Tag: Parivartan Yatra

  • BJP: ১ মার্চ থেকেই বঙ্গে শুরু পরিবর্তন যাত্রা, তৃণমূলকে মাত দিতে পুরানো অস্ত্রেই শান বিজেপির!

    BJP: ১ মার্চ থেকেই বঙ্গে শুরু পরিবর্তন যাত্রা, তৃণমূলকে মাত দিতে পুরানো অস্ত্রেই শান বিজেপির!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পয়লা মার্চেই এ রাজ্যে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিজেপির (BJP) পরিবর্তন যাত্রা (Parivartan Yatra)। চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবেই হাইভোল্টেজ জনসংযোগ অভিযান শুরু করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আলাদা আলাদা জায়গা থেকে এই যাত্রা পরিচালিত হবে। যাত্রা ছুঁয়ে যাবে ২৩০টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রকে। এহেন আবহে ৬৪টি বড় জনসভারও পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। ছোট জনসভা হবে ২৮০টির বেশি। পরিবর্তন যাত্রা হবে ৫০০০ কিলোমিটারজুড়ে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই যাত্রার মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে ১ কোটিরও বেশি মানুষের সঙ্গে।

    রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন (BJP)

    এই রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজনই বলে দিচ্ছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কোনও সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি সরাসরি মাঠে নেমে মসনদ দখলের এক হাই-ভোল্টেজ অভিযান। এর লক্ষ্য জনসংযোগ, কর্মীদের চাঙা করা এবং রাজ্যজুড়ে অপরাজেয় সাংগঠনিক একটি শক্তি গড়ে তোলা। যাত্রার শেষে মেগা জনসভা হবে ব্রিগেডে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সিংহভাগের মতে, পরিবর্তন অনিবার্য করবে পরিবর্তন যাত্রা। এই যাত্রার মাস্টারস্ট্রোক একদিকে যেমন শাসকদলকে চাপে ফেলবে, অন্যদিকে তেমনি বিরোধী ভোটকে একছাতার তলায় আনবে। পরিবর্তন যাত্রার এই ১০ দিনে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সংবাদমাধ্যমের নজর বিজেপির দিকে থাকবে, যা গেরুয়া শিবিরকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে টিভির পর্দার মাধ্যমে (BJP)।

    পরিবর্তন যাত্রা

    পশ্চিমবঙ্গে এই পরিবর্তন যাত্রা আরও একটি বিশেষ কাজ করবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বর্তমানে বাংলার রাজনীতির মেরুকরণ হয়ে গিয়েছে। একদিকে রয়েছে তৃণমূল এবং অন্যদিকে বিজেপি। এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে তৃণমূল-বিরোধী ভোট এককাট্টা হবে এবং তা পদ্ম ঝুলিতে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে পারে একমাত্র বিজেপি-ই। অন্যদিকে কংগ্রেস বা সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে ভোট কেটে তৃণমূলের সুবিধা করা। তাই বিরোধী ভোট এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে আসবে বলেই মনে করছেন অনেকে (Parivartan Yatra)।

    পটপরিবর্তনে বিজেপির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাত্রা

    আসুন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিজেপির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাত্রাগুলি সম্পর্কে ফের একবার জেনে নিই। রাম জন্মভূমি আন্দোলন নয়ের দশকের শুরুতে বিজেপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। একাধিক পরিবর্তন যাত্রায় বিজেপির সংগঠন মজবুত হয়। একটা প্রান্তিক সংসদীয় দল থেকে বিজেপি জাতীয় শক্তিতে পরিণত হয়। এই আন্দোলন উত্তর ও পশ্চিম ভারতে দলের সংগঠন ও সমর্থক বাড়াতে সাহায্য করে। অযোধ্যা মামলা দীর্ঘদিন আদালতে চললেও, শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের পথ খুলে যায়। বিজেপির মতে, এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ফল (BJP)।

    ‘গুজরাট গৌরব যাত্রা’

    ২০২২ সালে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘গুজরাট গৌরব যাত্রা’ শুরু করেছিল। এটা ছিল বড় ধরনের প্রাক-নির্বাচনী প্রচার। মাত্র ১০ দিনে ১৮২টি কেন্দ্র ও প্রায় ৫,৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল সেই যাত্রা। এর ফলে বিজেপির আসন সংখ্যা ৯৯ থেকে বেড়ে ১৫৬ হয়। ভোটের হার ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৫২.৫ শতাংশ। গুজরাটের ইতিহাসে সেই প্রথম কোনও দল ৫০ শতাংশের গণ্ডি অতিক্রম করে (Parivartan Yatra)।

    ‘বিকাশ যাত্রা’

    ২০২৩ সালের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘বিকাশ যাত্রা’ এবং সেপ্টেম্বরে ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’ করেছিল। সব মিলিয়ে এই দুই যাত্রা অতিক্রম করেছিল ১০,৬৪৩ কিমি পথ। যাত্রা পৌঁছেছিল ২৩০টির মধ্যে ২১০টি আসনে। এর ফলে নির্বাচনে বিজেপির আসন ১০৯ থেকে বেড়ে ১৬৩ হয়। ভোটের হার ৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪৮.৬ শতাংশ। মহিলাদের ভোট বাড়ে ৭–৮ শতাংশ। আদিবাসী আসন ১৬ থেকে ২৪ হয়। মালওয়া-নিমার অঞ্চলে আসন ২৭ থেকে বেড়ে হয় ৪৭টি (BJP)।

    ‘পরিবর্তন যাত্রা’

    ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ছত্তিশগড়ে পরাজয়ের পর বিজেপি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করে। দলের দাবি, এটি ছিল সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তৃণমূলস্তরের কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ। ১৬ দিনে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হয়। নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ৫৪ হয় এবং ভোটের হার ৩৩ শতাংশ থেকে ৪৬.৩ শতাংশে গিয়ে পৌঁছয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।

    ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’

    ২০১৮ সালের পরাজয়ের পর বিজেপি রাজস্থানে ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ আয়োজন করেছিল। চার দফায় ২০ দিনে প্রায় ৯০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হয়েছিল সেবার (Parivartan Yatra)। নির্বাচনে বিজেপির আসন ৭৩ থেকে বেড়ে হয়েছিল ১১৫টি। ভোটের হার ৩৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪১.৬ শতাংশ। ক্ষমতায় আসে বিজেপি (BJP)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং বাংলা দখলের চূড়ান্ত রণকৌশল। রাম জন্মভূমি আন্দোলন থেকে শুরু করে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ বা ছত্তিশগড়ের ঐতিহাসিক বিভিন্ন নজির প্রমাণ করে যে, যখনই বিজেপি এই ধরনের বৃহৎ আকারের যাত্রা করেছে, তখনই তা সফল হয়েছে। অতীতের রেকর্ড বলছে, বিজেপির এই যাত্রাই (Parivartan Yatra) বদলে দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের ভাগ্য। বঙ্গে বিজেপির ভাগ্যের চাকা ঘোরে কিনা, এখন সেটাই দেখার (BJP)।

     

LinkedIn
Share