Tag: Niti Aayog

Niti Aayog

  • Ashok Lahiri: অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম ছাঁটাই, দ্রুত অনুমোদন ও লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজ্যকে বার্তা অশোক লাহিড়ির

    Ashok Lahiri: অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম ছাঁটাই, দ্রুত অনুমোদন ও লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজ্যকে বার্তা অশোক লাহিড়ির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শিল্পের বিকাশে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার উপর জোর দিলেন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি অশোককুমার লাহিড়ি (Ashok Lahiri)। তাঁর মতে, ব্যবসা ও শিল্পের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়মকানুন ছেঁটে ফেলে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি। নীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে (Industry Growth) তা শিল্পের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। রাজ্যের নতুন সরকারের কাছেও শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যথেষ্ট প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর। শুক্রবার কলকাতায় বেঙ্গল চেম্বার্স অফ কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন লাহিড়ি। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় স্তরেই শিল্পবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসা শুরু করা কিংবা সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারান। তাই এই দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ করা প্রয়োজন।

    কী বলছেন অশোক (Ashok Lahiri)

    তিনি বলেন, “ব্যবসা শুরু করতে বা সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই সমস্যা কমানো জরুরি। সরকারের কাছে কোনও নাগরিকের তথ্য আগে থেকেই থাকলে তাঁকে বার বার একই তথ্য জমা দিতে বলা উচিত নয়।” তবে শিল্পের বিকাশের জন্য সমস্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার পক্ষে নন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রণের বদলে প্রয়োজন সময়োপযোগী ও জনস্বার্থবাহী নিয়মকানুন। অশোক বলেন, “উন্নয়নের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন নিয়ম তৈরি করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখবে, অথচ ব্যবসা ও শিল্পের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে না।”

    ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাস তুলে ধরে অশোক জানান, ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সাহায্য করেছে। ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর কথায়, ২০১৪ সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের ব্যবসা করার সহজতার তালিকায় ভারতের অবস্থান ছিল ১৪২। পরবর্তী সময়ে সংস্কারের ফলে ২০২০ সালে সেই অবস্থান উন্নীত হয়ে ৬৩-তে পৌঁছয় (Ashok Lahiri)।

    তবে শুধু কেন্দ্রীয় উদ্যোগে বাংলার শিল্পের পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। এ জন্য কেন্দ্র, রাজ্য এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছেন অশোক। নতুন রাজ্য সরকারের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য, “এই সরকারের কাছে আমার অনেক আশা রয়েছে। অতীতে কী কী ভুল হয়েছে, তা যেহেতু সরকার জানে, তাই প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলি তারা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়িত করবে (Industry   Growth) বলে আমার বিশ্বাস।”

    শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্য

    অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও বাংলার শিল্পক্ষেত্রের সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, একসময় বাংলা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু জমির অপ্রতুলতা, সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগের গতি ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কেন্দ্র ও রাজ্যকে যৌথভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    শিল্পমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ৩৩টি প্রকল্পে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে রাজ্যের প্রকৌশল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির সংযোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে (Ashok Lahiri)।

    নতুন শিল্পনীতিতে জমি বরাদ্দ, কারখানা স্থাপনের অনুমোদন এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তাপস। শিল্পোদ্যোগীদের কাছ থেকে সরাসরি সমস্যার কথা শুনতে চান তিনি। কোন সরকারি নিয়মের কারণে শিল্প স্থাপনে অসুবিধা হচ্ছে এবং কোথায় অনুমোদন পেতে দেরি হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে শিল্পপতিদের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজ্যের লক্ষ্য

    তাপসের বক্তব্য, প্রশাসনিক জটিলতা ও লালফিতের ফাঁস কাটিয়ে শিল্পের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই রাজ্যের লক্ষ্য। সেই পথেই বাংলার শিল্পক্ষেত্রকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করাতে চায় (Industry   Growth) সরকার। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগ এবং নতুন শিল্পনীতি প্রণয়নের পরিকল্পনার মধ্যে অশোককুমার লাহিড়ীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক সংস্কার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে রাজ্য সরকার (Ashok Lahiri)।

     

  • NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা এনটিপিসি আগামী ১১ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা (প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা  ঘোষণা করেছে। সংস্থার ইতিহাসে এটিই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় মূলধনী বিনিয়োগ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বহুমুখী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সংস্থায় রূপান্তরই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

