Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • China: এবার চিনের মুখে ভারতের নাম, বেজিংয়ের মুখে মোদি-প্রশস্তি

    China: এবার চিনের মুখে ভারতের নাম, বেজিংয়ের মুখে মোদি-প্রশস্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূতের মুখে রাম নাম নয়, বরং পড়ুন, চিনের (China) মুখে ভারতের নাম! এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) প্রশংসায় পঞ্চমুখ চিনের শি জিনপিং সরকার। আমেরিকা সফরে গিয়ে লেক্স ফ্রিডম্যানের পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সাক্ষাৎকারে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সেই মন্তব্যের প্রশংসা করল চিন।

    হাতি ও ড্রাগনের সহযোগিতামূলক (China)

    এনিয়ে ফের একবার ‘হাতি ও ড্রাগনের সহযোগিতামূলক নৃত্যে’র প্রসঙ্গ তুলে আনল বেজিং। রাখঢাক না করেই চিনের স্পষ্ট বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদির বয়ান বাস্তববাদী। ভারত চিন সম্পর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “আমার দেশ মোদির এই বিবৃতি শুনেছে এবং তারা এর প্রশংসা করছে।”

    ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক

    এর আগে লেক্স ফ্রিডম্যানের পডকাস্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, “প্রতিযোগিতা দ্বন্দ্বে পরিণত হওয়া উচিত নয় এবং মতপার্থক্যকেও বিরোধে পরিণত করা উচিত নয়।” এই আবহে মাও বলেন, “অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের মধ্যের সফল বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য কৌশলগত দিক নির্দেশনা দিয়েছে।”

    চিনের প্রশস্তি

    ফ্রিডম্যানকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পাকিস্তানকে তুলোধনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এরই পাশাপাশি ভারতের অপর প্রতিবেশী চিনকে (China) নিয়ে তাঁর সুর ছিল নরম। ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘পরিবারে’র উদাহরণ টেনেছিলেন। সীমান্ত নিয়ে চিনের সঙ্গে ভারতের যে বিবাদ রয়েছে এবং গত কয়েক বছর ধরে যে দুই দেশের সম্পর্কে চিড় ধরেছে, তা মেনে নিয়েছেন মোদি। তবে তিনি এও জানিয়েছিলেন, ধীরে ধীরে চিন ও বেজিংয়ের সম্পর্ক ভালো হচ্ছে।

    ভারত-চিন সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা যাতে বিবাদে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।” মোদি জানান, গালওয়ান পূর্ববর্তী সমীকরণেই চিনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় ভারত। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস দুই দেশের মধ্যে ফের আস্থা ফিরবে।” ভারত-চিন সীমান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার বৈঠকের পরে সীমান্তে (China) স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে দেখছি (PM Modi)।”

  • Tulsi Gabbard: বাংলাদেশে ‘হিন্দু নিধন নিয়ে উদ্বিগ্ন’, ভারতে এসে কী বললেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি?

    Tulsi Gabbard: বাংলাদেশে ‘হিন্দু নিধন নিয়ে উদ্বিগ্ন’, ভারতে এসে কী বললেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যা, নির্যাতন, হিন্দু নিধন’, নিয়ে উদ্বেগে আমেরিকা। ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট এই কথা জানালেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড (Tulsi Gabbard)। তিনি আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশে (Hindus in Bangladesh) ‘ইসলামিক সন্ত্রাস’ নিয়েও যথেষ্ট অস্বস্তি রয়েছে আমেরিকার। নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ভাবধারাকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানিয়েছেন তুলসি।

    হিন্দু-নির্যাতন দুর্ভাগ্যজনক

    সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে একটি সাক্ষাৎকার দেন তুলসি (Tulsi Gabbard)। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে দীর্ঘ দিন ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ক্যাথলিক-সহ অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দুর্ভাগ্যজনক নির্যাতন, হত্যা, হেনস্থা আমেরিকা সরকার, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নতুন মন্ত্রিসভা এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এই নিয়ে সবেমাত্র কথাবার্তা শুরু হলেও বিষয়টি উদ্বেগে রেখেছে তাঁদের। উল্লেখ্য, তুলসি গ্যাবার্ড নিজে হিন্দু। এই আবহে বাংলাদেশি হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় তিনি সহানুভূতিশীল। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সর্বত্রই হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের বিষয়ে বরাবরই সরব থেকেছেন তুলসি। তিনি নিজে মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম হিন্দু নির্বাচিত সদস্য।

    ইসলামিক সন্ত্রাস নিয়ে সরব তুলসি

    আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধানের পদে বসার পরে দ্বিতীয় বার বিভিন্ন দেশের সফরে বেরিয়েছেন তুলসি (Tulsi Gabbard)। রবিবার ভারতে এসেছেন তিনি। সোমবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন গ্যাবার্ড। এর পরে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদীদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভাবধারা এবং লক্ষ্য একই— ইসলামিক খলিফার নীতি এবং শাসন চালু করা।’’

    বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন

    গত বছর অগস্টে গণ আন্দোলনের পরে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়েন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। তার পর থেকে সে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা (Hindus in Bangladesh) নিশ্চিত করার কথাও বলেছে। গত ডিসেম্বরে নয়াদিল্লি জানায়, হাসিনা সরকারের পতনের পরে সে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ২,২০০টি ঘটনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আগেই সরব হন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমেরিকা সফরের সময় তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হয় ট্রাম্পের। ট্রাম্প জানান, বাংলাদেশের বিষয়টি তিনি মোদির উপরেই ছাড়ছেন।

    বাংলাদেশের অভিমত

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন (Hindus in Bangladesh) প্রসঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসির (Tulsi Gabbard) কথায় ঘুম উড়েছে বাংলাদেশের। তুলসির এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। ১৭ মার্চ রাতেই এই নিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইউনূসের সরকার বলে, ‘গভীর উদ্বেগ ও দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা করা হচ্ছে এবং ইসলামি সন্ত্রাসীদের হুমকি রয়েছে।’ ঢাকার তরফ থেকে আরও বলা হয়, ‘আরও দুঃখজনকভাবে, তিনি এসব হুমকির শিকড় ইসলামি খিলাফতের শাসন ও পরিচালনার আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। বাংলাদেশ বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইসলামের ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত। বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্য নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ বা গ্রহণযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে নয়; বরং এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে অন্যায়ভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে। বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও চরমপন্থার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তবে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।’

    বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র

    তবে, ঢাকা যাই বলুক না কেন, বিগত দিনে বাংলাদেশে ক্রমেই বেড়েছে মৌলবাদ। হাসিনার বিদায়ের পর থেকেই মন্দির থেকে শুরু করে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চলেছে। সেই সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা থেকে বিএনপি-জামাত দেখেছিল ‘আওয়ামি লিগের ষড়যন্ত্র’। তবে কয়েক মাস যাওয়ার পরও সেই দেশে হিন্দুদের (Hindus in Bangladesh) ওপর অত্যাচার থামেনি। ধর্মের নামে চাকরি থেকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয় সংখ্যালঘুদের। অনেককে ধর্মান্তরিত করানোর অভিযোগও উঠেছে। এরই মাঝে চট্টগ্রামে হিন্দু এবং বৌদ্ধদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘু অত্যাচারে সেখানে অভিযুক্ত খোদ সেনা। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর গ্রেফতারি ঘিরে আরও উত্তাল হয় পরিস্থিতি। এদিকে সেখানে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বাংলাদেশের কট্টরপন্থীরা পথে নেমেছিল। ‘জুলাই বিল্পবের’ ছাত্র নেতারাও ইসকনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সারজিস আলম চট্টগ্রামে ইসকন এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ দেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে গ্রেফতার করা হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহাসচিব ও অশ্বিনী সেবা আশ্রমের সভাপতি কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলকে। এই আবহে বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যা, নির্যাতন’ নিয়ে উদ্বেগে আমেরিকা। বিশেষত, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টানদের নিয়ে। ভারত সফরে এসে এবার এই কথাই ফের স্পষ্ট করেন তুলসি।

  • Tulsi Gabbard: ‘খালিস্তানিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’, ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়েও তুলসীর সঙ্গে কথা রাজনাথের

    Tulsi Gabbard: ‘খালিস্তানিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’, ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়েও তুলসীর সঙ্গে কথা রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছাতে ভারতে এসেছেন তুলসি গ্যাবার্ড (Tulsi Gabbard)। সোমবার তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সূত্রের খবর, সিং ও গ্যাবার্ডের মধ্যে বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিকে বৈঠকে নাকি রাজনাথ সিং দাবি করেন, মার্কিন নিবাসী খালিস্তানি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের ‘শিখস ফর জাস্টিস’ সংগঠনটিকে জঙ্গি সংগঠনের তকমা দেওয়া হোক।

    দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় সাধন

    সূত্রের খবর, সিং এবং গ্যাবার্ডের মধ্যে এই বৈঠকে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সমন্বয় জোরদার করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই সফর এবং বৈঠক ভারত-মার্কিন সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরেছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। রবিবার ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড ৷ সেদিন রাতেই তিনি বৈঠকে বসেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অজিত ডোভালের সঙ্গে। ওই বৈঠকে ডোভাল ও মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী ছাড়াও ছিলেন ভারতের গোয়েন্দা প্রধান, কানাডার গোয়েন্দা প্রধান, ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও। সূত্রের খবর, অজিত ডোভালের সঙ্গে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে ৷ ভারতে রওনা দেওয়ার আগে এক্স হ্যান্ডেলে তুলসি লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্যপূরণই হবে তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য।”

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষা

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৫ সালে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব শুরু হয় এবং ২০২০ সালে ট্রাম্পের ভারত সফরের সময় এটি একটি ব্যাপক গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত হয়। গ্যাবার্ডের এই সফর এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার একটি প্রতিফলন। রাজনাথ সিং এবং তুলসী গ্যাবার্ডের বৈঠকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়

    এই বৈঠকে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়েও কথা হয়েছে। ভারত সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের দিকে ঝুঁকেছে। লজিস্টিকস এক্সচেঞ্জ মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাগ্রিমেন্ট (LEMOA), কমিউনিকেশনস কম্প্যাটিবিলিটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাগ্রিমেন্ট (COMCASA) এবং বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (BECA)-এর মতো চুক্তিগুলি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। গ্যাবার্ডের সঙ্গে এই আলোচনা এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে।

