Tag: per capita income

per capita income

  • West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ যখন স্বাধীন হয়, সেই ১৯৪৭ সালেও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ছিল এই উপমহাদেশের অর্থনীতির ভরকেন্দ্র। তার পর থেকে যতই গড়িয়েছে (Twenty Fourth State) সময়ের জল, ততই একটু একটু করে পতনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মাথাপিছু আয়কে মানদণ্ড ধরে যদি ভারতের রাজ্যগুলিকে ক্রমানুসারে সাজানো হয় এবং সাত দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলেই বেরিয়ে আসবে ঝুলি থেকে বেড়াল। ১৯৬০-৬১ সালে, স্বাধীনতা যখন নিতান্তই শিশু, ভারত নামক দেশটি যখন সবেমাত্র একটু একটু করে গুছিয়ে উঠছিল, তখনও ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে ছিল বাংলা। সেই সোনার বাংলার আগে ছিল মাত্রই দুটি রাজ্য- এক, পাঞ্জাব ও দুই মহারাষ্ট্র।

    ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফল! (West Bengal)

    ভারতের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাই পরবর্তীকালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নয়া সংজ্ঞা দিয়েছিল। এহেন সোনার বাংলায় রাজ করে প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামফ্রন্ট এবং বর্তমানে তৃণমূল। এই ‘ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফলে ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ সমীক্ষায় দেখা যায় দেশটি চব্বিশতম স্থানে নেমে এসেছে। বঙ্গ নামক এই অঙ্গরাজ্যটির পতন ক্রমান্বয়িক ছিল না,  এমন কোনও সামান্য হ্রাসও ছিল না যা সামান্য আপেক্ষিক পতনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি আদতে ছিল কাঠামোগত, ক্রমবর্ধমান এবং সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপযোগ্য। মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ থেকে কমে হয় ৮৩.৭ শতাংশ। এটি কেবল গরিব রাজ্যগুলির এগিয়ে আসার গল্প নয়। এটি আসলে এমন একটি রাজ্যের গল্প, যা একসময় এগিয়ে থাকলেও, ধীরে ধীরে তার পেছনে থাকা ওড়িশা, তেলঙ্গনা এবং কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির মতো ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকে। এই রাজ্যগুলি এখন জাতীয় গড়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি এগিয়ে গিয়েছে, অথচ বাংলার পতন অব্যাহত রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়, যা একসময় জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৭.৫ শতাংশ বেশি ছিল, গত ছ’দশকে তা কমে ১৬.৩ শতাংশ নীচে নেমে এসেছে। বঙ্গের শুরুর দিকের অবস্থানটিই তার এই গতিপথকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ১৯৪৭ সালে, যখন রক্ত-কালি দিয়ে বাংলার সীমানা নতুন করে আঁকা হচ্ছিল, তখনও এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রভূমি। কলকাতা ছিল ব্রিটিশ রাজের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসন, ব্যাঙ্কিং এবং বাণিজ্যের এক মহানগরী। শহর কলকাতা থেকে উত্তরে বিস্তৃত হুগলি শিল্পাঞ্চল ছিল এই অঞ্চলের উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি—এক শতাব্দীর ঔপনিবেশিক বিনিয়োগে গড়ে ওঠা বিদ্যুৎ, ইস্পাত, পাট, কাগজ এবং রাসায়নিকের এক কেন্দ্রীভূত ভৌগোলিক এলাকা। ১৯৫১ সালে, যখন স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয়, তখন বাংলায় ১,৪৯৩টি নথিভুক্ত কারখানা ছিল। এই সংখ্যাটি মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের সম্মিলিত কারখানার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

