Tag: NATGRID For Crime Control

  • Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত পার থেকে সন্ত্রাসী হামলা বা দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক তছরুপ কিংবা ভিন্‌রাজ্যে গিয়ে ডাকাতি-খুন, ধর্ষণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার! দেশ জুড়ে বেড়ে চলা যাবতীয় অপরাধের সূচককে নিম্নমুখী করতে এবার কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) সাহায্য নিচ্ছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই দেশের পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’ তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লোকসভায় জানিয়েছে যে জাতীয় গোয়েন্দা গ্রিড বা ন্যাটগ্রিড (NATGRID)-এর আইটি প্ল্যাটফর্মে একটি অরগানাইজড ক্রাইম নেটওয়ার্ক ডেটাবেস (Organised Crime Network Database) তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং রাজ্যগুলির অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড (ATS)-এর মধ্যে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাস দমনে ন্যাটগ্রিড-এর উন্নত হাতিয়ারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘গাণ্ডীব’। যা বহু উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ন্যাটগ্রিড কী

    এনআইএ এবং এটিএসের মতো সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারী এবং পুলিশি দলগুলির মধ্যে নিরাপদে তথ্য ভাগাভাগির কাজটি সহজতর করতে ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’ বা ন্যাটগ্রিড নামের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একগুচ্ছ সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার রিয়েল টাইম তথ্য যখন-তখন হাতে পেতে পারবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ‘গাণ্ডীব’ নামের এআই টুলটি এর সঙ্গেই কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ২০০৯ সালে ন্যাটগ্রিড-এর ধারণা প্রথম উঠে আসে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এটি গত বছর পুরোপুরি কার্যকর হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (SP) পদমর্যাদার আধিকারিকরাই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ন্যাটগ্রিড-এর মাধ্যমে অভিবাসন ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন, টেলিকম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মেটাডেটা, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। আগে এই ধরনের তথ্যের জন্য বিভিন্ন দফতরে আলাদা করে আবেদন করতে হতো।

    এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত ন্যাটগ্রিড

    সম্প্রতি এই ন্যাটগ্রিডকে ‘ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার’ বা এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে কেন্দ্র। এতে দেশের ১১৯ কোটি বাসিন্দার পরিবারভিত্তিক তথ্য রয়েছে। একে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন) তৈরির প্রথম ধাপ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে ন্যাটগ্রিডকে ব্যবহার করে অধিকাংশ ভারতবাসীর তথ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও এটিএসের মতো সংস্থার অফিসারেরা হাতে পেয়ে যাবেন, তা বলাই বাহুল্য। ২০১০ সালে ২০১১ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়ে এনপিআর-এর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছিল। এনপিআর একটি মৌলিক পরিচয় ও আবাসিক ডেটাবেস হিসেবে কাজ করে, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা ও গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ন্যাটগ্রিড যেখানে বিভিন্ন সংস্থার ডেটা একত্র করে, সেখানে এনপিআর সেই তথ্যগুলির মধ্যে পরিচয় যাচাইকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর গুরুত্ব কী?

    গাণ্ডীব হল ন্যাটগ্রিড-এর একটি উন্নত অ্যানালিটিক্স টুল, যা তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সংযোগের পদ্ধতিকে আরও আধুনিক করে তুলেছে। এই টুলটি ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং এনটিটি রেজোলিউশন-এর কাজে ব্যবহার করা যায়। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “যদি কোনও সন্দেহভাজনের ছবি পাওয়া যায়, সেটি গাণ্ডীব-এ আপলোড করা হলে টেলিকম কেওয়াইসি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব। এতে তদন্তকারীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে।”