    বড় লগ্নির পরিকল্পনা (NTPC)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৭ সালের মধ্যে এনটিপিসি তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ২৫০ গিগাওয়াটে নিয়ে যেতে চায়। পাশাপাশি, ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু-সহ ১০টি রাজ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এনটিপিসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুরদীপ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা যদি ২০৩৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত হিসাব করি, তাহলে আগামী প্রায় ১০ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বিনিয়োগ করব। বিনিয়োগের পরিমাণ এই স্তরেই পৌঁছবে।” তিনি জানান, ২০৩২ অর্থবর্ষের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ হবে সংস্থার সম্প্রসারণের পরবর্তী বড় ধাপ। প্রচলিত চাপযুক্ত ভারী জলচালিত পারমাণবিক চুল্লির পাশাপাশি আধুনিক চুল্লি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে এনটিপিসি।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা

    তিন ধাপে এই বিপুল বিনিয়োগ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.০৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপর ২০২৮ থেকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫.৯৭ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার বড় অংশ যাবে নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে। ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আরও ৯.৬৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এনটিপিসি বছরে গড়ে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা মূলধনী ব্যয় করে। গুরদীপ বলেন, “নবীকরণযোগ্য জ্বালানিই ভবিষ্যতে এনটিপিসির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে।” তাঁর মতে, বর্তমানে সংস্থার নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২ গিগাওয়াট। সেটিকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৬০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ১৩৬ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা

    এই সম্প্রসারণে সহায়তা করবে ৩৮.৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ৮০ গিগাওয়াটেরও বেশি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প। পাশাপাশি, বিশাখাপত্তনমের কাছে পুদিমাদকায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সবুজ হাইড্রোজেন কেন্দ্র গড়ে তুলছে এনটিপিসি। সেখানে সবুজ হাইড্রোজেনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও রাসায়নিক উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নীতি আয়োগের পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৭৫০ গিগাওয়াটে পৌঁছতে পারে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা রেকর্ড ২৭১ গিগাওয়াটে পৌঁছেছিল। নবীকরণযোগ্য জ্বালানির প্রসারের ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমলেও, এনটিপিসির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বছরে ২৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে গুরদীপ বলেন, “আমাদের পিছিয়ে পড়ার কোনও কারণ নেই।” এদিকে, এনটিপিসি এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ ‘অনুশক্তি বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (অশ্বিনী)’ রাজস্থানের মাহি বানসওয়ারায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে।

     

  • State Budget: বাজেটের আগে দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বাড়ছে ‘চমক’ জল্পনা!

    State Budget: বাজেটের আগে দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বাড়ছে ‘চমক’ জল্পনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এই প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ পেশ (State Budget) করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সরকার। এই নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন ‘মেলা-খেলা’র মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিপুল পরিমাণ জনমত নিয়ে নবান্নের কুর্সিতে বসে ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার (Swapan Dasgupta)।

    পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে শুভেন্দু সরকার (State Budget)

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে এই সরকারই। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার থেকে। ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে বুধবার সকালে আচমকাই দিল্লি উড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর এই ঝটিকা দিল্লি সফরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

    গুরুত্বপূর্ণ দুই বৈঠক

    সূত্রের খবর, দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। প্রথমে তিনি নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, কেন্দ্রীয় অনুদান এবং আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। পরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গেও বৈঠক করেন স্বপন। রাজ্যের আর্থিক পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় করের বকেয়া অংশ, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য এবং নয়া সরকারের জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নয়া সরকারের প্রথম বাজেটে একাধিক বড় চমক থাকবে। সেই মন্তব্যের পর বাজেট ঘোষণার মাত্র কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রীর দিল্লি উড়ে যাওয়া উসকে দিয়েছে জল্পনার আগুন।

    রাজ্যের হাঁড়ির হাল

    চৌত্রিশ বছরের বাম রাজত্ব এবং তার পরের টানা পনেরো বছর তৃণমূল শাসনে রাজ্যের হাঁড়ির হাল হয়েছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের। তৃণমূল জমানায় পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতি এবং রাজ্যের প্রাক্তন প্রশাসনিক প্রধান মমতার খয়রাতির রাজনীতির জেরে আক্ষরিক অর্থেই মাজা ভেঙে গিয়েছে বঙ্গের অর্থনীতির। একের পর এক নির্বাচনে ভোট ‘কিনতে’ও বিস্তর খরচ হয়েছে বলেও অভিযোগ। আরও অভিযোগ, হরির লুটের বাতাসার মতো করে ‘করে-কম্মে’ খেয়েছেন রাজ্যের তৎকালীন শাসক দলের ছোট-বড়-মাঝারি নেতারা। বস্তুত, তৃণমূলের আমলে রাজ্যের আহামরি কোনও উন্নতি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ওপর রাজ্যবাসী ছিলেন অসন্তুষ্ট। সেই অসন্তোষের আগুনে ধামা চাপা দিতেই প্রথম দিকে মেলা-খেলায় মেতে যায় সরকার।

    তৃণমূল সরকারের সস্তার রাজনীতি!

