Tag: Oil imports

  • Russian Oil Imports: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জের, জ্বালানি কৌশলে পরিবর্তন আনছে ভারত

    Russian Oil Imports: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জের, জ্বালানি কৌশলে পরিবর্তন আনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্রুত পরিবর্তন আসছে ভারতের জ্বালানি কৌশলে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের (Middle East War) জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল (Russian Oil Imports) কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বিকল্প উৎসের সন্ধানে (Russian Oil Imports)

    উপসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের চালান আসতে দেরি হচ্ছে। সেই কারণেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রুড তেল আমদানিকারী দেশ ভারত এখন তার বিশাল চাহিদা পূরণ এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে মার্চ মাসে ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যাপক বেড়েছে। আগের মাসের তুলনায় আমদানির পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ভারত প্রতিদিন প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনেছে। ফেব্রুয়ারিতে এর পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ১.০৪ মিলিয়ন ব্যারেল।

    রুশ তেল কেনার পরিমাণ বাড়াল ভারত

    রুশ তেল কেনার এই পরিমাণ বৃদ্ধি এমন একটা সময়ে হয়েছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ৩০ দিনের একটি ছাড় দিয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনতে পারে। এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভারত-সহ বড় আমদানিকারী দেশগুলিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত সরবরাহ সঙ্কট মোকাবিলায় সাহায্য করতে (Russian Oil Imports)। ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল খরচ করে, যার প্রায় ৮৮ শতাংশই আসে আমদানির মাধ্যমে। এই সরবরাহের বড় অংশই সাধারণত আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সৌদি আরব, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে (Middle East War)। তবে এই তেলবাহী জাহাজগুলির বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই প্রণালী আদতে একটি সংকীর্ণ জলপথ। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালীই হয়ে উঠছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    সাধারণত ভারতের জ্বালানি আমদানির একটা বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। প্রতিদিন ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল এই পথে আসে ভারতে। এই পথ দিয়ে ভারতে আসে রান্নার গ্যাসের (LPG) প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-এর প্রায় ৩০ শতাংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন এবং গৃহস্থালির রান্নার জন্য এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়া বলেন, “মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল আমদানির কথা ছিল ভারতের। একই সময়ে রাশিয়া থেকে তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Russian Oil Imports)।” তিনি বলেন, “জাহাজ ট্র্যাকিং ও বাজার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ক্রুড ওয়েল আমদানির পরিমাণ প্রতিদিন পৌঁছতে পারে ১ থেকে ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল। ফলে হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে যে ঘাটতি তৈরি হতে পারত, তা কমে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিনে নেমে এসেছে (Middle East War)।

    বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

    যদিও ক্রুড ওয়েল সরবরাহ বিভিন্ন উৎস থেকে আংশিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব, তবুও বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা- যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে অশান্তি অব্যাহত থাকে, তাহলে এলপিজি সরবরাহের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে (Russian Oil Imports)। ভারত প্রতিদিন প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেল এলপিজি ব্যবহার করে। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মোট চাহিদার মাত্র ৪০–৪৫ শতাংশ পূরণ করে। বাকি ৫৫–৬০ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যার অধিকাংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে।রিটোলিয়ার মতে, ভারতের ৮০–৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তাই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভারত প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল এলপিজি ব্যবহার করে, যার মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল আমদানি করা হয় (Middle East War)।

     

  • Marco Rubio: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মার্কো রুবিও-র, বিরোধীদের থোঁতা মুখ হল ভোঁতা

    Marco Rubio: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মার্কো রুবিও-র, বিরোধীদের থোঁতা মুখ হল ভোঁতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত শুধু এই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ আর বাড়াবে না। তেল কেনা বন্ধ হবে এমন কোনও প্রতিশ্রুতি নয়াদিল্লির তরফে দেওয়া হয়নি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে।” মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর এহেন মন্তব্য ভারত- রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তাতে আরও ইন্ধন জোগাল বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    কী বললেন রুবিও (Marco Rubio)

    রুবিও বলেন, “ভারত শুধু এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ বাড়াবে না।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নয়াদিল্লি মস্কো থেকে সম্পূর্ণভাবে তেল কেনা বন্ধ করার কোনও প্রতিশ্রুতিই দেয়নি। এমন কিছু নেই-ও ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে। তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি সেই রাজনৈতিক দাবিগুলির দাবিকেই খণ্ডন করে, যেখানে বলা হচ্ছিল যে মার্কিন চাপের মুখে ভারত পুরোপুরি রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুবিও বলেন, “ওয়াশিংটন ভারতের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি পেয়েছে যে তারা অতিরিক্ত রুশ তেল কিনবে না। এখানে মূল শব্দটি হল “অতিরিক্ত”।

    তেল আমদানি চালিয়ে যাবে ভারত

    এর অর্থ, ভারত বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল হারে তেল আমদানি চালিয়ে যাবে, তবে এর বেশি বাড়াবে না। রুবিও এরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ইউক্রেনকে সমর্থন জানানো অব্যাহত রাখলেও, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং চাপ – উভয়ই থাকবে।” এই সম্মেলনেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারতের জ্বালানি নীতি নির্ধারিত হয় মূল্য, সরবরাহের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, বাইরের কোনও চাপের ভিত্তিতে নয়।” তিনি বলেন, “ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনুসরণ করে, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ মাথায় রেখে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে ভারত রুশ তেলের ওপর কোনও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা মেনে নেয়নি।

    কংগ্রেসের সমালোচনা

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল নিরন্তর মোদি সরকারের সমালোচনা করে চলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে ভারত কোথা থেকে তেল কিনবে।” তাঁর দাবি, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন।” কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশও বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, “সংসদকে কি জানানো হয়েছে যে সরকার রুশ তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?” এই মন্তব্যগুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের একাংশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এমন ধারণা তৈরি হয় যে ভারত রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেছে। রুবিওর ব্যাখ্যা এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এমন কোনও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় ভারত রাজি হয়নি।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে, যার ৮০–৮৫ শতাংশই আমদানি-নির্ভর। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া সস্তায় তেল সরবরাহ করেছে, যা অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ২০–৩০ মার্কিন ডলার কম ছিল। এর ফলে ভারত জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে, মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ভারতে রুশ তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২০.৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমলেও তা বাজারদর পরিবর্তন ও সরবরাহের বহুমুখীকরণের কারণে, রাজনৈতিক চাপে নয়। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। তবে অতিনির্ভরতা এড়াতে ভারত মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকেও আমদানি বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় ফেরার পর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। তাঁর প্রশাসন ২০২৫ সালের অগাস্টে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়িয়েছিল, যা অনেকেই ভারতের রুশ তেল নির্ভরতা কমানোর চাপ হিসেবে দেখেন।

    রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য

    ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে, ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধে রাজি হয়েছে। তবে পরবর্তী আলোচনার ফলে একটি সংশোধিত বাণিজ্য সমঝোতা হয়, যাতে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয় এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা তুলে নেওয়া হয়। অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভারত রুশ তেলের ওপর কোনও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি। বরং শুধু বর্তমান পরিমাণের বেশি না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমনকি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও বলেছেন, “ভারতের সম্পূর্ণ অবরোধের দাবি মস্কোর পক্ষ থেকে আসেনি।” এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে, পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি ভারত কীভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ও নিজের জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে। মিউনিখে রুবিওর বক্তব্য বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। তিনি জানান, ভারত রুশ তেল কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কেবল আমদানি বর্তমান স্তরে স্থির রাখার কথা বলেছে। এই মুহূর্তে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট, জ্বালানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সাশ্রয়ী মূল্য, প্রাপ্যতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও।

LinkedIn
Share