Tag: Partition

  • Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে আসছে এবং পুরো জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পরিবর্তে শুধু প্রথম দুই স্তবক (Vande Mataram Row) গাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই রাজনীতিরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শাহ বলেন, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তাঁর দাবি, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে দলের বর্তমান নেতৃত্ব বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে।

    শাহি-কথা (Vande Mataram Row)

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ (Amit Shah) বলেন, “গতকাল (বুধবার) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটি একটি বিস্ময়কর এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৩৭ সালের দলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে তারা মহান গান বন্দে মাতরমের মাত্র দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” শাহের দাবি, ১৯৩৭ সালে রাজনৈতিক কারণে বন্দে মাতরমের পরিবেশন সীমিত করার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারণা শক্তিশালী হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগের পথ প্রশস্ত হয়।

    শাহ বলেন, “আমি গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৩৭ সালে মুসলিম তুষ্টিকরণের জন্য কংগ্রেস বন্দে মাতরমকে দুই ভাগে ভাগ করে দেশভাগের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেখান থেকেই দ্বিজাতিতত্ত্ব শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগ হয়, পাকিস্তানের জন্ম হয়।” কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সমস্ত সরকারি দফতরে জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম পরিবেশনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, কংগ্রেস তার পক্ষে না থাকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, বন্দে মাতরমের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে এই গানকে সামনে রেখে লড়াই করা দেশপ্রেমিকদের ঐতিহ্যের প্রতিও কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অসম্মানজনক।

    কংগ্রেসের যুক্তি

    তবে কংগ্রেস তাদের অবস্থান থেকে সরেনি। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, সেই সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দলের কর্মীরা এখনও সেটিই অনুসরণ করবেন (Vande Mataram Row)। বেণুগোপাল বলেন, “আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। ১৯৩৭ সালের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখানে মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেল-সহ সেই সময়ের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমরা সেটিই মেনে চলব। আমাদের কংগ্রেস কর্মীরা সেই সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবেন। এটাই আমাদের অবস্থান।”

    তাল কাটে কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে

    গত ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কংগ্রেসের সদর দফতরে বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কথাবার্তার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় গানের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তোলেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম (Vande Mataram Row) পরিবেশন নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। এর পরেই বিষয়টি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

    কংগ্রেসের আত্মপক্ষ সমর্থন

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনেই বন্দে মাতরমের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ পরিবেশন করছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে গান্ধী, নেহরু ও প্যাটেলের মতো নেতাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মতো বিষয়কে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন খাড়্গে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম পরিবেশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিধি বা রীতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় গানটির মর্যাদা ও পরিবেশন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়েও সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন শুধু কতগুলি স্তবক গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় প্রতীক, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

    কংগ্রেসকে ‘মুসলিম লিগ’-এর সঙ্গে তুলনা গিরিরাজ সিংয়ের

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বন্দে মাতরমের বিরোধিতা আসলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরোধিতা। তিনি বলেন, “এটি শুধু বন্দে মাতরমের বিরোধিতা নয়, আমাদের বিপ্লবীদের বিরোধিতাও। এখন কংগ্রেস মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি গান্ধীজির কংগ্রেস নয় (Amit Shah), এটি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস।”

    ১৫ অগাস্ট কংগ্রেসের সদর দফতরে পুরো বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া, রাহুল এবং খাড়্গের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন গিরিরাজ। তিনি বলেন, “১৫ অগস্ট কংগ্রেস দফতরে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গের মুখের দিকে তাকান। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাঁদের জোর করে বিষ পান করাচ্ছে (Vande Mataram Row)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা নিতিন নবীনেরও

    বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বন্দে মাতরমের মতো পবিত্র মাতৃভূমির বন্দনার প্রতি কংগ্রেসের অবস্থান দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া শহিদদের প্রতি অসম্মানের সমান। তিনি বলেন, “ভারতমাতার পবিত্র বন্দনার এই অসম্মান সেই হাজার হাজার শহিদের প্রতি অবজ্ঞা, যাঁরা এই গানকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ কংগ্রেস নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা নয়, বরং সেই ভোটব্যাঙ্কের প্রতি ক্ষুধার প্রমাণ, যার বেদিতে কংগ্রেস বারবার দেশের আত্মসম্মান বন্ধক রেখেছে (Amit Shah)।”

    ফলে বন্দে মাতরমের কতগুলি স্তবক পরিবেশন করা হবে, সেই প্রশ্নটি এখন নিছক সাংস্কৃতিক বা আনুষ্ঠানিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বিজেপি-কংগ্রেসের সংঘাত (Vande Mataram Row)।

     

  • Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র (Direct Action Day) ৭৮তম বার্ষিকী মনে করিয়ে দেয়, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কত দ্রুত একটি সভ্যতাকে গ্রাস করতে পারে। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট মুসলিম লীগের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি অল্প সময়ের মধ্যেই উপমহাদেশের ইতিহাসে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহতম হিংসার অন্যতম ঘটনায় পরিণত হয় (Calcutta Horrors History)। আজ, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নতুন করে হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসায়, ১৯৪৬-এর সেই অন্ধকার দিনের স্মৃতি ফের আলোচনায় এসেছে।

    পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ (Direct Action Day)

    ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্টের ঘটনাকে আকস্মিক দাঙ্গা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—এমনটাই দাবি করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে। মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের আহ্বানকে হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পাকিস্তান গঠনের দাবি মেনে নিতে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    রমজানের ১৭তম দিনের সঙ্গে কর্মসূচিটির সময় মিলে যাওয়াকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে এই দিনের সম্পর্ককে সামনে রেখে দাবি করা হয়েছে, কর্মসূচিটির মধ্যে ধর্মীয় বিজয়ের ঐতিহাসিক বয়ানের রাজনৈতিক ব্যবহার ছিল।

    কলকাতায় কর্মসূচির আগে ব্যাপক প্রস্তুতির অভিযোগও উঠে আসে। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৬ অগাস্ট সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক মুসলিমের সমাবেশ নিশ্চিত করেছিলেন।এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    কলকাতা ময়দানের বিশাল সমাবেশে প্রায় এক লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশে যারা যোগ দিয়েছিল, তাদের হাতে ছিল লোহার রড, লাঠি এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সংগঠিত দলগুলি কলকাতার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত।

    ৭২ ঘণ্টার ভয়াবহতা

    পরবর্তী তিন দিনে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে হিন্দুদের দোকানপাট লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর আবাসিক এলাকাগুলিতেও হামলা শুরু হয়। আমহার্স্ট স্ট্রিট, বোরতলা ও জোড়াসাঁকোর মতো হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত কম হিসাবেও প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়, আবার কিছু সূত্রে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। মাত্র তিন দিনের মধ্যে এক লাখেরও বেশি হিন্দু গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন।

    হামলার নৃশংসতার বিবরণ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংসতা, হত্যা, অঙ্গহানি এবং মৃতদেহের ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিপ ট্যালবট সেই সময়ের কলকাতার রাস্তায় বিকৃত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ, ঠেলাগাড়িতে স্তূপ করে রাখা মৃতদেহ এবং নর্দমায় পড়ে থাকা মরদেহের ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা করেছিলেন (Direct Action Day)।

    হামলার লক্ষ্য শুধু মানুষ বা সম্পত্তি ছিল না। হিন্দু মন্দিরে হামলা, ধর্মীয় প্রতীক অপবিত্র করা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। কলকাতা ভবিষ্যতে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হতে পারে—এই ধারণা থেকেই হিন্দুদের উপস্থিতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হিন্দু প্রতিরোধ

    এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিত, হিন্দুদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী, এবং ‘ভারতীয় জাতীয় বাহিনী’র নেতা ছিলেন। তাঁর সংগঠনে ৭০০ থেকে ৮০০ জন সদস্য ছিলেন (Calcutta Horrors History)।

    স্থানীয় কুস্তিগির ও মাংসের দোকানের মালিক হিসেবে পরিচিত গোপাল পরিস্থিতি বুঝে বিভিন্ন শ্রেণির হিন্দু যুবকদের সংগঠিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিবাসী শ্রমিক, দুধওয়ালা, কামার এবং মারওয়াড়ি ব্যবসায়ীরা। আর্থিক সাহায্যও মিলেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে সংগৃহীত অস্ত্র এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় জোগাড় করা অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁর বাহিনী ১৮ অগাস্ট পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করে। প্রথমে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল তাঁদের কৌশল।

    এই পাল্টা প্রতিরোধের ফলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়। তিন দিনের মধ্যে মুসলিম পক্ষের হতাহতের সংখ্যা হিন্দুদের মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর সোহরাওয়ার্দী গোপালের কাছে অভিযান বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে দূত পাঠান। ২১ অগাস্ট সোহরাওয়ার্দী সরকারকে বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক প্রশমিত হয় কলকাতার হিন্দু জনসংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি।

    সোহরাওয়ার্দী ও মুসলিম লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র ঘটনাপ্রবাহে সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর হাতে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য দফতরের দায়িত্বও ছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারি প্রচারের ওপর তাঁর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ ছিল।

    জানা গিয়েছে, ভয়ঙ্কর হিংসার সময়ও পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কার্যত হামলাকারীদেরই সাহায্য করেছিলেন। দাঙ্গার সময় তিনি পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষগুলিতে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পরিচালনা করছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

    মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানকে অসম্ভব করে তুলে দেশভাগের পক্ষে বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করা। অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্বকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই হিংসার ভূমিকা ছিল।

    কলকাতার বাইরে বাংলার গ্রামাঞ্চলেও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ১৯৪৬ সালের অক্টোবরে নোয়াখালির ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড একই ধরনের সংগঠিত হিংসার উদাহরণ (Calcutta Horrors History)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ১৯৪৬-এর সঙ্গে তুলনা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দু’হাজারেরও বেশি হিন্দুবিরোধী হিংসার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৫২টি মন্দিরে হামলা এবং ২৩ জন হিন্দুর মৃত্যুও রয়েছে (Direct Action Day)।

    এই ঘটনাগুলিকে ১৯৪৬ সালের কলকাতার হিংসার সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে হিন্দুদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সংগঠিত হামলার ধারা এখনও দেখা যায়।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যায় হিন্দুদের অনুপাতের পরিবর্তনকেও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৪০ সালে যেখানে হিন্দুদের অনুপাত প্রায় ২৮ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং দেশত্যাগের মতো কারণ।

    ২০২১ সালে দুর্গাপুজোর সময় হামলা, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের রায়ের পর জামাত-সমর্থিত হিংসার অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের শেখ হাসিনা-পরবর্তী হামলাকে একই ধারার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এই ধরনের হামলা আরও দ্রুত সংগঠিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন

    হিন্দুদের ওপর হিংসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা হয়েছে বারংবার। পশ্চিমি সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি হিন্দুবিরোধী হিংসাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের নীরবতা হামলাকারীদের জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ করে দেয়।

    বীর সাভারকরের পুরনো সতর্কবার্তাকেও এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় আনা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, কংগ্রেসের তোষণনীতির পরিণতি শেষ পর্যন্ত হিন্দুদের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। পরবর্তী ইতিহাসের আলোকে সেই আশঙ্কাকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে (Direct Action Day)।

    ইতিহাসের শিক্ষা কী?

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখনও পুরোপুরি গ্রহণ করা হয়নি—এমনটাই এই বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য (Calcutta Horrors History)। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের সংঘাত যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন একটি সমাজে সহাবস্থান গুরুতরভাবে বিপন্ন হতে পারে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না করলে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন—এমন দাবিও করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয় আদর্শগত নেটওয়ার্কগুলির ভূমিকা নিয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে দিবস তাই শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়, ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তাও বলে অভিমত প্রতিবেদন লেখকের। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট কলকাতার রাস্তায় সাম্প্রদায়িকতার যে আগুন জ্বলেছিল, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিধ্বনি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অতীতের ঘটনাগুলিকে স্বীকার করা, বিশ্লেষণ করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা (Direct Action Day)।

     

  • PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্লগ লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেখানে তিনি জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syamaprasad Mukherjee) ভারতের ঐক্য ও অগ্রগতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর জীবন আজও সাহস, আদর্শ এবং মাতৃভূমির প্রতি অটল নিষ্ঠার এক চিরন্তন উদাহরণ। ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘তিনি সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও দেশের স্বার্থে আত্মত্যাগ ও জনসেবার পথই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ঔপনিবেশিক শাসন, সাম্প্রদায়িকতা কিংবা মানবিক সঙ্কট— কোনও ক্ষেত্রেই তিনি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারেন না।’

    ব্লগে শ্যামাপ্রসাদ স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনজীবনের অন্যতম প্রধান আদর্শ ছিল ভারতের অখণ্ডতা। তাঁর কথায়, “দেশভাগের অস্থির সময়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন যাতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যায়। কয়েক বছর পর সেই একই বিশ্বাস তাঁকে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ে যায়। কারাবাস তাঁকে দমাতে পারেনি, বিচ্ছিন্নতাও তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। অসংখ্য মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়েই বন্দি অবস্থায় তাঁর জীবনের আকস্মিক অবসান ঘটে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি ছিল তাঁর সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫(ক) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় (PM Modi)।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গ্রন্থাগারের পরিকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং প্রত্নবস্তুর অধ্যয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের উন্নয়নের জন্য একটি বিকল্প রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গেও তিনি দৃঢ়ভাবে যুক্ত ছিলেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পকে দেশের মর্যাদা, কর্মসংস্থান এবং আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন এবং সিন্দ্রি সার কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

    শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শিতা

    ব্লগে প্রধানমন্ত্রী নেহরু সরকারের আনা প্রথম সংবিধান সংশোধনীর বিরোধিতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syamaprasad Mukherjee) অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের নীতির বিরুদ্ধে শ্যামাপ্রসাদ যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে তা (PM Modi) পরবর্তীকালে সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

LinkedIn
Share