মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এর (Nepal Floods) মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত (PM Modi)। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস (C-130 Super Hercules) বিমানে করে নেপালে ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
নেপালকে সমবেদনা ভারতের (Nepal Floods)
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর সমবেদনা এবং সহায়তার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির “উষ্ণ সংহতির বার্তা” এবং “উদার সহায়তার প্রস্তাবে”র জন্য কাঠমান্ডু গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বলেন্দ্র বলেন, ‘‘এই সংহতির প্রকাশ আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই সম্পর্ককে আমরা গভীরভাবে মূল্য দিই।’’
‘‘নেপালের বোন ও ভাইদের পাশে ভারত’’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের মানুষের পাশে ভারতের থাকার কথা জানান। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ভারত সব ধরনের সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মোদি বলেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ নেপালের তাঁদের বোন ও ভাইদের পাশে রয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দল উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।
ভোটে কোশি নদীর জলস্ফীতিতে ভয়াবহ বন্যা
বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলে আচমকাই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটে কোশি নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে রসুয়া ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি নুওয়াকোট জেলায়ও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
প্রবল জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতি। একাধিক সেতু ভেসে গিয়েছে এবং অন্তত এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পাশাপাশি ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনোও কঠিন হয়ে উঠেছে।
নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নেপালি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। সব (Nepal Floods) মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬০-এ পৌঁছেছে।
তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এখনও কয়েকশো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল দুর্গত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদার নীচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (PM Modi)।
নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয় নাগরিক
নেপালের এই ভয়াল বন্যায় অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। নেপালের পাশাপাশি চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে (Nepal Floods)।
১০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত
দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে করে প্রায় ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিক্যাল কিট এবং সৌরচালিত বাতিও রয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সৌরবাতি উদ্ধারকাজে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও একটি সি-১৭ (C-17) সামরিক পরিবহণ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী দ্রুত নেপালে পাঠানো হতে পারে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।
সীমান্তজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান
রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত অঞ্চল নেপাল ও চিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য ভারত নেপাল ও চিন—দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই সমন্বয় রেখে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থলপথের পাশাপাশি বিমানপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন
এই পরিস্থিতিতে ভারতের দ্রুত সাহায্য শুধু উদ্ধার ও ত্রাণকাজেই নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগের সময়ে ভারতের এই সহায়তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কাঠমান্ডু (নেপালের রাজধানী)। নেপালে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের (PM Modi) নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য (Nepal Floods)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধান (PM Modi) এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ (Nepal Floods)।
