Tag: Pakistan Occupied Kashmir

Pakistan Occupied Kashmir

  • India Embassy Slams NYT: ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলায় ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র কড়া সমালোচনা ভারতের

    India Embassy Slams NYT: ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলায় ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র কড়া সমালোচনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ হিসেবে উল্লেখ করায় মার্কিন সংবাদপত্র ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র তীব্র সমালোচনা করল আমেরিকার ভারতীয় দূতাবাস (India Embassy Slams NYT)। সংবাদপত্রটির ব্যবহৃত শিরোনামকে “বিভ্রান্তিকর ও ভুল” বলে অভিহিত করেছে দূতাবাস। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানও ফের একবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে (POK)। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই পাকিস্তানি কাশ্মীরে সংঘর্ষ।” ওই প্রতিবেদনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনাগুলি তুলে ধরা হয়।

    শিরোনাম বিভ্রান্তিকর ও ভুল

    এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতীয় দূতাবাস সংবাদপত্রটির ব্যবহৃত পরিভাষা প্রত্যাখ্যান করে। দূতাবাস বলেছে, “নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম বিভ্রান্তিকর ও ভুল। ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলে কিছু নেই, রয়েছে শুধুই পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর।” দূতাবাস আরও জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বেআইনিভাবে পাকিস্তানের দখলে থাকা ভূখণ্ডগুলিও ভারতের অংশ বলে দাবি করেছে তারা। ভারতীয় দূতাবাসের অভিযোগ, পাকিস্তান এখনও ওই অঞ্চলের কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করছে। দূতাবাসের বক্তব্য, “পাকিস্তান এই ভূখণ্ডগুলির কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে এবং এখন আবার দখল করা এলাকার মানুষের বিরুদ্ধেই হিংসা ব্যবহার করছে।” পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সেখানে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের দমন করতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। এতে ৩০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষ নিহত এবং অন্তত ৩৩ জন জখম হয়েছেন (India Embassy Slams NYT)।

    আছড়ে পড়ল বিক্ষোভের ঢেউ

    এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অব্যবস্থা, কথিত রাজনৈতিক বৈষম্য এবং ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, সেই পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেন। ওই অঞ্চলে পাকিস্তান সরকারের  আয়োজিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভারত বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। ভারতের অবস্থান, পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের কোনও আইনি বৈধতাই নেই (POK)। চলতি সপ্তাহের গোড়ায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকও পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনকে “লোকদেখানো নির্বাচনী প্রক্রিয়া” বলে অভিহিত করে। ভারতের দাবি, বেআইনি দখলকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারত (India Embassy Slams NYT)। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে একাধিক স্থানীয় সংগঠন। তাদের মধ্যে রয়েছে জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশনও (India Embassy Slams NYT)।

    প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধের দাবি

    এদিকে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছেও আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, তথাকথিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত করতে হবে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রাওয়ালাকোট, মুজাফফরাবাদ-সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে বিপুল সংখ্যায় পাক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে (India Embassy Slams NYT)। সূত্রের আরও দাবি, একাধিক সংগঠনের স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের প্রশাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরই প্রতিফলন (POK)। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্রমশ কমছে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

     

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) জ্বলল অশান্তির আগুন। রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে নিউ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ মুঘল, জাফর মুঘল, আরসালান আকবর এবং ওয়াজিদ হায়াত। তাঁদের মধ্যে ওয়াজিদ রাওয়ালাকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনাল এলাকায় নিহত হন বলে খবর।

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে (POK)

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রক্তক্ষয়ী ঘটনার এক দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবিলম্বে এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

    মানবিক সাহায্যের আবেদন

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে পুঞ্চ এবং ডোডা সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেওয়া হোক (POK)। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছেন। ২০২৫ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল হলেও, ৫৭ শতাংশেরও বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার, যা পাকিস্তানের জাতীয় গড় ১৯.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে।

    কী বলল ভারত?