    পুরাণে ‘গাণ্ডীব’-এর উল্লেখ

    মহাভারত অনুসারে, গাণ্ডীব ছিল পাণ্ডব অর্জুনের ঐশ্বরিক ধনুক। এই কারণেই অর্জুনকে ‘গাণ্ডীবধারী’ নামেও ডাকা হয়। ব্রহ্মার দ্বারা নির্মিত এই ধনুকে ছিল ১০৮টি অলৌকিক তার, যা দেবশক্তিতে পরিপূর্ণ বলে বিশ্বাস করা হয়। অগ্নিদেবকে খাণ্ডব বন দহন করতে সহায়তার সময় অর্জুন গাণ্ডীব লাভ করেন। এই ঘটনা অর্জুন ও গাণ্ডীবের সম্পর্কের সূচনা তো বটেই, পাশাপাশি দেবইচ্ছা পূরণে এই অস্ত্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে। এআই গাণ্ডীব টুল-ও গোয়েন্দাদের হাতে অর্জুনের ধনুকের মতো। গাণ্ডীব তথ্যগুলিকে নন-সেনসিটিভ, সেনসিটিভ এবং হাইলি সেনসিটিভ—এই তিন ভাগে ভাগ করবে। ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আর্থিক লেনদেন, কর সংক্রান্ত তথ্য এবং রফতানি-আমদানি সংক্রান্ত ডেটাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাণ্ডীব মূলত ন্যাটগ্রিড-কে একটি সাধারণ ডেটা-অ্যাক্সেস প্ল্যাটফর্ম থেকে উন্নত এআই-চালিত গোয়েন্দা হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে একক অনুসন্ধান, দ্রুত সূত্র সন্ধান এবং বুদ্ধিমান বিশ্লেষণ সম্ভব হচ্ছে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর ব্যবহারে সন্ত্রাস দমন সহজ

    কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে দুঁদে গোয়েন্দাকর্তাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ২৬/১১-র মুম্বই হামলা বা তার পরবর্তী সময়ের নাশকতার প্রতিটা ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে এসেছে জঙ্গিরা। এ দেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে দিব্যি বিদেশে পালিয়েও গিয়েছে তাঁদের কয়েক জন। এই ব্যর্থতার মূল কারণ হল তথ্যের অভাব। তদন্তকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এ দেশের কিছু ‘বিশ্বাসঘাতক’ নাগরিকের সাহায্য পেয়ে এসেছে। সরকারের কাছে তাঁদের ব্যাপারে যে কোনও তথ্য নেই, এমনটা নয়। কিন্তু সেটা এতটাই ছড়ানো-ছেটানো যে, প্রয়োজনের সময় দ্রুত একসঙ্গে সেগুলি পেতে সমস্যা হচ্ছিল। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাশকতার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ ছেড়ে চম্পট দিচ্ছিল অভিযুক্তেরা। ন্যাটগ্রিড ও গাণ্ডীবের সাহায্যে তা বন্ধ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘গাণ্ডীব’

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, একসঙ্গে ২১ উৎসের তথ্য একত্রিত করে নিমেষে তদন্তকারীর প্রশ্নের জবাব দিতে পারে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির ‘গাণ্ডীব’। একটি উদাহরণের সাহায্যে এর কর্মপদ্ধতি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও সন্দেহভাজন জঙ্গির স্কেচ তৈরি করল জন্মু-কাশ্মীর পুলিশের এটিএস। এর পর তা ‘গাণ্ডীব’ প্ল্যাটফর্মে তুলে দিলেই ওই ছবির মতো দেখতে কোনও লোক এ দেশে আছেন কি না, তা বলে দেবে সংশ্লিষ্ট এআই টুল। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে তদন্তকারীদের আরও কিছু সাহায্য করবে ‘গাণ্ডীব’। সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবির সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক বা টেলি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় জমা করা ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ বা কেওয়াইসি ফর্মে সাঁটা ছবির সঙ্গে কোনও মিল আছে কি না তা-ও দ্রুত বলে দেবে ওই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি। ফলে দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নামতে পারবেন এটিএস এবং এনআইএ-র আধিকারিকেরা। এ-হেন ‘গাণ্ডীব’কে ন্যাটগ্রিডের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ন্যাটগ্রিড আবার যুক্ত আছে এনপিআরের সঙ্গে। ফলে সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম মেধাভিত্তিক প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ১১৯ কোটি বাসিন্দার মধ্যে থেকে অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পারবেন তদন্তকারীরা।

LinkedIn
Share