Tag: Rabindranath Tagore

Rabindranath Tagore

  • Nadia: পেনসিলের ওপর আট মিলিমিটারের দেবী সরস্বতীর মূর্তি, তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নদিয়ার শিল্পী

    Nadia: পেনসিলের ওপর আট মিলিমিটারের দেবী সরস্বতীর মূর্তি, তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নদিয়ার শিল্পী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইচ্ছেশক্তি আর নিজের ওপর ভরসা থাকলে যে সব কাজই করা সম্ভব, তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন নদিয়ার (Nadia) নবদ্বীপের এক শিল্পী। বুধবার সরস্বতী পুজোয় মেতে উঠেছেন রাজ্যবাসী। এরই মাঝে নিজের ইচ্ছেশক্তির ওপর ভর করে ফের একবার ভিন্ন ভাবনায় পেনসিলের ওপর আট মিলিমিটারের দেবী সরস্বতীর মূর্তি তৈরি করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন নবদ্বীপের অঙ্কন শিক্ষক গৌতম সাহা। নবদ্বীপ শহরের প্রতাপনগর এলাকার বাসিন্দা তিনি। বয়স আনুমানিক ৫৬। 

    চক-চালের ওপর শিল্পকলা 

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌতমবাবুর বাবা ছিলেন আকাশবাণীর গীতিকার ও শিক্ষক। পরিবারে স্ত্রী, সন্তান সহ দুই দিদি রয়েছেন। তাঁরাও লেখালেখি, সংগীতচর্চা নিয়ে ব্যস্ত। এক কথায় শিক্ষা ও শিল্পসত্ত্বা ঘেরা পরিবার থেকেই উঠে আসা গৌতমবাবুর। জানা যায়, গত লকডাউনের সময় থেকে তিনি এই ক্ষুদ্র শিল্পকলার কাজ শুরু করেন। অতীতে বিভিন্ন সময়ে তিনি কখনও মুগডালের ওপর, কখনও ধানের ওপর, তো কখনও চক বা চালের ওপর মাটি রং দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মা কালী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাপ্রভু সহ বিভিন্ন দেবদেবী ও মণীষীদের মূর্তি। আর এবার দেবী সরস্বতীর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের জন্য গত পনেরো দিন ধরে দিন রাত এক করে এবার একটি আনুমানিক ছয় সেন্টিমিটারের পেনসিলের ওপর মাটি, রং দিয়ে আট মিলিমিটারের দেবী সরস্বতীর মূর্তি ফুটিয়ে তুলেছেন। আর তা দিয়েই কার্যত আবারও তাক লাগিয়েছেন নদিয়ার (Nadia) নবদ্বীপের এই শিল্পী। আর এবারের তাঁর এই সৃষ্টি দেখতে বাড়িতে হাজির হচ্ছেন অনেকেই।

    কী বললেন শিল্পী?

    গৌতমবাবু বলেন, এর আগে অনেক ক্ষুদ্র শিল্পকলার কাজ করেছি। তবে, এভাবে মা সরস্বতী মূর্তি তৈরি কোনও দিন করিনি। এবার সেই উদ্যোগ নিলাম। দু’সপ্তাহের মধ্যেই আমি এই কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি। সবার ভালো লেগেছে জেনে আমি খুশি।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • CV Ananda Bose: রাজভবনের উত্তর গেট এবার ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটক’, নামকরণ করলেন রাজ্যপাল

    CV Ananda Bose: রাজভবনের উত্তর গেট এবার ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটক’, নামকরণ করলেন রাজ্যপাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজভবনের উত্তর গেটের নামকরণ হচ্ছে ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটক’। বৃহস্পতিবার শান্তিনিকেতন সফরে এসে ফটকের নামের ফলক উন্মোচন ও শুদ্ধিকরণ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)। কবিগুরুর ‘প্রাণের আরাম’ ছাতিমতলায় সেই ফলকের উন্মোচন করা হয়। সঙ্গে ছিলেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সঞ্জয়কুমার মল্লিক। রাজ্যপাল রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা, ছাতিমতলা, উপাসনা গৃহ ঘুরে দেখেন।

    রাজভবন থেকে শ্বেত পাথরের ফলক আনলেন রাজ্যপাল (C V Ananda Bose)

