Tag: Nuclear energy

  • India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হল ভারত ও পোল্যান্ড। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পোল্যান্ডের (India Poland) প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমান স্তর থেকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে জোর দেওয়া হয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ২০২৪ সালে মোদির পোল্যান্ড সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পায়। গত ৪৫ বছরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটিই ছিল প্রথম পোল্যান্ড সফর। বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা হয়ে উঠেছে দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ড ইউরোপের বৃহত্তম সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। দেশটি তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে।

    ‘চমৎকার’ আলোচনা (India Poland)

    টাস্কের সঙ্গে আলোচনাকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পোল্যান্ড স্বাগত জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় আধিকারিকরা।

    টাস্কের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “আজ আমরা প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছি। এই সমস্ত কৌশলগত ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদনের জন্য আমরা পোল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে টাস্ক বলেন, “রাজনৈতিক হুমকি সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সচেতন। খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব স্বাধীন হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তাও আমরা বুঝি, যাতে পোল্যান্ড ও ভারত এই ক্ষেত্রগুলিতে আত্মনির্ভর হতে পারে।”

    কী বললেন মোদি

    মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের সময়ে ভারত এবং পোল্যান্ড, দুই দেশই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, “গত বছর পোল্যান্ডের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঐতিহাসিকভাবে এক লাখ কোটি মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আর, গত ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ।”

    প্রস্তাবিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তি পোল্যান্ডে যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, প্লাস্টিক এবং প্রকৌশলজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে রেল, পরিবহণ ব্যবস্থা, উন্নত উৎপাদন শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে পোল্যান্ডের কাছ থেকে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে ভারত।

    টাস্কের সঙ্গে প্রায় ১০০টি পোলিশ সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল ভারতে এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে এই প্রতিনিধিদল গুরুত্ব দেবে বলেও জানান মোদি।

    নয়া অংশীদারিত্ব

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং পোল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ নয়া অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘প্রারম্ভিক উদ্যোগ সেতু’ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    পোল্যান্ডের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত দু’টি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেবে। প্রতিরক্ষা, কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধশিল্প, খনি, প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই এই সম্মেলনগুলির লক্ষ্য। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। পোল্যান্ডে ভারতীয় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে (India Poland)।

    টাস্ক বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত বা এমন কোনও ঐতিহাসিক সমস্যা নেই, যা তাদের বিভক্ত করতে পারে। সেই কারণেই উভয় দেশ সহজেই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদির ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘আশার আলোকবর্তিকা’ বলেও উল্লেখ করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

    টাস্কের বক্তব্য

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে টাস্ক বলেন, “সম্প্রতি আমাদের ড্রোনগুলি অত্যন্ত কার্যকর ছিল। আমি নিশ্চিত, উপগ্রহ ও ড্রোনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংকটের সময় আমাদের দেশগুলিকে সাহায্য করেছে।”

    গত বছর কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভারত পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সময় ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত পোলিশ ড্রোনের দিকেই টাস্ক ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পোল্যান্ডের ডব্লিউবি গোষ্ঠী ২০২২ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ১০০টি ‘ওয়ারমেট’ আত্মঘাতী ড্রোন সরবরাহ করেছিল। চলতি বছরের গোড়ায় পোল্যান্ডের আধিকারিকরা জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও তিনটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের কারণে পোল্যান্ডের নিজস্ব মজুত কমেছে। সেই মজুত পূরণ করতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আগ্রহী ওয়ারশ। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে পোল্যান্ডের কয়েকটি সংস্থার উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে নিরাপদে তথ্য আদানপ্রদানের বিষয়ে একটি চুক্তিও চূড়ান্ত করছে নয়াদিল্লি এবং ওয়ারশ।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ গোপনীয় তথ্যের পারস্পরিক সুরক্ষা ও আদানপ্রদান নিয়ে একটি চুক্তি তৈরির কাজ করছে। প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার ভিত্তিতে এই চুক্তি গড়ে উঠবে বলেই আশা।

    যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি ও উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারস্পরিক আস্থা এবং তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যবস্থা জরুরি বলেও জানান তিনি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে একটি সংলাপ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত একটি পৃথক আলোচনা চালু করতেও সম্মত হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ এবং জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার অতিরিক্ত কাঠামো তৈরি (India Poland) করেছে বলেও জানান জর্জ।

    শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারতের করণীয়

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে যাবে।” রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে পোল্যান্ড ‘অত্যন্ত প্রশংসা’ করেছে বলে জানান জর্জ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনে মোদি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে ‘যুদ্ধের অবসানের’ দিকে এগোনোর যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি রফতানি এবং পরস্পরের উপর আক্রমণ না করার সম্ভাবনা নিয়েও ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব ভাগ করে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব

    দুই দেশের নেতাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জামনগর ও কোলহাপুরের রাজপরিবার হাজার হাজার পোলিশ শিশু ও পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন থেকে হাজার হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে সরিয়ে আনতেও পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সহায়তা করেছিলেন। বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ জনই পড়ুয়া।

    প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং বাণিজ্য—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভারত-পোল্যান্ড সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দিতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এখন বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে (India Poland) বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • PM Modi: ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে পারমেলিন

    PM Modi: ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে পারমেলিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সুইজারল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বিনিময়, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত (Trade AI Defence Cooperation) ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে দুই নেতা শান্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।

    কী বললেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র (PM Modi)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হায়দরাবাদ হাউসে সুইস প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। দুই নেতা ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের সামগ্রিক দিক পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বিনিময় ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।”

    তিনি আরও জানান, “ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, দুই নেতা তা উল্লেখ করেন এবং উদ্ভাবননির্ভর অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।”

    বৈঠকে পরিবহণ, যাতায়াত ও পরিকাঠামো, অভিবাসন ও চলাচল এবং তরুণ পেশাজীবীদের নিয়ে নতুন কয়েকটি চুক্তির বিষয় উঠে আসে। স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণার নতুন উদ্যোগ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত ও সুইজারল্যান্ড।

    বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি, বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিষয়ক সচিব সিবি জর্জ-সহ অন্যান্য আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট পারমেলিন পরস্পরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এর আগে সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে পারমেলিনকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    সুইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই সফর ভারত ও সুইজারল্যান্ড উভয় দেশ এই সম্পর্ককে যে গুরুত্ব দেয়, তা তুলে ধরার একটি চমৎকার সুযোগ।”

    ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের ভিত্তি যে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের উপর গড়ে উঠেছে, তাও (PM Modi) উল্লেখ করেন তিনি।

    পারমেলিন বলেন, “আমার এই সফর আমাদের ঘনিষ্ঠ, বিস্তৃত এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও বৃদ্ধি, গভীর ও শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত।”

    তিনি আরও বলেন, “বিশেষভাবে আমি আনন্দিত যে, ভারতে আমার এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের সুযোগ হচ্ছে।”

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সোমবার ভারতে আসেন গাই পারমেলিন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভারত-সুইজারল্যান্ড সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে পারমেলিনের এটি (Trade AI Defence Cooperation) ভারতে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। তবে চলতি বছর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতে এলেন তিনি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব সম্মেলনে যোগ দিতে (PM Modi) ভারতে এসেছিলেন সুইস প্রেসিডেন্ট।

     

  • India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানালেন মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছে। এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের সহকারী সচিব এস পল কাপুর। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনে ভারতকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব কন্ডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মালফোর্ড।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালী করছে, যা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করছি। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী বিশ্বস্ত AI (Trusted AI) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির গ্রহণ ও উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করছি।’’

    কেন গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা?

    ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহী। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতে এসে বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এই আগ্রহ আরও বেড়েছে, কারণ ভারত সম্প্রতি ‘শান্তি’ (SHANTI) আইন প্রণয়ন করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা (Liability) সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য ভারতীয় বাজারে কাজ করার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আরও অনুকূল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্ত ভিতের উপর

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কাঠামোতে স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য স্থল, নৌ, বায়ু, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) বৃদ্ধি করা। ২০০২ সালের পর থেকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একাধিক অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার
    • ● চিনুক হেভি-লিফট হেলিকপ্টার
    • ● সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমান
    • ● সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস
    • ● পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি বিমান
    • ● এম-৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার

    এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।

    এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন সমীকরণ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি আগামী দিনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তারা ভারতের সঙ্গে বিশ্বস্ত এআই-এর মতো ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। এর লক্ষ্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে ভারতীয় সফটওয়্যার দক্ষতা এবং মার্কিন প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব একত্রিত হলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ছে

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, এআই এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ভাগাভাগি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

  • Kazakhstan: কাজাখস্তান থেকে আসছে বিপুল ইউরেনিয়াম, ৩৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করল ভারত

    Kazakhstan: কাজাখস্তান থেকে আসছে বিপুল ইউরেনিয়াম, ৩৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যময় করতে কাজাখস্তানের (Kazakhstan) ইউরেনিয়াম জায়ান্ট কাজাটমপ্রমের সঙ্গে (Uranium Procurement Deal) একটি বড় ইউরেনিয়াম কেনার চুক্তিতে সই করল ভারত। ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের এই চুক্তি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ইউরেনিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থা। এই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি অংশীদারিত্বগুলির একটি হিসেবেই একে দেখা হচ্ছে।

