Tag: pakistan isi

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

  • STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    STF: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলে গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডের তরুণী, সোশাল মিডিয়ার প্রেমেই নাশকতার জাল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের বছর বাইশের এক তরুণীকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃতের নাম অর্পিতা সরকার। এসটিএফের দাবি, সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়ের সূত্রে প্রেমিক মহম্মদ হামিম মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। পরে হামিমের মাধ্যমেই পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারদের সংস্পর্শে এসে নাশকতার ছকের শরিক হয়ে ওঠেন অর্পিতা।

    ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার (Jharkhand Arrest) অর্পিতা

    প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় হামিম ও অর্পিতার। শনিবার ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Arrest) সাহেবগঞ্জ জেলার বরহারওয়া এলাকা থেকে অর্পিতাকে গ্রেফতার করা হয়। তার একদিন আগেই পূর্ব বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে ধরা পড়েছিল তাঁর প্রেমিক হামিম। এসটিএফের (STF) অভিযোগ, হামিম পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। সেই কাজে অর্পিতাও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছিল। হামিমের মাধ্যমেই অর্পিতা ওই চক্রে যুক্ত হয় এবং পরে সরাসরি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মতো কাজ করতে শুরু করে।

    ডিজিটাল তথ্য থেকেই সূত্র!

    এসটিএফ (STF) সূত্রে খবর, হামিম ও অর্পিতার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে হওয়া কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন অর্পিতা। তদন্তকারীদের নজরে তাঁর মোবাইল, সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং এনক্রিপ্টেড চ্যাট।

    ‘হানি ট্র্যাপে’র অভিযোগ

    এসটিএফের (STF) আইজি গৌরব শর্মার দাবি, হামিমের নির্দেশে অর্পিতা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর ছেলেকে টার্গেট করা হয়েছিল। বিদেশ থেকে কোনও অর্থ এসেছে কি না? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির ওপর নজর?

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিম নিজেকে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দিত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর নজর রাখারও অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। এসটিএফের (STF) দাবি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে হামিমকে পুলিশের পোশাক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরে সম্প্রতি হওয়া ছাত্র বিক্ষোভে একটি দল নিয়ে গিয়ে অশান্তি তৈরির পরিকল্পনাও করেছিল। যদিও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    বড় নেটওয়ার্কের জাল?

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, হামিম একটি বড় ISI-সমর্থিত নেটওয়ার্কের অংশ। লক্ষ্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ আধিকারিক এবং ভিআইপিদের ওপর নজরদারি চালানো। হামিমকে কয়েক মাস আগে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দায়িত্ব দেয় বলে অভিযোগ। অর্পিতা ছিলেন তাঁর প্রথম দিকের সহযোগীদের একজন।

    একাধিক এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার

    STF জানিয়েছে, যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, এলিমেন্ট এক্স এবং সেশনের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করা হত। তদন্তে চারটি পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলের নাম উঠে এসেছে- আবির জাট৩৩৩, উজাইর, রানা এবং হামাদ। পুলিশের দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কট্টরপন্থী প্রচার চালিয়ে যুবকদের মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা করা হত। কথপোকথনের সময় ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ডও ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

    ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজত

    তদন্তকারীরা অর্পিতার কলেজ জীবনে কলকাতায় তাঁর মামারবাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। সেই সময় হামিমের সঙ্গে তাঁর সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ হত কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারির পর অর্পিতাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে ১৩ দিনের এসটিএফ (STF) হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে এবং আগামী দিনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও রয়েছে।

  • Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    Terrorist Hamid Mondal Arrest: গেঞ্জি কারখানা থেকে জঙ্গি ফ্যাক্টরি! সাধারণ দর্জির ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা হামিদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় কতটা গভীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ঘিরে বড়সড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের কাছে পাঠানোর অভিযোগে ধৃত হামিদ মণ্ডলকে জেরা করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এসটিএফ-এর ডিজি, সিআইএসএফ-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটিও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথাও কোনও ফাঁক ছিল কি না, ভবিষ্যতে কীভাবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী হবে— সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হবে।

    হামিদকে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়

    বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদ মণ্ডলকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একটি দল ইতিমধ্যেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুধু বর্ধমান নয়, হাওড়াকেও ব্যবহার করা হচ্ছিল এই গোটা অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, হামিদ একা কাজ করছিল না। এই চক্রের সঙ্গে আরও অন্তত চারজন যুক্ত থাকতে পারে। তাদের পরিচয়, অবস্থান এবং ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের তথ্য পাঠানোর অভিযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, হামিদ নিয়মিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি, সম্ভাব্য অবস্থান এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে কাশ্মীরে থাকা সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে পাঠাত। এই তথ্যের বিনিময়ে সে নিয়মিত অর্থও পেত বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। ধৃতের মোবাইল ফোন থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সেই কারণেই তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হামলার ষড়যন্ত্রের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন।

