Tag: North 24 Parganas

North 24 Parganas

  • Bangladeshi Arrest: নুরুল সেজেছিল নারায়ণ! অটো চালিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপনই ধরিয়ে দিল বাংলাদেশিকে

    Bangladeshi Arrest: নুরুল সেজেছিল নারায়ণ! অটো চালিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপনই ধরিয়ে দিল বাংলাদেশিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পেশায় সামান্য অটোচালক! অথচ, এদেশে এসে বছর খানেকের মধ্যেই জীবনযাত্রার মান বদলে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম, যা রীতিমতো অবাক করেছিল স্থানীয়দেরও। থাকছিলেন বারাসতের দক্ষিণ কাজিপাড়ার বাসিন্দা শেখ রফিকুল ইসলামের বাড়িতে। এই রফিকুলের বাড়ি বাংলাদেশের  (Bangladeshi Arrest) মাদারিহাট এলাকায়। দুজনেরই কাজকর্ম ও গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাঁদের ওপর নজর রাখতে শুরু করেছিল দত্তপুকুর থানার পুলিশ। রবিবার ভোরে ওই দুই বাংলাদেশিকে পাকড়াও করা হয় বারাসতের (Barasat) বামনগাছি চৌমাথা সংলগ্ন এলাকা থেকে। এর আগেও বাংলাদেশিদের এদেশে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সমীর দাস-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ফের দুই বাংলাদেশির সন্ধান মিলল বারাসতে।

    নুরুল হক থেকে নারায়ণ অধিকারী! (Bangladeshi Arrest)

    জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের (Bangladeshi Arrest) এই নুরুল হক ভারতে এসে হয়ে গিয়েছিলেন নারায়ণ অধিকারী। তাঁর বাড়ি গাজিপুর। বাবার নাম গিয়াস মিঞার পরিবর্তে এখানে করেছিলেন নগেন অধিকারী। রফিকুল ইসলাম আবার ভারতে ঢুকে বারাসতে পেল্লাই বাড়িও বানিয়ে ফেলেছিলেন। দত্তপুকুর থেকে ধৃত রফিকুল ইসলাম এবং নুরুল হক ওরফে নারায়ণ অধিকারীর নথি তৈরি করে দিয়েছিল নথি-জালকাণ্ডে ধৃত সমীর দাস, দাবি পুলিশের। পেশায় লোক দেখানো অটোচালক হলেও দুজনের জীবনযাত্রা নিয়ে স্থানীয় ও পরিচিতদের মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। তারই মধ্যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উত্তাল পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশকারীদের ধরপাকড় শুরু হলে এই দুজনের গতিবিধির ওপরও নজর রাখতে শুরু করেছিল পুলিশ। শেষে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের।

    নুরুলের ঠাটবাটই ছিল অন্য রকম!

    অনেকেই বলছেন, নুরুলের ঠাটবাটই ছিল অন্য রকম। হাতে তাঁর সব সময় থাকত দামি ঘড়ি। আইফোন (Bangladeshi Arrest) ছাড়া অন্য কোনও ফোন ব্যবহার করতেন না। শুধু তাই নয়, কোনও অনুষ্ঠান হলেই শয়ে শয়ে টাকাও খরচ করতেন নুরুল। এমনই দাবি করছেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু, সামান্য অটোচালক হয়ে কীভাবে সে এত বিলাসবহুল জীবনযাপন করত? এখানেই খটকা লাগছে তদন্তকারীদের। পুলিশের অনুমান, এসবই অসৎ পথে উপার্জনের টাকা। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে নুরুল ওপার বাংলার ক্লায়েন্ট জোগাড় করত। তারপর মোটা টাকার বিনিময়ে রফিকুলের মাধ্যমে সে বাংলাদেশিদের ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে দিত। সেখান থেকেই নুরুল মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করতেন বলে ধারণা তদন্তকারীদের। তবুও দত্তপুকুর থেকে ধৃত বাংলাদেশি নুরুল ইসলামের আয়ের উৎস খুঁজতে তৎপর পুলিশ।

    ভারতীয় মহিলাকে বিয়ে করেন রফিকুল

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ (Bangladeshi Arrest) জানতে পেরেছে, ধৃত নুরুল বিগত তিন-সাড়ে তিন বছর ধরে বারাসতের দক্ষিণ কাজিপাড়ার রফিকুলের বাড়িতে ভাড়া থাকার নামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এই সময়ই তিনি নারায়ণ নামে জাল আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে ফেলেছিলেন। সেগুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রফিকুল আবার গত প্রায় কুড়ি বছর ধরে থাকছিল এদেশে। প্রথমে সে দত্তপুকুর এলাকায় থাকলেও পরে রফিকুল দক্ষিণ কাজিপাড়ায় বাড়ি তৈরি করে ভারতীয় মহিলাকে বিয়ে করে পাকাপাকিভাবে এদেশে থাকতে শুরু করেছিল। দত্তপুকুর থেকে ধৃত রফিকুল ইসলামের বাড়িতে প্রচুর বাংলাদেশির যাতায়াত ছিল বলে জেনেছে পুলিশ। দত্তপুকুরের কাজিপাড়ায় নিজের নামে বাড়িও বানিয়ে ফেলেছিল রফিকুল। জিজ্ঞেস করলে রফিকুল বলতেন, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা করাতে এসেছেন ওই ব্যক্তিরা। নুরুলও প্রথমে নিজের পরিচয়েই এসেছিলেন রফিকুলের বাড়ির দোতলার ভাড়াটে হিসেবে।

