Tag: Purulia industrial hub

  • Birla Group Bengal Investment: বাংলায় বড় লগ্নির ইঙ্গিত! কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক শমীকের, এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষা

    Birla Group Bengal Investment: বাংলায় বড় লগ্নির ইঙ্গিত! কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক শমীকের, এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই আবহেই বাংলায় নতুন করে লগ্নির বার্তা দিল আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী। রাজ্যসভায় সাংসদ তথা বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বলে দাবি শমীকের। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই সেই বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

    বাংলায় পুরনো ব্যবসা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা

    রবিবার কলকাতায় কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক ভট্টাচার্য। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর বর্তমান ব্যবসায়িক পরিসর আরও বাড়ানো এবং নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শমীকের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে এবং রাজ্যে গোষ্ঠীটির নতুন লগ্নির সম্ভাবনা রয়েছে।

    শমীক জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নতুন ও সমন্বিত শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের রাজ্যে আরও বেশি করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রেক্ষাপটে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর মতো দীর্ঘদিনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বঙ্গ বিজেপি সভাপতির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিড়লা গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অতীতে শ্রমিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া শিল্প-পরিবেশের কারণে রাজ্য থেকে বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি বদলে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই স্পষ্ট হতে পারে লগ্নির রূপরেখা

    শমীকের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কুমার মঙ্গলম বিড়লার সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে শিল্পমহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, চলতি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রকল্প নিয়ে আরও নির্দিষ্ট আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    অর্থাৎ শুধু নতুন করে লগ্নি নয়, বাংলায় ইতিমধ্যে যে ক্ষেত্রগুলিতে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ব্যবসা রয়েছে, সেগুলির পরিসর বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে সম্ভাব্য বিনিয়োগের নির্দিষ্ট অঙ্ক বা প্রকল্পের তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    পুরুলিয়ায় এক বছরে ১ লক্ষ কোটির বিনিয়োগের লক্ষ্য

    আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর বিনিয়োগ-বার্তার পাশাপাশি রাজ্যের শিল্পায়নের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পুরুলিয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী এক বছরে জেলায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে। প্রতিরক্ষা, স্টিল, সিমেন্ট এবং সৌরবিদ্যুৎ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভূমিপুজো হয়েছে। পাশাপাশি পুরুলিয়ায় আরও শিল্প প্রকল্প আনার জন্য জমি ও পরিকাঠামোগত সুযোগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। শিল্পের পাশাপাশি পর্যটন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লক্ষ্য, পুরুলিয়াকে শুধু শিল্পাঞ্চল নয়, একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা।

    উড়ান প্রকল্পে পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর

    পুরুলিয়ার শিল্পায়নের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিমান যোগাযোগও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের উড়ান (UDAN—‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’)—প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের তরফে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রাজ্য সরকারের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে পুরুলিয়ার শিল্প, পর্যটন এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসতে পারে। বিশেষ করে শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শিল্পায়নের সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর

    পুরুলিয়াকে একটি বড় শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি রাস্তা, বিমান যোগাযোগ, পর্যটন পরিকাঠামো এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের দিকেও নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা থেকে স্টিল, সিমেন্ট থেকে সৌরবিদ্যুৎ—বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে প্রস্তাব আসছে। একই সঙ্গে পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফলে একদিকে কলকাতা ও রাজ্যের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ টানার চেষ্টা, অন্যদিকে পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলিতে নতুন শিল্প ও যোগাযোগ পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা—দুই দিকেই জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে বিনিয়োগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্প বা আর্থিক প্রতিশ্রুতি সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।

LinkedIn
Share