Tag: Preventive Healthcare

  • Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। তবে মশাবাহিত এই রোগে শুধু সংক্রমণের দাপটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে না। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগের বদলে যাওয়া প্রকৃতি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে, রোগের চরিত্র বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ম্যালেরিয়ার দাপটকে কাবু করতে আরো সক্রিয় ওষুধ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। খোদ কলকাতাতেই পরীক্ষা চলছে। আক্রান্তের কাছে একটা ডোজ পৌঁছে গেলেই, ম্যালেরিয়ার দাপট কমবে। গবেষকেরা এমনটাই আশা করছেন।

    কেন ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার বদল হচ্ছে। পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইউরোপের দেশগুলোর পাশপাশি ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যে। একাধিক রোগের প্রকৃতি বদল হচ্ছে। নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র ও বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জেরে বদলে গিয়েছে ম্যালেরিয়ার চরিত্র। মশাবাহিত এই রোগ আগের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

    বদলে যাওয়া রূপে কতখানি বিপদ বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই ম্যালেরিয়া তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলেই মনে হয়। কিন্তু চরিত্র বদল করে ম্যালেরিয়া ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাধারণত দুই তিন দিন জ্বরের পরে পরীক্ষা করিয়ে আক্রান্ত সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পারেন। তারপরে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু নতুন চরিত্রের এই ম্যালেরিয়া মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই শরীরে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার, মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে, শরীরের সক্রিয়তা কমছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার চলতি ওষুধে রোগ প্রতিরোধ করতে যে সময় নিচ্ছে, তাতে আক্রান্তের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে। ফলে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ম্যালেরিয়া সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    নয়া দাওয়াইয়ে কেন বাড়তি ভরসা?

    কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন ওষুধের পরীক্ষা চলছে। প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ওষুধ ম্যালেরিয়ার বাড়তি সঙ্কটের বোঝা কমাতে পারবে। তাঁরা আশাবাদী, ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ায়, যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নতুন ওষুধ বাড়তি সাহায্য করবে। নতুন ওষুধের চতুর্থ পর্বের ট্রায়াল চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধ মাত্র একটা ডোজেই কাজ করবে। যে কোনও রকমের ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে এক ডোজেই সাহায্য হবে। বাজার চলতি ম্যালেরিয়ার ওষুধ একাধিকবার খেতে হয়। ম্যালেরিয়া এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত নিরাময় জরুরি। না হলেই লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ম্যালেরিয়া দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করবে, এমন ওষুধ প্রয়োজন। নতুন ওষুধ সেই কাজে সক্ষম হবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতা ও তার আশপাশে কেন বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরেই ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে একদিকে ম্যালেরিয়া আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আবার আরেকদিকে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জনসচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় দাপট বাড়াচ্ছে। গত বছরেও জুন মাস থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় অধিকাংশ জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মারাত্মক জল জমে। একদিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে জমা জলের ভোগান্তি থাকে। এগুলো মশার বংশবিস্তার করে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন বাগান, বাড়ির আশপাশের এলাকায় জল জমলেও মশাবাহিত রোগের দাপট বাড়তে থাকে। তাই ম্যালেরিয়ার দাপট ও বাড়ে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রচন্ড জ্বর, তীব্র মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে ম্যালেরিয়া মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

  • Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কেউ শ্বাসকষ্টের জেরে বছরের বিভিন্ন সময়েই ভোগেন, আবার কেউ পেটের সমস্যায় কাবু! সমস্যার জেরে বাইরে যাওয়ার আগেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপকেই নিত্যসঙ্গী করে চলছেন। বিশ্বের অন‌্যান্য দেশের মতো ভারতেও বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও এই ক্রনিক রোগের দাপট বাড়ছে। ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে চিকিৎসক মহল জানাচ্ছেন, মনের জোরেই এই রোগ মোকাবিলার পথ সহজ হবে। মানসিক শক্তিই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেও সাহায্য করবে।

    ক্রনিক ডিজিজ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো রোগে তিন মাসের বেশি সময় আক্রান্ত থাকলে, তাকে ক্রনিক ডিজিজ বলা যেতে পারে। তবে, আরও কয়েকটি দিক সেক্ষেত্রে দেখতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে দীর্ঘ সময় এই রোগের উপস্থিতি থাকার পাশপাশি এই রোগ অনেকক্ষেত্রেই পুরোপুরি সেরে যায় না। বারবার ফিরে আসার ঝুঁকিও থাকে। কখনো রোগের দাপট বাড়ে। আবার কখনো কমে।

    ভারতে কোন ক্রনিক রোগের দাপট বেশি?

    গত কয়েক দশকে ভারতে উদ্বেগজনক হারে ক্রনিক রোগের দাপট বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিছু রোগ সংক্রামক হয় না। কিন্তু সেই রোগে আক্রান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি চলে। রোগের বোঝা জনজীবনে গভীর ভাবে পড়ে। গত কয়েক দশকে ভারতে এমন কিছু রোগের দাপট বাড়ছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

    সিওপিডি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। শ্বাসকষ্টজনিত এই রোগে কাবু শিশু থেকে বয়স্ক অনেকেই। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশপাশি ফুসফুসের আরও একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হয়‌।

    পেটের সমস্যা

    এছাড়াও ভারতের অন্যতম বড় ক্রনিক রোগ হলো পেটের সমস্যা। অধিকাংশ ভারতীয় পেটের সমস্যায় কাবু। অন্ত্রের একাধিক সমস্যার জেরে হজমের গোলমাল এবং পেটের সমস্যা দেখা দেয়। বারবার মলত্যাগ, পেট ব্যথার মতো সমস্যার জেরে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিরাও এই পেটের সমস্যায় কাবু হন।

