Tag: POCSO

POCSO

  • India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আইনের হাত থেকে দীর্ঘদিন রেহাই পাওয়ার দিন শেষ হতে (India) চলেছে। বিজয় মাল্যর লন্ডনে পৌঁছে যাওয়া, ব্রিটেনে নীরব মোদির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই কিংবা আমেরিকা থেকে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া—এই ধরনের ঘটনায় বহুদিন ধরেই দেশে প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া (Fugitives) অপরাধীদের কি আদৌ ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব? দীর্ঘদিন ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের দেশে ফেরাতে সরকারের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলের অভাব রয়েছে। তবে সংসদে পেশ করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই ধারণার সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক অপরাধী, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত, সংগঠিত অপরাধী, গ্যাং সদস্য এবং খুন, ধর্ষণ, পকসো আইন লঙ্ঘন, মাদক পাচার ও সাইবার অপরাধের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

    মামলা চলত বছরের পর বছর (India)

    লন্ডন, দুবাই, কানাডা, আমেরিকা কিংবা অন্য কোনও দেশে বসে থাকা অপরাধীরা বহু বছর ধরে ভারতীয় আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন। আদালতে মামলা চলত বছরের পর বছর, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকতেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে বিদেশি সরকারের সঙ্গে লাগাতার চিঠিপত্র চালাচালি করতে হত। সময় যত গড়াত, মামলার নথি ততই বাড়ত, এবং অনিশ্চয়তাও গভীর হত। ফলে দেশে বারবার প্রশ্ন উঠত—বিদেশের মাটি থেকে কি আদৌ অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে পারবে ভারত? এই জায়গায়ই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছিল। সমালোচকদের দাবি ছিল, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার মতো দৃঢ়তা সরকারের নেই। কিন্তু সরকারের পেশ করা তথ্য বলছে অন্য কথা। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    আগের ব্যবস্থার দুর্বলতাই ছিল বড় বাধা

    সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রত্যর্পণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যা ছিল। প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনগুলি অনেকটাই পুরনো হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সেগুলির সামঞ্জস্য ছিল না। অর্থনৈতিক অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্দিষ্ট আইনও ছিল না। বিভিন্ন মন্ত্রক ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও কাঠামোগত ঘাটতি ছিল। বিদেশি আদালতে জমা দেওয়া নথি অনেক সময় অসম্পূর্ণ থাকত। বিভিন্ন দেশের আলাদা আইনি কাঠামো ও নিয়ম মেনে নথি তৈরির জন্য কোনও অভিন্ন ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে মাত্র চারজন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। একই সময়ে ১১০টি প্রত্যর্পণ অনুরোধ ঝুলে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে “দ্বৈত অপরাধ” এবং “একই অপরাধে দু’বার বিচার না করার নীতি”-র মতো আইনি যুক্তিতে ভারতের আবেদন খারিজ হয়ে যেত। ফলে বহু অভিযুক্ত বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন।

    রাজনৈতিক সদিচ্ছায় বদলেছে কৌশল

    সরকারের দাবি, ২০১৪ সালের পর পলাতক অপরাধীদের দেশে ফেরানোর বিষয়টিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই বিষয়টিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় গড়ে তোলা হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—বিশ্বব্যাপী অভিযান, শক্তিশালী সমন্বয় এবং কৌশলী কূটনীতি।এর ভিত্তিতে বিদেশমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশ, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা এবং বিদেশি সরকারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রত্যর্পণের আবেদনও আগের তুলনায় আরও পেশাদার পদ্ধতিতে তৈরি করা শুরু হয়। যে দেশের আদালতে আবেদন করা হচ্ছে, সেই দেশের নির্দিষ্ট আইনি প্রয়োজন অনুযায়ী নথি প্রস্তুত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী লিখিত নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি আদালতে ভারতের বক্তব্য আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায়।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বড় অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি হয় (Fugitives)। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, অর্থনৈতিক অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া। সরকারের মতে, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে এই আইন। ২০১৯ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনেও সংশোধন করা হয়। এর ফলে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার পরিধি শুধু সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদেশে থাকা সন্ত্রাসবাদী, তাদের বিদেশি নিয়ন্ত্রক, অর্থ জোগানের নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ে (India)।সরকারের বক্তব্য, আধুনিক সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্থিক নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের কারণে সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছে।

