Tag: Oil Tankers

  • Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    Strait of Hormuz Conflict: ইরান–আমেরিকার সংঘাতে আপাতত বিরতি, এলপিজি নিয়ে স্বস্তিতে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে আপাতত বিরতি। কারণ দুই দেশের মধ্যে হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি (Strait of Hormuz Conflict)। এর ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—এলপিজি (LPG) এবং তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ—এখন অনেকটাই কমেছে। ইরান ও আমেরিকা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে।

    স্বস্তিতে ভারত (Strait of Hormuz Conflict)

    সমুদ্রপথের বাধা দূর হওয়ার এই খবর ভারতকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। এখন তেল ও গ্যাসবাহী ভারতীয় জাহাজগুলি সহজে এবং দ্রুত ভারতে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। তার পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্বের ২০–২৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এটি ভারতের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলপিজি এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। সংঘাতের আবহে অনেক জাহাজ সেখানে আটকে পড়ে। ভারতে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দেয়, কালোবাজারি বাড়ে। আতঙ্কের জেরে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। তবে এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণার ফলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

    হরমুজ অঞ্চলে আটকে একাধিক ভারতীয় জাহাজ

    বাস্তবে, ভারতীয় তেলবাহী জাহাজগুলির একটি বড় অংশ এখনও হরমুজ অঞ্চলে আটকে রয়েছে (Strait of Hormuz Conflict)। ইরান ভারতকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, তা খুব ধীরগতিতে চলছে। এই কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে, যার অধিকাংশই এলপিজি ট্যাঙ্কার ভর্তি। গত কয়েক দিনে বেশ কিছু জাহাজ ভারতীয় বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এগুলি হাজার হাজার টন গ্যাস ও তেল বহন করছিল, যা দেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (LPG)। তবে এখনও ১৬টি ভারতীয় জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে। এগুলিতে রয়েছেন শত শত ভারতীয় নাবিক। এই জাহাজগুলিও তেল এবং গ্যাসে ভর্তি।

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে

    এখন যেহেতু হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই এই জাহাজগুলিও খুব শীঘ্রই যাত্রা শুরু করতে পারবে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদে ভারতে পৌঁছে যাবে (Strait of Hormuz Conflict)। অর্থাৎ, তেল ও গ্যাসবাহী সম্পূর্ণ বহরই শীঘ্রই দেশে পৌঁছে যাবে। হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় ভারতের একাধিক সুবিধা হবে। প্রথমত, তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। দ্বিতীয়ত, গ্যাসের কালোবাজারি বন্ধ হবে। তৃতীয়ত, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যাবে।
    গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহও স্বাভাবিক হবে (LPG)।

    প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে

    এছাড়া, এর প্রভাব পড়বে পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও। এতে অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে, কারণ তেল ও গ্যাস আমদানি সহজ হবে। আগে জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হত, এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগত। এখন সরাসরি সমুদ্র পথ খুলে গিয়েছে। তাই সাশ্রয় হবে অর্থ এবং সময়। ভারত কীভাবে সমাধান করল এই সমস্যার? ভারতের বিদেশমন্ত্রক এবং জাহাজমন্ত্রক আগেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছিল। এখন যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ায় বাকি জাহাজগুলিও নিরাপদ। নাবিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, সব  নাবিকের নিরাপত্তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে (Strait of Hormuz Conflict)।

    হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ায় শুধু ভারত নয়, উপকৃত হবে গোটা বিশ্বই। ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ভারত-সহ তেল আমদানিকারী দেশগুলি সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাবে (LPG)। এখন ধারাবাহিকভাবে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছবে, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা সহজেই পূরণ করবে। বাকি ১৬টি জাহাজও পৌঁছে গেলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ আরও মজবুত হবে (Strait of Hormuz Conflict)।

     

