Tag: NASA

NASA

  • Shubhanshu Shukla: ৪১ বছর পর ফের মহাকাশে যাচ্ছেন এক ভারতীয়, কেন তাৎপর্যপূর্ণ শুভাংশুর এই যাত্রা?

    Shubhanshu Shukla: ৪১ বছর পর ফের মহাকাশে যাচ্ছেন এক ভারতীয়, কেন তাৎপর্যপূর্ণ শুভাংশুর এই যাত্রা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৪১ বছর পরে এবার ফের মহাকাশে পাড়ি দিতে চলেছেন এক ভারতীয়। বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল (Shubhanshu Shukla)। শুক্রবার ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভ্রাংশুকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (International Space Station) পাঠাবে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা, নাসা। প্রাইমারি মিশন পাইলট হিসেবে থাকছেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুক্ল। বায়ুসেনার আর এক কর্তা, গ্রুপ ক্যাপ্টেন প্রশান্ত বালকৃষ্ণণ নায়ার থাকবেন ব্যাকআপ মিশন পাইলট হিসেবে।

    শুভাংশু শুক্ল (Shubhanshu Shukla)

    উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের বাসিন্দা শুভাংশু। প্রায় ১৮ বছর আগে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনায়। শুভাংশুর দিদি জানান, কার্গিল যুদ্ধই ছিল তাঁর বাহিনীতে যোগদানের অনুপ্রেরণা। ১৯৯৯ সালে, কার্গিল যুদ্ধের সময় শুক্লর বয়স ছিল ১৪ বছর। সেই সময় ভারতীয় সেনাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বীরগাথা পড়তে পড়তেই তিনি ঠিক করে নিয়েছিলেন সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেবেন।

    অ্যাক্সিওম স্পেস

    প্রায় ৯ মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কাটানোর পর গত মার্চ মাসে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভশ্চর সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর। এবার সেখানেই যাওয়ার কথা শুভাংশুর। গত মে মাসের ২৯ তারিখেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশুর। কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে যাওয়ার সেই অভিযান স্থগিত হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওম স্পেস। জানা গিয়েছে, এএক্স-৪ মিশনের এই উৎক্ষেপণ হবে মঙ্গলবার, ১০ জুন। দু’হাজার ঘণ্টারও বেশি উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে শুভাংশুর। ২০১৯ সালে ভারতের মহাকাশচারী কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত হন তিনি। এজন্য রাশিয়া, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। তিনিই হবেন কনিষ্ঠতম মহাকাশচারী।

    রাত পোহালেই রচিত হবে ইতিহাস

    আবহাওয়া অনুকূল (Shubhanshu Shukla) থাকলে ১০ জুন ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার (NASA) থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। এই রকেটটি চারজন মহাকাশচারীকে নিয়ে দুসপ্তাহের যাত্রায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের দিকে রওনা দেবে। এই দলেই থাকবেন শুভাংশু। এই অভিযানের নাম রাখা হয়েছে “অ্যাক্সিওম মিশন ৪” (Ax-4)। এটি পরিচালনা করছে হিউস্টন-ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা অ্যাক্সিওম স্পেস, যারা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে কাজের ক্ষেত্রে দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অর্জন করেছে। শুভাংশু হবেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে যাওয়া প্রথম ভারতীয় নভশ্চর (International Space Station)। অ্যাক্সিওম-৪ হল অ্যাক্সিওম স্পেসের চতুর্থ মানববাহী মহাকাশ মিশন, যা নাসা এবং স্পেস এক্সের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি একটি বেসরকারিভাবে পরিচালিত বাণিজ্যিক মহাকাশযাত্রা, যার উদ্দেশ্য হল মানব শারীরবিদ্যা, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, পদার্থবিদ্যা, এবং মহাকাশ কৃষি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা।

    এই মিশনের গুরুত্ব

    এই মিশন নানা (Shubhanshu Shukla) কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি মহাকাশে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার সাফল্য প্রদর্শন করে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মানুষের উপস্থিতিকে আরও সম্প্রসারিত করে। এই মিশন ভারতের মতো দেশ, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির মতো যারা বহু দশক ধরে মানব মহাকাশ অভিযানে যোগ দিতে পারেনি, তাদের মহাকাশে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করার সুযোগ দেয়। শুভাংশু এএক্স-৪ মিশনের পাইলট হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর স্থান মিশন কমান্ডারের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নেভিগেশন, ডকিং এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পরিচালনার কৌশল। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে শুভাংশু বলেন, “আমি মহাকাশে যাচ্ছি। শুধু যন্ত্রপাতি ও উপকরণই বহন করছি না, আমি বহন করছি ১০০ কোটি হৃদয়ের আশা ও স্বপ্ন। আমি সকল ভারতীয়ের কাছে আমাদের মিশনের সাফল্যের জন্য প্রার্থনার অনুরোধ জানাই।”

    ভারতের বিনিয়োগ

    ভারত শুক্লার আসন সুরক্ষিত করতে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এটি কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যাতে ইসরোর গগনযান মিশন (যেটি ২০২৫–২০২৭ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা) আন্তর্জাতিক মঞ্চে (International Space Station) পরিচিতি এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সুবিধা পায়। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণ বলেন, “এই মিশন থেকে আমরা যে উপকার পাব, তা অভূতপূর্ব — প্রশিক্ষণ, সুবিধাগুলির সঙ্গে পরিচিতি এবং মহাকাশে যৌথভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা পরিচালনার অভিজ্ঞতা — এগুলি সব দিক থেকেই অত্যন্ত মূল্যবান।”

    ভারত পরীক্ষা করবে ৭টি

    জানা গিয়েছে, এএক্স-৪ এর (Shubhanshu Shukla) ৬০টি গবেষণামূলক প্রকল্পের মধ্যে সাতটি পরীক্ষা পরিচালনা করবে ভারত। একটি পরীক্ষায় ছ’টি প্রজাতির ফসলের বীজ মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিবেশে কীভাবে মানিয়ে নিতে পারে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য হল, মহাকাশে কৃষিকাজের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা, একই সঙ্গে পৃথিবীতে জলবায়ু-সহনশীল ফসলের উন্নয়নে অবদান রাখা। অন্য একটি পরীক্ষায় তিনটি মাইক্রোঅ্যালগির প্রজাতি বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে দেখা যায় দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে সেগুলো খাদ্য, জ্বালানি বা জীবন-সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহারযোগ্য কি না। গবেষকরা টারডিগ্রেড নামক অতিক্ষুদ্র প্রাণীর সহনশীলতা নিয়েও গবেষণা করবেন। এই প্রাণীগুলি চরম প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। একটি আলাদা গবেষণায় মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে পেশির ক্ষয় নিয়ে কাজ করা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক পুনর্বাসন পদ্ধতিগুলি অনুসন্ধান করা হবে (International Space Station)। আর একটি পরীক্ষায় বিশ্লেষণ করা হবে কীভাবে মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে স্ক্রিনের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া চোখের গতি, মানসিক চাপ এবং মানসিক সজাগতার ওপর প্রভাব ফেলে (Shubhanshu Shukla)।

  • Life Outside Solar System: সৌরজগতের বাইরে প্রাণ! এলিয়েনের খোঁজ পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী?

