Tag: Political Crisis

  • Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Crisis) বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার শাসক এবং শাসিত দুই দলের এই দুই প্রতিনিধির এই বৈঠক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার এই বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সুদীপ। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

    তৃণমূলে ফের ‘রামধাক্কা’ (Trinamool Crisis)

    সুদীপের এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলে লাগে আরও এক ‘রামধাক্কা’। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া দল ছাড়েন। বছর চুয়াত্তরের মানস জানান, বর্তমানে দলে যে সঙ্কট চলছে, তাতে তিনি অসন্তুষ্ট। তাই দল ছেড়েছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে বাঁক নেবেন তিনি, তা স্পষ্ট করেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। এদিকে, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে তাঁরা পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি এবং আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানাবেন বলে খবর।

    বিদ্রোহ চারিদিকে

    বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন তাঁদের পাশে রয়েছেন। সুদীপ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ২০। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তাঁরা সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সুদীপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলেও, তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। কুণালের দাবি, ক্ষমতা ও পদলাভের লোভ থেকেই সুদীপ দলীয় নেতাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। তাই বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    কুণালের নিশানায়

    তিনি আরও (Trinamool Crisis) দাবি করেন, সম্প্রতি মমতার বাসভবনে সিআইডি অভিযানের সময় সুদীপ তাঁকে ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্ত্রী নয়না সেখানে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুদীপ আসেননি। কুণাল বলেন, “দিদির বাড়িতে না গিয়ে সুদীপদা এখন বিজেপির দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন (Amit Shah)।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে “বিশ্বাসঘাতক” বলেও আক্রমণ করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, তিনি শুধু দলের নেতৃত্বকেই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা তাঁর হয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় জানান, কয়েকদিন আগেও সুদীপ দল ছাড়ছেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁকে। পরে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপকে বৈঠক করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলে জানান সৌগত।

    ডামাডোলের বাজারে সংগঠন সাজাচ্ছেন মমতা!  

    এদিকে, দলের এই ডামাডোলের বাজারের মধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সায়নী ঘোষের পরিবর্তে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (Trinamool Crisis)। মহিলা সংগঠনের নতুন সভানেত্রী হয়েছেন আলিফা আহমেদ। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সুদীপকে সরিয়ে সেখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণালকে। সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হয়েছেন মুসারফ হোসেন। এরই মধ্যে রাজ্য বিধানসভায়ও সামনে চলে এল তৃণমূলে বড় ভাঙনের ছবি। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির (Trinamool Crisis)।

    কোথাকার জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। বুধবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ও তাঁর স্ত্রী সারা। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বরণ করতে গোটা ইজরায়েল জুড়ে প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে মোদি ইজরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন। ইজরায়েলের আইনসভায় ভাষণ দেওয়া তিনিই হবেন প্রথম ভারতীয় নেতা। ইজরায়েলের সংসদ ভবন ত্রিবর্ণ পতাকার রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি মোদি ইয়াদ ভাশেমে—ইজরায়েলের হলোকস্ট স্মৃতিসৌধে—গিয়ে অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি জমানায় নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তিনি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন।

    মোদি জমানায় ভারত-ইজরায়েল নৈকট্য (PM Modi)

    ১৯৫০ সালে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় ভারত। যদিও তার পরেও কয়েক দশক ধরে সম্পর্ক ছিল সতর্ক ও সীমিত। মোদির আমলে সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে (Benjamin Netanyahu)। ২০১৭ সালে তাঁর সফর ছিল প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর, যা লো-প্রোফাইল সম্পর্ক থেকে প্রকাশ্য কৌশলগত অংশীদারিত্বে উত্তরণের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, উদ্ভাবন, কৃষি ও উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭ সালের সফর ছিল একটি মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত (PM Modi)।

    “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট”

    নেতানিয়াহু একাধিকবার মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” এবং ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট” বলে বর্ণনা করেছেন—যা ইজরায়েলে দলীয় বিভাজন পেরিয়ে সাড়া ফেলেছে। প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সফর আগামী দশকের জন্য ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। নেসেটে ভাষণ এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য আলোচনার ফল পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরেও ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে (Benjamin Netanyahu)।

    মোদির বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ইজরায়েলের বিরোধী দলও

    ইজরায়েলের বিরোধী শিবির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মেটানোর আহ্বান জানায় যাতে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেসেট ভাষণে উপস্থিত থাকতে পারে। আজকের মেরুকৃত বিশ্বে এটি একটি বিরল ঘটনা। বিরোধী দলনেতা নেতানিয়াহুকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেন, যেন মোদির সংসদীয় ভাষণে বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা যেন জাতীয় গুরুত্বের মুহূর্তকে ক্ষুণ্ণ না করে। চিঠিতে বলা হয়, “এমন এক ঐতিহাসিক ভাষণে নেসেট যেন বিরোধী দলের উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত না হয় (PM Modi)।”

    অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক মোদি

    এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, ইজরায়েলে মোদিকে কেবল দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় না, তাঁকে কৌশলগত ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিসর জুড়ে মোদি এমন এক নেতা হিসেবে সম্মান পান, যিনি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, সংকটের সময় ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, আবার একইসঙ্গে প্যালেস্তাইন ইস্যু ও গাজায় মানবিক উদ্বেগের ক্ষেত্রে ভারতের নীতিগত অবস্থানও বজায় রেখেছেন। এই ভারসাম্য তাঁকে একক কোনও ইজরায়েলি সরকারের গণ্ডির বাইরে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে (Benjamin Netanyahu)। নেতানিয়াহুর কাছে মোদি একটি অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক, বিরোধী শিবিরের কাছে তিনি সরকার-নিরপেক্ষ এক দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতীক। তাই মোদির নেসেট ভাষণের সময় বিরোধী নেতারাও উপস্থিত থাকতে চান। তাঁর ভাষণকে দলীয় রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে নয়, বরং ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের দিকনির্দেশক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share