Tag: President Murmu

President Murmu

  • Rashtriya Ekta Divas: দেশবাসীকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শপথের পাঠ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন জানেন?

    Rashtriya Ekta Divas: দেশবাসীকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শপথের পাঠ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার মর্যাদার সঙ্গে দেশজুড়ে পালিত হল সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের (Sardar Patel) ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’ (Rashtriya Ekta Divas) হিসেবে পরিচিত। এদিন এই উপলক্ষে হয়েছে ‘রান ফর ইউনিটি’ও। যা দেশবাসীর মনে ফের একবার জাগিয়ে তুলল দেশপ্রেম, ঐক্য, অখণ্ড ভারত এবং আত্মনির্ভরতার সেই অদম্য চেতনাকে, যে স্বপ্ন একদিন দেখেছিলেন ভারতের লৌহমানব প্যাটেল। এদিন দিল্লিতে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গুজরাটের নানদিয়ায় ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’তেও হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। স্বাধীন ভারতের স্থপতি এই মহান ব্যক্তিত্বকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করল তামাম ভারত, যিনি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশীয় রাজ্যকে একসূত্রে গেঁথে দিয়েছিলেন।

    প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতির (Rashtriya Ekta Divas)

    দিল্লির প্যাটেল চকের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্দার প্যাটেলকে। প্যাটেলের প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে স্যাক্সেনা। তাঁরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এই ‘লৌহ মানবে’র কৃতিত্বের গাথা। তাঁদের মতে, ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে সার্বভৌম ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

    ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’

    এদিন কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি হয় ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’তে (Sardar Patel)। ১৮২ মিটার উঁচু প্যাটেলের এই মূর্তিটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মূর্তি হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে এই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিনের অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীকে দেন রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শপথের পাঠ। লৌহমানবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি অঙ্গীকার করছি যে, দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেকে নিবেদিত রাখব। আমি দেশবাসীর মধ্যেও এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দূরদৃষ্টি ও কঠোর পরিশ্রম যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করেছে, তার চেতনায় আমি এই শপথ গ্রহণ করছি। আমার দেশ যেন অভ্যন্তরীণভাবে নিরাপদ থাকে, সে জন্যও আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করব (Sardar Patel)।”

    একতা প্যারেড

    এদিনের অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল একতা প্যারেড। এটি পরিচালনা করেন মহিলা বাহিনীর সদস্যরা। এটি ভারতের শক্তি, অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় চরিত্রের প্রতীক (Rashtriya Ekta Divas)। প্যারেডটির নেতৃত্ব দেন গুজরাট ক্যাডারের আইপিএস কর্তা সিমরন ভরদ্বাজ। এটি প্যাটেলের আজীবন সমর্থিত শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও জনসেবার আদর্শকে প্রতিফলিত করে। এই ভারতীয় সিভিল সার্ভিসকে দেশকে শক্ত ভিত্তি দেওয়ার ‘ইস্পাত কাঠামো’ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন তিনি।

    ‘ঐক্যের প্রধান চালিকাশক্তি’

    প্যাটেলকে ‘ঐক্যের প্রধান চালিকাশক্তি’ বলে উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জয়ন্তীতে ভারত তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। ভারতকে (Sardar Patel) একীভূত করার পেছনে তিনি ছিলেন মূল চালিকাশক্তি, যিনি স্বাধীনতার পর দেশের ভাগ্যগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জাতীয় ঐক্য, সুশাসন এবং জনসেবার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার আজও প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। আমরা তাঁর স্বপ্ন—একতাবদ্ধ, শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর ভারতের—পক্ষে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পরের অস্থির বছরগুলিতে কীভাবে সর্দার প্যাটেলের সাহস ও প্রশাসনিক দূরদৃষ্টি ভারতকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে সময় বিভাজনের হুমকি আমাদের সদ্য স্বাধীন দেশের আত্মাকে নাড়িয়ে দিচ্ছিল, সেই সময় সর্দার প্যাটেলের দৃঢ়তা ও দেশপ্রেমই নিশ্চিত করেছিল যে ভারত এক ও অভিন্ন থাক (Rashtriya Ekta Divas)।”

    অমিত শাহের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তাঁর জন্মবার্ষিকীতে, জাতীয় ঐক্য, অখণ্ডতা এবং কৃষকদের ক্ষমতায়নের প্রতীক লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলজিকে কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “সর্দার সাহেব দেশীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তা মজবুত করেছিলেন এবং কৃষক, অনগ্রসর শ্রেণি ও বঞ্চিতদের সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেশকে স্বনিযুক্তি ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল—দেশের উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হল কৃষকের সমৃদ্ধি। সর্দার সাহেব যে দেশকে ন্যায় ও ঐক্যের নীতিতে বেঁধে গড়ে তুলেছিলেন, সেই দেশকে রক্ষা করা প্রতিটি দেশপ্রেমিকের দায়িত্ব (Rashtriya Ekta Divas)।”

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

    প্রসঙ্গত, ১৮৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর গুজরাটের নাডিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহচর প্যাটেল তাঁর কৌশলগত মেধা ও প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য “ভারতের লৌহমানব” অভিধায় ভূষিত হন (Sardar Patel)। স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে এক জাতিতে পরিণত করার দুরূহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা ও দৃঢ় সংকল্প ভারতকে একটি একক, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলেছে। তাঁর দূরদৃষ্টি আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি স্থাপন করে বই কি (Rashtriya Ekta Divas)!

