Tag: pakistan

pakistan

  • India Pakistan Relation: ‘‘ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান কোনওদিন যুদ্ধে জিততে পারবে না’’, দাবি প্রাক্তন সিআইএ কর্তার

    India Pakistan Relation: ‘‘ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান কোনওদিন যুদ্ধে জিততে পারবে না’’, দাবি প্রাক্তন সিআইএ কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে প্রথাগত যে কোনও যুদ্ধেই পাকিস্তানের (India Pakistan Relation) পরাজয় নিশ্চিত। এমনই অভিমত আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন আধিকারিক জন কিরিয়াকুর। দেড় দশক সিআইএ-র হয়ে কাজ করেছেন কিরিয়াকু। সম্প্রতি এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘বাস্তবে যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের ভালো কিছু হবে না। কারণ প্রথাগত যে কোনও যুদ্ধে ভারতের কাছে তাদের হার হবে। তাই ভারতকে ক্রমাগত প্ররোচনা দিয়ে পাকিস্তানের লাভ কিছু নেই।’’ একসময় পাকিস্তানে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন এই আধিকারিক।

    ষড়যন্ত্র বন্ধ করুক পাকিস্তান

    সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই মার্কিন আধিকারিক দাবি করেছেন, পাকিস্তানের উচিত ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করা। পাকিস্তান যতই পরিকল্পনা করুক না কেন, যে কোনও ধরনের গতানুগতিক যুদ্ধে পাকিস্তান ভারতের কাছে খুব খারাপ ভাবে হারবে। তাঁর মতে, ইসলামাবাদের উচিত কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে তার ফলে পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছুই হবে না। একইসঙ্গে কিরিয়াকু যোগ করেছেন, “আমি পারমাণবিক অস্ত্রের কথা বলছি না, কেবল গতানুগতিক যুদ্ধের কথা বলছি। ভারতকে বারবার উস্কে দেওয়ার কোনও মানে হয় না।”

    ইসলামাবাদকে কড়া জবাব দিচ্ছে দিল্লি

    প্রসঙ্গত, বরাবরই পাকিস্তানকে যুদ্ধে টেক্কা দিয়েছে ভারত। তবে গত এক দশক ধরে ইসলামাবাদকে কড়া জবাব দিচ্ছে দিল্লি। ২০১৬ সালে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯-এ বালাকোট স্ট্রাইক ও সব শেষে সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানকে উচিত জবাব দিয়েছে ভারত। তবে তাতেও সিধে হয়নি পাকিস্তান। ভারতের বিরুদ্ধে এখনও চোরাগোপ্তা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। এমন প্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে বার্তা দিলেন প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিক। কিরিয়াকুর দাবি, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে এঁটে উঠতে পারবে না পাকিস্তান। বরং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলে আখেরে পাকিস্তানেরই ক্ষতি বেশি হবে।

    পাক পরমাণু ভান্ডারের চাবি পেন্টাগনের হাতে

    ২০০১ সালে ভারতের (India Pakistan Relation) সংসদে হামলার পরই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবধারিত হয়ে উঠেছিল বলেও এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন সিআইএ কর্তা। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের যে একটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, সে কথাও স্বীকার করেছেন কিরিয়াকু। তবে সেই সময় আল-কায়দা, আফগানিস্তান নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল আমেরিকা। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়নি বলেও দাবি মার্কিন গোয়েন্দাকর্তার। দু’দেশের মধ্যে যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, সেই সময় তিনি জানতে পেরেছিলেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের চাবিকাঠি পেন্টাগনের হাতে তুলে দিয়েছেন তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট তথা সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মুশারফ।

    ভারতের মিসাইলে পাক ঘাঁটি অকেজো

    প্রসঙ্গত, সিআইএ-র গুপ্ত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে ২০১২ সালে কিরিয়াকুকে গ্রেফতার করেছিল মার্কিন সরকার। বিচারে ৩০ মাসের জেল হয় তাঁর। কিন্তু তার পরেও তিনি থেমে থাকেননি। আমেরিকা এবং তার গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের নাজেহাল দশা করেছিল ভারত। এই আবহে পরমাণু বোমা হামলার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছিল পাকিস্তান। পালটা জবাবের বার্তা দিয়েছিল ভারত। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের মিসাইলে পাক ঘাঁটি অকেজো হয়ে পড়ে। এর জেরে ভারতের কাছে সংঘর্ষবিরতির আবেদন জানিয়েছিল পাকিস্তান। এই সবের পরও পাকিস্তান দাবি করছে, তারা নাকি ভারতের সঙ্গে এই সংঘাতে ‘জিতেছে’।

    ভারত পরিপক্ক দেশ হিসেবে ধৈর্যশীল

    এই আবহে ভারত-পাক যুদ্ধ (India Pakistan Relation) নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন সিআইএ অফিসার জন কিরিয়াকু। তাঁর দাবি, ভারত ও পাক যুদ্ধ হলে পাকিস্তান কোনওদিন জিততে পারবে না। এরই সঙ্গে জন কিরিয়াকু দাবি করেন, ২০০১ সালে যখন ভারতীয় সংসদে জঙ্গি হামলা হয়, তার ২-৩ সপ্তাহ পরেই তিনি পাকিস্তানে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি জানান, আমেরিকা ভেবেছিল, ভারত পাকিস্তানের ওপর হামলা করবে। এবং তাঁর কথায়, ভারত সেই সময় পাকিস্তানের ওপর হামলা করলে তা ন্যায্য হত। এরপর ২০০৮ সালেও মুম্বই হামলার পরেও আমেরিকা মনে করেছিল যে ভারত হামলা চালাবে পাকিস্তানের ওপর। জন কিরিয়াকুর কথায়, ভারত পরিপক্ক দেশ হিসেবে ধৈর্যশীল। তবে পাকিস্তান বারবার ভারতকে খোঁচালে তারা যোগ্য জবাব পাবে।

    মুশারফকে কিনে নিয়েছিল আমেরিকা

    মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন অফিসার জন কিরিয়াকু আরও দাবি করেন, প্রয়াত প্রাক্তন সেনাশাসক পারভেজ মুশারফের জমানায় পরমাণু অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। সিআইএ-র সন্ত্রাসবিরোধী ডেস্কের প্রাক্তন আধিকারিক কিরিয়াকু এক সময়ে ছিলেন পাকিস্তানেও। গত জুলাই মাসে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, ইসলামাবাদের যাবতীয় পরমাণু হাতিয়ার পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পরমাণু অস্ত্রের কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েক বছর আগেই পাক সরকার একজন মার্কিন জেনারেলের হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা অনেকটাই কমে গিয়েছে।’’কিরিয়াকু মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘‘কোটি কোটি ডলার অনুদান দিয়ে জেনারেল পারভেজ মুশারফকে কিনে নিয়েছিল আমেরিকা। তিনিই পরমাণু অস্ত্রের চাবি এক মার্কিন জেনারেলের হেফাজতে দিয়েছিলেন।’’ প্রায় ১৫ বছর সিআইএ-র নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কিরিয়াকুর কথায়, ‘‘আমরা পাক পরমাণু অস্ত্র কিনে নিয়েছিলাম।’’

  • Afghanistan: পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে কি ভারতের পথেই হাঁটতে চলেছে আফগানিস্তান?