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

  • US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    US Iran War: পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে ইরান সাফ জানাল পাক নেতৃত্বাধীন কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত পাকিস্তান। পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে, তার প্রেক্ষিতেই এমনতর দাবি করেছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। পাকিস্তানের এহেন দাবি খারিজ করে দিয়ে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাক নেতৃত্বাধীন এমন কোনও প্রচেষ্টার (US Iran War) সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। সোমবার মুম্বইয়ে ইরানের কনসুলেট জেনারেল জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেবল অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি জানানো হয়েছে। কনসুলেট আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের যে কোনও মঞ্চ তাদের নিজস্ব বিষয়, সেখানে ইরান অংশ নেয়নি।

    কনসুলেট জেনারেলের বক্তব্য (US Iran War)

    এক বিবৃতিতে কনসুলেট জেনারেল জানান “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। শুধুমাত্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক কিছু দাবি এসেছে। আমেরিকার ‘কূটনীতি’ বারবার অবস্থান বদলায়। তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। পাকিস্তানের মঞ্চ তাদের নিজস্ব। আমরা তাতে অংশ নিইনি। আঞ্চলিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান স্বাগত, তবে মনে রাখতে হবে—কে এই যুদ্ধ শুরু করেছে!”  রবিবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক করার পর এই ঘোষণা করেন। বৈঠকে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সমুদ্র পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও ছিল।

    পাক মন্ত্রীর বক্তব্য

    টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দার বলেন, “আগত মন্ত্রীরা ইসলামাবাদে সম্ভাব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।” দারের দাবি, তিনি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্তাদের সঙ্গে, যেমন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান আমেরিকা প্রশাসনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। রবিবারের ইসলামাবাদ বৈঠকটি কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল বা ইরানের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না (US Iran War)।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার মতে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা স্বীকার করেনি। তবে ইসলামাবাদের মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনার একটি প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে (US Iran War)। এদিকে, সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের ওপর তাদের হামলা অব্যাহত রাখে। এর জবাবে ইরান কুয়েতের একটি (Pakistan) গুরুত্বপূর্ণ জল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমা ফাটায় এবং উত্তর ইসরায়েলের একটি তৈল শোধনাগারেও আঘাত হানে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরান সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে, যা তিনি সম্মানের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সময়ে, ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ২,৫০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন রয়েছে (US Iran War) এবং সমসংখ্যক আরও একটি বাহিনী পথে রয়েছে। এর (Pakistan) মধ্যে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

     

  • PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল গ্রুপ (IGM) গঠন করল। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে (Virtual Meeting) বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( PM Modi Meeting)। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অংশ নেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    ছিল না ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য

    ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য অসম (Assam),কেরালা (Kerala),তামিলনাড়ু (Tamilnadu),পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পুদুচেরির (Puducherry) মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেননি। নির্বাচন আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, এই পাঁচ রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করবেন কেন্দ্রের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, যাতে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বজায় রাখা যায়। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যগুলির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন। সীমান্ত, উপকূল, সাইবার স্পেস এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। গুজব ও মজুতদারি রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একের পর এক বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারত তার অগ্রগতির ধারা বজায় রেখেছে, যা সম্ভব হয়েছে সম্মিলিত জাতীয় প্রচেষ্টা এবং সক্রিয় প্রশাসনের মাধ্যমে।

    জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক

    এই ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও যোগ দেন। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই বৈঠকে ‘টিম ইন্ডিয়া’-র ভাবনায় রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বৈঠক এই প্রথম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই এই সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও একাধিক উপসাগরীয় দেশে।

  • India Oil Imports: হরমুজ সঙ্কটে বিকল্প উৎসের সন্ধান! দেশে সরবরাহ বজায় রাখতে ৬ কোটি ব্যারেল রুশ তেল কিনল ভারত

    India Oil Imports: হরমুজ সঙ্কটে বিকল্প উৎসের সন্ধান! দেশে সরবরাহ বজায় রাখতে ৬ কোটি ব্যারেল রুশ তেল কিনল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী মাসের জন্য রাশিয়ার থেকে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত (India Russian oil purchase), এমনই দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে এই বড় পরিমাণ তেল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ৫ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে এই তেল কেনা হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহের টানাপোড়েন ও উচ্চ চাহিদারই ইঙ্গিত দেয়।

