Tag: Omar Abdullah

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • Sergio Gor on Kashmir: ‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’, প্রথমবার শ্রীনগর সফরে বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের

    Sergio Gor on Kashmir: ‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’, প্রথমবার শ্রীনগর সফরে বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ—কাশ্মীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই কথা জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor on Kashmir)। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এই প্রথম অবস্থান স্পষ্ট করল আমেরিকা। মুখ পুড়ল পাকিস্তানের, ভারত সরকারের পাশেই দাঁড়াল ট্রাম্প সরকার। জম্মু-কাশ্মীর সফরে এসে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা দিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বুধবার শ্রীনগরে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর গোর বলেন, “জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” ৩৭০ ধারা বাতিল এবং পহেলগাঁও হামলার পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এটিই আমেরিকার কোনো শীর্ষ প্রতিনিধির প্রথম একক সফর। তাঁর এই মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থান আরও জোরাল হলো বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত-এর সঙ্গে বৈঠক

    বুধবার নিজের প্রথম ভূস্বর্গ সফরে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এরপর সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ গোর জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনায় জম্মু-কাশ্মীরের অগ্রাধিকার এবং ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। পর্যটন, উদ্যানপালন এবং নতুন অর্থনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ওমর আবদুল্লা। সাক্ষাতের পর ওমর আবদুল্লা ‘এক্স’-এ লেখেন, গোরের সঙ্গে তাঁর “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    প্রায় ১৫ বছর পর কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক হল। ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথি রোমার মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জাস্টার কাশ্মীরে শেষবার পৃথক সফরে এসেছিলেন। ২০১৯ সালে কেন্দ্রের তরফে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এবং পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর এই প্রথম কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কাশ্মীরে সফর করলেন। ওমর আবদুল্লার পাশে দাঁড়িয়ে গোর বলেন, “আমি ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রথমবার এখানে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর জায়গা।”

    কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    গোরের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওমর আবদুল্লা বলেন, তিনি কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি আমেরিকার কাছে কোনও অভিযোগ জানাবেন না বলেও স্পষ্ট করেন। ওমর বলেন, “আমাদের সমস্যার সমাধান ওয়াশিংটন থেকে আসবে না, এর সমাধান করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকেই।” বিদেশি রাষ্ট্রদূতের কাছে নিজের দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তাঁর অভ্যাস নয় বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হবে, তবে তিনি কোনও অভিযোগ জানাবেন না বা আমেরিকার কাছ থেকে কোনও সমস্যার সমাধান চাইবেন না। গোরের সফরে জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি লাদাখ সফরও রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি লাদাখে যাবেন। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার সঙ্গেও কথা বলেন গোর।

    বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে কাশ্মীর নিরাপদ

    গত কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কার কারণে আমেরিকা কাশ্মীর উপত্যকায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘লেভেল ৪’ বা ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশিকা বলবৎ রেখেছে। তবে গোরের সফরের আগে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি আবেদন জানিয়েছিলেন, আমেরিকা যেন এই কঠোর ভ্রমণ সতর্কতা পুনর্বিবেচনা করে তুলে নেয়, কারণ উপত্যকার হাজার হাজার পরিবার পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়ে বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে এলাকাটিকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে অসাধারণ সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাই হোয়াইট হাউসের সুপারিশক্রমে জারি হওয়া ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করা উচিত কি না, সেই বিষয়টি আমেরিকা এবার পুনর্বিবেচনা করে দেখবে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করার এবং এমন সব সুযোগ সৃষ্টির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি, যা আমাদের উভয় দেশের জন্যই পারস্পরিকভাবে লাভজনক হবে।’’ পূর্ব লাদাখ এবং লেহ্ অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন নয়।

    কাশ্মীরে ঘুরতে যেতে পারবেন মার্কিন নাগরিকরা!

    ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (US Ambassador in Kashmir) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ভূস্বর্গ কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে ভারত সরকার প্রসঙ্গে তাঁর এই মত যথেষ্ট গুরুপূর্ণ। কাশ্মীরকে ভারতের অঙ্গ বলে তাঁর ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যবহ। বুধবার গোর জানিয়েছেন, কাশ্মীর নিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা খানিক শিথিল করতে পারে আমেরিকা। তার কারণ ব্যাখ্যা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ গোর জানান, ওই এলাকায় শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই দিকটি মাথায় রেখেই কাশ্মীর ভ্রমণ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সতর্কতা শিথিল করে, তবে তা বিদেশি পর্যটকদের কাছে কাশ্মীরকে একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সময়েই গোরের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও গোরের আলোচনা হয়েছে। মার্কিন দূতের এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কেন্দ্র জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। ভারত বরাবরই বলে এসেছে, জম্মু ও কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান বারবার এই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করে এসেছে। বৃহস্পতিবার গোর লাদাখে যাবেন, যা হবে ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ এবং চীনের সঙ্গে সীমান্ত অচলাবস্থার পর এই অঞ্চলে কোনো মার্কিন দূতের প্রথম সফর।

     

     

     

  • Omar Abdullah: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে খুনের চেষ্টা, নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন ওমরের

    Omar Abdullah: জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে খুনের চেষ্টা, নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন ওমরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার (Omar Abdullah) বাবা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্স সুপ্রিমো ফারুক আবদুল্লার ওপর হামলার চেষ্টা। ঘটনায় যারপরনাই বিস্মিত মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG)-এর জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয়ে থাকা সত্ত্বেও হামলাকারী কীভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে পৌঁছে গেল?

    পিছন থেকে গুলি, বরাতজোরে বাঁচল প্রাণ

    বুধবার সন্ধ্যায় জম্মুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রবীণ ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লাকে গুলি করে খুনের চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি ঘটে গ্রেটার কৈলাশ এলাকার রয়্যাল পার্কে আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক ব্যক্তি পিস্তল হাতে আবদুল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাঁর জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয়ের দায়িত্বে থাকা এনএসজি-র নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন এবং গুলিটি প্রতিহত করেন। ফলে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ইতিমধ্যেই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বিয়ে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন ফারুখ আবদুল্লা। ঠিক সেইসময় পিছন দিক থেকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ঢুকে পড়েন ওই অভিযুক্ত। ফারুখ আবদুল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কী কারণে এই হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। ঘটনার জেরে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। ওই অভিযুক্তের দাবি, ২০ বছর ধরে তিনি ফারুখ আবদুল্লাকে হত্যার চেষ্টা করে আসছেন।

    জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (Omar Abdullah)

    ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জম্মুর গ্রেটার কৈলাশ এলাকার রয়্যাল পার্কে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ফারুককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে যান ফারুক।” এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে ওমর লেখেন, “আল্লাহ্ দয়ালু। আমার বাবা অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়, তবে জানা গিয়েছে যে এক ব্যক্তি পিস্তল নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্তকে আটক করে, ব্যর্থ হয় হত্যার চেষ্টা। এখন উত্তরের চেয়ে প্রশ্নই বেশি, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, এনএসজির জেড প্লাস নিরাপত্তায় থাকা একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এত কাছে কেউ কীভাবে পৌঁছতে পারল?”

    ফারুক আবদুল্লা সুস্থ

    জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানি জানান, ঘটনায় কেউ আহত হননি, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “এমন কিছু নয়। আল্লাহ্ খুব দয়ালু।” পুলিশি ব্যবস্থার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে (Omar Abdullah) তিনি বলেন, “এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে। তাই এখনই কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।” তিনি বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বোঝা যাবে অভিযুক্ত কেন গুলি করার চেষ্টা করেছিল, তার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল।” তিনি জানান, ফারুক আবদুল্লা (Farooq Abdullah) সম্পূর্ণ সুস্থ, তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন।

    কী বললেন উপমুখ্যমন্ত্রী

    জম্মু-কাশ্মীর পুলিশও জানিয়েছে, ফারুক আবদুল্লার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এনএসজি সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ করায় ব্যর্থ হয় হামলার চেষ্টা। অভিযুক্তের নাম কামাল সিং। তাকে আটক করা হয়েছে। সে জম্মুর পুরানি মান্ডি এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রটিও। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে, চলছে তদন্তও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী। তিনিও জানান, ঘটনায় কেউ আহত হননি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনিও। জম্মু জোনের (Farooq Abdullah) পুলিশের আইজিপি (IGP) গাংগিয়াল থানায় পৌঁছন। এখানেই ফারুক আবদুল্লার ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় রয়েছে অভিযুক্ত (Omar Abdullah)।

     

  • Jammu-Kashmir: জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের ৬ বছর পার, উপত্যকায় উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট, কতটা বদলেছে ভূস্বর্গ?