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ছবিও উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩৯ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে। প্রতি এক লাখ জীবিত সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে ১০৪ জন মায়ের। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফল।” তিনি এও বলেন, “স্থানীয় মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান চরম পুলিশি দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে (POK)।” ভারতের দাবি, পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে পাকিস্তানকে।

     

  • Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি নীতিনির্ধারণী সেমিনার থেকে তামাম বিশ্বকে বড় বার্তা দিয়ে খবরের শিরোনামে ভারতীয় কূটনীতিক পূজা কুমারী ঝা (Pooja Kumari Jha)। ভারতের মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir India) ভুল উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রচারের আলোকে চলে এসেছেন তিনি। ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এ আয়োজিত “আস্থা পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সংহতির নবায়ন: সার্ক পুনরুজ্জীবনের পথ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন পূজা। সেখান থেকেই দৃঢ় গলায় জানিয়ে দেন জন্মু-কাশ্মীরের ভুল উপস্থাপন নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তির কথা।

    জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই (Jammu Kashmir India)

    জানা গিয়েছে, ঢাকার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ভারতে বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার আহমেদ তারিক করিম। তিনি ২০০৯ থেকে ’১৪ পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তব্যের সময় তাঁর উপস্থাপনায় ভারতের একটি মানচিত্র দেখানো হয়। সেই ম্যাপে জম্মু- কাশ্মীরের সীমানা ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেই ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পূজা। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, “এখানে ভারতের যে মানচিত্রটি দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিকঠাক নয়। জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন অংশ।” তাঁর আপত্তির জবাবে আহমেদ তারিক করিম বলেন, “এই মানচিত্রটি কেবল উপস্থাপনার সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রকৃত আন্তর্জাতিক সীমানা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়নি।” তবে তাঁর এই ব্যাখ্যার পরেও ভারতের সরকারি অবস্থান মনে করিয়ে দেন পূজা। বলেন, “আমি আপনার বক্তব্য বুঝতে পারছি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এখানে সেটাই ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। তাই বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেছি।”

    ঢোক গিলতে হল বাংলাদেশকে!

    এই সময় (Jammu Kashmir India) করিম জানতে চান, তিনি ভারতের প্রতিনিধি কি না। উত্তরে নিজের পরিচয় দিয়ে পূজা জানান, তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব। বাধ্য হয়ে করিম বলেন, “আপনার বক্তব্য নথিভুক্ত করা হল।” এই বলেই তিনি তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরে করিম জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি আইনি সার্বভৌমত্ব অর্জন করলেও, তাদের পরিচয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ভূখণ্ডগত নিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, ঔপনিবেশিক শাসন শুধু সীমান্ত নির্ধারণ করেনি, বরং রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার ধরনও বদলে দিয়েছিল। এর ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে অনেক সময় সহযোগী নয়, সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

    দেশভাগের জের

    তিনি আরও জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের আগে দক্ষিণ এশিয়া কঠোরভাবে বিভক্ত ভূখণ্ড ছিল না। সাম্রাজ্য, দেশীয় রাজ্য, বাণিজ্যপথ, তীর্থযাত্রা, ভাষাগত ধারাবাহিকতা এবং পরিবেশগত সংযোগের মাধ্যমে মানুষ অবাধে চলাচল করত, বাণিজ্য হত, বিবাহ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চলও ছিল। দেশভাগের ফলে পরিবার, বাজার, নদী, রেলপথ, বন্দর, স্মৃতি এবং (Jammu Kashmir India) পরিচয় বিভক্ত হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “দেশভাগ ছিল যেন একটি পরিবারের বাড়িকে ভাগ করে দেওয়ার মতো ঘটনা (Pooja Kumari Jha)।” সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

    কে এই পূজা?