    তুলসী গ্যাবার্ড-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্পর্ক

    ৪৩ বছর বয়সী তুলসী গ্যাবার্ড মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম হিন্দু সদস্য হিসেবে পরিচিত। তিনি হাওয়াই থেকে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিসেবে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ত্যাগ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেন এবং এখন তাঁর প্রশাসনে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ভগবদ্গীতার হাতে শপথ নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সেই বইটি উপহার দিয়েছিলেন। গ্যাবার্ড ভারতের প্রতি তাঁর সমর্থনের জন্য পরিচিত। তিনি ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফর করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন, যা ভারতীয়-মার্কিন সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।

    খালিস্তান প্রসঙ্গ

    নিষিদ্ধ খালিস্তানপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (এসএফজে) এবং তার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের কাছে দাবি জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সোমবার দিল্লিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে রাজনাথ-গ্যাবার্ড বৈঠকে খলিস্তান-প্রসঙ্গ এসেছে বলেও খবর। জো বাইডেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন খালিস্তান নিয়ে একাধিক বার নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। পান্নুনকে হত্যার চেষ্টার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছর নিখিল গুপ্ত নামে এক ভারতীয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল মার্কিন প্রশাসন। চেক প্রজাতন্ত্র থেকে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয়েছিল আমেরিকায়। এমনকি, ওই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে তলব করেছিল আমেরিকার আদালত।

    একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা

    খালিস্তান প্রসঙ্গের পাশাপাশি, ডোভাল এবং রাজনাথের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের গোয়েন্দা প্রধানের বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন, মাদক বিরোধিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা, যৌনশোষণ রোধ, মানব পাচার, সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলি এসেছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম কোনও শীর্ষস্থানীয় মার্কিন আধিকারিক ভারত সফরে এলেন। আড়াই দিনের এই সফরে দিল্লিতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বৈঠকে যোগদানের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্কে নিয়ে একাধিক বৈঠক করবেন গ্যাবার্ড। ভারত সফর শেষে তিনি যাবেন জাপান ও সেখান থেকে ফ্রান্সে পৌঁছবেন।

  • PM Modi: “ভারত শান্তি চাইলেও, পাকিস্তান চিরকাল ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে”, সাক্ষাৎকারে বললেন মোদি

    PM Modi: “ভারত শান্তি চাইলেও, পাকিস্তান চিরকাল ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে”, সাক্ষাৎকারে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত সব সময় শান্তি চেয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান (Pakistan) তার বদলে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে।” এক মার্কিন পডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালানোর অভিযোগেও পাকিস্তানকে দুষেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভারতের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি প্রচেষ্টা সম্মুখীন হয়েছে তার প্রতিবেশীর শত্রুতা ও বিশ্বাসঘাতকতার। যার জন্য দেশটি পুরো বিশ্বের জন্য অশান্তির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার (PM Modi)

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল নরেন্দ্র মোদির আমেরিকা সফরের সময়ই। সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন লেক্স ফ্রিডম্যান। ঘণ্টা তিনেকের ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয় রবিবার। সেখানে তিনি জানান, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার সময় পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পাকিস্তানকে। ইসলামাবাদের সঙ্গে যাতে নতুনভাবে সম্পর্ক শুরু করা যায়, তাই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পাকিস্তানকে। কিন্তু শান্তি ফেরানোর প্রতিটি চেষ্টার বদলে অপর প্রান্ত থেকে মিলেছে বিরোধিতা ও বিশ্বাসঘাতকতা।

    শত্রুতা ও বিশ্বাসঘাতকতা

    লাহোর সফরের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) জানান, ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি মহৎ প্রচেষ্টা শত্রুতা ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে প্রতিহত হয়েছে।” ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ না বেছে নেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্তও করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশভাগ একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক পর্ব ছিল। তবে ভারত দেশভাগকে মেনে নিয়ে এগোতে শুরু করে।” কিন্তু পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ বেছে নেয়নি বলেও অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, তারা (পাকিস্তান) নিজেদের মতো করে থাকবে, আমাদেরও আমাদের মতো করে থাকতে দেবে। কিন্তু তারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে এগোয়নি। বার বার তারা ভারতের বিরুদ্ধে গিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ শুরু করেছে (Pakistan)।”

    প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস

    প্রসঙ্গত, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে মোদির (PM Modi) এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে যখন কোয়েটা-পেশোয়ার ট্রেনে বালোচ বিদ্রোহীরা প্রাণঘাতী হামলা ও পণবন্দি প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য আরও জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ শান্তির পক্ষে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আশা করি তাদের (পাকিস্তানের) শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা শান্তির পথ বেছে নেবে। আমি বিশ্বাস করি, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষও শান্তি চান। কারণ তাঁরাও এই বিবাদ ও অস্থিরতার মধ্যে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা নিশ্চয়ই অবিরাম চলতে থাকা সন্ত্রাসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, যেখানে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, এমন কী নিরীহ শিশুরাও মারা যাচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মসৃণ করতে বার বার চেষ্টা করেছেন তিনি।

