Tag: Pakistan Politics

Pakistan Politics

  • Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে দেশটিতে (Pakistan) ফের একবার উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনীর তিন প্রবীণ আধিকারিক মনে করেন, জেলেই হয়তো ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সাংবাদিক নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর সূত্রগুলির কেউই ব্যক্তিগতভাবে ইমরানকে দেখেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাংবাদিক ওয়াজাহাত ১০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওয় এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দফতরে কর্মরত প্রবীণ আধিকারিকদের কাছ থেকেই এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

    সাংবাদিকের দাবি (Imran Khan)

    ওয়াজাহাতের দাবি, অন্তত তিনজন আধিকারিক আলাদাভাবে তাঁকে জানিয়েছেন যে ইমরান আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি কবুল করেছেন, তাঁর কোনও সূত্রই ইমরানকে নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি আশা করছেন, দাবিটি সত্য নয়। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতারা এবং চিকিৎসকরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। তাঁর বোনেরা এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে বারবার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই তাঁদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের সমর্থকরা সামরিক কাঠামোয় হামলা চালিয়েছিলেন।

    মৃত্যুর দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা সোহেল আফ্রিদির দাবি, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আফ্রিদির বক্তব্য, তাঁদের দাবি অসাংবিধানিক নয় এবং ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরানের পরিবার ও চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে তার আগেই বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছে দলটি। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকায় নতুন এই দাবি ফের সেই প্রশ্নই সামনে (Pakistan) এনেছে—ইমরান কি সত্যিই মারা গিয়েছেন? তবে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ নেই।

    এর আগেও ছড়িয়েছিল একই ধরনের গুজব

    ইমরানের মৃত্যুর গুজব এই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বরেও তাঁর পরিবার এবং দলীয় কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়ার পর একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ২ ডিসেম্বর সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ইমরানের বোন উজমা খানুম আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ইমরান শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে তাঁকে একাকী রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নভেম্বরেই ফের একটি বড় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। আফগানিস্তান টাইমস দাবি করেছিল, আদিয়ালা জেলের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলে নির্যাতনের পর ৭২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এবং তাঁর মরদেহ জেলের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পাক প্রশাসন এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, ইমরান জীবিত রয়েছেন (Imran Khan)।

    ভুয়া সরকারি বিবৃতিতেও ইমরানের মৃত্যুর দাবি

    ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি হিসেবে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে (Pakistan)। তবে নথিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “৪২৭/২০২৫” নম্বর উল্লেখ থাকলেও, এতে যথাযথ তারিখ ছিল না। পাশাপাশি নথিতে বানান, বিরামচিহ্ন, ভাষা ও বিন্যাসের একাধিক ভুল দেখা যায়। পাকিস্তানের বা আন্তর্জাতিক কোনও বড় সংবাদমাধ্যম, বিদেশমন্ত্রক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পরে নথিটিকে প্রকৃত সরকারি বিবৃতি নয়, বরং এডিটেড ও বিকৃত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেলে ইমরানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও কিছু দাবির মধ্যেই এটিও ছড়িয়েছিল। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বহর আরও বেড়ে যায়।

    কারাগারে হামলার দাবিও ছিল ভুয়া

    ইমরানের কারাবাসকে ঘিরে শুধু মৃত্যুর গুজবই নয়, আরও নানা দাবি ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথিত চিকিৎসা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলে ইমরান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (Imran Khan)। পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালের নামে প্রচারিত ওই নথিতে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন-সংক্রমণের পরীক্ষার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া ইমরানের মুক্তি সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নথিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ছিল। এতে ২০২৫ সালের ৩ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তার আগের দিনই, ২ মে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা পরীক্ষা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা করেছিলেন, পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালে নয়।

    ভুয়া তথ্য!

    এই সব অসঙ্গতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয় যে চিকিৎসা প্রতিবেদনটি আদতে ভুয়া। ইমরানের আইনজীবীরা যৌন নির্যাতনের দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি কোনও বিবৃতিতেও এই দাবির সমর্থন মেলেনি (Imran Khan)। ইমরানের মৃত্যু, স্বাস্থ্য এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বারবার গুজব ছড়িয়েছে মূলত তখনই, যখন তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে (Pakistan) পড়েছেন। ওয়াজাহাত সাঈদ খানের সর্বশেষ দাবিও সেই পুরনো প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনেছে (Imran Khan)।

  • PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি — সংক্ষেপে জেএএসি বা ‘জাক’ (JAAC)— সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, রাওয়ালাকোটে একটি শোকসভা ও ‘জনাজা’র জমায়েতে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

    কীভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ?

    ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন, যখন জেএএসি ৯ জুন সমগ্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে ধর্মঘট ও গণআন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংঘর্ষের জেরে অন্তত ২০০ জন আহত এবং কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালকোটের বারমাং ব্রিজ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় স্থানীয় অধিকারকর্মী সর্দার উমর নাজির কাশ্মীরিকে বহনকারী একটি গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনী আটকায়। অভিযোগ, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সর্দার উমর নাজির অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহজেব হাবিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের সম্পদ শোষণ করছে, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে তুলছে।

    জনাজার জমায়েতে গুলি চালানোর অভিযোগ

    জেএএসি-র দাবি, শাহজেব হাবিবের জনাজার নামাজ উপলক্ষে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের (CMH) বাইরে জড়ো হওয়া শোকাহত মানুষ ও আন্দোলনকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও শেল নিক্ষেপ করে। সংগঠনের অভিযোগ, পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের গুলিতেই হাবিব নিহত হন। জেএএসি আরও দাবি করেছে যে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি এবং অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চারজন নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হয়েছেন এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

    ‘সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে জেএএসি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এনেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ’ এবং ‘অরাজকতা সৃষ্টি’-র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জেএএসি নেতাদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জনস্বার্থে পরিচালিত। সংগঠনের সদস্য শওকত নওয়াজ মির বলেন, “আমরা কোনও দেশ, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত অন্যায়। ৯ জুন থেকে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ লং মার্চ শুরু হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    ৩৮ দফা দাবিপত্রে কী রয়েছে?

    জেএএসি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটি ৩৮ দফা দাবিপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দাবি হল—

    • ● বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস
    • ● ভর্তুকিযুক্ত আটা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
    • ● স্থানীয় সম্পদের উপর জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি
    • ● রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি
    • ● বহিরাগতদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল

    জেএএসি-র অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলি স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, বাড়ছে ক্ষোভ

    অঞ্চলে একাধিক জেএএসি নেতার গ্রেফতারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবার উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

    আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের একদল সাংসদও। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাশ্মীর বিষয়ক সর্বদলীয় গোষ্ঠীর (APPG on Kashmir) চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাডফোর্ড ইস্টের সাংসদ ইমরান হুসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রায় ৩০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, গ্রেফতারি অভিযান, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জেএএসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যোগাযোগের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ, সংযম এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

    দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, স্থানীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চলেছে। বিশেষত গত বছর থেকে একাধিকবার বৃহৎ বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনগণের একাংশের অভিযোগ, ইসলামাবাদ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বর্তমান সংঘর্ষ সেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভেরই নতুন বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে জেএএসি-র ঘোষিত লং মার্চ এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

  • Imran Khan: এবার তোষাখানা মামলায় ১৪ বছরের জেলের সাজা হল সস্ত্রীক ইমরান খানের

    Imran Khan: এবার তোষাখানা মামলায় ১৪ বছরের জেলের সাজা হল সস্ত্রীক ইমরান খানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিশেষ আদালত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে (Imran Khan) গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ১০ বছরের কারাবাসের  সাজা ঘোষণা করেছিল। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ওই একই আদালত এবার ইমরান খানকে সস্ত্রীক ১৪ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনাল। জানা গিয়েছে, তোষাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীকে। ওই একই সাজা শোনানো হয়েছে ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবিকেও। এর পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছে আগামী ১০ বছরের জন্য কোনও সরকারি পদে বসতে পারবেন না ইমরান খান অথবা বুশরা বিবি। পাকিস্তানি মুদ্রায় তাঁদেরকে ৭৯ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

    ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত হন ইমরান

    প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসেই দুর্নীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী পদ চলে যায় ইমরান খানের (Imran Khan)। ক্ষমতা হারানোর পরেই দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী দাবি করেন, বিদেশ থেকে ইমরান খান যে উপহার পেয়েছিলেন সেই উপহার তিনি কুড়ি লাখ টাকায় কিনে নিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ যখন পাকিস্তানের মসনদে ছিল, তখনই সৌদি আরবের রাজা মহম্মদ বিন সুলেমন ইমরানকে ওই বহুমূল্য ঘড়ি উপহার হিসেবে দেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনী যে কোনও প্রক্রিয়ায় ইমরান খানকে (Imran Khan) নির্বাসন দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ইমরান। কিন্তু সেখানে তাঁর আবেদন খারিজ হয়।

    ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট দোষী সাব্যস্থ হন ইমরান

    ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট ইসলামাবাদ কোর্ট দোষী সাব্যস্ত করে ইমরান খানকে। তারপরেই ইমরান খান (Imran Khan) গ্রেফতার হন তখন থেকেই জেলে রয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বর্তমানে চলছে। গতকালই গোপন তথ্য পাচারের যে অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা হয়েছে ইমরানের সেখানে একইসঙ্গে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে একদা তাঁর সরকারের বিদেশ মন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশিকেও। এতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের অ্যাটাক ডিস্ট্রিক্ট জেলে বন্দি ছিলেন ইমরান খান। গত ডিসেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খান এবং কুরেশিকে জামিন দিয়েছিল কিন্তু একাধিক মামলা চলায় জেলেই ছিলেন ইমরান খান।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share