    Life Outside Solar System: সৌরজগতের বাইরে প্রাণ! এলিয়েনের খোঁজ পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশের অনন্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মানুষ কি একাই ঘুরে বেড়াচ্ছে? এ নিয়ে বিস্ময়ের শেষ নেই! চুপিসারে পৃথিবীর ওপর নজর রাখছে ভিনগ্রহীরা (Alien Life), এমন কথাও শোনা গিয়েছে। পৃথিবীর বাইরে কি প্রাণ আছে? বছরের পর বছর ধরে সেটাই খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও বিফল মনোরথ হয়েই ফিরতে হয়েছে বিজ্ঞানীদের। এবার সৌরজগতের (Life Outside Solar System) বাইরের এক গ্রহের বায়ুমণ্ডলে রাসায়নিক চিহ্ন খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা, যা পৃথিবীতে শুধুমাত্র জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উৎপন্ন হয়। গবেষকদের মতে, এটি এখনও পর্যন্ত মহাকাশে জীবনের সম্ভাব্য উপস্থিতির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই চিহ্ন খুঁজে পেলেন।

    ভিন গ্রহে জৈব গ্যাসের সন্ধান

    জেমস ওয়েবের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা গ্রহটির নাম ‘কেটু-১৮বি’ (K2-18b)। এর বায়ুমণ্ডলে যে দু’টি গ্যাসের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তা হল ডাইমিথাইল সালফাইড (DMS) এবং ডাইমিথাইল ডাইসালফাইড (DMDS)। পৃথিবীতে এই দু’টি গ্যাসই জীবন্ত জীব, বিশেষত সামুদ্রিক শৈবালজাতীয় মাইক্রোব দ্বারা তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত করে কেটু-১৮বি গ্রহটিতে প্রাণ থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ওই গ্রহে হয়তো মাইক্রোবিয়াল বা এককোষী জীবন রয়েছে (Alien Life)। তবে জীবিত প্রাণী থাকার ঘোষণা করেননি বিজ্ঞানীরা। তবে একটা আভাস পাওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তাঁরা। বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বায়োসিগনেচার (Biosignature) বলা হচ্ছে- যা আদতে কোনও জৈবিক প্রক্রিয়ার ছাপ। এই গোটা বিষয়টিকে গভীর ভাবে পরখ করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তবুও গোটা বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যতই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীর হাত ধরেই গবেষণা

    এই বিষয়টি নিয়ে যে গবেষণাপত্র বেরিয়েছে তার প্রধান লেখক কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোনমির মহাকাশ বিজ্ঞানী নিক্কু মধুসূদন। বারতীয় বংশোদ্ভূত নিক্কু জানাচ্ছেন, সম্ভবত ভিনগ্রহে প্রাণের প্রমাণের বিষয়ে যে গবেষণা হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে এমন বায়োসিগনেচার পাওয়ার বিষয়টি সর্বপ্রথম Life Outside Solar System)। তবে তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনও জীবন্ত প্রাণি আছেই সেকথা তাঁরা ঘোষণা করছেন না—বরং এটি একটি সম্ভাব্য বায়োসিগনেচার অর্থাৎ জীববিজ্ঞানের ইঙ্গিত। ফলে এই ফলাফলকে এখনই চূড়ান্ত প্রমাণ বলে বিবেচনা না করে আরও গবেষণার মাধ্যমে তাঁরা যাচাই করতে চাইছেন। মহাকাশ-পদার্থবিজ্ঞানী নিক্কু মধুসূদন বলেন, ‘‘এটি সৌরজগতের বাইরের প্রাণ খোঁজার ক্ষেত্রে এক বিপ্লবী পদক্ষেপ, মুহূর্তও। আমরা দেখাতে সক্ষম হয়েছি যে বর্তমান প্রযুক্তির মাধ্যমেই জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন শনাক্ত করা সম্ভব। আমরা এখন পর্যবেক্ষণ-ভিত্তিক অ্যাস্ট্রোবায়োলজির যুগে প্রবেশ করেছি।’’

    কার্বন-ভিত্তিক অণুর শনাক্তকরণ

    জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের আগের পর্যবেক্ষণে এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে মিথেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পাওয়া গিয়েছিল—এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনও তারার বাসযোগ্য অঞ্চলে থাকা গ্রহে কার্বন-ভিত্তিক অণুর শনাক্তকরণ Life Outside Solar System)। মধুসূদন বলেন, ‘‘বর্তমানে যেসব পর্যবেক্ষণ পাওয়া গিয়েছে, তা ব্যাখ্যা করার একমাত্র উপায় হল কেটু-১৮বি হাইসিয়ান বিশ্ব, যা প্রাণে ভরপুর। তবে আমাদের খোলা মন নিয়ে অন্যান্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে হবে। যদি হাইসিয়ান গ্রহ বাস্তবেই থাকে, তবে সেখানে প্রাণ সম্ভবত পৃথিবীর সমুদ্রের মাইক্রোবের মতোই হবে। এই ধরনের গ্রহের মহাসাগর পৃথিবীর চেয়ে উষ্ণ বলে ধারণা করা হয়। এককোষী বা মাইক্রোবিয়াল জীব ছাড়া, বহু-কোষী বা বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।’’

    কেমন গ্রহ এটি?