    নুরুলকে বাড়ি ছাড়া করতে স্থানীয়রা চাপ দিচ্ছিল

    পরে বদলে যায় সবটা। রফিকুল আবার নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন স্থানীয়দের কাছে। রফিকুল ইসলামের বাড়িতে সাড়ে তিন বছর আগে থেকে থাকা শুরু করেন নারায়ণ অধিকারী, ওরফে নুরুল হক। মাছের ব্যবসা করছেন, এই পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথমে নুরুল হকের নাম-পরিচয়ে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে থাকলেও পরে নাম, পরিচয়, ভোল- সবই আমূল বদলে ফেলেন তিনি। তখনই চটে যান প্রতিবেশীরা। ভোল বদলের পর নুরুল ইসলামকে বাড়ি ছাড়া করতে রফিকুলকে চাপ দিচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের কাছ থেকে বেশ কয়েকবার সময়ও চেয়ে নিয়েছিলেন রফিকুল। এরইমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে বেআইনি ভাবে এদেশে আসা অনুপ্রবেশকারীদের হাতে দ্রুত নথি তুলে দেওয়ার ব্যাপারে এক্সপার্ট ছিলেন সমীর দাস, এই তথ্য আগেই জানিয়েছে পুলিশ। আর সেই জন্য বাংলাদেশে বেশ নামডাকও ছিল তাঁর। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশেও জাল নথি তৈরির ব্যবসার ফাঁদ বিছিয়ে রেখেছেন বারাসাত থেকে ধৃত সমীর দাস। জালিয়াতিকাণ্ডে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Passport Scam: একবছরেই সমীরের একতলা বাড়ি হয়ে যায় চারতলা প্রাসদোপম অট্টালিকা, পাসপোর্ট জালিয়াতিকাণ্ডে গ্রেফতার ৪

    Passport Scam: একবছরেই সমীরের একতলা বাড়ি হয়ে যায় চারতলা প্রাসদোপম অট্টালিকা, পাসপোর্ট জালিয়াতিকাণ্ডে গ্রেফতার ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একতলা সাধারণ বাড়ি হয়ে যায় চারতলা প্রাসদোপম অট্টালিকা। আর সেটা হয়েছিল এক বছরের মধ্যে। করোনাকাল এবং তার পরবর্তী সময়েই পাসপোর্ট (Passport Scam) জালিয়তিকাণ্ডে ধৃত সমীর দাসের জাল নথির কারবারে রমরমা হয়েছিল। রীতিমতো একটি বিশাল চক্র তৈরি করে তিনি কারবার ফেঁদে বসেছিলেন। শুধু এপার বাংলা নয়, তার হাত ছিল ওপার বাংলা পর্যন্ত। সেখান থেকেও কাজের বরাত পেতেন তিনি। আর বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতির জন্য তাঁর চাহিদাও খুব বেড়ে গিয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তারাও সমীর দাসের চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। এছাড়াও টিকিয়াপাড়া থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কীভাবে করতেন কারবার? (Passport Scam)

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসাত আদালতে (Passport Scam) মুহুরির কাজ করার সুবাদে ঝুঁকি এড়াতে আদালতের হলফনামা দিয়েই জাল নথি তৈরি করতেন সমীর। জাল নথিতে থাকত তাঁরই বাড়ির ঠিকানা। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে, নিজের ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়ো পরিচয় পত্র বানিয়ে দিতেন সমীর। ইতিমধ্যেই তাঁর ২ ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক আরও একজনের খোঁজ চলছে। সমীর দাস গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন ওই ব্যক্তি। বারাসাতের নবপল্লিরই বাসিন্দা তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই সমীর দাস এবং তাঁর সহযোগীরা এই জাল নথির কারবার রমরমিয়ে চালাচ্ছিলেন। অথচ অন্ধকারে ছিল প্রশাসন। সূত্রের খবর, গত বছর মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশে অচলাবস্থা শুরু হওয়ার পরে, ওপার বাংলা থেকে এপারে আসার চাহিদা বেড়েছে। সেই সঙ্গে হেরফের হয়েছে সমীর দাসের তৈরি করা রেট চার্টেও। টাকার অঙ্ক বেড়েছে বই কমেনি। কোনও জনপ্রতিনিধির থেকে শংসাপত্র নেওয়ার প্রয়োজনই ছিল না। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা আসতেন, তাঁরা আগেই যোগাযোগ করতেন সমীর দাসকে। রীতিমতো বরাত দেওয়া হত। এপারে নথি তৈরি হলে খবর পৌঁছে যেত পড়শি দেশে। তারপরই হত অনুপ্রবেশ। আর আদালতের হলফনামার সাহায্যেই যাবতীয় নথিপত্র পৌঁছে যেত অনুপ্রবেশকারীদের হাতে।

    নথি জালিয়াতিতে ধৃত দুজনের কী কারবার ছিল?

