Tag: quetta

  • BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল পাক সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, পৃথক দু’টি হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত (Pakistani Soldiers Killed) হয়েছেন। এর মধ্যে জিয়ারত ক্রস এলাকায় সামরিক কনভয়ে হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার দাবি করেছে বিএলএ। এদিকে, হাজিকা এলাকায় আরও একটি হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে পাক সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বালুচিস্তানের মাস্তুং, সিবি, কোয়েটা ও কালাত জেলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্য রয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সামরিক বাহিনী। ফলে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তীব্র হয়েছে।

    সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ (BLA)

    গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াডে’র সদস্যরা জিয়ারত ক্রস এলাকায় একটি সামরিক কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় দু’টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয় এবং ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আরও পাঁচ সেনা আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও জানিয়েছে বিএলএ।

    এই হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো সবচেয়ে বড় এবং দুঃসাহসিক হামলাগুলির একটি সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর বিএলএর নিজস্ব গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ এবং আগুনে জ্বলতে থাকা একটি সামরিক ট্রাকের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সামরিক যানগুলির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আলোচনায় বিএলএর ফাতেহ স্কোয়াড এবং এসটিওএস

    জিয়ারত ক্রসের হামলার পর ফের আলোচনায় এসেছে বিএলএর বিশেষ যুদ্ধ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’। বালুচিস্তানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনী মূলত গেরিলা কৌশল, অতর্কিত হামলা এবং হাইরিস্কের সামরিক অভিযানে সক্রিয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগেও বড় হামলায় এই ইউনিটের নাম সামনে এসেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফাতেহ স্কোয়াড জড়িত ছিল বলে দাবি করেছিল বিএলএ। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    অন্যদিকে হাজিকা এলাকায় পৃথক হামলায় বিএলএ দাবি করেছে, তাদের ‘স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড’ (STOS) একটি দূর-নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। যদিও এই দাবিরও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে সাংবাদিকদের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এই সব ভিডিওর সত্যতা এবং প্রেক্ষাপটও যাচাই করা যায়নি।

    ফের সামনে ‘অপারেশন হেরোফে’র স্মৃতি

    বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক হিংসতার মাত্রা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত মাসে বিএলএ দাবি করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন এলাকায় তারা ৩৬টি অভিযান চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে ৩৩ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যানও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ২০২৪ সালে বিএলএর চালানো ‘অপারেশন হেরোফে’র কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই অভিযানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামোকে টার্গেট করেছিল। করাচি-কোয়েটা সড়কের বিভিন্ন অংশে হামলার পাশাপাশি মাস্তুংয়ের একটি রেলস্টেশনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ওই অভিযানে ২৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং প্রচুর সেনাকর্মী জখম হওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএলএ।

    পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের জবাব

    বিএলএর সাম্প্রতিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায় পাক সেনা (Pakistani Soldiers Killed)। সেনাবাহিনীর দাবি, বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিহতদের মধ্যে বিএলএ (BLA) সদস্যদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপির সদস্যও রয়েছে। ফলে বালুচিস্তানের সংঘাত শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে।

    বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন চলছে। বালুচ সংগঠনগুলির অভিযোগ, ওই প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আকছার মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক গুম এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

    আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বালুচিস্তান ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক (BLA) থেকেও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন বালুচ সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

    বিএলএ-সহ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান সেই পুরনো সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দু’পক্ষের হতাহতের দাবি যদি আরও বড় আকার নেয়, তাহলে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সড়ক, রেলপথ ও সামরিক কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা বাড়লে ঝুঁকির মুখে (Pakistani Soldiers Killed) পড়তে পারে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও (BLA)।

     

  • Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের (Pakistani Military Convoy) মাস্তুং জেলায় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে ভয়াল হামলা এবং পরবর্তী অতর্কিত হামলায় ১৩ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং অন্তত ১০ জন জখম হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (Baloch Liberation Army)।

    সংগঠনের মুখপাত্র জিয়েন্দ বালোচ জানিয়েছেন, ২২ অগাস্ট রাতে মাস্তুং জেলার খাদকোচা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া গাড়িকে বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে আর একটি সাঁজোয়া গাড়ি ও কনভয়ের সঙ্গে থাকা অন্যান্য যানবাহনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    জিয়েন্দ বালোচ বলেন, “এই ভয়াবহ হামলায় দখলদার বাহিনীর ১৩ জন সদস্য নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি জখম হয়েছে।” তিনি জানান, এই অভিযানে সংগঠনটির বিশেষ কৌশলগত অভিযান দল অংশ নেয়।

    এর আগে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বালোচিস্তান পোস্টকে জানিয়েছিল, বিস্ফোরণে একটি সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস এবং আর একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেনা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

    হামলার পর অনির্দিষ্টকালের কারফিউ (Baloch Liberation Army)

