Tag: pakistan

pakistan

  • Baloch liberation Army: বালুচ লিবারেশন আর্মির হাতে খতম ৮৪ জন পাকিস্তানি সেনা

    Baloch liberation Army: বালুচ লিবারেশন আর্মির হাতে খতম ৮৪ জন পাকিস্তানি সেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩১ জানুয়ারি জারি করা এক বিবৃতিতে বালুচ লিবারেশন আর্মি (Baloch liberation Army) (বিএলএ) দাবি করেছে, “অপারেশন হেরোফ ফেজ টু”-তে ৮০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি (Pakistan) জঙ্গি, পুলিশ কর্মী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের সদস্য নিহত হয়েছে। আমাদের যোদ্ধারা বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় আক্রমণ চালিয়েছে। আক্রমণগুলি দশ ঘণ্টা ধরে সংগঠিত হয়েছিল এবং প্রদেশের অসংখ্য শহরে নিরাপত্তা, সামরিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোগুলিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও-র সত্যতা নিশ্চিত করেছে বিএলও।

    কোথায় কোথায় হামলা (Baloch liberation Army)?

    বিএলএ (Baloch liberation Army) মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, কোয়েটা (Pakistan), নোশকি, মাস্তুং, দালবান্দিন, কালাত, খারান, পাঞ্জগুর, গোয়াদার, পাসনি, তুরবাত, টুম্প, বুলেদা, মাঙ্গোচর, লাসবেলা, কেচ এবং আওয়ারান এবং এর আশেপাশের বেশ কিছু জায়গায় হামলা চালানো হয়। আমাদের যোদ্ধারা একই সঙ্গে শত্রু সামরিক, প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা কাঠামো-এ হামলা চালিয়েছে, এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করেছে।

    ৮৪ জন নিহত, ১৮ জন বন্দি!

    বিএলএর (Baloch liberation Army) তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানি (Pakistan) সামরিক বাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার ৮৪ জন সদস্য নিহত হয়েছে, সেই সঙ্গে শতাধিক আহত হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮ জনকে বন্দি করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে অফিস, ব্যাঙ্ক এবং কারাগার সহ ৩০ টিরও বেশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ২০ টিরও বেশি যানবাহন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে তীব্র সংঘর্ষের সময় বিএলএ যোদ্ধারা কিছু নির্দিষ্ট পোস্ট এবং কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

    চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে হামলা বালুচদের

    বালুচিস্তানে (Baloch liberation Army) কর্মরত বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে বালুচ লিবারেশন আর্মি অন্যতম। এই প্রদেশটি রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়নের অভিযোগের কারণে কয়েক দশক ধরে বিদ্রোহ করেছে। এই গোষ্ঠীটি পূর্বে পাকিস্তানি (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনী, এবং বিদেশি স্বার্থ, বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকল্পগুলির ওপর একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    পাকিস্তান বহুদিন ধরে বালুচদের ওপর ধর্মীয়, সামাজিক, আর্থিক এবং রাজনৈতিক শাসন চালাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে পাক সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বালুচরা। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পসকে প্রায়শই বেলুচ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, যার ফলে প্রায়শই জোরপূর্বক অপহরণের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি দাবি করেছে  কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান (Pakistan) সেনাবাহিনী বা তাদের মিলিশিয়ারা হাজার হাজার বালুচকে অবৈধভাবে হত্যা বা অপহরণ করেছে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় ক্ষতি

    শুক্রবার শেষ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএলএ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আরও আপডেট জারি করবে। বালুচিস্তানের (Baloch liberation Army) পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল রয়েছে, রিপোর্ট করা ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Suspected Separatists: পাক পুলিশের ওপর হামলা বালুচিস্তানে, খতম ১০

    Suspected Separatists: পাক পুলিশের ওপর হামলা বালুচিস্তানে, খতম ১০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের হিংসতাপীড়িত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বশেষ হিংসার ঘটনায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর (Suspected Separatists) হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন নিরাপত্তা আধিকারিক (Pakistani Policemen) এবং ৩৭ জন স্বাধীনতাকামী। আজ, শনিবার ভোরে শুরু হয় এই হামলা। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনকে টার্গেট করা হয়। অভিযোগ, জাতিগত বালুচ বন্দুকধারীরাই এই হামলা চালিয়েছে। খনিজসমৃদ্ধ বালুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মুখে রয়েছে। আফগানিস্তান এবং ইরান সীমান্তঘেঁষা এই প্রদেশে বিদ্রোহীরা নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং স্থানীয় নন-লোকালদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।

    বালুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে অভিযান

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি এক বিবৃতিতে জানান, হামলায় ১০ জন নিরাপত্তা আধিকারিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন, যাঁরা বালুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা অভিযানে ৩৭ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছেন। মন্ত্রীর দাবি, এই হামলাগুলি ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে বোঝাতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, হামলার দায় স্বীকার করেছে বিএলএ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা গুলিবর্ষণ ও আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে সামরিক কাঠামো, পুলিশ এবং বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের টার্গেট করেছে (Suspected Separatists)। বালুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ বলেন, “অধিকাংশ হামলাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।” হামলার সময় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইন্টারনেট ও ট্রেন পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চলছে।

    দেশজুড়ে হামলার মাত্রা বাড়ছে

    শনিবারের এই হামলা এমন একটা সময়ে ঘটল, যার ঠিক একদিন আগেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে তারা বালুচিস্তানে পৃথক দুটি অভিযানে ৪১ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বালুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে আন্দোলন করছেন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং পাকিস্তানি তালিবান, যারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত, তারা দেশজুড়ে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। টিটিপি একটি পৃথক সংগঠন হলেও তারা আফগানিস্তানের তালিবানের মিত্র, যারা ২০২১ সালের আগস্টে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে (Pakistani Policemen)। গত বছর জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়। এর জেরে দু’দিনব্যাপী অবরোধ তৈরি হয়, যেখানে অন্তত কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন (Suspected Separatists)।

     

  • Pakistan:‘‘মাথা নিচু করে ভিক্ষে করতে হয়’’ দেশের করুণ অবস্থার কথা মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী

    Pakistan:‘‘মাথা নিচু করে ভিক্ষে করতে হয়’’ দেশের করুণ অবস্থার কথা মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দৈন্যদশা আর লুকোতে পারলেন না! বিদেশি ঋণের উপর পাকিস্তানের নির্ভরশীলতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, এতে দেশের জনগণ ও কর্তাদের আত্মসম্মান নষ্ট হয়। ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পরিচিত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের নিয়ে একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘যখন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আমি দেশে দেশে অর্থ ভিক্ষা করে বেড়াই, তখন আমার অত্যন্ত খারাপ লাগে। লজ্জায় মাথা নীচু হয়ে যায়। তারা অনেক কিছু আমাদের করতে বলে, আমরা না বলতে পারি না।’’

    আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়

    শুক্রবার ইসলামাবাদে শীর্ষ পাকিস্তানি রফতানিকারকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় শরিফ স্বীকার করে নিলেন, পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে বিদেশি আর্থিক সাহায্য এবং নানা ধরনের প্যাকেজের উপর নির্ভরশীল। ঋণ চেয়ে চেয়ে দেশের মুখ আন্তর্জাতিক স্তরে একেবারে পুড়ে গিয়েছে, এ কথাও মেনে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। শরিফ বলেন, ‘‘আমি কীভাবে বলব আমরা কোন কোন বন্ধু দেশের থেকে ঋণ চেয়েছি! সেই দেশগুলি আমাদের হতাশ করেনি যদিও। কিন্তু ঋণ যে নিতে যায় তার মাথা হেঁট তো থাকবেই।’’ তিনি স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করেছেন, যখন কোনও দেশ আর্থিক সাহায্য চায় তখন তাকে তার আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়। অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে। এক একটা সময়ে যা মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    পাক অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের উপর নির্ভরশীল

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের পুরো অর্থনীতি বর্তমানে ঋণের উপর নির্ভরশীল। তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫২.৩৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শাহবাজ শরিফের বক্তব্য প্রমাণ করে, পাকিস্তান এখন সম্পূর্ণরূপে ঋণের ফাঁদে আটকে পড়েছে এবং সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাদের কাছে। শাহবাজ বলেন, তাঁর সরকার- কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং অর্থ মন্ত্রককে পুঁজির সহজলভ্যতা বাড়িয়ে শিল্প বৃদ্ধিকে সমর্থন করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘গভর্নরকে ব্যবসায়িক নেতাদের কথা শুনতে হবে এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত ভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশে তিনিও সফর করেছেন। আইএমএফ প্রোগ্রাম বাঁচাতে কোটি কোটি ডলার সাহায্যের অনুরোধ করেছি।’’ আইএমএফ-এর কঠোর শর্ত মেনে চলার জন্য সরকার জনসাধারণের উপর ভারী কর এবং মুদ্রাস্ফীতি চাপিয়ে দিচ্ছে। তবে, পাকিস্তান কেবল আইএণএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে ঋণী নয় বরং চিন ও সৌদি আরবের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণের বোঝায় চাপা পড়ে রয়েছে।

