Tag: Nepal Flash Floods

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • Nepal Flash Floods: ভোটে কোশীর কাছেই নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল, নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: ভোটে কোশীর কাছেই নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল, নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। উদ্বেগ বাড়ছে বাংলায়। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়ের মধ্যে ৭১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে কলকাতার একটি ট্রাভেল ক্লাবের সঙ্গে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় (Kailash Mansarovar yatra) যাওয়া ৩০ পর্যটক রয়েছেন। খোঁজ নেই ওই দলের দুই ম্যানেজারেরও। তাঁদের সঙ্গে শেষ বার যোগাযোগ হয়েছিল বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ। নেপালের এই হড়পা বান ও বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে দিয়েছেন পাশে থাকার বার্তা।

    রাজ্যবাসীর পাশে থাকার বার্তা শুভেন্দুর

    নেপালে বিপর্যয়ের খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, “নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়কর মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সেই সমস্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। নেপালের মানুষের পাশে আমরা আছি।” কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের অধিকাংশই নিখোঁজ। ১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ। এই খবর শুনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্য সরকার প্রতিবেশী নেপালের পাশে রয়েছে। তিনি লেখেন, “১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক তথা কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া তীর্থযাত্রীদের নিখোঁজ হওয়ার খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা নেপাল ভ্রমণে গিয়েছেন, সেই সকল তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অথবা কর্মসূত্রে যাওয়া ব্যবসায়ী ও কর্মীরা যারা এই দুর্যোগের দিনে বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন, সেই সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।”

    মানস সরোবর যাত্রায় কলকাতার দল

    ‘চলো যাই’ নামে কলকাতার ওই ট্রাভেল ক্লাবের তরফে জানা গিয়েছে, ৩০ জনের দলে এক আমেরিকা-প্রবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। দলে আছেন কলকাতার কসবার কয়েক জন বাসিন্দা। এছাড়া, চন্দননগর এবং বারাসতের কয়েক জন পর্যটকও নেপালে আটকে পড়েছেন বলে খবর। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও মেলেনি। পর্যটকদের দলটি ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিল। ২২ আগস্ট পৌঁছয় নেপালে। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে থাকার পর বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরিয়ে মানসরোবরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। সকাল পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কয়েক জন পর্যটক সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও বিভিন্ন ভিডিও-ও পোস্ট করেছিলেন। তার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

    পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দলের দুই ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যাল ও নৃপেন সরকারের ফোনে রোমিং পরিষেবা ছিল। তবু তাঁদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ হড়পা বানের জেরে নেপালের ভোটে কোশী (Bhote Koshi River) নদীর জল হঠাৎ বেড়ে যায়। সেকেন্ডের মধ্যে ধুলিস্যাৎ হয় একাধিক গ্রাম। যে এলাকায় বিপর্যয় ঘটেছে গতকাল, পর্যটকদের রুটও সেই অঞ্চলের মধ্যেই পড়ে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পর্যটকদের খোঁজে নেপালের সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল সংস্থার তরফে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। বিপর্যয়ের পরে ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও কার্যত অচল। ফলে পর্যটকেরা কোথাও নিরাপদ জায়গায় আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

    বিভিন্ন এলাকায় আটকে পর্যটকরা

    হুগলির আরামবাগ থেকে যাওয়া আরও ৬৫ জন পর্যটক নেপালের চেতনপার্ক এলাকায় আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ রয়েছে। বিপর্যয়স্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে থাকায় সরাসরি হড়পা বানের কবলে পড়েননি এই পর্যটকেরা। তবে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। নেপালে ছবির শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীও। তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা যায়নি। ছেলে তমোঘ্ন জানিয়েছেন, তাঁরা বিপর্যস্ত এলাকার কাছাকাছি নেই। মূল সমস্যা যোগাযোগ এবং বিমান পরিষেবায়। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত আশঙ্কার কারণ নেই।

    রাজ্য সরকারের হেল্পলাইন নম্বর

    পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের সকলের নিরাপত্তা, দ্রুত উদ্ধার এবং সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের ঠিক কতজন ব্যক্তি নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সহায়তা ও উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাস, নেপাল (ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ) হল:

    +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০

    ভবানী ভবনে পৃথক পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এই নম্বরগুলি হল:

    ০৩৩২৪৭৯৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১।

    নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবল বৃষ্টি এবং ভোটে কোশী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার জেরে এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলের তোড়ে সেতু, গ্রাম এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

LinkedIn
Share