    প্রাণের সন্ধান থাকতে পারে এই নতুন গ্রহটি ‘কেটু-১৮বি’ পৃথিবীর চেয়ে অন্তত ৮.৬ গুণ ভারী। পৃথিবীর ব্যাসের চেয়ে এই গ্রহের ব্যাস ২.৬ গুণ বড়। নিজের নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে হ্যাবিটেবল জোনে ঘুরছে ওই গ্রহটি। এমন এলাকায় গ্রহটি রয়েছে, যেখানে জল তরল অবস্থায় গ্রহের উপরিভাগে থাকতে পারে। পৃথিবী থেকে অন্তত ১২৪ আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে ওই গ্রহ। ‘কেটু-১৮বি’ গ্রহটি লিও নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত। গ্রহটি একটি শীতল লাল বামন তারাকে কেন্দ্র করে এমন কক্ষপথে ঘোরে, যা তার ‘হ্যাবিটেবল জোন’ Life Outside Solar System) বা বাসযোগ্য অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ, এখানে প্রাণ থাকার মতো পরিবেশ থাকতে পারে। ২০১৯ সালে হাবল টেলিস্কোপ এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের আভাস পেয়েছিল। তখন থেকেই এটি ‘সৌরজগতের বাইরে সবচেয়ে বাসযোগ্য গ্রহ’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পরে অবশ্য দেখা যায়, সেটি মূলত মিথেন গ্যাসের একটি আস্তরণ।

    কোন যুক্তিতে প্রাণের সম্ভাব্য আবাসভূমি

    ‘কেটু-১৮বি’ এমন এক গ্রহ যা তরল জলে আচ্ছাদিত এবং যার বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন সমৃদ্ধ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ধরনের জলে বাস করতে পারে মাইক্রোবিয়াল জীবন (Alien Life)। তবে, বিজ্ঞানীরা অবশ্য এই আবিষ্কারকে Life Outside Solar System) যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর জোর দিচ্ছেন। টেক্সাসের সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার গ্লেইন বলেন, “এই তথ্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়, তবে আমাদের বিশ্লেষণে আরও সতর্ক হতে হবে।” মধুসূদনও বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমরা শুধু সম্ভাবনার কথা বলছি। ওই গ্যাসগুলি আদৌ জীববৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছে কিনা, তা আরও পরীক্ষার প্রয়োজন।’’ তিনি আরও জানান, একই ধরনের পর্যবেক্ষণ আরও দুই থেকে তিনবার করতে হবে, যাতে এই আবিষ্কারের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ে।

  • Sunita Willams: মহাকাশে ৯ মাস সঙ্গী ছিল গণেশ মূর্তি, গীতা থেকেই প্রেরণা পেয়েছিলেন সুনীতা

    Sunita Willams: মহাকাশে ৯ মাস সঙ্গী ছিল গণেশ মূর্তি, গীতা থেকেই প্রেরণা পেয়েছিলেন সুনীতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আট দিনের জন্য মহাকাশে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ ৯ মাস ইন্ট্যারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে কাটান সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Willams)। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতাকে মহাশূন্যে প্রেরণা দিয়েছিল ভগবদ্গীতা (Bhagvad Gita)। পৃথিবীর বাইরে এই দীর্ঘ সময় নিজের শিকড় ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে ধরে রেখেছিলেন সুনীতা। নিজের সঙ্গে একটি গণেশ মূর্তি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সুনীতা জানান, ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় প্রতীক তাঁকে মানসিক শান্তি দেয় এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি আরও মনোনিবেশ করার শক্তি জোগায়।

    গীতার বার্তা ও আধ্যাত্মিক শক্তির আশ্রয়

    প্রথম মহাকাশ অভিযানে (২০০৬ সালে) সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Willams) ভগবদ্গীতার (Bhagvad Gita) একটি কপি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, গীতার কর্মযোগের বার্তা জীবনের প্রতিটি সংগ্রামে জয়ী হতে সাহায্য করে। মহাশূন্যের নিঃসঙ্গতা ও চাপের পরিস্থিতিতেও গীতার শিক্ষা তাঁকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রেখেছে। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার মহাকাশ ভ্রমণের সময় তিনি শিবের একটি ছবি এবং ওঁ প্রতীক সঙ্গে রেখেছিলেন। মহাশূন্যে এই আধ্যাত্মিক শক্তির সংস্পর্শে থাকায় তিনি আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য ধরে রাখতে পেরেছিলেন।

    গণেশের প্রতি বিশ্বাস

    ২০২৪ সালের অভিযানে যাওয়ার সময়ও সুনীতা গণেশের একটি মূর্তি তাঁর সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, গণেশের আশীর্বাদ তাঁকে সমস্ত বাধা থেকে রক্ষা করে। মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ৯ মাস মহাকাশে আটকে থাকলেও গণেশের প্রতি তাঁর বিশ্বাস অটুট ছিল। তিনি মনে করেন, গণেশ তাঁর জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক এবং সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের শক্তি।

    দোল মাতার আশীর্বাদ

    সুনীতা উইলিয়ামসের (Sunita Willams) পৈতৃক গ্রাম ভারতের গুজরাটের গান্ধীনগরের কাছে ঝুলসান। এখানে অবস্থিত কুলদেবী দোল মাতার মন্দিরের প্রতি তাঁর অগাধ বিশ্বাস। প্রথম অভিযানের আগে তিনি এই মন্দির থেকে প্রসাদ হিসেবে একটি চুনারি নিয়ে গিয়েছিলেন। মহাকাশযাত্রায় যাওয়ার আগে তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য গ্রামে দোল মাতার মন্দিরে টানা ৯ মাস ধরে বিশেষ প্রার্থনা চলেছে। মন্দিরে অখণ্ড জ্যোতি প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছিল এবং তাঁর নিরাপত্তার জন্য ধারাবাহিক প্রার্থনা করা হয়েছিল।

    মহাকাশে ভরসা আধ্যাত্মিকতা 

    সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Willams) শুধু একজন বিজ্ঞানী বা মহাকাশচারী নন, বরং তিনি আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী এক সাহসী নারী। মহাকাশের নিঃসঙ্গতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি আধ্যাত্মিক বিশ্বাসকে শক্তির উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুনীতার কথায়, এই ধর্মীয় উপকরণ তাঁকে মহাকাশের নির্জন পরিবেশে মনের জোর ধরে রাখতে সাহায্য করে।