    সমীর দাসের যে দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে (Passport Scam) গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে একজনের নাম কৌশিক মণ্ডল। অন্যজন চন্দন চক্রবর্তী। জানা গিয়েছে, কৌশিক মণ্ডলের বাড়ি বারাসাতের চৈতন্য নগরে। বারাসাতের চাঁদুর মোড়ে শীতলাতলা রোডে একটি দোকান ছিল তাঁর। দোকানের বয়স তিন বছর। আধার কার্ড,প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড সংশোধন-সহ বিভিন্ন নথি তৈরির কাজ হতো ওই দোকানে। তিন বছর ধরে চুটিয়ে চলছিল ব্যবসা। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে অনেক লোক এসে এই দোকানে ভিড় জমাতেন। অনেক রাত পর্যন্ত চলত কাজ। কৌশিক ওই দোকানে রেশন কার্ড তৈরি করতেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সংশোধনের জন্য চড়া দামও নেওয়া হতো, প্রায় ৪০০ টাকা। এমনই অভিযোগ করেছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। কোনও পরিস্থিতিতেই ‘রেট’ কমত না। আর শুধু বারাসাত কিংবা অন্যান্য শহরতলি নয়, কলকাতা শহরের বিভিন্ন প্রান্তেও ছড়িয়ে রয়েছে সমীর দাসের এই জাল নথি কারবারের সহযোগীরা।

    টিকিয়াপাড়া থেকে গ্রেফতার আরও ২

    জাল পাসপোর্টকাণ্ডের (Passport Scam) তদন্তে নেমে জাল নথি তৈরির অভিযোগে টিকিয়াপাড়া থেকে ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। ধৃতরা মোটা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জাল নথি তৈরি করে দিত বলে অভিযোগ। ধৃতদের জেরা করে তারা জাল পাসপোর্টচক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতরা হল বিশ্বজিৎ দে ও ফাহরুখ আনসারি। দীর্ঘদির ধরে জাল নথির কারবারে যুক্ত এরা। জাল মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট, জাল বার্থ সার্টিফিকেট, জাল স্ট্যাম্প পেপার থেকে শুরু করে হেন কোনও জাল নথি নেই যা এরা তৈরি করে না। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। তারা কাদের কাদের জাল নথি তৈরি করে দিয়েছেন তা জানার চেষ্টা চলছে। ধৃতদের সঙ্গে জাল পাসপোর্ট চক্রের যোগ রয়েছে কিনা তাও জানার চেষ্টা চলছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Protest: বারাসতে প্রতিবাদীদের ওপর ‘অতিসক্রিয়’ পুলিশ, কাঁচরাপাড়ায় ছাত্রীকে মার তৃণমূলের

    RG Kar Protest: বারাসতে প্রতিবাদীদের ওপর ‘অতিসক্রিয়’ পুলিশ, কাঁচরাপাড়ায় ছাত্রীকে মার তৃণমূলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডে (RG Kar Protest) রাজ্যজুড়ে রাত দখলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান সাধারণ মানুষ। কোচবিহারের মাথাভাঙায় প্রতিবাদীদের ওপর তৃণমূলের কর্মীরা হামলা চালায়। আর সেই একই ধাঁচে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে প্রতিবাদীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (RG Kar Protest)

    বিচারের দাবিতে রাত দখলে সামিল হন সাধারণ মানুষ, তখনই পুলিশের অতিসক্রিয়তার ছবি ধরা পড়ল বারাসতে। আরজি করকাণ্ডের (RG Kar Protest) বিচার চাইতে বুধবার রাতে বারাসত কলোনি মোড়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। রাস্তায় বসে তাঁরা ছবি আঁকছিলেন। আচমকা পুলিশ সেখানে আসে। এক পুলিশ আধিকারিক অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের হিন্দিতে বোঝানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় এক আন্দোলনকারী ওই পুলিশ আধিকারিককে বাংলায় কথা বলতে বলেন। আর ঠিক সেই সময়ই বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ওই আন্দোলনকারীর ওপর চড়াও হয়। বাকিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের রোষের মুখে পড়েন সকল আন্দোলনকারী। সকলের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। জোর করে রাস্তা থেকে তুলে দেওয়া হয়। আন্দোলন চলাকালীনই টেনে হিঁচড়ে আন্দোলনকারীদের তোলা হল গাড়িতে।

    আরও পড়ুন: ‘মোমের আলোর তাপ সইতে পারছে না তৃণমূল’, মাথাভাঙার ঘটনায় প্রতিবাদ বিজেপির

    আন্দোলনকারীরা কী বললেন?

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বাংলায় পুলিশ আধিকারিককে কথা বলতে বলার জন্য এভাবে আমাদের ওপর পুলিশ হামলা (RG Kar Protest) চালাল। এটা মেনে নেওয়া যায় না। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, এই ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা মহিলা পুলিশের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে কলোনি মোড়ে যে অবরোধ করেছিলেন তার কোনও অনুমতি ছিল না। দীর্ঘক্ষণ অবরোধ থাকার ফলে প্রচুর পচনশীল জিনিস ট্রাক আটকে ছিল। চালকরা অবরোধ তুলে নেওয়া বা রাস্তার একটি লেন ছেড়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য বলেন। কোনওভাবেই তাঁরা কথা শুনছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশ তাঁদেরকে গ্রেফতার করে।

    কাঁচরাপাড়ায় নাবালিকার প্রতিবাদীর ওপর হামলা

    বুধবার রাতে কাঁচরাপাড়ায় (RG Kar Protest) এক প্রতিবাদীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, কাঁচরাপাড়ার গান্ধী মূর্তির পদদেশে ‘রাত দখলের’ কর্মসূচি চলছিল। সেটির নেতৃত্ব দিচ্ছিল কাঁচরাপাড়া সারদা দেবী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মৌ সরকার। জানা গিয়েছে, প্রতিবাদ চলাকালীন মদ্যপ অবস্থায় একদল যুবক সেখানে হাজির হয়। একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেয়। হাত মুচড়েও দেয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে সে কল্যাণী জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  যুবকরা সকলে তৃণমূলের দলবল বলে জানিয়েছেন নাবালিকার বাবা। গোটা ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়।

    আক্রান্ত ছাত্রীর কী বক্তব্য?