    অস্টিওপোরোসিস

    ভারতে বাড়ছে হাড়ের ক্রনিক রোগ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিরিশের চৌকাঠ পার করার পরেই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে হাড় ক্ষয়ের রোগ বাড়ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে বিশেষত হাঁটু, কোমড় এবং অন্যান্য জয়েন্টে তীব্র যন্ত্রণা, দীর্ঘসময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকায় মুশকিল হয়।

    ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে কিডনি ও হৃদরোগের ক্রনিক  ডিজিজ

    এছাড়াও ভারতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির ক্রনিক অসুখ এবং হৃদরোগ ক্রনিক ডিজিজ হিসাবে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোনোর পরেই বহু ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন যাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কর্মদক্ষতা কমছে। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হচ্ছে না।

    কেন ক্রনিক রোগের মোকাবিলায় মনের জোরকেই হাতিয়ার করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ২০২৬ সালের ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে বিশ্ব জুড়ে পালন হবে I stay strong! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্রনিক রোগ মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার মনের জোর। ক্রনিক রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। একাধিক বার এই রোগে আক্রান্তের ভোগান্তি বাড়ে। সুস্থ থাকতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানান চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়‌। অনেক খাবার খাওয়া এবং অন্যান্য একাধিক অভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি হয়। ফলে জীবন যাপনেও নিয়ন্ত্রণ থাকে। অনেকক্ষেত্রেই রোগীর একঘেয়েমি লাগতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘকাল শরীরে উপস্থিত থাকা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক জোর জরুরি। পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়, জেনেও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, তবেই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার রোগের প্রকোপ বাড়লেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। বছরের কিছু সময়ে, শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের সমস্যার মতো ক্রনিক রোগ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হলে বিপদ বাড়বে। বরং কীভাবে বাড়তি ভোগান্তি কমানো যাবে, সে সম্পর্কে রোগীকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আর এই সবকিছু দীর্ঘদিন ধরে চলবে। তাই মানসিক শক্তি জরুরি। মনের জোর না থাকলে ক্রনিক রোগের মোকাবিলা কঠিন।

    ক্রনিক রোগ ঠেকাতে কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন মনের জোর। আর দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা। শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের গোলমালের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা জরুরি। বায়ুদূষণ, জল দূষণের মাত্রা কমলেই এই ধরনের জটিল ক্রনিক রোগের দাপট কমবে। সকলের জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল জরুরি। যথেচ্ছ বাজি পোড়ানো, গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। সরকারের পাশপাশি জনসমাজেও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তবেই রোগের বোঝা কমবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস ও শরীর চর্চা নিয়ে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে। নিয়মিত শারীরিক কসরত করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি না হয়। তাছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। তাহলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, হৃদরোগের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমানো যাবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Food Allergy: ডিম-দুধে অ্যালার্জি! পুষ্টির ঘাটতি না বাড়িয়ে কোন খাবার খেলে মিলবে একই উপকার?

    Food Allergy: ডিম-দুধে অ্যালার্জি! পুষ্টির ঘাটতি না বাড়িয়ে কোন খাবার খেলে মিলবে একই উপকার?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরের জন্য উপকারি। কিন্তু খেলেই হাতে-পায়ে চুলকানি, ত্বক লাল হয়ে উঠছে। এমনকি শ্বাসকষ্ট হতে পারে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর খাবারেও অ্যালার্জি হতে পারে। যা প্রাণ সংশয় পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি। শিশু হোক বা বয়স্ক, স্বাস্থ্যকর খাবারেও অ্যালার্জি হলে কী ভাবে সেটা আটকানো যাবে। পুষ্টির ঘাটতি রুখতে বিকল্প খাবার কী হতে পারে, সে নিয়েও সচেতনতা জরুরি।

    কোন খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে?

    প্রাণীজ প্রোটিন এবং দানাশস্য, যে কোনও খাবার থেকেই অ্যালার্জি হতে পারে। তবে কয়েকটি খাবারে অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিনের মধ্যে ডিম, সামুদ্রিক মাছ যেমন কড, আবার সামুদ্রিক প্রাণী যেমন লবস্টার, কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দুধ থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। কিন্তু দুধ, ডিম, কড মাছ বা কাঁকড়া, চিংড়ি জাতীয় খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর। তাই এগুলো ছোটো থেকে বয়স্ক, সকলের খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই ধরনের খাবারে অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে প্রাণীজ প্রোটিনের পাশপাশি কিছু দানাশস্য এবং সব্জি থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের দানাশস্য যেমন রাগি, বাজরার মতো দানাশস্য থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। আবার সোয়াবিনের থেকেও অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু শরীরের পুষ্টির জন্য এই ধরনের খাবার খুব জরুরি। তবে অ্যালার্জি বিপজ্জনক। তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    কীভাবে বুঝবেন অ্যালার্জি হয়েছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ জানান দেয়, অ্যালার্জি হয়েছে কিনা। উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। অবহেলা না করে প্রথম থেকেই চিকিৎসা করলে বড় বিপদ এড়ানো যেতে পারে। খাবার খাওয়ায় কিছু সময় পরেই হাতে-পায়ে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় চুলকানি, লাল দাগ দেখা দেওয়া অ্যালার্জির অন্যতম উপসর্গ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, জিভ ও ঠোঁট ফুলে যাওয়া, লালা ঝরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আবার বমি, পেট ব্যথা, বারবার মলত্যাগের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সমস্যা বাড়লে কাশি, গলার ভিতরে জ্বালা এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি ও তৈরি হতে পারে।

    অ্যালার্জি রুখতে কী করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালার্জি রুখতে এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। কোনও নির্দিষ্ট একটা খাবার খেয়ে, যদি বারবার ত্বকে সমস্যা, গলার ভিতরে অস্বস্তি কিংবা পেট ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথম থেকেই সতর্কতা প্রয়োজন। অবহেলা করলে বিপদ বাড়বে। পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো, অ্যালার্জি হতে পারে এমন খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। পাশপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে।‌

    বিকল্প পুষ্টি কী হতে পারে?