    নতুন তিন ফৌজদারি আইনে নতুন পথ

    ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনে পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারায় প্রথমবারের মতো অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেও বিচার চালানোর বিধান আনা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও পলাতক ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিচারপ্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে আদালত বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সরকারের ধারণা, এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ভারতের জোর

    ২০২২ সালে ভারত আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার ৯০তম সাধারণ পরিষদের আয়োজন করে। সেই মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় তিনটি নীতির কথা তুলে ধরেন—যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়।সরকারের বক্তব্য, দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান, পারস্পরিক আস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সহযোগিতাও আরও জোরদার হয়। ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার ফলে একাধিক মামলায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও গতি পায়।

    তথ্য নেটওয়ার্কের নতুন মেরুদণ্ড ‘ভারতপোল’

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘ভারতপোল’ চালু করেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশের সদর দফতর, জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত তথ্য পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে (India)। বর্তমানে ১,৪০০-র বেশি সংস্থা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আগে যে তথ্য পেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, বহু ক্ষেত্রে এখন তা তিন থেকে দশ দিনের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আদানপ্রদান করা হচ্ছে। তথ্যপ্রবাহের এই গতি প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করেছে (Fugitives)।

    প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীদের খোঁজ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীরা অনেক সময় পরিচয় বদলায়, নতুন নথি ব্যবহার করে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে জায়গা পরিবর্তন করে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত তদন্তপদ্ধতি অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল গ্রহণ করেছে ভারত। ‘অপারেশন ত্রিশূলে’র মাধ্যমে উপগ্রহ প্রযুক্তি, ডিজিটাল গতিবিধির বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং অপরাধীদের গতিবিধির মানচিত্র তৈরির মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদেশে লুকিয়ে থাকা পলাতকদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। অপরাধীদের ডিজিটাল কর্মকাণ্ড, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত বিশ্লেষণ করে তাদের প্রকৃত অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিদেশে নাম বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলেও, ডিজিটাল চিহ্ন এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেকের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

    রেড নোটিশ জারিতে গতি

    অপরাধীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পুলিশের মধ্যে অভিযুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ তৈরি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রেড নোটিশ জারির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেখে নেওয়া যাক ছোট্ট একটা পরিসংখ্যান:
    ২০২২ সালে — ৪০টি
    ২০২৩ সালে — ১০০টি
    ২০২৪ সালে — ১০৭টি
    ২০২৫ সালে — ১১২টি
    ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত — ১৮২টি

    গত তিন বছরে মোট ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়েছে। সরকারের মতে, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতাকে তদন্ত কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে ভারত (India)।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী পদক্ষেপ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অর্থ ও সম্পত্তির বিষয়টিকেও কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছে কেন্দ্র। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৭,৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (Fugitives)। একই সময়ে ১৮,৭৬২ কোটি টাকা সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত অর্থও রয়েছে। অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সুরক্ষিত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সরকার।

    বিদেশে পলাতকদের ধরতে বিশেষ কেন্দ্র

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের খুঁজে বের করতে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক অভিযান কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে এই কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এছাড়া রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যেও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে তথ্য আদানপ্রদানের গতি আরও বেড়েছে।

    ২৭৪ পলাতক ফেরত, কোন অপরাধে কতজন?

    ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গুরুতর বিভিন্ন অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই তালিকায় রয়েছেন। অপরাধের ধরন অনুযায়ী পরিসংখ্যান বলছে, খুন, ডাকাতি ও হিংসাত্মক অপরাধের মামলায় সর্বাধিক ৬২ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং পকসো-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ৫৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধ, গ্যাং-সংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং তোলাবাজির মামলায় ৪২ জনকে দেশে ফেরানো হয়েছে। মানবপাচার ও অপহরণের মামলায় ১৮ জন, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, দেশবিরোধী কাজ এবং মাদক-সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ১৭ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য ও মাদক পাচারের মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জনও দেশে (India) ফিরেছেন। সাইবার অপরাধ, জাল নোট এবং নিষিদ্ধ পণ্য পাচারের মতো অপরাধে অভিযুক্ত ১২ জন এবং অর্থনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত ৯ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বছরভিত্তিক প্রত্যর্পণের গতি