    আক্রান্ত ছাত্রী বলে, “আমি ওদের পরিচয় জানি না। হঠাৎ করে এসে মাইক কেড়ে নেয়। আমি সেই মাইক চাইতে গেলে ঘিরে ধরে। আমায় ঘিরে ধরে। ওরা সকলে মদ্যপ অবস্থায় ছিল।” অপরদিকে, আহত নাবালিকার বাবা বলেন, “আমার মেয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। স্লোগান দিচ্ছিল। হঠাৎ করে গান্ধীমোড়ে তৃণমূলের মিছিল থেকে আসা একটি ছেলে ওর হাত মুচড়ে দেয়। ওর মা আমায় ডেকে নিয়ে গেল। আমি যাই ওইখানে। ছেলেটাকে জিজ্ঞাসা করি এই কাজটা কি ভাল করলেন? একটা মেয়ের হাত মুচড়ে দিলেন। আবার আপনারাই বলছেন জাস্টিস চাই? সঙ্গে সঙ্গে আমায় মারতে এল।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • North 24 Parganas: ‘‘আপনার মা-বোনেদের…’’! কুরুচিকর মন্তব্য তৃণমূল নেতার, তুলোধনা সুকান্তর

    North 24 Parganas: ‘‘আপনার মা-বোনেদের…’’! কুরুচিকর মন্তব্য তৃণমূল নেতার, তুলোধনা সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর জি কর ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করেছেন আন্দোলনকারীরা। মুখ্যমন্ত্রী এই ইস্যুতে কয়েকদিন আগে দলীয় কর্মীদের ‘ফোঁস’ করার নিদান দিয়েছিলেন। এই আবহের মধ্যে আরজি করকাণ্ডের প্রেক্ষিতে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কুৎসা করছেন, তাঁদের মা-বোনের বিকৃত ছবি বাড়ির দেওয়ালে টাঙিয়ে দিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) অশোকনগরের তৃণমূল নেতা অতীশ সরকার ওরফে ঝঙ্কু। তাঁর এ হেন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।  

    ঠিক কী বলেছেন তৃণমূল নেতা? (North 24 Parganas)

    মেয়ো রোডে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের সমাবেশে বক্তৃতা করতে গিয়ে  মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “যে আপনাকে রোজ কামড়াচ্ছে, তাকে কামড়াবেন না। কিন্তু, ফোঁস তো করতে পারেন।” দলনেত্রীর সেই ‘ফোঁস’ প্রসঙ্গ টেনে অশোকনগরের তৃণমূল নেতা অতীশ সরকার বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন। এক দলীয় কর্মসূচি থেকে অতীশ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোঁস করতে বলেছেন, সাবধান হয়ে যান। আমরা যদি পাড়ায় পাড়ায় ফোঁস করতে শুরু করি, তবে বাড়ি থেকে বার হতে পারবেন তো?” মমতার বিরোধিতা করলে ফল ভালো হবে না, এমন হুমকিও দেন অশোকনগরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অতীশ। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। রবিবার সেখানেই আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত এক পথসভা থেকে অতীশ বলেন, “আমরা যদি ফোঁস করি, তবে আপনার বাড়ির মা-বোনদের কুৎসা রটিয়ে যদি দরজায় টাঙিয়ে দিয়ে আসি, তা হলে সেই পোস্টার খুলতে পারবেন না। ওই দিন আর বেশি দূরে নেই। আমি এখানে দায়িত্ব নিয়ে বলে গেলাম।” অতীশের মন্তব্য প্রসঙ্গে অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, “এই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আমার এবং আমাদের জেলা সভাপতি কাকলি ঘোষদস্তিদারের কথা হয়েছে।”

    আরও পড়ুন: কৌশিকী অমাবস্যা শুরু, তারাপীঠে দেবীর ভোগে আজ থাকছে বিশেষ পদ

    ‘তৃণমূলের গুণধর লুম্পেন বাহিনী’, কটাক্ষ সুকান্তর

    বালুরঘাটের সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, অতীশের ওই বক্তব্যের অংশ এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন। সেখানে অতীশকে ‘তৃণমূলের গুণধর লুম্পেন বাহিনী’ বলে কটাক্ষ করেছেন সুকান্ত।

    <

    কী বলল বিজেপি?

     বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “রাজনীতি করলে এই ধরনের কথা বলার অধিকার কোথা থেকে এসেছে। পুলিশের (North 24 Parganas) উচিত ওদের গ্রেফতার করা।” রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র এবং কনভেনার দীপ্তিমান বসু জানিয়েছেন, এ ভাবে ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে আন্দোলন রোখা যাবে না। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • North 24 Parganas: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে ফের মোমবাতি হাতে রাত দখলে মেয়েরা

    North 24 Parganas: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে ফের মোমবাতি হাতে রাত দখলে মেয়েরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করের (RG Kar Incident) ঘটনা নিয়ে উত্তাল সারা রাজ্য। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের আগুন। মেয়েরা প্রতিবাদে সামিল হয়েছে। আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদ এবং নিজেদের সুরক্ষার দাবিতে ১৪ অগাস্ট রাতে বাংলা জুড়ে পথে নেমেছিলেন মেয়েরা। উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) মধ্যমগ্রামে ফের শুক্রবার রাতে হাতে মোমবাতি নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ সামিল হলেন মহিলারা। এদিন মধ্যমগ্রাম চৌমাথায় রাত দশটা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন অসংখ্য মা-বোনেরা।

    মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি (North 24 Parganas)

    এদিন সন্ধ্যার পর থেকেই মধ্যমগ্রাম (North 24 Parganas) ট্র্যাফিক মোড়ে ভিড় জমতে শুরু করে। রাত ৯টা থেকে মধ্যমগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রথমে তাঁদের প্রতিবাদী শিল্পকলার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন। রাত ১১টার মধ্যে গোটা এলাকা চলে যায় মেয়েদের দখলে। মোমবাতি, মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে গান, কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে সরব হয় হাজারো প্রতিবাদী কণ্ঠ। মানুষের ভিড়ে রোড কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মধ্যমগ্রাম ট্র্যাফিক মোড়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে মহিলাদের পাশাপাশি অসংখ্য যুবকের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিল থেকে একটাই দাবি ওঠে অপদার্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি তাঁরা আরও বলেন, একজনের পক্ষে কখনও এই কাজ করা সম্ভব নয়।

    আরও পড়ুন: ‘‘দুর্নীতির আতুঁড়ঘর আরজি কর, হিমশৈলের চূড়া সবে দেখা যাচ্ছে’’, তোপ বোসের

    সকল অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার দাবি

    নিহত চিকিৎসকের (North 24 Parganas) হয়ে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে প্রথম কোর্টে যিনি মামলা করেছিলেন, সেই মহিলা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্যকে এদিনের এই প্রতিবাদী সভায় দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘‘আমরাই সিবিআই চেয়ে কোর্টে মামলা করেছিলাম। আদালতের নির্দেশে সিবিআই ঘটনার তদন্ত করছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তারা যেন অবিলম্বে শাস্তি পায় এবং সব থেকে আগে চাইব যারা যারা এই ঘটনায় ধরা পড়ছে তাদের যেন ডিএনএ টেস্ট হয়। এই ঘটনাটি একদিনে হতে পারে না। আর এর সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত আছে। আইনগত দিক থেকে যতটা যা করার আমরা তা করব।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • High Court: “বিচারক নিয়োগও কি চুক্তিতে হবে?” রাজ্যের আচরণে বিস্মিত হাইকোর্টের বিচারপতি

    High Court: “বিচারক নিয়োগও কি চুক্তিতে হবে?” রাজ্যের আচরণে বিস্মিত হাইকোর্টের বিচারপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুই ২৪ পরগনার জেলা আদালতে বহু পদ শূন্য। সেখানে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে (High Court) মামলা করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল কোর্ট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। দুই জেলা আদালতে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা (Kolkata) হাইকোর্ট। বুধবার এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। কেন জেলা আদালতে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মামলার শুনানির সময় বিচারপতির মন্তব্য, “এমন চলতে থাকলে, এর পরে কি জেলা বিচারকও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হবে?”

    জেলা আদালতে পাঁচশোর বেশি শূন্যপদ (High Court)

    জানা গিয়েছে, দুই জেলা মিলিয়েই রয়েছে পাঁচশোর বেশি শূন্যপদ। উত্তর ২৪ পরগনায় ২৬৭ শূন্যপদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৫৭ শূন্যপদ। সম্প্রতি, এই দুই জেলা আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাইকোর্টের (High Court) দ্বারস্থ হয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল কোর্ট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন। আদালতে কেন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ হবে? সেই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে মামলা করে আদালত কর্মীদের সংগঠন। বুধবার সেই মামলায় অস্থায়ী নিয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেপ্টেম্বর মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা।

    আরও পড়ুন: ধর্মান্তরণ রুখতে আইন করা উচিত অন্য রাজ্যগুলোরও, বললেন ভিএইচপি কর্তা

    ১০ বছরে আদালতে কর্মী নিয়োগ হয়নি

    বুধবার মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম কলকাতা (Kolkata) আদালতে (High Court) সওয়াল করে বলেন, “সরকারের বিশেষ কিছু দফতর বা বিভাগ রয়েছে, যেখানে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা যায় না। সেই তালিকায় রয়েছে আদালতের কর্মী নিয়োগও।” এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অতীতের নির্দেশের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সাল থেকে রাজ্যের জেলা আদালতগুলিতে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়নি। ফলে প্রায় ২৫ শতাংশেরও বেশি শূন্যপদ পড়ে রয়েছে। আমার প্রশ্ন, ১০ বছর পরেও কেন জেলা আদালতে স্থায়ী নিয়োগ করতে চাইছে না রাজ্য সরকার।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ED: তৃণমূল নেতার রাইস মিলই রেশন দুর্নীতির আখড়া! বাজেয়াপ্ত খাদ্য দফতরের সিল যুক্ত নথি