  • T20 World Cup 2026: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পিসিবি প্রধানের অবস্থানে বিতর্ক! কড়া সমালোচনায় ইনজামাম, হাফিজ

    T20 World Cup 2026: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পিসিবি প্রধানের অবস্থানে বিতর্ক! কড়া সমালোচনায় ইনজামাম, হাফিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসি-র সঙ্গে পাকিস্তানের কোনওমতেই সম্পর্ক খারাপ করা উচিত নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলে ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক মহম্মদ হাফিজ ও বোর্ড কর্তাদের একাংশ। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তানের দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু সেজন্য কখনও নিজের দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না। এ নিয়ে প্রকাশ্যে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি-র অবস্থানের সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ইনজামাম উল হক-ও।

    পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য “অপূরণীয় ক্ষতি”

    সালমান আঘারা আদৌ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবেন কি না সেই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তাঁরা দল পাঠাবেন কি না সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে শুক্র বা সোমবার। এই রকম টানাপোড়েনের মধ্যে মুখ খুলেছেন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন তারকারা। তাঁদের পাশাপাশি পিসিবির প্রাক্তন চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ এবং সচিব আরিফ আলি আব্বাসি বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। আব্বাসির মতে, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ না খেলে তাহলে পিসিবি-র সঙ্গে আইসিসি ও অন্য ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের সম্পর্ক খারাপ হবে। তার পরিণাম ভালো হবে না। তিনি বলেন,“পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে তাহলে কি তাদের কোনও লাভ হবে? শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। যদি আমরা না যাই তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে। এতে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটেরও ক্ষতি হবে।” আর এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য “অপূরণীয় ক্ষতি” ডেকে আনতে পারে।

    ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে

    খালিদ মাহমুদের দাবি, “মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের অবস্থানকে পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোনও ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন করেনি। আমি বাংলাদেশ বোর্ডের দাবি জানি। তবে তাদের অন্য কেউ সমর্থন করছে না, সেটাও মেনে নিতে হবে।” ইনজামাম উল হক আবার ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে দেখতে চাই। আমাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা যেন এত বড় ইভেন্টে ভালো করতে পারে, সেটা দেখা প্রয়োজন।” একই কথা শোনা গিয়েছে মহম্মদ হাফিজের মুখেও। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলা উচিত। বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ানো মানে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া। ইনজামাম বলেন, “বড় টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্সই আমাদের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো মানে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া।” এছাড়া আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে পিসিবি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে—পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত এবং আইসিসি রাজস্ব বণ্টনে বড় ধরনের কাটছাঁট, ভবিষ্যতের এশিয়া কাপ ও অন্যান্য বড় টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা। এর ফল হবে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ভয়াবহ।

  • Abu Dhabi: শেখ নাহিয়ানের ৩-ঘণ্টার ভারত সফরের পরই  ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পরিচালনার পরিকল্পনা বাতিল আবু ধাবির

    Abu Dhabi: শেখ নাহিয়ানের ৩-ঘণ্টার ভারত সফরের পরই ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে পরিচালনার পরিকল্পনা বাতিল আবু ধাবির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)-র প্রেসিডেন্ট শেখ মহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের আকস্মিক ভারত সফর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে আলোড়ন ফেলেছে (Abu Dhabi)। এর পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের ওপর (Pakistan)। শেখ নাহিয়ানের তিন ঘণ্টার সফরের অল্প সময়ের মধ্যেই আবু ধাবি ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনার পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়। অথচ এই চুক্তিটি নিয়ে ২০২৫ সালের অগাস্ট মাস থেকে আলোচনা চলছিল দুই দেশের মধ্যে।

    প্রকল্পটিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে ইউএই (Abu Dhabi)

    পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইউএই প্রকল্পটিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি পরিচালনার জন্য কোনও স্থানীয় অংশীদার না পাওয়ায় এই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের এই সংবাদমাধ্যম চুক্তি বাতিলের পেছনে কোনও রাজনৈতিক কারণের সরাসরি উল্লেখ করেনি, তবে এই ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন ইউএই এবং সৌদি আরবের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। একসময় উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এই দুই দেশ বর্তমানে ইয়েমেনে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন করা নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। ইসলামাবাদ যেখানে রিয়াধের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং সৌদি আরব ও তুরস্ককে নিয়ে তথাকথিত একটি “ইসলামিক ন্যাটো” গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সেখানে ইউএই ভারতের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব পাকিস্তানের সামরিক দক্ষতার ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, আর ইউএই কৌশলগতভাবে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করছে।

    রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস

    প্রায় চার দশক আগে ইউএই ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস। বিভিন্ন খাতে কর্মরত হাজার হাজার পাকিস্তানি ইউএইতে কাজ করতেন। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বিনিয়োগ প্রকল্পেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, লাইসেন্স সংক্রান্ত বিতর্ক এবং পাকিস্তানের পুরনো পরিকাঠামোর কারণে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে (Abu Dhabi)। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে দুর্বল প্রশাসন ও অব্যবস্থাপনার কারণে পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছে। পরে সেগুলি নামমাত্র দামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। গত বছর ইসলামাবাদ পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) বেসরকারিকরণ করেছে (Pakistan)। চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে, এমনকি আফগানিস্তানেও, বিমানবন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদ বিমানবন্দর পরিচলনা থেকে সরে দাঁড়ানোর ইউএইর সিদ্ধান্ত দেশটির ওপর অনাস্থার ছবিটাই তুলে ধরেছে। গত সপ্তাহে দিল্লি সফরের পর ইউএই নেতা ৯০০ ভারতীয় বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন, যা নয়াদিল্লির প্রতি সদিচ্ছার এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কৌশলগত অংশীদারিত্ব

    ইউএই নেতার সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পূর্ণ ক্ষেত্র পর্যালোচনা করেন এবং একমত হন যে ভারত-ইউএই সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব কেবল পরিপক্বই নয়, বরং এখন আরও উচ্চাভিলাষী ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিটি দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক সমন্বয়ের একটি রূপরেখার মতো। রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের দিকে অগ্রসর হওয়া। সফরের সময় একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়, যা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য (Pakistan) একটি কাঠামোগত চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে (Abu Dhabi)।

  • Pakistan: পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতিকে কারাদণ্ড, কারণ জানলে অবাক হবেন

    Pakistan: পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতিকে কারাদণ্ড, কারণ জানলে অবাক হবেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রবিরোধী মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) দমন–পীড়ন এক নাটকীয় মোড় নিল শনিবার। মানবাধিকার আইনজীবী (Human Rights Lawyer) ইমরান জয়নাব মাজারি–হাজির এবং তাঁর স্বামী, আইনজীবী হাদি আলি চাঠাকে রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচিত সোশ্যাল মিডিয়া কাজকর্মের অভিযোগে প্রত্যেককে ১৭ বছরের করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    অশাস্তির সূত্রপাত (Pakistan)

    এই অশাস্তির সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ১২ অগাস্ট, ইসলামাবাদের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)-তে দায়ের করা একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে। অভিযোগে বলা হয়, মাজারি–হাজির অনলাইনে এমন কিছু কনটেন্ট ছড়িয়েছেন, যা নিষিদ্ধ সংগঠনের বয়ানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। অন্যদিকে, তাঁর কিছু পোস্ট পুনরায় শেয়ার করার অভিযোগে হাদি আলি চাঠার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় (Human Rights Lawyer)। গত বছরের ৩০ অক্টোবর এই দম্পতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুক্রবার আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে ইসলামাবাদে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় এবং পরে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। মামলার শুনানি চলাকালে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মহম্মদ আফজল মাজোকার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত বয়কট

    রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য শুনানিতে উপস্থিত হয়ে মাজারি–হাজির ও চাঠা আদালত বয়কট করেন। কারণ হিসেবে তাঁরা জানান, আদালতকক্ষে গণমাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁরা পুরো বিচারপ্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ান (Pakistan)। আদালতের লিখিত আদেশে বলা হয়েছে, ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পিইসিএ)-এর একাধিক ধারায় রাষ্ট্রপক্ষ সফলভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে (Human Rights Lawyer)। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয়কে ধারা ৯-এর আওতায় পাঁচ বছর, ধারা ১০-এর আওতায় দশ বছর এবং ধারা ২৬-এ-এর আওতায় আরও দু’বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়, মোট ১৭ বছর করে। শুনানি চলাকালীন সময়ে তীব্র বাকবিতণ্ডার পর এই বয়কটের ঘটনা ঘটে। মাজারি–হাজির আদালতে গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আমাদের খাবার বা জল দেওয়া হচ্ছে না।”
    এরপরই তাঁরা বিচারপ্রক্রিয়ায় আর অংশ নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

    ফ্যাসিবাদ চূড়ায়

    তাঁদের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর বিচারক মাজোকা রায় ঘোষণার সময় তাঁদের আসনে বসে থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাঁরা চেয়ার ছেড়ে সরে গেলে বিচারক আদালত কর্মীদের সব রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ দেন এবং পরে দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন (Pakistan)। গত ১৫ জানুয়ারি আদালত দম্পতির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করে, কারণ তাঁরা একাধিকবার আদালতে হাজির হননি। পরদিনই তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়। মাজারি–হাজিরের মা, প্রাক্তন মানবাধিকারমন্ত্রী ও ইমরান খান সরকারের সদস্য শিরিন মাজারি শুক্রবার গ্রেফতারের খবরটি নিশ্চিত করেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের আলাদা আলাদা গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “ফ্যাসিবাদ তার চূড়ায়। ক্ষমতায় থাকা পুরুষত্বহীন লোকেরা নিশ্চয়ই এই সাফল্যে খুব খুশি (Human Rights Lawyer)।”

    ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন

    প্রসঙ্গত, গ্রেফতারি এড়াতে এই দম্পতি ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (আইএইচসিবিএ) কার্যালয়ে টানা দু’রাত কাটিয়েছিলেন। গ্রেফতারের সময় উপস্থিত থাকা আইএইচসিবিএ সভাপতি ওয়াজিদ আলি গিলানি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিলেন যে আদালতে হাজিরার সময় আইনজীবীদের গ্রেফতার করা হবে না। গিলানির অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের গাড়ি জোরপূর্বক থামিয়ে জানালা ভেঙে মাজারি–হাজির ও চাঠাকে টেনে বের করে আনে। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আইএইচসিবিএ সেক্রেটারি মানজুর জাজ্জাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় (Pakistan)।” প্রতিবাদ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে গিলানি বলেন, “এই ধরনের দমন–পীড়ন চলতে থাকলে ২০০৭ সালের আইনজীবী আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি ফের সৃষ্টি হতে পারে। কর্তৃপক্ষকে এই নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।”

    গ্রেফতারের পর পাকিস্তানের আইনজীবী মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ইসলামাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন এবং ইসলামাবাদ বার কাউন্সিল যৌথভাবে ঘটনার নিন্দা জানায়। আইএইচসিবিএ ও আইবিএ শুক্রবার ধর্মঘট ঘোষণা করে। ইসলামাবাদ বার কাউন্সিল শনিবার প্রদেশজুড়ে আইনজীবী ধর্মঘটের ডাক দেয়। এই (Human Rights Lawyer) ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের আইনজীবী মহলে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে (Pakistan)।

     

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

  • Pakistan: ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করে বিপাকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    Pakistan: ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করে বিপাকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া পিৎজা হাট রেস্তরাঁ উদ্বোধন করলেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ। বুধবার সিয়ালকোট ক্যান্টনমেন্টে তিনি ওই পিৎজা হাটের (Fake Pizza Hut) উদ্বোধন করেন বলে দাবি করা হয়েছে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলিতে। কিন্তু পাকিস্তানের বহু ঘটনার মতোই এই পিৎজা হাটটিও ছিল ‘ভুয়ো’। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ব্যাপক আড়ম্বর, বড় জনসমাগম, সাজসজ্জা ও গণমাধ্যমের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে খাজা আসিফ ওই ভুয়ো পিৎজা হাটের উদ্বোধন করছেন।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী ছবি (Pakistan)

    খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই পিৎজা হাট পাকিস্তান একটি প্রকাশ্য বিবৃতি জারি করে জানায়, “সংশ্লিষ্ট আউটলেটটি ‘অননুমোদিত’ এবং তারা অন্যায়ভাবে পিৎজা হাটের নাম ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করছে।” খাজা আসিফ যে ভুয়ো রেস্তোরাঁটির উদ্বোধন করেন, সেখানে আসল পিৎজা হাটের মতোই লাল রঙের থিম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল।