    রুশ বাজারে ফিরল ভারত

    এই কেনাকাটা সম্ভব হয়েছে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড়ের কারণে। মার্চের শুরুর আগে যেসব রুশ তেলবাহী জাহাজে তেল তোলা হয়েছিল, সেগুলির ডেলিভারি নেওয়ার অনুমতি দেয় ওয়াশিংটন। পরে এই ছাড়ের সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়, যাতে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার প্রভাব কিছুটা কমানো যায়। গত ডিসেম্বরের পর থেকে মার্কিন চাপের কারণে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে বর্তমানে আবারও সেই বাজারে ফিরেছে হিন্দুস্থান মিত্তল এনার্জি লিমিটেড (Hindustan Mittal Energy Ltd) এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (Mangalore Refinery & Petrochemicals Ltd)-এর মতো সংস্থাগুলি।

    লাভবান রাশিয়া

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারত সৌদি আরব ও ইরাক থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে বহু তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়ে, যার ফলে সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ মহলের ধারণা, হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন ছাড় বলবৎ থাকতে পারে। এদিকে, ভারতের মতো বড় ক্রেতার চাহিদা বাড়ায় রাশিয়াও লাভবান হচ্ছে। ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর ২০২২ সালের মার্চের পর থেকে এবারই রাশিয়ার তেল রফতানি থেকে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    বিকল্প উৎসের সন্ধানে ভারত

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে বিদেশ থেকে। ফলে কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে সেই আমদানিতে বহুবার বাধা এসেছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এখন ভেনেজুয়েলার মতো বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বর্তমানে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসকে বহুমুখী করে তুলেছে। অর্থাৎ, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে ইরাক বহু বছর ধরেই ভারতের অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত।

    আমদানির বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি

    শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভারতের তেল আমদানি। আমেরিকা থেকেও এখন বিপুল পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। শেল অয়েল বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশ থেকেও তেল কেনে ভারত। শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভারতের আমদানি। আমেরিকা থেকেও এখন বিপুল পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। শেল অয়েল বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশ থেকেও তেল কেনে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানির এই বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২০ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একক কোনও অঞ্চলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে ভারত।

    কেন্দ্রের প্রচেষ্টায় ভারতে সরবরাহ চলছে

    বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ চলছে। সম্প্রতি রুশ তেলবোঝাই ট্যাঙ্কার ‘মাউন্ট অ্যাকুয়া টাইটান’ ২২ মার্চ ভারতের উপকূলে পৌঁছেছে এবং ম্যাঙ্গালুরুর কাছে আরব সাগরে নোঙর করে রয়েছে। একই সময়ে টেক্সাস থেকে এলপিজি বোঝাই একটি কার্গো জাহাজও নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছেছে, যা জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের কোনও বন্দরে জট তৈরি হয়নি এবং পারস্য উপসাগর এলাকায় থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজ ও ৬১১ জন নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ১৪ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু চার্জ মকুব করেছে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দর কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ‘জাগ লাডকি’ নামের একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার সফলভাবে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের এলপিজি বাহক জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে পৌঁছেছে, যা সরকারি সহায়তায় দেশে জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় থাকারই প্রমাণ।

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী পেরোতে প্রস্তুত আরও ৬টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, ‘টোল’ নিচ্ছে না ইরান

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী পেরোতে প্রস্তুত আরও ৬টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, ‘টোল’ নিচ্ছে না ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা মঙ্গলবার জানান, আরও ৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার প্রণালী পারাপারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম অনুযায়ী ইরান কোনও ‘টোল’ নিচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অশোধিত তেলের মজুত-সহ দেশের সব শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রয়েছে। পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বিপণন ও তেল শোধনাগার বিভাগের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, খুচরো তেল বিতরণ কেন্দ্রগুলিতে তেলের ঘাটতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

    আসছে ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’

    রাজেশ কুমার বলেন, ইতিমধ্যেই ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ নামের দুটি এলপিজি বাহক জাহাজ সোমবার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ দুটি প্রায় ৯২ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সুরক্ষায় এই যাত্রা সম্পন্ন হয়। সরকারি সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-এর চার্টার করা ট্যাঙ্কারগুলি ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এর আগে ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের জাহাজও নিরাপদে প্রণালী পার হয়ে প্রায় ৯২,৭০০ টন এলপিজি সরবরাহ করেছে।