  • President Murmu: তিনজন নয়া রাজ্যপাল-উপরাজ্যপাল নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি

    President Murmu: তিনজন নয়া রাজ্যপাল-উপরাজ্যপাল নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনজন নয়া রাজ্যপাল ও উপরাজ্যপাল নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu)। ১৪ জুলাই, সোমবার নিয়োগ করা হয় তাঁদের। এঁদের মধ্যে বাংলা থেকে রয়েছেন একজন। তিনি প্রাক্তন অধ্যাপক আসীম কুমার ঘোষ (Prof Ghosh)। তাঁকে দেওয়া হয়েছে হরিয়ানার রাজ্যপালের দায়িত্ব। গোয়ার রাজ্যপাল পদে নিয়োগ করা হয়েছে পুসাপতি অশোক গজপতি রাজুকে। আর লাদাখের উপরাজ্যপাল করা হয়েছে কবিন্দর গুপ্তকে। হরিয়ানার বর্তমান রাজ্যপাল বন্দারু দত্তাত্রেয়র জায়গায় যাচ্ছেন অসীম। ২০২১ সাল থেকে হরিয়ানার রাজ্যপাল রয়েছেন দত্তাত্রেয়। গোয়ার রাজ্যপাল রয়েছেন পিএস শ্রীধরন পিল্লাই। তাঁর জায়গায় বসানো হচ্ছে পুসাপতি অশোক গজপতি রাজুকে।

    অসীম কুমার ঘোষ (President Murmu)

    প্রাক্তন অধ্যাপক অসীম কুমার ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রবীণ বিজেপি নেতা। শিক্ষাবিদ হিসেবেও তিনি ভীষণ জনপ্রিয়। কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। পরে যোগ দেন রাজনীতিতে। নানা সময়ে তিনি অলঙ্কৃত করেছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক, রাজ্য সভাপতি ও সহ-সভাপতি এবং ত্রিপুরার পর্যবেক্ষকের পদ। সাম্প্রতিক কালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন তিনি। তবে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে প্রবীণ চিন্তক হিসেবে জায়গা পেতেন তিনি। এহেন এক শিক্ষাবিদকেই বসানো হল হরিয়ানার রাজ্যপাল পদে (President Murmu)।

    অশোক গজপতি রাজু

    পুসাপতি অশোক গজপতি রাজু টিডিপির একজন প্রবীণ নেতা। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম রাজ পরিবারের সদস্য। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী। অন্ধ্রপ্রদেশকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে টিডিপি এনডিএ সঙ্গ ছাড়লে পদত্যাগ করেন রাজু। তিনি বিজয়নগরম থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন সাতবার।

    কবিন্দর গুপ্ত

    প্রবীণ বিজেপি নেতা কবিন্দর গুপ্তকে দেওয়া হল লাদাখের উপরাজ্যপালের পদ। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে পরপর তিনবার জম্মুর মেয়র হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। প্রবীণ এই বিজেপি নেতা ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের শেষ উপমুখ্যমন্ত্রী। এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে (Prof Ghosh) জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। সেই লাদাখেরই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তাঁকে (President Murmu)।

  • PM Modi: ‘‘জালিয়ানওয়ালাবাগ জাতির ইতিহাসে কালো অধ্যায়’’, শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বললেন মোদি

    PM Modi: ‘‘জালিয়ানওয়ালাবাগ জাতির ইতিহাসে কালো অধ্যায়’’, শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ রবিবার ১৩ এপ্রিল। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ১০৬তম বার্ষিকী। শহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনাকে কালো অধ্যায় বলে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) পাশাপাশি শহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মুও।

    জাতির ইতিহাসে জালিয়ানওয়ালাবাগ একটি কালো অধ্যায়

    এক্স মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) লেখেন, ‘‘আমাদের জাতির ইতিহাসে এই ঘটনা একটি কালো অধ্যায়। জালিয়ানওয়ালাবাগের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আগামী প্রজন্ম সর্বদা শহিদদের স্মরণ করবে।’’ জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলেও উল্লেখ করেন মোদি (PM Modi)। তিনি লেখেন, ‘‘জাতির ইতিহাসে জালিয়ানওয়ালাবাগ একটি অন্ধকার অধ্যায় ছিল। এই ঘটনায় শহিদদের আত্মত্যাগ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে ওঠে।’’

    এদেশ শহিদদের প্রতি সদা কৃতজ্ঞ ও ঋণী থাকবে বললেন রাষ্ট্রপতি

    জালিয়ানওয়ালাবাগে জীবন উৎসর্গকারী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছেন, ‘‘তাঁদের (শহিদদের) আত্মত্যাগ আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও তীব্র করে তুলেছিল। এদেশে তাঁদের প্রতি সদা কৃতজ্ঞ ও ঋণী থাকবে।’’ রাষ্ট্রপতির মতে, ‘‘জালিয়ানওয়ালাবাগে (Jallianwala Bagh Massacre) ভারত মাতার জন্য যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীকে আমি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাকে (PM Modi) আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল।’’ রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত যে সেই অমর শহিদদের কাছ থেকে প্রেরণা নিয়ে, সমস্ত দেশবাসী তাঁদের তন-মন-ধন দিয়ে ভারতের অগ্রগতিতে অবদান রাখবে।’’

    ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সালে অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড

    প্রসঙ্গত, ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সালে অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে বৈশাখী মেলায় জড়ো হয়েছিলেন শত শত সাধারণ নাগরিক। যাদের মধ্যে ছিল শিশুও। ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে নিরস্ত্র মানুষদের এই সমাবেশে গুলি চালায় ব্রিটিশ বাহিনী। রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে দমন করতে এইভাবেই বর্বরোচিত হামলা করে ব্রিটিশ পুলিশ। সরকারি হিসেবে এই ঘটনায় ৩৭৯ জন নিহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়। বেসরকারি মতে, মৃতের সংখ্যা হাজার পার করেছিল।

  • Dadi Ratan Mohini: প্রয়াত ব্রহ্মা কুমারীর কর্ণধার দাদি রতন মোহিনী, শোক প্রকাশ রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর

    Dadi Ratan Mohini: প্রয়াত ব্রহ্মা কুমারীর কর্ণধার দাদি রতন মোহিনী, শোক প্রকাশ রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রহ্মা কুমারী সংস্থানের (Brahma Kumari) কর্ণধার দাদি রতন মোহিনী প্রয়াত হলেন। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক জগতের অন্যতম খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব ছিলেন দাদি রতন মোহিনী (Dadi Ratan Mohini)। সমাজ সংস্কার তথা সমাজ গঠনে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। গভীর আধ্যাত্মিকতা, সহানুভূতির সঙ্গে নেতৃত্ব দান করতেন রতন মোহিনী। তিনি দেশ-বিদেশে আধ্যাত্মিকতা তথা ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচারে অসংখ্য কাজ করেছেন বলে জানা যায়। ব্রহ্মা কুমারী সংস্থানের দাদি রতন মোহিনী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ১০১ বছর বয়সে। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্ত হল একটি যুগ। দেশ বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য ভক্ত তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। রতন মোহিনীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মু, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও আরএসএস প্রমুখ মোহন ভাগবত।

    শোক প্রকাশ রাষ্ট্রপতির

    দাদি রতন মোহিনীর (Dadi Ratan Mohini) প্রয়াণের খবর সামনে আসতেই এক্স মাধ্যমে শোক জ্ঞাপন করেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রতন মোহিনীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে নিজের পোস্টে রাষ্ট্রপতি লেখেন, ‘‘আমি গভীরভাবে দুঃখিত এই খবর জানতে পেরে যে দাদি রতন মোহিনী পরলোকগমন করেছেন। ব্রহ্মাকুমারী সংস্থানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁর অনবদ্য ভূমিকা ছিল। এই সংগঠন আমার ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক অবদান রেখেছে।’’ হিন্দিতে লেখা পোস্টে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, সমাজের সম্প্রীতি, শান্তি এবং জনগণের কল্যাণের জন্য দাদির ভূমিকা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    শোক জ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রীর (Brahma Kumari)

    অন্যদিকে, ব্রহ্মাকুমারী সংগঠনের (Brahma Kumari) কর্ণধারের প্রয়াণে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দাদি রতন মোহিনীকে তিনি নিজের শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছেন। দাদি রতন মোহিনীকে (Dadi Ratan Mohini) বিশ্বাস ও সরলতা ও নিঃস্বার্থপরতার প্রতীক হিসেবে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘‘তাঁর (দাদি রতন মোহিনী) ব্যক্তিত্বের ভিত্তি ছিল গভীর বিশ্বাস, সরলতা এবং সমাজসেবা। তিনি অসংখ্য মানুষের কাছে প্রেরণা ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের জন্যই ব্রহ্মা কুমারী আন্দোলন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা ও মানবিকতার পাঠ শেখায় এই সংগঠন।’’

    শোক প্রকাশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    শোক প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। নিজের পোস্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দাদি রতন মোহিনী তাঁর সমগ্র জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন জনগণকে দিশা দেখাতে এবং আধ্যাত্মিকতার উন্নতির সাধনে। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তদের কাছে আজও তিনি প্রেরণা হয়ে থাকবেন।’’ অমিত শাহ আরও লেখেন, ‘‘দাদি রতন মোহিনী আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে অন্তরের শক্তিকে জাগ্রত করার পাঠ শেখাতেন। তিনি আমাদের কাছে প্রেরণা। তাঁর প্রয়াণ অত্যন্ত যন্ত্রণার। আমি তাঁর ভক্তদেরকে এই দুঃখের মুহূর্তে সমবেদনা জানাই।’’

    শোক প্রকাশ করেন লোকসভার স্পিকার

    ব্রহ্মাকুমারী সংগঠনের কর্ণধারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। শোক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন যে আধ্যাত্মিকতার আলোকে দিকে দিকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন দাদি রতন মোহিনী। স্পিকারের মতে, ‘‘অগণিত মানুষ তাঁর (দাদি রতন মোহিনী) দেখানো পথেই চলছেন। দাদি রতন মোহিনী সত্য শান্তি এবং জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

    শোকবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    দাদি রতনমোহিনীর মৃত্যু মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সর সংঘচালক মোহন ভাগবত। নিজের সমাজ মাধ্যমের পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘দাদি রতন মোহিনীর মহাপ্রয়াণে প্রত্যেকেই খুব দুঃখিত। তিনি বৈকুণ্ঠ ধামে যাত্রা করেছেন। পরম পূজ্য রাজযোগিনী রতনমোহিনী দাদিজিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাই। তিনি ছিলেন ব্রহ্মা কুমারী সংস্থানের কর্ণধার। সমাজ গঠনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। হাজার হাজার মহিলাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন আধ্যাত্মিকতার। ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচার-প্রসার ও ভারতীয় মূল্যবোধের আজীবন প্রচার করে গিয়েছেন তিনি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর তাঁকে মোক্ষ দেবে এই আশা করি।’’