    Afghanistan: পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে কি ভারতের পথেই হাঁটতে চলেছে আফগানিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানকে (Pakistan) শিক্ষা দিতে তবে কি ভারতের পথেই হাঁটতে চলেছে আফগানিস্তান (Afghanistan)? ইসলামাবাদের (পাকিস্তানের রাজধানী) দিকে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে কাবুলও (আফগানিস্তানের রাজধানী)। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘাত ও কাবুলে ইসলামাবাদের বিমান হামলার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন পাঠানরা। আফগানিস্তানের তথ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, তালিবান নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যাতে পাকিস্তানের দিকে জলপ্রবাহ সীমিত করা যায়।

    আফগানিস্তানের বক্তব্য (Afghanistan)

    আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা মাওলাভি হিবাতুল্লা আখুন্দজাদা ঘোষণা করেছেন, তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব কুনার নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। এভাবে কাবুল তাদের জলের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে দেশীয় কোম্পানিগুলির সঙ্গে বাঁধ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য দ্রুত আলোচনা চলছে বলেও আফগানিস্তানের তথ্য উপমন্ত্রী মুহাজের ফারাহী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ, “বিদেশি সংস্থার জন্য অপেক্ষা না করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গেই যেন দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের পর এবার যদি আফগানিস্তানও জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে ঘোর বিপাকে পড়বে ভারত এবং আফগানিস্তানের এই পড়শি দেশটি। এমনিতেই দেশটি এখন দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক সংকট, বিশৃঙ্খল অভ্যন্তরীণ অবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জালে জড়িত। এমতাবস্থায় কাবুল পদক্ষেপ করলে, ভয়ঙ্কর সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে ইসলামাবাদকে।

    পহেলগাঁওকাণ্ড

    প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে (Afghanistan) বেছে ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে হত্যা করে পাক মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা। তার পরেই ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Water Treaty) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, “রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না।” এর ফলে পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত জল এখন ভারতের প্রয়োজন ও নীতির ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। ভারতের এসব সিদ্ধান্তের জন্য পাকিস্তানকে কোনও জবাবদিহি করতে হয় না। ফলে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানে জলসঙ্কট, অপ্রত্যাশিত বন্যা বা খরার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি

    প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওকাণ্ডের পর ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের হস্তক্ষেপে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত। ওই চুক্তি অনুযায়ী, বিপাশা, শতদ্রু, ইরাবতীর জলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের হাতে। আর সিদ্ধু, বিতস্তা, চন্দ্রভাগার জল ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান। সিন্ধু ও তার শাখা এবং উপনদীর ৩০ শতাংশ জল ব্যবহার করতে পারবে ভারত। বাকি ৭০ শতাংশ পাবে পাকিস্তান (Pakistan)। চুক্তিতে বলা হয়েছে, সিন্ধু, বিতস্তা এবং চন্দ্রভাগা – এই তিন নদীর জল সেচের কাজের পাশাপাশি নৌ চলাচল, মাছ চাষ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করতে পারবে ভারত। পাকিস্তানের হুঁশিয়ারির পরেও (Afghanistan) এই চুক্তি ফের লাগু করেনি ভারত।

    কুনার নদী

    এদিকে, ৪৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুনার নদীর উৎপত্তি আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালায়। এই পর্বতমালা আবার রয়েছে পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি। নদীটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। এই পাকিস্তানের জালালাবাদ শহরে নদীটি কাবুল নদীর সঙ্গে মিশেছে। তার পর কাবুল নদী পাকিস্তানের অ্যাটক শহরের কাছে সিন্ধু নদের সঙ্গে মিশেছে। পাকিস্তানে কুনার নদীকে “চিত্রাল নদী” নামে ডাকা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই নদী আফগান-পাকদের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কাবুল নদীতে জলের জোগান দিয়ে থাকে এই কুনার নদীই। এই জল কেবল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেই নয়, পাঞ্জাব প্রদেশেও কৃষি এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। আফগান সাংবাদিক সামি ইউসুফজাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “কাবুল এবং কুনার নদী পাকিস্তানের জলের অন্যতম উৎস (Pakistan)।”

    তালিবান সরকারের অগ্রাধিকার

    কাবুলে প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর তালিবান সরকার তাদের দেশের নদী ও জলবিদ্যুৎ সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল (Afghanistan), জ্বালানি, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় আত্মনির্ভরতা অর্জন করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। ভারত ও পাকিস্তানের মতো ইসলামাবাদ (Pakistan) এবং কাবুলের মধ্যেও কোনও দ্বিপাক্ষিক নদীজল বণ্টন চুক্তি। ফলে আফগানিস্তানের পক্ষে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। তবে কাবুলের সাম্প্রতিক এই অবস্থান নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের জন্য একাধিক দিক থেকে জলসঙ্কট সৃষ্টি করবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত দেশটি, নিজেদের ভুল নীতি ও জঙ্গি কার্যকলাপের জেরে এখন নয়া জলসংঘাতের মুখোমুখি হতে চলেছে (Afghanistan)।

  • Pakistan: টমেটো ৬০০ টাকা কেজি! আফগান সংঘর্ষের ফলে পাকিস্তানে অগ্নিমূল্য সবজি, প্রবল ক্ষোভ জনমানসে

    Pakistan: টমেটো ৬০০ টাকা কেজি! আফগান সংঘর্ষের ফলে পাকিস্তানে অগ্নিমূল্য সবজি, প্রবল ক্ষোভ জনমানসে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে জঙ্গি হামলা করে পাকিস্তানকে এখন কড়া মাসুল গুনতে হচ্ছে। অপারেশন সিঁদুরের ধাক্কায় কার্যত নাজেহাল এই সন্ত্রাসের মদতপুষ্ট রাষ্ট্রটি। এবার আফগানিস্তানের সীমান্তে লাগাতার সংঘর্ষে পাকনাগরিকদের জীবন এখন আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দেশের আম জনতার দৈনন্দিন খাদ্য সামগ্রী এবং পানীয় পণ্যে লেগেছে আগুন (Food Crisis)। গত একমাসে ৩০-৫০ শতাংশ দাম বেড়েছে। অত্যধিক অগ্নিমূল্যে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন চরম বিপাকে। টমেটোর কেজি ছুঁয়েছে ৬০০ টাকা। এই রকম খবর কেবল বাইরের দেশের নয় খোদ পাকিস্তানের (Pakistan) একাধিক সংবাদ মাধ্যম এই তথ্য তুলে ধরেছে। একে প্রতিবেশি রাষ্ট্রের প্রতি হিংসাত্মক কার্যকলাপ এবং অপর দিকে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে না পারার অক্ষমতা শাহবাজ শরীফের সরকারকে বিরাট বেকায়দায় ফেলেছে। ইতিমধ্যে সাধারণ নাগরিকের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    কাঁচামালের আমদানি নেই (Pakistan)!