    বাংলার অবদান

    ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল এই বঙ্গের অবদান। এগুলি কোনও তাত্ত্বিক সুবিধা বা পরিকল্পিত সম্ভাবনা নয়, এটি আদতে ছিল চলমান, বাস্তব এবং কার্যকর সক্ষমতা, যেখানে নিরন্তর শোনা যেত শিল্প-কারখানার যন্ত্রের ঘরঘরানি শব্দ। ভোরের সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানার গেটে শ্রমিকদের ব্যস্ততা উঠত তুঙ্গে। শিল্প-কারখানার যন্ত্রের মতো আবর্তিত হচ্ছিল পুঁজিও। মুনাফা বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা নিচ্ছিলেন একের পর এক নয়া শিল্প-কারখানা স্থাপনের   সিদ্ধান্ত। বাংলার এই উত্তরাধিকারের কী হল, সেটাই আমাদের পরবর্তী আলোচনার বিষয়। একে ‘বেঙ্গল কার্ভ’ বলা যেতেই পারে। কারণ এটি কোনও একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা বা কোনও একটি সরকারের ভুল পদক্ষেপের ফল বলে মনে হয় না (West Bengal)। এটি সাত দশক ধরে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসন কালে নেওয়া ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত সিদ্ধান্তের ফল, যার প্রতিটিই নিজস্ব সীমাবদ্ধতার স্তরকে যুক্ত করেছে এবং রাজ্যটিকে তার আগের অবস্থার চেয়ে দুর্বল করে রেখে গিয়েছে। এর হিসেব নির্মম। সর্বভারতীয় গড়ের তুলনায় এক দশকের দুর্বল পারফরম্যান্সের অর্থ হল অর্থনৈতিক গুরুত্বের এমন এক ক্ষতি, যাকে পুনরুদ্ধার করাই যায়। দু’দশক ধরে চলতে থাকলেও, পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাত দশক ধরে চলতে থাকলেও, এটি ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রকেই নতুন করে লিখে দিয়েছিল বলেই মনে হয়।

    সঙ্কটে পাটশিল্প

    ১৯৪৭–১৯৭৭ বাংলার পতনের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল নির্বাচনের ফল বা আদর্শগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং ভূগোল এবং দেশভাগের ধারালো ছুরির মাধ্যমে। যখন নয়া ভারতের সীমানা নির্ধারণ করা হল, তখন পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেল যার অর্থনৈতিক ভিত্তি কার্যত করুণ হয়ে গিয়েছিল। হুগলির কলকারখানাগুলিকে সচল রাখতে পাট আসত পূর্ববঙ্গের জেলাগুলি থেকে, যে অংশগুলি এখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। স্রেফ একটিমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিল্পপুঞ্জ তার প্রধান কাঁচামালের জোগান হারাল (Twenty Fourth State)। পাটশিল্প, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছিল এবং বাংলার সমৃদ্ধি এনেছিল, পরবর্তী তিন দশক ধরে সেটাই এমন এক ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল যা তার অস্তিত্বকে আর সমর্থন করে না (West Bengal)। কলকারখানাগুলি থাকলেও, আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় তারা ক্রমশ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে লাগল এবং পুরানো শিল্পপুঞ্জগুলির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করতে লাগল। তবে, কাঁচামাল সরবরাহের এই ব্যাঘাত ছিল কেবল শুরু। ব্রিটিশ ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোটি কলকাতাকে কেন্দ্র করে একটি ঔপনিবেশিক শোষণ যন্ত্র হিসেবেই পরিকল্পিত হয়েছিল। রেলপথ, বন্দর, আর্থিক পরিকাঠামো—সবকিছুই সাম্রাজ্যের শোষণমূলক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বাংলা থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    যখন সেই সাম্রাজ্যের পতন ঘটল, তখন টিকে রইল কেবল কেন্দ্রাভিমুখী কাঠামোটি। অচিরেই সেটিও উধাও হয়ে গেল। স্বাধীনতার প্রথম বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা জাতীয় বণ্টনের দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক মনে হলেও, বাংলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তা বিপর্যয়কর বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মালবাহী ভাড়া সমতাকরণ নীতি। এই নীতি অনুযায়ী দূরত্ব বা স্থানীয় সুবিধা নির্বিশেষে সারাদেশে একই মালবাহী ভাড়া ধার্য করার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণকে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী ঔপনিবেশিক কেন্দ্রগুলিতে শিল্পের কেন্দ্রীভবন রোধ করা। এটি ঠিক সেই লক্ষ্যই অর্জন করেছিল — কিন্তু তা করতে গিয়ে এটি বাংলাকে তার অবশিষ্ট কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার একটি থেকে বঞ্চিত করে, সেটি হল কাঁচামাল, বিদ্যুৎ এবং বন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্য। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার পুনর্বণ্টন করেছিল  তার করের ভাগ। ১৯৫০-এর শুরুর দিকে বিধানচন্দ্র রায় এবং জওহরলাল নেহরুর মধ্যে হওয়া পত্রালাপ এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন বিসি রায়। তাঁর আশা ছিল, দেশের প্রধান শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে তাদের অবদান অনুযায়ী তারা করের ভাগের একটা বড় অংশ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, আয়কর ভাগে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ক্রমাগত কমেছে, প্রথমদিকে প্রায় ২০ শতাংশ থেকে ছ’য়ের দশকে সেটি নেমে আসে ১২ শতাংশে (West Bengal)।

