Tag: Nirmal Maji

Nirmal Maji

  • TMC: তৃণমূলের চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ! পুলিশের দ্বারস্থ দলেরই দুই নেতা

    TMC: তৃণমূলের চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ! পুলিশের দ্বারস্থ দলেরই দুই নেতা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    টাকা ছাড়া মেলে না চাকরি! টাকা দিলে তবেই বদলি! ঘুষ ছাড়া চলবে না কিছুই! গোটা রাজ্যের সমস্ত বিভাগই যেন এই ধরনের অভিযোগে ছেয়ে গিয়েছে। তা থেকে বাদ যায়নি স্বাস্থ্য দফতরও। এবার খোদ তৃণমূলের সাংসদ ও তৃণমূলের বিধায়ক, আরেক তৃণমূল নেতার (Trinamool Doctor) বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করলেন। লিখিত অভিযোগ জমা পড়ল স্বয়ং রাজ্যের ডিজি-র কাছে!

    কী ওই মারাত্মক অভিযোগ? 

    ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল কাউন্সিলের রাজ্য শাখার প্যাডে তৃণমূলের সাংসদ চিকিৎসক শান্তনু সেন এবং তৃণমূলের বিধায়ক চিকিৎসক নির্মল মাজি লিখিত অভিযোগ করেন, তৃণমূলের আরেক চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাস (TMC) অনৈতিকভাবে টাকা আদায় করছেন। ওই লিখিত অভিযোগে জানানো হয়েছে, টাকা দিলে তবেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসককে বদলি করা হবে। একজন চিকিৎসক তাঁর পছন্দমতো জায়গায় কাজের সুযোগ পেতে পারেন, যদি বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে টাকা দেওয়া হয়। কখনও পাঁচ, আবার কখনও দশ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর সেটাই রাজ্য পুলিশকে তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করেছেন তৃণমূলের এই দুই চিকিৎসক নেতা!

    কী বলছেন শান্তনু সেন ও নির্মল মাজি? 

    রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে অভিযোগ জানানো প্রসঙ্গে তৃণমূলের সাংসদ চিকিৎসক শান্তনু সেন বলেন, “দুর্নীতি (TMC) নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। সে দলের যত বড় নেতাই হোক না কেন! কোনও ভাবেই কোনও অনৈতিক কাজ সমর্থন করা হবে না। তাই বিরূপাক্ষের বিরুদ্ধে যখন এক চিকিৎসক অভিযোগ করেন, তখন সেটা আমরাই পুলিশকে জানাই। পুলিশ তদন্ত করে সবটা দেখবে!” সততাই একমাত্র পথ, বলছেন তৃণমূলের আরেক বিধায়ক ও চিকিৎসক নেতা নির্মল মাজি। তিনি বিরূপাক্ষ প্রসঙ্গে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সৎ মানুষ। তাঁর দলের কেউ যদি অসৎ হয়, তাকে বা দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তা একেবারেই সমর্থন করা হবে না। তাই বিরুপাক্ষের বিরুদ্ধে যখন এমন আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ জানতে পারলাম, আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হলাম।”

    কে বিরুপাক্ষ বিশ্বাস? কী বলছেন তিনি?

    চিকিৎসক বিরুপাক্ষ বিশ্বাস রাজ্যের শাসকদলের চিকিৎসক সংগঠন প্রোগ্রেসিভ ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন (পিডিএ)-এর নেতা। বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের (TMC) বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা সময় দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর সহকর্মীদের একাংশ। এমনকী কয়েক মাস আগে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ অভিযোগ করেছিল, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত হয়েও, অধিকাংশ সময় সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে থাকেন। বিভিন্ন জুনিয়র চিকিৎসককে হেনস্থা করেন। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে চিকিৎসক-পড়ুয়াদের মারধরের অভিযোগও ওঠে। সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের ঘটনায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার পর্যন্ত করেছিল।তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা বিরূপাক্ষ বিশ্বাস (TMC) অবশ্য এই অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। ” 

    কী বলছে চিকিৎসক মহল? 

    চিকিৎসক মহল অবশ্য জানাচ্ছে, চিকিৎসক বদলি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের অন্দরে এই অভিযোগ বহু দিনের। এখন তা আরও পরিষ্কার হল। চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের নেতা সজল বিশ্বাস বলেন, বহু চিকিৎসক বছরের পর বছর কলকাতার একটি নির্দিষ্ট সরকারি হাসপাতালে কাজ করার সুযোগ পান। আর অসংখ্য চিকিৎসক যাঁরা প্রত্যন্ত এলাকায় চাকরি করছেন, বছরের পর বছর কেটে গেলেও তাঁরা বদলির সুযোগ পান না। স্বাস্থ্য ভবনে এ নিয়ে একাধিকবার জানালেও তারা কোনও পদক্ষেপ করে না। আসলে এ রাজ্যে শাসকদলকে সন্তুষ্ট করতে না পারলে কিছুই হয় না। তাঁর কথায়, “বদলি নিয়ে সরকারি নীতি নয়, শাসক দলের নেতারাই (TMC) চক্র চালাচ্ছেন। একথা আরেকবার স্পষ্ট হয়ে গেল।” সজল বিশ্বাসের সঙ্গে একমত আরেক চিকিৎসক নেতা মানস গুমটা। তিনি বলেন, “টাকা নিয়ে বদলির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একাধিক চিকিৎসক আগেও অভিযোগ করেছেন, বদলির আবেদন করলেই তাঁদের কাছে ঘুষ চাওয়া হয়। আসলে এ তো দুর্নীতির মৌচাক। যেখানেই ঢিল পড়বে, সেখান থেকেই এই দুর্নীতির খোঁজ পাওয়া যাবে। “

