Tag: President Donald Trump

  • JD Vance to President Trump: ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী হারের কারণ বললেন জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

    JD Vance to President Trump: ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী হারের কারণ বললেন জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কি ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের? ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Election) রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর ভ্যান্সের একটি দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তাঁর বক্তব্যে কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকেই নির্বাচনে দলের হারের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যা ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভ্যান্সের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

    ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন কেন

    গত বুধবার, ৪ নভেম্বর, নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভ্যান্স লেখেন, ২০২৪ সালে যাঁরা ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে দলের অন্দরে অনেক বিতর্ক ও মতবিরোধ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, নির্বাচনে হারের আসল কারণ প্রায় সকলের কাছেই স্পষ্ট। এক রাজনৈতিক সমীক্ষকের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ভ্যান্স জানান, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া বহু মানুষ এবার রিপাবলিকানদের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কেন তাঁরা আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফিরতে পারেন, তা জানতে চাওয়া হলে চারটি প্রধান বিষয় উঠে আসে।

    কেন আবার ভোট দেবেন রিপাবলিকানদের

    ভ্যান্সের পোস্ট অনুযায়ী, সেই চারটি দাবি হল—প্রথমত, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া। তৃতীয়ত, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং চতুর্থত, ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা। এর পরেই সরাসরি ভ্যান্সের মন্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হল যুদ্ধ। তাঁর এই বক্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে মার্কিন রাজনৈতিক মহল। ভ্যান্সের পোস্টে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি এবং দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে একাধিক পরোক্ষ সমালোচনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের জন্য এমন বড় নির্বাচনী ধাক্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইস প্রেসিডেন্টের এই ধরনের মন্তব্যকে যথেষ্ট নজিরবিহীন।

    ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত

    যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও বিরোধের কথা বলেননি ভ্যান্স। বরং নিজের পোস্ট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ভ্যান্সের মনোভাব তিনি জানেন এবং তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট ভালো বলেই মনে হয়েছে। তবে এই পোস্টের মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সিএনএন-এর সাংবাদিক স্টিফেন কলিনসনের মতে, মঙ্গলবার থেকেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে বলে রাজনৈতিক মহলে মশকরা চলছিল। কিন্তু ভ্যান্সের এই মন্তব্য কার্যত সেই নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করে দিল।

  • US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections) আগে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এর জেরে একাধিক জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েকটি সমীক্ষায় তাঁর অনুমোদনের হার ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

    ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ ভোটার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ২৬ শতাংশ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশের মতে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিই বহুলাংশে দায়ী। কর্মসংস্থানের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম। ফলে মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম

    ফিনান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডেটার একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৪৫ শতাংশের ধারণা, ট্রাম্পের অবস্থান রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উত্তরদাতা। এপি-নরক-এর ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। প্রায় ৪৬ শতাংশের দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জ্বালানি ও খাবারের খরচ বহন করা নিয়েও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

    ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত। যুদ্ধের মেয়াদ, আর্থিক ব্যয় এবং তার কৌশলগত পরিণতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ এই সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকী, রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন পরিবারগুলির দৈনন্দিন ব্যয়ে। প্রথমদিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন চলতে পারে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই আশঙ্কা রয়েছে।

    শুল্কনীতি নিয়েও বাড়ছে বিরোধিতা

    ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ও আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও জনসমর্থন হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় প্রায় ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। জানুয়ারিতে এই মত পোষণকারীর হার ছিল ৫৮ শতাংশ। অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি উত্তরদাতা। প্রশাসনের দাবি, শুল্কনীতি মার্কিন শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, এই নীতির ফলে আমদানি করা পণ্য ও বিভিন্ন উপকরণের খরচ বাড়তে পারে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের উপরেই পড়বে।

    হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনেও ভাঙন

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হিস্পানিক বা লাতিনো বংশোদ্ভূত মার্কিন ভোটারদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ট্রাম্পের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ২৪ শতাংশ হিস্পানিক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২৬ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের ব্যবধান কমেছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র দুই শতাংশে। গত ডিসেম্বরে এই ব্যবধান ছিল আট শতাংশ। অন্যদিকে, ৫০ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

    কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ

    আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলের পরিবর্তনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী মূল্যায়নে ১৮টি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের লড়াই ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে সরে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৯ থেকে ১৯টি আসন বাড়াতে পারেন। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল কর্মসংস্থান, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং হিস্পানিক ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিপাবলিকানরা। ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং দলের নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখা।

     

  • US Iran Conflicts: রণাঙ্গন মধ্যপ্রাচ্য! ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ, কী ভাবছে আমেরিকা? কতটা প্রভাব বিশ্বে?

