Tag: President Putin

  • Trump Putin Deal: পুতিনের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

    Trump Putin Deal: পুতিনের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার সঙ্গে তেল সরবরাহ চুক্তির কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে মস্কোর উপর জারি থাকা জ্বালানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির কথায়, এই পদক্ষেপ ‘সৎ নয়, অংশীদারদের প্রতি অযোগ্য এবং দুর্বল সিদ্ধান্ত’। রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার পর মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    ডিজেল সরবরাহে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের

    সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল জ্বালানি আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে আরও ৫ লক্ষ টন এবং পরবর্তী পর্যায়ে ১০ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ক্রেমলিনের তরফেও জানানো হয়েছে, আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, শুক্রবার মার্কিন অর্থ দফতর একটি অস্থায়ী লাইসেন্স জারি করেছে, যার মাধ্যমে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য, মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি কৃষক, পশুপালক ও পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ট্রাকচালকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    হরমুজ প্রণালিতে সঙ্কট, ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির দাম

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-পরিবহণে বিঘ্ন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর তেহরানের তরফে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অবরুদ্ধ করার ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে আমেরিকায় সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ৪৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৪.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ, প্রতি গ্যালন ৬.২৮ ডলারে। রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন ট্রাম্প। যদিও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ক্ষেত্রে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে রিপাবলিকান পার্টিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

    যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা, অমীমাংসিত ভূখণ্ডের প্রশ্ন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে শুক্রবার মায়ামিতে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইউক্রেনীয় আলোচকেরা। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, শীতের আগে সংঘাত প্রশমিত করা এবং যুদ্ধের অবসানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এর আগে গত মাসে উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের আলোচনাতেও যুদ্ধের অবসানের প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধবিরতির পথে অন্যতম বড় বাধা ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, জেলেনস্কি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে নারাজ। তাঁর আশঙ্কা, ওই অঞ্চলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ভবিষ্যতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ পাবে মস্কো। বর্তমানে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রাশিয়ার দখলে রয়েছে।

    নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা

    উইটকফের বক্তব্য অনুযায়ী, মায়ামির বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইউক্রেন ও ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে ইউক্রেনে রুশ হামলায় প্রাণহানির ঘটনা যুদ্ধের অবসানের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সামনের সারির শহর ক্রামাতোরস্কে বাসে রুশ হামলায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এই দুই পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ট্রাম্পের বিদেশনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

  • Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, সংঘাতের অবসান ঘটাতে মোদির কাছে ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে এবং তিনি উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি নিয়মিতভাবে ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। পুতিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই বিশ্বনেতাদের একজন, যিনি আমাদের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। তবে রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের বিষয়টি নিয়মিতভাবে তিনি তুলে ধরেছেন।”

    সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী মোদি

    রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের (India Russia Relation) বিষয়ে মোদির গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর মতে, পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু ‘খুব ভালো ভাবনা’ রয়েছে। পুতিনের ভাষায়, মোদি এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে একইসঙ্গে সংঘাতের অবসানের ব্যাপারে তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর তাঁর ইচ্ছার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর ভারতের

    ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একাধিকবার বলেছেন, সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ। আগস্টে জাপানের সংবাদপত্র দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান ‘নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক’। তাঁর দাবি, এই অবস্থান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। মোদি জানান, দুই নেতাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত তার নীতিনিষ্ঠ ও ধারাবাহিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।

    শান্তি প্রচেষ্টায় সহযোগিতার বার্তা

    ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন মোদি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠক হয়। সেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের ‘প্রোগ্রাম ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করে।

    বরাবরই শান্তির পক্ষে ভারত

    চোখের বদলে চোখ উপড়ে নিলে একদিন গোটা পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে, মন্তব্য করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। একটানা চলা দুই যুদ্ধ— ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরানে কার্যত সেই অবস্থা! ভেঙে পড়ছে ভারত-সহ গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি। এই অবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২ অক্টোবর গান্ধীর জন্মদিনে রুশ প্রেসিডেন্টের বার্তা, যুদ্ধের বদলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে মোদির কাছে “দুর্দান্ত কিছু ভাবনা” রয়েছে। গত মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেন পুতিন। সেই সময় রুশ প্রেসিডেন্টের সামনেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ১১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মোদি বলেছিলেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। উল্লেখ্য, দুটি যুদ্ধ (ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরান) অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে, কদিন আগেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। নেপথ্যে জ্বালানি, সারের মতো জরুরি পণ্য সামগ্রী আমদানিতে বাঁধা। এই অবস্থায় যুদ্ধ থামাতে মরিয়া চিরকাল শান্তিপ্রিয় ভারত।