    বিদেশ থেকে পলাতকদের দেশে ফেরানোর পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালে ৯ জন, ২০২০ সালে ৭ জন, ২০২১ সালে ২৩ জন, ২০২২ সালে ৪০ জন, ২০২৩ সালে ৩৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৩ জন, ২০২৫ সালে ৭০ জন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আইনি প্রস্তুতির উন্নতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পলাতকদের দেশে ফেরানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Fugitives)।

    তাহাউর রানার মামলা: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের নজির

    আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত মামলাগুলির মধ্যে তাহাউর হুসেন রানার প্রত্যর্পণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আমেরিকা থেকে তাকে ভারতে ফেরাতে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চালিয়েছে ভারত। সরকারের মতে, এই মামলা প্রমাণ করে যে জটিল সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায়ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। জম্মু ও কাশ্মীর-সংক্রান্ত একাধিক মামলায়ও বিদেশে থাকা পলাতক এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সীমান্তপারের কার্যকলাপে সহায়তার চেষ্টা সামনে এসেছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

    ‘সমগ্র সরকার’ মডেলে একযোগে অভিযান

    পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিক সংস্থা একযোগে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা ব্যুরো, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখা, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিদেশমন্ত্রক, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, জিএসটি গোয়েন্দা দফতর এবং বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। সরকার এই ব্যবস্থাকে “সমগ্র সরকার” মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা একটি অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে একসঙ্গে কাজ করে (India)।

    ভবিষ্যৎ কৌশলে নয়া নজর

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গোয়েন্দা ব্যুরোর বহু-সংস্থা কেন্দ্রের অধীনে একটি স্থায়ী বিশেষ গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পলাতকদের চিহ্নিত করা, মামলার নথির অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা, তথ্যের ঘাটতি দূর করা, বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং রাজ্যগুলিকে জাতীয় স্তরে সাহায্য করা (Fugitives)।  সব মিলিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভারতের বর্তমান কৌশলের মূল বার্তা স্পষ্ট—দেশে অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে গেলেই আইনের নাগালের বাইরে থাকা যাবে না। ২৭৪ জন পলাতককে দেশে ফিরিয়ে আনা, ৪০১টি রেড নোটিশ জারি, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও পুনরুদ্ধার, ‘ভারতপোলে’র মতো ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বৃদ্ধির ঘটনা প্রমাণ করে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ভারত তার কৌশল আরও বিস্তৃত করেছে। বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের উদ্দেশে সরকারের বার্তা এখন স্পষ্ট—অপরাধ করে ঠিকানা বদলালেই অপরাধ মুছে যায় না। কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশের মাটি থেকে পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে (India) যাবে।

     

  • Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরিয়ত আইন বা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন কখনওই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন (Prohibition of Child Marriage Act, 2006) এবং পকসো আইন (Protection of Children from Sexual Offences Act, 2012)-কে অগ্রাহ্য করতে পারে না। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি এক মামলায় এই রায় দিয়েছে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad HC)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স সবার জন্য একই। মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বিচারপতি জেজে মুনির এবং আচল সচদেব-এর ডিভিশন বেঞ্চ ১ জুলাই ২০২৬ এই রায় দেয়। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের কাকোর থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর খারিজের আবেদনও আদালত খারিজ করে দেয়।

    কোন মামলার প্রেক্ষাপটে এই রায়

    মামলার সূত্রপাত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। অভিযোগ, বুলন্দশহরের সুনপেদা বক্সুয়া গ্রামে ১৬ বছরের এক মুসলিম কিশোরীর বিয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা সেখানে পৌঁছে বাল্যবিবাহ (Child Marriage Acts) রুখতে উদ্যোগ নেন। কিশোরীকে অস্থায়ীভাবে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র সামনে পেশ করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা ওই কিশোরীকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান এবং সরকারি কর্মীদের হুমকি ও বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী কোনও মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলে, অর্থাৎ সাধারণভাবে ১৫ বছর বয়সের পর, তার বিয়ে বৈধ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭ এবং ইন্ডিয়ান মেজরিটি অ্যাক্ট, ১৮৭৫-এ সেই অবস্থান স্বীকৃত রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন তাদের ব্যক্তিগত আইনের ওপর প্রাধান্য পায় না।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    অভিযুক্তদের এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে হাইকোর্ট জানায়, ব্যক্তিগত আইন কোনওভাবেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন বা পকসো আইনের বিধানকে খর্ব করতে পারে না। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক পকসো আইনে অপরাধ। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে অনুমোদন করলে তা কার্যত পকসো আইনের লঙ্ঘনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সামিল হবে। রায়ে বিচারপতি জেজে মুনির বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিয়ের বৈধ বয়স নির্ধারণ করেছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন। ধর্মের ভিত্তিতে এর কোনও ব্যতিক্রম হতে পারে না। শরিয়ত আইনে বয়ঃসন্ধিকে বিয়ের উপযুক্ত বয়স হিসেবে ধরা হলেও, তা বর্তমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    ধর্মীয় আইন পকসো-র ওপরে নয়

