Tag: pakistan

pakistan

  • Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    সুশান্ত দাস

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন—দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর কি এখন কার্যত একক নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির? আর যদি তাই হয়, তাহলে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পাকিস্তানের সাংবিধানিক পরিবর্তন, সামরিক কাঠামোর রদবদল, পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থার প্রকৃতি এবং ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল—সবকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

    কী বদলেছে পাকিস্তানে?

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার নতুন Chief of Defence Forces (CDF) পদ সৃষ্টি করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে। এই পদে তিন বাহিনীর (স্থল, নৌ ও বিমান) সর্বোচ্চ সামরিক কর্তৃত্ব একত্রিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত কমান্ড ব্যবস্থার উপরও তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু সংবাদমাধ্যমে এটিকে ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’ বলে বর্ণনা করা হলেও, বাস্তব চিত্র কিছুটা বেশি জটিল।

    ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ বলতে কী বোঝায়?

    সাধারণ মানুষের কাছে ‘‘নিউক্লিয়ার বাটন’’ বলতে এমন একটি বোতামের ধারণা তৈরি হয়, যা একজন ব্যক্তি চাপলেই পারমাণবিক হামলা শুরু হয়ে যায়। বাস্তবে কোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশেই বিষয়টি এতটা সরল নয়। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র পরিচালনা করে ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (NCA) এবং তার অধীনস্থ স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান্স ডিভিশন (SPD)। এই ব্যবস্থায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্তরের অংশগ্রহণ রয়েছে। যদিও নতুন কাঠামোতে আসিম মুনিরের প্রভাব অনেক বেড়েছে, তবুও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখনও একটি প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমেই কার্যকর হয়। অর্থাৎ, ‘‘একটাই বোতাম টিপে যুদ্ধ শুরু’’— এমন ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে।

    কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

    বিশ্লেষকদের মতে উদ্বেগের মূল কারণ কেবল সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়, বরং আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও তাঁর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। গত কয়েক মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক কড়া মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় সূত্রের দাবি, তিনি পারমাণবিক প্রতিরোধ নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন। যদিও পাকিস্তান পরে জানায়, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা স্বাধীনভাবে ওই দাবিগুলি যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা নীতি এবং আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণে আসিম মুনিরের প্রভাব বর্তমানে অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?

    ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কিনা এই প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তরটি ‘‘হ্যাঁ, তবে আতঙ্কিত হওয়ার নয়।’’ কারণ—

    • প্রথমত, ভারত বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে মাথায় রেখে নিজস্ব প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করে আসছে।
    • দ্বিতীয়ত, ভারতের রয়েছে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি, মহাকাশভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ (Credible Minimum Deterrence) নীতি।
    • তৃতীয়ত, ভারত এখনও ‘‘নো ফার্স্ট ইউজ’’ (NFU) বা প্রথম ব্যবহার নয় নীতির কথা বললেও, পাকিস্তান বরাবরই প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প খোলা রেখেছে। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক-সামরিক নেতৃত্বে ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীকরণ ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব

    পাকিস্তানে বহু দশক ধরেই সেনাবাহিনী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বহু পর্যবেক্ষকের মত। এর ফলে নির্বাচিত সরকারের তুলনায় সেনাবাহিনীর প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিক মহল কী দেখছে?

    পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো এখন আরও বেশি সামরিককেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, চিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায়ও আসিম মুনির ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন।

    ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে…

    ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’— এমন দাবি বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিসরল করে তুলে ধরে। তবে এটাও সত্য যে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক ও সামরিক পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোয় তাঁর প্রভাব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ভারতের জন্য এর অর্থ তাৎক্ষণিক যুদ্ধের আশঙ্কা নয়, বরং পাকিস্তানের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, পারমাণবিক নীতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উপর আরও নিবিড় নজর রাখা। দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক প্রতিরোধের ভারসাম্য এখনও বহাল থাকলেও, যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে আরও কেন্দ্রীভূত হয়, তখন ভুল হিসাব বা সংকটের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

  • Pakistan: গোপন বৈঠকে ভারত-বিরোধী প্রচারের নির্দেশ! পাক সেনার প্রচারযন্ত্রের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

    Pakistan: গোপন বৈঠকে ভারত-বিরোধী প্রচারের নির্দেশ! পাক সেনার প্রচারযন্ত্রের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাবাহিনীর প্রচারযন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন সে দেশের সাংবাদিক ইমরান রিয়াজ (Imran Riaz)। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের ডিজি আইএসপিআর সম্প্রতি দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের কর্তা এবং প্রভাবশালী সাংবাদিকদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমগুলিকে ভারত-বিরোধী জোরদার প্রচার চালানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পাক সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবি (Pakistan)

