া হাউসের সভায় তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা রেখে আপনারা রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়েছিলেন। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিতে আপনাদের পুরসভাগুলিতে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা আমাদের দিতে হবে। তবেই শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব হবে।”

    এ দিনের বিজয় মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রেজিনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শাখারভ সরকার, নন্দীগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানী রথ-সহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে জয়

    রেজিনগরের মতো প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলে দাবি করেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে বিরোধীদের প্রচারকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হবে এবং বেছে বেছে বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে বিরোধীরা প্রচার চালিয়েছিল। শুভেন্দু বলেন, “মানুষ দেখেছেন, মোদিজির নেতৃত্বে জয়ের রথ থামানো যায়নি। বরং দেশের প্রতিটি নাগরিক সুরক্ষিত।”

    তিনি আরও বলেন, “সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা বুঝতে পেরেছেন যে মিথ্যা ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করা হয়েছে। তাই আজ তাঁরা তোষণের রাজনীতি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্মাণ ও প্রগতির মূলস্রোতে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন (Suvendu Adhikari)।”

    পুরভোট ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর বিজেপির নজর এখন রাজ্যের বকেয়া পুরভোটের দিকে। বিশেষ করে কলকাতা ও হাওড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের পুরসভা দখলকে সামনে রেখে দলীয় নেতৃত্বের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে যোগ করেছে (Municipal Elections) নতুন মাত্রা।

    উপনির্বাচনের ফলকে হাতিয়ার করে পুরসভা নির্বাচনেও সাফল্যের আশা করছে গেরুয়া শিবির। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে কোন দল কতটা সুবিধা পায়, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রচার, নাগরিক পরিষেবা নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের রায়ের উপর (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: টোটোয় চেপে বুথে শুভেন্দু, নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে জয় নিয়ে ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: টোটোয় চেপে বুথে শুভেন্দু, নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে জয় নিয়ে ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে (By-Poll) উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রাম বিধানসভা। সেই নন্দীগ্রামেই মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে এদিন তাঁর বুথে পৌঁছনোর ধরন ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রচলিত প্রোটোকল ও কনভয় দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের মতোই টোটোয় চেপে ৭৯ নম্বর বুথে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে এভাবে বুথে আসতে দেখে স্থানীয় ভোটার, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এদিন সকালে কনভয় থেকে নেমে টোটোয় চেপে সরাসরি বুথ চত্বরে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। বুথে ঢোকার আগে এবং ভোটদান পর্ব শেষ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে দেখা যায় তাঁকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ভোট দিয়ে স্থানীয় মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘আইন সকলের জন্যই সমান’ (Suvendu Adhikari)

    ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়ে দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট পড়বে।” এদিন সকালে আইনভঙ্গের অভিযোগে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারির প্রসঙ্গও ওঠে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন সকলের জন্যই সমান। আইন ভাঙলে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসন পদক্ষেপ করবেই।”

    ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী

    নন্দীগ্রামের মানুষের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থার কথাও জানান শুভেন্দু। তিনি জানান, আজীবন নন্দীগ্রামের ভোটার হয়েই থাকতে চান। নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী বলেও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে বর্তমানে যে উন্নয়নের গতি চলছে, মানুষ ভোটবাক্সে তারই প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন (Suvendu Adhikari)।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ের পর শুভেন্দু ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই উপনির্বাচন। বিজেপি এখানে হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। ফলে নন্দীগ্রামের লড়াইকে শুভেন্দুর রাজনৈতিক প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতারও পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ভোটের দিন সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে বিভিন্ন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে (By-Poll)। বিরোধীদের তরফে অনিয়ম ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন (Suvendu Adhikari)।

     

  • Supreme Court: এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল বিচারাধীন!

