Tag: PCOD Symptoms

PCOD Symptoms

  • PCOS Renamed PMOS: পিসিওএস আর নয়! বদলে গেল নাম, এবার থেকে এই নতুন নামে চিনবে চিকিৎসকরা, কেন প্রয়োজন ছিল নামবদলের?

    PCOS Renamed PMOS: পিসিওএস আর নয়! বদলে গেল নাম, এবার থেকে এই নতুন নামে চিনবে চিকিৎসকরা, কেন প্রয়োজন ছিল নামবদলের?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বললেই এখন আর চলবে না। বরং, রোগ চিহ্নিত হলে রোগীকে জানাতে হবে, সঠিক সমস্যা কোথায়! রোগীর উদ্বেগ এবং সংশয় কমাতেই এই নয়া উদ্যোগ।

    নতুন নামকরণ কী হল? কেন পিসিওডি-র নাম বদল?

    সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা স্থির করেছেন পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) বললে অসংখ্য আক্রান্তের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। ওভারিতে সিস্ট বা বাড়তি মাংস পিন্ড সরাসরি পাওয়া না গেলেও, কেন তাকে পিসিওডি আক্রান্ত বলে জানানো হচ্ছে, এই নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক এন্ড্রোক্রাইন সোসাইটির পরামর্শে এর নয়া নামকরণ হয়েছে, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PMOS)। এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পিসিওডির সমস্যা বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে। তবে আক্রান্তের ওভারিতে অনেক সময়েই সিস্ট পাওয়া যায় না। তবে তার হরমোন ঘটিত সমস্যা হয়। এই নয়া নামকরণের আসল উদ্দেশ্য রোগ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা কমানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, পলি এন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হল শরীরের সমস্ত হরমোন ঘটিত সমস্যা এবং শরীরের নিজস্ব শক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমস্যা।

    পিসিওডি এবং পিএমওডি মধ্যে ফারাক কোথায়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের যেকোনও হরমোন ঘটিত সমস্যা কিন্তু পিসিওডি নয়। ওভারিতে অতিরিক্ত মাংস পিন্ড থাকলে তবেই সেটা পিসিওডি বলা যেতে পারে। কিন্তু অনেক সময়েই রোগীর ওভারিতে সিস্ট থাকে না। অথচ নানান হরমোন ঘটিত সমস্যা দেখা দেয়। অনিয়মিত ঋতুস্রাব, অতিরিক্ত ওজন, বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হয়। যেগুলো শরীরের হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে ঘটে। তাকে কখনই পিসিওডি বলা ঠিক নয়। বলা উচিত পিএমওডি। রোগ চিহ্নিত করে ঠিকমতো বোঝাতে পারলে তবেই রোগী সচেতন হবেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই রোগ হয়। তাই রোগীর নিজের সমস্যা সম্পর্কে ঠিকমতো জানা জরুরি। রোগ নিয়ে বাড়তি জটিলতা ও বিভ্রান্তি এড়ানো দরকার।

    কেন এই রোগের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের জেরেই এই ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ সময়েই বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রম কম করা এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জন্য এই ধরনের হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়। তবে ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত থাকলে পিএমওএসের দাপট বাড়ে‌। ভারতের মতো দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই পিএমওএসের (PMOS) প্রকোপ ও বাড়ছে। জিনগত কারণেও এই রোগ হয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারে মা-বোন-মাসি এই রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ কী কী?

    ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে পিএমওএস আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ চটজলদি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ বিশেষত কম বয়সিদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই খাবারে অতিরিক্ত ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে। পিৎজা, বার্গার, হটডগের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে পুষ্টির জোগান দেয় না। বরং, শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে সাহায্য করে। ফলে, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি হয়। একদিকে এমন খাদ্যাভাস যা শরীরের ওজন বাড়িয়ে দিচ্ছে, আরেকদিকে এমন জীবন যাপন, যেখানে শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ কম। এই দুইয়ের জেরেই হরমোনের ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। ফলে, পিএমওএসের (PMOS) মতো রোগের দাপট বাড়ছে। তাছাড়া, অনিদ্রা, মানসিক অবসাদ এই রোগের দাপট বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কম বয়সি মেয়েদের মধ্যে মানসিক চাপ এবং অবসাদ বাড়ছে। তাঁরা অনিদ্রার সমস্যার শিকার হচ্ছেন। এগুলো শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। শারীরিক শক্তি ক্ষয় হয়। ফলে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    কাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও মহিলাই পিএমওএসে আক্রান্ত হতে পারেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে থাকা মেয়েদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে পরিবারের কেউ পিসিওডি কিংবা পিএমওএসে আক্রান্ত হলে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়। তাছাড়া ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের (PMOS) ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তবে স্থূলতার সমস্যা থাকলে, এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

  • PCOD:  জীবন যাপনের বদলই পিসিওডি নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি! জানেন পিসিওডি কী, কেন হয়?