  • Sunita Williams: ‘‘পৃথিবী আপনাদের মিস করছিল’’, সুনীতা ফিরতেই উচ্ছ্বাস প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Sunita Williams: ‘‘পৃথিবী আপনাদের মিস করছিল’’, সুনীতা ফিরতেই উচ্ছ্বাস প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:ঘরের মেয়ে গিয়েছিল মহাকাশ-জয়ে। মহাশূন্যেই আটকে পড়েছিল দীর্ঘ ৯ মাস। অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাঃস। পৃথিবীতে ফিরলেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। সঙ্গে আরও ২ নভশ্চর। তাঁদের স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। লিখলেন, “ওয়েলকাম ব্যাক, ক্রু৯! পৃথিবী আপনাদের মিস করছিল।” ভারতের সঙ্গে যে নাসার (NASA) মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের (Sunita Williams) নিবিড় যোগ রয়েছে তা সকলের জানা। তাই দীর্ঘ ৯ মাস পর তাঁর সুরক্ষিতভাবে মহাকাশ থেকে ফিরে আসায় উচ্ছ্বসিত প্রত্যেক ভারতবাসীও। চলতি বছরেই ভারতে আসতে পারেন সুনীতা, এমনই খবর দিলেন তাঁর পরিবারের লোকেরা।

    অধ্যবসায়ের আসল অর্থ বোঝালেন সুনীতা

    বুধবার ভোর-রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ফ্লোরিডায় অবতরণ করে স্পেস এক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফ্ট। ৯ মাস পর পৃথিবীর মাটিতে পা রাখেন সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। তাঁদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) ও ক্রু৯ মহাকাশচারীরা আরও একবার দেখালেন যে অধ্যবসায়ের আসল অর্থ কী। অজানার সম্মুখীন হয়েও যে একাগ্রতা দেখিয়েছেন, তা লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।” তিনি আরও বলেন, “মহাকাশ গবেষণা হল মানুষের সম্ভাবনার সীমাকে পার করা, স্বপ্ন দেখার সাহস দেখানো এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা। সুনীতা উইলিয়ামস, একজন আইকন, তিনি নিজের কেরিয়ারকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরলেন। যাঁরা তাঁদের (সুনীতা ও বুচ) নিরাপদভাবে ফিরিয়ে আনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, আমরা তাঁদের উপরও গর্বিত। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে, নির্ভুলতার সঙ্গে প্যাশন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে দৃঢ়তা মিলে গেলে কী হয়।”

    সুনীতাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ

    মোদি আরও বলেন, “অন্তঃরীক্ষ ভ্রমণ তাঁদের জন্যই, যাঁরা স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার সাহস দেখান। সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) তাঁর কেরিয়ারে সেটাই বারবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। সুনীতাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সকলের জন্য আমরা খুব গর্বিত। তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন লক্ষ্যে অবিচল থাকলে কতটা সাফল্য আসতে পারে।” উল্লেখ্য, এর আগে সুনীতাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১ মার্চের সেই চিঠি গতকাল মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। ১৪০ কোটি ভারতীয় সুনীতার কর্মকাণ্ডের জন্য গর্বিত বলে জানান মোদি। সুনীতার মা বনি পাণ্ডিয়া মেয়ের আসার অধীর অপেক্ষা করছেন বলে জানান মোদি। প্রয়াত বাবার আশীর্বাদও সুনীতার সঙ্গে সর্বদা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ঘরের মেয়ে’ সম্বোধন করে সুনীতাকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি।

    সুনীতার পৈতৃক বাড়ি গুজরাট

    প্রসঙ্গত, সুনীতার বাবা দীপক পাণ্ডিয়া প্রধানমন্ত্রী মোদিরই রাজ্য অর্থাৎ গুজরাটের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি প্রয়াত হন। তাঁদের আলাপেরই একটি ছবি দিয়ে সুনীতা উইলিয়ামসকে ফের একবার পৃথিবীতে স্বাগত জানিয়েছেন মোদি (PM Modi)। প্রসঙ্গত, মাত্র ৮ দিনের মহাকাশে গিয়ে ৯ মাস ধরে আটকে ছিলেন সুনীতা এবং তাঁর সহকর্মী ব্যারি উইলমোর। শেষমেশ নাসা-স্পেস এক্সের রকেট তাঁদের উদ্ধার করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে। এই প্রথমবার মহাকাশ যাননি সুনীতা বা উইলমোর কেউই। দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকা, স্পেসওয়াক করার রেকর্ড রয়েছে তাঁদের। তবে, ৮ দিনের জন্য গিয়ে ৯ মাস আটকে থাকা তাঁদের দুজনের কাছেই প্রথম।

    পৈতৃক গ্রামে আনন্দোচ্ছ্বাস

    সুনীতা (Sunita Williams) পৃথিবীতেই ফিরতেই আনন্দে আত্মহারা সুনীতার পৈতৃক গ্রাম ঝুলাসান। গুজরাটের এই গ্রামের সাধারণ মানুষ পথে নেমে এসেছেন উদযাপন করতে। তাঁদের দেখা গিয়েছে আতশবাজি ফাটিয়ে উৎসবে মেতে উঠতে। সুনীতার ভ্রাতৃবধূ ফাল্গুনী পাণ্ডিয়া বলছেন, ‘‘একদম সঠিক কোনও তারিখ বলতে পারছি না। তবে এটা নিশ্চিত, অতি শিগগিরিই ও ভারতে আসবে। এই বছরের মধ্যেই।’’ আর সুনীতা গ্রামে ফিরলেই হবে সামোসা পার্টি। এত কিছু থাকতে সামোসাই কেন? ‘‘আসলে হৃদয়ে ভারতীয়ত্বের ছোঁয়ায় সুনীতা সামোসার বিরাট ফ্যান। মহাকাশ স্টেশনেও তাঁর খাদ্য তালিকায় ছিল এই সামোস বা সিঙ্গারা। আর তাই তিনি এদেশে এলে পার্টি দেওয়া হবে সামোসারই।’’ বলছেন ফাল্গুনী।

  • Sunita Williams: ন’মাসের অপেক্ষার অবসান, পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতারা

    Sunita Williams: ন’মাসের অপেক্ষার অবসান, পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে ৯ মাসের অপেক্ষার অবসান। নিরাপদেই পৃথিবীতে ফিরলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) এবং তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। আজ, ১৯ মার্চ বুধবার, ভোর ৩টে ২৭ মিনিট নাগাদ (ভারতীয় সময়) তাঁদের নিয়ে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশযান ফ্লরিডার সমুদ্রে অবতরণ করে। মহাকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সুনীতাদের এই প্রত্যাবর্তনে কোনও রকম ত্রুটি হয়নি বলেই জানিয়েছে নাসা। সুনীতাদের (Sunita Williams) সঙ্গে একই মহাকাশযানে ফিরেছেন নাসার নিক হগ এবং রুশ নভশ্চর আলেকজান্ডার গর্বুনভ। প্রসঙ্গত, গত বছর জুন মাসে সুনীতারা মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেসময় সফর ছিল ৮ দিনের। পরে মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায়, আটকে পড়েন সুনীতারা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে (ভারতীয় সময়) সুনীতাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ছাড়ে স্পেসএক্সের ড্রাগন যান। পরে বুধবার অতলান্তিক মহাসাগরের ফ্লোরিডা উপকূলে মহাকাশচারীরা নিরাপদে অবতরণ করেন। তাঁদের জন্য আগে থেকেই রাখা ছিল মার্কিন নৌসেনা বাহিনীর বোট।