    পাকিস্তানের (Pakistan) সংবাদ মাধ্যম বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ-উত্তেজনার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম আকাশছোঁয়া। রাওয়ালপিন্ডি শহরে টমেটোর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ টাকা প্রতি কেজি। স্থানীয় সবজি (Food Crisis) ব্যবসায়ী ইউনিয়ানের সভাপতি গোলাম কাদের বলেন, “টমেটোর চাহিদা খুব বেশি। অপর দিকে চাহিদার তুলনায় আমদানি নেই। আফগানিস্তান থেকে টমেটো রফতানি বন্ধ রয়েছে। কাঁচামালের সরবরাহ ঠিক করে না হলে দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই।”

    সবজির অগ্নিমূল্য

    পাকিস্তান (Pakistan) দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন রাওয়ালপিন্ডিতে সবজির দাম নিয়ে বলেছে, দাম বেশি হওয়ার কারণে ছোট ছোট সবজি বিক্রেতারা টমেটো, মটর, আদা, রসুন বিক্রি ইতিমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন। রসুনের বাজার মূল্য দৈনিক ৪০০-তে পৌঁছে গিয়েছে। আদার দাম হয়েছে ৭৫০ টাকা প্রতি কেজি। পিঁয়াজের দাম ১২০ টাকা প্রতি কেজি এবং মটরের দাম ৫০০ টাকা। ক্যাপসিকামের প্রতিকেজি (Food Crisis) মূল্য হয়েছে ৩০০ টাকা। ঢেঁড়সের দামও পৌঁছে গিয়েছে একই স্তরে। শসা ১৫০ টাকা কেজি এবং লাল গাজর ২০০ টাকা কেজি হয়েছে। লেবু হয়েছে ৩০০ টাকা কেজি। এছাড়াও ছোট ছোট ছোলার দাম হয়েছে ৫০ টাকা প্রতি কেজি। এই ভাবে চড়া দামে জীবন কাটাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

    আকাশ ছোঁয়া ফলের বাজার

    শুধু সবজির বাজারই আকাশছোঁয়া (Food Crisis) নয়। একইভাবে আগুন লেগেছে ফলের বাজারেও (Pakistan)। আপেলের মূল্য হয়েছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা প্রতি কেজি। আঙুর ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডালিমের মূল্য ৪০০ টাকা প্রতি কেজি। পেয়ারার দাম কেজিতে ১৭০ টাকা। একটি নারকেলের মূল্য ৪০০ টাকা। এক ডজন কলার মূল্য ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, কমলালেবুর দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অগ্নিমূল্যে আমজনতার জীবন এখন নাভিশ্বাসে উঠেছে।

    কেন সংঘাত?

    আফগানমুলুকে পাকিস্তানের (Pakistan) বিমান হামলার ঘটনা তালিবানের প্রশাসন মোটেও ভালো নজরে নেয়নি। সেই সঙ্গে শরণার্থীদের সঙ্গে পাকিস্তান আর্মির অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার দুই দেশের সম্পর্ক এখন একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে। এক্স হ্যান্ডলে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রক একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা একে অপরের নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ এড়ানোর বিষয় এবং পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্যের বাইরে অন্যকোনও বক্তব্যকে অবৈধ হিসেবে ধরা হবে। তবে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনা থেকেই। পাকিস্তানের একমন্ত্রী অবশ্য সমস্ত কিছুর জন্য ভারতকেই দায়ী মনে করেছেন। তবে আজ এই পাকিস্তান যে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্রমেই ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে একথা আন্তর্জাতিক গবেষকদের অধিকাংশইরাই মনে করছেন।

  • Diwali Phone Call: “দুই দেশ যেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়”, ট্রাম্পকে বললেন মোদি

    Diwali Phone Call: “দুই দেশ যেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়”, ট্রাম্পকে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) দীপাবলির শুভেচ্ছা (Diwali Phone Call) জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেজন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের যৌথ প্রচেষ্টার আশাও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই কথোপকথন হয়েছে এমন একটা সময়ে যখন আমেরিকা ক্রমশ পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য কুখ্যাত এই পাকিস্তান।

    মোদির বার্তা (Diwali Phone Call)

    বুধবার এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনার ফোন কল এবং উষ্ণ দীপাবলি শুভেচ্ছার জন্য।” তিনি বলেন, “এই আলোর উৎসবে আমাদের দুই মহান গণতন্ত্র যেন আশার আলোয় বিশ্বকে আলোকিত করে এবং সকল প্রকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ায়।” দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে এই ফোনালাপ এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক একপ্রকার তলানিতে ঠেকেছে। এদিন ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে এবং দীপাবলির শুভেচ্ছা জানাতে তিনি ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।

    ‘একজন মহান ব্যক্তি ও খুব ভালো বন্ধু’

    প্রসঙ্গত, ওভাল অফিসে (Diwali Phone Call) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প মোদিকে ‘একজন মহান ব্যক্তি’ এবং ‘খুব ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের জনগণকে দীপাবলির শুভেচ্ছাও জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি ভারতের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আজই আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেছি। তিনি এ বিষয়ে খুব আগ্রহী।”  তিনি বলেন, “আমরা কিছুক্ষণ আগে কথা বলেছিলাম। আমি বলেছিলাম, চলুন পাকিস্তানের সঙ্গে যেন কোনও যুদ্ধ না করি। সেখানে বাণিজ্য বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল। আমি এ বিষয়ে কথা বলতে পেরেছিলাম। আর এখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও যুদ্ধ নেই। এটা খুবই ভালো একটা বিষয় (PM Modi)। তিনি একজন মহান মানুষ এবং বছরের পর বছর ধরে তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছেন (Diwali Phone Call)।”

  • JK Accession: জম্মু-কাশ্মীরের ভারতভুক্তি কোন অবদান ছিল আরএসএসের গুরুজির?