    ED: তৃণমূল নেতার রাইস মিলই রেশন দুর্নীতির আখড়া! বাজেয়াপ্ত খাদ্য দফতরের সিল যুক্ত নথি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার দুই ২৪ পরগনার একাধিক জায়গায় ইডি (ED) আধিকারিকরা একসঙ্গে হানা দেন। ৪০ জনের একটি টিম বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অভিযান শুরু করে। মূলত, রেশন দুর্নীতির (Ration Scam) তদন্তেই এই অভিযান। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশের বাড়িতে দিনভর তল্লাশি চালায় ইডি। বিদেশের বাড়ি লাগোয়া রয়েছে রাইস মিল। এই মিলের মালিক বিদেশ ছাড়াও তাঁর ভাই চালকল ব্যবসায়ী আলিফ নূর মুকুল। তাঁদের ভাঙড়ে একটি রাইস মিল রয়েছে। দেগঙ্গার পাশাপাশি সেখানেও হানা দিয়েছিল ইডি।

    দেগঙ্গার রাইস মিল থেকে কী মিলল? (ED)

    মঙ্গলবার তৃণমূল নেতার বাড়ির পাশাপাশি তাঁর রাইস মিলে হানা দেওয়ার সময় সেখানে লাইন দিয়ে খাদ্য দফতরের ট্রাক নজরে পড়ে ইডি (ED) আধিকারিকদের। ফলে, খাদ্য দফতরের সঙ্গে এই রাইস মিলের যোগ রয়েছে তা তদন্তকারী আধিকারিকরা আঁচ করেছিলেন।  রাইস মিলের কর্মীরাও খাদ্য দফতরে চাল সরবরাহ করার কথা স্বীকার করে নেন। ফলে, ইডি আধিকারিকরা কড়া নজরদারির মধ্যে দিয়ে রাইস মিলে তল্লাশি অভিযান চালান। সূত্রের খবর, বিদেশ ও মুকুলের বাড়ি লাগোয়া রাইস মিল থেকে উদ্ধার হয় রাজ্য সরকারের খাদ্য দফতরের সিল যুক্ত নথি। উদ্ধার হয় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ বাকিবুর রহমানের চালকলের নথিও। মুকুল ও বিদেশ হলেন বাকিবুরের মামাতো ভাই। কীভাবে খাদ্য দফতরের নথি বিদেশের চালকলে? তাহলে কি রেশন দুর্নীতির (Ration Scam) আখড়া ছিল তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বিদেশের রাইস মিল? উঠছে প্রশ্ন। মঙ্গলবারই দেগঙ্গা ব্লকের বেড়াচাপায় পিজি হাইটেক রাইস মিলে অভিযান চালায় ইডি। এই মিলেরই মালিক মুকুল ও বিদেশ। ইডি সূত্রে খবর, এই দুই ভাইয়ের চালকল ছাড়াও আবাসিক মিশন রয়েছে। এছাড়া বি.এড, ডিএল এড কলেজ রয়েছে।

    আরও পড়ুন: জ্যোতিপ্রিয় ঘনিষ্ঠ বারিকের রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে ২০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি

    ইডি (ED) আধিকারিকরা বেরিয়ে যাওয়ার পর তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, “ইডি যা যা নথি চেয়েছে সবটাই দিয়েছি। দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক, বাংলার দায়িত্বশীল নাগরিক ও তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্বশীল কর্মী হিসাবে বলতে পারি যখন যখন যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে আমরা করব। একটা মোবাইল নিয়ে গিয়েছে। কিছুই পায়নি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ED: জ্যোতিপ্রিয় ঘনিষ্ঠ বারিকের রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে ২০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    ED: জ্যোতিপ্রিয় ঘনিষ্ঠ বারিকের রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে ২০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ আব্দুল বারিক বিশ্বাসের ডেরায় হানা দেয় ইডি (ED)। বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তাঁর উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) বসিরহাটের সংগ্রামপুরের বাড়ি এবং রাজারহাটে ফ্ল্যাটে সাত সকালে হাজির হন ইডি আধিকারিকরা। দিনভর চলে তল্লাশি অভিযান। আর তাঁর বাড়়ি থেকে ইডি আধিকারিকরা কী কী বাজেয়াপ্ত করেছেন তা নিয়ে রাজ্যবাসীর বাড়তি আগ্রহ ছিল।

    রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে কী মিলল? (ED)

    মঙ্গলবার ভোরে বসিরহাটের সংগ্রামপুরে বারিকের বাড়িতে ইডি (ED)  আধিকারিকরা আসেন। বেলা ২টো ২০ মিনিট নাগাদ বেরিয়ে যান তাঁরা। বারিকের রাইসমিলে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট অভিযান চালানোর পর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ বেরিয়ে যান ইডি আধিকারিকেরা। ইডি সূত্রে খবর, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে বারিকের বসিরহাটের বাড়ি এবং রাজারহাটের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে মঙ্গলবার প্রায় ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে ইডি। ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৯ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর বেরিয়ে যান ইডির আধিকারিকেরা।

    আরও পড়ুন: টোকিও-র পর গীতাই ছিল আশ্রয়, খেলার সঙ্গে পড়াশোনাতেও উজ্জ্বল মনু

    ট্রাক চালক থেকে কোটিপতি!