    পরিবারের সঙ্গে এখনই দেখা নয় (Sunita Williams)

    এর পরেই মডিউল-সহ সুনীতাদের একেবারে জাহাজের কাছে নিয়ে আসে নৌবাহিনী। মহাকাশচারীদের হাইড্রলিক পদ্ধতিতে তোলা হয় জাহাজের ভিতর। সেখানে ড্রাগন ক্যাপসুলের দরজা খোলা হয়। প্রথমে বেরিয়ে আসেন নিক হগ। তার প্রায় ৫ মিনিট পরে ভারতীয় সময় ভোর ৪টে ২২ নাগাদ হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন সুনীতা উইলিয়ামস। এর পরেই জাহাজ পাড়ি দেয় স্থলভাগের উদ্দেশে। জানা যাচ্ছে, পৃথিবীতে ফিরলেও এখনই নিজেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না মহাকাশচারীরা। তাঁদের থাকতে হবে ক্রু- কোয়ার্টারে। সেখানেই বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। তার পরে সুনীতা (Sunita Williams) ও বুচের সঙ্গে দেখা করার সম্মতি মিলবে পরিবার ও আত্মীয়দের। সুনীতাদের অবতরণের পরেই ভারতের বিভিন্ন জায়গাতেও দেখা দিয়েছে উন্মাদনা।

    নাসার সাংবাদিক বৈঠক

    মহাকাশচারীদের অবতরণের পরেই এদিন নাসার পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ভারতীয় সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিট নাগাদ এই সাংবাদিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। নাসার উপ সহযোগী প্রশাসক জোয়েল মনটালবানো ও কার্যক্রম সমন্বয় ব্যবস্থাপক বিল স্পিচ বলেন, ‘‘নাসার গর্বের সঙ্গীরা নিরাপদ ভাবে অবতরণ করেছেন। ৯ মাসে ৯০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ১৫০টি বিষয়ের গবেষণা করা হয়েছে।’’

    কীভাবে ফেরত মহাকাশ থেকে

    নিরাপদে ফিরে এসেছেন সুনীতারা। প্রথমেই তাঁদের স্পেসক্রাফটের (SpaceX Crew 9) ইঞ্জিন চালু করা হয়। তা পৃথক হয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে। এরপর তা ধাপে ধাপে নীচের কক্ষপথে নেমে আসে। এর গতিবেগকে কমিয়ে দেওয়া হয়। তার কারণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এই যানের গতি এমনিতেই বেশি হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই এই মহাকাশযানের সর্বোচ্চ গতি হয়ে যায় প্রতি ঘণ্টায় ২৮ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। এই বিপুল গতিতে ফিরতে স্বাভাবিকভাবে তীব্র ঘর্ষণ শুরু হয় মহাকাশযানে। এর ফলে এর তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। এই কারণে তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থাও করা হয় যন্ত্রে। এই সময়ে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির পাঁচগুণ বেশি টান অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এরপরে মহাকাশযান থেকে ক্যাপসুল ও বড় প্যারাসুটের মাধ্যমে সমুদ্রে সফট ল্যান্ডিং করানো হয় স্পেসএক্স-র যানকে।

    রবিবার মহাকাশে পৌঁছায় ইলন মাস্কের যান (SpaceX Crew 9)

    প্রসঙ্গত, ৫ জুন সুনীতাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বোয়িং স্টারলাইনার। কিন্তু পরে এই মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে সেখানেই আটকে পড়েন সুনীতারা। তার পর থেকে একাধিক বার তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বার বার তা নানা কারণে পিছিয়ে গিয়েছে। আট দিনের সফর দীর্ঘায়িত হয়েছে ন’মাসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেন গত জানুয়ারিতে। এরপরেই তিনি ইলন মাস্ককে সুনীতাদের বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেছিলেন। তার পর মহাকাশে স্পেসএক্সের যান পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করা হয়। গত শনিবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ফ্যালকন ৯ রকেটকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে রকেটটি মহাকাশ স্টেশনে ডকিং করে। তাতে ছিলেন নাসার অ্যান ম্যাক্লেন, নিকোল আইয়ার্স, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সার প্রতিনিধি টাকুয়া ওনিশি এবং রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের প্রতিনিধি কিরিল পেসকভ। তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে এরপর পৃথিবীতে ফিরে এলেন সুনীতারা (Sunita Williams)।

  • Sunita Williams: দিনে দিনে কমছে ওজন! মহাকাশে সুনীতার ছবি দেখে উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী, সতর্ক নাসা

    Sunita Williams: দিনে দিনে কমছে ওজন! মহাকাশে সুনীতার ছবি দেখে উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী, সতর্ক নাসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দিন ধরে মহাকাশে আটকে থাকায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) ও বুচ উইলমোরের। সম্প্রতি নাসার পক্ষ থেকে সুনীতার যে ক’টি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভোচরের স্বাস্থ্যের অবনতি লক্ষ করার মতো। এই পাঁচ মাসে তাঁর ওজন এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে সুনীতাকে অত্যন্ত শীর্ণকায় লাগছে। তাঁর এতটাই ওজন হ্রাস পেয়েছে, যা চিন্তা বাড়িয়েছে নাসারও।

    শীর্ণকায় সুনীতা

    গত পাঁচ মাস ধরে মহাকাশযানের ছোট্ট গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ সুনীতা উইলিয়ামসের (Sunita Williams) দুনিয়া। এক দিন এক দিন করে মহাকাশে ১৫০ দিন পার করে ফেলেছেন সুনীতা ও তাঁর সঙ্গী বুচ। মহাকাশকে নিজের ‘হ্যাপি প্লেস’ বলে বর্ণনা করেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। বোয়িং স্টারলাইনারের যান্ত্রিক ত্রুটি সত্ত্বেও কখনও পৃথিবীতে ফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েননি। তবে তাঁর ওজন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় চিন্তিত নাসা। এই মিশনের সঙ্গে জড়িত নাসার এক কর্মীর কথায়, ‘ওঁর চামড়া ঝুলে গিয়েছে এবং হাড় ক্ষয়েছে। বর্তমানে শরীরের ওজন স্থিতিশীল করা সর্বাপেক্ষা জরুরি।’ ওই কর্মীর সংযোজন, ‘সুনীতার সর্বশেষ ছবি দেখে আমি আঁতকে উঠেছিলাম। যা দেখলাম তাতে উদ্বেগ হওয়া খুব স্বাভাবিক। বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’ সুনীতার ওজন দ্রুত স্থিতিশীল করা দরকার এবং এই মুহূর্তে তাঁদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন নাসার ওই কর্তা।

