Tag: OBC Reservation

  • Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে চালু হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। ২০১০ সালের পর জারি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের ফলে ২০১০ সালের পর জারি হওয়া সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রগুলির বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০২৪ সালের রায়েও হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং সেই সময়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের মূল নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি।

    সংরক্ষণ নিয়ে সমস্যায় চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা (Calcutta High Court)

    এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের উপর। বিশেষ করে যাঁরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ বা ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্রের ভিত্তিতে চাকরি, নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের সামনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে আগের রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছিল, ইতিমধ্যে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন বা চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশের প্রভাব পড়বে না।

    ২০১০ সালের পর থেকেই বিতর্ক

    ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাকে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা তৈরি এবং তার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া প্রায় ১২ লক্ষ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই শংসাপত্রগুলি যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে আইনি জট আরও জটিল হয়ে ওঠে (Calcutta High Court)।

    নতুন তালিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এর পর রাজ্য সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় পরিবর্তন আনে। ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির তালিকায়ও রদবদল করা হয়। কিন্তু নতুন তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, সীমিত সংখ্যক মানুষের নমুনার ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে বহু জনগোষ্ঠীকে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকা নিয়েও আদালতে মামলা হয় এবং বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    বদলাতে চলেছে সংরক্ষণ কাঠামো

    সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণির ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা এত দিন চলছিল, আদালতের নির্দেশে তার আইনি ভিত্তি নতুন করে (OBC) প্রশ্নের মুখে পড়ল। ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকার কীভাবে নতুন সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করে এবং বর্তমানে সংরক্ষণের আওতায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার (Calcutta High Court)।

     

  • OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগোল শুভেন্দুর সরকার। সোমবার বিধানসভায় ওবিসি সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ভোটাভুটিতে বিল দুটির পক্ষে ১৮৬ জন বিধায়ক সমর্থন জানান, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ছ’জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। প্রথমে ধ্বনিভোটে বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির দাবি জানান। সেই আবেদন গ্রহণ করেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার পর কক্ষত্যাগ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিধায়কেরা।

    দুটি সংশোধনী বিল পেশ

    অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এদিন দুটি সংশোধনী বিল পেশ করেন। বিল দুটি হল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী অভিযোগ করেন, আগের সরকার রাজনৈতিক ও ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ওবিসি তালিকা সম্প্রসারণ করেছিল। তাঁর দাবি, প্রকৃত সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনাই তখন বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

    নতুন সংশোধনীতে কী বলা হয়েছে?

    নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যাটেগরি ‘এ’-এর আওতায় থাকা ৬৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকা বহাল থাকছে। তবে ২০১২ সালের আইনে যুক্ত হওয়া ক্যাটেগরি ‘বি’-এর ৭৮টি জনগোষ্ঠী-সংবলিত তফসিল আইন থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ওবিসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা, বাদ দেওয়া বা শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সাধারণ নাগরিকদের জন্যেও নতুন সুযোগ

    সংশোধিত আইনে আরও বলা হয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণের হার নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার, তবে তা করতে হবে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণের শতাংশ পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যদিও মোট সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে অনগ্রসরতার মাত্রা অনুযায়ী ওবিসি সম্প্রদায়গুলিকে পৃথক বিভাগে ভাগ করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত সংশোধনীতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার আবেদন, অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অভিযোগ— সবই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া যাবে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে।

    কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল

    আইন সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল রাখা হয়েছে। তবে সদস্য-সচিব, যিনি রাজ্য সরকারের কর্মরত আধিকারিক, তাঁর দায়িত্বকাল কতদিন হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতেই থাকবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে ওঠে রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশের পর। বামফ্রন্ট আমলে অনগ্রসরতার ভিত্তিতে ক্যাটেগরি ‘এ’ ও ‘বি’— এই দুই ভাগে সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে তৎকালীন সরকার সেই আইনে সংশোধন এনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পৃথক তালিকা যুক্ত করে। সদ্য পাশ হওয়া সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সেই কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হল।

LinkedIn
Share