    JK Accession: জম্মু-কাশ্মীরের ভারতভুক্তি কোন অবদান ছিল আরএসএসের গুরুজির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ কবলমুক্ত হয়ে ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছিল ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট। এরও দু’মাসেরও বেশি সময় পরে জম্মু-কাশ্মীর যুক্ত (JK Accession) হয়েছিল ভারতের সঙ্গে। দিনটি ছিল ২৬ অক্টোবর, ১৯৪৭।

    ভারত-ভঙ্গ (JK Accession)

    ভারতের স্বাধীনতা লাভ, দেশভাগ এবং পাকিস্তান সৃষ্টির ঘটনা এত দ্রুত ঘটে গিয়েছিল যে, এর সঙ্গে যুক্ত কারও জন্যই সময়টি সহজ ছিল না (Guruji Golwalkar)। ব্রিটিশদের জন্য তো নয়ই, নয় দেশপ্রেমিক ভারতীয়দের জন্যও, যাঁরা স্বাধীনতা লাভ করতে জান-প্রাণ এক করেছিলেন। কারণ দেশপ্রেমিক ভারতীয়দের জন্য এই ভারত-ভঙ্গ ছিল এমন এক গভীর আঘাত, যা এর আগে কখনও অনুভব করেননি তামাম ভারতবাসী। দেশভাগ, যার ফলে জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানের, তা আজও ভারতের জন্য এক দগদগে ঘায়ের মতো। ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে এটি ছিল একটি তাজা ও গভীর ক্ষত, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে। সেই সময় দেশীয় রাজ্য ছিল ভূস্বর্গ। এর অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ড পাকিস্তানের হাতে চলে গিয়েছিল এক বিশ্বাসঘাতক হামলার মাধ্যমে। পাকিস্তান মহারাজা হরি সিংকে ধোঁকা দিয়ে বিশ্বাস করিয়েছিল যে তাদের উদ্দেশ্য সম্মানজনক ও সৎ। অগাস্ট ১৯৪৭-এ যখন মহারাজা স্ট্যান্ডস্টিল চুক্তিতে সই করেছিলেন, পাকিস্তান তখন সেই কথাই বলেছিল।

    সংঘচালক বদ্রী দাস

    পাঞ্জাব ও বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও অস্থিরতা দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পণ্ডিত প্রেম নাথ ডোগরা মহারাজাকে পরামর্শ দেন যাতে তিনি দ্রুত তাঁর রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি জনমত গঠন করেন এবং বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি মহারাজার কাছে পেশ করেন। প্রতিবেশী পাঞ্জাবের সংঘচালক বদ্রী দাস স্বয়ং মহারাজার সঙ্গে দেখা করেন। তার পরেও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন মহারাজা হরি সিং।

    হরি সিংয়ের প্রতি বৈরিতা

    কী কারণে মহারাজার এই দশা? এর উত্তর হল স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মহারাজা হরি সিংয়ের প্রতি বৈরিতা। সেই কারণেই মহারাজা দ্রুত স্বাধীন ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখাননি। এই হিংসার শেকড় মেলে ১৯৪৬ সালের গ্রীষ্মকালের কোহালা ঘটনায়। সেই সময় নেহরু, তাঁর বন্ধু (দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত) শেখ মহম্মদ আবদুল্লাকে রক্ষা করতে শ্রীনগরে যাওয়ার (Guruji Golwalkar) চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় আবদুল্লা ছিলেন গারদে। পথে বাধা দেওয়া হয় নেহরুকে। তাঁকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, হরি সিংয়ের রাজ্যে আর এগোতে পারবেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এই ঘটনাই নেহরুর মানসিকতায় গভীর ছাপ ফেলেছিল। এর পর থেকে তিনি হরি সিংকে শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করতে শুরু করেন (JK Accession)।

    জম্মু-কাশ্মীরের ইতিহাসে স্মরণীয় দিন

    ১৭ অক্টোবর, জম্মু-কাশ্মীরের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। কারণ ১৯৪৭ সালের এই দিনেই শ্রী গুরুজি গোলওয়ালকর শ্রীনগরে মহারাজা হরি সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এজন্য গুরুজি দিল্লি থেকে বিমানে শ্রীনগর গিয়েছিলেন এবং মহারাজাকে তৎক্ষণাৎ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে রাজি করিয়েছিলেন। গুরুজি তিন দিন শ্রীনগরে থেকে দিল্লিতে ফেরেন ১৯ অক্টোবর। এর পর তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অসংখ্য কর্মীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। ১৯৪৭ সালে ভারতে ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্য ছিল। এই দেশীয় রাজ্যগুলির নিজ নিজ ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ছিল। তারা চাইলে ভারত কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারত। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমাও ছিল না। তা সত্ত্বেও হরি সিংয়ের প্রতি নেহরুর বৈরী মনোভাবের কারণেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন ভূস্বর্গের মহারাজা। অথচ, ১৯৩০-৩১ সালেই লন্ডনে অনুষ্ঠিত দেশীয় রাজ্যগুলির গোলটেবিল বৈঠকে মহারাজা স্পষ্টভাবে ভারতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন (JK Accession)।

    নেহরুর চালাকি!

    মনে রাখতে হবে, নেহরু মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছিল তাঁর ওপরই। অথচ, জম্মু-কাশ্মীর ছিল এমন এক দেশীয় রাজ্য, যেটির ব্যাপারে নেহরু নিজেই সিদ্ধান্ত নেন যে এটি তিনি তাঁর নিজের হাতে রাখবেন (Guruji Golwalkar)। নেহরু সরাসরি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। কারণ তিনি তাঁর বন্ধু শেখ আবদুল্লাকে একটি সুবিধাজনক চুক্তি দিতে চেয়েছিলেন। নেহরুর এই ব্যক্তিগত ইচ্ছাই জম্মু-কাশ্মীর সমস্যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দেয়। নেহরু চেয়েছিলেন হরি সিংহকে জব্দ করতে। ইচ্ছে পূরণে তিনি যেসব পদক্ষেপ করেছিলেন, তার জেরেই জম্মু-কাশ্মীর সম্পর্কিত বহু জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়, যার মোকাবিলা আজও করতে হচ্ছে ভারতকে। হরি সিং জানতেন, পাকিস্তানে যোগ দিলে হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হবেন। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিতে চাননি তিনি।