    আদালত আরও জানায়, পিসিএমএ (PCMA) এবং পকসো (POCSO)—দুই আইনই জনস্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা এবং জাতীয় নীতির ভিত্তিতে প্রণীত বিশেষ আইন। তাই কোনও ব্যক্তিগত আইন, প্রথা বা ধর্মীয় রীতিনীতি এই আইনগুলির প্রয়োগে বাধা হতে পারে না। পরবর্তী সময়ে প্রণীত এবং সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য আইন হিসেবে পিসিএমএ-ই কার্যকর হবে। একইসঙ্গে আদালত জানায়, পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ রুখতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কাজে বাধা, হামলা ও সরকারি কর্তব্যে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে প্রাথমিকভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধের উপাদান রয়েছে। তাই তদন্ত বন্ধ করার কোনও কারণ নেই। আদালত তদন্তের ওপর জারি থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে দেয়।

    ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে নাবালকদের সুরক্ষা

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন হাইকোর্টে এ বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও ইলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় শিশু অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ধর্ম বা ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে রয়েছে নাবালকদের সুরক্ষা এবং দেশের শিশু সুরক্ষা আইন। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও বাল্যবিবাহ রোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে প্রশাসনকে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নাবালিকারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় না। সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে বিষয়টি ধরা পড়ে। আদালত জানায়, বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই তা আটকাতে হবে। পাশাপাশি বিয়ের পরও যদি কোনও নাবালিকার ঘটনা সামনে আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্তে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

    বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন

    ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনটির নানা ধারা ২০০৬ সালে সংশোধন করা হলেও এখনও কিছু ফাঁক রয়ে গিয়েছে বলে আগে বহুবার জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই ফাঁকগুলি মেরামতের পাশাপাশি আইন প্রযুক্তকারীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলেছে শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলি চিহ্নিত করে তার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে। ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের ‘মূল ভাবনা’র কথাও সময় বিশেষে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি শেষ পন্থা হিসেবে অবলম্বন করতে হবে। এমনকী অপ্রাপ্তবয়স্কদের পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ইচ্ছাও এই আইনের পথে অন্তরায় হতে পারে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের পথ রোধ করতে পারে না ব্যক্তি অধিকারের আইন। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকাদের বাগ্‌দান বন্ধ করা প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আদালত।

  • Tiljala Murder: ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন, তিলজলাকাণ্ডে অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

    Tiljala Murder: ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন, তিলজলাকাণ্ডে অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিলজলায় (Tiljala Murder) সাত বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন করে খুন করার ঘটনায়, দেড় বছর আগে উত্তাল হয়েছিল বাংলা। নৃশংস এই ঘটনাকে বিরলের মধ্যে বিরলতম আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত। মামলার শুনানি চলাকালীন মোট ৪৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত (Alipore court)। বৃহস্পতিবার আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালতে ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ তিলজলায় এই ঘটনা ঘটেছিল। ওই দিন সকালেই শিশুটি একতলায় ময়লা ফেলতে নেমেছিল। তার পর থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে ওই আবাসনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্যাস সিলিন্ডারের পাশে বস্তায় শিশুটির দেহ রাখা ছিল।

    কী বলল আদালত (Tiljala Murder)?