    পিৎজা হাট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

    পিৎজা হাট কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ওই রেস্তরাঁটির সঙ্গে ইয়াম! ব্র্যান্ডসের কোনও সম্পর্ক নেই, তারা আন্তর্জাতিক রেসিপি, গুণমান বা নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, পাকিস্তানে পিৎজা হাটের মাত্র ১৬টি অনুমোদিত আউটলেট রয়েছে—এর মধ্যে ১৪টি লাহোরে এবং দুটি ইসলামাবাদে। সিয়ালকোটে তাদের কোনও আউটলেট নেই (Pakistan)।

    দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় মিম-নির্মাতাদের প্রিয় বিষয় হয়ে থাকা খাজা আসিফকে ঘিরে এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে মিমের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মার্কিন এই খাবার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, “আমাদের ট্রেডমার্কের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে” তারা (Fake Pizza Hut) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে (Pakistan)।

  • S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তান। তাদের পাশে না দাঁড়ানোর জন্য পোল্যান্ডকে বিশেষ বার্তা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি থেকে দূরে থাকাই উচিত ওয়ারশ রাজনীতির। সোমবার পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কিকে এই বার্তায় দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কি। সোমবার ছিল তার সফরের শেষদিন। আর এই সফর শেষের আগে বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে পোল্যান্ডকে সাফ বার্তা ভারতের।

    জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ, সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা

    সূত্রের খবর, ভারত ও পোল্যান্ড দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ। আর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের সমস্যা মেটাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলেও জানায় ভারত। এমনকি সন্ত্রাসবাদে মদত না দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সরাসরি ইসলামাবাদের নাম না নিলেও পাকিস্তানকে তোপ দেগেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর বলেন-“আমরা আশাবাদী, পোল্যান্ড সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে।” জয়শঙ্করের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান সফরের সময় পোল্যান্ড কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর বলেন, পোল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়টি জানে। তিনি বলেন, “উপপ্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অঞ্চল সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানেন। পোল্যান্ডের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং আমাদের প্রতিবেশী সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে কোনওভাবেই উৎসাহ না দেওয়া।”

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের পর সিকোরস্কি সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, পোল্যান্ড নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসমূলক হামলার শিকার হয়েছে। সিকোরস্কি বলেন, “সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথে চলন্ত ট্রেনের নিচে বিস্ফোরণ ঘটে, যা কার্যত রাষ্ট্র-সন্ত্রাসের উদাহরণ।” ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে সতর্ক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত।

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক ও প্যারিসে আগেও আমি ইউক্রেন সংঘাত ও তার প্রভাব নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, ভারতের বিরুদ্ধে এই নির্বাচনীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক। আজও আমি সেই কথাই পুনরায় বলছি।” জবাবে সিকোরস্কি বলেন, “নির্বাচনী টার্গেটিং শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আরও নানা রূপ রয়েছে।”

     

     

     

     

     

  • Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে লস্কর-ই-তৈবার (এলইটি) (Lashkar E Taiba) শীর্ষ কমান্ডার আবদুল গফফারের। এর ফলে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক জঙ্গির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হল। জানা গিয়েছে, আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়, যা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

    আবদুল গফফার (Pakistan)

    আবদুল গফফারকে লস্কর-ই-তৈবার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এর আগে একটি ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল লস্কর প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের ছেলের সঙ্গে। সেই ছবি গফফারের প্রভাব ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ মহলে তাঁর প্রবেশাধিকারকে স্পষ্ট করেছিল।গফফারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লস্করের শীর্ষ নেতৃত্ব জোর ধাক্কা খেয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এমনকি হাফিজ সইদও সম্পূর্ণভাবে হতবাক হয়ে গিয়েছেন। আরও এক শীর্ষ জঙ্গির আকস্মিক মৃত্যু পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী লালন-পালন করেছে, সেই গোটা জঙ্গি পরিকাঠামোর মধ্যেই ভয়ের আবহ তৈরি করেছে। গফফারের মৃত্যু একটি সুস্পষ্ট ও ক্রমবর্ধমান ধারার মধ্যেই পড়ছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ‘অর্গানাইজার’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩২ জন জঙ্গি অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছে, যাদের বড় অংশই পাকিস্তানের ভেতরে মারা গিয়েছে। এদের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং পাকিস্তান-সমর্থিত অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের উচ্চমূল্যের অপারেটিভরা রয়েছে, যারা ভারতে জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী (Pakistan)।

