Tag: Project Kusha

  • Project Kusha: প্রজেক্ট কুশ-এর পরীক্ষায় সাফল্য ডিআরডিও-র, দেশীয় ‘সুদর্শন’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত

    Project Kusha: প্রজেক্ট কুশ-এর পরীক্ষায় সাফল্য ডিআরডিও-র, দেশীয় ‘সুদর্শন’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামরিক স্বনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগোল ভারত। দেশীয় দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর (মতান্তরে ‘কুশা’) প্রথম উন্নয়নমূলক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর যৌথ উদ্যোগে ডুয়াল-পালস রকেট মোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেমের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপটি সাধারণত যে কোনও মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রযুক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি তৈরি করে। এই সাফল্যের ফলে প্রকল্পটি প্রাথমিক নকশা পর্যায় পেরিয়ে এখন ২০২৬ সালে সম্ভাব্য সমন্বিত ফ্লাইট পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে।

    এস-৪০০ ‘সুদর্শন’-এর দেশীয় বিকল্প

    ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘প্রজেক্ট কুশ’। সরকারি ভাবে ‘এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ (ERADS) নামে পরিচিত এই প্রকল্পের লক্ষ্য রাশিয়ার এস-৪০০ ও ভবিষ্যতের এস-৫০০ শ্রেণির সিস্টেমের দেশীয় বিকল্প গড়ে তোলা। প্রায় ২১,৭০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু একটি প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি একটি নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক এয়ার ডিফেন্স দর্শনের প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) এই প্রকল্পকে অনুমোদন দিয়েছে।এই সিস্টেমের লক্ষ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও শহরগুলিকে বহুস্তরীয় সুরক্ষা প্রদান করা। স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন থেকে শুরু করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে এই ব্যবস্থা।

    মাল্টি-লেয়ারড ডিফেন্স: তিন স্তরের প্রতিরক্ষা বলয়

    ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর মূল শক্তি এর তিন-স্তরবিশিষ্ট ইন্টারসেপ্টর আর্কিটেকচার— এম১, এম২ ও এম৩। এই স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘লেয়ার্ড ডিনায়াল’ কৌশলকে বাস্তবায়িত করে, যেখানে শত্রুপক্ষের আকাশপথে প্রবেশ ও অপারেশন ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।

    • এম১ (≈১৫০ কিমি): প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই এই ভ্যারিয়েন্টের সাব-সিস্টেম যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই প্রথম ফ্লাইট টেস্ট হতে পারে। এটি ‘পয়েন্ট ডিফেন্স’ ও ‘এরিয়া ডিফেন্স’-এর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। ট্যাকটিক্যাল ফাইটার, স্ট্যান্ড-অফ ওয়েপন এবং লো-অবজারভেবল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর।
    • এম২ (≈২৫০ কিমি): প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতিরক্ষা বলয় বিস্তৃত করে। AESA সিকার প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ নির্ভুলতা বজায় রাখে। এটি মধ্যম স্তরের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে এবং এইএসএ সিকার প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ গতিশীল ও ইভেসিভ টার্গেট ট্র্যাকিং সক্ষমতা প্রদান করে। এই স্তরটি মূলত শত্রুপক্ষের স্ট্রাইক প্যাকেজকে ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
    • এম৩ (৩৫০–৪০০+ কিমি): ৩৫০-৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—যেমন আর্লি ওয়ার্নিং বিমান বা রিফুয়েলার—ধ্বংস করতে সক্ষম। কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এটি শত্রুপক্ষের ‘হাই-ভ্যালু এয়ারবর্ন অ্যাসেট’—যেমন অ্যাওয়াক্স, এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলার—এবং নির্দিষ্ট ধরনের ব্যালিস্টিক হামলাকে দূর থেকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুর ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

    এই তিনটি স্তরের সমন্বয়ে একটি ‘ডিফেন্স-ইন-ডেপথ’ মডেল গড়ে উঠছে, যা আধুনিক নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক যুদ্ধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    প্রযুক্তিগত দিক: সেন্সর-শুটার ইন্টিগ্রেশন

    প্রজেক্ট কুশ-এর কার্যকারিতা নির্ভর করছে উন্নত সেন্সর, রাডার এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মধ্যে রিয়েল-টাইম ডেটা লিঙ্কের উপর। এইএসএ রেডার (AESA Radar), উন্নত ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং কিল ভেহিকলের সমন্বয় একটি ‘সেন্সর-টু-শুটার’ চেইন তৈরি করবে, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করবে। ডুয়াল-পালস রকেট মোটরের ব্যবহার মিসাইলকে শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত গতি ও ম্যানুভারেবিলিটি প্রদান করে—যা হাই-স্পিড ও ইভেসিভ টার্গেট ইন্টারসেপ্টে গুরুত্বপূর্ণ।