    এদিকে, ভারতীয় কূটনীতিক পূজার এই প্রতিবাদের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, মানচিত্রে আপত্তি তুলে ধরে পূজা স্পষ্ট ভাষায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূজা ভারতীয় বিদেশ পরিষেবার ২০২২ ব্যাচের আধিকারিক। ওই বছরই তিনি প্রথমবারের চেষ্টায়ই ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৮২তম স্থান লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্রই ২৫ বছর। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানিয়েছিলেন, তাঁর শৈশব আর্থিক সঙ্কট ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। পরিবারের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তিনি দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir India) প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান বরাবরই এক। নয়াদিল্লির দাবি, সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে ভারত বরাবরই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর খালি করার দাবি জানিয়ে এসেছে, এবং এই ইস্যুতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে (Pooja Kumari Jha)।ঢাকার এই সাম্প্রতিক ঘটনায়ও ভারতীয় কূটনীতিক পূজা সরকারের সেই অবস্থানই আরও একবার জানিয়ে দিলেন প্রকাশ্যে। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বিআইআইএসএস। এর লক্ষ্য হল নানা আন্তর্জাতিক, নিরাপত্তা, কৌশলগত ও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা পরিচালনা করা। এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত (Jammu Kashmir India)।

     

  • POK: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ পড়ল ২২ দিনে, ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সরব আন্দোলনকারীরা

    POK: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ পড়ল ২২ দিনে, ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সরব আন্দোলনকারীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) রাওয়ালাকোটে (Rawalakot) ইসলামাবাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভ মঙ্গলবার পড়ল ২২তম দিনে। ঈদগাহ গ্রাউন্ডে (Eidgah Ground) অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। সেখানে বক্তারা (Pakistan Protesters) দাবি করেন, এই অঞ্চলকে আর পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, এবং প্রয়োজনে ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের পথ খোঁজার কথাও বলেন।

    অব্যাহত আন্দোলনকারীদের ওপর নিপীড়ন (POK)

    আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুশাসনের অভাব, অর্থনৈতিক সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অবহেলা এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গত ৫ জুন থেকে গোটা অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে আন্দোলনের খবর বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে এবং জনসংযোগ সীমিত থাকে। স্থানীয় নাগরিক অধিকার-কর্মী সর্দার আমান খানের নেতৃত্বে আন্দোলন আরও জোরদার হয়, যখন পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দু’সপ্তাহের জন্য খাদ্য-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে অবরোধ জারি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই বিক্ষোভে মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদকে

    সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমান বলেন, “পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ নয়, এবং এই অঞ্চলের পাকিস্তানকে যতটা প্রয়োজন, তার চেয়ে ঢের বেশি প্রয়োজন পাকিস্তানেরই।” তাঁর দাবি, ৯ জুন থেকে নিয়ন্ত্রণরেখার (LoC) কাছে আলাদা একটি অবস্থান-বিক্ষোভও চলছে। একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকে, তাহলে এখানকার মানুষ ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চাওয়ার কথা ভাবতে পারে।” তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং ইসলামাবাদের ওপর চাপ বাড়বে।”

    স্বৈরাচার মানব না

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওয় দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা পাক-শাসিত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে মানতে অস্বীকার করছেন। এর পাশাপাশি তাঁরা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন। সাফ জানিয়ে দেন কোনও ধরনের স্বৈরাচার মেনে নেওয়া হবে না। যদিও, এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি (POK)। এদিকে, এই আন্দোলন শুধু পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ নেই, বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী মানুষও পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনকারীদের নেতারা জানিয়েছেন, মুজাফফরাবাদ-সহ (Pakistan Protesters) সমগ্র অঞ্চল নিয়ে তাঁদের রাজনৈতিক দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে আন্দোলন (POK)।

     

  • Pakistan: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে অমানবিক ব্যবহার ইসলামাবাদের!