    হামলার পর ২৩ অগাস্ট সকাল ৭টা থেকে খাদকোচা ও আশপাশ এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে বালোচিস্তান স্বরাষ্ট্র দফতর। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও বাজারে যাতায়াত করাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং এলাকায় চলমান অভিযানের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Pakistani Military Convoy)।

    এদিকে ২৩ অগাস্ট তুরবাতের হায়রাবাদ এলাকায় পৃথক একটি হামলায় তিন পাক সেনা নিহত এবং আরও তিনজন জখম হয়েছে বলেও দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। যদিও সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হায়দরাবাদে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি তল্লাশি দলের ওপর হামলা হলেও তিন সদস্যই আহত হয়েছেন।

    কর্তাদের বক্তব্য, তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছ’জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি গ্রেনেড নিক্ষেপের পর গুলি চালায়। পরে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মির আরও দাবি করেছে, নোশকি, কালাত, খারান, ওয়াশুক, জেহরি ও চাগাইসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা আরও আটটি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সংগঠনটির পরবর্তী সাপ্তাহিক বিবৃতিতে জানানো হবে বলেও দাবি করা হয়েছে (Baloch Liberation Army)।

    সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস

    স্থানীয় সূত্রে খবর, খাদকোচায় সামরিক কনভয়ের অংশ হিসেবে চলাচলকারী একটি বড় সাঁজোয়া গাড়ি বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অন্য একটি সাঁজোয়া গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    আঞ্চলিক সূত্রগুলি জানিয়েছে, দুই সামরিক সদস্যের মরদেহ এবং আটজন আহত সেনাকে মাস্তুংয়ের নওয়াব গাউস বখশ রাইসানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের হেলিকপ্টারে করে কোয়েটার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও খবর (Pakistani Military Convoy)। তবে এই হামলায় হতাহতের বিষয়ে পাক কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কিছু বলেননি।

    খাদকোচা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    খাদকোচায় সর্বশেষ হামলার আগে ১৭ জুলাই ওই একই এলাকায় বড় ধরনের আর একটি হামলা হয়েছিল। সেদিন কোয়েটা থেকে করাচির দিকে যাওয়া ১৮টিরও বেশি বাস ও নিরাপত্তাবাহিনীর যানবাহন নিয়ে গঠিত একটি কনভয়ে হামলা হয়। সেই হামলার দায়ও বালোচ লিবারেশন আর্মি স্বীকার করেছিল এবং বহু সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করেছিল সংগঠনটি।

    এদিকে ২২ অগাস্ট রাতেই মাস্তুং জেলার খাদকোচার কাছে আনজেরি ক্রস এলাকায় জাতীয় মহাসড়ক এন-২৫-এর একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে সেতুটিতে হামলা চালায়। যদিও, হতাহতের খবর  মেলেনি।

    সেতুটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা মহাসড়কে যান চলাচলে এর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কর্তৃপক্ষ। বালোচিস্তানকে (Baloch Liberation Army) করাচি ও পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলির একটি হল এই মহাসড়ক (Pakistani Military Convoy)।

    এক সপ্তাহের মধ্যে এটি সেতুতে তৃতীয় হামলার ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। ২১ অগাস্ট খুজদারের জিদি এলাকায় একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয় বলে খবর মিলেছে। এর আগে খারানের সোটাগান এলাকায় খারান-করাচি মহাসড়কের একটি সেতু ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেঙে ফেলার খবরও পাওয়া যায়।

    তবে সেতুগুলিতে চালানো এসব হামলার কোনওটির দায় স্বীকার করে সোমবার সন্ধে (Baloch Liberation Army) পর্যন্তও বিবৃতি দেয়নি কোনও সংগঠন (Pakistani Military Convoy)।

     

  • Pakistan: বালোচ মানবাধিকার নেত্রী মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন, পাকিস্তানের আওড়ানো অসার মানবাধিকার বুলি নিয়ে নয়া বিতর্ক

    Pakistan: বালোচ মানবাধিকার নেত্রী মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন, পাকিস্তানের আওড়ানো অসার মানবাধিকার বুলি নিয়ে নয়া বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খসে পড়ল পাকিস্তানের (Pakistan) ভন্ডামির মুখোশ! মানবাধিকার নিয়ে ভারতের সমালোচনা করার কয়েক দিনের মধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল পাকিস্তানে বালোচ অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহরাং বালোচ (Mahrang Baloch) এবং বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র নেতা সিবঘাতুল্লাহ শাহকে। পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই সাজা দিয়েছে। ২০২৪ সালে বালোচিস্তানের গওয়াদরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় মাহরাংদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    পাক আদালতের রায় (Pakistan)

    পাক আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই সে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ঐতিহাসিক মুসলিম কাঠামো রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছিলেন। তার পরপরই বালোচ মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাজা পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলল বলেই মত পর্যবেক্ষকের। মামলার তদন্তে নেমে পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিওয়াইসির বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে উত্তেজিত জনতা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়। পরে ওই বাহিনীর সদস্য শাব্বির বালোচকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, জনতাকে সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন মাহরাং ও সিবঘাতুল্লাহ।

    বালোচ জনগণের অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ!