    দাদি রতন মোহিনীর জন্ম ১৯২৫ সালের ২৫ মার্চ

    প্রসঙ্গত, দাদি রতন মোহিনী জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৫ সালের ২৫ মার্চ। বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের হায়দরাবাদে। জানা যায়, দাদি রতন মোহিনী ব্রহ্মাকুমারী সংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হন মাত্র ১৩ বছর বয়সে। ৮৮ বছরের এই আধ্যাত্মিক যাত্রা শেষ হল তাঁর প্রয়াণে। এভাবেই তিনি মানুষের মঙ্গল এবং কল্যাণে কাজ করে গিয়েছেন সারাজীবন। আধ্যাত্মিকতার প্রচার ও ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর নির্দেশনাতেই এই সংগঠন চলত। সামাজিকভাবে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করত এই সংগঠন। সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি মহিলা সশক্তিকরণ, যুব সমাজের উন্নয়ন, নেশা মুক্ত সমাজগঠন, পরিবেশের সংরক্ষণ, এর সঙ্গে সঙ্গে যোগাভ্যাস- এই সমস্ত কিছুতেও তিনি অসংখ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এই উদ্যোগগুলির জন্য তিনি বারবার প্রশংসিত হয়েছেন জাতীয় স্তরের নানা অনুষ্ঠানে। মিলেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিও। ২০১৪ সালে গুলবার্গ ইউনিভার্সিটি নাকে ডক্টরেট উপাধিতে ভূষিত করে। রতন মোহিণীর প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যেমন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, গুজরাটের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাঁই। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া।

  • Nilamadhaba Temple: স্বপ্নাদেশ পেয়ে ভগবানকে খুঁজতে যান রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন! জানুন ওড়িশার নীলমাধব মন্দিরের মাহাত্ম্য

    Nilamadhaba Temple: স্বপ্নাদেশ পেয়ে ভগবানকে খুঁজতে যান রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন! জানুন ওড়িশার নীলমাধব মন্দিরের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার ওড়িশার কন্টিলোতে অবস্থিত নীলমাধব মন্দির (Nilamadhaba Temple) পরিদর্শন করেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্দির ওড়িশা তথা ভারতবর্ষের হিন্দু সমাজের কাছে এক উল্লেখযোগ্য তীর্থস্থান। সারা বছর ধরেই প্রচুর ভক্ত নিজেদের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য এই মন্দিরে আসেন। নীলমাধব মন্দিরেই প্রতিফলিত হয় হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য। প্রাচীন জনজাতি সমাজের রীতিনীতিও বোঝা যায় এই মন্দিরে পৌঁছালে। এই মন্দির যেন কথা বলে। হাজার হাজার বছর ধরে সমুদ্র, নদী, অরণ্য কীভাবে আমাদের মানব সমাজকে প্রতিমুহূর্তে লালন পালন করে আসছে, সেই কথাই ধ্বনিত হয় এই মন্দিরে। ওড়িশা রাজ্যের প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী তথা সে রাজ্যের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস হল, ভগবান জগন্নাথ এই প্রাচীনতম বৈষ্ণব উপাসনা তীর্থে সর্বদাই বাস করেন। তিনি এখানে থেকেই ভক্তদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করেন। ভগবান নীলমাধব হলেন ভগবান বিষ্ণুরই অন্যতম রূপ। পুরীতেই ইনি ভগবান জগন্নাথ হিসেবে পূজিত হচ্ছেন। ভক্তদের বিশ্বাস ও ওড়িশা রাজ্যের প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, পুরীতে জগন্নাথদেবের পুজোর আগে থেকেই ভগবান বিষ্ণুর রূপ হিসেবে নীলমাধবের পুজো করা হত। গবেষকরা জানাচ্ছেন, নীলমাধব শব্দটি এসেছে নীলা মাধব থেকে। বিষ্ণুসহস্র নামে উল্লেখ রয়েছে ভগবান বিষ্ণুর ২৪টি প্রধান নামের কথা। এই নামগুলির মধ্যে অন্যতম হল নীলমাধব। ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, নীলমাধবের পুজো ওড়িশায় প্রায় হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে হয়ে আসছে। এই প্রতিবেদনে জানব নীলমাধবের পুজো কীভাবে শুরু হল?

    নীলমাধবের পুজো চারটি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল

    ওড়িশা রাজ্যে (Odisha) নীলমাধবের পুজো (Nilamadhaba Temple) চারটি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এই নদীগুলি হল- মহানদী, ঋষিকুল্য, বৈতরণী এবং প্রাচী। যে স্থানে এই মন্দির অবস্থিত সেই কন্টিলো হল ওড়িশার নয়াগড় জেলায় অবস্থিত একটি জনপদ। এই স্থানের দূরত্ব পুরী থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে। ওড়িশা রাজ্যের লোককথা থেকে জানা যায়, ভগবান বিষ্ণু প্রথমে নীলমাধবের আকারে কাঠের মূর্তি হিসেবে কন্টিলোতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অর্থাৎ পুরীর মন্দিরের আগে থেকেই কন্টিলোতে চলে আসছে পুজো। প্রসঙ্গত, পুরীর জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। ভক্তদের বিশ্বাস- জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মূর্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