    সুনীতার স্বাস্থ্যে নজর

    সুনীতার স্বাস্থ্যের উপর কড়া নজর রাখছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। মহাকাশ যাত্রা শুরুর সময় গত ৫ জুন সুনীতার (Sunita Williams) ওজন ছিল ৬৩ কেজি। দিন যতই গড়িয়েছে ওজন ক্রমেই কমেছে সুনীতার। মহাকাশে ওজন স্থিতিশীল রাখতে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেতে হয় মহাকাশচারীদের। শুধুমাত্র ওজন বজায় রাখার জন্য মহাকাশ সফরের সময় প্রতি দিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার ক্যালোরির খাবার খেতে হয় নভোচরদের। সেই পরিমাণ খাবার শরীরকে না দিলে শরীর ভাঙতে শুরু করে ও দ্রুত ওজন কমতে থাকে।

    আরও পড়ুন: নিমেষে ধ্বংস হবে হাজার কিমি দূরের যুদ্ধজাহাজ, ডিআরডিও-র নয়া মিসাইলের পরীক্ষা শীঘ্রই

    সুনীতার সমস্যা

    মহাকাশ ভ্রমণের সময় বিপাকের পরিবর্তনের কারণে পুরুষ নভোচরদের তুলনায় দ্রুত পেশি ক্ষয় অনুভব করেন মহিলা মহাকাশচারীরা। শরীরের ওপর অভিকর্ষের নিরবচ্ছিন্ন টান না থাকায় মহাকাশে মানবদেহের পেশি ও হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। দুই সপ্তাহ পরেই পেশির ঘনত্ব ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ছয় মাস থাকলে তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। খুব বেশি দিন মহাকাশে থাকলে দ্রুত হারে কমতে থাকে লাল রক্তকণিকার পরিমাণ। সে ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে রক্তাল্পতার মতো শারীরিক সমস্যাও। গবেষণা বলছে, মহাকাশে থাককালীন প্রতি সেকেন্ডে ২ লক্ষের বদলে ৩ লক্ষ লোহিত কণিকা ধ্বংস হয়ে যায় নভোচরদের। পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে আইএসএসে রয়েছেন সুনীতারা। সেখানে বসেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তিনি। নিজের শারীরিক সমস্যা নিয়েও চিন্তিত নন সুনীতা। মহাকাশেই ঘর বানিয়েছেন তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ISRO: লাদাখে দেশের প্রথম অ্যানালগ স্পেস মিশন চালু করল ইসরো, কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ?

    ISRO: লাদাখে দেশের প্রথম অ্যানালগ স্পেস মিশন চালু করল ইসরো, কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার লাদাখে প্রথম অ্যানালগ স্পেস মিশন চালু করার কথা ঘোষণা করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো (ISRO)। ইসরোর এই হিউম্যান স্পেসফ্লাইট সেন্টার (Human Spaceflight Centre) মিশনের পেছনে এএকেএ স্পেস স্টুডিও, লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি বম্বে এবং লাদাখের স্বশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগ রয়েছে। তবে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা এই মিশন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে, ইসরোর চন্দ্রযান ৩, গগনযান, আদিত্য এল-১, মঙ্গলযান অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছে ভারত। বিশেষ করে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ডিং নাসাকেও চমক দিয়েছে। মহাকাশ গবেষণায় কেন্দ্রের মোদি সরকার যে সজাগ নজর রেখে চলেছে তাতেও অনেক বিজ্ঞানীরা উৎসাহী বলে জানিয়েছেন। নাসাও একাধিক গবেষণায় ইসরোকে পাশে চায় বলে অভিজ্ঞতার কথা বিনিময় করেছে। ফলে ভারত মহাকাশ গবেষণায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

    মূল লক্ষ্য হল আন্তঃগ্রহের আবাসস্থলে প্রাণের সন্ধান (ISRO)

    ইসরোর (ISRO) পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে বলা হয়েছে, “লাদাখে এই হিউম্যান স্পেসফ্লাইট সেন্টারের (Human Spaceflight Centre) মিশনের মূল লক্ষ্য হল ভিন্গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের খোঁজ করা। একই ভাবে পৃথিবীর বাইরে একটি স্পেস স্টেশন নির্মাণের জন্য সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করার ভাবনা রয়েছে। এই মিশন ভারতের প্রথম অ্যানালগ স্পেস মিশন, যা লে-তে শুরু হয়েছে। একই কাজে এএকেএ স্পেস স্টুডিও, লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি বম্বে এবং লাদাখের স্বশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন কাউন্সিল বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করবে।”

    মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা

    ইসরো (ISRO) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মিশন হল মঙ্গল এবং চাঁদে অভিযানের মতো একটি বড় পদক্ষেপ। লাদাখের জলবায়ু, আবহাওয়া, ভূ-প্রকৃতি এবং আনুসঙ্গিক নানা উপকরণের প্রতিবন্ধকতা মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। এই জায়গার সমস্যাকে সামনে রেখে মহাকাশের নানাবিধ প্রতিরোধ সম্পর্কে গবেষণা করতে অনেক সহজ হবে। যে কোনও গবেষণায় ভীষণ উপযোগী এই লাদাখের উচ্চ ভূ-মণ্ডল। এই মিশন ভারতের গগনযান এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। লাদাখের শুষ্ক জলবায়ু, ভৌগলিক উচ্চতা এবং অনুর্বর জমির সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে মঙ্গল এবং চাঁদের ভৌগলিক ও ভূতত্ত্বের। তাই এই ধরনের অ্যানালগ গবেষণা, ভারতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানী ডক্টর আলোক কুমার প্রথম এই ধরনের গবেষণার জন্য বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ঠিক তারপর থেকেই একই ভাবনাকে প্রসারিত করা হয়।

    অ্যানালগ মিশন কী?