    ছাপোষা জীবনের আড়ালে সক্রিয় নেটওয়ার্ক

    তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আরও বিস্ময়কর। বাইরে থেকে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিদের ভূমিকা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাওড়ার পিলখানায় তার পরিবারের বসবাস। বাবা গেঞ্জির কারখানায় কাজ করতেন এবং হামিদও দীর্ঘদিন সেই কারখানাতেই কাজ করেছে। স্থানীয়ভাবে সে দর্জির কাজও করত বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। পিলখানা এলাকায় উচ্ছেদের নোটিস পাওয়ার পর সে বর্ধমানে চলে আসে। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং-এ থাকছিল সে। এই সময়েই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সেই সময় থেকেই কি নতুন করে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল।

    পূর্ব ভারতে নেটওয়ার্ক বিস্তারের দায়িত্ব?

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিদের দায়িত্ব ছিল পূর্ব ভারতে সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক বিস্তার করা। শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, নতুন সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা, সংগঠনের সদস্যদের আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া— একাধিক দায়িত্ব সামলাত সে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। গোয়েন্দাদের মতে, তার সাধারণ চেহারা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনই ছিল সবচেয়ে বড় আড়াল। সেই কারণেই দীর্ঘদিন সন্দেহের বাইরে থাকতে পেরেছিল সে।

    শুধু বাংলা নয়, উত্তর-পূর্বেও সক্রিয় একই নেটওয়ার্ক

    এই তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অসমেও একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। অসমে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি এবং একাধিক সন্দেহজনক নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই নেটওয়ার্ক সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ, রেইকি, গুপ্তচরবৃত্তি, স্লিপার সেল গঠন, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সহায়তার মতো একাধিক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

    পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ

    তদন্তে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করত। গোয়েন্দাদের মতে, আইএসআই-সমর্থিত এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সদস্য সংগ্রহ ও অপারেশন পরিচালনার চেষ্টা চলছিল। সোশ্যাল মিডিয়া— বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম— ব্যবহার করে নতুন সদস্য নিয়োগ, ভয়েস নোটের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো এবং সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র ও মাদক পাচারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

    সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত হামিদ কুখ্যাত জঙ্গি সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সদস্য। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, টার্গেটেড কিলিং, অস্ত্র পাচার এবং উগ্রপন্থী নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধীরে ধীরে এই নেটওয়ার্ক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে কি না, এখন সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাকে একই সূত্রে মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা

    মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই প্রশাসন দ্রুত নড়েচড়ে বসেছে। নিরাপত্তা বলয়ের প্রতিটি স্তর নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ধৃত হামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগীদের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলার সম্পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। হামিদের ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন।

  • ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি বড়সড় অভিযানে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পাকিস্তান-সমর্থিত একটি জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস করে সেটিকে ধ্বংস করেছে। অভিযোগ, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অপারেটিভদের মাধ্যমে এই মডিউলটি পরিচালনা করছিল। “গ্যাং বাস্ট অপারেশন ২.০”-এর আওতায় একাধিক রাজ্য থেকে ৯ জন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি মডিউলটি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) এবং উত্তরপ্রদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় ছিল বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দিরও।

    দিল্লির ঐতিহাসিক মন্দিরে রেকি, ছবি যায় পাকিস্তানে…

    সূত্রের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন অভিযুক্ত দিল্লির ওই ঐতিহাসিক মন্দির এলাকায় রেকি চালিয়েছিল। মন্দির চত্বর ও আশপাশের ছবি তুলে তা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, মন্দিরে মোতায়েন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা ছিল। শুধু মন্দির নয়, দিল্লি-সোনিপত হাইওয়ের একটি ব্যস্ত ধাবাতেও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা থাকায় এই হামলা সফল হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, জনবহুল জায়গাকে টার্গেট করে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।এছাড়াও হরিয়ানার হিসারের একটি সামরিক শিবিরও জঙ্গিদের নিশানায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই সেনা ছাউনির আশপাশের ভিডিও তৈরি করে সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি থানাকেও টার্গেট তালিকায় রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।

    পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের অংশ

    বৃহস্পতিবার এই ৯ জনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। মডিউলটির সঙ্গে আইএসআই এবং হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থা। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা দিল্লির যে মন্দিরটিকে টার্গেট করা হয়েছিল তার সঠিক নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজে বের করতে তৎপর। ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন, চ্যাট হিস্ট্রি ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে অর্থ জোগান আসছিল, কারা স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষা করছিল এবং আর কোনও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। জেরা যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    এপ্রিল-মে মাসে আরও জঙ্গির ধরপাকড়

    বৃহস্পতিবারই উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-ও পাকিস্তান-যোগ থাকা একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র ফাঁস করার দাবি করেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম বরাবাঁকির বাসিন্দা দানিয়াল আশরাফ ও গোরক্ষপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণ মিশ্র। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ এবং একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের নির্দেশে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ছক কষছিল। সাম্প্রতিক গ্রেফতারি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ২৪ এপ্রিল আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ এটিএস। ধৃতরা হল তুষার চৌহান ওরফে হিজবুল্লাহ আলি খান এবং সমীর খান। অভিযোগ, তারা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। অভিযানের সময় ওই দু’জনের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত ‘হাইব্রিড টেরর’ মডিউলের মাধ্যমে স্থানীয় অপরাধী চক্র ও গ্যাংস্টারদের ব্যবহার করে হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ফলে আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • Delhi Police: দিল্লিতে বড় আত্মঘাতী হামলার ছক পাকিস্তানের! ধৃত ২ সন্দেহভাজন ‘ফিদায়েঁ’ জঙ্গি

    Delhi Police: দিল্লিতে বড় আত্মঘাতী হামলার ছক পাকিস্তানের! ধৃত ২ সন্দেহভাজন ‘ফিদায়েঁ’ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের রাজধানীতে জঙ্গি হামলার একটি বড়সড় ছক বানচাল (Terror Plot Foiled) করল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ল ২ সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেট জঙ্গি (ISIS Operatives Arrested)। শুক্রবার সকালে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল ওই দুই সন্দেহভাজন আইসিস বা আইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। এক সন্দেহভাজন জঙ্গি দিল্লির বাসিন্দা। অপরজনের বাড়ি মধ্যপ্রদেশে। দুজনেরই বয়স ২০ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।

    অস্ত্রশস্ত্র এবং বিস্ফোরক তৈরির মশলা উদ্ধার

    সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অভিযানের সময় ধৃত দুই জঙ্গিরই নাম আদনান। এক জঙ্গিকে দিল্লির সাদিক নগর থেকে এবং অন্যজনকে ভোপাল থেকে ধরা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দিল্লির কোনও একটি জনবহুল এলাকায় জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র (Terror Plot Foiled) করা হয়েছিল। যে অস্ত্রশস্ত্র এবং বিস্ফোরক সংগ্রহ করেছিল তারা, যা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের কাছ থেকে বিস্ফোরক উপকরণ, অ্যাসিড, সালফার পাউডার, বল বিয়ারিং এবং আইইডি সার্কিটের মতো বোমা তৈরির রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়েছে।

    দিল্লিতেই আত্মঘাতী হামলার ছক ছিল!

    ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা (Delhi Police) জানতে পেরেছেন, তাদের পরিকল্পনা বেশ অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, আইইডি বিস্ফোরণের প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। এই দু’জন আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। দিল্লিতেই ফিদায়েঁ হামলার ছক ছিল তাদের। তারা আইসিসের সঙ্গে যুক্ত হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে আর কে জড়িত, কোথায় হামলার পরিকল্পনা ছিল, কোথা থেকে হামলার নির্দেশ আসছে, যাবতীয় তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই গ্রেফতারির ফলে দিল্লিতে বড়সড় নাশকতার ছক (Terror Plot Foiled) ভেস্তে গেল, আত্মবিশ্বাসী গোয়েন্দারা (Delhi Police)।

    নেপথ্যে আইএসআইয়ের হাত!

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গিদের নেপথ্যে আইএসআইয়ের হাত রয়েছে বলেই অনুমান। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার হয়ে নাশকতা ছড়াতে ভারতে এসে আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করেছে ধৃতরা, এমনটাই মনে করা হচ্ছে (Delhi Police)। আসল পরিচয় গোপন করতেই এই কৌশল। তবে দুই জঙ্গি গ্রেফতার হওয়ার পরেও অপারেশন চলছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, নাশকতার ষড়যন্ত্রে (Terror Plot Foiled) আরও কয়েক জন আইএস জঙ্গি জড়িত থাকতে পারে।

LinkedIn
Share