    ডিম, দুধ বা দানাশস্য, সোয়াবিন এই ধরনের খাবারেই অ্যালার্জির ঝুঁকি বেশি থাকে। কিন্তু এই খাবারগুলো শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস। তাই অ্যালার্জি হলে এই সব খাবার খাওয়া যায় না। কিন্তু শরীরে পুষ্টির ঘাটতি যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তাই বিকল্প পুষ্টির ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। ডিম ও দুধ অত্যন্ত জরুরি দুটি খাবার। এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, প্রোটিন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে। যদি এই দুই খাবার বাদ দিতে হয়, তাহলে বিকল্প খাবার হিসাবে অবশ্যই মাছ,‌ পনির এবং বাদামের দুধ খাওয়া যেতে পারে। দুধ থেকে অনেক সময়েই পেটের সমস্যা হয়। কিন্তু বাদাম দুধে সেই ঝুঁকি কম। কিন্তু পুষ্টিগুণ একরকম। তাই যাদের দুধ খেলে সমস্যা হয়, তাঁরা বিকল্প খাবার হিসাবে বাদাম দুধ খেতেই পারে। আবার ডিমের মতোই পনীর এবং মাছ শরীরে সহজে পুষ্টির জোগান দেয়। নিয়মিত এমন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত, যাতে সেটা সহজে হজম হয়‌। তবেই শরীর উপকার পাবে। মাছ এবং পনীর সহজ পাচ্য। তাই ডিমে অ্যালার্জি থাকলে নিয়মিত এই দুই খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তাহলে প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের ঘাটতি কমবে। সোয়াবিনের মতো নিরামিষ প্রোটিনে অ্যালার্জি দেখা দিলে নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। মুগ, মুসুর বা ছোলা যে‌কোনো ডাল নিয়মিত খেলে শরীরে প্রোটিন, ফাইবারের ঘাটতি হবে না। তাই এই ধরনের বিকল্প খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। যাতে শরীর সুস্থ থাকে। আবার অ্যালার্জি থাকলে, বড় বিপদ ও সহজে এড়ানো যায়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা শুধুই শরীরে আটকে থাকছে না। একাধিক শারীরিক অসুবিধার পাশপাশি দেশ জুড়ে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশের নানান শারীরিক অসুখের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন ও শরীরের একাধিক সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যোগাভ্যাস। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে জীবন যাপনের ধরন। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসের জেরেই তাঁরা নানান ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের সুস্থ জীবন যাপনের সাহায্য করবে যোগাভ্যাস।

    তরুণ প্রজন্মের কোন সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সাহায্য করবে যোগাভ্যাস?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন। হাঁটাচলা কিংবা দৌড়াদৌড়ির সুযোগ কম। তার পাশপাশি আধুনিক খাদ্যাভাসে অতিরিক্ত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অধিকাংশ কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে।
    এই ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যায় ভোগেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপড়েন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ভারতে যে হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে তাই যোগাভ্যাস আধুনিক জীবনে অত‌্যন্ত জরুরি হয়ে যাচ্ছে।

    মানসিক সমস্যার জেরে হচ্ছে শারীরিক ক্ষতি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরে শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস শরীর এবং মনের উপরে একসঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে একদিকে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। তাছাড়া, যোগাভ্যাস স্নায়ু সক্রিয় রাখে। পেশির দূর্বলতা কমায়। আবার যোগাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। একদিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হওয়ার জেরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় স্নায়ুঘটিত সমস্যা কমবে। পেশির দূর্বলতা কমলে দিনভরের ক্লান্তি দূর হবে। যেকোনো কাজে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। এর পাশপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখলে যোগাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব। যোগাভ্যাস স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত যোগাভ্যাস বজায় থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা কমবে।

    কেন যোগাভ্যাসেই বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকোনো বয়সেই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি‌। তবে ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, সেটা রুখতে যোগাভ্যাসেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধের উপরে দীর্ঘদিন নির্ভর করে জীবন কাটালে, তার নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুস্থ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাসে বাড়তি ভরসা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট এই যোগাভ্যাস করলে, শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে শরীরের পাশপাশি মনের জটিলতা কমাতে পারবে না। মস্তিষ্ক, স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ওষুধ নয়। বরং ভালো অভ্যাস দীর্ঘ জীবন যাপন সহজ করবে। যোগাভ্যাস রোগ রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা আধুনিক জীবনের স্বাস্থ্য সঙ্কট ঠেকাতে যোগাভ্যাসেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    কখন যোগাভ্যাস করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাসের জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। তাহলেই নিয়মিত এই অভ্যাস জারি রাখা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মনে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকালে যোগাভ্যাস করলে একদিকে হজম শক্তি বাড়ে। দিনভর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। মনে রাখতে সুবিধা হয়। যোগাভ্যাস মনে ইতিবাচক শক্তি গড়ে তোলে। তাই সকালে যোগাভ্যাস করলে দিনভর কাজ করার ইচ্ছে থাকে। মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা রুখতেও সাহায্য করে। তবে সকালে যোগাভ্যাস করতে কোনো সমস্যা থাকলে সন্ধ্যায় যোগাভ্যাস করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ভারি খাবার খাওয়ার পরে যোগাভ্যাস করা না হয়‌‌। অতিরিক্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরে অন্তত দু’ঘণ্টা যোগাভ্যাস করা উচিৎ নয়। এতে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Cervical Cancer: ৪০ পেরোলেই বাড়ছে বিপদ! ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সার, বাঁচার বড় অস্ত্র এই টিকা

    Cervical Cancer: ৪০ পেরোলেই বাড়ছে বিপদ! ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সার, বাঁচার বড় অস্ত্র এই টিকা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরোলেই বাড়তে পারে বিপদ! দেশ জুড়ে ক্রমশ মহিলা স্বাস্থ্য নিয়ে তাই উদ্বেগ বাড়ছে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই রুখতে না পারলে সমস্যা বাড়বে! ভারতে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সারের দাপট। তাই ভারতীয় মহিলাদের এই জটিল রোগ থেকে বাঁচাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার টিকাকরণ! দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মীরাও সম্প্রতি টিকা দেওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ রাজ্যের মহিলাদের জরায়ুর ক্যান্সার রুখতেও তাই ভরসা টিকাকরণে!