    নাসার মতে অ্যানালগ মিশন (Human Spaceflight Centre) হল, পৃথিবীর মধ্যেই পরিবেশের উপর পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ সংগ্রহ করা। অর্থাৎ মহাকাশের অনুরূপ পরিবেশ এবং পরিস্থিতিকে অনুসরণ করে বিস্তর গবেষণা করা যায় মিশনে। এই মিশন ভূ-মণ্ডলের মধ্যে উপযুক্ত পরিবেশ নির্মাণ করে। যার মাধ্যমে মানুষ বা রোবট অথবা যন্ত্রাংশকে কীভাবে মহাকাশের মতো উপযুক্ত অনুকুল পরিবেশে রাখা যায় তা নির্ণয় করা যায়। এতে যে কোনও রকম মহাকাশ অভিযানের আগে থেকেই সমস্যা এবং সমস্যা থেকে মুক্তির পথকে অনুসন্ধান করা যায়। প্রযুক্তিবিদ এবং প্রকৌশলীরা নিজেদের অভিজ্ঞতাকে অনেকটাই আগে থেকে ভালো-মন্দ বা সাফল্যকে আন্দাজ করতে পারেন। নাসাও এই ধরনের একাধিক মিশনে কাজ করে থাকে। আগে থেকে উপযুক্ত পরিবেশ এবং জায়গা ঠিক করে একাধিক সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করে থাকে। এবার ভারতের লাদাখেও এমন একটি পরিকল্পনা করেছে ইসরো (ISRO)। সেই সঙ্গে বিজ্ঞনীরাও এনিয়ে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

    আরও পড়ুনঃ আজ দেশজুড়ে ভক্তরা মেতে উঠেছেন গোবর্ধন পুজোয়, জানুন এর মাহাত্ম্য

    পরীক্ষালব্ধ এলাকায় কী কী থাকে?

    এই অ্যানালগ মিশনের (Human Spaceflight Centre) মধ্যে পরীক্ষা করতে যে সব উপকরণ লাগে তার মধ্যে রয়েছে, নতুন প্রযুক্তি, রবোটিক সরঞ্জাম, যানবাহন, পরিবহণ, বাসস্থান, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ পরিষেবা, উৎপাদন, গতিশীলতা, পরিকাঠামো, মানবশ্রম এবং স্টোরেজ। এই মিশনের কাজ এবং প্রশিক্ষণ মূল গবেষণার কাজের গতিকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। একই ভাবে উদ্ভূত সমস্যার কথা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের বিষয়েও প্রস্তুতি নিতে সহায়ক হয়। গভীর মহাকাশে গিয়ে কী ধরনের মুহূর্ত হবে, সেই দিকগুলির উপর পুঙ্খানুপুঙ্খ নজর রাখা হয় মিশনে। এই রকম মিশনের আরও পরীক্ষালব্ধ এলাকা হতে পারে, যেমন-মহাসাগর, মরুভূমি, আগ্নেয়গিরি ইত্যাদি। তবে ইসরো (ISRO) গবেষণার জন্য লাদাখকেই বেছে নিয়ে কাজ শুরু করছে।    

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sunita Williams: সুনীতাদের আনতে রওনা নাসা ও স্পেসক্রাফটের মহাকাশযানের, ফেরা ফেব্রুয়ারিতে

    Sunita Williams: সুনীতাদের আনতে রওনা নাসা ও স্পেসক্রাফটের মহাকাশযানের, ফেরা ফেব্রুয়ারিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) ও তাঁর সহযোগী বুচ উইলমোরকে পৃথিবীতে ফেরাতে উদ্যোগ নিল নাসা। শনিবার রাতেই রওনা হয়ে গিয়েছে নাসা (Nasa) এবং স্পেস ক্রাফটের মহাকাশযান। এদিন ফ্লরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে দু’জন মহাকাশচারীকে নিয়ে সেই যান মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেয়। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রিউ-৯’।

    সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুনীতারা (Sunita Williams) পৃথিবীতে ফিরে আসবেন

    যে দুই মহাকাশচারী রওনা হয়েছেন, তাঁরা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’ (আইএসএস)-এ থেকে গবেষণা চালাবেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁরা সুনীতাদের সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। প্রসঙ্গত, সুনীতারা (Sunita Williams) যে যানে করে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন, সেটি বিগড়ে যায়। হিলিয়াম গ্যাস লিক হতে থাকে ওই যান থেকে। এর ফলে গত জুন মাস থেকেই তাঁরা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’-এ আটকে রয়েছেন। চলতি মাসের ৬ সেপ্টেম্বর সুনীতাদের না নিয়েই মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসে স্টারলাইনার। এ বার তাঁদের ফেরাতে শুরু হল অভিযান।

    মহাকাশে পাঁচ মাসে হবে প্রায় ২০০টি গবেষণা

    জানা গিয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবারই সুনীতাদের (Sunita Williams) ফেরাতে এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে, ঘূর্ণিঝড় হেলেনের কারণে ফ্লরিডায় আবহাওয়া খুব খারাপ ছিল। সেই কারণে স্থগিত রাখা হয় অভিযান। নাসার (Nasa) তরফে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে, ‘ক্রিউ-৯’ অভিযানটি পরিচালনা করবেন মহাকাশচারী নিক হগ, তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সঙ্গে থাকবেন আলেকসান্দ্র গোরবুনভ। মহাকাশে পাঁচ মাস থেকে প্রায় ২০০টি গবেষণা করবেন তাঁরা।

    ৩০ সেপ্টেম্বর, ভারতীয় সময় রাত ৩টের সময় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’-এ অবতরণ করবে মহাকাশযানটি

    প্রসঙ্গত, নাসার বাণিজ্যিক প্রকল্পের অধীনে এই নিয়ে নবম বার অভিযানে নামল ইলন মাস্কের সংস্থার স্পেসক্রাফট। জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর, ভারতীয় সময় রাত ৩টের সময় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’-এ অবতরণ করবে স্পেসক্রাফটের ড্রাগন মহাকাশযান। এই মহাকাশযানে চার জনের যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। পৃথিবী থেকে রওনা হয়েছেন ২জন। বাকি দুটি আসন ফাঁকা রাখা হচ্ছে, যাতে মহাকাশে আটকে থাকা সুনীতা এবং বুচকে সেখানে জায়গা দেওয়া যায়। নাসার তরফে জানানো হয়েছে, ক্রিউ-৯ আইএসএসে পৌঁছনোর আগেই সুনীতা এবং বুচ ক্রিউ-৮ ড্রাগন ক্যাপসুলে গিয়ে উঠবেন। ওই ক্যাপসুল বর্তমানে আইএসএসের ভিতরেই রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sunita Williams: ৮ দিন পেরিয়ে ৮ মাস! সুনীতারা পৃথিবীতে ফিরবেন ফেব্রুয়ারিতে, জানাল নাসা