    Pakistan: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে অমানবিক ব্যবহার ইসলামাবাদের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া মোড় নিল পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর এবার ওই এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। ফলে সাধারণ মানুষের (POK) দুর্ভোগ চরমে। নিদারুণ যন্ত্রণা সয়েই কোনওক্রমে দিন গুজরান করছেন পিওকের বাসিন্দারা।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যান চলে বাধা (Pakistan)

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যশস্য, জ্বালানি তেল ও ওষুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহনকে পিওকেতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তার জেরে আগে থেকেই চলা সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে। যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ঘোষিত অঞ্চলব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও, আন্দোলনকারীদের দাবি—সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলছে। যদি পাক-প্রশাসন এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে সরকার। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে তথ্য গোপন করছে।

    নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি

    এদিকে, আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চলবে। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং বিদেশে বসবাসকারী  কাশ্মীরিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাক নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে নিহত কয়েকজনের মরদেহও প্রশাসন সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। পিওকের এক বাসিন্দা জানান, নিরস্ত্র মানুষকে কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তাই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে (Pakistan)।

    অস্থিরতার সূত্রপাত

    মূলত ১২টি আইনসভা আসনকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। এসব আসন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং নিজেদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার জেএএসিকে জঙ্গি সংগঠন বলে দেগে দেয়, এবং তাদের সমর্থকদের সন্ধানে অভিযান চালাতে শুরু করে। বিভিন্ন (POK) প্রতিবেদনে দাবি, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও দমন-পীড়নের ঘটনায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Pakistan)।

     

  • India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি তৈরির কারখানা। একটা ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ (Frankenstein state)। রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ভারতের। শুক্রবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং বলেন, ‘‘ওই দেশটি এখন নিজের তৈরি দানবের (সন্ত্রাসবাদী) কামড় খেয়ে নিজেরাই চমকে উঠেছে।’’ রাষ্ট্রসংঘে দিল্লির প্রতিনিধি (India Pakistan Relation) অনুপমা সিং বলেন, “সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ, মোতায়েন এবং আশ্রয়” দেওয়াই ইসালামাবাদের কাজ। সম্মেলনে পাক প্রতিনিধি কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলতেই পালটা আক্রমণ করেন ভারতের প্রতিনিধি।

    পাকিস্তানের হিংসা ও দমনপীড়ন

    পাকিস্তানের প্রতিনিধি জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় তার জবাব দিতে গিয়ে অনুপমা পাল্টা অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদ ধারাবাহিক ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ-সহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল, ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি।’’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এমন এক দেশ, যার বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী “রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে জঙ্গিদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ এবং কাজে লাগানোর বিষয়ে গর্ব করেন। অথচ পাকিস্তান নিজেকেই সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে দাবি করে। সত্যিই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য, যা কেবল পাকিস্তানই জিইয়ে রাখতে পারে। ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রাষ্ট্রের জীবন্ত উদাহরণ, নিজেরই সৃষ্টি করা দানবের পালটা কামড়ে হতবাক হয়ে পড়ে।” পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে সিন্ধুচুক্তি বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেন ভারতীয় প্রতিনিধি। ভারতের অনুপমা সিংয়ের বক্তব্যের সামনে কার্যত দাঁড়াতে পারেনি পাক প্রতিনিধি।

    গায়ের জোরে দখলদারি

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রাওয়ালাকোটের হিংসা ও দমনপীড়নের উল্লেখ তিনি পাকিস্তান সরকার এবং সেনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। চলতি মাসের গোড়া থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সাধারণ জনতার। ওই অঞ্চলে আর্থিক দুর্দশা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। সম্প্রতি ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তার পর থেকেই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পাক সেনা এবং রেঞ্জার্স বাহিনীর হামলাও। নির্বিচার গুলিবর্ষণে এ পর্যন্ত শতাধিক সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে অনুপমা বলেন, “রাওয়ালাকোটের এই ট্র্যাজেডি, শত শত সাধারণ নাগরিককে হত্যা এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে চালানো নৃশংস দমন-পীড়ন আদতে প্রত্যাশিত পরিণতি। কারণ তা গায়ের জোরে দখলদারির উপর প্রতিষ্ঠিত। দমন-পীড়ন চালিয়েই শাসন টিকিয়ে রাখা হয়েছে।” একটি সূত্রে দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মোট মৃতের সংখ্যা তিরিশ ছাড়িয়েছে। এই বিষয়ে অনুপমা বলেন, “কয়েক দশক ধরে সামরিক শক্তিতে ভূমি দখল, জনবিন্যাস নিয়ে কারসাজি এবং মৌলিক স্বাধীনতা হরণের ফলে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনকী খাদ্য, বিদ্যুৎ, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার মতো দাবিওগুলিও বন্দুক উঁচিয়ে চেপে দেওয়া হচ্ছে।”

