Tag: PM Modi Central Asia Tour

  • PM Modi Central Asia Tour: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে মোদি, নজরে এসসিও সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক

    PM Modi Central Asia Tour: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে মোদি, নজরে এসসিও সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Central Asia Tour)। শনিবার থেকে শুরু এই সফরে তিনি উজবেকিস্তান ও কিরঘিজস্তান যাবেন এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবেন মোদি। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের আমন্ত্রণে ২৯ ও ৩০ অগাস্ট উজবেকিস্তান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৩১ অগাস্ট কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও (SCO Summit) সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।

    মোদি-পুতিন সাক্ষাৎ

    বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের (PM Modi Meet Putin) সঙ্গে মোদির বৈঠক হবে। বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ভারত ও রাশিয়ার দুই নেতার মধ্যে একটি বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।” তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের সামগ্রিক পরিসর নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে। সম্মেলনের ফাঁকে মোদির আরও কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেগুলির সূচি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো হবে। মোদি পুতিন বৈঠকের আগে চলতি সপ্তাহেই রাশিয়া সফর করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মস্কো সফরে তিনি পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।

    এসসিও সম্মেলনের গুরুত্ব

    এবারের এসসিও সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংগঠনটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ—এই বিষয়গুলির উপর ভারতের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। সিবি জর্জ বলেন, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রপন্থার মোকাবিলা করাই এসসিও প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। বর্তমানেও এই সমস্যাগুলি আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ২০১৭ সালে ভারত এসসিও-র পূর্ণ সদস্য হয়।

    ভারতের কৌশলগত দিক থেকে মধ্য এশিয়ার গুরুত্ব

    ভারতের কৌশলগত হিসেব-নিকাশে মধ্য এশিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। স্থলবেষ্টিত হলেও সম্পদে সমৃদ্ধ এই পাঁচটি প্রজাতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, রাশিয়া এবং চিনের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তাদের কাছে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং ক্রমবর্ধমানভাবে কাঙ্ক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুর্লভ মৃত্তিকার বিপুল মজুদ রয়েছে। শিল্প আধুনিকীকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা অর্জনে সচেষ্ট জ্বালানি-আমদানিকারী ভারতের জন্য এই সম্পদগুলো মূল্যবান বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দেয়। আফগানিস্তান পাকিস্তান অঞ্চল থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং অস্থিতিশীলতা নিয়ে এই অঞ্চলটিও ভারতের উদ্বেগের অংশীদার। কিন্তু ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পৃক্ততাকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। পাকিস্তান সরাসরি স্থলপথে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ায়, ইরানের চাবাহার বন্দর এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর (INSTC)-এর মাধ্যমে দীর্ঘতর বহুমুখী সংযোগ পথের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে হয়।

    ভারতের সঙ্গে সখ্যতা-প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজনৈতিক সদিচ্ছা

    চিন ক্রমান্বয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেন সংঘাত রাশিয়ার সক্ষমতাকে সংকুচিত করলেও দেশটি তার অবশিষ্ট নিরাপত্তা প্রভাব বজায় রেখেছে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় অংশীদাররা তাদের নিজস্ব বহুমুখী যোগাযোগ প্রসারিত করেছে। মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো নিজেরা ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতি অনুসরণ করে এবং এমন অংশীদার খোঁজে যাদের সাথে আধিপত্যবাদী বোঝা যুক্ত নেই। ভারত এই পছন্দের সঙ্গে খাপ খায়। এর বিরুদ্ধে কোনও ঐতিহাসিক হুমকির আশঙ্কা নেই এবং সভ্যতাগত সখ্যতাও রয়েছে। ভারত নিজেকে একটি বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং একটি উন্নয়নমূলক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরে। ২০১৫ সালে মোদির পাঁচটি প্রজাতন্ত্র সফর, ভারত-মধ্য এশিয়া সংলাপ ও শীর্ষ সম্মেলনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং ২০১৭ সাল থেকে এসসিও-র পূর্ণ সদস্যপদ—এই সবকিছুই সম্পর্কটিকে ক্রমান্বয়ে উন্নত করেছে। এই সাম্প্রতিক সফরের লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে আরও বাস্তব কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপান্তরিত করা।

    উজবেকিস্তান সফরের উদ্দেশ্য

    উজবেকিস্তানে এটি মোদির চতুর্থ সফর। সেখানে প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। তাশখন্দে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি দুই দেশের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। উজবেকিস্তান এই অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং ভারতের অন্যতম সক্রিয় অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিরঘিজস্তান সফরে মোদি ষষ্ঠ বিশ্ব নোমাড গেমস (World Nomad Games)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন। মধ্য এশিয়ার যাযাবর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

LinkedIn
Share