    রাজ্যে বড় কোনও শিল্প না হওয়ায়, হাজার হাজার মানুষ ‘জন’ খাটতে পাড়ি দিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। শাসক দলের মেলা-খেলার রাজনীতির বিরুদ্ধে বিরোধীরা সোচ্চার হতেই, বন্ধ হয়ে যায় সেই ‘কালচার’। শুরু হয় খয়রাতির রাজনীতি। নানা রকম ‘শ্রী’-যুক্ত প্রকল্প চালু করে রাজ্যবাসীর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয় কর্মসংস্থানের হা-পিত্যেশ দশার দিক থেকে। তাতেও বিশেষ চিড়ে না ভেজায়, শুরু হয় তোষণের রাজনীতি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দেওয়া হতে থাকে হাত উপুড় করে। পায়ের নীচের মাটি আরও আলগা হয়ে যাচ্ছে (State Budget) টের পেয়ে মমতার সরকার চালু করে ক্লাবগুলিকে পুজো উপলক্ষে অনুদান দেওয়ার নয়া প্রথা। তার পরেও অবশ্য শেষ রক্ষে হয়নি। পদ্ম-ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে মমতার সাধের দল তৃণমূল। ওই ঝড়েই উড়ে গিয়ে দলনেত্রী স্বয়ং পড়েছেন কালীঘাটে, আদি গঙ্গার পাড়ে।

    জনমুখী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি!

    এমতাবস্থায় রাজ্য শাসনের গুরু দায়িত্ব বঙ্গবাসী তুলে দেন বিজেপির হাতে। প্রত্যাশিতভাবেই বিরাট বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রাজ্যের আর্থিক (Swapan Dasgupta) অবস্থা। বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা সামলেও, জনমুখী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পদ্ম সরকার। তাই বাজেটের আগে কেন্দ্রের শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এদিকে, বুধবার ফলতার এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২২ তারিখ বাজেট আছে। সেখানেও বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে। আরও কিছু নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে।” যদিও এখনই খোলসা করে কিছু জানাতে চাননি (State Budget) তিনি।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যের বাজেট অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। পরে ৬ জুলাই সকাল ১১টায় ফের বিধানসভা বসবে। সেটা বাদল অধিবেশন। তাই জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে বলেই আশা। তাই ২২ জুন, বাজেট ঘোষণার দিন বিজেপির ‘রাম-বাক্স’ থেকে বেরনো (Swapan Dasgupta) সান্টাক্লজ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া রাজ্যবাসীর জন্য কোন কোন উপহার আনেন, এখন তাই দেখার (State Budget)!

     

  • Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল সরকারকে টান মেরে কুর্সি থেকে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।  সপ্তাহখানেকের কিছু বেশি সময় ধরে বাংলায় রাজও করতে শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম-দল। ঝমাঝম (Bengal Re-industrialisation Roadmap) শব্দ করে এগিয়ে চলেছে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পালাবদলের সরকার যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে নানা ক্ষেত্রে, ঠিক তখনই নয়াদিল্লি নীরবে (Jobs Investment) এমন এক দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে, যা পূর্ব- ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলির একটি হতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ

    আধিকারিকদের মতে, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রক এবং নীতি আয়োগকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। স্বাধীনতার আগে যে রাজ্যটি উপমহাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, সাতের দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায় তার শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক অশোক লাহিড়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি। অথচ ২০২১ সালে বালুরঘাট থেকে তিনি জয়ী হয়েছিলেন বিরাট ব্যবধানে। এই অশোকই নিতে চলেছেন নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আধিকারিকরা জানান, উৎপাদন শিল্পের পুনরুজ্জীবন, লজিস্টিক ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো, নদীপথ বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘পুনঃশিল্পায়ন রোডম্যাপে’র প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    শিল্পপতি তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, “একটা ভুল ধারণা আছে যে বাংলার মানুষ শুধুই চাকরির পেছনে ছোটে। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, এটাই স্যার আরএন মুখার্জির মার্টিন অ্যান্ড বার্ন, স্যার পিসি রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যালস এবং ঘনশ্যাম দাস বিড়লার মতো উদ্যোক্তাদের ভূমি। আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। কলকাতা আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির স্বাভাবিক কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।” স্বাধীনতার সময় (Bengal Re-industrialisation Roadmap) জিডিপির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের দ্বিতীয় ধনী রাজ্য। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে, যার অর্থনীতি ২২১ বিলিয়ন মার্কিন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। একসময় কলকাতা ছিল ভারতের বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের সদর দফতর—পাটকল, ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা, চা নিলাম কেন্দ্র, ব্যস্ত নদীবন্দর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ব-ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করত।

