Tag: Nandigram

Nandigram

  • Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা উপ নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে (Nandigram-Rejinagar By-Election) রেকর্ড মার্জিনে জয় বিজেপির। ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে নন্দীগ্রামে ১,২২৭৫৩ ভোটে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ১৫ রাউন্ডের শেষে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫,৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দুই কেন্দ্রেই রাষ্ট্রবাদী শক্তি জিতেছে। সংখ্যালঘুরাও সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিয়েছেন।” নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, উভয় কেন্দ্রেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বহু যোজন পেছনে ফেলে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীরা।

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকেও পিছনে ফেললেন হাসিরানি

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভাঙলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। উপ নির্বাচনে ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের মার্জিনে জয়ী হলেন হাসিরানি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ হাজারের বেশি ভোটের মার্জিনে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’টি কেন্দ্রেই জেতেন তিনি। পরে ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। রেজিনগরেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ওই কেন্দ্রের পাশাপাশি লড়েছিলেন নওদা থেকেও। নওদা নিজের হাতে রেখে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন । ফলে নির্বাচন কমিশনকে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।

    রেজিনগরেও রেকর্ড

    ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি, ব্যবধান ৭৫ হাজার। গত ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার উপনির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রায় ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগর কেন্দ্রে প্রায় ৭৮.৪২ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। রেজিনগরের ফল ঘোষণার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে বললেন, ”রেজিনগরে এত বড় জয় আসত না, যদি সংখ্যালঘুরা আমাদের সঙ্গে না থাকতেন । সংখ্যালঘুদের নামে যে মিথ্যাচার করা হয়েছিল, তাকে আমল না দিয়ে সঙ্গে থেকেছেন সংখ্যালঘুরা । বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা”। তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের সময়ে নির্বাচনে যে দৃশ্য দেখা গেছিল , তার কোনওটাই এই নির্বাচনে দেখা যায়নি। এখন রাজ্যে এখন ভয়মুক্ত, ভরসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। তাই তাঁরা বিজেপিতে ভোট দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের ডিটেনশন সেন্টারের যে ভয় দেখানো হয়েছিল। তা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর কথায়, ”বাংলার মানুষ আর পচা শামুকে পা কাটতে চান না”। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেজিনগরের সংখ্যালঘুরা বিজেপির সঙ্গে আছেন।

    সংখ্যালঘুরা সাড়া দিয়েছেন,বললেন শুভেন্দু

    আজ যখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে, তখন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’। এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে এদিন আরজি কর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবেশ করার সময় দুই আঙুলে জয়ের চিহ্ন দেখান তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যেভাবে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলেছি। উপনির্বাচনের ভোটপ্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই সেই বন্ধুত্বের ছবি স্পষ্ট। সংখ্যালঘুরা আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। করজোড়ে সংখ্যালঘুদের ধন্যবাদ জানালেন তিনি। বলেন, “সরকারের বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বন্ধুত্ব করতে চান, আমি খুশি”।

    সংখ্যালঘু ফ্যাক্টর

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ” ভারতীয় জনতা পার্টিকে জিতিয়েছিলেন ফলতার মানুষ। তারপর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন ছিল। এই উপনির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হাসিরানি রথ বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন।” সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে বলেন, “২০২১ সালের পর প্রথম নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টি বুথে ভারতীয় জনতা পার্টি লিড নিয়েছে। আমরা সরকারের সঙ্গে থেকে থেকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার যে আবেদন করেছিলাম, তা গ্রহণ করেছেন। রেজিনগর কেন্দ্রেও ঠিক একইভাবে চূড়ান্ত ফল প্রায় এসে গিয়েছে। শাখারভ সরকারকে জনতা আশীর্বাদ করেছেন। আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, নির্বাচন বিধি প্রত্যাহার হয়নি, তাই যেতে পারিনি। কারণ নির্বাচনী বিধি থাকলে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারি না। তাই এখান থেকে রেজিনগরের ভোটারদের প্রণাম করছি।” বাংলার যে কোনও নির্বাচনেই সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে, যেখানে তাদের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের মেরুকরণ ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। উপনির্বাচনের আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়ে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সরকারের সঙ্গে থাকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে হবে।” তাতে সাড়াও মিলল।

     

     

     

     

  • CM Suvendu Adhikari: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বিজেপির বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু, তীব্র কটাক্ষ সেলিমকে