    ভারতে জরায়ুর ক্যান্সার কতখানি বিপজ্জনক?

    প্রত্যেক বছরেই জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সময় মতো রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে জরায়ুর ক্যান্সার সম্পূর্ণ সেরে ওঠা সম্ভব। কিন্তু তারপরেও দেশে যে হারে প্রতি বছর জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু বাড়ছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগের। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৭৯ হাজার মহিলা নতুন করে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার মহিলা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই মৃত্যুর সংখ্যা খুবই উদ্বেগজনক।‌ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জরায়ুর ক্যান্সার শরীরে তৈরি হতে সময় নেয় আনুমানিক ১০ বছর। অর্থাৎ তরুণীর শরীরে সেই রোগের সূচনা হলেও, আক্রান্ত টের পায় মধ্য বয়সে। ভারতে অধিকাংশ জরায়ুর ক্যান্সার আক্রান্তের বয়স ৪০-৪৫ বছর। এই রোগ রুখতে এবং মৃত্যু হার কমাতে মূল হাতিয়ার লাগাতার রোগ পরীক্ষা এবং টিকাকরণ। কারণ, সময় মতো রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করতে পারলে এই রোগের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

    কেন ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি জরুরি। কতখানি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন, সেই স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোন ধরনের সংক্রমণ হতে পারে, কোন ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে, সে সম্পর্কে জানানো জরুরি। কিন্তু সেই সম্পর্কে আলোচনা হয় না। নানান সামাজিক ছুৎমার্গের জেরে খোলামেলা ভাবে স্কুল স্তর থেকে এই ধরনের আলোচনা হয় না। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ সচেতন নয়। যার ফলে এ দেশে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু হওয়ার অন্যতম কারণ, টিকাকরণের হার কম এবং লাগাতার স্ক্রিনিং নিয়েও অসচেতনতা। ক্যান্সার প্রাথমিক পর্বেই চিহ্নিত হলে, জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। কিন্তু রোগ নির্ণয় ঠিক সময়ে না হওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদিও সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে লাগাতার স্ক্রিনিং এবং টিকাকরণে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, টিকাকরণ কর্মসূচি লাগাতার চালালে আগামী কয়েক দশকে তার ফল পাওয়া যাবে! উল্লেখযোগ্য হারে মৃত্যু হার কমবে।

    কেন জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণ জরুরি?

    দেশ জুড়ে জরায়ুর ক্যান্সার মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার হয়ে উঠছে টিকাকরণ। বাদ নেই পশ্চিমবঙ্গ! সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের এই নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণেই সবচেয়ে বেশি ভরসা করছেন।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, এইচপিভি (HPV) সংক্রমণের জেরেই মহিলাদের শরীরে জরায়ুর ক্যান্সার হয়। তাই এইচপিভি টিকাকরণ হলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমবে। এই টিকা নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি শরীরে এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেও সক্ষম হবে। ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। পাশপাশি এই টিকরণে ভরসা রাখার আরেকটি কারণ হলো, প্রি-ক্যান্সার ক্ষত কমবে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ক্যান্সার হওয়ার আগে অস্বাভাবিক হারে কোষের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন রুখতেও টিকা সাহায্য করবে। টিকাকরণ হলে দেশ জুড়ে জরায়ুর ক্যান্সারের বোঝা কমবে। মৃত্যু হার কমবে। ফলে দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের আশঙ্কাও কমবে।

    টিকাকরণ হলেই কি সব বিপদ মুক্ত?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণ জরুরি। টিকাকরণ হলে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাও পাওয়া যাবে। কিন্তু টিকাকরণ হলেই যে সব বিপদ ঠেকানো যাবে এমনটা নয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, রোগ ঠেকাতে টিকা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। কিন্তু জরায়ুর ক্যান্সারের বিপদ কমাতে অন্যতম বড় অস্ত্র হলো, লাগাতার শারীরিক পরীক্ষা। শরীরে রোগ বাসা বাঁধছে কিনা, সে সম্পর্কে প্রাথমিক পর্বেই নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অধিকাংশ জরায়ুর ক্যান্সার আক্রান্তের চিকিৎসা অনেক দেরিতে শুরু হয়। এর ফলে, রোগ আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু হার কমাতে লাগাতার স্ক্রিনিং নিয়ে সচেতনতা জরুরি। তিরিশ উর্ধ্ব মহিলাদের বছরে অন্তত একবার শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। যাতে তাঁদের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিনা, কোষে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাহলেই এই জটিল রোগ মোকাবিলা সহজ হবে।

  • Alzheimer’s in Indian Women: নাম-ঠিকানাও ভুলে যাচ্ছেন? ভারতে বাড়ছে অ্যালজাইমার, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মহিলারা