    প্রশ্ন যখন সন্ত্রাসবাদ

    সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নেও পাকিস্তানকে বেঁধেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এর জন্য শুধু ভারতই নয়, গোটা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশ্বের যেখানেই জঙ্গি হামলা হোক না কেন, কোনও না কোনওভাবে তার যোগসূত্র মেলে পাকিস্তানে। ৯/১১ হামলার ঘটনাই দেখুন না, ওই হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেন। তিনি কোথা থেকে এলেন? তিনি পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদী মানসিকতা পাকিস্তানের গভীরে গেঁথে রয়েছে এবং গোটা বিশ্ব আজ বুঝতে পারছে (Pakistan)।” ২০১৯ সালের অগাস্ট মাস থেকে (PM Modi) ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের সামান্য যোগসূত্রটুকুও ছিঁড়ে যায়। জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ হয় ওই মাসে। তার পরেই পাক সরকার ভারতের হাই কমিশনারকে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে। পাকিস্তানও তার নবনিযুক্ত হাই কমিশনারকে নয়াদিল্লিতে পাঠায়নি।

    ভারত-চিন সম্পর্ক

    পডকাস্টে, ভারত-চিন সম্পর্ক সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে চলা সীমান্ত বিরোধের কথা স্বীকার করে নেন। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের মধ্যে যথেষ্ট উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তবে, প্রেসিডেন্ট শি-জিনপিংয়ের সঙ্গে আমার সাম্প্রতিক বৈঠকের পর সীমান্তে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে। আমরা এখন ২০২০ সালের আগের পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে কাজ করছি।” তাঁর বিশ্বাস, আস্থা গঠনের প্রচেষ্টা অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে।

    প্রসঙ্গত, মোদির (PM Modi) এই সাক্ষাৎকার যখন সম্প্রচারিত হচ্ছে, তখন ভারতের বার্ষিক বহুপাক্ষিক সম্মেলন রাইসিনা ডায়লগে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে হাজির শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকরা। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রীও। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে শান্তি প্রচেষ্টার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আলোচনায় রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং উভয় পক্ষ আলোচনার (Pakistan) টেবিলে এলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে (PM Modi)।”

  • PM Modi: ‘‘আরএসএসের কাছে থেকেই পেয়েছি জীবনের উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধ’’, ফ্রিডম্যানের পডকাস্টে বললেন মোদি

    PM Modi: ‘‘আরএসএসের কাছে থেকেই পেয়েছি জীবনের উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধ’’, ফ্রিডম্যানের পডকাস্টে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার নয়াদিল্লিতে বিখ্যাত মার্কিন পডকাস্টার ফ্রিডম্যানকে সাক্ষাৎকার দেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর জীবন, দর্শন, রাজনৈতিক যাত্রা এবং প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) হওয়ার ঘটনা। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর জীবনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গভীর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত, সাক্ষাৎকারের পরে ফ্রিডম্যান (Fridman Podcast) জানান, এটা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী কথোপকথন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক জীবনে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয়বার পডকাস্টের সাক্ষাৎকার। প্রথমবার তিনি এই ধরনের পডকাস্টে অংশগ্রহণ করেন চলতি বছরেই নিখিল কামাথের সঙ্গে। রবিবারের সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁর জীবনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গভীর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।

    জনসেবাই হল ভগবানের সেবা, শেখায় আরএসএস, পডকাস্টে বললেন মোদি

    তিনি (PM Modi) বলেন, ‘‘আমার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল আরএসএস।’’ তাঁর মতে, ‘‘আরএসএস-এ যোগ দিয়ে আমি জীবনের নতুন উদ্দেশ্য খুঁজে পাই। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ছিলাম যে এই সময়টা আমি সন্ত-মহাত্মাদের সঙ্গে কাটাতে পারতাম। যেটা আমার জীবনে একটি শক্তিশালী আধ্যাত্মিকতার দিক রচনা করতে পেরেছিল। আমি এখান থেকেই জীবনের শৃঙ্খলা বুঝতে পেরেছিলাম এবং উদ্দেশ্যও বুঝতে পেরেছিলাম।’’ তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে বুঝতে হলে এর কর্মপদ্ধতিকে জানতে হবে। দেশই আমাদের কাছে সবকিছু, জনসেবাই হল ভগবানের সেবা। এটাই শেখায় সংঘ।’’

    তরুণ বয়সে আমার হিমালয় যাত্রা জীবনকে নতুন গতি দিয়েছিল

    রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi), তাঁর জীবনের বিভিন্ন বিষয়গুলিকে আলোচনা করেন। তিনি জানান, উপবাসের তাৎপর্য সম্পর্কে। এই উপবাসের ব্রত কীভাবে জীবনে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাপরায়ণতা শেখায় তাও তিনি বলেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘তরুণ বয়সে আমার হিমালয় যাত্রা জীবনকে নতুন গতি দিয়েছিল এবং ব্যক্তিত্বেরও পরিবর্তন ঘটিয়েছিল।’’ একইসঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর রাজনৈতিক ও আদর্শের কর্মকাণ্ডেরও কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, হিন্দু জাতীয়তাবাদ, দেশের বিবিধতা, মহাত্মা গান্ধী এবং নানা আন্তর্জাতিক বিষয়ের ওপরেও তিনি কথা বলেন।

    কীভাবে জুড়লেন আরএসএস-র সঙ্গে?