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভে গুলিবৃষ্টি পুলিশের, নিহত অন্তত ১৬, জখম ৩৭

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভে গুলিবৃষ্টি পুলিশের, নিহত অন্তত ১৬, জখম ৩৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) রাওয়ালকোটের ইদগাহ ময়দানে বিক্ষোভকারীদের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। ৩৭ জন জখম হয়েছেন বলেও খবর। বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Open Fire)।

    শান্তিপূর্ণ জমায়েতে চলল গুলি (POK)

    জানা গিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য যেমন আটা, চাল, বিদ্যুৎ ও মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাকিস্তানি সেনারা একে-৪৭ রাইফেল থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালকোটে ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ সমবেত হয়ে পাকিস্তানের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন ৩০ জন। জখম হন প্রায় ২০০ জন। ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীদের স্লোগান, “এই সন্ত্রাসের পেছনে রয়েছে ইউনিফর্মধারীরাই”।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য

    খাইগালা গ্রামেও স্থানীয় বাসিন্দারা বাজার বন্ধ রেখে মিছিল বের করেন। প্রতিবাদ জানান হিংসার। সংঘর্ষের পর বিভিন্ন এলাকায় শোনা যায় কান্নার রোল। আন্দোলনের নেতা তথা রাজনৈতিক কর্মী সর্দার আমান খান জানান, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া হবে, এবং পাকিস্তান তাদের অধিকারের দাবিদারদের ‘জঙ্গি’ বলে দেগে দিচ্ছে (POK)। সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন। তারা বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সমালোচনা করেন। নিহত ও আহতদের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

    এদিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কঠোর (Open Fire) পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে (POK)।

     

  • PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি — সংক্ষেপে জেএএসি বা ‘জাক’ (JAAC)— সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, রাওয়ালাকোটে একটি শোকসভা ও ‘জনাজা’র জমায়েতে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

    কীভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ?

    ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন, যখন জেএএসি ৯ জুন সমগ্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে ধর্মঘট ও গণআন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংঘর্ষের জেরে অন্তত ২০০ জন আহত এবং কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালকোটের বারমাং ব্রিজ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় স্থানীয় অধিকারকর্মী সর্দার উমর নাজির কাশ্মীরিকে বহনকারী একটি গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনী আটকায়। অভিযোগ, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সর্দার উমর নাজির অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহজেব হাবিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের সম্পদ শোষণ করছে, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে তুলছে।

    জনাজার জমায়েতে গুলি চালানোর অভিযোগ

    জেএএসি-র দাবি, শাহজেব হাবিবের জনাজার নামাজ উপলক্ষে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের (CMH) বাইরে জড়ো হওয়া শোকাহত মানুষ ও আন্দোলনকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও শেল নিক্ষেপ করে। সংগঠনের অভিযোগ, পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের গুলিতেই হাবিব নিহত হন। জেএএসি আরও দাবি করেছে যে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি এবং অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চারজন নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হয়েছেন এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

    ‘সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে জেএএসি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এনেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ’ এবং ‘অরাজকতা সৃষ্টি’-র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জেএএসি নেতাদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জনস্বার্থে পরিচালিত। সংগঠনের সদস্য শওকত নওয়াজ মির বলেন, “আমরা কোনও দেশ, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত অন্যায়। ৯ জুন থেকে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ লং মার্চ শুরু হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    ৩৮ দফা দাবিপত্রে কী রয়েছে?