    রিয়াজের দাবি, বৈঠকে সংবাদমাধ্যমগুলিকে বারবার এমন একটি বয়ান প্রচার করতে বলা হয়, যাতে মনে হয় ভারত খুব শীঘ্রই ভেঙে পড়তে চলেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মনগড়া প্রচারের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্র-সমর্থিত তথ্যযুদ্ধকে আরও তীব্র করার চেষ্টা করছে। রিয়াজের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিকতার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের সামরিক প্রচার বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অভ্যন্তরে এমন এক জনমত গড়ে তুলতে সচেষ্ট, যেখানে ভারতকে দুর্বল ও অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যমকে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ভারতকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন রিয়াজ।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    তাঁর বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের ডিজি আইএসপিআরের দফতর বর্তমানে শুধু সেনাবাহিনীর সরকারি তথ্য প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা সঙ্কট কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের বয়ান নির্ধারণেও এই দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রবল প্রভাব রয়েছে। সরকারি বয়ান থেকে সরে গেলে সংবাদমাধ্যমকে সেন্সরশিপ, প্রশাসনিক চাপ এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখেও পড়তে হয়। রিয়াজের দাবি, ওই বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের চেয়ে ভারতবিরোধী প্রচারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, এই (Pakistan) ব্যবস্থার ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কার্যত দমিয়ে রাখা হচ্ছে এবং রাষ্ট্র-অনুমোদিত প্রচারই টেলিভিশন, ডিজিটাল মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

    ভারতে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য

    ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের প্রচারকে পুরনো ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার বলেই মনে করা হয়। গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন মহল বারবার ভারতের ভেঙে পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। কিন্তু ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নির্বাচন সেই সমস্ত দাবিকে বারবার ভুল প্রমাণ করেছে (Imran Riaz)। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈচিত্র্যের মধ্যেও ভারতের ঐক্য পাকিস্তানের প্রচারিত বয়ানকে কার্যত অস্বীকার করে। বর্তমানে তথ্যযুদ্ধকে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে ভারত। সেই কারণে টেলিভিশন, ডিজিটাল মিডিয়া, এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদেশি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মোকাবিলায় ভারত সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে বলেও অভিমত বিশ্লেষকদের।

    শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা!

    এদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে (Pakistan), ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা।বালুচিস্তানে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এখনও অব্যাহত। সেখানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সংঘাত দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে (Imran Riaz)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরেও অর্থনৈতিক দুরবস্থা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই অভ্যন্তরীণ সঙ্কটগুলির পরিবর্তে ভারতের তথাকথিত অস্থিরতা নিয়ে প্রচার চালাতেই পাকিস্তানের সামরিক প্রচারযন্ত্র বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়

    রিয়াজের দাবি, দেশের প্রকৃত সমস্যার সমাধানের বদলে বিদেশবিরোধী প্রচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র বাস্তব পরিস্থিতি থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত যখন অর্থনীতি ও গণতন্ত্র—উভয় ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী করছে, তখন পাকিস্তানের সামরিক প্রচারযন্ত্র এখনও ভারতবিরোধী প্রচারের পুরনো কৌশলেই আটকে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল শুধু ভারতবিরোধী প্রচার নয়, বরং রাষ্ট্রের তরফে সংবাদমাধ্যমকে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ (Imran Riaz) পরিবেশনের পরিবর্তে বিদেশবিরোধী প্রচারকে () অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করার অভিযোগ।

     

  • Kargil Vijay Diwas: কার্গিল বিজয় দিবস, ভারতীয় সেনার বিজয়গাথা আজও জাতির প্রেরণা

    Kargil Vijay Diwas: কার্গিল বিজয় দিবস, ভারতীয় সেনার বিজয়গাথা আজও জাতির প্রেরণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২৬ জুলাই। ফি বছর এই দিনটি পালিত হয় কার্গিল বিজয় দিবস (Kargil Vijay Diwas) হিসেবে। এটি কেবল একটি সামরিক জয়ের (Indias Immortal Symbol) স্মরণ নয়, বরং দেশের সেই অমর বীরদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং অটল সংকল্পের প্রতীক, যাঁরা নিজেদের রক্ত দিয়ে ভারতের তেরঙ্গার সম্মান, মর্যাদা ও গৌরব রক্ষা করেছিলেন। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা একবার অর্জন করলেই তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, প্রতিটি প্রজন্মকে কর্তব্যবোধ, সাহস এবং আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হয়।

