Tag: Political Controversy

  • President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    President Murmu: “সময় নেই”, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান রাষ্ট্রপতির দফতরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সময় নেই”। ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলের (TMC) এক প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Murmu) দফতর। এর আগে তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখে দলের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। প্রতিনিধি দলটি পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তবায়িত বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে চেয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে সময়ের অভাবের কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। প্রথমবার অনুরোধের পর দলটি নাকি পরের সপ্তাহে আর একটি সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই প্রস্তাবটিও নাকচ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃতীয়বার আবেদন করেছে তৃণমূল।

    রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ প্রকাশ (President Murmu)

    এই ঘটনা ঘটেছে রাষ্ট্রপতি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত আদিবাসী কল্যাণ সম্মেলনে মতবিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, প্রশাসন যে জায়গাটি অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন করেছে, তা আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসস্থানের থেকে অনেক দূরে। তাই সবাই আসতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি খুব দুঃখিত যে এখানে অনেক মানুষ সম্মেলনে পৌঁছতে পারেননি।  কারণ অনুষ্ঠানটি এত দূরে আয়োজন করা হয়েছিল।” রাষ্ট্রপতির (President Murmu) ইঙ্গিত, “প্রশাসন হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করেছে, যাতে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত হয়।”

    ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতি এও জানান, তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি যখন কোনও জায়গায় যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদেরও সেখানে থাকা উচিত।” নিজেকে ‘বাংলার মেয়ে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ‘ছোট বোন’ বলে সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি কি ইচ্ছাকৃত ছিল?” বাংলা সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘অসম্মান’ নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরব হন। এক্স হ্যান্ডেলে  প্রধানমন্ত্রী একটি পোস্টে শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির মন্তব্য দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে। তৃণমূল (TMC) সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির (President Murmu) পদকে যথাযথ সম্মান না দেখানোর অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

    মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির এহেন (TMC) মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই জাতীয় মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন মন্তব্য না করেন। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সমস্যা তুলে ধরলেও, অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিষয়গুলি উপেক্ষা করেছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় আদিবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এই বিতর্কে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।  বিধানসভার বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। নবম  আন্তর্জাতিক সাঁওতালি সম্মেলনের ভেন্যু বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে  লিখেছেন, “সংবিধানিক মর্যাদা ও আদিবাসী সম্মানের প্রতি দৃষ্টান্তহীন আক্রমণ। স্পষ্টতই তৃণমূল সরকারের  শাসনের পতনের চিহ্ন।” বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি কী বলছেন সেটা আমরা সবাই দেখেছি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন দুটোকে পাশাপাশি রাখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কে দায়ী। বুঝতে পারবেন কে সংবিধানের এক্তিয়ারের মধ্যে বলেছে, আর কে সংবিধানের বাইরে গিয়ে বলেছে। ভারতবর্ষের মতো রাষ্ট্র বলে হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে যাচ্ছেন। অন্য দেশ হলে এতক্ষণে জেলের ভিতরে থাকতেন।” মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু তৃণমূলকে নিশানা করলেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি কত নম্রভাবে বলেছেন, মমতা আমার বোনের মতো। আর মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতি করছেন।” রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানো হল না বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মু যখন রাষ্ট্রপতি হন, তখন সবাই কত খুশি হয়েছিলেন। এ রাজ্যের আদিবাসীরাও আনন্দিত হন। আজ সবকিছু ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হল।”

  • BJP Fact Checks: তৃণমূলকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে কটাক্ষ, মুখের মতো জবাব দিল বিজেপি

    BJP Fact Checks: তৃণমূলকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে কটাক্ষ, মুখের মতো জবাব দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের একটি দাবিকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে উল্লেখ করে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখা সেটির সত্যতা যাচাই করে পাল্টা জবাব দেয়।

    তৃণমূলের দাবি (BJP Fact Checks)

    রাষ্ট্রপতির সফরের সময় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তৃণমূল একটি ভিডিও-সহ পোস্টে দাবি করে, “প্রধানমন্ত্রী বারবার রাষ্ট্রপতির পদকে সম্মান করার বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু এই ছবিটি ভালো করে দেখুন। দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, আর প্রধানমন্ত্রী আরামে চেয়ারে বসে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মানের সব দাবি তখনই ফাঁপা মনে হয়, যখন এমন দৃশ্য তাঁর পদকে অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।” ভিডিওতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটা আপনার জন্য। আপনি কি রাষ্ট্রপতিকে—যিনি একজন নারী এবং একজন আদিবাসী নেতা—সম্মান করেন? তাহলে রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আর আপনি বসে আছেন কেন? আমি আপনাদের সবাইকে দেখালাম, আমরা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করি, কিন্তু তারা করে না। এই ছবিই প্রমাণ করে কে সম্মান করে, আর কে করে না।”