    CM Suvendu Adhikari: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বিজেপির বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু, তীব্র কটাক্ষ সেলিমকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির বিপুল জয় নিয়ে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, দুই কেন্দ্রেই বিরোধী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামেদের কার্যত কোনও অস্তিত্ব নেই (CM Suvendu Adhikari)। রেজিনগরে পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ (Nandigram Rejinagar By-Polls) এবার ভোট দিতে না আসায় গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের হার প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, তা সত্ত্বেও ওই কেন্দ্রে ৭৯ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের ভোট বিজেপির পক্ষে গিয়েছে বলেই দাবি তাঁর। শুভেন্দুর কথায়, “নন্দীগ্রাম তো ২০২১ সাল থেকেই বিজেপির সঙ্গে আছে। রেজিনগরে তৃণমূল বা বামেদের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। সিপিএম পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থানে নোটার নীচেও থাকতে পারে।”

    সংখ্যালঘু ভোটে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব (CM Suvendu Adhikari)

    সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বয়স্ক সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ কংগ্রেস অথবা হুমায়ুন কবীরের ছেলেকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু সংখ্যালঘু মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন বলে দাবি তাঁর। বিরোধীদের দাবি খারিজ করে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, অন্নপূর্ণা বা আবাস যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পে কোনও ধর্মীয় ভেদাভেদ করা হয়নি। তাঁর দাবি, “এক কোটি ৫৮ লাখ অন্নপূর্ণা প্রাপকের মধ্যে ২৪ লাখ মুসলিম মহিলা রয়েছেন। আমার বিশ্বাস ৯০ শতাংশ মুসলিম মহিলা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।”

    আবাস যোজনার ১৭ হাজার বাড়ির তালিকাতেও ১০ হাজারের বেশি সংখ্যালঘু পরিবার এবং ৬-৭ হাজার সনাতনী পরিবার রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রভাবেই রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হবেন। নন্দীগ্রামেও গতবারের তুলনায় পাঁচ-ছ’গুণ বেশি ব্যবধানে বিজেপি জিতবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন (CM Suvendu Adhikari) শুভেন্দু।

    সেলিমকে নিশানা শুভেন্দুর

    বামেদের ভোটপ্রাপ্তি এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ভোটে কারচুপির অভিযোগ নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সেলিমের রাজনৈতিক পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে রায়গঞ্জ, ২০২১ সালে চণ্ডীতলা এবং ২০২৪ সালে মুর্শিদাবাদে পরাজিত হয়েছেন সেলিম।

    শুভেন্দু বলেন, “যেখানে মুসলমান ভোট বেশি আছে, বেছে বেছে সেখানে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। অথচ মুখে বলেন ধর্মনিরপেক্ষ পার্টি!”

    সেলিমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি ওঁকে বলব কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়তে। যদি জমানত রাখতে পারেন, তাহলে বুঝব উনি একটা বিরাট মাপের নেতা হয়েছেন।”

    তৃণমূলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বার্তা

    অন্যদিকে, আইনি লড়াই নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার নামে মিথ্যা অভিযোগ তোলার ঘটনায় নির্দিষ্টভাবে মানহানি ও অপরাধমূলক মামলা করা হয়েছে।

    আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ফেব্রুয়ারি মাসে (Nandigram Rejinagar By-Polls) মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যের সব পুরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করার সময়সীমা তৈরি হচ্ছে।

    ভোটযন্ত্রের ঘাটতি বা নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। রাজ্য সরকার শুধুমাত্র পরিকাঠামোগত সহায়তা (CM Suvendu Adhikari) করে। নির্বাচন পরিচালনায় মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের কোনও ভূমিকা থাকে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

     

  • By Election: উপনির্বাচনেও ব্যাপক ভোট পড়ল নন্দীগ্রামে, রেজিনগরেও হাত উপুড় ভোটারদের

    By Election: উপনির্বাচনেও ব্যাপক ভোট পড়ল নন্দীগ্রামে, রেজিনগরেও হাত উপুড় ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনকে (By Election) ঘিরে সকাল থেকেই উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে (Latest Update) ৭৯.৩৯ শতাংশ। খুব একটা পিছিয়ে নেই রেজিনগরও। সেখানে ভোটদানের হার ৭৮.৪২ শতাংশ।

    নন্দীগ্রাম (By Election)

    নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে রবিবার পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানি নিহত বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রথের মা। প্রচারে গিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন শুভেন্দু। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, একুশের ভোটের সময় মমতার পায়ে চোট লাগার দাবি “মিথ্যা” ছিল। সেই ঘটনার পর খুনের চেষ্টার একটি মামলায় বিজেপি নেতাদের ফাঁসানোর জন্য তৎকালীন তৃণমূল সরকার সিআইডির “অপব্যবহার” করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিন টোটোয় চড়ে নন্দীগ্রামের একটি বুথে গিয়ে ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী। আজীবন এই কেন্দ্রের ভোটার থাকতে চান বলেও জানান তিনি

    রেজিনগর

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি ফাঁকা হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের কারণে। তিনি একই সঙ্গে রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নওদা আসনটি ধরে রাখেন। ফলে রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন হয়েছে। এই কেন্দ্রে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে (By Election) লড়ছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। রেজিনগরে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের প্রার্থী রাবিউল আলম চৌধুরী। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রার্থী সাফিউজ্জামান শেখও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। ফলে এই কেন্দ্রে বহুমুখী লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট।

    তামিলনাড়ুতেও জমজমাট লড়াই

    তামিলনাড়ুর মাদুরান্থকম এবং ধরাপুরম আসন দুটিতেও উপনির্বাচন হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সি জোসেফ বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগমে যোগ দেওয়ার পর এই দুই আসন ছেড়ে দেন প্রাক্তন এআইএডিএমকে বিধায়ক কে মারাগাথাম কুমারাভেল এবং পি সত্যবামা। তাঁদের নিজেদের পুরনো কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করেছে বিজয়ের দল। মাদুরান্থকমে প্রাক্তন বিধায়ক আই পরন্থামেনকে এবং ধরাপুরমে সুগণ্যাকে প্রার্থী করেছে ডিএমকে। ধরাপুরমে সত্যবামার হয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথজুড়ে প্রচার চালান বিজয়। ডিএমকেকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দল মহিলাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। তাঁর দাবি, মহিলাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আক্রমণ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে আর নীরব থাকবেন না বলেও জানান বিজয়।

    অসমেও উপনির্বাচন

    অসমের নাগাঁও লোকসভা আসনটি মার্চ মাসে ফাঁকা হয়। কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে দিসপুর আসন থেকে জয়ী হন। ফলে নাগাঁও লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আমলা দেবাশিস শর্মার হয়ে প্রচার করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নাগাঁওয়ে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিজেপির সামনে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে কার্যত স্বীকার করলেও, হিমন্তর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পাবে (Latest Update)। তাঁর পূর্বাভাস, জয়ের ব্যবধান আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ ভোটের হতে পারে (By Election)।

     

  • Suvendu Adhikari: টোটোয় চেপে বুথে শুভেন্দু, নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে জয় নিয়ে ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: টোটোয় চেপে বুথে শুভেন্দু, নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে জয় নিয়ে ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে (By-Poll) উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রাম বিধানসভা। সেই নন্দীগ্রামেই মঙ্গলবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে এদিন তাঁর বুথে পৌঁছনোর ধরন ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রচলিত প্রোটোকল ও কনভয় দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের মতোই টোটোয় চেপে ৭৯ নম্বর বুথে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে এভাবে বুথে আসতে দেখে স্থানীয় ভোটার, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। এদিন সকালে কনভয় থেকে নেমে টোটোয় চেপে সরাসরি বুথ চত্বরে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। বুথে ঢোকার আগে এবং ভোটদান পর্ব শেষ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে দেখা যায় তাঁকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ভোট দিয়ে স্থানীয় মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘আইন সকলের জন্যই সমান’ (Suvendu Adhikari)

    ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি ভোটার ভোট দিয়ে দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট পড়বে।” এদিন সকালে আইনভঙ্গের অভিযোগে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারির প্রসঙ্গও ওঠে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন সকলের জন্যই সমান। আইন ভাঙলে নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসন পদক্ষেপ করবেই।”

    ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী

    নন্দীগ্রামের মানুষের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থার কথাও জানান শুভেন্দু। তিনি জানান, আজীবন নন্দীগ্রামের ভোটার হয়েই থাকতে চান। নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি ‘শতভাগ’ আত্মবিশ্বাসী বলেও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে বর্তমানে যে উন্নয়নের গতি চলছে, মানুষ ভোটবাক্সে তারই প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন (Suvendu Adhikari)।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জয়ের পর শুভেন্দু ভবানীপুর আসনটি ধরে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। সেই কারণেই এই উপনির্বাচন। বিজেপি এখানে হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। ফলে নন্দীগ্রামের লড়াইকে শুভেন্দুর রাজনৈতিক প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতারও পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ভোটের দিন সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে বিভিন্ন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে (By-Poll)। বিরোধীদের তরফে অনিয়ম ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও, বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘এক্স-রে, এমআরআই দেখালে বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না’! পায়ের চোটকাণ্ডে মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘এক্স-রে, এমআরআই দেখালে বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না’! পায়ের চোটকাণ্ডে মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পায়ের হাড় আদৌ ভেঙেছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, মমতার পায়ে হাড় ভাঙার প্রমাণ মেলেনি। এ নিয়ে নথিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। এর পরেই চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত নথি কীভাবে প্রকাশ্যে এল, তা জানতে এসএসকেএম হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন মমতার আইনজীবী।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী ((Suvendu Adhikari))

    সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিতর্কে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার আইনি নোটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভুল করছেন উনি। স্বাস্থ্য দফতরকে বলব, যে অভিযোগ উনি করেছেন সেটা আমার কাছে পাঠাতে। উনি বোধহয় জানেন না, উনি কী করেছিলেন। উনি নিজে এফআইআর করেছিলেন সব বিজেপি নেতাদের নামে। সিআইডি তদন্ত করছিল।” এর পরেই আরও কড়া সুরে শুভেন্দু বলেন, “আমি ওঁর আইনজীবীকে বলব, এসব নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। উনি ভেবেছিলেন চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তাই সব কাগজপত্র ওঁর ড্রয়ারে ছেড়ে গিয়েছিলেন।” তবে সেই ড্রয়ার থেকেই চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পেয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

    প্রয়োজনে আরও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “এক্স-রে প্লেট এবং এমআরআই রিপোর্ট যদি আমি দেখাই, তাহলে উনি বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না।” পাশাপাশি নথিগুলি কোথা থেকে পেয়েছেন, প্রয়োজন হলে তা প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারের সময় বিরুলিয়া বাজারের কাছে মমতার পায়ে চোট লাগে। এসএসকেএমে প্লাস্টার করিয়ে হুইলচেয়ারে বসেই সেবার নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর চোটের ঘটনা নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেবার সহানুভূতির হাওয়ায় সওয়ার হয় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন মমতা।

    সম্প্রতি শুভেন্দু যে নথি প্রকাশ্যে আনেন, সেটি ২০২১ সালের ১১ মার্চ বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের তেজস্ক্রিয় রোগনির্ণয় বিভাগের প্রতিবেদন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ওই প্রতিবেদনে পায়ে হাড় ভাঙা বা হাড় সরে যাওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। এই নথির ভিত্তিতেই মমতার তৎকালীন পায়ের চোটের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    চিকিৎসা-তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন

    এদিকে, মমতার আইনজীবীর পাঠানো আইনি নোটিসে প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে। কীভাবে ২০২১ সালের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর হাতে পৌঁছল এবং পরে তা প্রকাশ্যে এল, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিসটি এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা ও চিকিৎসা-প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পাশাপাশি বাঙুর ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্যসচিবকেও নোটিসের একটি প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে। নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছে, কোনও আদালতের নির্দেশে ওই চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে নথি যাঁরা সরবরাহ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেই ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে আসা নথিগুলি আদৌ মূল চিকিৎসা নথি কি না, সেটিও স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। আইনজীবীর তরফে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সরকারি দফতর বা তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনে নথি সংগ্রহ করলেও তা সাধারণের সামনে প্রকাশ করার অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় কি না। ভবিষ্যতে মমতার চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও ব্যক্তিগত নথি যাতে অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে না আসে, সেই বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ফলে ২০২১ সালের নন্দীগ্রামকাণ্ডে মমতার (Mamata Banerjee) পায়ের চোটের সত্যতা নিয়ে পুরনো রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে আসার পাশাপাশি, চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে প্রকাশ্যে এল এবং সেই নথি প্রকাশের আইনগত বৈধতা কী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবের দিকেও এখন নজর (Suvendu Adhikari) রাজ্যবাসীর।

     