    কার্গিল বিজয় দিবস (Kargil Vijay Diwas)

    কিছু বিজয় শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত হয় না, বরং জাতির আত্মায় অমর হয়ে থাকে। সেগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে, জাতীয় চরিত্র গঠনে অবদান রাখে এবং এই বিশ্বাস জাগিয়ে তোলে যে মাতৃভূমির সম্মান বিপন্ন হলে ভারতীয় সেনা হিমালয়ের মতোই অটল থেকে দেশের মর্যাদা রক্ষা করবে। কার্গিল বিজয় এমনই এক অমর গাথা। এটি শুধু দুর্গম পাহাড়চূড়া পুনর্দখলের ইতিহাস নয়, বরং ভারতের সেই অদম্য জাতীয় সংকল্পের প্রতীক, যা গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল—ভারত শান্তির পক্ষপাতী হলেও, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং আত্মমর্যাদা রক্ষায় যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীরা কার্গিল, দ্রাস, বাটালিক এবং টোলোলিং এলাকার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল অবৈধভাবে দখল করে ভারতের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রা, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং শত্রুপক্ষের কৌশলগত সুবিধার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভারতীয় সেনা অসাধারণ সাহস, ধৈর্য ও সামরিক কৌশলের পরিচয় দিয়েছিল।

    অপারেশন বিজয়

    ‘অপারেশন বিজয়ে’র মাধ্যমে ভারতীয় সেনারা একে একে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গে ফের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা প্রমাণ করেছিলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমিও রক্ষার প্রশ্নে ভারতীয় সেনার সঙ্কল্প কখনও নড়চড় হবে না। কার্গিলের বরফঢাকা দুর্গম পাহাড়ে ভারতীয় জওয়ানরা অসীম সাহস, অতুলনীয় বীরত্ব এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে পাকিস্তানের অনুপ্রবেশ ও সামরিক দুঃসাহসিকতার জবাব দিয়েছিলেন। এই বিজয় শুধু সামরিক সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় সেনার দেশপ্রেম, বীরত্ব এবং আত্মবলিদানের এক অমর ইতিহাস। রাজস্থানের ভূমি বরাবরই বীরত্ব ও আত্মত্যাগের জন্য পরিচিত। মহারানা প্রতাপ, বীর দুর্গাদাস রাঠোর, পৃথ্বীরাজ চৌহান, পান্না ধাই, হাড়ি রানির মতো অসংখ্য বীর ব্যক্তিত্বের উত্তরাধিকার বহনকারী এই রাজ্য থেকে বহু সেনা কার্গিল যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। অসংখ্য পরিবার তাঁদের সন্তানদের দেশের প্রতিরক্ষার জন্য উৎসর্গ করেছে। তাঁদের আত্মত্যাগ সমগ্র রাজস্থানের গর্ব এবং প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

    ‘কার্গিল শৌর্য বাতিকা’

    এই ভাবনা থেকেই রাজস্থান বিধানসভা প্রাঙ্গণে গড়ে তোলা হয়েছে ‘কার্গিল শৌর্য বাতিকা’ এবং ‘নক্ষত্র’ ও ভেষজ উদ্যান। এগুলি কেবল সৌন্দর্যায়নের প্রকল্প নয়, বরং গণতন্ত্র, দেশপ্রেম, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার প্রতীক। কার্গিল যুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত এই শৌর্য বাতিকায় শহিদ সেনাদের স্ত্রীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে মোট ১,১০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে, যাতে শহিদদের স্মৃতিকে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তার সঙ্গে যুক্ত করা যায় (Kargil Vijay Diwas)। বিধানসভা কেবল আইন প্রণয়নের স্থান নয়, সমাজকে অনুপ্রাণিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান (Indias Immortal Symbol)। সেই কারণে কার্গিল শৌর্য বাতিকার মতো উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে দেশসেবা, আত্মত্যাগ এবং কর্তব্যবোধের বার্তা পৌঁছে দেয়। সংবিধান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মহান ব্যক্তিত্ব এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে নেওয়া অন্যান্য উদ্যোগও বিধানসভা প্রাঙ্গণকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছে। রাজস্থান বিধানসভা দেশের অল্প কয়েকটি বিধানসভার মধ্যে অন্যতম, যেখানে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি দেশপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বিত চিত্র স্পষ্টভাবে দেখা যায় (Kargil Vijay Diwas)।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা

    বর্তমানে ভারত আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি এবং সীমান্ত পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পথে এগিয়ে চলেছে। এই যাত্রাপথে কার্গিলের বীর শহিদদের আত্মত্যাগ আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁদের ত্যাগ মনে করিয়ে দেয়, দেশ গড়ার কাজ শুধু সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেনার একার নয়। একজন শিক্ষক মূল্যবোধ শেখান, কৃষক খাদ্য উৎপাদন করেন, বিজ্ঞানী নতুন উদ্ভাবন করেন, চিকিৎসক মানুষের জীবন বাঁচান, সেনা সীমান্ত রক্ষা করেন এবং জনপ্রতিনিধি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা করেন—সব মিলিয়েই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে ওঠে (Kargil Vijay Diwas)। কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, সংবিধানের আদর্শে অটল থাকা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা, পরিবেশ সংরক্ষণকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, সেবাভাব ও কর্তব্যনিষ্ঠার মূল্যবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    “দেশ সবার আগে”

    কার্গিলের অমর বীরদের প্রদর্শিত বীরত্ব শুধু ভারতের ইতিহাসের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শেখায়, স্বাধীনতা শুধু অর্জন করলেই হয় না, প্রতিটি প্রজন্মকে কর্তব্য, শৃঙ্খলা এবং দেশসেবার মাধ্যমে তা রক্ষা করতে হয়। কার্গিল বিজয় দিবসে “দেশ সবার আগে” এই আদর্শকে জীবনের মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর, উন্নত এবং গৌরবময় (Indias Immortal Symbol) ভারত গড়ার প্রত্যয়ই হবে কার্গিলের অমর শহিদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি (Kargil Vijay Diwas)।

     

  • Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ট্যাঙ্ক জেলায় যৌথ নিরাপত্তা চেকপোস্টে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় (TTP Attack) অন্তত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনাকর্মী, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে। হামলার এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার ভোরে।

    “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” (Pakistan)

    সেনাবাহিনীর তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি চালিয়েছে “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” নামে চিহ্নিত জঙ্গিরা। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সদস্যদের বোঝাতে এই পরিভাষা ব্যবহার করে। এক সময় এই সংগঠনের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নরম মনোভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, সংগঠনটির বহু সদস্য আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমী দেশগুলির সেনাদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিল। সেই সময় পাক প্রশাসন তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখিয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়েছিল। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জঙ্গিরা প্রথমে যৌথ চেকপোস্টের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এবং দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের সতর্কতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের কারণে জঙ্গিদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনী ১৫ জন জঙ্গিকে হত্যা করে।

    ভয়াবহ বিস্ফোরণ

    তবে প্রথম আক্রমণে ব্যর্থ হওয়ার পর জঙ্গিরা কৌশল পাল্টায়। বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে তারা চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে চেকপোস্টের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বিস্ফোরণেই ১২ জন সেনাসদস্য, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক নিহত হন। পাক সেনাবাহিনী নিহতদের “শহিদ” আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, হামলার পর গোটা এলাকায় তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্য কোনও জঙ্গি আশপাশে লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি “আজম-ই-ইস্তেহকাম” কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করবে বলেও জানানো হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত ফেডারেল শীর্ষ কমিটির অনুমোদিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য, বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা (Pakistan)। সেনাবাহিনীর জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের সাহসী সেনাদের এই আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের অটল অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। যে কোনও মূল্যে দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (TTP Attack)।”

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে

    এদিকে, গত সপ্তাহেও খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী বড়সড় অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে সংঘর্ষে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের ২৪ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বান্নু জেলায় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের হামলার নেপথ্যে থাকা জঙ্গি এবং তাদের সহায়ক নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করতে যৌথ গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গোলাগুলির পর ২৪ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সেনাবাহিনী (Pakistan)। চলতি বছরের মে মাসেও বান্নু জেলার ফতেহ খেল পুলিশ পোস্টে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলায়ও বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি গিয়ে পুলিশ পোস্টে ধাক্কা মেরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। বর্তমান হামলার কৌশলের সঙ্গে সেই ঘটনার মিল রয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের অভিমত।