    PCOD: জীবন যাপনের বদলই পিসিওডি নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি! জানেন পিসিওডি কী, কেন হয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক ব্যস্ত জীবনে বেড়েছে নানান সমস্যা। তার মধ্যে অন্যতম হল পিসিওডি। পিসিওডি হল পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ। মহিলাদের বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই সাধারণত এই সমস্যা দেখা যায়। দেহে হরমোনের পরিবর্তনের জেরেই এই সমস্যায় ভুগছেন বহু মহিলা। ভারতে এক নিঃশব্দ মহামারির মতো বাড়ছে এই সমস্যা। পিসিওডি একদিকে যেমন বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলছে, তেমনি স্থূলতা, অবসাদের মতো জীবনযাপনের সমস্যাকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। চলতি বছরে এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে প্রায় ৭ কোটি মহিলা পিসিওডি-র সমস্যায় ভুগছেন। ১৪-১৫ বছর বয়স থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত মহিলারা এই সমস্যায় ভোগেন।

    পিসিওডি-র উপসর্গ

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঋতুস্রাবের পরেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অনিয়মিত ঋতুস্রাব এই রোগের প্রধান উপসর্গ। নিয়মিত ঋতুস্রাব না হওয়া, অতিরিক্ত পরিমাণ ঋতুস্রাব, দেহে অতিরিক্ত লোম এই ধরণের উপসর্গ দেখা দিলে পিসিওডি-র লক্ষণ বুঝতে হবে। তাছাড়া, অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও সেগুলো পিসিওডি-র উপসর্গ বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

    কেন বাড়ছে বিপদ?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে বাড়ছে পিসিওডি-র সমস্যা। কারণ, ভারতে অধিকাংশ মহিলারাই নিয়মিত শরীর চর্চা করেন না, যোগাভ্যাস নেই। তাই দেহের হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকছে না। নিয়মিত যোগাভ্যাস দেহে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এই রোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। আধুনিক জীবনে বদলে গিয়েছে খাওয়ার ধরণ। তাই শরীরে তৈরি হচ্ছে নানান নতুন বিপদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যস্ত জীবনে খাবারের মেনুতে থাকে নানান চটজলদি খাবার। তাছাড়া প্রিজারভেটিভ খাবারে অধিকাংশ অভ্যস্ত। পিৎজা, বার্গার, হটডগ, নানা রকমের ফ্রাই এখন দিন রাতের সঙ্গী। আর এগুলো শরীরে নানান হরমোনের তারতম্য ঘটাচ্ছে। স্থূলতার সমস্যা ডেকে আনছে। আর তার ফলেই পিসিওডি-র মতো রোগ দেখা দিচ্ছে।

    আরও পড়ুন: শীতের খাদ্য তালিকায় আদা রাখুন, জানুন এর গুণাগুণ

    মোকাবিলার উপায়

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, পিসিওডি-র সম্পূর্ণ মুক্তি সম্ভব নয়। অর্থাৎ, পিসিওডি সারে না। কিন্তু নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। জীবনযাপনের ধরণ বদলেই এই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাই পিসিওডি-কে কাবু করতে হলে জীবনযাপনের নিয়ন্ত্রণ জরুরি। প্রথমেই নিয়মিত যোগাভ্যাস করতে হবে। এতে একদিকে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে, অন্যদিকে স্থূলতা কমবে। পিসিওডি নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইলে দেহের ওজন কোনওভাবেই যাতে অতিরিক্ত না হয়, সে দিকে নজর দিতে হবে। বিরিয়ানি, চাউমিন, পিৎজার মতো অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার একেবারেই বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত মাংস, মাছ খাওয়া চলবে না। প্রোটিনের প্রয়োজন মেটাতে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। চিকেন খাবারের তালিকায় থাকলেও মটন, কাতলা মাছের মতো খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। কারণ, অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় কোনও খাবার একেবারেই উপযুক্ত নয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মমাফিক চললে পিসিওডি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রয়োজন মতো ওষুধ যেমন নিতে হবে, তেমনি জীবনযাপনেও বদল আনতে হবে। জীবনযাপনের বদলই পিসিওডি নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি। পিসিওডি নিয়ন্ত্রণে থাকলে বন্ধ্যাত্বের মতো বিপদও আটকানো সম্ভব।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share