    Alzheimer’s in Indian Women: নাম-ঠিকানাও ভুলে যাচ্ছেন? ভারতে বাড়ছে অ্যালজাইমার, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মহিলারা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নিঃশব্দেই শরীরে উপস্থিত হচ্ছে। কিন্তু যখন তার উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে, অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। ফলে, পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল হয়ে যাচ্ছে। জীবন যাপন কঠিন হয়ে উঠছে। আক্রান্ত ব্যক্তির পাশপাশি, তার পরিবারের সদস্যরাও সমানভাবেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বিপদ বাড়াচ্ছে অ্যালজাইমার। তাঁরা জানাচ্ছেন, যে হারে ভারতবাসীর মধ্যে এই সমস্যা বাড়ছে, তাতে আগামীদিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

    অ্যালজাইমার কী? কেন এই নিয়ে এত উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমার হল স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। আক্রান্ত মনে রাখার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। নিজের নাম, পরিচয়, ঠিকানাও মনে রাখতে পারেন না। দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন। ফলে, স্নান করা, শৌচালয় যাওয়া কিংবা খাওয়ার ক্ষমতাও থাকে না। স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। এই সমস্যায় আক্রান্তের পাশপাশি, তার পরিবারকেও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক কেউ এমন সমস্যায় আক্রান্ত হলে, তাকে সব সময় একজনের সাহায্য প্রয়োজন হয়। সেই সাহায্যদানকারী কেয়ার গিভারেও স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

    কী বলছে গবেষণা?

    সম্প্রতি Longitudinal Aging Study in India (LASI) রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ৬০ বছরের উর্ধ্বে থাকা ৮০ লাখ মানুষ এই অ্যালজাইমার সমস্যায় আক্রান্ত। ষাটোর্ধ্ব প্রায় ৮ শতাংশ ভারতীয় অ্যালজাইমারের সমস্যায় ভুগছেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যায় আক্রান্তের হার ৯ শতাংশ। তুলনায় পুরুষদের আক্রান্তের সংখ্যা ৫.৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করছেন। বয়স্কদের অধিকাংশ ৮০ বছরের অধিক বেঁচে থাকছেন। কিন্তু ৬০-এর পরেই এই ধরনের স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে, এমন পরিস্থিতিতেই তাঁরা ১০-১৫ বছর বেঁচে থাকছেন।‌ যখন তাঁদের জীবন যাপনের মান কমে যাচ্ছে। বেঁচে থাকলেও সুস্থ জীবন যাপন হচ্ছে না। যা সমাজের পক্ষেও ভালো নয়। দেশের প্রবীণ নাগরিকেরা এমন অসুস্থ জীবন যাপন করলে, সেটা দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্র নিয়ে যথেষ্ট চিন্তার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন,সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৬০-র পরে সমস্যা প্রকট হলেও চল্লিশ বছরের পর থেকেই এর লক্ষণ অল্প হলেও দেখা দেয়। তাই স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত কোনো রকম সমস্যা হলে তা নিয়ে সতর্কতা জরুরি।

    কেন মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে?

    হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমারের সমস্যা মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা দিচ্ছে। এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরবর্তী কালে অর্থাৎ মেনোপজের পরে মহিলাদের শরীরে একাধিক পরিবর্তন হয়। শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। এর প্রভাব যথেষ্ট গভীর। মস্তিষ্কের উপরে এই হরমোনের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে এবং মস্তিষ্ককে সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ইস্ট্রোজেন। শরীরে সেই হরমোনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অ্যালজাইমারের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

    জিনগত কারণও দায়ী

    মহিলাদের যে কোনও জিনগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পরিবারের কেউ অ্যালজাইমারে আক্রান্ত হলে পরবর্তী প্রজন্মের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সেই জিনগত কারণেও মহিলারা এই সমস্যায় বেশি ভুগছেন হলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। দেশের দীর্ঘ ইতিহাসে দেখা যায়, এ দেশে মহিলাদের শিক্ষার সুযোগ সমান ছিলো না। এমনকি মহিলাদের শিক্ষার পথে একাধিক অন্তরায় ছিলো। এখনো রয়েছে। তাই মহিলাদের কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়ানোর সুযোগ কম। এগুলো প্রৌঢ় কালে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে উঠছে। ফলে অ্যালজাইমারের মতো রোগের দাপট বাড়ছে।

    কগনিটিভ রিজার্ভ কী? কেন অ্যালজাইমার রুখতে কগনিটিভ রিজার্ভে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কগনিটিভ রিজার্ভ হল মস্তিষ্কের এক বিশেষ ক্ষমতা। যেকোনো সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ এলেও মস্তিষ্ক নিজের কাজ ঠিকমতো চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিক গতিতেই কাজ করতে পারে। বার্ধক্য মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে চায়। কিন্তু কগনিটিভ রিজার্ভ মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করে। অ্যালজাইমার রুখতে তাই কগনিটিভ রিজার্ভে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমারের মতো সমস্যা রুখতে হলে মস্তিষ্ক সচল রাখা জরুরি।‌ ধাঁধা বা ব্রেন গেম নয়। বরং নতুন কিছু শেখা জরুরি। নতুন কিছু শিখলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কগনিটিভ রিজার্ভ তৈরি হয়। অর্থাৎ মস্তিষ্ক তার কাজ করার ক্ষমতা বজায় রাখে। তাই চল্লিশ বছরের পরেই ভারতীয়দের নতুন কিছু শেখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নতুন ভাষা শেখা, কিংবা বাদ্যযন্ত্র শেখা জরুরি।

    কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    • ● বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ভাষা শিখলে মনোযোগের প্রয়োজন হয়। ফলে মস্তিষ্ক সজাগ থাকে। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। চল্লিশ বছরের পরে যে কোনও নতুন ভাষা শেখার অভ্যাস তৈরি হলে অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমবে।
    • ● যে কোনও বাদ্যযন্ত্র শেখার অভ্যাস তৈরি হলে হাতের স্নায়ু ও মস্তিষ্কের স্নায়ুর যোগাযোগ আরো ভালো হবে। পেশির কাজ হবে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকবে। এর ফলে অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমবে।
    • ● বয়স বাড়লে নতুন কিছু শেখা সম্ভব না হলে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত বই পড়লে কগনিটিভ রিজার্ভ ভালো থাকে। এতে মনে রাখার অভ্যাস তৈরি হয়। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
    • ● যে কোনও সামাজিক কিংবা শিক্ষামূলক গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়াতে এবং অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমাতে ছবি আঁকার স্কুল, কিংবা নাচ, গান বা সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয় এমন ক্লাবে যোগ দেওয়া উচিত। এতে একাকিত্ব কমে। ফলে মস্তিষ্কের উপরে চাপ পড়ে না। আবার নিজের মতামত জানানো, অন্যের কথা শোনা এবং আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়। তাছাড়া সৃজনশীল কাজ মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। কগনিটিভ রিজার্ভ বাড়ায়। তাই অ্যালজাইমারের মতো সমস্যার ঝুঁকিও কমে‌।
    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

     

  • Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠে পৌঁছনোর আগেই নিঃশব্দে শরীরে প্রবেশ করছে। গড়ে প্রতি ৩ জন ভারতীয়দের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। আবার বহু মানুষ জানতেও পারেন না, তার শরীরে নিরবে এই সমস্যা বাসা বেঁধেছে। তাই সতর্কতাও অবলম্বন করতে পারেন না। ভারতীয়দের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠছে হাইপারটেনশন (High Blood Pressure)। ১৭ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে (World Hypertension Day)। ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাইপারটেনশনকে ভারতীয়দের ‘নিরব ঘাতক’ বলেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়রা এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আর হৃদরোগ, স্ট্রোক সহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই হাইপারটেনশন (Hypertension) ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে।

    কোন বয়সে বিপদ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণত পঞ্চাশ বছরের পরে হাইপারটেনশনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। কিন্তু ভারতের চল্লিশের আশপাশেই এই সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয়দের জীবন যাপনের ধরনের জন্য এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ নুন এবং তেল খাওয়া, বাড়তি ওজন এবং অনিদ্রা সমস্যা বাড়াচ্ছে। এছাড়াও হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ এবং অবসাদ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে প্রচন্ড মানসিক চাপ এবং অবসাদের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে অনিদ্রা এবং হাইপারটেনশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ কী?

    অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সবকিছুই জীবন যাপনের ধরনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষের খাদ্যাভাস অস্বাস্থ্যকর। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়। এই খাবারে একাধিক ক্ষতিকারক রাসায়নিকের পাশাপাশি থাকছে অতিরিক্ত নুন। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়রা গড়ে প্রতিদিন ৫ গ্রাম অতিরিক্ত নুন খায়। এই বাড়তি নুন হাইপারটেনশনের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ভারতীয়দের একাংশ অতিরিক্ত চটজলদি খাবার খাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শারীরিক কসরত করছে না। তাই দেহের ওজন বাড়ছে। এই অতিরিক্ত ওজনের জেরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অনিদ্রা, জীবনে জটিলতা, মদ্যপান এবং ধূমপান

    এছাড়া ভারতীয়দের বড় অংশ অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। তাই হাইপারটেনশনের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় থাকে না। তাই হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ অনিদ্রা। এছাড়াও পেশাগত জীবনের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা বাড়ছে। এর ফলেও হাইপারটেনশনের সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ মদ্যপান এবং ধূমপানে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্যান্সার এবং একাধিক সংক্রামক রোগের কারণ হওয়ার পাশপাশি হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। তাই এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

    কেন হাইপারটেনশন উদ্বেগজনক সমস্যা? কেন একে নিরব ঘাতক বলা হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় জানেন না তিনি হাইপারটেনশন আক্রান্ত কিনা। নিয়মিত অধিকাংশ ভারতীয় রক্তচাপ মাপেন না। এর ফলে শরীরে এই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই এই রোগকে নিরব ঘাতক বলা যেতে পারে। এই সমস্যা থাকলে স্ট্রোক এবং হৃদরোগের জটিলতা বাড়তে পারে। ভারতে হঠাৎ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক। আর এই হার্ট অ্যাটাকের নেপথ্যে রয়েছে হাইপারটেনশন। রক্তচাপের ভারসাম্য না থাকলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে স্ট্রোকের দাপট দেখা দিচ্ছে। স্ট্রোকের ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। কর্ম ক্ষমতা কমছে। আবার প্রাণ সংশয় হচ্ছে। তাই এই রোগ রুখতে হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা কমানো দরকার। হাইপারটেনশন বন্ধ্যাত্ব এবং অন্যান্য হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি করে।

    কী পরামর্শ চিকিৎসকদের?

    এই বিপদ কমাতে চিকিৎসকদের পরামর্শ, অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমানো জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চটজলদি খাওয়া কমালেই বাড়তি নুন খাওয়ার প্রবণতা কমবে। তাছাড়া নিয়মিত শরীরিক কসরত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে। এগুলো হাইপারটেনশন রুখতে সাহায্য করে। ঘুম নিয়েও সচেতনতা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম একাধিক রোগ রুখতে সাহায্য করে। অনিদ্রা হাইপারটেনশনের নেপথ্যে কাজ করে। তাই অনিদ্রার সমস্যা কমলে হাইপারটেনশনের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Liver Health: অভ্যাসেই ঝুঁকি বাড়ছে লিভারের! কোন চার অভ্যাসে রাশ টানলেই লিভার সুস্থ থাকবে?