    Jammu-Kashmir: জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের ৬ বছর পার, উপত্যকায় উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট, কতটা বদলেছে ভূস্বর্গ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরের উন্নতির পথে প্রধান বাধা ছিল ৩৭০ ধারা। কেন্দ্রের মোদি সরকার সেই বাধা অতিক্রম করেছে। দেশের অন্য অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন কাশ্মীরেও সমানভাবে উন্নতি হচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের ছয় বছর পর এমনই ভাবছে উপত্যকাবাসী। ৫ অগাস্ট— ২০১৯ সাল, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu-Kashmir) বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এই সঙ্গে রাজ্যটিকে বিভক্ত করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—তৈরি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে থাকা এই পদক্ষেপকে “জাতীয় সংহতির পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ” বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। উপত্যকাকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার পথে এই সিদ্ধান্ত সঠিক। এই পদক্ষেপ জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অখণ্ড অংশ করে তুলতে সাহায্য করেছে।

    ৩৭০ ধারা বিলোপের পর পরিবর্তনের ছবি

    ৩৭০ ধারা (Article 370) বিলোপের পর ব্যাপক পরিকাঠামো গত উন্নয়নের হাত ধরে বদলে গিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের চেহারা। নিত্যদিনের কার্ফিউ বা জঙ্গিদের সন্ত্রাস এখন নেই বললেই চলে। সেখানকার স্থানীয় মানুষই প্রতিহত করছেন প্রতিবেশী পাকিস্তানের যাবতীয় নাশকতার ছক। নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা এখন রাজ্যে চাইছেন শান্তি। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরে হিংসাত্মক ঘটনা কমে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে।

    সফল নির্বাচন ও ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতি

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর জম্মু-কাশ্মীর প্রথমবারের মতো একাধিক সফল নির্বাচন দেখেছে। কয়েক দশক পর প্রথমবার, সাধারণ মানুষ বিপুল উৎসাহে ভোটদান করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় উপত্যকায়। একইভাবে, বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাদাতাদের উপস্থিতি ছিল ৬৩.৮৮ শতাংশ, যা এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। নির্বাচনের সময় কোনও বড় ধরনের বিক্ষোভ বা বয়কটের ডাক দেখা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল নিয়ন্ত্রণে।

    পর্যটনে ব্যাপক উত্থান

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০২৩ সালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে ২.১১ কোটির বেশি পর্যটক ঘুরতে গিয়েছেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। যদিও পাহেলগাঁওয়ে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু কিছুটা ধাক্কা দেয় পর্যটনে, তবুও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং আবারও পর্যটকের ঢল নামে।

    পাথর ছোড়ার ঘটনা একেবারে বন্ধ

    অতীতে জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ার ঘটনা নিয়মিত ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই ধরনের একটিও ঘটনা ঘটেনি। ২০১০ সালে যেখানে পাথর ছোঁড়ার সংখ্যা ছিল ২,৬৫৪টি, সেখানে আজ তা পুরোপুরি শূন্য বললেই চলে। পাশাপাশি, উপত্যকায় হরতালের ডাকও কার্যত নেই।

    পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ

    বড় ধরনের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটেছে জম্মু-কাশ্মীরে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ৪২ হাজার ৫০০ কোটির উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুল্লা রেল প্রকল্প, যার অংশ হিসেবে চেনাব নদীর উপর তৈরি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেল সেতু। এই রেল প্রকল্প কেবল জম্মু ও কাশ্মীরকে সংযুক্ত করে না, এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও ব্যবসায়িক সংযোগেও গতি এসেছে।