    গুরুজির হাতযশ

    ক্রান্তিকাল। এহেন পরিস্থিতিতে গুরুজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ১০ দিনের মধ্যেই হরি সিং স্বাক্ষর করেন ভারতভুক্তির দলিলে। তাঁর পুরো রাজ্য একীভূত হয়ে যায় ভারতের সঙ্গে (Guruji Golwalkar)। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি, এ রাজ্যের বিরাট একটা অংশ, যেমন গিলগিট-বালতিস্তান, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর (PoJK) এবং আরও কিছু অঞ্চল তৎকালীন সরকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এই অঞ্চলগুলি জোর করে দখল করে ফেলেছিল পাকিস্তান। যার মাশুল ভারতীয়দের গুণতে হচ্ছে আজও (JK Accession)।

  • India Pakistan: ‘‘প্রতিবেশীদের দোষারোপ পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস’’, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    India Pakistan: ‘‘প্রতিবেশীদের দোষারোপ পাকিস্তানের পুরনো অভ্যাস’’, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় ও মদত দিয়ে আসছে। নিজেদের ব্যর্থতার দায় প্রতিবেশী দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়া তাদের পুরনো অভ্যাস। আফগানিস্তানের (Pakistan Afghanistan) সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের মধ্যেই সন্ত্রাস ইস্যুতে পাকিস্তানকে সরাসরি আক্রমণ শানাল ভারত। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের (India Pakistan) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এমনই দাবি করেন। পাক-আফগান যুদ্ধে কার্যত আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে জয়সওয়াল বলেন, ‘‘আফগানিস্তান নিজেদের মাটিতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। তাতে পাকিস্তান ক্ষুব্ধ। আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি ভারত শ্রদ্ধাশীল।’’

    পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘর্ষ

    আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বাহিনীর সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষ বেঁধেছে পাকিস্তানের। এই পরিস্থিতিতে গা বাঁচাতে ফের ভারতকেই ঢাল করতে চাইলেন পাক মন্ত্রী। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খওজা আসিফ। আফগানিস্তানের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের সমীকরণের প্রেক্ষাপটে কি ভারতের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনার কোনও সম্ভাবনা রয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে খওজা আসিফ বলেন, ‘পাকিস্তান দুই তরফের সঙ্গেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’ এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও দাবি করেছেন, ‘সীমান্তে ভারতের নোংরা নীতি নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে’। তাঁর দাবি, তাঁরা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

    দিল্লির হয়ে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’

    পাকিস্তানের (India Pakistan) প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আরও অভিযোগ ছিল, দিল্লির হয়ে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ করছে তালিবান। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবেশীদের উপর দোষ চাপানো পাকিস্তানের পুরোনো স্বভাব।’ পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দেয় এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পৃষ্ঠপোষকতা করে। আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি ভারত সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই বার্তা ছিল বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের। উল্লেখ্য, পাকিস্তান আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সেই দেশে হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছিল তালিবান সরকার। তালিবানের দাবি ছিল, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে কাবুলে পাকিস্তানের এয়ারস্ট্রাইকের পরে আফগান-পাকিস্তান সংঘর্ষে বিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।

    চিন্তিত পাকিস্তান

    দুই সীমান্তে দুই পড়শি দেশকে নিয়ে চিন্তিত পাকিস্তান (India Pakistan)। আফগানিস্তান সীমান্তে তালিবানের সঙ্গে সংঘাতের পর আপাতত সংঘর্ষবিরতির পথে হেঁটেছে পাকিস্তান। কিন্তু আর এক পড়শি ভারতকে নিয়ে চিন্তিত ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই আশঙ্কার কথাই জানিয়েছেন সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। তাঁর দাবি, তালিবানের মতো পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে জড়াতে পারে নয়াদিল্লি। সে কথা মাথায় রেখেই দ্বিমুখী যুদ্ধের জন্য পাকিস্তান প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এমনকি বৃহস্পতিবার পাক মন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারতের মদতে যুদ্ধ চালাচ্ছে কাবুল। সংঘর্ষবিরতি ৪৮ ঘণ্টাও স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘‘সংঘর্ষবিরতি আদৌ বজায় থাকবে কি না সন্দেহ আছে। এই সিদ্ধান্ত তো দিল্লি থেকে নেওয়া হচ্ছে।’’ তিনি আরও দাবি করেন, আফগান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের পিছনে “গোপন পরিকল্পনা” ছিল। উল্লেখ্য, ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের কেন্দ্রে রয়েছে ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। এদিকে তালিবানের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। এদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানের তালিবান সরকার টিটিপি সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা করছে।

    ভারতের পাল্টা

    বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের (India Pakistan) সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে পাক মন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছি। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দেয়, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেয়। প্রতিবেশীদের দোষারোপ করা ওদের পুরনো স্বভাব।’’ তিনি আরও জানান, “আমরা পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। তিনটি বিষয় একেবারে পরিষ্কার — প্রথমত, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দেয় ও তাদের কার্যকলাপকে সমর্থন করে। দ্বিতীয়ত, নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার দায় প্রতিবেশীদের ঘাড়ে চাপানো পাকিস্তানের অভ্যাস। তৃতীয়ত, আফগানিস্তান যখন নিজস্ব সার্বভৌমত্বের প্রয়োগ করছে, তখন তাতে পাকিস্তান ক্ষিপ্ত হয়েছে।” রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন,“ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।”  ভারত বলছে, তালিবান বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির দিল্লি সফর ছিল সম্পূর্ণরূপে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক। প্রসঙ্গত, এটি প্রথম নয়, খাজা আসিফ প্রায়ই এ ধরনের ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক অভিযোগ করে থাকেন, যা কোনও প্রমাণে টিকে না। সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জানান, কাবুলে ভারতের একটি টেকনিক্যাল মিশন চালু রয়েছে। তিনি জানান, “এই মুহূর্তে কাবুলে আমাদের একটি টেকনিক্যাল মিশন কাজ করছে। খুব শিগগিরই এটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে রূপান্তরিত হবে।”

  • Pakistan Afghanistan Clashes: আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ, হত ১২, জখম অন্তত ১০০

    Pakistan Afghanistan Clashes: আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ, হত ১২, জখম অন্তত ১০০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আফগান-পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ (Pakistan Afghanistan Clashes) শুরু সীমান্তে। বুধবার সকাল পর্যন্ত ওই সংঘর্ষ চলে বলে খবর। সংঘর্ষে প্রায় ১২ জন নিহত হয়েছে, জখমও হয়েছে অনেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এটি দুই দেশের মধ্যে সব চেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ।

    সীমান্ত চৌকি ধ্বংস (Pakistan Afghanistan Clashes)