    তদন্তে উঠে আসে, নিজের যৌন লালসার জন্য জোর করে অভিযুক্ত ঘরে ঢোকায় শিশুটিকে। দেওয়ালে মাথা ঠুকে, দু’ ধরনের হাতুড়ি ব্যবহার করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। অভিযুক্তের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘‘আপনি নিষ্ঠুরতম কাজ করেছেন, নিজের বিকৃত লালসা মিটিয়েছেন। আপনি একজন ডেলিভারি বয়। আপনারা গায়ে অনেক শক্তি। আপনি এক অসহায় বাচ্চার সঙ্গে যা করেছেন, তা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নেই। আপনি অমানবিক, নিষ্ঠুর কাজ করেছেন, এই ধরনের অপরাধ খুব একটা দেখা যায় না। আপনারা উদ্দেশ্য ছিল, অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়া। আপনাকে সংশোধনাগারে পাঠিয়ে সংশোধন করা যাবে না। এই অপরাধ (Tiljala Murder) বিরল নয়, বিরলতম, সাংঘাতিক ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড।’’

    কী বললেন সরকারি আইনজীবী

    সরকারি আইনজীবী মাধবী ঘোষ মাইতি বলেন, ‘‘বড়দের কারও সঙ্গে নির্যাতনের (Tiljala Murder) ঘটনা ঘটলে অনেকে তাঁর পোশাক বা চরিত্রের দিকে আঙুল তোলেন। এটা তো সাত বছরের একটা ফুটফুটে মেয়ে! তার খেলা করার বয়স। তাকে এমন নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। মুখ চেপে ওকে ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটির বাঁচার অদম্য ইচ্ছা ছিল। সে আসামির হাতে কামড়ে দিয়েছিল। পালানোর জন্য ছটফট করেছিল। কিন্তু অত বড় মানুষের সঙ্গে সে পেরে ওঠেনি। তাই এটা বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা।’’ 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ। 

  • Supreme Court: শিশুদের যৌনতার ভিডিও দেখলে বা রাখলেও সাজা পকসো আইনে, বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: শিশুদের যৌনতার ভিডিও দেখলে বা রাখলেও সাজা পকসো আইনে, বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশুদের নিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফি দেখা কিংবা তা ডাউনলোড করাও এবার থেকে পকসো (POCSO) আইনে অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে। সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় খারিজ করে এমনই বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।  সুপ্রিম কোর্টের তরফে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘‘বর্তমান সময়ে পর্নোগ্রাফি দেখার মতো ভয়ঙ্কর সমস্যা নিয়ে লড়ছে শিশুরা। সমাজকে এতটা পরিণত হতে হবে যে শাস্তির বদলে শিক্ষা দেওয়া যায়।’’ এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাদের এক রায়ে জানিয়েছিল, শিশুদের নিয়ে নীলছবি দেখা কিংবা তার ক্লিপ ডাউনলোড করা শাস্তিযোগ্য নয়। এদিন মাদ্রাজ হাইকোর্টের সেই নির্দেশকেই খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।

    চেন্নাইয়ের এক ২৮ বছরের যুবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বাতিল করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট

    সোমবার সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালার বেঞ্চ বলে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই রায় দিতে গিয়ে গুরুতর ত্রুটি করে ফেলেছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি মাদ্রাজ হাইকোর্ট চেন্নাইয়ের এক ২৮ বছরের যুবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বাতিল করে দিয়েছিল। ওই যুবকের বিরুদ্ধে শিশু-পর্ন দেখা এবং ভিডিও ডাউনলোড (POCSO) করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাদের রায়ে জানিয়েছিল, ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের বিষয়ের ছবি দেখা পকসো আইনের এক্তিয়ারে পড়ে না।

    ‘চাইল্ড পর্ন’ শব্দটিও সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)

    এদিন এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ওই যুবকের বিরুদ্ধে ওঠা ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। শীর্ষ আদালত (Supreme Court) এও জানিয়েছে, শিশুদের নিয়ে যৌন ছবি তৈরি করা, দেখা এবং ডাউনলোড করা ছাড়াও তা প্রকাশ করা এবং শেয়ার করা সবই অপরাধ। এদিনের নির্দেশে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘চাইল্ড পর্ন’ শব্দটিও সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছে এবং এর বদলে ‘শিশু যৌন নির্যাতন এবং শোষণমূলক বিষয়’- শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আইন সংশোধন করতে বলেছে। এর পাশাপাশি দেশের সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্দেশ দিয়েছে যে, এখন থেকে যেন ‘শিশু পর্নোগ্রাফি’  শব্দটি কোনও মামলায় ব্যবহার না করা হয়।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Consensual Sex: সম্মতিতেই যৌন সম্পর্ক! পকসোতে অভিযুক্তকে জামিন দিল্লি হাইকোর্টের, অভিযোগ খারিজ কর্নাটকে