    Sunita Williams: ৮ দিন পেরিয়ে ৮ মাস! সুনীতারা পৃথিবীতে ফিরবেন ফেব্রুয়ারিতে, জানাল নাসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আট দিনের মহাকাশ সফরে গিয়েছিলেন বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams)। কিন্তু ৮ দিন এবার বেড়ে দাঁড়াল ৮ মাসে। ফেব্রুয়ারির আগে তাঁরা ফিরতে পারবেন না পৃথিবীতে। প্রসঙ্গত, গত জুন মাসেই মহাকাশে পাড়ি দেন দুই নভোচর। দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে মহাকাশেই আটকে রয়েছেন নাসার (NASA) বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস। গতকাল শনিবারই নাসার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে দুই মহাকাশচারীকে বাদ দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসবে স্টারলাইনার স্পেসক্রাফ্ট। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে পৃথিবীতে ফিরবেন দুই মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) ও বুচ উইলমোর। ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছে নাসা।

    বিপত্তির কারণ

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন মাসেই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যান সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams) ও বুচ উইলমোর। কিন্তু সেখানে গিয়েই ফেঁসে যান তাঁরা। নাসা জানিয়েছে, বোয়িং সংস্থার যে মহাকাশযান স্টারলাইনার পাঠানো হয়েছে, তার প্রপালশনে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, এই কারণেই তাঁদের ফিরিয়ে আনতে সমস্যা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, মহাকাশ যাত্রার সময়ই ২৮টি থাস্টারের মধ্যে ৫টি ফেল করে এবং হিলিয়াম গ্যাস লিক করতে থাকে। এই অবস্থায় দুই মহাকাশচারীকে নিয়ে ফেরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেই কারণেই পৃথিবীতে ফাঁকা মহাকাশযানই ফিরিয়ে আনা হবে।

    এখন কী করবেন মহাকাশচারীরা (Sunita Williams)?

    নাসার (NASA) তরফে জানানো হয়েছে, যে বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে পাঠানো হয়েছিল সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোরকে, আপাতত সেই কাজই করবেন তাঁরা। গবেষণার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও সিস্টেম টেস্টিং-ও করবেন। বিশ্বের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা হল বোয়িং। বিগত কয়েক বছরে একাধিকবার এই সংস্থার তৈরি বিমানের মান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সংস্থার আশা-ভরসা ছিল এই স্টারলাইনার প্রোগ্রাম নিয়ে, তবে তাও ব্যর্থ হল।

    কী জানালেন নাসার আধিকারিক?

    নাসার অন্যতম আধিকারিক বিল নেলসন বলেন, ‘‘সংশ্লিষ্ট মহাকাশযানটি ঝুঁকিপূর্ণ, তাই বুচ এবং সুনীতাকে রেখে চালক ছাড়াই পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে বোয়িং এর স্টারলাইনারকে।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Indian Astronaut: আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন এক ভারতীয়, ‘জাতীয় মহাকাশ দিবস’-এ বড় ঘোষণা

    Indian Astronaut: আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন এক ভারতীয়, ‘জাতীয় মহাকাশ দিবস’-এ বড় ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার আন্তর্জাতিক মহকাশ স্টেশনে (International Space Station) যাচ্ছেন এক ভারতীয় (Indian Astronaut)। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে মহাকাশে পাড়ি দেবেন তিনি। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হবে ওই মহাকাশচারীকে। এ খবর জানালেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ।

    এএক্স-৪ মিশন (Indian Astronaut)

    নাসা এবং ইসরোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাকাশ অভিযানের নাম এক্সিওম স্পেস এএক্স-৪ মিশন। এই অভিযানে ভারত থেকে পাঠানো হবে দুই নভশ্চরকে। এঁরা হলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা ও প্রশান্ত বালকৃষ্ণণ নায়ার। বর্তমানে নাসায় চলছে এঁদের প্রশিক্ষণ। জানা গিয়েছে, এএক্স-৪ মিশনের জন্য ইসরো বেছে নিয়েছেন শুক্লাকে। আর নায়ার হবেন ব্যাকআপ ক্যান্ডিডেট। নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, “একজন ভারতীয় মহাকাশচারী আগামী এপ্রিলের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যাবেন।” এবার আজ ২৩ অগাস্ট পালিত হবে ‘জাতীয় মহাকাশ দিবস’। গত বছর এই দিনে চাঁদে ল্যান্ড করেছিলেন বিক্রম ল্যান্ডার। তারই বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পালিত হবে ‘জাতীয় মহাকাশ দিবস’। তার আগেই এক ভারতীয় মহাকাশচারীর (Indian Astronaut) আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে যাওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন মন্ত্রী।

    আরও পড়ুন: ‘হিন্দু গর্ব দিবস’ পালন বিজেপির, কার সম্মানে পালন হয় জানেন?

    জাতীয় মহাকাশ দিবসের থিম

    জাতীয় মহাকাশ দিবসের থিমও জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। এবার থিম হল, ‘টাচিং লাইভস হোয়াইল টাচিং দ্য মুন: ইন্ডিয়াজ স্পেস সাগা।’ এ উপলক্ষে এদিন ইসরোর তরফে চন্দ্রযান-৩ অভিযানের সায়েন্টিফিক ডেটা প্রকাশ করবে ইসরো। গবেষকরা যাতে এই ডেটা ব্যবহার করতে পারেন, তা-ই এই ব্যবস্থা। চন্দ্রযান-৩ সাফল্যের বর্ষপূর্তিতে গত দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে হাজারো অনুষ্ঠান হচ্ছে দেশজুড়ে। ভারত মণ্ডপমে ‘জাতীয় মহাকাশ ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ হ্যাকাথন’ ও ‘ইসরো রোবোটিক্স চ্যালেঞ্জ’ জয়ীদের পুরস্কারও দেবেন তিনি। আসন্ন স্পেস মিশনের বিষয়ে বলতে গিয়ে ইসরোর সায়েন্টিফিক সেক্রেটারি সান্ত্বনু ভাটাদেকর বলেন, “ইসরো-নাসার (International Space Station) যৌথ অভিযান এনআইএসএআর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির পরেই লঞ্চ করা হবে (Indian Astronaut)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

LinkedIn
Share