    শরণার্থী সঙ্কট

    বস্তুত, এটি এমন একটি নয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করে, যেখানে রাজ্য সম্পদ উৎপাদন করলেও তার অনুপাতে কম অর্থ ফিরে পায়। পরিকাঠামো, শিক্ষা এবং শিল্পোন্নয়নের জন্য যে অর্থ ফেরত আসার কথা ছিল, তা দেশের অন্যান্য রাজ্যে শিল্পের ভিত্তি গড়তে ব্যবহার করা হয়। দেশভাগের ফলে শরণার্থী সঙ্কট এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ পূর্ববঙ্গ থেকে আসে পশ্চিমবঙ্গে, যা (Twenty Fourth State) আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসন। এদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত ও দক্ষ হলেও তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিপুল চাপ তৈরি হয়। শিল্পের জন্য নির্ধারিত জমি আবাসনের কাজে ব্যবহার করতে হয়। মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায়। ছ’য়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়। এই সময়ের পরিসংখ্যান সংকোচনের গল্প বলে। ১৯৪৭ সালে ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ছিল ২৭ শতাংশ, ১৯৬০-৬১ সালে এটিই কমে দাঁড়ায় ১৭.২ শতাংশে। রাজ্যের জিডিপি অংশও কমে ১০.৫ শতাংশ থেকে হয় ৯.৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয়, যা আগে জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ ছিল, কমে দাঁড়ায় ১১৪ শতাংশে।

    বাম জমানায়ও অব্যাহত পতন

    ১৯৭৭ সালে রাজ্যের কুর্সি দখল করে বামফ্রন্ট। তারা ক্ষমতায় আসার পরেও এই পতন থামেনি, বরং আরও দ্রুত হয়েছে। শিল্পের অংশ কমে দাঁড়ায় ১৩.৫ শতাংশ এবং জিডিপির অংশ ৯.৭ শতাংশ। এই প্রবণতা ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে স্থায়ী রূপ পায় (West Bengal)। ১৯৭৮ সালের শিল্পনীতি বড় পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। “ঘেরাও” আন্দোলন—যেখানে শ্রমিকরা মালিকদের ঘিরে রেখে দাবি আদায় করত—অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মদত জোগানো হত সরকারিভাবে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গ একটি ঝুঁকিপূর্ণ লগ্নিস্থল।পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে ধর্মঘট হয় ১৭৯টি। ১৯৭০-এ এটি বেড়ে হয় ৬৭৮টি। লকআউটও বাড়ে। ২০০১–২০০৬ সালে ধর্মঘট কমলেও, লকআউট বেড়ে দাঁড়ায় ২২৬৬-এ। ২০০৮ সালে দেশের মোট নষ্ট হওয়া কর্মদিবসের ৮৫.৬ শতাংশ একাই পশ্চিমবঙ্গের। এই পর্বে বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। শিল্পে বিনিয়োগ কমতে থাকে। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ ২০০৭-০৮ সালে সপ্তম স্থানে নেমে যায়।

    শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি

    কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে হয় ৬৪ শতাংশ। অথচ গুজরাটে এই হার ১৩৫ শতাংশ এবং তামিলনাড়ুতে ২৩৩ শতাংশ। উৎপাদন খরচও বেশি হয়। ভূমি সংস্কার কিছুটা সাফল্য আনলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ধোপে টেকেনি। ২০০৬ সালে ৪১.৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়ে। শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি (Twenty Fourth State)। ২০১০-১১ সালে রাজ্যের ঋণ রাজস্বের ৩৯৬ শতাংশ হয়, যা সবচেয়ে বেশি। পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। শুরুতে বিনিয়োগবান্ধব অবস্থান নেওয়া হলেও, পরিকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়নি। রাজ্যের জিডিপির অংশ ২০১১-১২ সালে ৬.৭ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৫.৬ শতাংশে নেমে আসে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থান থেকে ২৪তম স্থানে নেমে যায় পশ্চিমবঙ্গ। এখন তার পরিমাণ জাতীয় গড়ের ৮৩.৭ শতাংশ। কমে গিয়েছে বৃদ্ধির হারও। ২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯.৯১ শতাংশ। অথচ, এই পর্বে রকেটের গতিতে এগোতে থাকে (West Bengal) বিহার, তেলঙ্গনা এবং  ওড়িশা।

    “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ

    বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পতন একটি দীর্ঘমেয়াদি “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ। প্রতি বছর একটু একটু করে পিছিয়ে পড়তে থাকা এই রাজ্য কয়েক দশকে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি করে। একসময় ভারতের ২৭ শতাংশ শিল্প উৎপাদনকারী রাজ্য এখন প্রায় ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয়ে তৃতীয় থেকে ২৪তম স্থানে পতন ঘটেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কেবলমাত্র অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়—এটি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতার সংকোচন (Twenty Fourth State)।

     

  • Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন।” বুধবার কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন।”

    ভূপেন্দ্রর নিশানায় মমতা (Mamata Banerjee)

    কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন। ২০ লাখ মানুষ ষষ্ঠ বেতন কমিশনের জন্য লড়াই করছেন, অথচ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “এসআইআর বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে গিয়েছেন, কিন্তু ডিএর ক্ষেত্রে নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি হেরে গিয়েছেন। তাই তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি নিজের কর্মচারীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।” কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করছেন।” তোষণমূলক রাজনীতির জন্যও মন্ত্রী রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    মন্ত্রী দাবি

    মন্ত্রীর দাবি (Mamata Banerjee), পশ্চিমবঙ্গে মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তাই মানুষ অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক খুন ও হিংসার ঘটনা এখানে সর্বাধিক। এখানে রাজনৈতিক তোষণও সর্বাধিক।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে বরাদ্দ অর্থ রাজ্য সরকার সঠিকভাবে ব্যবহার করছে না এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রের ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্প অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে চালু করা হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্যে একটি কমিটি গঠনের কথা ছিল। কিন্তু গত চার বছরে বাংলায় তা করা হয়নি। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বহু বিধান ছিল। অসম সরকার কমিটি গঠন করে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে।”

    এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব

    যাদব বলেন, “সুরাট–ডানকুনি ফ্রেট করিডর পরিবহন ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি–বারাণসী করিডর এবং দুর্গাপুরে উন্নয়ন সামগ্রিক লজিস্টিক দক্ষতা বাড়াবে।” তিনি জানান, ১০,০০০ কোটি টাকার এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের দুর্বল প্রশাসনের কারণে বাংলা সবসময় বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তালিকাভুক্ত ৬,৮০০টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং এমএসএমই ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রক একাই পশ্চিমবঙ্গকে (Mamata Banerjee) ১.১০ লাখ কোটি টাকা দিয়েছে, তবুও তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল সরকার দুর্বল প্রশাসনের প্রতীক।

    মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি

    তিনি বলেন, “মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি রয়েছে এবং তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত শংসাপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি, প্রধানমন্ত্রী পোষণ যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এবং কেন্দ্র নির্ধারিত ‘দিশা’ বৈঠকগুলি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি।” মন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম-কিষানের মতো প্রকল্প পূর্ণমাত্রায় চালু হতে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কম মূলধনী ব্যয়ে চলছে এবং আয় না বাড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিচ্ছে, ফলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে। এটি শুধু তৃণমূলের শেষ বাজেট নয়, বিদায়ী দলিল।” তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলা সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো মহান বিজ্ঞানীদের ভূমি, তবুও বিজ্ঞান শিক্ষায় বরাদ্দ করা হয়নি, কিন্তু মাদ্রাসায় ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা (Mamata Banerjee) বরাদ্দ করা হয়েছে।” উত্তরবঙ্গে ৩ কোটি জনসংখ্যার জন্য মাত্র ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। মন্ত্রী বলেন, “বস্ত্রশিল্পে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের এই খাতে উন্নয়নের কোনও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই (Mamata Banerjee)।”

     

  • Internet Economy: ২০৩০ সালে ভারতের ইন্টারনেট অর্থনীতি হবে ৮৭ লক্ষ কোটি টাকা! বলছে রিপোর্ট

    Internet Economy: ২০৩০ সালে ভারতের ইন্টারনেট অর্থনীতি হবে ৮৭ লক্ষ কোটি টাকা! বলছে রিপোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: Temasek and Bain and company নামের একটি বিদেশি সংস্থা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যার শিরোনাম রয়েছে ‘e-conomy India 2023: the economy of a billion connected Indians’ এই রিপোর্টে আলোচনা করা হয়েছে, ভারতে ইন্টারনেট অর্থনীতির ভবিষ্যত নিয়ে। ওই রিপোর্টে বলা হচ্ছে যে ভারতের ইন্টারনেট অর্থনীতি (Internet Economy) ২০৩০ সালে ১ লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮২.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা।

    কেন এমন দাবি করা হচ্ছে?

    সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে ভারতীয়দের মধ্যে এখন অনলাইনে কেনাকাটা করার প্রবণতা বেশি। যেকোনও ধরনের পণ্য হোক বা অন্য কিছু তা কিনতে অনলাইন মাধ্যমকেই পছন্দ করছেন ভারতীয়রা। এবং এই কারণেই ইন্টারনেট ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে তাই বলা যায় বর্তমানে দেশে এটা ডিজিটাল দশক চলছে। ওই রিপোর্টে আরও বলা হচ্ছে, বর্তমানে ৭০ কোটি ইন্টারনেট (Internet Economy) ব্যবহারকারী রয়েছেন এদেশে। যেখানে গড়ে ৩৫ কোটি মানুষ ডিজিটাল পেমেন্ট করে থাকেন এবং ২২ কোটি মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা পছন্দ করেন। রিপোর্টে আরও বলা হচ্ছে ভারতবর্ষের ক্রমবর্ধমান এই ইন্টারনেট অর্থনীতি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় প্ল্য়াটফর্ম তৈরি করতে পেরেছে।

    এক লক্ষ কোটিতে পৌঁছাবে ইন্টারনেট অর্থনীতি

    ওই রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতের জিডিপির মাথাপিছু রোজগার ২০২২ সালে ছিল ২৫০০ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ২ লাখ টাকা তা ২০৩০ সালে বেড়ে হবে ৫৫০০ মার্কিন ডলার বা সাড়ে ৪ লাখ টাকা। 