  • Nandigram Rejinagar Bypolls: পাঁচ মাসের মাথায় ফের ভোটের সকাল বাংলায়, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে চলছে উপনির্বাচন

    Nandigram Rejinagar Bypolls: পাঁচ মাসের মাথায় ফের ভোটের সকাল বাংলায়, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে চলছে উপনির্বাচন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর পাঁচ মাসও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গ। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে উপনির্বাচন (Nandigram Rejinagar Bypolls)। কড়া নিরাপত্তায় সকাল থেকেই চলছে দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ (Voting)। এই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে নন্দীগ্রামের দিকে। কারণ, এই কেন্দ্রের ভোটার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে নিজের পুরনো ও পরিচিত কেন্দ্র নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে থেকে যান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেওয়ার কারণেই সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। ফলে এবার ফের নন্দীগ্রামে ভোট দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে আরও একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার করা নিয়ে বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আপাতত স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। প্রচারে পুরোপুরি অংশ নিতে না পারলেও জেলের বাইরে থেকেই নির্বাচনে লড়াই করছেন মিলন। অন্যদিকে, রেজিনগরেও উপনির্বাচনের নেপথ্যে রয়েছে বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা। এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। পরে তিনি নওদা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ে জয়ী হন এবং রেজিনগরের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই রেজিনগরে ফের ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

    কড়া নিরাপত্তা (Nandigram Rejinagar Bypolls)

    ভোটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই কেন্দ্রেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে মোতায়েন রয়েছে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    মোট ভোটার

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন পাঁচ জন। এই কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি নতুন ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৫। শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটার রয়েছেন ৩ হাজার ২৩১ জন। ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৯৭। শতায়ু বা ১০০ বছরের বেশি বয়সি ভোটার রয়েছেন ৩৬ জন। এছাড়া সার্ভিস ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ১১১। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৫৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন এক জন। নন্দীগ্রামে ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ১৬। শারীরিক প্রতিবন্ধী ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ১৮০ জন। ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৮৮৪। শতায়ু বা ১০০ বছরের বেশি বয়সি ভোটার রয়েছেন ৪২ জন। এছাড়া ৭৩৮ জন সার্ভিস ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন (Nandigram Rejinagar Bypolls)।

    বাংলার পাশাপাশি আরও তিন কেন্দ্রে উপনির্বাচন

    পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের পাশাপাশি এদিন উপনির্বাচন হচ্ছে অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্র এবং তামিলনাড়ুর দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রেও। নগাঁওয়ের কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদোলই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর লোকসভা কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির বিধায়ক। তাঁর ছেড়ে দেওয়া নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রেই আজ উপনির্বাচন হচ্ছে। এদিকে, এআইএডিএমকের দুই বিধায়ক ইস্তফা দেওয়ায় তামিলনাড়ুর মাদুরান্থকম এবং ধারাপুরম বিধানসভা কেন্দ্রেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে (Voting)। ফলে বাংলার দুই কেন্দ্রের পাশাপাশি দেশের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আজকের ভোটের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের (Nandigram Rejinagar Bypolls)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ মমতার’! ২০২১-এর নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, ‘বড় চোরও জেলে যাবে’ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

    Suvendu Adhikari: ‘ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ মমতার’! ২০২১-এর নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, ‘বড় চোরও জেলে যাবে’ মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে ফের একুশের বিধানসভা নির্বাচনের স্মৃতি উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ২০২১ সালে বিরুলিয়ায় যে ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লেগেছিল, সেখানে আদৌ কোনও হাড় ভাঙেনি। তাঁর অভিযোগ, হাড় ভাঙার কথা বলে পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে প্রচারে ঘুরেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। এই (Nandigram Injury Claim) দাবির সমর্থনে তাঁর কাছে নথি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু। প্রয়োজনে চ্যালেঞ্জ করা হলে সেই নথি প্রকাশ্যে আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ২০২১ সালের ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিরুলিয়া এলাকায় আহত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কয়েকজন তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন এবং গাড়ির দরজার ধাক্কায় তাঁর পায়ে চোট লাগে। পরে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় তাঁকে হুইলচেয়ারে দেখা গিয়েছিল, পায়ে প্লাস্টার।

    চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্ট কী বলছে (Suvendu Adhikari)