    যদিও, শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এই দুই বালোচ নেতা। তাঁদের সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং (Pakistan) বালোচ জনগণের অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ করতেই এই মামলা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও বালোচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, এটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মামলা নয়, একজন নিরাপত্তা কর্মীর হত্যাকাণ্ডের বিচার। জানা গিয়েছে, প্রথমে গওয়াদরে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, নিরাপত্তার ‘অজুহাত’ দেখিয়ে মামলাটিকে স্থানান্তরিত করা হয় কোয়েটার একটি কারাগারে। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মি

    পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র ঘনিষ্ঠ বা তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করে। বিওয়াইসি অবশ্য বারবার সেই অভিযোগ খারিজ করে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অধিকার আন্দোলনের সংগঠন বলে দাবি করেছে। উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ বালোচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ। বহু দশক ধরে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে (Mahrang Baloch) সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। স্থানীয়দের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা এবং সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি (Pakistan) জানিয়ে আসছে।

     

  • Afghan Taliban: ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অপারেশন সিঁদুর-এ, পাকিস্তানের সেই নূর খান এয়ারবেসে হামলা চালাল আফগানিস্তান

    Afghan Taliban: ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অপারেশন সিঁদুর-এ, পাকিস্তানের সেই নূর খান এয়ারবেসে হামলা চালাল আফগানিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পর আফগানিস্তান। পাকিস্তানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নূর খান বিমানঘাঁটি সোমবার হামলা চালাল আফগান তালিবান বাহিনী। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় সমন্বিত বিমান অভিযানের অংশ হিসেবেই রাওয়ালপিন্ডির এই বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।

    নূর খান বিমানঘাঁটিটি রাজধানীইসলামাবাদ থেকে ২৫ কিলোমিটারেরও কম দূরে অবস্থিত এবং পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।  উল্লেখ্য, গত বছর মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এই ঘাঁটিটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই হামলার পর থেকেই ঘাঁটির পুনর্গঠন ও মেরামতির কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে সংস্কারের কাজ জোরদার করা হয়েছিল। তার মধ্যেই হামলা চালাল তালিবান।

    সোমবারের হামলার পর ঘাঁটিতে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনও সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনার ফলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    নূর খান এয়ারবেসের পাশাপাশি, পাকিস্তানের (Pakistan) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দফতরকে টার্গেট করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার (Afghan Taliban)। আফগান তালিবানের দাবি, তাদের বাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ও সামরিক দফতরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আফগান তালিবানের আধিকারিকরা জানান, বালুচিস্তানের কোয়েটায় ১২তম ডিভিশনের সদর দফতর এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহমান্দ এজেন্সিতে খোয়াজাই সামরিক শিবিরের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়েছে। আফগানিস্তান জানিয়েছে, কাবুল, বাগরাম এবং অন্যান্য স্থানে পাকিস্তানের আগের সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

    আফগানিস্তানের বক্তব্য (Afghan Taliban)

    এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, আফগান বিমান বাহিনী পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দফতরগুলি লক্ষ্য করে বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। যদিও পাকিস্তানের দাবি, সামরিক অভিযানে তারা ৪১৫ জন আফগান তালিবান সদস্যকে হত্যা করেছে। জখম হয়েছে ৫৮০ জনেরও বেশি। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ্ তারার রবিবার বলেন, এই পদক্ষেপ একটি বৃহত্তর প্রতিক্রিয়ার অংশ (Pakistan)। পাকিস্তান বৃহস্পতিবার রাতে ‘গজব লিল হক’ নামের অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালিবান সদস্যরা ২,৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে ৫৩টি জায়গায় হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলায় দেশের ভেতরের সামরিক দফতরগুলিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল (Afghan Taliban)।

    পাকিস্তানের দাবি

    সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তারার জানান, নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ১৮২টি আফগান চৌকি ধ্বংস করেছে এবং আরও ৩১টি চৌকি দখল করেছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় ১৮৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও আর্টিলারি গান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আফগানিস্তানের ৪৬টি জায়গায় সফল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জানান, আফগান তালিবানের বিরুদ্ধে অভিযান এখনও চলছে। সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার ছড়িয়ে পড়া এমন খবর নস্যাৎ করে দেন তিনি। এদিকে, আফগান পক্ষের দাবি, তারা একটি পাকিস্তানি (Pakistan) যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তবে পাক কর্তারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন (Afghan Taliban)।

     

LinkedIn
Share