    একের পর এক জঙ্গি হামলা 

    গত এক বছরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রদেশটি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী ধরনের কৌশল নেওয়া উচিত, তা নিয়ে কেন্দ্রের সরকার এবং প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। এই রাজনৈতিক বিভাজনও সন্ত্রাস দমনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা (TTP Attack)। গবেষণা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের ২০২৫ সালের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় হিংসার মাত্রা গত বছর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে হিংসায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২০, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩১-এ। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় হামলার প্রধান লক্ষ্য থাকে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলে জঙ্গি দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান আরও জোরদার করেছে। তবে ধারাবাহিক হামলা প্রমাণ করছে, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি এখনও উল্লেখযোগ্য সংগঠনগত সক্ষমতা ধরে রেখেছে (TTP Attack) এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Pakistan)।

     

  • India Pakistan: আসিয়ান মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যু তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

    India Pakistan: আসিয়ান মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যু তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসিয়ান (ASEAN) আঞ্চলিক ফোরামের (ARF) বৈঠকে কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) স্থগিতের প্রসঙ্গ তোলায় পাকিস্তানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে পাকিস্তান মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসে তাদের ভূমিকা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান-সম্পর্কিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। ওই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ

    পাকিস্তানের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান বারবার বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র-সমর্থিত ভুয়ো তথ্য প্রচার করছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে নিজেদের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছে। জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।”

    সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান

    সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন জয়সওয়াল। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের ধারাবাহিক সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদতের জবাব হিসেবেই ভারত এই চুক্তি স্থগিত রেখেছে। বিশেষ করে গত বছরের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর পর একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জয়সওয়াল জানান, পারস্পরিক আস্থা, সদিচ্ছা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্ভব। কিন্তু যখন একটি দেশ নিয়মিতভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, তখন সেই পরিবেশে স্বাভাবিক সহযোগিতা বজায় রাখা কঠিন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যতদিন না বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধ করছে, ততদিন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে।”

    নিজেদের সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করুক পাকিস্তান

    এছাড়াও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তোলে ভারত। বিশেষ করে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ (Fitna al-Hindustan) শব্দবন্ধ ব্যবহার করে পাকিস্তান যে প্রচার চালাচ্ছে, তাকে “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার” বলে অভিহিত করেন জয়সওয়াল। তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রচারের উদ্দেশ্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তাদের ভূমিকা থেকে নজর ঘোরানো। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মঞ্চের অপব্যবহার বা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার বদলে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের মাটিতে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং নিজেদের সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করা।” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে দাবি করে আসছেন যে, ভারতের সমর্থনে কিছু জঙ্গি সংগঠন পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। ভারত এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

    ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ কী

    বেশ কিছুদিন  ধরে পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে ভারত সমর্থিত প্রক্সি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে আসছে ইসলামাবাদ। এর গালভরা একটি নামও দিয়েছে শাহবাজ সরকার। তা হল, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের তরফে আগেই বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। পাকিস্তানের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বিভ্রান্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে। কোনও প্রমাণ ছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আসলে পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে না পেরে এইসব ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত সমস্যা চরম আকার নিয়েছে। সন্ত্রাস দমনের নামে আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুরু থেকেই এই নৃশংসতার তীব্র প্রতিবাদ করে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে বিভ্রান্ত করতে ও ভুয়ো তথ্য প্রচার করতে নানা চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। তবে, বারবারই পাকিস্তানের দাবিকে যুক্তি খণ্ডন করেছে ভারত।

    সন্ত্রাসী হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে

    এআরএফ বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে ইসহাক দার দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিরতার মূল কারণ কাশ্মীর সমস্যা। রাষ্ট্রসংঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু জলচুক্তিকে ‘জলের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও তোলেন এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। এই বৈঠকেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতেই হবে।

  • Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের (Pakistan) জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। কারণ, ভারত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকার করায় শুধু নিজের নয়, ভারতের ভাগের (Indus Waters Treaty) খরচও বহন করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকেই। একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা চালাতে ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় করে ফেলেছে পাকিস্তান। শুনানি যত এগোবে, খরচের বহর আরও বাড়বে। যদিও ভারত প্রথম থেকেই এই সালিশি ট্রাইব্যুনালের এক্তিয়ার মেনে নেয়নি, অংশও নেয়নি কোনও শুনানিতেই।

    বিতর্কের সূত্রপাত (Pakistan)