    জেএএসি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটি ৩৮ দফা দাবিপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দাবি হল—

    • ● বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস
    • ● ভর্তুকিযুক্ত আটা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
    • ● স্থানীয় সম্পদের উপর জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি
    • ● রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি
    • ● বহিরাগতদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল

    জেএএসি-র অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলি স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, বাড়ছে ক্ষোভ

    অঞ্চলে একাধিক জেএএসি নেতার গ্রেফতারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবার উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

    আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের একদল সাংসদও। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাশ্মীর বিষয়ক সর্বদলীয় গোষ্ঠীর (APPG on Kashmir) চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাডফোর্ড ইস্টের সাংসদ ইমরান হুসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রায় ৩০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, গ্রেফতারি অভিযান, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জেএএসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যোগাযোগের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ, সংযম এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

    দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, স্থানীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চলেছে। বিশেষত গত বছর থেকে একাধিকবার বৃহৎ বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনগণের একাংশের অভিযোগ, ইসলামাবাদ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বর্তমান সংঘর্ষ সেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভেরই নতুন বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে জেএএসি-র ঘোষিত লং মার্চ এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

  • Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন (Gilgit Baltistan Elections) আয়োজনের কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দে করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চল ভারতের (India) অংশ, যা পাকিস্তান অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Gilgit Baltistan Elections)

    পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল, ছ’বছর পরে গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে ২ জুন। এর পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। সরকারি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার ফের তার সুপরিচিত অবস্থান স্পষ্ট করছে যে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ, যার মধ্যে তথাকথিত গিলগিট-বাল্টিস্তানও অন্তর্ভুক্ত, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সম্পূর্ণ, বৈধ ও অপরিবর্তনীয় ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ।” বিদেশমন্ত্রক এও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বাল্টিস্তানও সেই দাবিরই অন্তর্ভুক্ত।

    দখল করা এলাকা খালি করুক পাকিস্তান

    পাকিস্তানকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা অঞ্চল খালি করার আহ্বান জানিয়ে ভারত বলেছে, ওই অঞ্চলের চরিত্র বা প্রশাসনিক অবস্থার কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার চেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলে কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জোর দিয়ে বলে যে, এসব পদক্ষেপ পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্বের সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। পাকিস্তানকে এই ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করতেই হবে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে (Gilgit Baltistan Elections), এই ধরনের উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি ঢাকতে পারবে না।

    মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য

    এদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার কর্মী আমজাদ আইয়ুব মির্জা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, ক্রমশ চাপ বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর। তাঁর দাবি, অন্য রাজনৈতিক কর্মীদেরও গ্রেফতার এবং আটক করা হচ্ছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বহু সদস্যকে জেলে পাঠানো হচ্ছে স্রেফ তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিকে দমন করতে।

    গিলগিট-বাল্টিস্তান

    প্রসঙ্গত, গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একটি অঞ্চল বলে দাবি করে ভারত, যদিও প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান।ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি জম্মু-কাশ্মীরের দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত (India) স্বাধীন হওয়ার পর এবং দেশভাগের সময়, তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দলিলে সই করেছিলেন। যদিও তারপর থেকে গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং তথাকথিত “আজাদ জম্মু-কাশ্মীর” পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পাক সরকার এলাকাটি শাসন করলেও, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল (Gilgit Baltistan Elections)। পাক সরকারের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের ক্ষোভের পারা ক্রমেই বাড়ছে (India)।

     

  • POK: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে”, বললেন ইমাম ইলিয়াসি

    POK: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে”, বললেন ইমাম ইলিয়াসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে।” জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়ে এক বিবৃতিতে এই (POK) ঘোষণা করেন ইমাম উমের আহমেদ ইলিয়াসি (Imam Umer Ahmed Ilyasi)। সাংবাদিক সম্মেলনে ইলিয়াসি বলেন, “পিওকে, যেটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অবশ্যই ভারতের সঙ্গে ফের যুক্ত হবে, কারণ পিওকের মানুষ সেখানে গণভোট চায়।” তাঁর এহেন মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।

    ইলিয়াসির বক্তব্য (POK)