    Liver Health: অভ্যাসেই ঝুঁকি বাড়ছে লিভারের! কোন চার অভ্যাসে রাশ টানলেই লিভার সুস্থ থাকবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে চিন্তা বাড়াচ্ছে লিভারের অসুখ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক দশকে এ দেশে উল্লেখযোগ্য ভাবে লিভারের রোগের দাপট বেড়েছে। লিভারের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে শিশুদের লিভারের সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের কয়েকটি অভ্যাস লিভারের সমস্যা তৈরি করছে। লিভারের অসুখ দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠছে।

    ভারতে কতখানি লিভারের রোগের দাপট বেড়েছে? কী বলছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে লিভারের অসুখ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এদেশে লিভারের রোগের হার বেড়েছে ২৫ শতাংশ। বর্তমানে এ দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় লিভারের অসুখে ভুগছেন। ভারতীয়দের মধ্যে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের (NAFL) রোগ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। শিশুদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এ দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ শিশু ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে লিভারের অসুখের দাপট বেশি। লিভারের অসুখে মৃত্যুর হারও এ দেশে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ভারতে যেসমস্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়, তার প্রথম সারিতেই রয়েছে লিভারের অসুখ। প্রতি বছর কয়েক লাখ ভারতীয় লিভারের অসুখে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

    কোন চার অভ্যাস লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের জীবন যাপনের চার অভ্যাস লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে‌। প্রথম থেকেই এই অভ্যাসে রাশ টানলে বড় বিপদ এড়ানো সহজ‌ হয়।

    অতিরিক্ত ওজনে নিয়ন্ত্রণ!

    অতিরিক্ত ওজন ভারতীয়দের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফ্যাট এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার জেরেই এই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয় শিশুদের লিভারের সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে এই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ওজন বিশেষত পেটে জমা চর্বি লিভারের রোগের অন্যতম কারণ। তাই খাবার নিয়ে সচেতনতা জরুরি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার নয়। ওজন যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেদিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি।

    অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস লিভারের বিপদ বাড়াচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বড়দের পাশাপাশি ভারতীয় শিশুরাও অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। নানান রকমের মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি অনেকের নিয়মিত খাবারের তালিকায় থাকে। চিনি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার জেরে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়। অতিরিক্ত মিষ্টি শরীরের জন্য বিপজ্জনক। এই অভ্যাস ভারতীয়দের লিভারের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ডায়াবেটিসের দাপট লিভারের অসুখের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারত ডায়াবেটিস রোগের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে। মহামারির মতো ডায়াবেটিস ছড়িয়ে পড়েছে। বাদ নেই শিশুরাও।‌ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং জিনগত কারণে এদেশে ডায়াবেটিসের দাপট আরও বাড়ছে। আর এই রোগ একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। লিভারের অসুখের নেপথ্যেও থাকে ডায়াবেটিস। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে লিভারের ক্ষমতা কমতে থাকে। এ দেশে শিশুদের মধ্যেও টাইট টু ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। তাই শিশুরাও লিভারের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন।

    মদ্যপানে না!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মদ্যপানের প্রবণতা বাড়ছে। যা সুস্থ জীবনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষত লিভারের অসুখের ঝুঁকি কমাতে মদ্যপান সম্পূর্ণ বর্জন জরুরি। বন্ধুদের জন্মদিন হোক কিংবা নতুন বছরের উদযাপন, যেকোনও উৎসবেই সঙ্গী হয় মদ্যপান। কিন্তু এই অভ্যাস বিপজ্জনক। লিভারের ক্যান্সার থেকে সিরোসিস, একাধিক রোগের কারণ মদ্যপানের অভ্যাস। তাই এই অভ্যাসে রাশ জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সুস্থ দীর্ঘমেয়াদি জীবন যাপনের জন্য লিভারের সুস্থ থাকা জরুরি। লিভারের কার্যক্ষমতা ঠিক না থাকলে সুস্থ জীবন সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত শারীরিক কসরত করা জরুরি। পাশপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করাও প্রয়োজন। শিশুদের খাবারে বিশেষ নজরদারিও জরুরি।

     

  • Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    Dementia Surge in India: ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ! বলছে নয়া গবেষণা, কোন পথে সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাজারের খুচরো পয়সার হিসাবে মাঝেমধ্যে গোলমাল হয়ে যায়। আবার কখনও খুব পরিচিত মানুষের নাম-পদবী মনে পড়ে না। এমন নানান ছোটো ছোটো স্মৃতি বিভ্রাট অনেক সময়েই বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ডিমেনশিয়ার সমস্যা। এই সমস্যা শুধুই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা নয়। বরং, চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া হল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা। মস্তিষ্ক আর সক্রিয় থাকতে পারছে না। দেশ জুড়ে এই সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়ার দাপট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ভিটামিনের অভাব!

    কোন ভিটামিনের অভাবে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে?

    চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এই ভিটামিনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে, স্নায়ু সক্রিয় রাখতেও এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি-১২ ঘাটতি ডিমেনসিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ সরাসরি মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর কার্যক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলে। তাই এই ভিটামিনের অভাব ঘটলে মস্তিষ্কের শক্তি কমে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা কমলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া কোনো স্বাভাবিক বার্ধক্যের লক্ষণ নয়। বরং চল্লিশোর্ধ্ব যে কোনও মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। এতে সুস্থ জীবন যাপন ব্যহত হয়। তাই পুষ্টির দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু যাতে সক্রিয় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমবে।

    কীভাবে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি-১২ চাহিদা পূরণ করতে হলে খাবারে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। খাবার থেকেই শরীর সহজে এই ভিটামিন সংগ্রহ করতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন বি-১২ চাহিদা মেটাতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিমের কুসুমে ভিটামিন বি-১২ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। দিনে অন্তত একটা থেকে দুটো ডিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২ সহজেই সংগ্রহ করতে পারে। ডিমের মতোই সামুদ্রিক মাছ এবং মাংস ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ বয়স চল্লিশ পেরলেই নিয়মিত পাতে মাছ বা মাংস থাকা জরুরি। দিনে হোক বা রাতের খাবারে মাছ বা মাংসের একটি পদ‌ থাকলে শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশপাশি ভিটামিন বি-১২ জোগান হয়। দুধ, পনির জাতীয় খাবারেও ভিটামিন বি-১২ থাকে। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিরামিষাশীদের ভিটামিন বি-১২ সহজ উৎস হলো দুধ এবং পনির। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের চিজ থেকেও ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায়।

