Tag: Paddy Procurement Price

  • Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের দাবিতে কলকাতায় বিশাল কৃষক সমাবেশের আয়োজন করল ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh) পশ্চিমবঙ্গ শাখা। ৩০ অক্টোবর ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে আয়োজিত ‘কৃষক সমাবেশ ২০২৬’-এ রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কৃষি ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানান (Farmers Demands) তাঁরা।

    সমাবেশের শেষে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে ২১ দফা দাবিসনদ গ্রহণ করা হয়। কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্যকর করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সেচের ব্যবস্থা, সারের পর্যাপ্ত জোগান, জৈব চাষে উৎসাহ, মৎস্যচাষের উন্নয়ন এবং পশুপালকদের আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলি দাবিসনদে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কিষান সংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি কে সাই রেড্ডি, সর্বভারতীয় মহিলা সংযোজক মঞ্জু দীক্ষিত, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীনিবাস, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি অনিমেষ পাহাড়ি এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস সরকার-সহ সংগঠনের একাধিক পদাধিকারী ও প্রতিনিধিরা।

    সমাবেশে কৃষকরা কৃষি উৎপাদন, কৃষিজ পণ্যের বিপণন এবং কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কাজকর্মের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে শুধু ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করলেই হবে না। পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত কৃষি পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরকারের কার্যকর সহযোগিতা।

    মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২১ দফা দাবিসনদ পেশ (Bharatiya Kisan Sangh)

    সমাবেশের পর ভারতীয় কিষান সংঘের নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দাবিসনদ তুলে দেওয়া হয়।

    প্রতিনিধিদলে ছিলেন কে সাই রেড্ডি, মঞ্জু দীক্ষিত, শ্রীনিবাস, অনিমেষ পাহাড়ি এবং আশিস সরকার-সহ কৃষক সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।

    সাক্ষাৎপর্বে প্রতিনিধিরা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যস্তরের সমাবেশে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির বিষয়েও তাঁকে অবহিত করা হয়। কৃষকদের সম্মিলিত মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি এই দাবিসনদে কৃষি উৎপাদন, কৃষকদের আয় এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সমাজের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সংগঠনের উত্থাপিত দাবিগুলি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে যাতে কৃষকদের একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, নভেম্বর মাসে ভারতীয় কিষান সংঘের প্রতিনিধি এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের নিয়ে একটি সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

    কৃষি ও মৎস্য দফতরের সঙ্গে বৈঠক

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত নভেম্বরের বৈঠকে কৃষি দফতর, মৎস্য দফতর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরের আধিকারিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

    ওই বৈঠকে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ এবং দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলির সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজাই হবে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংগঠনের দাবিগুলি শুধু প্রচলিত কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে মৎস্যচাষ, পশুপালন, কৃষি গবেষণা, সেচ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের জোগানের মতো বিষয়ও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে একসঙ্গে নিয়ে আলোচনার উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠন।

    ভারতীয় কিষান সংঘের আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষক সমাজ এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে।

    ধানের কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা দর নিশ্চিত করার দাবি

    ২১ দফা দাবিসনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। ভারতীয় কিষান সংঘের বক্তব্য, উৎপাদন খরচ ও কৃষকদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে। শুধু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো দাম নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশেষ করে ধান কেনার ক্ষেত্রে কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত বোনাস দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে ধানচাষিদের আয় বাড়বে এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে সংগঠন।

    জৈব চাষের প্রসার এবং জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের জন্য সুস্থ ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য যাতে সহজে বাজারে পৌঁছতে পারে এবং তাঁরা যাতে উপযুক্ত দাম পান, তার জন্য বাজারের সুযোগ বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবি

    কৃষকদের অন্যতম বড় সমস্যা সারের কালোবাজারি। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ। চাষের মরশুমে যাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য উপকরণ সময়মতো এবং নির্ধারিত দামে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কালোবাজারের উপর নির্ভরশীলতা এবং অতিরিক্ত দামে সার কেনার বাধ্যবাধকতা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি উঠেছে।

    কৃষিকাজের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিও জানিয়েছে সংগঠন। বিশেষ করে সেচের কাজে বৈদ্যুতিক পাম্প এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরশীল কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমাতে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    অঞ্চলভিত্তিক সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকার ভৌগোলিক ও কৃষিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ পরিকাঠামো এবং জল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের মতে, উন্নত সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলজনিত কারণে ফসলের ক্ষতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নেও বিশেষ নজর

    কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নের উপরেও গুরুত্ব দিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    মৎস্যচাষিদের জন্য চুন, নুন এবং জলে অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিনামূল্যে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পুকুরের জলের গুণমান বজায় রাখা, মাছের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা এবং উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উপকরণগুলির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠন।

    কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে জমি, বীজ, সার এবং জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে সুসংহত কৃষিনীতি প্রণয়নের দাবি উঠেছে। কৃষকদের বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে গবেষণা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে (Farmers Demands)।

    পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার দাবিও রয়েছে ২১ দফা দাবিসনদে। সংগঠনের বক্তব্য, গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পশুপালনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও সরকারি আর্থিক সহযোগিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন এবং কৃষি গবেষণাকে একই উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার পক্ষেই সওয়াল করেছে সংগঠন (Bharatiya Kisan Sangh)।

    কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে অঙ্গীকার

    নির্দিষ্ট দাবিগুলির পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং কৃষক সমাজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    সংগঠনের তরফে উন্নতমানের বীজ, পর্যাপ্ত হিমঘর, কৃষক মান্ডির সম্প্রসারণ এবং আধুনিক কৃষি পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হলে ফসল তোলার পর ক্ষতির পরিমাণ কমবে, কৃষকদের বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ বাড়বে এবং উৎপাদিত ফসলের জন্য তাঁরা আরও ভালো দাম পেতে পারবেন।

    সমাবেশে রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে আসা প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণকে কৃষক সমাজের সম্মিলিত ঐক্যের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় কিষান সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখা। কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য অংশগ্রহণকারী কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে (Farmers Demands) সংগঠন।

    কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি আগামী দিনেও রাজ্য সরকারের সামনে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছে তারা। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী নভেম্বর মাসে প্রস্তাবিত সমন্বয় বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে কৃষক সংগঠন। সেই বৈঠকে ২১ দফা দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে আশা ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh)।

     

LinkedIn
Share