    তিনি বলেন, “এই পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং স্থানীয় মানুষের বাস্তব ইচ্ছের ওপর ভিত্তি করেই জানা গিয়েছে পুনর্মিলনের এই আকাঙ্খার কথা। আল্লার ইচ্ছেয় তাদের ‘ঘর ওয়াপসি’ শিগগিরই হবে। এটি সেখানকার মানুষেরই ইচ্ছে।” জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হওয়ার পর ভূস্বর্গে যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তার উল্লেখ করে ইলিয়াসি অঞ্চলটিকে “নয়া কাশ্মীর” বলে বর্ণনা করেন। এই নয়া কাশ্মীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির। তিনি বলেন, “উপত্যকার পরিবেশে উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আজকের কাশ্মীর অসাধারণ হয়ে উঠেছে। সর্বত্র উন্নয়ন হয়েছে, হাল ফিরেছে পর্যটন শিল্পের।”

    শিশু-তরুণদের হাতে কলম

    অতীতের সঙ্গে তুলনা করে ইলিয়াসি বলেন, “এক সময় এখানে তরুণ ও শিশুরা পাথর ছুড়ত। আজ তাদের হাতে কলম, তারা পড়াশোনা করছে।” ইলিয়াসির মতে, এই পরিবর্তনগুলি পিওকের বাসিন্দারাও লক্ষ্য করছে। তারা নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণও করছে। তিনি মনে করেন, এই উন্নয়নই পিওকেতে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি জোরলো করছে (POK)। ইলিয়াসের বক্তব্যে উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটনের পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থার প্রত্যাবর্তনের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ (Imam Umer Ahmed Ilyasi)।

    ভূস্বর্গে আসুন, আহ্বান ইলিয়াসির

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় সংঘটিত জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইলিয়াসি বলেন, “যদিও ওই ঘটনার ফলে পর্যটন শিল্পে সাময়িক প্রভাব পড়েছিল, পরিস্থিতি এখন উন্নত হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলতে চাই, কাশ্মীর ভ্রমণ করুন। এখন আর ভয়ের পরিবেশ নেই।” তিনি দেশ-বিদেশের মানুষকে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি উপভোগ করার আহ্বানও জানান (POK)। ইলিয়াসির এই আহ্বান কাশ্মীরকে একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যস্থল হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবিকায় সহায়তা করছে (Imam Umer Ahmed Ilyasi)। ইলিয়াসি এও বলেন, “পিওকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান। বিভিন্ন সরকার ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থান বজায় রেখেছে।” তিনি এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং মানুষের ইচ্ছে ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরেন।

    যুদ্ধ সবার ক্ষতি করে

    এদিন ইলিয়াসি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়েও মন্তব্য করেন। তুলে ধরেন যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথা। বলেন, “যুদ্ধ সবার ক্ষতি করে। এটি ধ্বংসের প্রতীক।” তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান ইলিয়াসি। ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়েও আশাবাদী ইলিয়াসি। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির প্রতি আমার আস্থা আছে—আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি মধ্যস্থতা করবেন এবং যুদ্ধ শেষ হবে… শান্তি ফিরে আসবে (POK)।” ইলিয়াসির বক্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে উন্নয়ন, পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা ভারতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থান (Imam Umer Ahmed Ilyasi) দখল করে রয়েছে।

    ইলিয়াসির নয়া দৃষ্টিভঙ্গি

    কাশ্মীরের উন্নয়নের সঙ্গে পিওকের আকাঙ্ক্ষাকে যুক্ত করে ইলিয়াসি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন—যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদিও পিওকে-সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা জটিল, তবুও এই ধরনের বক্তব্য উন্নয়নকেন্দ্রিক বয়ানের গুরুত্বকেই তুলে ধরে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ইলিয়াসির এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অবস্থান, উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ এবং শান্তির আহ্বান—এই তিনটির সমন্বয় দেখা যায়। পিওকের ভারতের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং কাশ্মীরের উন্নয়নের প্রশংসা একটি অগ্রগতি-নির্ভর বিষয়কে আরও জোরালো করে (POK)। একই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তির আহ্বান এবং ভারতের নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক (Imam Umer Ahmed Ilyasi) পরিসরে স্থিতিশীলতার একটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে।

     

LinkedIn
Share