    শৈশবে তিনি কীভাবে আরএসএস-র সঙ্গে জুড়লেন সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, ‘‘আমাদের গ্রামে একটা শাখা চলত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের। যেখানে আমরা প্রতিদিন নিয়মিত খেলা করতাম এবং দেশাত্মবোধক গান গাইতাম। এই গানগুলি আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এগুলি আমার ভিতরে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সবচেয়ে বড় কথা আরএসএস আমার মধ্যে একটি কর্তব্যবোধকে জাগিয়ে তুলেছিল। তুমি যাই করো তার জন্য একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকতে হবে। যদি তুমি পড়াশোনা করো তাহলে সেই ভাবেই পড়াশোনা করো। যাতে তুমি যথেষ্ট শিখতে পারো এবং দেশকে কিছু দিতে পারো। যখন তুমি শারীরিক অনুশীলন করবে তখন তুমি সেটা এমন ভাবে করো যেন তোমার শরীর শক্তিশালী হয় এবং তা দেশের কাজে লাগে। এটাই আমাদের শেখানো হত। আজকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ একটি মহীরূহে পরিণত হয়েছে। এই সংগঠন ১০০ বছরে পা দিতে চলেছে। এমন বৃহৎ সংগঠন পৃথিবীর কোথাও দেখা যায় না। কোটি কোটি মানুষ এই সংগঠনের সঙ্গে জুড়েছেন কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে বোঝা অত সহজ নয়।’’

    আরএসএস-এর সেবা কাজ

    তিনি আরও বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মতো সংগঠনের কাছ থেকে জীবনের মূল্যবোধ শিখতে পেরে আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন বলেন, ‘‘নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে গিয়েও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ সমাজসেবা করে। একজন সত্যিকারের স্বয়ংসেবককে শুধুমাত্র তাঁর পোশাক বিধি দেখে অথবা তাকে সংঘের বৈঠকগুলিতে দেখে বোঝা যায় না। তাঁদেরকে আমরা বুঝতে পারি সমাজের প্রতি তাঁদের অবদান দেখেই।’’ এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন সেবা ভারতীর উদাহরণ। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একটি শাখা হল সেবা ভারতী। এই সেবা ভারতী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং বস্তি এলাকাগুলিতে কীভাবে সেবা কাজ চালাচ্ছে, তাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘সেবা ভারতী বর্তমানে ১ লক্ষ ২৫ হাজারেরও বেশি প্রকল্প চালাচ্ছে এবং এই সমস্ত প্রকল্পগুলি দেশজুড়ে চলছে। কোনও রকম সরকারি সহায়তা ছাড়াই। স্থানীয় মানুষজনদের সহায়তায় এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, জীবনের কর্তব্যবোধ, প্রভৃতি নানা বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’

    শিক্ষাক্ষেত্রে আরএসএস

    শিক্ষা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ভূমিকা সম্পর্কে এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘‘আরএসএস সব সময় মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষায় জোর দেয়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ অনুসরণ করে আমাদের বৈদিক ঋষিরা এবং স্বামী বিবেকানন্দ ঠিক যেভাবে শিক্ষাদান করতে বলেছিলেন সেই পদ্ধতিকে। সংঘের স্বয়ংসেবকরা তৈরি করেছেন বিদ্যা ভারতী, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছে এবং বর্তমানে সারা দেশে ৭০ হাজারেরও বেশি স্কুল চালাচ্ছে এই সংগঠন। এর মাধ্যমে ৩০ লাখেরও বেশি পড়ুয়া পড়াশোনা করছে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন আরও বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং সন্তদের জীবনের সঙ্গে মিশতে পেরে আমি জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমাকে খুব সাহায্য করেছিলেন স্বামী আত্মস্থানন্দ মহারাজ।’’ নিজের জীবনে তিনি রামকৃষ্ণ মিশন ও স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিকাও তুলে ধরেন।

  • PM Modi: ‘‘স্বামীজির শিক্ষা আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে’’, মার্কিন পডকাস্টারকে বললেন মোদি

    PM Modi: ‘‘স্বামীজির শিক্ষা আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে’’, মার্কিন পডকাস্টারকে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে! মার্কিন জনপ্রিয় পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্যানের সঙ্গে আলোচনায় এমনটাই জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। রবিবারই মোদির (PM Modi) সঙ্গে ফ্রিডম্যানের পডকাস্ট শো-কে ব্রডকাস্ট হয়। সেখানেই তাঁর জীবনে স্বামীজির প্রভাবের কথা তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘‘ছোটবেলায় গ্রামের পাঠাগারে নিয়মিত যেতাম আমি। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ সম্পর্কে পড়াশোনা করতাম। স্বামীজির শিক্ষা আমার জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘স্বামীজির লেখা এবং স্বামীজির জীবনী পড়ে উপলব্ধি করি, জীবনে সত্যিকারের পরিপূর্ণতা ব্যক্তিগত সাফল্যে নয়, অন্যের প্রতি স্বার্থহীন সেবার মাধ্যমে।’’

    বড় হয়েছি প্রচুর কষ্টের মধ্যে!