    পরবর্তী ধাপ ও সময়সীমা

    গ্রাউন্ড ট্রায়াল সফল হওয়ার পর এখন মূল লক্ষ্য এম১ ক্ষেপণাস্ত্রের ফ্লাইট টেস্ট। এরপর ধাপে ধাপে এম২ ও এম৩-এর পরীক্ষাও হবে। ভারতীয় বায়ুসেনা ইতিমধ্যেই একাধিক স্কোয়াড্রনের জন্য ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ২০২৮ সালের মধ্যে সিস্টেমের কিছু অংশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ তিন-স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমা বাস্তবায়িত হলে, ভারত প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ দেশীয় লং-রেঞ্জ মাল্টি-লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক পাবে।

    কৌশলগত গুরুত্ব: ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ ও ভবিষ্যৎ রফতানি

    ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর অংশ হিসেবে প্রজেক্ট কুশ ভারতের ভবিষ্যৎ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় প্রতিরক্ষা জাল গড়ে তোলাই লক্ষ্য। ‘আকাশ-এনজি’ এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে এই প্রকল্প ভারতের বিদেশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াবে না, ভবিষ্যতে ভারতের জন্য উন্নত সামরিক প্রযুক্তি রফতানির নতুন দরজাও খুলে দিতে পারে। প্রজেক্ট কুশ শুধুমাত্র একটি মিসাইল সিস্টেম নয়, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তনের প্রতীক। মাল্টি-লেয়ারড, নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ সফল হলে, ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে—এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা মানচিত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • Benjamin Netanyahu: ‘মোদি-জ্যাকেট’ পরে নৈশভোজে হাজির নেতানিয়াহু, “চমৎকার” বললেন মোদি

    Benjamin Netanyahu: ‘মোদি-জ্যাকেট’ পরে নৈশভোজে হাজির নেতানিয়াহু, “চমৎকার” বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে নৈশভোজের আসরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চমকে দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। বুধবার জেরুজালেমে আয়োজন করা হয়েছিল ওই নৈশভোজের (Traditional Indian Attire)। সেখানেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পাথর-রঙের একটি নেহরু জ্যাকেট বেছে নেন, যা জনপ্রিয়ভাবে ‘মোদি জ্যাকেট’ নামেও পরিচিত। এতে ছিল ব্যান্ড কলার ও নিখুঁত কাটছাঁটের ফিটিং। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন সাদা, লম্বা হাতাওয়ালা সাধারণ রংয়ের কুর্তা-ধাঁচের একটি শার্ট। গাঢ় নীল রঙের ফরমাল ট্রাউজার এবং পালিশ করা কালো চামড়ার জুতোয় তাঁকে আদ্যোপান্ত ভারতীয় বলেই মনে হচ্ছিল।

    ভারতীয় পোশাকে নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)

    এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে নেতানিয়াহু মোদির প্রতিক্রিয়ার ঝলক শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, “আমাদের যৌথ নৈশভোজের আগে আমি আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাক পরে চমকে দিয়েছি।” কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত একটি দিনের মধ্যেই এই পোশাক-নির্বাচনের বার্তা আসে। এর আগে মোদি নেসেটের বিশেষ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন, যা তাঁকে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণদানকারী প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করে। নেতানিয়াহুর পোস্টের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি সেটি ফের শেয়ার করে লেখেন, “চমৎকার! ভারতীয় পোশাকের প্রতি আপনার অনুরাগ আমাদের দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আপনার শ্রদ্ধারই প্রতিফলন।”

    একাধিক মউ সই হওয়ার কথা

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও নেতানিয়াহু আজ, বৃহস্পতিবার যৌথভাবে ইয়াদ ভাশেম পরিদর্শন করবেন এবং পরে কিং ডেভিড হোটেলে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন (Benjamin Netanyahu)। আলোচনায় ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বের সামগ্রিক পর্যালোচনা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিশেষ গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করা। পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও দুই নেতা মতামত বিনিময় করবেন (Traditional Indian Attire)। এই সফরকালে অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রজুড়ে একাধিক মউ সই হওয়ার কথা, যা দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যৌথভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিবৃতি দেবেন এবং আলোচনার নির্যাস তুলে ধরবেন। বর্তমানে ভারত ইজরায়েলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত করার পথে এগোচ্ছে, যার লক্ষ্য আয়রন ডোম প্রযুক্তি অধিগ্রহণ। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা কেবল সরাসরি ক্রয় নয়, বরং এটি ভারতের নিজস্ব ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ (প্রজেক্ট কুশা নামেও পরিচিত)-এর একটি মূল উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে (Benjamin Netanyahu)।

     

LinkedIn
Share