    ভগবান বিষ্ণু স্বপ্নে নির্দেশ দেন রাজাকে (Nilamadhaba Temple)

    কন্টিলোর নীলমাধব মন্দির এবং রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পৌরাণিক কাহিনীও বেশ জনপ্রিয় হয়ে রয়েছে। প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু ধর্মপ্রাণ রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে একদিন স্বপ্নে দেখা দেন। ভগবান বিষ্ণু এরপর ইন্দ্রদ্যুম্নকে জানান, ওড় দেশের (ওড়িশা) মহানদীর তীরে (Odisha) তিনি নীলমাধব রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। যেখানে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন সেখানে শবর জনগোষ্ঠীর প্রধান তাঁকে একটি বড় গাছের নিচে পুজো করছে। এই স্বপ্ন দেখার পরের দিনই ইন্দ্রদ্যুম্ন, তাঁর বিশ্বস্ত ব্রাহ্মণ পুরোহিত বিদ্যাপতিকে নীলমাধবের মূর্তি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, ওই মূর্তি নিয়ে আসতে হবে পুরুষোত্তম (পুরী) ক্ষেত্রে। সেখানেই একটি মন্দিরে তা স্থাপন করা হবে।

    বিদ্যাপতির শবর রাজ্যে গমন (Nilamadhaba Temple)

    রাজার নির্দেশে বিদ্যাপতি ব্রাহ্মণ বেরিয়ে পড়েন। পথে ঘুরতে ঘুরতে তিনি পৌঁছান সেই শবর রাজ্যে। যে রাজ্যের কথা ভগবান বিষ্ণুর দেওয়া স্বপ্ন থেকে জানতে পেরেছিলেন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। শবর রাজ্যে পৌঁছে সেখানকার জনজাতি গোষ্ঠীর প্রধান বিশ্ববসুর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। বিশ্ববসুর কাছে বিদ্যাপতি জনজাতি রাজ্যের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। এই সময় বিদ্যাপতি বিশ্ববসুর কন্যা ললিতার প্রেমে পড়েন এবং তাঁকে বিয়ে করেন। পরবর্তীকালে বিদ্যাপতি লক্ষ্য করেন যে বিশ্ববসু প্রায়ই একটি গোপন স্থানে নীলমাধবের পুজো করতে যাচ্ছেন। স্থানটি কোথায় তা দেখা যায় না। কারণ অরণ্যের মধ্যে ঢুকেই অদৃশ্য হয়ে যেতেন বিশ্ববসু।

    বিদ্যাপতির নীলমাধব দর্শন

    এতে বিদ্যাপতির কৌতূহল বাড়তে থাকে। সেই মতো বিদ্যাপতি এ কথা জানান তাঁর স্ত্রী ললিতাকে । ললিতা সেই মতো তাঁর বাবা বিশ্ববসুকে রাজি করান যাতে তিনি বিদ্যাপতিকে নীলমাধবের দর্শনের জন্য নিয়ে যান। কিন্তু বনের গভীরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যাপতির চোখ বেঁধে দেন বিশ্ববসু। বিদ্যাপতি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি। তিনি হাতে করে সর্ষের বীজ লুকিয়ে রেখেছিলেন। চলার পথে সেই বীজগুলোকে ফেলতে ফেলতে যান। এরপর বিদ্যাপতিকে নীলমাধবের দর্শন করান বিশ্ববসু। পরবর্তীকালে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের কাছে ফিরে গিয়ে বিদ্যাপতি জানান যে, নীলমাধবকে তিনি জনজাতি রাজ্যে খুঁজে পেয়েছেন। পরবর্তীকালে নিজের দলবল নিয়ে বনের মধ্যে বেড়ে ওঠা সরিষা গাছের পথ অনুসরণ করেন রাজা। কিন্তু সে সময় নীলমাধবের দর্শন তিনি পাননি।

    ভগবান বিষ্ণু আবির্ভূত হন রাজার সামনে

    এরপরে ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে পড়েন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। শুরু করেন কঠোর তপস্যা। অন্ন-জল কোনও কিছু গ্রহণ করেননি। সারাক্ষণ ভগবান বিষ্ণুর দেখা পাওয়ার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে ধ্যান করতে লাগলেন। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু এরপর হতাশ করেননি তাঁর এই পরম ভক্তকে। প্রকট হন রাজার সামনে। তাঁকে জানান যে, পুরীর সমুদ্র সৈকতে তিনি কাঠের রূপে (দারু ব্রহ্মা) আবির্ভূত হবেন। একইসঙ্গে ভগবান বিষ্ণু রাজাকে পুরীতে বিশাল মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, ওই মন্দিরেই তিনি জগন্নাথদেব হিসেবে পূজিত হবেন। এর পরবর্তীকালে রাজা দারু ব্রহ্মা বা ঐশ্বরিক কাঠকে খুঁজে পান। পরবর্তীকালে সেগুলোকে তিনি প্রাসাদে নিয়ে আসেন। এরপরে ভগবান বিশ্বকর্মা এক ছুতোরের রূপ ধারণ করে মূর্তি খোদাই এর কাজ শুরু করেন। বিশ্বকর্মা রূপী ওই ছুতোরের শর্ত একটিই ছিল, বন্ধ দরজার পিছনে এই কাজ হবে এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে। যদি কাজ করার সময় তাঁকে কেউ বিরক্ত করে তাহলে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবেই মূর্তি তৈরির কাজ চলতে থাকল। সাতদিন পরে রাজা ও রানি মূর্তি দেখতে অস্থির হয়ে পড়েন এবং ওই ছুতোর যেখানে কাজ করছিলেন সেই দরজা খুলে দেন। সে সময় দেখা যায় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার তিনটি মূর্তি তৈরি করা হয়েছে বটে তবে তা অসম্পূর্ণ। আজও পুরীতে পূজিত হয় এই তিন মূর্তি। তবে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন জনজাতিদের প্রতি তাঁর কর্তব্য তখনও ভোলেননি। ললিতা যে গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাঁদেরকে দৈত্যপতি বলা হত। সেই ললিতার গোত্রকে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে বিশেষ সেবায়েত হিসেবে মর্যাদা দেন রাজা। এইভাবেই শবর জনগোষ্ঠী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরীতে। আজও পর্যন্ত ললিতার সেই বংশধর এবং দৈত্যপতিরা সেবা করে চলেছেন জগন্নাথদেবের।