    মুখোমুখি আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন বললেন নিজের শৈশবের ছোট গল্পগুলোকে। জানালেন কীভাবে দারিদ্রতার মধ্য়ে দিয়ে বড় হতে হয়েছে তাঁকে। তবে তাঁর জীবনের অভাব কখনও তাঁর কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়নি বলেই দাবি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তাঁর কথায়, ‘‘প্রচুর কষ্টের মধ্য়ে বড় হতে হলেও, কখনও বঞ্চনা শিকার হতে হয়নি আমাকে। মানুষের স্নেহেই কেটে গিয়েছিল জীবনের অর্থাভাব।’’

    সাদা চক দিয়ে জুতো পরিষ্কার করতাম!

    এরপর তিনি (PM Modi) আরও বলেন, ‘‘ছেলেবেলায় আমার কাকা আমাকে একটা সাদা রঙের জুতো দিয়েছিল। অন্যদের কাছে জুতো পরিষ্কারের সামগ্রী থাকলেও, আমার কাছে তা ছিল না। তাই স্কুলের ফেলে দেওয়া চকগুলোকে দিয়ে সেই সাদা জুতো ঝাঁ চকচকে রাখার চেষ্টা করতাম। অর্থাভাবকে কখনওই আমি সংগ্রাম হিসাবে দেখিনি।’’ রবিবারের সন্ধ্যায় মার্কিন পডকাস্টারের সঙ্গে আলোচনায় একের পর বড় চমক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুনিয়া খ্যাত মার্কিন পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্য়ানের সঙ্গে মুখোমুখি বসলেন ১৪০ কোটির দেশের প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন আর্টিফিশিয়াল রিসার্চার ফ্রিডম্য়ানের সঙ্গে আলোচনা বসে নিজের শৈশব থেকে রাজনীতি, সব পর্বই তুলে ধরলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গুজরাটের ভাটনগরে জন্ম হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির। তাঁর শৈশব কেটেছে অত্যন্ত দারিদ্রতার সঙ্গেই। এই আবহে জারি থেকেছে পড়াশোনা। এরপর কিশোর বয়স থেকেই জুড়েছে আরএসএস-র কাজে। এদিন মার্কিন পডকাস্টারের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় ছেলেবেলার সেই দিনগুলির কথাই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।

  • PM Modi: এপ্রিলের প্রথমেই শ্রীলঙ্কা সফরে মোদি, স্বাক্ষর হবে একাধিক মউ, উদ্বোধন করবেন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের

    PM Modi: এপ্রিলের প্রথমেই শ্রীলঙ্কা সফরে মোদি, স্বাক্ষর হবে একাধিক মউ, উদ্বোধন করবেন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী এপ্রিল মাসের গোড়ায় শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka) সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। গতকাল শনিবার এমনটাই জানানো হয়েছে কলম্বোর তরফে। যদিও নয়াদিল্লি এবিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। গতকাল শনিবার শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, এপ্রিল মাসের শুরুতেই দ্বীপরাষ্ট্র সফর করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানা গিয়েছে, এই সফরে শ্রীলঙ্কার পূর্ব ত্রিঙ্কোমালি জেলার সামপুরে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনও করবেন মোদি। এই সফরে শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে তাঁর একাধিক বিষয়ে সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর করারও কথা রয়েছে।

    কী বললেন শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী?

    নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথাও উঠে আসে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে। শনিবার পেশ করা হয় শ্রীলঙ্কার বাজেট। সেই বাজেট অধিবেশনেই এমনটাই জানালেন শ্রীলঙ্কার বিদেশমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন,‘‘আমরা ভারতের সঙ্গে বরাবরই মিত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। সরকার গঠনের পরেই আমাদের প্রথম কূটনৈতিক সফর হয়েছিল ভারতের উদ্দেশেই। এবার সেদেশের প্রধানমন্ত্রী এপ্রিল নাগাদ শ্রীলঙ্কায় আসছেন।’’ প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার পর গত বছরই প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে এসেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী অনুরাকুমার দিশানায়েকে। সেই সফরে একাধিক বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয় দিল্লি এবং কলম্বোর মধ্যে। শ্রীলঙ্কার প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই সফরে সেই সমঝোতা আরও পাকাপোক্ত হতে চলেছে।

    ক্ষমতায় আসার পরে মোদির চতুর্থ শ্রীলঙ্কা সফর

    ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্মত হয়েছিল এনটিপিসি। জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে সেই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেরই উদ্বোধন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসেন ২০১৪ সালে। ঠিক তার পরের বছরেই অর্থাৎ ২০১৫ সালে তিনি প্রথম শ্রীলঙ্কা সফর করেন। এরপর ২০১৭ ও ২০১৯ সালেও তিনি শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলেন এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চতুর্থ শ্রীলঙ্কা সফর হতে চলেছে।

  • PM Modi: কেন্দ্রের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি, মোদির নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশে উন্নয়নের সঙ্গী ভারত