    বন্দেভারত এক্সপ্রেসে এদিন সকালে শান্তিনিকেতনে যান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose)। বোলপুর স্টেশন থেকে সোজা তিনি শান্তিনিকেতনে যান। রথীন্দ্র অতিথি গৃহে তিনি বিশ্রাম নেন। দুপুরে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালায় আসেন তিনি। ঘুরে দেখেন গুরুদেবের ব্যবহৃত সামগ্রী। সেখান থেকে ছাতিমতলায় যান রাজ্যপাল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি দেওয়া একটি শ্বেত পাথরের ফলক রাজভবন থেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেই ফলকে লেখা ছিল ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটক’। এই ফলকটি কবির ‘প্রাণের আরাম, আত্মার শান্তি, মনের আনন্দ’ ছাতিমতলায় উন্মোচন ও শুদ্ধিকরণ করেন। এমনিতেই পৌষমেলা নিয়ে এতদিন টালবাহনা চলছিল। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্বপল্লির মাঠে পৌষমেলা হওয়ার কথা রয়েছে। এনিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ মেলা করার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। যদিও এদিন রাজ্যপাল বিশ্বভারতীতে এসে পৌষমেলা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

    কী বললেন রাজ্যপাল? (C V Ananda Bose)

    বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সঞ্জয়কুমার মল্লিককে পাশে নিয়ে রবীন্দ্রভবনের সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল (C V Ananda Bose) বলেন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেশের শুধু নয়, বিশ্বের কাছে গর্বের। তাঁর সৃষ্টি পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে আছে। আমি গর্বিত এমন বিখ্যাত মানুষের কর্মভূমিতে আসতে পেরে। এরপর রাজ্যপাল বলেন, এই ফলকটি রাজভবনের উত্তর গেটে বসবে। রাজভবনের উত্তর গেটের নামকরণ করা হবে ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটক’।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Visva Bharati: প্রাক্তন উপাচার্যের বাড়িতে ঢুকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ, করা হল ভিডিও

    Visva Bharati: প্রাক্তন উপাচার্যের বাড়িতে ঢুকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ, করা হল ভিডিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বভারতীর (Visva Bharati) প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলায় দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে বীরভূম জেলার পুলিশ। এদিন প্রাক্তন উপাচার্যের বাড়তিতে ঢুকেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় করা হয়েছে ভিডিও রেকর্ডিং এবং পুরো প্রক্রিয়াকে লিখিত আকারে নেওয়া হয়েছে। শেষে প্রাক্তন উপাচার্যকে দিয়ে সইও করানো হয় বলে জানা গিয়েছে।

    রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত (Visva Bharati)

    বিশ্বভারতীর (Visva Bharati) প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী নিজের কার্যকালে একাধিক বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গিয়েছিলেন। শাসক দলের নেতারা ক্যাম্পাসে দৌরাত্ম্য চালায়। তৃণমূলের নেতাদের অবৈধভাবে জায়গা দখল, পৌষমেলা বন্ধ, মেলার মাঠে বেআইনি দখল, বসন্ত উৎসবের নামে অপসংস্কৃতি থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসে দেওয়াল দেওয়া ইত্যাদি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সর্বোপরি অমর্ত্য সেনের জমি দখলকে ঘিরে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংঘাতে গিয়েছিলেন তিনি। ফলে শাসক দল, পুলিশকে দিয়ে প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে বলে মনে করছে অনেকেই।

    ফলক বিতর্ক

    বিদ্যুৎ চক্রবর্তী উপাচার্য থাকার সময় ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সম্মান পাবার পর থেকেই বিশ্বভারতী (Visva Bharati) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পসের একাধিক জায়গায় ফলক লাগানো হয়। আর তা থেকে শুরু হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। বিতর্কের কারণ ছিল ফলকে উপাচার্য হিসাবে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, আচার্য হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর নাম ছিল। ছিল না রবীন্দ্রনাথের নাম। আর নাম না থাকার কারণে বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল।

    নোটিশ পাঠিয়েছিলেন শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সদস্য

    এই ফলক বিতর্কের জন্যই বিশ্বভারতীর (Visva Bharati) প্রাক্তন উপাচার্যকে নোটিশ পাঠিয়েছিল পুলিশ। সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নোটিশে মূল অভিযোগ করেছিলেন শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার। গত ১৪ নবভেম্বর বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে শান্তিনিকেতন থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই ফলকে নাম নিয়ে রাজ্যের রাজ্যাপাল সিভি আনন্দ বোসও তৎকালীন উপাচার্যের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিলেন। যদিও ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতীর ফলক পরিবর্তনের জন্য নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের একটি কমিটি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Viswa Bharati: মেয়াদের শেষলগ্নে মমতাকে চিঠি বিশ্বভারতীর উপাচার্যের, দিলেন দুর্নীতি ইস্যুতে খোঁচাও

