Tag: parkinson’s disease

parkinson’s disease

  • Parkinson’s Disease: গান, কবিতা কিংবা ছবি আঁকা, নিয়মিত চর্চা কমাতে পারে পারকিনসন্সের ঝুঁকি

    Parkinson’s Disease: গান, কবিতা কিংবা ছবি আঁকা, নিয়মিত চর্চা কমাতে পারে পারকিনসন্সের ঝুঁকি

     তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঘরের ভিতরে হাঁটাচলা করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। নিজের হাতে ভাত মেখে খাওয়ার শক্তিটুকুও থাকে না। প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই মনে থাকে না। হাত-পায়ের পেশি একেবারেই কাজ করে না। আত্মবিশ্বাস হারিয়ে যায়। বয়স বাড়লে আরও বাড়ে জটিলতা। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে পারকিনসন্স (Parkinson’s Disease) রোগের দাপট। বাদ নেই কলকাতাও। তাই মধ্য পঞ্চাশ থেকেই দরকার সচেতনতার। এই জটিল রোগের দাপট রুখতে নিজের জন্য প্রয়োজন বাড়তি সময়।

    পারকিনসন্স কী? (Parkinson’s Disease)

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, পারকিনসন্স এক ধরনের স্নায়ুর সমস্যা। মস্তিষ্কের ভিতরে এক ধরনের অবক্ষয় হয়। এর জেরে হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশের গতির সমন্বয়ের অভাব দেখা দেয়। মস্তিষ্কের বিশেষ অংশের এই সমস্যার জেরেই হাত-পায়ে এক ধরনের কম্পন দেখা দেয়। ঠিকমতো হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগ বংশানুক্রমিক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।‌ অর্থাৎ বাবা বা মা, কেউ এতে (Parkinson’s Disease) আক্রান্ত হলে, তাদের সন্তানদেরও বয়স বাড়লে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। স্নায়ুরোগ‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ৬০ বছরের পরে এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। তবে অনেকের আবার ৫০-এর মাঝামাঝিও‌ উপসর্গ দেখা দেয়। হাতের আঙুল অতিরিক্ত কাঁপা এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ বলে জানাচ্ছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাই পরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে কম বয়স থেকেই এই সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

    সৃজনশীল কাজ কি এই রোগের দাপট কমাতে পারে? (Parkinson’s Disease)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পারকিনসন্সের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন সুস্থ জীবনযাপন। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই মধ্য পঞ্চাশের পরেই নিজের বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি। পরিবার ও কর্মজীবনের নানান দায়িত্ব পালনের মাঝেও নিজের জন্য সময় রাখা জরুরি। নিয়মিত ছবি আঁকা, গান শোনা ও গান গাওয়া কিংবা কবিতা লেখার মতো সৃজনশীল কাজের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধরনের কাজে একদিকে মানসিক চাপ অনেক কমে। আবার হাত, পা এবং শরীরের একাধিক পেশি ও স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে‌। মস্তিষ্কের কাজ বাড়ে। ফলে রোগের ঝুঁকি কমে। 
    যোগাভ্যাস পারকিনসন্সের ঝুঁকি কমায়। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন এই রোগ (Parkinson’s Disease) আটকানোর পাশপাশি, যারা আক্রান্ত তাদের জীবনযাপন উন্নত করতেও নিয়মিত যোগাভ্যাস জরুরি। যোগাসন একদিকে শরীরের প্রত্যেক অঙ্গকে সক্রিয় রাখে, আবার মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। তাই পঞ্চাশ পেরলেই নিয়ম করে হাঁটাহাঁটির পাশপাশি যোগাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? (Parkinson’s Disease)

    কফি এবং বার্গার, হটডগের মতো খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কফিতে থাকে ক্যাফেইন। আর বার্গার, হটডগের মতো খাবারে থাকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই দুই উপাদান পারকিনসন্সের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই এর প্রকোপ রুখতে এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। 
    পাশপাশি নিয়মিত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। কারণ মাছে রয়েছে ওমেগা থ্রি। এই উপাদান স্নায়ু সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। পাশাপাশি, পালং শাক, সবুজ আপেলের মতো ফল এবং সবজি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। কারণ এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। তাই এগুলো খেলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকবে। পারকিনসন্সের (Parkinson’s Disease) ঝুঁকি কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Parkinson’s Disease: পার্কিনসন্স রোগে আক্রান্ত হলে কি স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব? 