    Consensual Sex: সম্মতিতেই যৌন সম্পর্ক! পকসোতে অভিযুক্তকে জামিন দিল্লি হাইকোর্টের, অভিযোগ খারিজ কর্নাটকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুটি পৃথক মামলা, পৃথক হাইকোর্ট! সম্মতিক্রমে শারীরিক সম্পর্ককে (Consensual Sex) ধর্ষণ বলতে রাজি নয় দিল্লি ও কর্নাটক হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণে এমনই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। ‘পকসো আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের যৌনশোষন থেকে রক্ষা করা। আইনটি তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্বেচ্ছায় প্রেম বা শারীরিক সম্পর্ককে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করে না।’ একটি পকসো মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ দিল্লি হাইকোর্টের। বিচারপতি আরও উল্লেখ করেছেন, জেলে অপরাধীদের সঙ্গে রাখা একজন যুবকের ভাল হবে না, আরও খারাপের দিকে চলে যাবে সে। এই বলে অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছে আদালত।

    দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    অভিযোগ, ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী ২০ বছর বয়সি এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপর তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে শারীরিক সম্পর্ক হয়। ঘটনায় গর্ভবতী হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। তখন পরিবারের সদস্যরা ওই যুবকের বিরুদ্ধে কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ তোলে। সেই ঘটনায় ২০২১ সালে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর থেকে জেলে রয়েছে ওই যুবক। জামিনের জন্য দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানায় ওই যুবক। মামলাটি ওঠে বিচারপতি বিকাশ মহাজনের বেঞ্চে। আদালতের মতে, ১৭ বছর বয়সি ওই মেয়েটির সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।  বিচারপতি বিকাশ মহাজনের পর্যবেক্ষণ, ‘যখন তাদের শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তখন যুবতীর বয়স ছিল প্রায় সাড়ে ১৭ বছর। একটা প্রেমের সম্পর্ক বোঝার জন্য এই বয়স যথেষ্ট। এছাড়া অভিযুক্তের সঙ্গে সহমতেই সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। শারীরিক সম্পর্কের পথে তারা এগিয়েছিল নিজেদের ইচ্ছায়।’

    আরও পড়ুন: লক্ষ্য চিন! নেপাল-ভুটানের সঙ্গে রেলপথে জুড়তে চাইছে ভারত, জানালেন জয়শঙ্কর

    কর্নাটক হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    অন্যদিকে ৬ বছর ধরে সম্মতিক্রমেই শারীরিক সম্পর্ক। বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই মহিলাকে বিয়ে করেননি এক ব্যক্তি। এরপর ধর্ষণের অভিযোগ আনেন ওই মহিলা। তবে কর্নাটক হাইকোর্ট ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। প্রসঙ্গত সোশ্য়াল মিডিয়ার মাধ্য়মে তাদের মধ্য়ে পরিচয় হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে তাদের মধ্য়ে শারীরিক সম্পর্ক হয়। সেই ২০১৯ সাল থেকে তাদের মধ্য়ে সম্পর্ক। তবে কর্নাটক হাইকোর্ট জানিয়েছে, ৬ বছর ধরে যাদের মধ্য়ে শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে সেটাকে কখনওই ধর্ষণ বলে বলা যাবে না। আদালত জানিয়েছে ৫ বছর ধরে সম্মতিক্রমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হলে সেটা কোনওভাবেই তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে নয়। এরপর কর্নাটক হাইকোর্ট ধর্ষণের অভিযোগকে খারিজ করে দিয়েছে।  বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্ন জানিয়েছেন, প্রথম দিন থেকে তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এটা হয়েছিল। তবে পারস্পরিক সম্মতিতে যে যৌনক্রিয়া সেটাকে ধর্ষণ বলে উল্লেখ করা যাবে না।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     

  • Calcutta High Court: পকসো মামলায় নির্যাতিতার ছবি প্রকাশ, আইসি-আইওকে সাসপেন্ডের নির্দেশ হাইকোর্টের  

    Calcutta High Court: পকসো মামলায় নির্যাতিতার ছবি প্রকাশ, আইসি-আইওকে সাসপেন্ডের নির্দেশ হাইকোর্টের  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পকসো (POCSO) আইনের মামলার কেস ডায়েরিতে নির্যাতিতার ছবি দিয়ে নাম লিখে দেওয়ার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বুধবার ওই মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, নাবালিকার পরিচয় প্রকাশ করে অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছে বিধাননগর কমিশনারেটের অন্তর্গত বাগুইআটি থানা।