    Supreme Court: এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল বিচারাধীন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) সংক্রান্ত মামলায় বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে জরুরি শুনানির (Voter List Dispute) আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। ৬ অক্টোবর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগে ১৮ হাজারেরও বেশি বিচারাধীন আপিলের নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারীরা। তবে শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জিতে সাড়া দেয়নি আদালত। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

    আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে জানান, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ১৮ হাজারেরও বেশি আবেদন এখনও আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারাধীন। বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও তাঁদের অনেকে ভোট দিতে পারেননি। উপনির্বাচনের আগে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের একাংশ পরপর দু’বার ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সেই কারণেই মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়।

    আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)

    কিন্তু আবেদনকারীদের যুক্তিতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জির প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “এগুলি নেহাতই উপনির্বাচন, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।” এরপরেও মামলাটির শুনানির দিন অপরিবর্তিত রাখা হয়। ফলে ভোটের ঠিক আগের দিন শুনানি হলেও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। কিন্তু বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮ লাখ ২০ হাজার ৬৮৩টি আপিলের মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৩৭ লাখেরও বেশি আবেদন তখনও বিচারাধীন ছিল (Supreme Court)।

    এদিকে, নিষ্পত্তি হওয়া আপিলগুলির একটি বড় অংশেই আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের অধিকার আইনে পাওয়া ৭ অগাস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে ৭৫ হাজার ৪৪৩টি ক্ষেত্রে ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, ৭ হাজার ৩৩৯টি ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থেকেছে। অর্থাৎ, ওই সময় পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের প্রায় ৯১ শতাংশেই ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

    এর আগে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, কোনও একটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটাধিকার চিরতরে হারিয়ে যায় না। তবে আবেদন নিষ্পত্তির আগে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

    এই পরিস্থিতিতে আপিল নিষ্পত্তির (Voter List Dispute) গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, ৫ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। আবেদনকারীদের উদ্বেগ, তার আগে বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি না হলে বহু মানুষ আরও একবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে (Supreme Court) বঞ্চিত হতে পারেন।

     

  • Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতাকে প্রার্থী করার প্রস্তাব, তৃণমূলের দুই শিবিরে বরফ গলার ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচনে (Nandigram Bypoll) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মমতা (Mamata Banerjee) নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না বলেও জানিয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। এর মধ্যেই দলের প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে।

    শনিবার নয়াদিল্লিতে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্রার্থী বাছাই সম্মিলিতভাবে হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও তা ঘোষণা করা হয়নি।”

    এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তাঁকে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না মমতা (Nandigram Bypoll)

    ঋতব্রত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ নির্বাচনে কখনও জেতেন না। কিন্তু উপনির্বাচনে জেতেন। আর এটা ভালো দেখায় না, তাই না যে এই নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এলাকায় হেরেছেন এবং নিজের বুথেও হেরেছেন?”

    তিনি ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামেও জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটান।

    এর পরেই ঋতব্রত বলেন, “আমরাও চাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় আসুন।” ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মমতা।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরে দলের অধিকাংশ বিধায়ক দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন। দলের এই ভাঙনের জন্য তাঁরা মমতার ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। পরবর্তী সময়ে মমতার পাশ থেকে সরে যান তাঁর হাতে গড়া তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদও। যদিও বিদ্রোহী বিধায়কেরা বারবার দাবি করে এসেছেন, তাঁদের মূল আপত্তি মমতাকে নিয়ে নয়, অভিষেককে ঘিরে (Nandigram Bypoll)।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য

    বছর একাত্তরের মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে কখনও সাধারণ নির্বাচনে জেতেননি।” তিনি ২০২১ সালের নির্বাচনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে মমতা হেরে গেলেও, রাজ্যে তৃণমূল জয়ী হয় এবং মমতা মুখ্যমন্ত্রী হন। পরে ভবানীপুরের উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় প্রবেশাধিকার পান মমতা।

    আখরুজ্জামান এও বলেন, “এখন যেহেতু উপনির্বাচন হচ্ছে, আমরা বলেছি, নন্দীগ্রামে আসুন। আমরা কোনও প্রার্থী দেব না। জিতে বিধানসভায় আসুন এবং উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।”

    নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর আসনেও উপনির্বাচন হতে চলেছে।

    নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রার্থী পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। মমতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এলাকায় কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনের পরেই রাজ্যে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি শূন্য হয় তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা হুমায়ুন কবিরের পদত্যাগের পর। নির্বাচনের আগে তিনি নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছিলেন। হুমায়ুন কবির নওদা এবং রেজিনগর—দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখেন এবং ছেড়ে দেন রেজিনগর আসনটি।

    এদিকে, বিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূলের প্রতীকে (Mamata Banerjee) কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। যে-ই প্রার্থী হোন না কেন, উপনির্বাচনে বিজেপিই জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন (Nandigram Bypoll) পদ্ম নেতারা।

     

LinkedIn
Share