    বিজেপির জবাব

    এর জবাবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “টিএমসির ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি আবার সক্রিয়। টিএমসির তৈরি করা ক্ষোভের আসল সত্য হল, ভারতরত্ন প্রদান অনুষ্ঠানের সময় সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী, পুরস্কার প্রদান চলাকালীন উপস্থিত অন্যরা বসে থাকেন। এখানে শিষ্টাচার ভঙ্গের কোনও ঘটনা ঘটেনি।” তারা আরও বলে, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতরত্ন এলকে আডবাণীকে ঘিরে একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে তুচ্ছ রাজনৈতিক লাভের জন্য বিকৃত করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা রক্ষা করুন এবং ভুয়ো তথ্য ছড়াবেন না।” এ কথা বলার সময় বিজেপি প্রায় দু’বছরের পুরানো একটি ভিডিও-ও শেয়ার করে। ঘটনাটি ঘটে ৩১ মার্চ ২০২৪-এ, যখন রাষ্ট্রপতি মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী মোদি এলকে আডবাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করেন।

    রাষ্ট্রপতির উষ্মা

    শনিবার রাষ্ট্রপতি দার্জিলিংয়ে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলে শুরু হয় বিতর্ক। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বলেন, “সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত উপস্থিত থেকে স্বাগত জানানো, এবং অন্য মন্ত্রীরাও থাকেন। কিন্তু তিনি আসেননি। রাজ্যপাল বদল হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। তবে তারিখ নির্ধারিত থাকায় আমি এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “মমতা আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। তিনি কেন অসন্তুষ্ট, তা আমি জানি না।” অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এও বলেন, “আমি জানি না কেন রাজ্য প্রশাসন সেখানে সভা করার অনুমতি দেয়নি। আজকের অনুষ্ঠান এমন জায়গায় হচ্ছে যেখানে মানুষের আসা কঠিন। হয়তো রাজ্য সরকার আদিবাসীদের কল্যাণ চায় না!”

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “যাঁরা গণতন্ত্র ও আদিবাসী সমাজের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন, তাঁরা সবাই হতাশ। নিজে আদিবাসী সমাজ থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশ করা বেদনা ও ক্ষোভ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সৃষ্টি করেছে।” ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাষ্ট্রপতির সফরে কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন হয়নি। বিজেপি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অনুষ্ঠানস্থলের দুর্বল প্রস্তুতি সম্পর্কে রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল রাষ্ট্রপতির দফতরকে।

     

  • X Twitter Location Feature: কংগ্রেসের বহু অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে পাকিস্তান সহ বিদেশ থেকে! দেখাচ্ছে এক্স-এর লোকেশন ফিচার

    X Twitter Location Feature: কংগ্রেসের বহু অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে পাকিস্তান সহ বিদেশ থেকে! দেখাচ্ছে এক্স-এর লোকেশন ফিচার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইলন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্টের (X Twitter Location Feature) অবস্থান প্রকাশ করার নতুন ফিচার চালু হওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ভারতজুড়ে। এর ফলে দেখা গিয়েছে যে অনেক রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অ্যাকাউন্ট, বিশেষত মোদি-বিরোধী ও কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে (Political Controversy)। বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপি দাবি করেছে যে, বিপুল সংখ্যক কংগ্রেসপন্থী এবং হিন্দু-বিরোধী এক্স অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে। উদাহরণস্বরূপ, কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরার অ্যাকাউন্টে উল্লেখ রয়েছে সেটি আমেরিকা-ভিত্তিক। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে দেখা যাচ্ছে এটি আয়ারল্যান্ড-ভিত্তিক। সরকারবিরোধী বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টকেও ভারতের বাইরের বলে দেখানো হচ্ছে, যার বেশিরভাগেরই লোকেশন হিসেবে দেখানো হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অংশ।

    কংগ্রেসকে বিঁধছে বিজেপি (X Twitter Location Feature)

    এই বিষয়টিই কংগ্রেসকে বেঁধার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে বিজেপির। আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর দাবি (X Twitter Location Feature), এই ধরনের কাজ-কারবার একটি বিশ্বব্যাপী যৌথ অপারেশন, যার উদ্দেশ্যই হল ভারতের সামাজিক আলোচনাকে প্রভাবিত করা এবং ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। এক্সে তিনি লিখেছেন, “অনেক প্রো-কংগ্রেস, অ্যান্টি-হিন্দু এবং বিভাজনমূলক জাতিভিত্তিক হ্যান্ডেল আসলে ভারত থেকে পরিচালিতই হচ্ছে না। অনেকগুলি পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে চালানো হচ্ছে। পরিচয় গোপন রাখার জন্য প্রায় সবাই বহুবার তাদের ইউজারনেম বদলেছে।” তিনি বলেন, “এটি কী দেখায়? ভারতের সামাজিক পরিসরকে প্রভাবিত করা, ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও গভীর করার জন্য একটি সর্বাত্মক বৈশ্বিক পরিকল্পনা। ভারতের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র এখন উন্মোচিত হয়েছে (Political Controversy)।”