    সাসপেন্ডের নির্দেশ

    এই মামলায় থানার আইসি ও তদন্তকারী অফিসারকে (IO) সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য বিধাননগরের কমিশনারকে নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে চার সপ্তাহ পরে। সেদিন বিধাননগর কমিশনারেটকে আদালতে জানাতে হবে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। এদিন আদালতের ভর্ৎসনার মুখেও পড়ে পুলিশ। বেঞ্চের (Calcutta High Court) প্রশ্ন, “যিনি নাবালিকাকে পাচারকারীদের হাত থেকে বাঁচালেন, তাঁকেই অভিযুক্ত করে গ্রেফতার করার কারণ কী? তার মানে কি ওই যুবক পাচার চক্র ভাঙতে চাইছিলেন না? পাচার চক্র যাতে চলতে পারে, পুলিশ কি সেই রাস্তা করে দিচ্ছে? কেন পুলিশ নাবালিকার গোপন জবানবন্দি দেখল না? না কি দেখেও দেখল না! সেখানে স্পষ্ট লেখা, ওই যুবক তাকে উদ্ধারে সাহায্য করেছেন।”

    বিচারপতির প্রশ্ন 

    কেস ডায়েরিতে কীভাবে পাচার হওয়া নাবালিকার ছবি সহ পরিচয় প্রকাশ করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। এর পরেই বাগুইআটি থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ শান্তনু সরকার ও তদন্তকারী অফিসার বিশ্বজিৎ দাসকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয় আদালত। প্রসঙ্গত, ৩ মার্চ বন্ধুর বাড়ি যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই নাবালিকা। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই নাবালিকার মা। পরে তিলজলা এলাকা থেকে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

    আরও পড়ুুন: মালদার ২ মহিলাকে নির্যাতন! রিপোর্ট তলব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

    পুলিশকে সাহায্য করে ওই নাবালিকার প্রেমিক অনল সর্দার। পরে তাঁকেই অভিযুক্ত ঠাউরে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মামলায় আদালতের (Calcutta High Court) ভর্ৎসনার মুখে পড়ে পুলিশ। অনিলকে জামিনও দিয়েছে আদালত। এদিন থানার আইসি এবং তদন্তকারী অফিসারকেও তলব করেছিল হাইকোর্ট।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     
     
  • Dumka Murder: আদালতের নির্দেশে দুমকায় মৃত অঙ্কিতার নমুনা গেল ফরেনসিকে

    Dumka Murder: আদালতের নির্দেশে দুমকায় মৃত অঙ্কিতার নমুনা গেল ফরেনসিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুমকায় (Dumka) উত্যক্তকারী (Stalker) যুবকের হাতে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে নাবালিকা ছাত্রী অঙ্কিতা সিংয়ের (Ankita Singh)। এবার ওই ঘটনায় রাঁচির (Ranchi) ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (Forensic Science Laboratory)  পাঠানোর জন্য মৃতের পুড়ে যাওয়া পোশাকের টুকরো (Burnt Clothes) কিংবা অন্য কোনও নমুনা পাঠানোর নির্দেশ দিল স্পেশাল পকসো (POCSO) আদালত। বুধবার বিশেষ এই আদালত অভিযুক্ত দুই যুবককে ৭২ ঘণ্টার জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের জন্য ধৃতদের জেরা করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। ঝাড়খণ্ড পুলিশ ইতিমধ্যেই এই মামলায় পকসো ধারা যুক্ত করেছে।

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় দুমকার অঙ্কিতা সিং নামে এক নাবালিকাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে শাহরুখ হুসেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বছর তেইশের শাহরুখ গভীর রাতে জানালা দিয়ে পেট্রোল ছুড়ে দেয় ওই কিশোরীর গায়ে। পরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ২৮ অগাস্ট মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। ওই ঘটনায় পুলিশ শাহরুখের পাশাপাশি গ্রেফতার করে নইম খান ওরফে ছোট্টু নামেও একজনকে। জানা গিয়েছে, পুলিশ প্রথমে ওই কিশোরীর বয়স ১৯ বলে রেকর্ড করে। পরে অবশ্য ভ্রম সংশোধন করে করা হয় ১৫। ঝাড়খণ্ড শিশু কল্যাণ কমিটি এফআইআরে অতিরিক্ত ধারা যোগ করে মামলা দায়ের করতে বলেছিল। তারা এও জানিয়েছিল, অঙ্কিতার মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী সে নাবালিকা, যদিও পুলিশের দাবি অঙ্কিতা নাবালিকা নয়, প্রাপ্তবয়স্ক। ঘটনার জেরে সরব হয়েছে হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠন। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরবও হয় তারা।