    US Iran Conflicts: রণাঙ্গন মধ্যপ্রাচ্য! ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ, কী ভাবছে আমেরিকা? কতটা প্রভাব বিশ্বে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের (US Iran Conflicts) একমাস পার। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে (Iran‑Israel War) গোটা মধ্যপ্রাচ্য রণাঙ্গন হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের জেরে বিশ্বের ‘তৈলধমনী’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ, আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব গড়িয়েছে বহু দূর। পরিবেশই বদলে গিয়েছে। আতঙ্কিত যুদ্ধ কবলিত দেশের মানুষজন। যেসব দেশের যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব নেই, তাঁরা আশঙ্কায়। গত ২৮ মার্চ আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ হামলায় তেহরানে প্রথম ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই-সহ শীর্ষ একাধিক নেতৃত্ব নিহত হন। এই হামলার আসল উদ্দেশ্য ছিল, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে একটি পশ্চিমপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই হামলার পরিকল্পনা চলছিল গত কয়েক মাস ধরেই। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আমেরিকা ও ইজরায়েল বুঝতে পারে যে, তারা এমন এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সহনশীল ও বিধ্বংসী।

    যুদ্ধের শুরু ও বিস্তার

    ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ যৌথভাবে তেহরান, মিনাবসহ একাধিক শহরে বিমান হামলা শুরু করে। হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই এবং সামরিক ও গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তবে এত বড় আঘাতের পরও তেহরান নতিস্বীকার করেনি। প্রতিশোধে ইরান ইজরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় দেশগুলো—কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডান—এর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। আবুধাবিতে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে দুজন নিহত হন, আর কুয়েতের শুওয়াইক বন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, বাঙ্কার-বাস্টার এবং আরও নানা ধরণের মারণাস্ত্রের অবিরাম আঘাতে জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও, ইরান স্বল্পমূল্যের অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে নাজেহাল করে চলেছে এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি

    সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১২টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪,৫০০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানেই মারা গিয়েছেন প্রায় ১,৯০০ জন। লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইরানের দুটি বড় ইস্পাত কারখানা ধ্বংস হয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ-কে ঘিরে ইজরায়েলের সঙ্গে লেবাননে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ১,১০০-র বেশি মানুষ নিহত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া। আমেরিকা-ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার মতে, ইরানে এ পর্যন্ত ৩,৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১,৪০০ জনই সাধারণ নাগরিক।

    মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যয়

    মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১০,০০০-র বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে এবং ইরানের ১৫০টিরও বেশি নৌযান ডুবিয়েছে। প্রাক্তন পেন্টাগন কর্মকর্তা ইলেইন ম্যাককাস্কার-এর মতে, যুদ্ধের প্রথম তিন সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির খরচ ১.৪ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে, আইআরজিসি এবং অন্যান্য সামরিক ইউনিটগুলো কোনও একক বা কেন্দ্রীয় কমান্ড ছাড়াই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। কূটনৈতিক আঙিনায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফই মূলত নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।

    অর্থনৈতিক চাপ ও তেলের বাজার

    ইরান তার কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। স্ট্রেইট অফ হরমুজ—যেখানে দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়—সেখানে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে তারা সরবরাহ ব্যাহত করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। বিশ্ব-বাজারে তেলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প শেষমেশ আলোচনার পথে ঝুঁকতে বাধ্য হন। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত (মোট ১০ দিন) ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা করেন তিনি। এক মাসের মধ্যে এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সামরিক, মানবিক ও অর্থনৈতিক—সব দিক থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

    যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শান্তি আলোচনা “ভালোই এগোচ্ছে।” তবে ইরান মার্কিন প্রস্তাবকে “একপাক্ষিক ও অন্যায্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে স্ট্রেইট অব হরমুজে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। এদিকে, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় কোনওরকম শিথিলতা আসবে না। যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরান এখনও অদম্য মনোবলে বলীয়ান। তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে একমাত্র তাদের শর্তেই। এই ঘোষণার সঙ্গে সাদুর্য রেখে তারা যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে গোপন বা ‘ব্যাক-চ্যানেল’ আলোচনাও শুরু করেছে। তবে এই আপাত শান্তির আড়ালেই লুকিয়ে আছে ইরানে মার্কিন স্থল অভিযানের এক ভয়াবহ আশঙ্কা। যার প্রস্তুতি হিসেবে হাজার হাজার মেরিন সেনা ও প্যারাট্রুপার ইতিমধ্যেই মধ্য এশিয়ার দিকে এগিয়ে আসছে।

    ভারতের কৌশলগত অবস্থানের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসতেই বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে ফের একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ভারতের নাম। সূত্রের খবর, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ রুখতে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, মোদি ও ট্রাম্পের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি তথা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইলন মাস্কও। ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বশান্তি ফেরাতে মোদি-ট্রাম্প-মাস্ক ত্রয়ীর এই ‘কানেকশন’ এক নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যাতে কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়ে মোদির পরামর্শ চেয়েছেন ট্রাম্প। ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও ইরানের সঙ্গে দিল্লির সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধের আগুন নেভাতে মরিয়া আমেরিকা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকটে ভারতের মধ্যস্থতা এখন বিশ্বের কাছে সবথেকে বড় ভরসা। প্রধানমন্ত্রী মোদি আগেই ‘টিম ইন্ডিয়া’র আদলে বিশ্বব্যাপী সমন্বিত প্রয়াসের কথা বলেছিলেন, এবার ট্রাম্পের সঙ্গে এই কথা সেই পথকেই আরও প্রশস্ত করল।

LinkedIn
Share