    আরও পড়ুন: করমণ্ডল কেড়েছে ছেলের প্রাণ, সেই ট্রেনে চড়ে দেহ আনতে গেলেন বাবা

    ভারতের অর্থনীতিতে ইন্টারনেট ইকোনমির ভূমিকা

    ২০৩০ সালের মধ্যেই ইন্টারনেট ইকোনমি ভারতের জিডিপিতে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ অবদান রাখতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই রিপোর্ট মোতাবেক ২০১০ সালে দেশের অর্থনীতিতে ইন্টারনেট ইকোনমির অবদান ছিল ০.৫ শতাংশ। বর্তমান ভারতে শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং অনলাইন মিডিয়া কোম্পানিগুলি পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেড়েছে আগের থেকে। রমরমিয়ে ব্যবসা চলছে অনলাইন মাধ্যমে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ

  • Per Capita Income: স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতের মাথাপিছু গড় আয় দাঁড়াবে ১৪.৯ লাখ টাকা, বলছে রিপোর্ট

    Per Capita Income: স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতের মাথাপিছু গড় আয় দাঁড়াবে ১৪.৯ লাখ টাকা, বলছে রিপোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির জমানায় যে শ্রীবৃদ্ধি হচ্ছে দেশের অর্থনীতির, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছে দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থা। এবার প্রায় একই কথা জানাল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই-ও। তারাও জানাল, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির লেখচিত্র ঊর্ধ্বমুখী। সমীক্ষা করার পর এসবিআই জানিয়ে দিয়েছে, ২০৪৭ সালে দেশ যখন স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করবে, ভারতের পার ক্যাপিটা ইনকাম (Per Capita Income) বৃদ্ধি পাবে সাত গুণ।

    এসবিআইয়ের রিপোর্ট

    ৭৭তম স্বাধীনতা দিবসের পরের দিনই একটি রিপোর্ট পেশ করে এসবিআই। তাতেই তারা রীতি মতো হিসেব কষে দেখিয়ে দিয়েছে ভারতবাসীর পার ক্যাপিটা ইনকাম ২ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে হবে ১৪.৯ লক্ষ টাকা। এসবিআইয়ের ওই রিসার্চ রিপোর্টে নমিনাল ইনকামের কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে ২০৪৭ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতির হিসেব অবশ্য দেখানো হয়নি। আজ ১৪.৯ লক্ষ টাকার যে মূল্য, ২৪ বছর পরে অবশ্য একই থাকবে না। মুদ্রাস্ফীতির কারণে পার ক্যাপিটা ইনকামের (Per Capita Income) একটি হিসেব তুলে ধরে দেখানো হয়েছে ওই রিপোর্টে। অনুমান করা হয়েছে, বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৫ শতাংশ।

    মুদ্রাস্ফীতির হার

    গত ১০ বছরে অন্তত এভাবেই বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতির হার। সেই হিসেবে ২০৪৭ সালে ১৪.৯ লক্ষ টাকার প্রকৃত মূল্য আজকের টাকার অঙ্কে দাঁড়াবে ৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এই মুহূর্তে ভারতের পার ক্যাপিটা ইনকামের পরিমাণ খুবই কম। পার ক্যাপিটা ইনকামে ভারত রয়েছে বাংলাদেশেরও নীচে। স্বাধীনতার শতবর্ষের মধ্যে দেশে ওয়ার্কফোর্সের পাশাপাশি বাড়বে ট্যাক্সদাতাদের সংখ্যাও। করদাতাদের দিতে হবে এখনের চেয়ে সাতগুণ বেশি ট্যাক্স। ২০৪৭ সালে সব মিলিয়ে করের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৮.২ কোটি টাকা।