    বিতর্কের সূত্রপাত ভারতের কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়। সিন্ধু জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান অনুযায়ী, সালিশি প্রক্রিয়ার ব্যয় সমানভাবে বহন করার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু ভারত সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও পাকিস্তান একাই মামলা চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়। ফলে সালিশি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদকে মেটাতে হচ্ছে দুই দেশেরই ব্যয়ের অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই ধরনের মামলায় সাধারণত প্রতিটি দেশের গড় ব্যয় প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার। ভারত কোনও অর্থ না দেওয়ায় পাকিস্তানের মোট ব্যয় ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে এবং শুনানি চলতে থাকলে খরচের অঙ্ক আরও বাড়বে।

    পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতের সাফ কথা

    বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা। পাকিস্তানের অভিযোগ, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিতে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পগুলি সিন্ধু জলচুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করছে। সেই কারণেই তারা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হয় (Pakistan)। এদিকে, ভারতের দাবি, এই ধরনের প্রযুক্তিগত বিরোধের নিষ্পত্তি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে হওয়া উচিত, সালিশি আদালতের মাধ্যমে নয়। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সালিশি আদালতে একযোগে একই বিষয়ের শুনানি হওয়া চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামোর পরিপন্থী বলেও ভারতের বক্তব্য। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তানের উদ্যোগে শুরু হওয়া সালিশি প্রক্রিয়া বয়কট করে আসছিল ভারত। পরে পহেলগাঁও হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে এবং সালিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতা করাও বন্ধ করে দেয়। ভারত সরকারের অবস্থান, পাকিস্তান যত দিন না বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, তত দিন পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে। একই সঙ্গে ভারত এই সালিশি ট্রাইব্যুনালকে “অবৈধভাবে গঠিত” বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, এর যে কোনও সিদ্ধান্তই “অকার্যকর ও বাতিল” (Indus Waters Treaty)।

    আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি

    ভারত অংশ না নিলেও আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে যে তাদের এক্তিয়ার রয়েছে, তবে শুনানি চালিয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ট্রাইব্যুনাল জানায়, পাকিস্তানের মামলার শুনানি করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং সিন্ধু জলচুক্তিতে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত রাখার কোনও সুযোগ নেই। এর পর থেকে অন্তত আটটি শুনানি হয়েছে, যার প্রতিটিই ভারত বয়কট করেছে।২০২৫ সালের ৮ অগস্ট প্রকাশিত সিন্ধু জলচুক্তির সাধারণ ব্যাখ্যা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, আদালত গঠনের প্রক্রিয়ায় ভারত অংশ নেয়নি, কোনও বৈঠকেও উপস্থিত ছিল না এবং সালিশি প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ চাওয়া অর্থও জমা দেয়নি (Pakistan)। পরে ২০২৬ সালের ১৫ মে সর্বাধিক জলাধার ধারণক্ষমতা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময়ই মামলার ব্যয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শুধু সালিশি আদালতই নয়, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া থেকেও পরে সরে দাঁড়ায় ভারত। প্রথমদিকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারত ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং নিজের ব্যয়ের অংশও বহন করেছিল। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখার আবেদন জানায় (Indus Waters Treaty)।

    পাকিস্তানের ঘাড়ে দেনার বোঝা

    এর পর ২০২৫ সালের নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের বৈঠক-সহ পরবর্তী কার্যক্রম থেকেও ভারত দূরে থাকে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হয়েছে। এই বিপুল ব্যয় এমন একটা সময় বাড়ছে, যখন পাকিস্তান এখনও বিদেশি আর্থিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের বর্ধিত ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ১৯৫০ সালে সদস্য হওয়ার পর এটি পাকিস্তানের ২৫তম ঋণ কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে পাকিস্তানের অর্থনীতি ৩.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৭.২ শতাংশ। পাশাপাশি সংস্থাটির কাছে পাকিস্তানের বকেয়া ঋণের পরিমাণও ৯০০ থেকে ১,০০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ (Pakistan)। তবে এত সব ব্যয় সত্ত্বেও ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই ট্রাইব্যুনালকে মানে না, এর কোনও রায়কে বৈধ বলে মনে করে না এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। ফলে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায়, সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চাইলে আগামী দিনেও (Indus Waters Treaty) সম্পূর্ণ আর্থিক বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হতে পারে। যার জেরে আরও গাড্ডায় পড়বে শাহবাজ শরিফের দেশ (Pakistan)।

     

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) জ্বলল অশান্তির আগুন। রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে নিউ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ মুঘল, জাফর মুঘল, আরসালান আকবর এবং ওয়াজিদ হায়াত। তাঁদের মধ্যে ওয়াজিদ রাওয়ালাকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনাল এলাকায় নিহত হন বলে খবর।

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে (POK)

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রক্তক্ষয়ী ঘটনার এক দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবিলম্বে এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

    মানবিক সাহায্যের আবেদন

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে পুঞ্চ এবং ডোডা সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেওয়া হোক (POK)। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছেন। ২০২৫ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল হলেও, ৫৭ শতাংশেরও বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার, যা পাকিস্তানের জাতীয় গড় ১৯.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে।

    কী বলল ভারত?

