মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই প্রথম কোন ধর্মীয় স্থানের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। বদলের বাংলায় কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Temple) সুরক্ষায় বেনজির পদক্ষেপ। কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত লালবাজারের (Lalbazar)। বৃহস্পতিবার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দ। শুধু মন্দির চত্বর এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি
কথায় বলে , ‘কালী কলকাত্তাওয়ালি’। আর কলকাতাকে মা কালীর শহর করে তুলেছে কালীঘাট মন্দির। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম কালীঘাট। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে কালীঘাট মন্দিরের অসামান্য মাহাত্ম্য রয়েছে। এই মন্দিরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বাইরে থেকে কলকাতায় এলে একবার অন্তত কালীঘাট মন্দির দর্শন প্রায় সবাই করেন। পীঠ মাহাত্ম্য অনুসারে কালীক্ষেত্র কলকাতার বারাণসীর সমতুল। ভক্তদের বিশ্বাস কলকাতার অভিভাবক রূপে কালীঘাটে বিরাজ করছেন মা কালী। সোম থেকে রবি, প্রতিদিনই এই মন্দিরে থাকে উপচে পড়া ভিড়। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অতীতে কালীঘাট মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নিরাপত্তাগত ঝুঁকি দেখা গিয়েছে। সেকারণেই ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত। পুলিশকর্মীরা মন্দিরের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছ্যন্দের দিকটাও দেখবেন।
জঙ্গিদের নিশানায় কালীঘাট মন্দির!
কলকাতা পুলিশের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং মন্দিরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা মাথায় রেখে পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মন্দির চত্বরে নাশকতা এবং জঙ্গি হামলার আশঙ্কার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক বিদেশি জঙ্গির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত কোনও জঙ্গি মডিউল কি তাহলে বাংলার ধর্মস্থানগুলিকে টার্গেট করছে? কলকাতা পুলিশের পদক্ষেপে সেই প্রশ্নও জোরাল হচ্ছে।
কতজন পুলিশকর্মী থাকবেন ফাঁড়িতে
কলকাতা পুলিশের তরফে প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছে, একজন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে ২০ জন পুলিশকর্মী থাকবেন কালীঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে। তার মধ্যে দু’জন সাব ইনস্পেক্টর (এসআই) বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার। তা ছাড়াও আট জন কনস্টেবল এবং পাঁচ জন মহিলা কনস্টেবল থাকবেন। কালীঘাট থানার আওতায় থাকবে কালীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসিপি) পুলিশ ফাঁড়ির প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) বা ডিসি সাউথ সমস্ত দিকটা দেখভাল করবেন।