    চেনাব সেতু: কাশ্মীরের পরিকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে বড় উদাহরনই হল চেনাব সেতু। চেনাব নদীর ওপর গড়ে উঠেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ এই আর্চ রেলসেতু। ইতিমধ্যেই চেনাব সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সেতু কাশ্মীরের আর্থসামাজিক অবস্থাকেই বদলে দিচ্ছে। চন্দ্রভাগা নদীর ৩৫৯ মিটার উঁচুতে তৈরি চেনাব আর্চ রেলসেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৩১৫ মিটার। চেনাব সেতু এখন কাশ্মীরিদের গর্ব। ভূমিকম্পেও অটল থাকবে এই সেতু।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় বদল: রেল ছাড়াও নির্মিত হয়েছে বিরাট বিরাট সড়ক। হাটবাজার, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ প্রভৃতি গড়ে উঠছে অতি দ্রুত। ভারত স্বাধীনতার বহু যুগ কেটে গেলেও কাশ্মীরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ২০১৯ সালের আগে খুবই খারাপ ছিল। কিন্তু গত ৬ বছরে আমূল বদলে গিয়েছে উপত্যকার সড়ক ব্যবস্থা। ভারত নেট প্রকল্পে মার্চেই ৭ হাজার ৭৮৯ ফাইবার-টু-দ্য-হোম সংযোগ পৌঁছে দেওয়া বয়েছে। ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে বিমানবন্দরেরও। ২০১৯ সালে যেখানে ৩৫টি বিমান প্রতিদিন যাতায়াত করতো এখন সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১২৫।

    লগ্নি বেড়েছে উপত্যকায়: কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন নারীরা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষজন। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়়ে উঠছে উপত্যকায়। বর্তমানে ৮৩৭টি নতুন শিল্প উদ্যোগ চালু আছে। এরমধ্যে ৩০২টি প্রতিষ্ঠানই নারীদের দ্বারা পরিচালিত। শ্রীনগর শহর এখন স্মার্ট সিটি প্রকল্পের আওতায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ এ ফলে উপকৃত হচ্ছেন। গত পাঁচ বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার কোটি টাকার লগ্নি এসেছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও, এই ধারা রদের পর থেকে পরিসংখ্যান বলছে জম্মু-কাশ্মীরে ভোটার অংশগ্রহণ, পর্যটন, শান্তি ও উন্নয়নের দিক থেকে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

  • Sukanta Majumdar: “চোর কি কখনও নিজের চুরির তদন্ত করতে পারে?” প্রশ্ন সুকান্তর

    Sukanta Majumdar: “চোর কি কখনও নিজের চুরির তদন্ত করতে পারে?” প্রশ্ন সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “চোর কি কখনও নিজের চুরির তদন্ত করতে পারে?” শনিবার এমনই প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ বিজেপির সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। মঙ্গলবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের নিশানা করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। বেছে বেছে ২৭ জন হিন্দু পর্যটককে গুলি করে খুন করে জঙ্গিরা (Pakistan PMs Offer)। ঘটনার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেসিস্টেন্স ফ্রন্ট।

    সুকান্তর প্রশ্ন (Sukanta Majumdar)

    ওই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তাঁর সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন সুকান্ত এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। পাক প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাবকে সুকান্ত ‘মুখ রক্ষার হতাশাপূর্ণ চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন। এর পরেই পাক প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে সুকান্ত বলেন, “এরা কী তদন্ত করবে? চোর কি কখনও নিজের চুরির তদন্ত করতে পারে?” কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভয়ে একথা বলেছেন। এই ভয় ভালো। তাঁর এই ভয় থাকা উচিত। যখন পাকিস্তান প্রস্তুত থাকবে না, ঠিক তখনই আমরা তাদের আঘাত করব। আর সেটা হবে প্রবল আঘাত।”

    কী বললেন ওমর

    এদিকে, রামবান থেকে পাক প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বলেন, “প্রথমত পহেলগাঁওয়ে কিছু ঘটেছে বলেই তারা স্বীকার করনি। শুরুতে তারা বলেছিল যে এর পেছনে ভারতের হাত আছে।” তিনি বলেন, “যারা শুরুতেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল, তাদের ব্যাপারে এখন কিছু বলা কঠিন। আমি তাদের বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই না।”

    এদিকে, পহেলগাঁওকাণ্ডের পর উপত্যকায় জঙ্গিদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আটক করা হয়েছে ১৭৫ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে। পহেলগাঁওয়ের এই হামলাকে সমর্থন (Sukanta Majumdar) করায় অসমে গ্রেফতার করা হয়েছে ১০জনকে।

    পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ও পীযূষ গোয়েল। তাঁরা বলেন, “পাকিস্তানকে (Pakistan PMs Offer) এর ভারী মূল্য চোকাতে হবে।” পুরী পাকিস্তানকে “চূড়ান্ত পতনশীল এক দুশ্চরিত্র রাষ্ট্র” বলে আখ্যা দিয়েছেন (Sukanta Majumdar)।

LinkedIn
Share