    জানা গিয়েছে, তালিবান বাহিনী একটি (Drone Footage) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করে এবং আফগান অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণে ব্যবহৃত একটি পাকিস্তানি সামরিক ট্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। মৃতদের মধ্যে চারজন পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। জখমও হয়েছেন চারজন। তালিবানের প্রধান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদের দাবি, পাকিস্তানের হামলায় ১২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, জখম হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি। ড্রোন ফুটেজে দেখা গিয়েছে, আফগান তালিবান যোদ্ধারা পাকিস্তানের সীমান্ত পোস্টগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। দুই ইসলামিক দেশই মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী হিংসার দায় চাপিয়েছে একে অন্যের ঘাড়ে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের স্পিন বোলদাক জেলা এবং পাকিস্তানের চামান জেলাজুড়ে।

    পাকিস্তানি পোস্টে গুলি

    পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আফগান বাহিনী ও পাকিস্তানি তালিবান যৌথভাবে (Pakistan Afghanistan Clashes) কোনও উসকানি ছাড়াই একটি পাকিস্তানি পোস্টে গুলি চালায়। প্রত্যুত্তরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কুর্রাম জেলায় অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। গত সপ্তাহ থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তালিবান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুল এবং আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের একটি বাজারে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তোলে। এর আগেও পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছিল। তারা দাবি করেছিল, তাদের টার্গেট ছিল সশস্ত্র জঙ্গিদের ডেরা। তালিবান কর্তাদের মতে, আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ স্থানীয় সময় ভোর ৪টা নাগাদ শুরু হয়, চলে সকাল ৮টা পর্যন্ত।

    সোশ্যাল মিডিয়ায়ও বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানি সেনাদের তালিবান যোদ্ধারা আটক করেছে। একটি ভিডিওতে (Drone Footage) আবার দু’জনকে কাঁদতে এবং হাত জোড় করে প্রাণভিক্ষা করতে দেখা যায়। দাবি, তারা সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আটক হওয়া পাক সেনাবাহিনীর সদস্য (Pakistan Afghanistan Clashes)।

  • Operation Sindoor:’৮৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানের অস্ত্রবিরতির আবেদন’, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বহু অজানা তথ্য প্রকাশ্যে

    Operation Sindoor:’৮৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানের অস্ত্রবিরতির আবেদন’, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বহু অজানা তথ্য প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সংঘর্ষে ১০০-এর বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। সম্প্রতি এমনই অভিমত প্রকাশ করলেন ভারতের ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ (স্ট্র্যাটেজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই। তিনি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ পোস্টহিউমাস পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তা নির্দেশ করে যে তাদের সেনা বাহিনীর প্রাণহানি লাইন অব কন্ট্রোলে (LoC) ১০০-এর বেশি ছিল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই দাবি করেন, পাকিস্তান নিজেরাই তাদের ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে ১৪ আগস্টের ‘পোস্টহিউমাস অ্যাওয়ার্ড’ তালিকার মাধ্যমে। তিনি বলেন, “পাকিস্তান নিহত সেনাদের সংখ্যা শতাধিক ছিল, যা তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি, কিন্তু পুরস্কারের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে গিয়েছে।”

    প্রতিক্রিয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল

    জেনারেল ঘাই বলেন, “এপ্রিল ২২-এ জম্মু কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হওয়ার পর পাল্টা একটি প্রতিক্রিয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল। এপ্রিল ২২ থেকে মে ৬-৭-এর রাত পর্যন্ত আমাদের অভিযান ক্রমশ এগোচ্ছিল। আমরা আমাদের লক্ষ্যগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম। শত্রুকে বিরত রাখার জন্য সীমান্তে কিছু সতর্কমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। সেনা, অন্যান্য সরকারী সংস্থা ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ছিল।” তিনি আরও বলেন, “চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য আমরা বহু সম্ভাব্য লক্ষ্য যাচাই করেছি। এ সময়ই তথ্যযুদ্ধেও আমরা সক্রিয় ছিলাম। পাকিস্তানি ড্রোনগুলো বারবার ভারতীয় আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) ব্যবস্থা নেয়।” মে ৯-১০ তারিখের রাতের রণকৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ১১টি বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করেছি। আটটি ঘাঁটি, তিনটি হ্যাংগার এবং চারটি রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের বিমান সম্পদ ধ্বংস হয়েছে।”

    ভারতীয় নৌবাহিনীও তখন সম্পূর্ণ সক্রিয়

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই মঙ্গলবার এক বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করে জানান, গত মে মাসে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার আগে ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগরে প্রবেশ করে সম্পূর্ণ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই রাষ্ট্রসঙ্ঘের ট্রুপ কনট্রিবিউটিং কান্ট্রিজ (UNTCC)-এর চিফস’ কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “ভারতীয় নৌবাহিনীও তখন সম্পূর্ণ সক্রিয় ছিল—এটি হয়তো অনেকের জানা নেই। নৌবাহিনী আরব সাগরে প্রবেশ করেছিল এবং সেই মুহূর্তে আমাদের অবস্থান ছিল কৌশলগতভাবে অনুকূল। ডিজিএমও কথা বলার আগেই আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম।” তিনি আরও বলেন, “যদি পাকিস্তান তখন পিছু না হটত, তাহলে ফলাফল তাদের জন্য ভয়াবহ হতে পারত—শুধু সমুদ্রপথেই নয়, অন্য দিক থেকেও।”

    ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই আরও উল্লেখ করেন, ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলে এখন এক “নীতিগত পরিবর্তন” এসেছে। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই এবিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। তিনটি মূলনীতি তিনি তুলে ধরেছেন—প্রথমত, সন্ত্রাসী হামলাকে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, আমরা কখনও পারমাণবিক হুমকিতে মাথা নত করব না। তৃতীয়ত, সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হবে না।” এর আগে, জুলাই মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে জানান যে, পহেলগাঁওতে নাগরিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন সন্ত্রাসীকে নিরাপত্তা বাহিনী ‘অপারেশন মহাদেব’-এর সময় হত্যা করেছে। ঘাই বলেন, “যে দোষীরা পাহালগাঁও হামলায় জড়িত ছিল, তাদের ভারতীয় সেনা নরকের গভীরতায় গিয়ে হলেও খুঁজে বের করবে—আমরা সেটাই করেছি। আমাদের ৯৬ দিন লেগেছিল, কিন্তু আমরা তাদের বিশ্রাম নিতে দিইনি। শেষ পর্যন্ত যখন তাদের খুঁজে বের করে নির্মূল করা হয়, তখন দেখা যায় তারা পলায়ন ও অনাহারে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সংসদে এটি উল্লেখ করেছেন—তাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