    আরও পড়ুন : ‘‘ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করো, নইলে…!’’ হুমকি দিয়েছিল উত্যক্তকারী, দাবি নিহত কিশোরীর বাবার

    অঙ্কিতাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছে বিশ্বহিন্দু পরিষদও। পরিষদের তরফে অভিযুক্তের ফাঁসির সাজার দাবিও জানানো হয়েছে। ঘটনাটিকে লাভ জিহাদ আখ্যা দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

  • Delhi HC on Muslim Minor Girl Marriage: বয়ঃসন্ধি প্রাপ্ত মুসলিম নাবালিকা করতে পারে বিয়ে! জানুন কী বলল দিল্লি হাইকোর্ট

    Delhi HC on Muslim Minor Girl Marriage: বয়ঃসন্ধি প্রাপ্ত মুসলিম নাবালিকা করতে পারে বিয়ে! জানুন কী বলল দিল্লি হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুসলিম আইন (Sharia Law) অনুযায়ী বয়ঃসন্ধি প্রাপ্ত নাবালিকার বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়াই স্বামীর সঙ্গে বসবাস করার অধিকার রয়েছে। এমনকি যদি ওই নাবালিকার বয়স ১৮ বছরের কম হয়, তাও একই নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে। এমনই অভিমত, দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi Highcourt)। পরিবারের কাছ থেকে সুরক্ষা চেয়ে সম্প্রতি এক কিশোরী আদালতে আবেদন দাখিল করে। ওই পিটিশনে সে জানায়, মুসলিম আইন অনুসারে সে বিয়ে করেছিল। সেই বিয়েতে বাবা-মায়ের সম্মতি ছিল না। তাদের বাবা-মা এখন তাদের একসঙ্গে থাকতে দিতে চাইছেন না। ওই দম্পতি আদালতের কাছে আবেদন করেছে, তাদের যেন কেউ আলাদা না করে। 

    বিষয়টি বিবেচনা করে বিচারপতি জসমিত সিংয়ের বেঞ্চ কিশোরীর আবেদন স্বীকার করে নেয়। ওই দম্পতি ২০২২ এর মার্চ মাসে মুসলিম রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেছিল। তারা আদালতে আবেদন করেছিল, কেউ যাতে তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ না ঘটায়। মেয়েটির অভিযোগ অনুযায়ী, তার বাবা-মা তাদের বিয়ের বিরোধিতা করেন। এমনকি তার স্বামীর বিরুদ্ধে আইপিসির ৩৬৩ ধারার অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তার স্বামীর ওপর ধর্ষণের দোষ এবং পকসো ধারা যুক্ত করা হয়। 

    আরও পড়ুন: নিয়ম-রীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিহারের মন্দিরে অহিন্দু মন্ত্রী! ক্ষুব্ধ বিজেপি, কী বলছে মন্দির কর্তৃপক্ষ

    ওই কিশোরীর অভিযোগ, তার বাবা-মা তাকে নিয়মিত মারধর করতেন। যার কারণে সে নিজের ইচ্ছায় পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিল। মেয়েটির বয়স এখন ১৫ বছর। সব দিক বিবেচনা করে আদালত জানায়, যদি আবেদনকারী নিজের ইচ্ছেতে বিয়ে করে এবং খুশি হয় তাহলে রাষ্ট্র তার ব্যক্তিগত জায়গায় প্রবেশ করে দম্পতিকে আলাদা করার কেউ নয়। আদালতে রায় অনুযায়ী, মেয়েটির পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে তার স্বামীর সঙ্গে বসবাস করার। বাবা-মায়ের অভিযোগের যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে আদালত জানিয়ে দেয় যে, যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের রক্ষা করার জন্য পকসো আইন প্রয়োগ করা হয়। এই আইনের উদ্দেশ্য হল, শিশুদের শোষণের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত করা। কিন্তু এক্ষেত্রে তা কার্যকর হয় না।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share