    আরও পড়ুুন: ১০০ কেজিরও বেশি মাদক বাজেয়াপ্ত, এমবিএ পাশ যুবক সহ গ্রেফতার ৭ পাচারকারী

    রিপোর্টে বলা হয়েছে স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তির সময় ট্যাক্সদাতাদের সংখ্যা একলপ্তে বেড়ে যাবে অনেকখানি। যাঁদের আয় কম এমনতর ২৫ শতাংশ মানুষের নাম বাদ যাবে ট্যাক্সদাতাদের তালিকা থেকে। যাঁরা আয়কর দেবেন, তাঁদের মধ্যে ১৭.৫ শতাংশ করদাতার আয় হবে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে। পাঁচ শতাংশ মানুষের আয় হবে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে (Per Capita Income)। আর ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে আয় করবেন করদাতাদের মধ্যে তিন শতাংশ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • India’s Per Capita Income: মোদি জমানায় ভারতীয়দের মাথা পিছু আয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, বলছে রিপোর্ট

    India’s Per Capita Income: মোদি জমানায় ভারতীয়দের মাথা পিছু আয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, বলছে রিপোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতীয়দের মাথা পিছু আয় (India’s Per Capita Income) বেড়েছে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিটিকস অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় নয় বছর সময়ে দেশের জনগণের মাথা পিছু আয়ের পরিমান জাতীয় আয়ের হিসেবে দ্বিগুন হয়েছে। মাথা পিছু জাতীয় আয় ১৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এখন দাড়িয়েছে ১,৭২০০০ টাকায়। ২০১৪-২০১৫ সালে যা ছিল ৮৬,৬৪৭ টাকা।

    পর্যায়ক্রমে আয় বৃদ্ধি

    জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের (NSO) তথ্যানুসারে, মোট জাতীয় আয়ের পরিপ্রেক্ষিতে মাথাপিছু আয় (India’s Per Capita Income), ২০২২-২৩ সালে ছিল ১,৭২,০০০ টাকা। এটি তার আগের বছরের তুলনায় ১৫.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ সাল থেকে দ্রুত গতিতে বেড়েছে আয়। বর্তমানে গড়ে একজন ভারতীয়ের বার্ষিক আয় ১.৭২ লক্ষ টাকা। অর্থনীতিবিদদের বিশ্বাস, উপযুক্ত পুনর্বন্টন নীতির মাধ্যমে বছরে ৫%-৬%-এর মধ্যে এই মাথাপিছু আয়ের (India’s Per Capita Income) বৃদ্ধিকে ধরে রাখা যাবে। তবে এখনও দেশে সম্পদের অসম বন্টনের সমস্যা রয়ে গিয়েছে। আর সেটা দূর করাই মোদি সরকারের চ্যালেঞ্জ। 

    আরও পড়ুুন: নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি? কমিটির সদস্যের মন্তব্যে জল্পনা!

    আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ভারতের মাথাপিছু আয়ের (India’s Per Capita Income) গড় বৃদ্ধি ছিল বার্ষিক ৫.৬% করে। এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতির ফল এটা। কোভিডের সময় মন্দা গেলেও দ্রুত কোভিডের পরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করেছে সরকার। বর্তমান মূল্যে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ সালে মাথাপিছু আয় ছিল যথাক্রমে ১,২৭,০৬৫ এবং ১,৪৮,৫২৪ টাকা। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট যে, দেশে মাথাপিছু আয় (India’s Per Capita Income) ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথা পিছু আয়বৃদ্ধির বিষয়টি সমৃদ্ধির বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হয়। তাঁরা বলছেন, মোদি সরকার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা গরিবদের সাহায্য করেছে। সরাসরি সরকারি প্রকল্পের সাহায্য পেয়েছেন অনেক মানুষ। এর মধ্যে রয়েছে জনধন অ্যাকাউন্ট, মুদ্রা লোন, খাদ্যের অধিকার কর্মসূচিতে বিনামূল্যে রেশনের মতো বিষয়।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share