    ধসে পড়ে শিল্পের ভিত্তি

    কিন্তু পরবর্তী কালে অতিবামপন্থী নকশালপন্থী আন্দোলন, কড়া শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলা থেকে পুঁজি সরে যেতে শুরু করে অন্যত্র। যার জেরে ধসে পড়ে ক্রমক্ষীয়মান শিল্পের ভিত্তি। অবনতি দেখা দেয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। বাজোরিয়া বলেন, “অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে যখন পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করছিল, তখন বাংলা বড় মাপের উৎপাদন শিল্পে লগ্নি টানতে ব্যর্থ হয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের মতো ঘটনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সব সরকারই শিল্প সম্প্রসারণের বদলে কল্যাণমূলক রাজনীতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে (Jobs Investment), অবশ্য দু’টি ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ছিল (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাত—সল্টলেক ও নিউটাউনের আইটি হাবে বহু নতুন সংস্থা আসে। পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কম ভাড়া এবং উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণে কলকাতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভারতীয় বিদেশ বাণিজ্য সংস্থার (IIFT) প্রাক্তন ডাব্লুটিও (WTO) চেয়ার অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধর বলেন, “এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৮-১০ শতাংশ। এর উন্নয়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং বাংলার বাইরে কাজের জন্য মানুষের যাতায়াত কমবে। উদ্যানপালন, নতুন ধরনের চা, ব্যান্ডেলের প্রসেসড চিজের মতো পণ্য রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, প্রস্তাবিত নকশা কয়েকটি প্রধান খাতে জোর দেবে। প্রথমত, লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি বলে অনুমান। কলকাতা এবং হলদিয়াকে কেন্দ্র করে বন্দর-সংযুক্ত পরিকাঠামো, মালবাহী করিডর এবং বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।দ্বিতীয়ত, উৎপাদন শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলা। ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক শিল্প, ফাউন্ড্রি, বস্ত্রশিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল এবং কর-ভিত্তিক উৎসাহ দানের কথা ভাবা হচ্ছে (Jobs Investment)। কিছু নীতিনির্ধারক পূর্ব-ভারতের খনিজ সম্পদ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স করিডরের পক্ষেও সওয়াল করছেন (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। তৃতীয়ত, শক্তি ও ভারী শিল্প। কয়লা ও লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়া, বন্দরের সুবিধা এবং বঙ্গোপসাগরীয় জ্বালানি রুটের কাছে অবস্থান—এসবকে শক্তিনির্ভর শিল্প ও ডাউনস্ট্রিম শিল্পের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বোপরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হবে, বিশেষ করে সেই তরুণ বাঙালিদের জন্য যারা কাজের খোঁজে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে চলে যাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

    অর্থনীতিবিদরা অবশ্য সতর্ক করে দিচ্ছেন এই বলে যে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংবেদনশীলতা, পুরনো শিল্প পরিকাঠামো, দুর্বল পুর-অর্থনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বাড়লেও, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নীতিগত স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। অধ্যাপক ধর বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে পুনঃশিল্পায়ন মানে শুধু কারখানা খুলে দেওয়া নয়। এজন্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত অভিযোজন, আর্থিক গভীরতা এবং নিয়ন্ত্রক বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রাজ্যগুলির সঙ্গে (Jobs Investment) প্রতিযোগিতা করতে হবে।”

     

  • Ashok Lahiri: নীতি আয়োগের শীর্ষ নেতৃত্বে বঙ্গের দুই কৃতি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী

    Ashok Lahiri: নীতি আয়োগের শীর্ষ নেতৃত্বে বঙ্গের দুই কৃতি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা ‘নীতি আয়োগ’-এর (Niti Aayog) পুনর্গঠনে বিশেষ গুরুত্ব পেল পশ্চিমবঙ্গ। ভারত সরকারের এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বালুরঘাটের বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীকে (Ashok Lahiri) নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান (Vice Chairman) পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে, বিশিষ্ট অধ্যাপক গোবর্ধন দাসকেও এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    অশোক লাহিড়ীর অবদান