    তবে সেই সময়ের চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্টে চোটের প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রাথমিক বিবৃতিতে বাঁ পায়ের গোড়ালি ও পায়ে গুরুতর হাড়ের চোটের কথা বলা হয়েছিল। এদিকে, সেই সময়ের একটি রিপোর্টে চিকিৎসকেরা হাড়ে চোট থাকলেও ফ্র্যাকচার নেই বলে জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অর্থাৎ, ২০২১ সালের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে ‘চোট’ এবং ‘ফ্র্যাকচার’ নিয়ে যে পার্থক্য ছিল, তা বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পুরনো ঘটনা নিয়েই শুক্রবার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে সরব হন শুভেন্দু। বলেন, “আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করা পছন্দ করি না। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এক্স-রে প্লেট তো রোগী পেয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে থাকে না। রিপোর্টটা থাকে। সেদিন আপনাদের বদনাম করে দিয়েছিল না? লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগেছিল। দরজাটা ফিরে এসে তাঁর একটু পায়ে লেগেছিল। আর পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিল।”

    এরপরই নথির প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকেরা যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন, তাতে হাড় ভাঙার কথা ছিল না। তাঁর (Suvendu Adhikari) কথায়, “আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর ডাক্তাররা লিখে দিয়েছে নো ফ্র্যাকচার। যেদিন দরকার হবে, চ্যালেঞ্জ করলে দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে। সেদিন দেখিয়ে দেব, গোটা বিরুলিয়া ও নন্দীগ্রামকে কীভাবে অপমান করেছিলেন।”

    হুইলচেয়ারে করেই নির্বাচনী প্রচার

    একুশের ওই ঘটনার পর পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হুইলচেয়ারে করেই নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন মমতা। সেই সময় তাঁর প্রচারে “ভাঙা পায়ে খেলা হবে” স্লোগানও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ চর্চায় এসেছিল। সেই সময়কার সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে অবশ্য তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, পায়ে চোট, চিকিৎসা এবং হুইলচেয়ারে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর বিষয়গুলি নথিভুক্ত হয়েছিল (Nandigram Injury Claim)।

    তবে শুধু পুরনো পায়ের চোটের প্রসঙ্গ নয়, নন্দীগ্রামের সভা থেকে দুর্নীতি নিয়েও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের আর একটি অংশকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে। সভা থেকে সুমিত রায়ের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “হলদিয়াতে আমি যেদিন সার্টিফিকেট নিয়েছিলাম, চার তারিখের মধ্যরাত্রি, সেদিনই বলেছিলাম সব দল থাকবে, এই পার্টির নাম ও নিশান থাকবে না। আজ নামও নেই, নিশানও নেই। এত পাপ ও এত অত্যাচার করেছে, তার সীমা-পরিসীমা নেই। আপনারা সবাই অপেক্ষা করে আছেন, সুমিত রায়, সব চোরেরা তো জেলে, বড় চোর কবে যাবে? বড় চোরও জেলে যাবে। এতটুকু বিচলিত হবেন না।”

    “বড় চোর”

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) এই “বড় চোর” মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কাকে ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করলেন তিনি? যদিও নিজের বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির নিজেদের মতো করে এর ব্যাখ্যা দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলিতেও এই মন্তব্যকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ধরনের মন্তব্যকে নির্বাচনী রাজনীতির অংশ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী তো কেউই বলতে পারেন না। এটা নির্বাচনী গিমিক। এগুলো নির্বাচনের সময় অনেক কথা বলেন, পরে ভুলে যান। কেউ যদি অপরাধ করেন, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্যের সারকথা, এই ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তার কোনও অর্থ হয় না। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলেরই আর এক নেতা মদন মিত্র অবশ্য বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কুণাল ঘোষ কী জানেন যে বড় চোর কে, শুভেন্দু অধিকারী কাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলছেন। দু’দিন অপেক্ষা করুন, সবটা সামনে আসবে। বাংলার জনগণ জানে কে বেইমান, আর কেই বা বিজেপির দালাল।”

    রাজনৈতিক উত্তাপের নেপথ্যে

    নন্দীগ্রামের এই রাজনৈতিক উত্তাপের পিছনে রয়েছে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রে ভোট হবে ৬ অক্টোবর, গণনা তিনদিন পরে, ৯ তারিখে (Nandigram Injury Claim)।

    শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। সেখানেই তিনি ধুয়ে দেন তৃণমূল এবং কান্ডারিকে। মমতার সাধের দল তৃণমূলের নাম ও প্রতীক না থাকা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং অতীতের নন্দীগ্রাম-কাণ্ড—একাধিক প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ করেন তিনি। নন্দীগ্রামের এই সভায়ই “বড় চোরও জেলে যাবে” মন্তব্য করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর ইঙ্গিত আসলে কার দিকে। সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রচার জমজমাট। এখন দেখার, রাজ্যের অন্যতম ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিধানসভার আসন নন্দীগ্রামে শেষ হাসি হাসেন কে।

     

  • Nandigram By-Election: নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা কংগ্রেসের, বিজেপির হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ বাতিলের আবেদন খারিজ হাইকোর্টে

    Nandigram By-Election: নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা কংগ্রেসের, বিজেপির হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ বাতিলের আবেদন খারিজ হাইকোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেল জাতীয় কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের (Nandigram by Election) বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ বাতিল করার দাবি জানিয়ে কংগ্রেস যেই আবেদন জানিয়েছিল, সেটা খারিজ করে করে দিল হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মঙ্গলবার কংগ্রেসের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। যার ফলে হাসিরানি রথের নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা রইল না। শুক্রবার এই মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক নিহত চন্দ্রনাথ করের মা হলেন হাসিরানি রথ। তিনিই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন। আর তাঁরই নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য নিয়ে আপত্তি রয়েছে কংগ্রেসের।

    হাসিরানি রথের মনোনয়নে আপত্তি

    হাসিরানির নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ ছিল যে, নির্বাচন কমিশনের কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে হাসিরানি যে মাধ্যমিকের শংসাপত্র জমা দিয়েছেন, তাতে ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশের কথা বলা আছে। অথচ, প্রার্থী জানিয়েছেন, তাঁর বয়স ৬০ বছরের বেশি। সেই হিসেবে ১৯৬৬ সাল নাগাদ তাঁর জন্ম। কী ভাবে জন্মের আগেই মাধ্যমিক পাশ করে ফেললেন তিনি, তা নিয়ে কটাক্ষ করে কংগ্রেস। তা নিয়েই হাইকোর্টে মামলা করেছিল তারা। কংগ্রেসের দাবি, হয় হাসিরানি রথ নিজের বয়স ভুল বলছেন। অথবা তিনি মাধ্যমিক পাসের যেই সার্টিফিকেট দিয়েছেন, সেটা জাল। আর সেই কারণেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল।

    কেন খারিজ কংগ্রেসের আবেদন

    সাধারণত কোনও প্রার্থী হলফনামা জমা দিলে তার তথ্য স্ক্রুটিনিতে দেখেন রিটার্নিং অফিসার। এ ক্ষেত্রে কমিশনের বক্তব্য হল, ওই স্ক্রুটিনির সময় কেউ আপত্তি তুললে তা বৈধ। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার পর মামলাকারীর এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার আর এক্তিয়ার নেই। জনস্বার্থ মামলা হলে এই প্রশ্ন তোলা যেত। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় যেহেতু কোনও আপত্তি আসেনি, তাই পরে আর কোনও পদক্ষেপ করা যায় না। মাধ্যমিকের শংসাপত্র জাল কি না, তা প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের জোরালো কারণ হতে পারে না বলেও কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন। হাসিরানির আইনজীবী জয়দীপ কর শুক্রবারের শুনানিতে আদালতে জানান, যে সময় হলফনামার তথ্যের ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর কথা ছিল, সেই সময় তা করা হয়নি। এখন আদালত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে পারে না। তা ছাড়া, এটি ইচ্ছাকৃত কোনও ভুল নয়। তাই হাসিরানিকে সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন আইনজীবী। শুক্রবার বিচারপতি রাও সব পক্ষের বক্তব্যই শোনেন। শুনানি শেষে রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। মঙ্গলবার কংগ্রেসের করা মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার কথা জানান বিচারপতি।

  • Samik Bhattacharya: কলকাতাকে কেন্দ্র করে চার রুটে দ্রুতগতির রেল! কেন্দ্রকে প্রস্তাব শমীকের