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • WB Medical Council: মমতাকে সারদা মা বলার ‘পুরস্কার’ নির্মল মাজির, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে ছাপ্পা ভোট নিয়ে আদালতে বিরোধী শিবির 

    WB Medical Council: মমতাকে সারদা মা বলার ‘পুরস্কার’ নির্মল মাজির, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে ছাপ্পা ভোট নিয়ে আদালতে বিরোধী শিবির 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাময়িক দূরত্ব তৈরির ‘নাটকে’ আপাতত ইতি। ‘পুরস্কার’ পেয়ে গেলেন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। নির্মল মাজিকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের মনোনীত সদস্য করার সিদ্ধান্তকে এমনি ব্যাখ্যা করছেন রাজ্যের চিকিৎসকদের একাংশ। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল গঠনে (WB Medical Council) বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। কাউন্সিলের নির্বাচনে ছাপ্পা ভোট, ব্যালট চুরি, এমনকি বিরোধী প্রার্থী চিকিৎসক অর্জুন দাশগুপ্তের নাম ব্যালট থেকে কারচুপি করে বাদ দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভোট গণনার দিন, একটানা গণনা না করে, সাত ঘণ্টার বিরতি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই রাজ্য সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সেই বিতর্ক আরও দানা বাঁধে। 

    রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, নতুন কাউন্সিলে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়াও সরকার মনোনীত প্রতিনিধি থাকছেন। আর সেই মনোনীত প্রতিনিধি তালিকায় রয়েছেন নির্মল মাজি।তৃণমূলের বিধায়ক নির্মল মাজির বিরুদ্ধে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন চুরির অভিযোগ উঠেছিল কয়েক মাস আগে। তারপরেই নির্মল বাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা সারদা-র সঙ্গে তুলনা করেন মালদা মেডিক্যাল কলেজের এক সভায়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক অন্য মাত্রা নেয়। সাময়িকভাবে নির্মল বাবুর সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করে তৃণমূল। তাকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্বাচনে প্রার্থী হতেও নিষেধ করা হয়। 

    আরও পড়ুন: নিপীড়িতদের স্বাগত জানায় ভারত, ধর্মীয় সম্মেলনে বললেন আরএসএস নেতা

    যদিও এই সবটাই লোক দেখানো বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কালীপুজোর রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও নির্মল মাজি উপস্থিত ছিলেন। আর তারপরেই রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে জায়গা করে নেন নির্মল মাজি। অস্বচ্ছ নির্বাচনের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনের বিরোধী শিবির জয়েন্ট ডক্টর্স প্ল্যাটফর্ম। রাজ্যের শাসক দলের মদতে পেশি শক্তির জোরে মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচন হয়েছে বলেই অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। অধিকাংশ মেডিক্যাল কলেজে ব্যালট পৌঁছায়নি। চিকিৎসকেরা নিজেদের ভোট, নিজেরা দিতে পারেননি। এমনকি জাল ব্যালটের অভিযোগ করেছেন বিরোধী শিবিরের চিকিৎসকেরা। 

    ভোট গণনার দিন জাল ব্যালটের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই গণনা কেন্দ্র থেকে বিরোধীদের বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, রিটার্নিং অফিসারকে নিয়ে শাসক দলের প্রতিনিধিরা কয়েক ঘণ্টা বন্ধ করে মিটিং করেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও একটানা গণনা প্রক্রিয়া চলে না। গণনায় বিরোধী শিবির এগিয়ে যেতেই সাত ঘণ্টা গণনায় বিরতি নেওয়া হয়। শাসক দলের প্রতিনিধিদের জয়ী ঘোষণা করা হয়। এই সব অভিযোগ নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার তার শুনানি হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য এই অভিযোগগুলো যথাযথ ভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি জানিয়েছেন। আগামী ১০ নভেম্বর বিষয়টির ফের শুনানি হবে। 

    রাজ্যের চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, তা নজরদারির দায়িত্ব মেডিক্যাল কাউন্সিলের। রোগী ও চিকিৎসকের সম্পর্ক মজবুত করতেও কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রোগীর চিকিৎসা ও চিকিৎসক সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে, সে কাউন্সিলের দ্বারস্থ হবেন। কিন্তু কাউন্সিল যদি অস্বচ্ছ ভাবে তৈরি হয়, তাহলে সেই কাজ কি কাউন্সিল ঠিকমতো করতে পারবে? আর দায়িত্ব পালন না হলে তার প্রভাব রোগী পরিষেবাতেও পরবে।

LinkedIn
Share