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে অশোক লাহিড়ীর (Ashok Lahiri) কর্মজীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তিনি ইতিপূর্বে ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (CEA) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (ADB) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁর এই নতুন দায়িত্ব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অশোক লাহিড়ী ২০২১ সালে বালুরঘাট আসন থেকে বিজেপির বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবার নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। নীতি আয়োগের চেয়ারম্যান খোদ প্রধানমন্ত্রী। পদমর্যাদার নিরিখে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর (Niti Aayog) সমকক্ষ। এবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থনীতি বিষয়ে কাজ করবেন অশোকবাবু। ভোটের মধ্যেও বঙ্গবাসীর কাছে এই সংবাদ অত্যন্ত আনন্দের।

    অধ্যাপক গোবর্ধন দাসের ভূমিকা

    জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) সেন্টার ফর মলিকুলার মেডিসিন-এর অধ্যাপক গোবর্ধন দাসের নীতি আয়োগে অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনস্বাস্থ্য এবং উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত গবেষণায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আয়োগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলোতে বিশেষ সহায়ক হবে। কেন্দ্রীয় স্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় বাংলার দুই কৃতী ব্যক্তিত্বের নিযুক্তিতে যেমন রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয়, তেমনই জাতীয় উন্নয়নের রূপরেখা তৈরিতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতাদের গুরুত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করল। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই দুই ব্যক্তিত্বের মেধা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নীতি আয়োগের (Niti Aayog) কর্মপদ্ধতি আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল হবে।

  • Asset Monetization Plan: সরকারি সম্পদ নগদীকরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের নকশা প্রকাশ নির্মলা সীতারামনের

    Asset Monetization Plan: সরকারি সম্পদ নগদীকরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের নকশা প্রকাশ নির্মলা সীতারামনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সরকারি সম্পদ নগদীকরণ (Public Asset Monetisation) কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের (Centre) নকশা প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই পর্যায়ে ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে ১০.৮২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের ব্যবস্থাপনায় দেওয়া সম্পদের পূর্ণ কনসেশন মেয়াদে অতিরিক্ত ৫.৯ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। নীতি আয়োগ প্রস্তুত করা এই পরিকল্পনা প্রথম পর্যায়ের অর্থবর্ষ ২০২২–২৫-এর  তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় আকারের, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ লাখ কোটি টাকা।

    সুব্রহ্মণ্যমের বক্তব্য (Asset Monetization Plan)

    নীতি আয়োগের প্রধান এক্সিকিউটিভ বিভি আর সুব্রহ্মণ্যম জানান, আগের লক্ষ্যের ৮৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে এবং মূলত সড়কপথ, কয়লা, খনি, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস খাত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫.৩ লাখ কোটি টাকা। মোট ১৬.৭২ লাখ কোটি টাকার নগদীকরণ (Asset Monetization Plan) লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে হস্তান্তরিত সম্পদের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেসরকারি খাতের ৫.৮ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই কর্মসূচি থেকে বছরে প্রায় ৮০,০০০–৯০,০০০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে। শুধু ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষেই ২.৪৯ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রাখা হয়েছে (Centre)।

    সম্পদের আইনি মালিকানা বিক্রি করা হচ্ছে না

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সম্পদের আইনি মালিকানা বিক্রি করা হচ্ছে না। নির্দিষ্ট কনসেশন সময়ের জন্য—সাধারণত ১৫ থেকে ৩৫ বছর—সম্পদ বেসরকারি খাতের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মেয়াদ শেষে সম্পদ আবার সরকারের মালিকানায় ফিরে আসবে। সুব্রহ্মণ্যম বলেন, “সম্পদ আপনারই থাকে, এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।” তিনি একে বিনিয়োজন (Disinvestment) থেকে আলাদা বলে ব্যাখ্যা করেন (Asset Monetization Plan)। এই পরিকল্পনা ১২টি খাত জুড়ে বিস্তৃত—যেমন সড়কপথ, রেলপথ, বিদ্যুৎ, বন্দর, বেসামরিক বিমান পরিবহন, টেলিযোগাযোগ, কয়লা, খনি, গুদামজাতকরণ এবং নগর পরিকাঠামো। মোট লক্ষ্যমাত্রার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি আসবে সড়কপথ, মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস পার্ক এবং রোপওয়ে খাত থেকে। রেল, বিদ্যুৎ ও বন্দর-এই খাতগুলির (Asset Monetization Plan) অবদান হবে ১৬–১৭ শতাংশ করে (Centre)।

     

LinkedIn
Share