    একের পর এক খতম

    বিভিন্ন সময় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাইফুল্লাহ খালিদ। লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ জঙ্গি, সিন্ধে নিহত হন। বেঙ্গালুরুর আইআইএসসিতে গুলি চালানো এবং রামপুর সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলার মূল চক্রী বলে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি (Lashkar E Taiba)। আবু কাতাল। হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ঝিলমে গুলিতে নিহত হন। মুফতি শাহ মীর। পাকিস্তানের আইএসআই-ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় নেতা, কুলভূষণ যাদব অপহরণ মামলায় অভিযুক্ত। খুন হয়েছেন বালুচিস্তানে। মাওলানা কাশিফ আলি। লস্করের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ও হাফিজ সইদের শ্যালক, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত। মুফতি ফয়্যাজ। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে মৃত্যু। আবদুল্লাহ শাহিন। লস্করের সিনিয়র (Pakistan) প্রশিক্ষক, রহস্যজনকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু। হাজি উমর গুল। লস্করের অর্থদাতা,  সহযোগীদের সঙ্গে গুলিতে নিহত। হাবিবুল্লাহ। কুখ্যাত লস্কর রিক্রুটার,  অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত। আদনান আহমেদ। ২০১৬ সালের পাম্পোর সিআরপিএফ গণহত্যার মূল চক্রী, করাচিতে নিহত। ইউনুস খান। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, বাজৌরে গুলিতে নিহত। মোহাম্মদ মুজাম্মিল ও নঈমুর রহমান। লস্করের ক্যাডার,  সিয়ালকোটে গুলিতে নিহত। মওলানা রহিম উল্লাহ তারিক। জইশ-ই-মহম্মদের নেতা, করাচিতে খতম। আক্রম খান ওরফে আক্রম গাজি। লস্করের প্রাক্তন নিয়োগ প্রধান, বাজৌরে নিহত। খাজা শাহিদ। সুনজওয়ান হামলার সঙ্গে যুক্ত,  নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে শিরঃচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার দেহ। আমির সরফরাজ তাম্বা। সরবজিৎ সিং হত্যাকাণ্ডে যুক্ত, লাহোরে নিহত। আসিম জামিল। উগ্রপন্থী ধর্মপ্রচারকের ছেলে, খানেওয়ালে নিহত। দাউদ মালিক। মওলানা মাসুদ আজহারের সহযোগী, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গুলিতে মৃত্যু (Lashkar E Taiba)।

    বিমান ছিনতাইয়ে যুক্ত

    এছাড়াও আইসি-৮১৪ বিমান (Pakistan) ছিনতাই, হিজবুল মুজাহিদিনের লজিস্টিক সহায়তা এবং পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বিভিন্ন চরমপন্থী সেলের সঙ্গে যুক্ত বহু জঙ্গি একইভাবে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলি পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোর ভঙ্গুর ভিতকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে দায়মুক্তির সঙ্গে কাজ করা জঙ্গি নেতারা এখন একের পর এক হিংস্র পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যার ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ তদন্ত পাকিস্তান কোনওটিই করছে না। রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনা, আকস্মিক গুলি চালানো এবং অজানা হামলা এখন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

    দীর্ঘায়িত হচ্ছে তালিকা

    আবদুল গফফারের মৃত্যু আরও একবার এই ধারণাকে জোরালো করল যে, পাকিস্তান ক্রমশই সেই শক্তিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, যাদের একসময় সে নিজেই সৃষ্টি করেছিল ও আশ্রয় দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই বা নীরব ‘ক্লিন-আপ অপারেশন’, কারণ যাই হোক না কেন, ফল একই- শীর্ষ জঙ্গিরা একে একে খতম হচ্ছে (Lashkar E Taiba)। মৃত চরমপন্থীদের তালিকা যত দীর্ঘ হচ্ছে, বার্তাও তত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসের বাস্তুতন্ত্র এখন নিজের দিকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে সংগঠনের কমান্ডাররাই হয়ে উঠছেন সবচেয়ে বেশি অ-সুরক্ষিত। সেই তালিকায়ই সর্বশেষ সংযোজন, আবদুল গফফার (Pakistan)।

     

LinkedIn
Share