Tag: Publishers and Booksellers Guild

  • Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে এল ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার (Kolkata Book Fair 2027) দিনক্ষণ। ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের আয়োজন (50th Kolkata Book Fair)। বই ও সংস্কৃতির এই মহোৎসব চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    কলকাতা বইমেলার দীর্ঘ ইতিহাসে এবারের আয়োজন নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২৭ সালে এই আন্তর্জাতিক বইমেলা পা রাখছে ৫০তম বর্ষে। তাই সুবর্ণজয়ন্তীর এই বইমেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

    সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে বইমেলা পরিচালনার জন্য গত মাসেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ জনের ওই কমিটিতে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের প্রতিনিধিরা। সেই সময়ই জানানো হয়েছিল, এবারের বইমেলার আয়োজন যৌথভাবে করবে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ড, পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং জাতীয় পুস্তক ট্রাস্ট। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    স্টল বণ্টনে আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

    বিগত কয়েক বছরে কলকাতা বইমেলায় স্টল বণ্টন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার বই প্রকাশকদের স্টল পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এবার স্টল বণ্টন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আয়োজকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্টল বণ্টনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বড় প্রদর্শনী ও মেলায় যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্টল বরাদ্দ করা হয়, এবার কলকাতা বইমেলাতেও (Kolkata Book Fair 2027) সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অনলাইনে আবেদন করে প্রকাশকেরা স্টলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    থিমের কেন্দ্রবিন্দুতে ইজরায়েল, বিকল্প ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ

    সুবর্ণজয়ন্তীর বইমেলার থিমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইজরায়েলকে তুলে ধরার সম্ভাবনাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেত ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রের অনুমোদন না মিললে ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ উদযাপনকেই এবারের বইমেলার মূল থিম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা

    এদিকে সাহিত্যপ্রেমীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন, এবারের কলকাতা বইমেলায় (Kolkata Book Fair 2027) কি ফের দেখা যাবে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন? গত দু’বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের পৃথক প্যাভিলিয়ন বা স্টল থাকার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

    বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজক কমিটি ও প্রকাশকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে খবর। তবে প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে মেলায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    আয়োজকদের বক্তব্য, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিদেশমন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। দুই মন্ত্রকের ছাড়পত্র মিললে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে ফের আলোচনা হতে পারে।

    ভারতীয়ত্বের’ ছাপ রাখার দাবি

    কলকাতা বইমেলাকে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে সমস্ত প্রকাশক, মুদ্রাকর এবং বই বিক্রেতার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত করার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে সাহিত্য মহলে।

    কিছুদিন আগে প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কলকাতা বইমেলা নিয়ে সরব হন। তাঁর দাবি, বইমেলায় স্পষ্টভাবে ‘ভারতীয়ত্বের’ ছাপ থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সব মত ও পথের মানুষের অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র হিসেবে কলকাতা বইমেলাকে গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

    বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলি গত দু’বছর ধরে কলকাতা বইমেলায় (50th Kolkata Book Fair) অংশ নিতে পারছে না কেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও প্রশাসনিক কমিটি ও প্রকাশকদের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তি রয়েছে। ফলে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রকের নির্দেশ এবং অনুমোদনের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (Kolkata Book Fair 2027)।

     

LinkedIn
Share