    Viswa Bharati: মেয়াদের শেষলগ্নে মমতাকে চিঠি বিশ্বভারতীর উপাচার্যের, দিলেন দুর্নীতি ইস্যুতে খোঁচাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেয়াদের শেষলগ্নে ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন বিশ্বভারতীর (Viswa Bharati) উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। ওই চিঠিতে বিশ্বভারতীর উপাচার্য লেখেন, ‘‘আমার প্রতিটা মুহূর্ত আমি সুন্দরভাবে কাটিয়েছি বিশ্বভারতীর উপাচার্য হিসেবে।’’ চিঠিতে বিশ্বভারতীর অন্দরকে দুর্নীতির আখড়া বলে উল্লেখও করেছেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এভাবেই দুর্নীতি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিলেন উপাচার্য। বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মতে, ‘‘যারাই বিশ্বভারতীর দুর্নীতিকে সাফ করার কথা চিন্তাভাবনা করে, তাদের প্রত্যেককেই সহজ লক্ষ্য বানানো হয়।’’

    রবীন্দ্রনাথের অনুগামীর ভান করে অনেকে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করেন

    এক্ষেত্রে উপাচার্য উদাহরণ টেনেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও। যিনি ছিলেন প্রথম উপাচার্য বিশ্বভারতীর (Viswa Bharati)। রবীন্দ্রনাথের পুত্রকেও বাধ্য হয়ে উপাচার্যের পদ ছাড়তে হয়েছিল বলে এমনটাই জানিয়েছেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এদিন উপাচার্যের আরও দাবি করেছেন, ‘‘যাঁরা নিজেদেরকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুগামী বলেন, তাঁরাই ব্যক্তি স্বার্থের জন্য সদা কাজ করেন। রবীন্দ্রনাথের দর্শনকে এখানে একটা ইন্সট্রুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেন তাঁরা যা কিনা ব্যক্তি স্বার্থকে চরিতার্থ করতে কাজে লাগে।’’

    আজই শেষ হচ্ছে উপাচার্যের মেয়াদ 

    প্রসঙ্গত, ৮ নভেম্বর শেষ হচ্ছে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মেয়াদ। তার আগে মঙ্গলবারই সামনে এল মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা তাঁর পাঁচ পাতার চিঠি। এদিন যে চিঠিতে উপাচার্য লেখেন,  “সবশেষে বিশ্বভারতীতে (Viswa Bharati) পরিবর্তন হচ্ছে, তাই যারা এর থেকে ফায়দা নিতেন, তারা ভীত এবং প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে, তাই তারা এবার শেষ কামড় দিচ্ছেন।”  প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ২০১৮ সালের নভেম্বরে। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এটি। বিশ্বভারতীর আচার্য খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পায় বিশ্বভারতী। বিদ্যুৎ চক্রবর্তী এর পুরো কৃতিত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। ঠিক এই কারণে বারবার উপাচার্যকে তৃণমূলের রোষানলে পড়তে হয়েছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Rabindranath Tagore: “হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ…”

    Rabindranath Tagore: “হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ…”

    সমগ্র বিশ্বের বাঙালির মনে এই বৈশাখ মাসটি এক রোমাঞ্চকতায় ভরা। কারণ এই মাসেই ২৫ বৈশাখে এমন একজন মহাত্মার জন্ম হয়েছিল, যাঁকে নিয়ে আজও আমরা গর্বিত। কবিগুরুকে ছাড়া বাংলা সাহিত্য, বাংলা সংস্কৃতি সত্যিই যেন অসম্পূর্ণ। বাঙালির সাহিত্যের শুরু ও শেষ তাঁকে দিয়েই। আপামর বাঙালির সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সমস্ত অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন রবিঠাকুর (Rabindranath Tagore)। আজ তাঁর ১৬২ তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য। নিবেদনে মৃণালকান্তি সরকার। 