    রক্তপাতের উৎস গোপন নয়

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাইয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, ভারত এখন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ নতুন রণনীতি গ্রহণ করেছে—যেখানে আক্রমণের জবাব কেবল সীমান্তে নয়, তথ্যযুদ্ধ ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সমানভাবে দেওয়া হচ্ছে।ভারতের পক্ষ থেকে তিনি বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন, “১৯৮০-এর দশক থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে ২৮,০০০-এর বেশি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ৬০ হাজারেরও বেশি সংখ্যালঘু পরিবার — প্রায় ১ লক্ষ মানুষ — ঘরছাড়া হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ হাজার নিরীহ নাগরিক ও ৩ হাজার নিরাপত্তারক্ষী। এই রক্তপাতের উৎস গোপন নয়।”

  • Pakistan TLP: টিএলপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন পাক পুলিশের, গুলিতে হত ১১

    Pakistan TLP: টিএলপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন পাক পুলিশের, গুলিতে হত ১১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেহরিক-ই-লাবাইক পাকিস্তান (টিএলপি) কর্মীদের (Pakistan TLP) ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাল পাকিস্তানের পাঞ্জাব পুলিশ।  মুরিদকেতে (Islamabad Violence) পাকিস্তানি পুলিশের এই অভিযানে মৃত্যু হয় ১১ জনের, জখম হন ৫০ জনেরও বেশি। জানা গিয়েছে, ইজরায়েল-গাজা সংঘাতের জেরে গাজার সপক্ষে মিছিল করে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দেন টিএলপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। পার্টির প্রধান সাদ হুসাইন রিজভির নেতৃত্বে লাহোর থেকে ওই মিছিল শুরু হয়। অভিযোগ, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের রুখতে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, ছোড়ে টিয়ার গ্যাসের সেলও। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান রেঞ্জার্সও। এর পরেই বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদের পথে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে মুরিদকে শিবির করে। জানা গিয়েছে, টিএলপি নেতৃত্ব ‘রণাঙ্গন’ থেকে পিছু হটার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।

    গুলিতে হত ১১ (Pakistan TLP)

    পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে পুলিশ যখন প্যালেস্তাইনপন্থীদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশের জন্য রাজধানীর দিকে টিএলপির মিছিল রোধ করার চেষ্টা করছিল, তখন লাহোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। টিএলপির অভিযোগ, পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। তাতে তাদের ১১ জন কর্মী নিহত হয়, জখম হয় ৫০ জনেরও বেশি (Pakistan TLP)।

    কী বললেন টিএলপি নেতা

    প্রতিবাদের একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা গিয়েছে। এক টিএলপি নেতাকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আজ সকাল থেকে টিএলপির ১১ জন নিহত হয়েছে। অবিরাম শেলিং ও গুলিবর্ষণ চলছে।” প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ১১ অক্টোবর তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পুলিশ টিয়ার গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে, লাঠিচার্জ করে। পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার জুম্মার নমাজের সময় লাহোরে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে টিএলপির প্রধান বলেন, “গ্রেফতার কোনও সমস্যা নয়, গুলি কোনও সমস্যা নয়, শেলও কোনও সমস্যা নয় – শহিদ হওয়া আমাদের নিয়তি (Islamabad Violence)।” পাকিস্তানের মন্ত্রী তালাল চৌধুরী টিএলপির নিন্দে করে বলেন, “গোষ্ঠীটি গাজা সঙ্কটকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সরকার কোনও সংগঠনের (Pakistan TLP) হিংসা বা জবরদস্তি সহ্য করবে না।

  • Pakistan Taliban War: পাক-আফগানিস্তানের সংঘাতের কারণ কী? কোন অবস্থান নেবে ভারত?

    Pakistan Taliban War: পাক-আফগানিস্তানের সংঘাতের কারণ কী? কোন অবস্থান নেবে ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সপ্তাহের জন্য ভারত সফরে এসেছেন আফগানিস্তানের (Pakistan Taliban War) বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি (Amir Muttaqi)। ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে এসে পৌঁছন তিনি। তাঁর ভারত সফর চলাকালীনই পাক যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং আশপাশ এলাকায় হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও। তালিবানরা ২৫টি পাক সামরিক চৌকি দখল করে, হত্যা করে ৫৮ জন সৈন্যকে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান দ্বন্দ্বের এই আবহে দুই দেশই পরস্পরকে পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে। দুই মুসলিম রাষ্ট্রের এহেন রণহুঙ্কারে উদ্বিগ্ন আরও দুই ইসলামিক রাষ্ট্র – সৌদি আরব এবং কাতার। দ্বন্দ্বের অবসানে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে এসেছে এই দুই দেশই।

    বিরোধের মূল কারণ (Pakistan Taliban War)

    প্রশ্ন হল, দুই মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের (Pakistan Taliban War) বিরোধের মূল কারণ কী? ভারতে কি এর কোনও প্রভাব পড়তে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে আমাদের দেখে নিতে হবে পাক-আফগান সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি কী? যুদ্ধের সম্ভাবনাই বা কতটা? এর উত্তর পেতে হলে আমাদের দেখে নিতে হবে আফগান বিদেশমন্ত্রীর ভারত সফরের দিনগুলিতে ঠিক কী ঘটেছিল ‘আফিমের দেশে’। ৯ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান শুধু কাবুলেই নয়, খোস্ত, জলালাবাদ ও পাকতিকা প্রদেশেও বিমান হামলা চালায়। টার্গেট ছিল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ। ১০ অক্টোবর টিটিপি পাকিস্তানে একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালায়। এতে এক মেজর, এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল, ২০ জন সৈন্য এবং ৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন।

    দাবি, পাল্টা দাবি

    পরের রাতে তালিবান বাহিনী সীমান্ত বরাবর পাল্টা আক্রমণ চালায়। কাবুলে সাংবাদিক বৈঠকে তালিবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, এই সংঘর্ষে ৫৮ জনেরও বেশি পাক সেনা নিহত এবং ৩০ জন জখম হয়েছে। তালিবান বাহিনী অস্থায়ীভাবে ২৫টি পাকিস্তানি চৌকি দখল করেছিল। সংঘর্ষ শেষের পরে সেগুলি পাকিস্তানকে ফেরতও দিয়ে দেওয়া হয় (Amir Muttaqi)। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি জানান, পাকিস্তান কঠোর জবাব দিয়েছে। এতে ৯ জন তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “পাকিস্তান চুপ করে থাকবে না, ইটের জবাব পাটকেল দিয়ে দেওয়া হবে।” আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের অভিযান মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের কোনও সীমান্ত লঙ্ঘন হলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে (Pakistan Taliban War)। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তানের রাশ হাতে নেয়। তার পর এই প্রথম পাকিস্তান সরাসরি কাবুলে ড্রোন ও জেট হামলা চালিয়েছে। অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিবেক মিশ্র বলেন, “সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে। তবে হামলা চলতে থাকলে সম্পূর্ণ যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

    মুত্তাকির ভারত সফরের জেরেই কি পাকিস্তান ক্ষুব্ধ?

