Tag: Prabhas Mondal

  • Baruipur Police Encounter: পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বারুইপুর ধর্ষণ-খুনকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত প্রভাসের

    Baruipur Police Encounter: পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু বারুইপুর ধর্ষণ-খুনকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত প্রভাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। সেই সময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুরুতর জখম হয় সে। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    পুনর্নির্মাণের সময় কী ঘটেছিল?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে, প্রায় পৌনে ১টা নাগাদ তদন্তকারী দল প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে যায়। উদ্দেশ্য ছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে অপরাধের ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর প্রভাস এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাকে আটকাতে গেলে পুলিশের দিকে এক রাউন্ড গুলিও চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস আহত হয়। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    তদন্তে সহযোগিতা করছিল না অভিযুক্ত

    তদন্তকারী সূত্রের দাবি, গ্রেফতারের পর থেকেই প্রভাস জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতা করছিল। বিভিন্ন প্রশ্নের বিভ্রান্তিকর ও অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই কারণেই ঘটনার প্রকৃত ক্রম এবং অভিযুক্তের ভূমিকা স্পষ্ট করতে পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    কীভাবে প্রথম সন্দেহের তালিকায় আসে প্রভাস?

    গত রবিবার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই নাবালিকাকে প্রভাসের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তদন্তে এলাকার কিছু সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে আসে। যদিও ওই ফুটেজের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি মাধ্যম। পুলিশের দাবি, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রভাসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় প্রথম গ্রেফতার হয়েছিল প্রভাসকেই।

    আরও এক অভিযুক্ত গ্রেফতার, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে চার

    এদিকে, এই মামলায় আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে কবীরকে পাকড়াও করে। ঘটনার পর থেকেই কবীর পলাতক ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বারুইপুরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং ঘটনায় তার ভূমিকা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই গ্রেফতারের পর ধর্ষণ-খুন মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। এর আগে প্রভাস, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘জিরো টলারেন্স’; বিক্ষোভ-হিংসাতেও কড়া পদক্ষেপ

    মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসন ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার পর বিক্ষোভের নামে ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগেও তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং কাউকেই ছাড়া হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে বুধবার বারুইপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর।

LinkedIn
Share