    PM Modi: কেন্দ্রের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি, মোদির নেতৃত্বে বিভিন্ন দেশে উন্নয়নের সঙ্গী ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মরিশাসে (Modi in Mauritius) ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ভারত। সেখানে সিভিল সার্ভিস কলেজ ও এরিয়া হেল্থ সেন্টার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুটি প্রতিষ্ঠান তৈরির ক্ষেত্রেই ভারতের বড় ভূমিকা আছে। বিভিন্ন দেশে ভারত উন্নয়নের পথে কীভাবে সঙ্গী হচ্ছে, তার প্রমাণ আরও একবার মিলেছে মরিশাসের এই প্রজেক্টে। বিশ্ববাসীর কল্যাণে বারবার প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের সঙ্গী হয়েছে ভারত। এবার সেই পথির পথিক হল মরিশাস।

    সিভিল সার্ভিস কলেজ উদ্বোধন

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বুধবার মরিশাসের পোর্ট লুইসে অটল বিহারি বাজপেয়ী সিভিল সার্ভিস ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করেছেন। যা ভারতের অনুদান সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। এই সিভিল সার্ভিস কলেজ এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ভারত-মরিশাস (Modi in Mauritius) বন্ধুত্বের প্রমাণ। সে দেশের প্রশাসনিক এবং স্বাস্থ্য সেবার সক্ষমতা শক্তিশালী করতে ভারত যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা এই প্রকল্পটির মাধ্যমেই বোঝা যায়। এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সকলের জন্য সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি সবসময় দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর ইচ্ছাতেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সহায়তায় একাধিক প্রধান উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হয়েছে।

    ভুটানে হাসপাতাল

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের সঙ্গী হিসেবে ভারতের ভূমিকার কথা বারবার উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। একাধিক দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নির্মাণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ভারত। ভুটানে গিয়াল্টসুয়েন জেতসুন পেমা ওয়াংচুক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হসপিটাল তৈরির ক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য করেছিল ভারত। সেই প্রজেক্টের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয় ২০১৯ সালে ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। মূলত মা ও সদ্যোজাত সন্তানের জন্যই তৈরি এই হাসপাতাল। ২০২৪-এ সেই হাসপাতাল উদ্বোধন করেন মোদি।

    বাংলাদেশে সহায়তা

    ২০২৩ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আখাউরা-আগরতলা ক্রস বর্ডার রেল লিঙ্ক, খুলনা-মোংলা পোর্ট রেল লাইন, মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের উদ্বোধন হয়েছিল ওই বছর। তার আগে ২০২২ সালে জয়নগর-কুরথা রেলওয়ের উদ্বোধন করেছিলেন মোদি। সঙ্গে ছিলেন নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। এটাই ছিল ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রথম রেল যোগাযোগ।

    দ্বীপরাষ্ট্রগুলির উন্নতিতে পাশে ভারত

    ২০২১ সালে সেশেলস-এর প্রেসিডেন্ট রামকালওয়ানের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বিল্ডিং উদ্বোধন করেন মোদি (PM Modi)। সেই প্রকল্পে ৩৫ লক্ষ ডলার সাহায্য করেছিল ভারত। এছাড়া ২০২০ সালে মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী যুগনাথের সঙ্গে যৌথভাবে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের বিল্ডিং উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে তাঁরা মেট্রো এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কায় জাফনা কালচারাল সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মোদি। শ্রীলঙ্কাকে চরম আর্থিক সঙ্কটের সময় ভারত অনেক সাহায্য করেছে। ওই বছরই আফগান পার্লামেন্টের উদ্বোধন করেন তিনি। ২০১৬ সালে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং আফগানিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আফগান-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ ড্যাম (সলমা ড্যাম) উদ্বোধন করেছিলেন, যা আফগানিস্তানে ভারতীয় সহায়তায় নির্মিত হয়।

    প্রতিবেশী প্রথম নীতি

    ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রতিবেশী (Neighbor First) সব দেশের সরকার প্রধানরা ভারতে আসেন। মোদিও প্রধানমন্ত্রী পদে বসে প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেন। তার এ সফর থেকে বোঝা গিয়েছিল, ভারতের বিদেশনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি গুরুত্ব থাকবে সবচেয়ে বেশি। আনুষ্ঠানিকভাবে ওই নীতিকে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নাম দেয় নয়াদিল্লি। ভারত সরকার চেয়েছিল আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মলদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে। ভৌগোলিকভাবে যারা ভারতের চেয়ে দূরে (সে আমেরিকাই হোক বা নাইজেরিয়া) তাদের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ঘরের কাছের পড়শিদের (শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল প্রভৃতি) সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত বেশি গুরুত্ব দেবে এবং তাদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে– এটাই হল ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’-এর সার কথা। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশনীতির মূল স্তম্ভ এটাই। প্রতিবেশী প্রথম এই নীতিতেই চলে ভারত। প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে সবসময় ভারত সাহায্যের হাত এগিয়ে দিয়েছে।

  • PM Modi: দ্বীপরাষ্ট্রে গীত গবাই পরিবেশন, মরিশাসে স্বাগত ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে

    PM Modi: দ্বীপরাষ্ট্রে গীত গবাই পরিবেশন, মরিশাসে স্বাগত ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বীপরাষ্ট্রে গীত গবাই পরিবেশনার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi)। মঙ্গলবার মরিশাসে (Mauritius) পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে মহিলারা বিহারের ঐতিহ্যবাসী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা গীত গবাই পরিবেশন করে স্বাগত জানান। গীত গবাই হল একটি ঐতিহ্যবাহী ভোজপুরী সঙ্গীত পরিবেশনা। ভিন দেশে ‘দেশীয়’ অভ্যর্থনা পেয়ে যারপরনাই আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী।

    মরিশাসে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনা (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “মরিশাসে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি গভীরভাবে অভিভূত। তাঁদের ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের প্রতি গভীর সংযোগ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। ইতিহাস ও হৃদয়ের এই বন্ধন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে।” ট্যুইট-বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মরিশাসে স্মরণীয় সংবর্ধনা। এর মধ্যে অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ, যা ‘গীত গবাই’ পরিবেশনার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। মরিশাসের সংস্কৃতিতে ভোজপুরী ভাষার সমৃদ্ধি সত্যিই প্রশংসনীয়।”

    ভারত মাতার জয়ধ্বনি

    এদিন মরিশাসের হোটেলে পৌঁছানোর পর, ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। হোটেলের কর্মীরাও ভারত মাতার জয়ধ্বনি দেন। ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। ২০১৬ সালে গীত গবাই অন্তর্ভুক্ত হয় ইউনেস্কোর তালিকায়। স্বীকৃতি পায় এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। সঙ্গীতজ্ঞদের মতে, গীত গবাই জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে (PM Modi)। এটি দেবতাদের স্তব ও আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হয়। এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগোলাম। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মালা পরিয়ে স্বাগত জানান।

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “মরিশাসে অবতরণ করলাম। আমার বন্ধু, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী ডঃ নবীনচন্দ্র রামগোলামের এই বিশেষ স্বাগত জানানোয় আমি কৃতজ্ঞ। এই সফরটি আমার জন্য একজন মূল্যবান বন্ধুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের একটি দারুণ সুযোগ।” তিনি আরও লেখেন, “আজ, আমি প্রেসিডেন্ট ধরম গোখুল, প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগোলামের  সঙ্গে সাক্ষাৎ করব এবং সন্ধ্যায় একটি কমিউনিটি প্রোগ্রামে ভাষণ দেব।” এদিন রামগোলামের সঙ্গে ছিলেন মরিশাসের (Mauritius) উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধী দলনেতা, বিদেশমন্ত্রী, ক্যাবিনেট সচিব, গ্র্যান্ড পোর্ট ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন এবং আরও অনেকে (PM Modi)।

  • PM Modi: উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে দেখতে এইমসে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে দেখতে এইমসে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে (Jagdeep Dhankhar) দেখতে এইমসে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার মধ্য রাতে আচমকাই বুকে ব্যথা অনুভব করেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা অধুনা উপরাষ্ট্রপতি ধনখড়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভর্তি করা হয় দিল্লির এইমসে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে।

    হাসপাতালে উপরাষ্ট্রপতি (PM Modi)

    রবিবার দুপুরে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালে তিনি উপরাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। কথা বলেন চিকিৎসকদের সঙ্গেও। পরে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খবর নিতে দিল্লি এইমস হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ওঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।” উপরাষ্ট্রপতি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এইমসের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান রাজীব নারাঙের তত্ত্বাবধানে। ইতিমধ্যেই তাঁর শরীরে নানাবিধ পরীক্ষা হয়েছে। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট এলে পরবর্তী চিকিৎসা পদ্ধতি ঠিক করা হবে (PM Modi)। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।

    আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু ধনখড়ের

    এর আগেও একবার ধনখড়কে দিল্লির এইমসে ভর্তি করা হয়েছিল। ম্যালেরিয়া হওয়ায় ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেই সময় তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল। ১৯৭৮-৭৯ সালে রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে স্নাতক হন ধনখড়। কর্মজীবন শুরু করেন আইনজীবী হিসেবে। দীর্ঘ দিন ধরে রাজস্থানের হাইকোর্টে এবং সুপ্রিম কোর্টে ওকালতি করেছেন ধনখড়।

    ধনখড় ভারতের ১৪তম উপরাষ্ট্রপতি। তাঁর আগে তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল। ১৯৮৯ সালে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ধনখড়ের। ঝুনঝুনু লোকসভা আসন থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করে রাজনীতিতে চলে আসেন তিনি। পরের বছরই সংসদীয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৯৩ সালে রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনে আজমের জেলার কিষানগড় অসনে জয়ী হন তিনি। পিভি নরসিংহের আমলে যোগ দেন কংগ্রেসে। পরে যোগ দেন বিজেপিতে। তার পরেই হন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল। এই সময় বাংলার শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে প্রায়ই নানা কারণে সংঘাত বাঁধে তাঁর। ধনখড়ের (Jagdeep Dhankhar) আমলেই রাজভবন ও নবান্ন সংঘাত চরমে উঠেছিল (PM Modi)।

LinkedIn
Share