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ছবিও উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩৯ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে। প্রতি এক লাখ জীবিত সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে ১০৪ জন মায়ের। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফল।” তিনি এও বলেন, “স্থানীয় মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান চরম পুলিশি দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে (POK)।” ভারতের দাবি, পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে পাকিস্তানকে।

     

  • New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে (New Delhi Terror Module) পাকিস্তান-সমর্থিত দুই পৃথক জঙ্গি মডিউলের হদিশ পেল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির নির্দেশে কাজ করছিল। একটি মডিউলের লক্ষ্য ছিল দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বা পুলিশ প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো, অন্যটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতদের জেরা করে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং ভারতে তাদের সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    আইএসআই-এর প্রচ্ছন্ন মদতে চলত কাজ

    দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রমোদ সিং কুশওয়াহ জানান, প্রথম মডিউলটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলার রানা হুনাইনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। রানা হুনাইন শাহজাদ ভাট্টির ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও দাবি পুলিশের। এই মডিউলকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা পুলিশ ভবনে পেট্রোল বোমা হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় বিজয় ঘাট এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি পেট্রোল বোমা এবং ২,০০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা হল উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগরের বাসিন্দা ২৪ বছরের দানিশ ওরফে চাঁদ মিয়া এবং ২০ বছরের সালমান। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দানিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রানা হুনাইনের সংস্পর্শে আসে। তাকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পুলিশ প্রতিষ্ঠানের রেকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজ সম্পন্ন করলে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। দানিশের বন্ধু সালমানকে হামলার ভিডিও ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকেও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় মডিউলটি সীমান্ত (Pak Based Terror Module) পেরিয়ে পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাঠানো অস্ত্র ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। এই চক্রটি আইএসআই-এর আরেক হ্যান্ডলার হাসান গুজ্জরের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। গুজ্জরও শাহজাদ ভাট্টির সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় কালিন্দি কুঞ্জ এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম তায়্যাব (২৭), জুবায়ের খান (২৪), আলি ফজল (২৬) এবং মালকিয়াত সিং (৩৬)। তদন্তে জানা গিয়েছে, তায়্যাবও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হাসান গুজ্জরের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। গুজ্জরের নির্দেশে জুবায়ের খান অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ করে এবং পরে তা আলি ফজলের হাতে তুলে দেয়। অভিযোগ, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে ক্রেতাদের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া পাকিস্তান থেকে পাঠানো অর্থ ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ।

  • UNESCO: তক্ষশিলার প্রাচীন নিদর্শনে আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিল ইউনেস্কো

    UNESCO: তক্ষশিলার প্রাচীন নিদর্শনে আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিল ইউনেস্কো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘আমরা গর্বের সঙ্গে বিদেশে সবাইকে বলি, আমরা সিন্ধু সভ্যতার সন্তান।’’ সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথাই বললেন পাকিস্তানের (Pakistan) তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার। তাঁর এহেন বক্তব্যের কারণেই জন্ম হয়েছে নয়া বিতর্কের। কারণ, রাষ্ট্রসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) পাকিস্তানকে তক্ষশিলার দু’টি প্রাচীন প্রত্নস্থলে সংরক্ষণের নামে অনুপযুক্ত কাজ করার অভিযোগে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ইউনেস্কোর অভিযোগ (UNESCO)

    ইউনেস্কোর অভিযোগ, পাকিস্তানের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ তক্ষশিলার মহরা মরাদু বৌদ্ধ বিহার ও স্তূপ এবং সিরকাপ প্রাচীন নগরীর সংরক্ষণকাজে সিমেন্ট ও আধুনিক গাঁথুনি ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রত্নসংরক্ষণ নীতির পরিপন্থী এই পদক্ষেপের ফলে ঐতিহাসিক কাঠামোগুলির মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহাসিক সত্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই মনে করছে ইউনেস্কো। সম্প্রতি ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জানানো হয়, অবিলম্বে এই পরিবর্তন প্রত্যাহার করে যথাযথ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা না নিলে তক্ষশিলাকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