  • Constitution Day: আজ সংবিধান দিবস, সংসদের যৌথ কক্ষের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

    Constitution Day: আজ সংবিধান দিবস, সংসদের যৌথ কক্ষের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গৃহীত হয়েছিল ভারতের সংবিধান। চলতি বছর সংবিধান দিবসের (Constitution Day) ৭৫তম বর্ষপূর্তি। এই দিনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu) সংসদের যৌথ কক্ষের অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। জানা গিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষাতেও সংবিধান প্রকাশ করবেন রাষ্ট্রপতি। এই অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবারই কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে https://constitution75.com ওয়েবসাইট, এর মাধ্যমে দেশের জনগণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আরও বেশি করে সংবিধানকে জানার জন্য। একইসঙ্গে, ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা বিভিন্ন স্কুল, শহর এবং গ্রামে পর্যন্ত যাতে প্রত্যেকে পড়তে পারেন সে বিষয়ে উদ্যোগও নিচ্ছে মোদি সরকার।

    ২০১৫ সাল থেকে পালিত হচ্ছে সংবিধান দিবস (Constitution Day)

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল পর্যন্ত ২৬ নভেম্বরকে পালন করা হত আইন দিবস হিসেবে। কিন্তু তারপরে এই নামকরণ পরিবর্তন করা হয় ২০১৫ সালে। সে বছর থেকে ২৬ নভেম্বরকে সংবিধান দিবস (Constitution Day) হিসেবে পালন করা শুরু হয়। ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর সংবিধান সভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান তৈরি করতে মোট সময় লেগেছিল ২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন। ১৯৪৯ সালে সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া গ্রহণ করা হয়। এর পর, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হয়। প্রসঙ্গত, দেশের সংবিধান নির্মাতা ছিলেন ভীমরাও বাবাসাহেব অম্বেডকর। বাবাসাহেব অম্বেডকর ছিলেন সংবিধানের খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান। ভারতের সংবিধানকে তৈরি করতে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল।

    অম্বেডকরের মূর্তি উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

    এদিন (Constitution Day) বাবাসাহেব অম্বেডকরের একটি মূর্তি দেশের সুপ্রিম কোর্টের সামনে উদ্বোধন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদীর মুর্মু। মূর্তিটি সাত ফুট লম্বা এবং তিন ফুট চওড়া। এছাড়া আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান দিবসের (Constitution Day) অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই বক্তব্য রাখবেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন মেঘওয়াল, শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, বিচারপতি বি আর গাভাই ও বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র সহ সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কপিল সিব্বল।

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • President Murmu: অলিম্পিক্সে পদকজয়ী সাইনার সঙ্গে ব্যাডমিন্টনে মাতলেন রাষ্ট্রপতি! ভাইরাল তাঁর নয়া অবতারের ভিডিও

    President Murmu: অলিম্পিক্সে পদকজয়ী সাইনার সঙ্গে ব্যাডমিন্টনে মাতলেন রাষ্ট্রপতি! ভাইরাল তাঁর নয়া অবতারের ভিডিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার এক অন্য অবতারে ধরা দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu)। শাড়ি ছেড়ে সালোয়ার কামিজ পরে, কোমরে ওড়না বেঁধে নেমে পড়লেন ব্যাডমিন্টন কোর্টে। তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি। গোটা দেশের অভিভাবকও তিনি। তবে ব্যাডমিন্টন হাতেও যে এভাবে চমক দেখাবেন কে জানত? বুধবার অলিম্পিক পদকজয়ী সাইনা নেহওয়ালের (Saina Nehwal) সঙ্গে ব্যাডমিন্টন কোর্টে মুখোমুখি হলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। 

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও 

    বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে। সেখানে দেখা যায়, হাতে ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট এবং পায়ে সাদা স্পোর্টস শ্যু পড়ে একেবারে ম্যাচের মুডে রাষ্ট্রপতি। অধিকাংশ সময়ই সম্বলপুরী শাড়িতে দেখা যায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে (President Murmu)। কিন্তু, বুধবার সন্ধ্যায় একেবারে অন্য মুডে ছিলেন তিনি। এদিন রাষ্ট্রপতি ভবনের ব্যাডমিন্টন কোর্টে একেবারে দক্ষ খেলোয়াড়ের মেজাজে নেমে পড়লেন দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu)। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ২০১২ অলিম্পিকের ব্রোঞ্জজয়ী সাইনার বিরুদ্ধে ৬৬ বছর বয়সি দ্রৌপদী জিতে নেন একটি পয়েন্টও। সেই দেখে হাততালিতে ফেটে পড়ে ব্যাডমিন্টন কোর্টের দর্শকাসন।