    স্থানীয় সূত্রের দাবি, এক সময় বারিক ছিলেন ট্রাকচালক। হতদরিদ্র পরিবার। পাচারচক্রে হাত পাকানোর পর তাঁর হাতে কোটি কোটি টাকা আসে। এরপরই প্রতিবেশীদের কাছে থেকে ৫ কাঠা জায়গা কিনে সংগ্রামপুরে (North 24 Parganas) অট্টালিকা তৈরি করেন। সিসি ক্যামেরা মোড়া তাঁর বাড়ি রাজপ্রাসাদকে হার মানাবে। বারিকের বিরুদ্ধে সোনা পাচারেরও অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৫ সালে প্রচুর সোনা-সহ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল শুল্ক দফতর। কয়েক বছরের জন্য জেলেও গিয়েছিলেন। পরে, জামিনে মুক্তি পান। সূত্রের খবর, জেল থেকে বেরিয়ে পাচারের বদলে একাধিক ব্যবসা শুরু করেন বারিক। ইটভাটা, কয়লা, ট্রাকের ব্যবসা শুরু করেন। ওই সূত্রের দাবি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও চালু করেন তিনি। এর পর ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায় বারিকের। অভিযোগ, সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা- সমাবেশে নেতাদের সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সূত্রের দাবি, সেই সময়ে জ্যোতিপ্রিয়ের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’ তৈরি হয় বারিকের।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • ED: জ্যোতিপ্রিয়-ঘনিষ্ঠ বারিক ট্রাকচালক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! উল্কার গতিতে উত্থান কোন পথে?

    ED: জ্যোতিপ্রিয়-ঘনিষ্ঠ বারিক ট্রাকচালক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক! উল্কার গতিতে উত্থান কোন পথে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে আব্দুল বারিক বিশ্বাসের উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) বসিরহাটের সংগ্রামপুরের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি (ED)। সন্দেশখালি, বনগাঁর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর শতাধিক জওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে বারিকের ডেরায় যায় ইডির তদন্তকারী দল। মঙ্গলবার সংগ্রামপুরে বারিকের বাড়ি লাগোয়াই রয়েছে তাঁর চালকল। সেখানেও তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসাররা। পাশাপাশি তল্লাশি চালায় তাঁর কারখানা ও নিউটাউনের ফ্ল্যাটে।

    কে এই আব্দুল বারিক বিশ্বাস? (ED)

    ট্রাক চালক থেকে কোটিপতি! স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারিকের উত্থান অনেকটাই সিনেমার গল্পের মতো। বর্তমানে পেশায় কোটিপতি ব্যবসায়ী বারিক এককালে ছিলেন ট্রাকচালক। সেই সময় গরু পাচারের কাজে ব্যবহৃত হত বসিরহাটের একাধিক ‘করিডর’। বসিরহাটের স্বরূপনগর থেকে শুরু করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে চলত পাচারের কারবার। সূত্রের খবর, ট্রাক চালানোর সুবাদেই পাচারকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল তাঁর। কোথা থেকে গরু আনা হত, কোথা থেকে সীমান্ত পার করতে হত, বাংলাদেশে কারা সেই গরু কিনতেন, সীমান্তে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হত এই কারবারের সঙ্গে, সে সব তথ্যও জেনে নিয়েছিলেন। এ ভাবেই ধীরে ধীরে নিজের পরিধি বর্ধিত করতে শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর শুরু করেন নিজের ‘সাম্রাজ্য’ তৈরির প্রস্তুতি। শোনা যায়, এক সময়ে শুধু বসিরহাট বা বনগাঁ এলাকাতেই নয়, গোটা রাজ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকায় পাচারের কারবারে অন্যতম বড় নাম হয়ে ওঠে আব্দুল বারিক।

    আরও পড়ুন: টয়োটা ফরচুনার, পাজেরো, জিপ কম্পাস, মারুতি জেন, তৃণমূল ব্লক সভাপতির গ্যারাজ যেন শো-রুম

    সোনাপাচারে জেলও খেটেছেন

    রেশন দুর্নীতিতে ইডি (ED) হানার আগে সোনা পাচারের অভিযোগ ছিল বারিকের বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালে প্রচুর সোনা-সহ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল শুল্ক দফতর। কয়েক বছরের জন্য জেলেও গিয়েছিলেন। পরে, অবশ্য জামিনে মুক্তি পান। জেল থেকে মুক্তির পর অবশ্য ‘ভাবমূর্তি’-তে কিছুটা বদল আনার চেষ্টা করেন তিনি। পাচারের কারবারের বদলে শুরু করেন একাধিক ব্যবসা। ইট ভাটা, কয়লা, ট্রাকের ব্যবসা শুরু করেন। এমনকী বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও চালু করেন। এরপর ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বারিকের। বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে, নেতাদের সঙ্গে দেখা যেতে থাকে তাঁকে। সূত্রের দাবি, সেই সময়েই জ্যোতিপ্রিয়ের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’ তৈরি হয় বারিকের।

    বারিককে গুরু মানতেন এনামূল

    মুর্শিদাবাদের এনামূল হক জেরায় স্বীকার করেছিলেন, বারিকের হাত ধরেই তিনি গরু পাচার শুরু করেন। গরুর সঙ্গে সোনা পাচারেও হাত পাকানোর অভিযোগ রয়েছে বারিকের নামে। প্রতি ১০ গ্রাম সোনা বাংলাদেশ থেকে সীমান্তের এই পারে এনে দিলেই মুনাফা ৪ হাজার টাকা! সোনা পাচার মামলায় ইডি (ED) গ্রেফতার করেছিল বারিককে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ২০১৫ সালে ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ইডি।

    জ্যোতিপ্রিয় মদতেই রমরমা বারিকের!

