Tag: PM Modi Tribute to Rabindranath Tagore

  • PM Modi Tribute to Rabindranath Tagore: শুভেন্দুর শপথগ্রহণের মঞ্চে কবিগুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মোদির, রবীন্দ্র জয়ন্তীতে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi Tribute to Rabindranath Tagore: শুভেন্দুর শপথগ্রহণের মঞ্চে কবিগুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মোদির, রবীন্দ্র জয়ন্তীতে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঁচিশে বৈশাখ কবিগুরুর জন্মবার্ষিকীর দিন ব্রিগেডে বিশাল মঞ্চ করে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ কেন্দ্রের ও দেশের তাবড় তাবড় নেতৃবৃন্দ। রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন শপথগ্রহণ, তাই মঞ্চের একদিকে বসানো হয়েছিল কবিগুরুর বিশাল ছবি। ব্রিগেডে উপস্থিত হয়েই প্রথমে এদিন তাই শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে বিশ্বকবির ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্রদ্ধা জানান শুভেন্দু অধিকারীও।

    কবিগুরুর জন্মবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    এর আগে, এদিন সকালেও সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় কবিগুরুর বহুমুখী প্রতিভা এবং ভারতের আত্মিক জাগরণে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় কবিগুরুকে একাধারে কালজয়ী লেখক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লেখেন, ‘‘পঁচিশে বৈশাখের এই পুণ্য লগ্নে আমি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অসাধারণ মেধা ও মননশীল এক চিন্তাবিদ। ভারতের শাশ্বত সভ্যতার কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।’’ মোদি আরও উল্লেখ করেন যে, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে একদিকে যেমন মানবহৃদয়ের নিগূঢ় অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, তেমনই অন্যদিকে আমাদের সংস্কৃতির মহান আদর্শগুলো ফুটে উঠেছে। সমাজের চিন্তাধারায় নতুন প্রাণ সঞ্চার এবং সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কবিগুরুর অবদান অতুলনীয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে কবিগুরুকে স্মরণ করছি। তাঁর দর্শন ও আদর্শ আগামী দিনেও আমাদের পথ চলতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।’’

    বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে রবীন্দ্র জয়ন্তী

    আজ কেবল বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে রবীন্দ্র জয়ন্তী। সেই আবহেই প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধার্ঘ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর মতো আবেগঘন সাংস্কৃতিক দিনকে কেন্দ্র করে বিজেপির এই বৃহৎ কর্মসূচি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন নয়, বরং নতুন সরকারের সূচনার আগে একটি শক্তিশালী জনসংযোগ কৌশলও। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে বেছে নেওয়ার মধ্যেও রয়েছে প্রতীকী গুরুত্ব—একদিকে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান, অন্যদিকে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র দখলের বার্তা।

    পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সুবিধাগুলি এবার দ্রুত বাস্তবায়িত হবে

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ফলাফল করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির, অন্যদিকে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, কৃষক কল্যাণ প্রকল্প-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় সুবিধা এবার পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মুহূর্তকে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বাম ও তৃণমূল শাসনের পর প্রথমবার রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পথে। এখন নজর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মন্ত্রিসভার দিকে—যা আগামী পাঁচ বছরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণ করবে।

LinkedIn
Share