Tag: Pakistan Nuclear Command Authority

  • Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    সুশান্ত দাস

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন—দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর কি এখন কার্যত একক নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির? আর যদি তাই হয়, তাহলে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পাকিস্তানের সাংবিধানিক পরিবর্তন, সামরিক কাঠামোর রদবদল, পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থার প্রকৃতি এবং ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল—সবকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

    কী বদলেছে পাকিস্তানে?

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার নতুন Chief of Defence Forces (CDF) পদ সৃষ্টি করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে। এই পদে তিন বাহিনীর (স্থল, নৌ ও বিমান) সর্বোচ্চ সামরিক কর্তৃত্ব একত্রিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত কমান্ড ব্যবস্থার উপরও তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু সংবাদমাধ্যমে এটিকে ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’ বলে বর্ণনা করা হলেও, বাস্তব চিত্র কিছুটা বেশি জটিল।

    ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ বলতে কী বোঝায়?

    সাধারণ মানুষের কাছে ‘‘নিউক্লিয়ার বাটন’’ বলতে এমন একটি বোতামের ধারণা তৈরি হয়, যা একজন ব্যক্তি চাপলেই পারমাণবিক হামলা শুরু হয়ে যায়। বাস্তবে কোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশেই বিষয়টি এতটা সরল নয়। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র পরিচালনা করে ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (NCA) এবং তার অধীনস্থ স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান্স ডিভিশন (SPD)। এই ব্যবস্থায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্তরের অংশগ্রহণ রয়েছে। যদিও নতুন কাঠামোতে আসিম মুনিরের প্রভাব অনেক বেড়েছে, তবুও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখনও একটি প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমেই কার্যকর হয়। অর্থাৎ, ‘‘একটাই বোতাম টিপে যুদ্ধ শুরু’’— এমন ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে।

    কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

    বিশ্লেষকদের মতে উদ্বেগের মূল কারণ কেবল সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়, বরং আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও তাঁর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। গত কয়েক মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক কড়া মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় সূত্রের দাবি, তিনি পারমাণবিক প্রতিরোধ নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন। যদিও পাকিস্তান পরে জানায়, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা স্বাধীনভাবে ওই দাবিগুলি যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা নীতি এবং আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণে আসিম মুনিরের প্রভাব বর্তমানে অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?

    ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কিনা এই প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তরটি ‘‘হ্যাঁ, তবে আতঙ্কিত হওয়ার নয়।’’ কারণ—

    • প্রথমত, ভারত বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে মাথায় রেখে নিজস্ব প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করে আসছে।
    • দ্বিতীয়ত, ভারতের রয়েছে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি, মহাকাশভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ (Credible Minimum Deterrence) নীতি।
    • তৃতীয়ত, ভারত এখনও ‘‘নো ফার্স্ট ইউজ’’ (NFU) বা প্রথম ব্যবহার নয় নীতির কথা বললেও, পাকিস্তান বরাবরই প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প খোলা রেখেছে। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক-সামরিক নেতৃত্বে ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীকরণ ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব

    পাকিস্তানে বহু দশক ধরেই সেনাবাহিনী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বহু পর্যবেক্ষকের মত। এর ফলে নির্বাচিত সরকারের তুলনায় সেনাবাহিনীর প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিক মহল কী দেখছে?

    পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো এখন আরও বেশি সামরিককেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, চিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায়ও আসিম মুনির ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন।

    ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে…

    ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’— এমন দাবি বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিসরল করে তুলে ধরে। তবে এটাও সত্য যে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক ও সামরিক পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোয় তাঁর প্রভাব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ভারতের জন্য এর অর্থ তাৎক্ষণিক যুদ্ধের আশঙ্কা নয়, বরং পাকিস্তানের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, পারমাণবিক নীতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উপর আরও নিবিড় নজর রাখা। দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক প্রতিরোধের ভারসাম্য এখনও বহাল থাকলেও, যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে আরও কেন্দ্রীভূত হয়, তখন ভুল হিসাব বা সংকটের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

LinkedIn
Share