     
     
     
     
     
    View this post on Instagram
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     

    A post shared by President of India (@presidentofindia)

    এই ভিডিও পোস্ট করে রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়, খেলাধুলার প্রতি খুব স্বাভাবিক ঝোঁক রয়েছে রাষ্ট্রপতির (President Murmu)। তিনি মনে করেন নিয়মিত খেলাধূলা করলে শরীর ও মন তাজা থাকে। সম্প্রতি বিভিন্ন স্পোর্টসে মহিলাদের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যানে তিনি খুশি। আর সাইনার সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলতে পেরেও তিনি খুব খুশি। 

    আরও পড়ুন: ‘কোনও প্রশ্নপত্র হারায়নি, ফাঁসও হয়নি’, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় জানাল কেন্দ্র

    রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন সাইনা

    সাইনা নেহওয়াল, শুধু একজন তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় নন বরং পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্তও। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন সাইনা। জানা গিয়েছে, ‘হার স্টোরি-মাই স্টোরি’ নামের ওই অনুষ্ঠানে পদ্ম সম্মান পাওয়া মহিলাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, সেখানে সাইনা (Saina Nehwal) তাঁর জীবনের কাহিনি নিয়ে একটি বক্তব্য পেশ করবেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • President Murmu: পুরীর সমুদ্র সৈকতে প্রাতর্ভ্রমণে রাষ্ট্রপতি, প্রকৃতির মাঝে খুঁজে পেলেন শান্তি

    President Murmu: পুরীর সমুদ্র সৈকতে প্রাতর্ভ্রমণে রাষ্ট্রপতি, প্রকৃতির মাঝে খুঁজে পেলেন শান্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu), বর্তমানে রথযাত্রা এবং অন্যান্য কর্মসূচির জন্য ওড়িশায় (Odisha) চার দিনের সফরে রয়েছেন। রবিবার তিনি সফরের মাঝেই গিয়েছিলেন পুরীর সমুদ্র সৈকতে। সেই ছবি তিনি একাধিক পোস্টের মাধ্যমে ভাগ করে নিলেন দেশবাসীর সঙ্গে। নিজের ব্যস্ত সময় থেকে একটু সময় বের করে তিনি পুরীর গোল্ডেন বিচে গিয়েছিলেন।

    সমুদ্রের ধারে শান্তি পেলেন রাষ্ট্রপতি (President Murmu)

    “কিছু জায়গা রয়েছে যেগুলি আমাদের জীবনের খুব কাছাকাছি এবং আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা প্রকৃতির একটি অংশ। পাহাড়, নদী, জঙ্গল এবং সমুদ্র মনের মধ্যে এক অন্যরকম অনুভূতির সঞ্চার করে। আমি সমুদ্রের ধারে যখন হাঁটছিলাম তখন এ কথা বারংবার মনে আসছিল।” ছবিগুলি শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যম এক্সে হ্যান্ডেলে কথাগুলি লেখেন দ্রৌপদী মুর্মু। আসলে রাষ্ট্রপতি (President Murmu) সমুদ্রের পাড়ে শান্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। প্রভু জগন্নাথ দেবের দর্শন করে তাঁর একই অনুভূতি হয়েছিল বলে জানান।

    মানুষ প্রকৃতির অঙ্গ

    তিনি মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির যোগাযোগের কথা মনে করিয়ে দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, “আসলে দৈনন্দিন জীবনে আমরা ভুলে যাই, যে আমরা প্রকৃতির একটি অংশ। ভূপৃষ্ঠের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ মহাসাগর, এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রের স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। এতে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের দূষণের কারণে সাগরের বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই প্রকৃতির বুকে বসবাসকারী মানুষদের অনুসরণীয় ঐতিহ্য এ ক্ষেত্রে আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা সমুদ্রের বাতাস এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের ভাষা বুঝতে পারে। তাদের পূর্বপুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তাঁরা সমুদ্রকে দেবতা হিসাবে পূজা করে।”

    আরও পড়ুন: ভারতে কি শুরু হয়ে গেল হিন্দু ‘নিধন যজ্ঞ’?

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Murmu) আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি পরিবেশ সুরক্ষা এবং সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য আমাদের কাছে দুটি উপায় রয়েছে। প্রথমত, সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এই দিকে বড় পদক্ষেপ নিতে পারে এবং দ্বিতীয়ত, আমরা নাগরিক হিসাবে স্থানীয় পর্যায়েও ছোট পদক্ষেপ নিতে পারি। অবশ্যই, এই দুটি ধাপ একে অপরের পরিপূরক। আসুন আমরা অঙ্গীকার করি যে আমরা ব্যক্তি হিসেবে, স্থানীয় পর্যায়ে, নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য যা করতে পারি তা যেন করি। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এটি করতেই হবে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Mumbai hoarding collapse: ঝড়ে বিশালাকায় হোর্ডিং ভেঙে বিপত্তি মুম্বইয়ে, মৃত ১৪, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা শিন্ডের

    Mumbai hoarding collapse: ঝড়ে বিশালাকায় হোর্ডিং ভেঙে বিপত্তি মুম্বইয়ে, মৃত ১৪, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা শিন্ডের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ ঝড়ে বিধ্বস্ত মুম্বই। সাংঘাতিক ধুলো ঝড়ে বিলবোর্ড উপড়ে (Mumbai hoarding collapse) পড়ে মৃত্যু হয় অনেকের। মুম্বাইয়ের ঘাটকোপর এলাকার এই ঝড়ে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে৷ জখম অন্তত ৭০।  