    বৈশ্বিক পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্য (Kazakhstan)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির প্রভাব শুধু অসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি বৈশ্বিক পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্য এবং কৌশলগত জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে। চুক্তিটির পরিসর এতটাই বড় যে, অনুমোদন পেতে কাজাটমপ্রমকে একটি ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিং’ করতে হয়েছিল। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজাটমপ্রমের ৯২.৯ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার এর পক্ষে ভোট দেওয়ার পর চূড়ান্ত হয় চুক্তি। জানা গিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম কনসেন্ট্রেট (U₃O₈) ভারতের পারমাণবিক শক্তি বিভাগের অধীন ডিরেক্টরেট অফ পারচেজ অ্যান্ড স্টোর্সে সরবরাহ করা হবে। এই ব্যবস্থা ভারতের সম্প্রসারিত রিঅ্যাক্টর বহরের জন্য আগামী বহু বছর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

    ভারতের লাভ

    দীর্ঘমেয়াদে ভারত ও কাজাখস্তান উভয় দেশই এই চুক্তিতে উপকৃত হবে। ভারতের ক্ষেত্রে, ইউরেনিয়ামের ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সাহায্য করবে, বিশেষ করে যখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ভূ-রাজনীতি অস্থির অবস্থায় রয়েছে (Kazakhstan)। এদিকে, কাজাখস্তান এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটিকে সার্বভৌম পারমাণবিক ক্রেতা হিসেবে নিশ্চিত করেছে। এর পাশাপাশি, এটি বিশ্ব ইউরেনিয়াম সরবরাহে কাজাখস্তানের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করেছে, কারণ বিশ্ব খনি উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে ৪৩ শতাংশ ইউরেনিয়াম তাদের থেকেই আসে। চুক্তিটির বিশাল পরিসরের কারণে খোলা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হবে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে উৎসাহিত করবে, যা দ্রুত স্পট-মার্কেট নির্ভরতার বদলে জায়গা করে নিচ্ছে।

    সঙ্কটকালেও মিলবে ইউরেনিয়াম

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে কাজাটমপ্রমের উৎপাদন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ভারতের জন্য সংরক্ষিত হবে। এর ফলে বৈশ্বিক ইউরেনিয়াম সঙ্কটের সময়ও সরবরাহ অব্যাহত থাকবে ভারতে। এতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারত (Kazakhstan) বিরাট লাভ করবে। কাজাটমপ্রম ২০২৫ সালে ২৫,৮৩৯ টন ইউরেনিয়াম উৎপাদন করেছে। ২০২৬ সালের জন্য ২৭,৫০০ থেকে ২৯,০০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ (Uranium Procurement Deal) করেছে। বর্তমানে ভারতে ২৪টি কার্যকর পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার মোট ক্ষমতা ৮ থেকে ১০ গিগাওয়াট। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে এটি ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ২২.৫ গিগাওয়াট ক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • India South Korea: ভারতের সঙ্গে এআই-সহ ১৫টি ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করল দক্ষিণ কোরিয়া

    India South Korea: ভারতের সঙ্গে এআই-সহ ১৫টি ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করল দক্ষিণ কোরিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জেই মাইয়াং (India South Korea)। সোমবার তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য একটি রূপরেখাও তুলে ধরেন।

    ১৫টি চুক্তিতে স্বাক্ষর (India South Korea)

    ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া মোট ১৫টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জাহাজ নির্মাণ এবং এআই (AI)-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এই চুক্তিগুলি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য মন্ত্রিস্তরের একটি শিল্প সহযোগিতা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “বর্তমানে বার্ষিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যকে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চাই।” দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “এখন এই বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন এক দশকে প্রবেশ করছে।” দুই নেতা বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন।

    ভারত ‘গ্লোবাল সাউথে’র নেতা

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভারতকে ‘গ্লোবাল সাউথে’র নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন (India South Korea)। “বিকশিত ভারত ২০৪৭” ভিশনের অধীনে দেশের দ্রুত উন্নয়নের প্রশংসাও করেন তিনি। অভ্যর্থনার জন্য ভারতকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমায় এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই (India South Korea)।” প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি দেশ। আট বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”

    প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    তিনি বলেন, “আমরা একটি শিল্প সহযোগিতা কমিটি গঠন করব, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রথম মন্ত্রিস্তরের প্ল্যাটফর্ম হবে।” এই কমিটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সম্পর্ক শক্তিশালী করার ওপর জোর দেবে (India South Korea)। প্রেসিডেন্ট লি এও বলেন, “আমরা গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন— গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পারমাণবিক শক্তি এবং ক্লিয়ার এনার্জিতে সহযোগিতা বাড়াব।” এই খাতগুলি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মজবুত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জ্বালানি নিরাপত্তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জ্বালানি সম্পদ ও ন্যাফথার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”

    প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সিইপিএ (CEPA) চুক্তি আপগ্রেড করার আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজি হয়েছি, যাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় (India South Korea)।” ছোট ও মাঝারি ব্যবসার সহায়তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ (India South Korea) দিক। তিনি বলেন, “আমরা এসএমই খাতে সহযোগিতার জন্য এমওইউ সংশোধন করব।” বক্তৃতার একেবারে শেষে তিনি আবারও বলেন, “এই সব প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চাই (India South Korea)।”

     

LinkedIn
Share