    Parkinson’s Disease: পার্কিনসন্স রোগে আক্রান্ত হলে কি স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব? 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাতে কয়েক ঘণ্টা ঘুমের মধ্যেই নানা দুঃস্বপ্ন। কিংবা যে কোনও একটি হাত ক্রমাগত নড়াচড়া করা। অন্যের কথা বুঝতে বা নিজের মনের ভাব বুঝিয়ে বলতে তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা! চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটা হতে পারে পার্কিনসন্স (Parkinson’s Disease)! ভারতে বাড়ছে এই সমস্যা। বিশেষত ৬০-এর চৌকাঠ পেরলেই এই সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রথম থেকেই সজাগ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

    পার্কিনসন্স (Parkinson’s Disease) কী? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, পার্কিনসন্স এক ধরনের স্নায়ু ঘটিত রোগ। মস্তিষ্কের স্নায়ুতে এক ধরনের সমস্যার জেরে পার্কিনসন্স হয়। এর জন্য আক্রান্তের হাত-পা সহ দেহের একাধিক পেশির ভারসাম্য নষ্ট হয়। দেহের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। ফলে, হাঁটাচলা কিংবা কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। মস্তিষ্কের স্নায়ু ঘটিত রোগের (Parkinson’s Disease) জেরে বাড়তে থাকে নানা মানসিক ও শারীরিক সমস্যা।

    কারা এই রোগে (Parkinson’s Disease) আক্রান্ত হন? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যে কোনও বয়সের মানুষ এই রোগে  (Parkinson’s Disease) আক্রান্ত হতে পারেন। তবে, বয়স্কদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের প্রৌঢ়দের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ৬০ বছরের পরেই নানা লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই সেগুলো নজর দেওয়া হচ্ছে না। ফলে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তখন চিকিৎসা শুরু করতে অনেকটাই দেরি হয়ে যাচ্ছে। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ৩২ শতাংশ পার্কিনসন্স সমস্যায় জর্জরিত।

    কী কী উপসর্গ (Parkinson’s Disease) দেখা যায়? 

    পার্কিনসন্স আক্রান্তের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়া। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, পার্কিনসন আক্রান্ত হলে, তাঁর হাত বা পা লাগাতার নড়বে। অনেক সময়ই সেগুলো নাড়ানো বন্ধ করার ক্ষমতা পেশি হারিয়ে ফেলে। 
    পার্কিনসন্স (Parkinson’s Disease) আক্রান্তের ঘুম খুব কম হয়। অধিকাংশ সময়ই তাঁরা খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়েন। আবার অনেক সময় তাঁরা খুব দুঃস্বপ্ন দেখেন। ফলে, গভীর ঘুম হয় না। 
    কথা জড়িয়ে যাওয়া পার্কিনসন্সের অন্যতম লক্ষণ বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেহেতু এটা স্নায়ু ঘটিত রোগ, তাই অনেক সময়ই তার প্রভাব মুখের পেশি ও স্বরযন্ত্রের উপর পড়ে। তাই কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা অন্যের কথা বুঝতে না পারার মতো সমস্যা দেখা যায়। 
    পার্কিনসন্স আক্রান্তের আরেকটি লক্ষণ হল সন্ধ্যায় একাকিত্ব বোধ করা। বিশেষত সূর্য ডোবার পরে, এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের এক ধরনের অবসাদ গ্রাস করে।

    এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে তাঁর প্রতি বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

    এই রোগে (Parkinson’s Disease) আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সম্ভব? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, পার্কিনসন্স (Parkinson’s Disease) আক্রান্তের চিকিৎসা সম্ভব। শুধু তাই নয়, নানা থেরাপির মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত হলেও মানুষ দীর্ঘ জীবন কাটাতে পারেন। দ্রুত রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই লক্ষণ বুঝতে পারলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। কারণ, অনেক সময়ই শুধু ওষুধ যথেষ্ট হয় না। পার্কিনসন্স রোগীদের জীবন যাপন ঠিক করতে দরকার হয় থেরাপির। বিশেষত একাধিক আক্রান্ত যদি একসঙ্গে নাচ-গান-কবিতা কিংবা কেক বানানোর মতো সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে অনেকটাই তাঁরা উন্নতি করেন।
    এ প্রসঙ্গে পার্কিনসন্স নিয়ে কাজ করা স্নায়ু চিকিৎসক হৃষিকেশ কুমার বলেন, হাত-পায়ের পেশি সচল রাখা যেমন জরুরি, তেমনি দরকার রোগীকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখা। তাই থেরাপি আবশ্যক। বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে স্নায়ুর সমস্যা কমানো যায়। কিন্তু থেরাপি মনকে ভালো রাখে। আর তখনই কাজ সহজ হয়। তাই পার্কিনসন রোগীদের নানা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হয়। তাহলে তাঁরা দীর্ঘ জীবন কাটাতে সক্ষম হবেন। 
    পার্কিনসন্স রোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ত্রী মিতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পার্কিনসন্স রোগীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা তাঁরা একাকিত্বে ভোগেন। তাঁদের মনের কথা সবাই বুঝতে পারেন না। থেরাপি না হলে এই ধরনের সমস্যা আরও বাড়ে। কিন্তু ঠিকমতো চিকিৎসা বা থেরাপি হলে রোগী দীর্ঘ জীবন কাটাতে পারেন।”

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share