    কী ঘটেছিল? (Mumbai hoarding collapse) 

    সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হঠাৎই আকাশ কালো করে তীব্র ঝড় ওঠে মুম্বইয়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় ধুলো ঝড়। সেই ঝড়ের ধাক্কায় ঘাটকোপর এলাকায় ছেদ্দানগর জংশনে একটি পেট্রল পাম্পে উপড়ে যায় প্রায় ১০০ ফুট উঁচু বিলবোর্ড। এর জেরে বেশি কিছু গাড়ি ওই পেট্রল পাম্পের মধ্যেই আটকে পড়ে। অনেকেই প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ছুটতে শুরু করে। ফলে ভেঙে পড়া সেই বিলবোর্ডের (Mumbai hoarding collapse) নীচে চাপা পড়েন অনেকেই। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে পুলিশ। খবর দেওয়া হয় এনডিআরএফকে। বিলবোর্ড সরিয়ে একে একে বের করা হয় মৃতদেহ।

    কোম্পানির বিরুদ্ধে এফআইআর  

    এই ঘটনায় পুলিশ বিলবোর্ড প্রস্তুতকারী সংস্থা মেসার্স ইগো মিডিয়া এবং এর মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। হোর্ডিং মালিক ভাবেশ ভিন্ডে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আইপিসির(Indian Penal Code-IPC) ৩০৪, ৩৩৮, ৩৩৭ ধারার অধীনে পন্ত নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তদন্ত করা হচ্ছে। 

    শিন্ডের বার্তা 

    অন্যদিকে বিধ্বংসী এই ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি (Mumbai hoarding collapse) পরিদর্শন করতে ঘাটকোপর এলাকায় পৌঁছেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সেখানে গিয়ে তিনি আধিকারিকদের বেশ কিছু নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “মানুষের প্রাণ বাঁচানোই আমাদের অগ্রাধিকার। এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে সরকার। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। আমি মুম্বইতে এই ধরনের সমস্ত হোর্ডিং অডিট করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি।”  

    আরও পড়ুন: ‘মা গঙ্গা ডেকেছেন, বারাণসীর সঙ্গে আত্মিক-যোগ’, মনোনয়নের সকালে আবেগঘন পোস্ট মোদির

    দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ রাষ্ট্রপতির (Draupadi Murmu)

    একই সঙ্গে ঘাটকোপরের এই দুর্ঘটনায় (Mumbai hoarding collapse) শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তিনি (Draupadi Murmu) লিখেছেন, শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানের সাফল্য কামনা করছি। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় জগদীপ ধনখড়ও আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং উদ্ধারকার্যের সাফল্য কামনা করেছেন। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • LK Advani: রবিবারই ভারতরত্ন দেওয়া হবে আডবাণীকে, বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসবেন রাষ্ট্রপতি

    LK Advani: রবিবারই ভারতরত্ন দেওয়া হবে আডবাণীকে, বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসবেন রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রবীণ রাজনীতিক এলকে আডবাণীকে (LK Advani) ভারতরত্ন সম্মান দেওয়া হবে রবিবার। যদিও তাঁকে যে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হবে, তা জানানো হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে। আডবাণীকে যে ভারতরত্ন পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে, সে খবর দেশবাসীকে শোনান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে তিনি নিজে গিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন আডবাণীকে। করেছিলেন ট্যুইটও। রাত পোহালে রবিবার সেই সম্মানই তুলে দেওয়া হবে প্রবীণ এই রাজনীতিকের হাতে।

    আডবাণীকে ভারতরত্ন (LK Advani)

    সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্বয়ং যাবেন আডবাণীর (LK Advani) বাসভবনে। সেখানেই দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে সম্মানিত করা হবে তাঁকে। জানা গিয়েছে, অসুস্থ আডবাণীকে সম্মানিত করতেই তাঁর বাসভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একান্তই ঘরোয়া এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

    আডবাণীর অবদান

    অধুনা পাকিস্তানের করাচিতে জন্ম আডবাণীর। তিন দশকের কাছাকাছি সময় যুক্ত ছিলেন সংসদীয় রাজনীতিতে। প্রথমে হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে একবার উপপ্রধানমন্ত্রী  হন। অটল বিহারী বাজপেয়ী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখনই উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন আডবাণী। আডবানিকে ভারতরত্ন পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করার সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে আডবাণীর তোলা একটি পুরানো ছবিও শেয়ার করেছিলেন।

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, শ্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীজিকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। আমি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি। তিনি দেশের অন্যতম সম্মানীয় রাষ্ট্রনায়ক। দেশের উন্নতির প্রতি তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।” প্রধানমন্ত্রী এও লিখেছিলেন, “তৃণমূল স্তর থেকে কাজ শুরু করে তিনি (আডবাণী) দেশের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর পদ সামলেছেন। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর সংসদীয় পরামর্শ চিরকালই মহামূল্যবান। অন্তর্দৃষ্টিতে পূর্ণ সেই পরামর্শ বরাবরই আমাদের সমৃদ্ধ করে।”

    আরও পড়ুুন: “ভারত এমন দেশ নয়, যাকে অন্যের উপদেশ নিতে হবে”, বললেন ধনখড়

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share