    মুত্তাকি ভারতে পৌঁছন ৯ অক্টোবর। সেই দিনই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আফগানিস্তানকে সবচেয়ে বড় শত্রু আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, “সেনাবাহিনী ও সরকারের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। আফগান মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ আর সহ্য করা হবে না।” বস্তুত, এরই কয়েক ঘণ্টা পরে পাকিস্তান কাবুলে বিমান হামলা চালায়। পরের দিন এক (Amir Muttaqi) সাক্ষাৎকারে আসিফ অভিযোগের আঙুল তোলেন ভারতের দিকে। তাঁর অভিযোগ, “আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে প্রতিশোধ নিচ্ছে ভারত।” তিনি দাবি করেন, “একই ধর্মের পড়শি হওয়া সত্ত্বেও আফগানিস্তান কখনও ভাইয়ের মতো আচরণ করেনি (Pakistan Taliban War)।”

    আরও খেপে যায় পাকিস্তান

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও মুত্তাকির বৈঠকের পর আরও খেপে যায় পাকিস্তান। কারণ যৌথ বিবৃতিতে তালিবান জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার নিন্দে করে। এর পরেই পাকিস্তান তড়িঘড়ি করে আফগান রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রবল আপত্তি জানায়। এও জানিয়ে দেয়, জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কিত মন্তব্য রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব ও ওই অঞ্চলের আইনানুগ মর্যাদা লঙ্ঘনের শামিল।ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিক্রি বলেন, “মুত্তাকির ভারত সফর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে পাকিস্তান।” জেএনইউয়ের অধ্যাপক রাজন কুমার বলেন, “পাকিস্তানের হামলার সময়সূচি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে মুত্তাকির ভারত সফরের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এর ইঙ্গিতও স্পষ্ট। আফগানিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তবে তার মাশুল গুণতে হবে তাদের (Pakistan Taliban War)।”

    সংঘাতের ৩ কারণ

    প্রশ্ন হল, পাকিস্তান ও তালিবানের সংঘাতের প্রকৃত কারণ কী? নয়ের দশকে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় জন্ম হয় তালিবানের। তালিবান যোদ্ধাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা দেয় পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। ১৯৯৬ সালে কাবুল পতনের পর তালিবান সরকারকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল যারা, তাদের মধ্যে ছিল পাকিস্তানও। ২০০১ সালে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে ঢুকলে আমেরিকার পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। এর জেরে তালিবান নেতা মোল্লা ওমর পাকিস্তানকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দেন। এর পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় পাকিস্তানের সঙ্গে তালিবানদের। ২০২১ সালে তালিবান ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় এলে পাকিস্তান সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করে। তাতে অবশ্য কোনও লাভ হয়নি। বরং, তিনটি বড় ইস্যুতে সংঘাত তীব্র হয়।

    সংঘাতের ইস্যু

    এই ইস্যুগুলি হল, টিটিপিকে (TTP) আশ্রয় দেওয়া। টিটিপি পাকিস্তানের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হুমকি, যারা ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানিকে হত্যা করেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালিবান সীমান্তের ওপারে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর ওপর রয়েছে সীমান্ত বিরোধ। ২ হাজার ৬৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইনকে  (Durand Line) (১৮৯৩ সালে এই রেখা টেনেছিলেন ব্রিটিশ অফিসার মোর্টিমার ডুরান্ড) আফগানিস্তান কৃত্রিম ঔপনিবেশিক সীমারেখা হিসেবে অস্বীকার করে। এই রেখাই পশতুন ও বেলুচ সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে রেখেছে (Amir Muttaqi)। ২০২১ সালের পর জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পাকিস্তান সীমান্তে বেড়া দিতে শুরু করে। তালিবান প্রশাসন একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করে। আফগান শরণার্থীদের বহিষ্কারও, দুই দেশের দ্বন্দ্বের একটি বড় কারণ। সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় থেকে পাকিস্তান লক্ষাধিক আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) জানিয়েছে, এখনও প্রায় ১৫ লাখ আফগান পাকিস্তানে রয়েছে। ২০২৩ সালে পাকিস্তান নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক বোঝার কথা বলে অ-নথিভুক্ত আফগানদের বহিষ্কার করতে শুরু করে। তালিবান একে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বলে অভিহিত করে। তারা কবুল করে, আফগানিস্তানের পক্ষে এই শরণার্থীদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নেই (Pakistan Taliban War)।

    তালিবানি কৌশল

    প্রশ্ন হল, যদি সত্যিই যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে কী হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে তালিবানরা পাকিস্তানের তুলনায় অনেক দুর্বল। তবে পাকিস্তানকে সামরিকভাবে চাপে ফেলতে তারা গেরিলা কৌশল অবলম্বন করতে পারে। রাজন কুমার বলেন, “অস্বীকার করলেও, তালিবান টিটিপিকে মদত দিয়ে চলেছে। তার কারণ উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে যাতে পাকিস্তানকে দু’টি ফ্রন্টে লড়াই করতে বাধ্য করা যায়।এদিকে, সম্প্রতি, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে বলা হয়েছে একটির ওপর আক্রমণ উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে সৌদি আরব। তাই দ্বন্দ্ব মেটাতে এগিয়ে এসেছে তারা। এগিয়ে এসেছে মুসলিম রাষ্ট্র কাতারও (Pakistan Taliban War)।

    ভারতের ওপর প্রভাব

    প্রশ্ন হল, পাক-তালিবান সংঘাত ভারতের ওপর কী প্রভাব ফেলবে? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান ও তালিবানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা আফগানিস্তানে ভারতের প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করছে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন কাশ্মীরে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভারতকে (Amir Muttaqi)। রাজন কুমারের পর্যবেক্ষণ, তালিবান ভারতের মতাদর্শগত মিত্র না হলেও, তারা নয়াদিল্লির কাছে অর্থনৈতিক, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত সাহায্য চায়। তবে ভারত সম্ভবত মানবিক ও উন্নয়নমূলক সাহায্যের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে, এড়িয়ে চলবে সামরিক জটিলতা (Pakistan Taliban War)।

LinkedIn
Share