    প্রত্ন নিদর্শনে আধুনিকতার ছোঁয়া

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে এক দর্শনার্থী তক্ষশিলার বিভিন্ন জায়গার ছবি এবং ভিডিও ইউনেস্কোর কাছে পাঠান। তাতে দেখা যায়, প্রাচীন ইটের দেওয়াল ভেঙে নতুন গাঁথুনি তৈরি করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও দেওয়ালের উচ্চতাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১২ জুন ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ দল পাক প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রত্নস্থল পরিদর্শন করে (UNESCO)। তক্ষশিলা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন নগরী। বৈদিক সাহিত্য, মহাভারত এবং বৌদ্ধ জাতক কাহিনিতে এই নগরীর উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীকালে এটি গান্ধার শিল্প, বৌদ্ধ সংস্কৃতি এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে।

    অবহেলার শিকার

    সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান তার প্রাক-ইসলাম পর্বের ইতিহাসকে গুরুত্ব না দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে সিন্ধু সভ্যতা ও তক্ষশিলাকে পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতি অনুসরণ না করায় তাদের এই উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, তক্ষশিলা এবং সোয়াট উপত্যকার বহু বৌদ্ধ প্রত্নস্থল বছরের পর বছর অবহেলার শিকার (Pakistan)। অর্থাভাবের অজুহাতে এসব জায়গার সংরক্ষণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ ইসলামি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলির রক্ষণাবেক্ষণে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই (UNESCO) অভিযোগ। ২০০৯ সালে সোয়াট উপত্যকায় সপ্তম শতাব্দীর একটি পাহাড় খোদাই করা বুদ্ধমূর্তি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয় জঙ্গিরা। ওই অঞ্চলের বহু বৌদ্ধ স্তূপ এবং প্রত্নস্থলও হামলার শিকার হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রত্নবস্তু চুরি ও অবৈধ খননের ঘটনাও ঘটেছে।

    ইউনেস্কোর সতর্কবার্তা

    বিশ্লেষকদের অভিযোগ, পাকিস্তানে বহু প্রাচীন হিন্দু মন্দির, শিখ গুরুদ্বার এবং অন্যান্য ইসলাম-পূর্ব ঐতিহাসিক কাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনাও নানা সময়ে পড়েছে হামলার মুখে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে সিন্ধু সভ্যতাকে নিজেদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অনুদান অর্জন এবং নিজেকে সিন্ধু সভ্যতার প্রধান উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কৌশল নেওয়া হয়েছে (UNESCO)। সংশ্লিষ্টমহলের দাবি, বাস্তবে প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ধারাবাহিক অবহেলা এবং ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা পাকিস্তানের এই অবস্থানকেই ফেলেছে প্রশ্নের মুখে (Pakistan)।

     

  • Pakistan: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে অমানবিক ব্যবহার ইসলামাবাদের!

    Pakistan: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনে অমানবিক ব্যবহার ইসলামাবাদের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া মোড় নিল পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এ চলা সরকার বিরোধী আন্দোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর এবার ওই এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করছে ইসলামাবাদ (Pakistan)। ফলে সাধারণ মানুষের (POK) দুর্ভোগ চরমে। নিদারুণ যন্ত্রণা সয়েই কোনওক্রমে দিন গুজরান করছেন পিওকের বাসিন্দারা।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যান চলে বাধা (Pakistan)

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যশস্য, জ্বালানি তেল ও ওষুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহনকে পিওকেতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তার জেরে আগে থেকেই চলা সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে। যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) ঘোষিত অঞ্চলব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও, আন্দোলনকারীদের দাবি—সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলছে। যদি পাক-প্রশাসন এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছে সরকার। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করতে তথ্য গোপন করছে।

    নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি

    এদিকে, আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চলবে। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং বিদেশে বসবাসকারী  কাশ্মীরিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাক নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষে নিহত কয়েকজনের মরদেহও প্রশাসন সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। পিওকের এক বাসিন্দা জানান, নিরস্ত্র মানুষকে কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। তাই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে (Pakistan)।

    অস্থিরতার সূত্রপাত

    মূলত ১২টি আইনসভা আসনকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। এসব আসন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং নিজেদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার জেএএসিকে জঙ্গি সংগঠন বলে দেগে দেয়, এবং তাদের সমর্থকদের সন্ধানে অভিযান চালাতে শুরু করে। বিভিন্ন (POK) প্রতিবেদনে দাবি, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও দমন-পীড়নের ঘটনায় অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Pakistan)।

     

LinkedIn
Share