    সারদা চিটফান্ড মামলায় বারিকের নাম উঠে আসে। বারিকের মাধ্যমে চিটফান্ডের টাকা পাচার হয়েছে বলে ইঙ্গিত মেলে। ওই সময় বারিক জামিন পাওয়ার পর দীর্ঘদিন লোক চক্ষুর আড়ালে চলে যান। এরপরই ধীরে ধীরে রাইস মিল থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করেন বারিক। আগাগোড়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বারিককে মদত দেন বলে অভিযোগ। ২০২১ সালে ফের বারিকের নাম উঠে আসে সিবিআইয়ের হাত ধরে। গরুপাচার মামলার তদন্তে উঠে আসে বারিকের নাম। এক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বারিক বিশ্বাসের দাদা গোলাম উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas) জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। ২০১৮ সালে গোলামের স্ত্রী নির্বাচনে জেলা পরিষদের টিকিট পান। গোলামের স্ত্রী সাফিজা বেগম এখনও তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য।

    রেশন দুর্নীতির টাকা বিনিয়োগ!

    বারিক বিশ্বাস সোনা পাচারে গ্রেফতার হওয়ার পর জামিন পেয়ে রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে ইটভাটা এবং অ্যাগ্রো প্রোডাক্টের ব্যবসা শুরু করেন। কলকাতা, নিউটাউন, রাজারহাট, বসিরহাট এলাকায় প্রচুর সম্পত্তিও কেনা হয়েছে। ওই কোম্পানিরগুলির আড়ালেই বারিক বেআইনি পাচার ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ। রেশন দুর্নীতির টাকাও এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে বিনিয়োগ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে ইডি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • North 24 Parganas: পাঁচ বছর ধরে পড়ে পড়েই নষ্ট ৪০ লক্ষের লঞ্চ, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    North 24 Parganas: পাঁচ বছর ধরে পড়ে পড়েই নষ্ট ৪০ লক্ষের লঞ্চ, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাত্রীদের পারাপারে সুরক্ষা দিতেই উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) হিঙ্গলগঞ্জে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছিল লঞ্চ। কিন্তু, যাত্রী পরিষেবায় তা ব্যবহার করা হয়নি। গত পাঁচ বছর ধরেই সেই লঞ্চ পড়ে পড়ে নষ্ট হতে বসেছে। সরকারি অর্থের এমন ‘অপচয়’ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা তৃণমূল (Trinamool Congress) সরকারকে তুলোধনা করেছেন। তৃণমূল সরকারের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও।

    ৪০ লক্ষ টাকা জলে! (North 24 Parganas)

    হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের (North 24 Parganas) নেবুখালি ও দুলদুলি জেটিঘাটের মধ্যে যাত্রী পারাপারের জন্য লঞ্চ পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নৌকো করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার বন্ধ করার কথা ভাবা হয়েছিল। সেই মতো ২০১৯ সালের শেষ দিকে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে একটি লঞ্চ পাঠানো হয় হিঙ্গলগঞ্জে। কিন্তু, পাঁচ বছর হতে চলল এক দিনও ওই লঞ্চ যাত্রী পারাপারের কাজে লাগানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসের পাশের খালে রাখা রয়েছে লঞ্চটি। সেখানে পড়ে থেকে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে লঞ্চটি। লঞ্চের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে গিয়েছে। নদীতে জোয়ার হলে অর্ধেকের বেশি অংশ জলে ডুবে থাকে। ভাঙাচোরা লঞ্চের ভিতরে পলি জমে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই ভাবে ৪০ লক্ষ টাকা জলে দেওয়ার কোনও মানে হয় না। এই লঞ্চ যখন কাজে লাগল না, তখন অন্য এলাকার জন্য বরাদ্দ করে দেওয়া দরকার ছিল। তাহলে আর ৪০ লক্ষ টাকা জলে যেত না।

    আরও পড়ুন: জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে অভিযান সেনার, জখম এক জওয়ান

    তৃণমূল নেতা কী সাফাই দিলেন?

    লঞ্চ যখন আনা হয়, সে সময়ে হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সহ সভাপতি ছিলেন সুদীপ মণ্ডল। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, “দুলদুলির দিকে ভাসমান জেটিঘাট থাকলেও নেবুখালির দিকে ভাসমান জেটিঘাট আজও হয়নি। এই লঞ্চ ভাসমান জেটিঘাট ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। তাই রক্ষণাবেক্ষণ করাও সম্ভব হয়নি।”

    বিজেপি নেতৃত্ব কী বললেন?

    বিজেপি নেতা গোবিন্দ অধিকারী বলেন, “তৃণমূল (Trinamool Congress) দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও ব্যক্তিস্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না। লঞ্চ হলে নেবুখালি-দুলদুলির মধ্যে নদী পারাপার অনেক বেশি আরামপ্রদ ও নিরাপদ হত। কিন্তু এই সরকার সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের কথা ভাবে না। সরকারি সম্পত্তি যারা নষ্ট করল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share