    “অ্যাবাউট দিস অ্যাকাউন্ট”

    নয়া এই ফিচারটি স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য এক্সের প্রচেষ্টার অংশ। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই প্ল্যাটফর্মটিকে ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তির উৎস হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এখন, “অ্যাবাউট দিস অ্যাকাউন্ট” বিভাগে একটি সাধারণ ক্লিকের মাধ্যমেই যে কেউ দেখতে পারবেন, কোন দেশে অ্যাকাউন্টটি অবস্থিত, কতবার ব্যবহারকারীর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, এবং কোন জায়গা থেকে এক্স অ্যাপটি ডাউনলোড করা হয়েছে। বিজেপি নেতারা জানান, বেশ কিছু উদাহরণ সরকারের এই দাবিকে সমর্থন করে যে বহু এক্স হ্যান্ডেল, যেগুলি আগে সিএএর বিরুদ্ধে আন্দোলন বা এখন প্রত্যাহার করা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে উসকে দিয়েছিল, সেগুলি বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছিল (X Twitter Location Feature)।

    বিজেপি নেত্রীর বক্তব্য

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী বলেন, “একই ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিরোধী আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং ২০২০ সালে দিল্লি দাঙ্গার সময়, যেখানে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানো, আন্দোলনে উস্কানি দেওয়া এবং বিকৃত ভিডিও ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল।” ট্যুইট-বার্তায় তিনি বলেন, “এখন পরিস্থিতির পচন এত গভীরে গিয়েছে যে কংগ্রেসের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলগুলিও বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। যখন দল-অনুমোদিত অ্যাকাউন্টগুলিতেই বিদেশি লগইনের চিহ্ন দেখা যায়, তখন এটি আরও বড় প্রশ্ন তোলে। কংগ্রেসের ডিজিটাল বার্তাগুলি ঠিক কে তৈরি করছে (Political Controversy)?”

    ‘দিয়া শর্মা’-‘যশিতা নাগপাল’ – এরা কারা

    সম্প্রতি আরও একটি বিস্ময়কর ঘটনা সামনে এসেছে। এগুলি হল জনৈক ‘দিয়া শর্মা’ এবং ‘যশিতা নাগপাল’ নামের দুটি অ্যাকাউন্ট। এগুলি পাকিস্তান-ভিত্তিক বলে খবর। এই দুটি অ্যাকাউন্টেই বিজেপি এবং সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট ছিল। মঙ্গলবার দেখা যায় ‘দিয়া শর্মা’র অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করা হয়েছে। ‘যশিতা নাগপাল’, যে নিজেকে রাজনৈতিক সাংবাদিক বলে দাবি করে, একটি পোস্টে জানায়, তাকে শুধু কংগ্রেসই নয়, অন্যান্য দলও নিয়োগ করেছিল (X Twitter Location Feature)। পোস্টে বলা হয়, “আমাকে শুধু কংগ্রেস নয়, ভারতের অন্য রাজনৈতিক দলও কয়েক মাস আগে তাদের প্রচারের কাজে লাগিয়েছিল। ভাগ্যিস, আমি যেসব অ্যাকাউন্ট বর্তমানে ব্যবহার করছি তাদের লোকেশন ঠিক সময়ে পাল্টে দিয়েছিলাম।”

    বিজেপির বক্তব্য

    অন্য একটি পোস্টে মালব্য বলেন, “এটি নতুন যুগের কংগ্রেস সমর্থকদের কাজ, যারা এখন জানা যাচ্ছে যে তারা মূলত পাকিস্তান বা বাংলাদেশি উৎসের।” তিনি বলেন, “এই হ্যান্ডেলগুলি হয় আইএসআই-যুক্ত সংগঠন, যারা ভারত-বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে, অথবা সীমান্তের ওপার থেকে আসা ব্যক্তিরা, যারা কংগ্রেস সমর্থনের ছদ্মবেশে নিয়মিতভাবে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ছড়ায়।” তিনি বলেন, “এই সমর্থন আসলে ভারতীয় নয়—এটি বট নেটওয়ার্ক, এজেন্সি এবং সীমান্ত-পারের কার্যক্রমের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এটি প্রকৃত ভোটারদের প্রতিফলিত করে না (Political Controversy)।” কেবল ভারত নয়, আমেরিকায়ও ঝড় তুলেছে এই ইস্যু। এই জাতীয় আরও বহু অ্যাকাউন্ট আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলেও খবর (X Twitter Location Feature)।

LinkedIn
Share