    রুশ প্রেসিডেন্টের শ্রদ্ধা

    রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে ভারত বরাবর নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও সংঘাতের প্রশ্নে কখনও কোনও এক পক্ষকে সমর্থন জানায়নি নয়াদিল্লি। ভারতের এই অবস্থানকে শ্রদ্ধা করে রাশিয়া, এবার তা নিজেই বুঝিয়ে দিলেন পুতিন। সেই সঙ্গে জানালেন, শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে মোদীর চেষ্টা এবং চিন্তাভাবনাগুলি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। মস্কোয় ভালদাই ফোরাম অফ ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়া এক্সপার্টের মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদীর প্রসঙ্গ টানেন পুতিন। বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী সেই রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে একজন, যিনি আমাদের মধ্যে খুব ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বার বার ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর বিষয়ে কথা বলেন এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।’’

     

     

     

     

     

  • BRICS Summit 2026: জি-৭-কে পুতিনের কটাক্ষ, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের অবদান ৪০ শতাংশ

    BRICS Summit 2026: জি-৭-কে পুতিনের কটাক্ষ, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের অবদান ৪০ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির অর্থনৈতিক শক্তির প্রশংসা করে জি-৭-কে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে বিশ্বের মোট জিডিপির ৪০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করেছে ব্রিকস দেশগুলি। সেখানে জি-৭-এর অবদান ২৯ শতাংশ। পুতিন বলেন, একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির মোট বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলি থেকে। জি-৭-এর ক্ষেত্রে এই অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, ব্রিকস দেশগুলির জনসংখ্যা বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি। ফলে এই দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বাজারও অত্যন্ত বড় এবং গতিশীল। জি-৭-কে ‘তথাকথিত জি-৭’ বলেও কটাক্ষ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। জি-৭-এর সদস্য হল আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান।

    রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরব পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার উপর পশ্চিমী দেশগুলির আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরব হন পুতিন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৩০ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সম্মিলিত সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। পুতিন বলেন, এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়া সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে ‘নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য’ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বিশ্ব অর্থনীতির গড় বৃদ্ধির হারের তুলনায় বেশি ছিল।

    আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা নীতির সমালোচনা

    আমেরিকার সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলির বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা গৌণ নিষেধাজ্ঞার হুমকি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা কখনও কখনও ‘কুৎসিত রূপ’ নেয়। পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডর অবরুদ্ধ করার চেষ্টা, সামুদ্রিক জাহাজ আটক এবং নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ না করা দেশগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে তিনি সেই প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

    ‘পুরনো অর্থনৈতিক শক্তির জায়গা নিচ্ছে নতুন ইঞ্জিন’

    পুতিনের বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে যেসব দেশ বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল, তাদের জায়গায় ধীরে ধীরে নতুন অর্থনৈতিক শক্তিগুলি উঠে আসছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পশ্চিমী দেশগুলির এখনও উন্নত পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো এবং শক্তিশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতি স্থির নয়—সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে তার চরিত্রও পরিবর্তিত হয়। শুক্রবারই ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন।

  • Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর একই গাড়িতে চড়ে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Modi-Putin Car Diplomacy)। সোমবার বিশকেক অ্যারেনায় ষষ্ঠ ‘ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুই রাষ্ট্রনেতার এই গাড়ি সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’র আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর গাড়ির ভিতর থেকে পুতিনের সঙ্গে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের পথে।”

    পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত

    মোদির বিদেশ সফরে এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক গাড়ি সফর অবশ্য নতুন নয়। এর আগে উজবেকিস্তান সফরেও প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। তাসখন্দে পৌঁছনোর পর মিরজিয়য়েভ নিজে মোদিকে অভ্যর্থনা জানান এবং পরে দু’জনকে একসঙ্গে গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা যায়। দুই নেতার এই আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত তাঁদের পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের (Modi-Putin Meet) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

    মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ নতুন নয়

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একসঙ্গে গাড়িতে সফর এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার দুই রাষ্ট্রনেতাকে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে যা ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। গত বছর চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের পর পুতিনের লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করেছিলেন মোদি ও পুতিন। জানা যায়, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থান হোটেলে যাওয়ার সময় দুই নেতাকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন নিজেই। গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথন হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর ফের একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় পুতিনের ভারত সফরের সময়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রোটোকল ভেঙে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত জানাতে নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিমানবন্দর থেকে দু’নেতা একসঙ্গে গাড়িতে করে ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে মোদি ও পুতিনের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজও হয়। মোদি-পুতিনের ফের একই গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতা ও দুই নেতার ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।

LinkedIn
Share