    Samik Bhattacharya: কলকাতাকে কেন্দ্র করে চার রুটে দ্রুতগতির রেল! কেন্দ্রকে প্রস্তাব শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত ও মসৃণ করতে আঞ্চলিক দ্রুতগতির গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব। দিল্লি-সহ জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে চালু ‘নমো ভারত’-এর ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও এমন রেলপথ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লালের কাছে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি একটি প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার রিপোর্টও জমা দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত চারটি করিডরের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে (NaMo-Bharat)।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কলকাতার ময়দানকে কেন্দ্রীয় সংযোগস্থল ধরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরকে চারটি করিডরের মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল, বন্দর, শিক্ষা ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গে কলকাতার দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তোলাই এই প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রস্তাবিত চার রুট (Samik Bhattacharya)

    প্রথম করিডরটি হবে কলকাতা-ময়দান থেকে কল্যাণী, কৃষ্ণনগর হয়ে মায়াপুর পর্যন্ত। প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে নদিয়া ও সংলগ্ন এলাকার সঙ্গে কলকাতার দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।

    দ্বিতীয় করিডরটি কলকাতা থেকে বর্ধমান, দুর্গাপুর হয়ে আসানসোল পর্যন্ত। প্রায় ২৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলকে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুর্গাপুর ও আসানসোলের সঙ্গে পৃথক দ্রুতগতির গণপরিবহণ সংযোগের কথাও প্রস্তাবে রয়েছে।

    তৃতীয় করিডরটি কলকাতা থেকে ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, হলদিয়া হয়ে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত। প্রায় ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প ও বন্দর এলাকার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    চতুর্থ করিডরটি কলকাতা থেকে সাঁতরাগাছি, কোলাঘাট, খড়গপুর হয়ে মেদিনীপুর পর্যন্ত। প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    রেললাইন-জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে করিডর তৈরির প্রস্তাব

    প্রস্তাবে জমি অধিগ্রহণের সমস্যা ও খরচ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাতীয় সড়ক ও রেলপথের পাশ দিয়ে নতুন দ্রুতগতির রেল করিডর তৈরির কথা বলা হয়েছে। এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কমতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শমীকের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নগর ও পরিকাঠামোগত বিকাশ এখনও মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক। অন্যদিকে দুর্গাপুর, আসানসোল, খড়গপুর, কৃষ্ণনগর ও হলদিয়ার মতো শহর শিল্প, শিক্ষা, বন্দর ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই শহরগুলির মধ্যে দ্রুত ও উচ্চক্ষমতার যাত্রী পরিবহণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে (Samik Bhattacharya)।

    যৌথ মালিকানায় নয়া সংস্থার প্রস্তাব

    প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ মালিকানায় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্থার নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল র‍্যাপিড ট্রানজিট কর্পোরেশন’। জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের পরিবহণ ব্যবস্থার আদলে এই সংস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের প্রকৌশলগত দিক, সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা এবং আর্থিক বিষয় খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Samik Bhattacharya) করার জন্য কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে (NaMo-Bharat) আবেদন জানিয়েছেন শমীক।

     

  • Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দুই নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে থাকবে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি বাহিনী।

    নির্বাচন কমিশনের তরফে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত হিসাব জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনই নয়, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টিং করা হবে। ফলে ভোটগ্রহণের সময় বুথগুলির পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকছে।

    নন্দীগ্রামে ৩৭, রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। রেজিনগরে থাকবে ৩৪ কোম্পানি। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সাধারণত এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রায় ১০০ জন অফিসার ও জওয়ান থাকেন। সেই হিসেবে দুই কেন্দ্রে কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেই বাহিনীর মধ্য থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য ৭১ কোম্পানি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

    ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং

    নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। নন্দীগ্রামে মোট বুথ রয়েছে ২৮২টি এবং রেজিনগরে বুথের সংখ্যা ৩১৫টি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুথের পাশাপাশি সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাতেও নজরদারি চালাবেন। ভোটের আগে এলাকায় রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন উপনির্বাচন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে?

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

    অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের পর। তিনিও রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি।

    তৃণমূলের প্রতীক-জটিলতায় নজর

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—দুই শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এই পরিস্থিতিতেই দুই শিবির আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করেছে।

    ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, তেমনই দুই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর গণনা

    নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা হবে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপরই দুই কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হবে।

    নন্দীগ্রামে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন হরি লাল চৌহান এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক সন্তোষ দাস। রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন এম বি বোরলিঙ্গাইয়া এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক হর্ষল পঞ্চোলী।

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে কমিশনের এই বিপুল নিরাপত্তা আয়োজনের ফলে ভোটের প্রস্তুতি এখন আরও তুঙ্গে।

LinkedIn
Share