    ভারতে ডিমেনশিয়ার প্রকোপ কি বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক এক সর্বভারতীয় গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতে ডিমেনশিয়া জনস্বাস্থ্য সমস্যার আকার নিচ্ছে। ভারতের প্রায় ৮৮ লাখ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত। ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ আরও বাড়বে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটির বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হবেন। যা ভারতের সামাজিক জীবনেও বড় প্রভাব ফেলবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিমেনশিয়া আক্রান্তের মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিক জীবন‌ যাপন সম্পূর্ণ ব্যহত হয়। কার্যশক্তি হারিয়ে যায়। সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন কঠিন হয়ে ওঠে। তাই ডিমেনশিয়ার দাপট বাড়লে তা সামগ্রিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত খাবারের তালিকায় নজর দেওয়া জরুরি। বাড়ির তৈরি কম তেল মশলার প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের একাধিক উপকার হবে। এমনকি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর ক্ষমতা ও বজায় থাকবে। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করলে তবেই মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Adult Vaccination: টিকাকরণের হার মাত্র ২ শতাংশ! প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনে কেন বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন?

    Adult Vaccination: টিকাকরণের হার মাত্র ২ শতাংশ! প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনে কেন বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন?

     

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। আর সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে রোগের চরিত্র! দাপট বাড়াচ্ছে একাধিক সংক্রামক রোগ। তাই দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য টিকাকরণ (Adult Immunization) জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত ৫০ বছরের পরে নানান সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বায়ুদূষণ, জল দূষণের জেরে ফুসফুস, কিডনি ও রক্তের একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য ভ্যাকসিন (Adult Vaccination) জরুরি। কিন্তু এ দেশের সাম্প্রতিক রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনের পরিসংখ্যান তলানিতে। আর সেটাই বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    ভারতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকার হার কেমন?

    এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণের (Adult Immunization) হার বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই বাড়ছে উদ্বেগ। ওই রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, এদেশের মাত্র ২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের টিকাকরণ (Adult Vaccination) হয়েছে। অর্থাৎ, রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো টিকা শুধুই শিশুস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। বরং প্রাপ্তবয়স্কদের একাধিক রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে টিকাকরণ জরুরি। এই সচেতনতা তলানিতে। আর সেই জন্য প্রতি ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়দের মধ্যে ৯৮ জন জনের কোনও প্রাপ্তবয়স্ককালে টিকা নেওয়া হয়নি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ ভারতীয় জানেন না, প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থ থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্ককালে টিকাকরণ জরুরি। শহরের তুলনায় গ্রামে টিকা করণের হার আরও কম। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দান হয়েছে মাত্র ১.৫ শতাংশ। নিউমোনিয়ার ০.৬ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস বি রোগের টিকা নিয়েছেন ১.৯ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয়।

    কেন প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয়দের টিকাকরণের হার কম?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণের হার কম। বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশেও টিকাকরণ শুধুমাত্র শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গেই জড়িত থাকার ধারণা রয়েছে। ভারতেও প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণ কম হওয়ার অন্যতম কারণ এই সচেতনতার অভাব। শিশু অবস্থায় টিকা করণ হলেও একাধিক রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ৪০ বছরের পরে আবার টিকা করণ জরুরি হয়। শিশুদের টিকা করণ এবং বয়স্কদের টিকা করণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু রোগে পার্থক্য থাকে। বিশেষজ্ঞদের কাছে সে সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয় এই প্রসঙ্গে কথা বলেন না। ফলে তাঁদের মধ্যে সচেতনতাও তৈরি হয় না। অনেকক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণের ক্ষেত্রে খরচ একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের টিকাকরণে যেভাবে সরকার এবং প্রশাসন তৎপর, যেভাবে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণে সেই উদ্যোগের ঘাটতির রয়েছে। তাই টিকাকরণের হার তলানিতে ঠেকেছে।

    সুস্থ থাকতে কোন টিকায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    ভারতে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে! ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে প্রতি বছর ২.৫ থেকে ৩ লাখ প্রাস্ত বয়স্ক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বায়ুদূষণ বাড়ছে। তাই ফুসফুসের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া, ধূমপান ও তামাক সেবনের অভ্যাস ভারতীয়দের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পাল্লা দিয়ে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে। নিউমোনিয়া রুখতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণ জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, টিকা নেওয়া থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। মৃত্যুর সংখ্যাও কমবে। তাছাড়া চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকাকালীন, বয়স্কদের একাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। টিকা নেওয়া থাকলে শারীরিক জটিলতাও কমবে। তাই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতি বছর ভারতে ৩ লাখের বেশি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত হন। শুধুমাত্র বর্ষাকালেই আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভোগান্তি বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    বয়স্কদের হুপিং কাফ, হেপাটাইটিস রোধে টিকা কার্যকর

    এছাড়াও হুপিং কাশি রুখতেও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে বায়ুদূষণ বাড়ছে। দিন দিন বাতাসের গুণমান কমছে। তাই ফুসফুসের সংক্রমণের পাশপাশি শ্বাসনালীর সংক্রামণের ঝুঁকিও বাড়ছে। হুপিং কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই রোগ রুখতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে এই রোগের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ভারতীয়দের লিভারের রোগ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষত এই হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই রোগ রুখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো টিকাকরণ। প্রাপ্ত বয়স্কদের হেপাটাইটিস বি-র দাপট কমাতে টিকাকরণ জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share