    ২০টি জাহাজে ৫৪০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে

    উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাতের কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহণ হয়। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে। বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ টন এলপিজি-সহ একাধিক পণ্যবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, প্রণালী অঞ্চলে প্রায় ২০টি জাহাজে ৫৪০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নজরদারি চালাচ্ছে এবং কিছু নাবিককে ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলির সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরেও উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে, যাতে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গালফ অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করেছেছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ট্যাঙ্কার ও কার্গোগুলিকে এসকর্ট করার জন্য আধ ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলের কাছাকাছি মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্সের শক্তি বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার ইজরায়েল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। তাই এই পদক্ষেপ।

    আসছে আরও দুই জাহাজ

    ভারতীয় নৌবাহিনী দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’—কে নিরাপদে এসকর্ট করে। সোমবার আরও দুটি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’—কে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজ দুটি সোমবার দুপুর পর্যন্ত ইরানের লারাক ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী জলসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী কাছাকাছি অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজগুলিকেই সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারকে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কুয়েত থেকে কোনও জাহাজ রওনা দিলে প্রায় দেড় দিন সময় লাগে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছাতে, তারপর থেকেই নৌবাহিনীর এসকর্ট শুরু হয়।

    ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি

    ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের গতিবিধি সর্বক্ষণ নজরে রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে গেলে পারস্য উপসাগরে এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। বাকি প্রায় সব দেশের জাহাজকে হরমুজ পার না করার হুমকি দিলেও ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে।

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনীতি

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা কাজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কথা হয়েছে। আলোচ্য বিষয় ছিল জলপথের সুরক্ষা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি জাহাজের সুরক্ষা। এরপরেই ভারতের পতাকাবাহী জাহাজকে সুরক্ষিত ভাবে হরমুজ পার করতে দিয়েছে ইরান। এমনকী ইরানের নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অতিক্রম করেছে ভারতের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার (Indian LPG Tanker)। দীর্ঘ ১০ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি এই নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে।

    বিশ্বশক্তির সঙ্গে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ

    ভারত শুধু দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির উপর নির্ভর না করে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কথা বলেছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ফরাসি বিদেশমন্ত্রী জঁ নোয়েল ব্যারো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকরা। লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুটগুলিকে সক্রিয় রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ যাতে ব্যর্থ না হয় সেই দিকে নজর রাখা।

    অপারেশন সংকল্পের অধীনে নৌবাহিনী মোতায়েন

    ভারতীয় নৌবাহিনী অপারেশন সংকল্প-এর অধীনে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই মিশনের লক্ষ্য ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাছাকাছি জলসীমায় যে কোনও হুমকির প্রতিরোধ করা। বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে হরমুজের আশে পাশে ৬টি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। নিয়মিত টহল ছাড়াও ভারত গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ এবং ফ্রিগেট মোতায়েন করেছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলি আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে প্রস্তুত রয়েছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় ভারতীয় জাহাজগুলি হুমকির সম্মুখীন হলে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

    ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের উপর নজরদারি

    আরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল এই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা। সরকারি তথ্য অনুসারে, পারস্য উপসাগর এবং আশেপাশের জলসীমায় বর্তমানে কয়েক ডজন ভারতীয় জাহাজ এবং শত শত ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

    সঙ্কট ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল

    ভারতীয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবfলায় জরুরি সমন্বয় ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এবং ভারতীয় ক্রু বা পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য উন্নত সুরক্ষা প্রোটোকল, নিয়মিত রিপোর্ট ব্যবস্থা এবং একটি বিশেষ দল স্থাপন করেছে।

    ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ

    ভারত সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় দেশের নৌবাহিনীর ‘মিশন-বেসড ডিপ্লয়মেন্ট’ বর্তমানে বিশ্বের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত। ২০১৭ সাল থেকে এই উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ওমান ও এডেন উপসাগরের পাশাপাশি সেশেলস, মালদ্বীপ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি চলছে। এই মোতায়েনের মাধ্যমে একদিকে যেমন এসকর্ট অপারেশন চালানো হচ্ছে, তেমনই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে যৌথ মহড়া এবং জলদস্যুতা বা সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনী পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সহায়ক জাহাজ-সহ মোট সাতটি জাহাজ এখন মোতায়েন রয়েছে। এর আগে উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজ নিরাপদে পৌঁছে দিতে দু’টি টাস্ক ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। এই পদক্ষেপ আসলে ২০১৯ সাল থেকে চালু থাকা ‘অপারেশন সংকল্প’-এরই সম্প্রসারণ। এই অভিযানের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ নিয়মিতভাবে ওমান উপসাগর ও এডেন উপসাগরে মোতায়েন থাকে। লক্ষ্য একটাই, এলপিজি ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, এবং পারস্য উপসাগরের আশপাশে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।

     

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

  • Indian Maritime security: জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ৮৫,০০০ কোটির পরিকল্পনা! দেশে তৈরি ১১২টি তেলবাহী জাহাজ কিনবে ভারত

    Indian Maritime security: জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ৮৫,০০০ কোটির পরিকল্পনা! দেশে তৈরি ১১২টি তেলবাহী জাহাজ কিনবে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এবার দেশে তৈরি তেল ট্যাঙ্কার কিনতে চলেছে ভারত। ২০৪০ সালের মধ্যে ১১২টি তেল ট্যাঙ্কার কেনার জন্য প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে সরকার। বিদেশি নৌবহরের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে তেল সরবরাহ সুরক্ষিত (Indian Maritime security) করার জন্যই এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “মেক ইন ইন্ডিয়া” (Make in India) উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের।

    ধাপে ধাপে কেনা হবে ট্যাঙ্কার

    বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পুরনো ট্যাঙ্কার ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করে। তবে এবার এই নির্ভরতা কাটাতে এবং নিজস্ব ট্যাঙ্কার বহর গড়ে তুলতে চাইছে পেট্রোলিয়াম ও জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক। প্রথম ধাপে ৭৯টি ট্যাঙ্কার কেনা হবে, যার মধ্যে ৩০টি হবে মিডিয়াম রেঞ্জ ক্যাটেগরির। চলতি মাসেই প্রথম ধাপে ১০টি ট্যাঙ্কারের অর্ডার দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রকল্পে শুধুমাত্র ভারতে নির্মিত জাহাজকেই বিবেচনা করা হবে। তবে বিদেশি কোম্পানির সহযোগিতায় জাহাজ নির্মিত হলেও আপত্তি নেই কেন্দ্রের। ভারতের সবচেয়ে বড় দেশীয় ট্যাঙ্কার এমটি মহর্ষি পরশুরাম – যার দৈর্ঘ্য ২৩৮ মিটার ও ডেডওয়েট টনেজ ৯৩,৩৩২।

    কেন এই পদক্ষেপ

    দেশের (Indian Maritime security) অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভারত আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তার অপরিশোধিত তেল শোধন ক্ষমতা ২৫০ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করতে চায়। ভারতের অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। তাই নিজস্ব ট্যাঙ্কার বহর থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নিজস্ব অয়েল ট্যাঙ্কার থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয়ভাবে তৈরি ট্যাঙ্কারের অংশীদারিত্ব ৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    আত্মনির্ভর ভারতই লক্ষ্য সরকারের

    ভারত চায় আগামী দিনে একটি “মেড ইন ইন্ডিয়া” নৌবহর গড়ে তুলতে। চলতি বছর বাজেটে সরকার ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক পরিবহণ খাতের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো এবং বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনায় শুধুমাত্র তেল নয়, কয়লা, সার ও ইস্পাত পরিবহণের জন্যও জাহাজ নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশে জাহাজ নির্মাণের জন্য জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতাদের সঙ্গে কথা বলছে সরকার। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার এইচডি হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের সঙ্গে কেরালার কোচিতে একটি নতুন জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারে। এছাড়া, স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ও জাপানের এনওয়াইকে লাইনের সঙ্গেও জাহাজ নির্মাণে ভারতীয় অংশীদারিত্বে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

LinkedIn
Share