    রবিপ্রভা দীপ্যমান, রবিপ্রভা আজও মূর্তিমান

    স্রষ্টা মাত্রেরই সংশয়, সৃষ্টি বাঁচবে তো! নশ্বর জীবদেহ বিলীন হয়ে যাবে। মুছে যাবে বেঁচে থাকার যাবতীয় বাহ্যিক অহংকার। সাধারণ মানুষের তো পরিণতি এটাই। তাই বোধহয় এ নিয়ে কারও অভিযোগ থাকে না কিছু। কিন্তু সৃজনশীল মানুষের ভিন্নতর এক অন্বেষণ থাকে, থাকে অমরত্বের এক স্পৃহা। আমি বা আমার নামরূপের লয় হোক, ক্ষতি নেই! কিন্তু আমার সৃষ্টি যেন নিশ্চিহ্ন না হয়ে যায়। মহাকালের অসম্ভাব্য পরিবর্তন তাঁর সর্বজনীন সৃষ্টিকে যেন নিঃশেষে বিদায় না করে দেয়! অনন্ত মানবস্মৃতিতে যেন চিরলগ্ন থাকতে পারে সেই স্মৃতি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের মতো বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মহান স্রষ্টারও সংশয় ছিল-আজি হতে শতবর্ষ পরে, কোন সে পাঠক, যিনি তন্ময় হয়ে থাকবেন কবির (Rabindranath Tagore) সৃষ্টিতে? সোচ্চার কোনও দাবি নয়, কবিসুলভ স্মিত এক প্রার্থনা নিজেরই সৃষ্টির কাছে,-‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে… তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে।’ সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক বিস্ময়ে যেন এই উক্তি-‘তুমি কেমন করে গান করো, হে গুণী!’ ক্ষণকাল থেকে চিরকালের উত্তরণের গুণ যেন আমার থাকে। এই আমার সাধনা, বিচারক আমি নই, বিচারক সেই মহাকাল! শতাব্দীর পর নতুন শতাব্দীতে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিটি বিভাগকে সঞ্জীবিত করে বিশাল গগনে রবিপ্রভা দীপ্যমান, রবিপ্রভা আজও মূর্তিমান, তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল!

    কবিগুরু বেঁচে থাকুন আমাদের গানে, গল্পে, আড্ডায়

    কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) বাঙালি তথা ভারতীয় তথা সারা বিশ্বের অনুপ্রেরণা। “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”-কবিগুরুর লেখা সেই পংক্তি আজও আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কবিতা যে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিশ্চই আলাদা করে বলে দিতে হয় না। আমরা সবাই খুঁজে চলেছি রবীন্দ্র কবিতার সেই দেশ, সেই কবে থেকেই। যুগে যুগে, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নাড়া দিয়েছেন বিশ্বকবি এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও তিনি থাকবেন পূজনীয়। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বিশ্বকবি মলিন হন না, তিনি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়ান। তাই আজ তাঁর ১৬২ তম জন্মবার্ষিকীতে একটাই চাওয়া, কবিগুরু বেঁচে থাকুন আমাদের গানে, গল্পে, আড্ডায়, প্রেমে, দিনের শেষে ক্লান্ত গলায়। কবিগুরু লহ প্রণাম।

    রবি ঠাকুরের জীবনদর্শন ও সৃষ্টি অস্থিরময় সময়ে সঠিক পথের দিশা

    এতবছর পরেও রবীন্দ্রনাথের (Rabindranath Tagore) জীবন-দর্শন ও তাঁর সৃষ্টি আজকের সমাজেও ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। রবি ঠাকুরের জীবন-দর্শন ও সৃষ্টি আমাদের এই অস্থিরময় সময়ে সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারে, পারে আত্মগ্লানির হাত থেকে মুক্তি দিতে, পারে এই দমবন্ধকর আবহের মধ‍্যে একটু খোলা হাওয়া এনে দিতে। তাই তো প্রত্যেক বছর ২৫শে বৈশাখ আমাদের ‘চির নূতন’ হয়ে ওঠার ডাক দেয়। এবারও দিয়েছে। সেই প্রজ্ঞার পায়ে নিবেদিত হোক শ্রদ্ধার্ঘ্য।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Harmonium: অল ইন্ডিয়া রেডিওতে একসময় হারমোনিয়াম নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কেন তা জানেন?

    Harmonium: অল ইন্ডিয়া রেডিওতে একসময় হারমোনিয়াম নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কেন তা জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রগুলির মধ্যে সেতার, তবলা, বীণা, সরোদ অন্যতম। হয়তো মাথায় আসতে পারে, আরও একটি প্রধান বাদ্যযন্ত্রও তো আছে, যেটি তালিকা থেকে বাদ গেল। যেটি ছাড়া ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতও অসম্পূর্ণ। হ্যাঁ, হারমোনিয়ামের (Harmonium) কথাই বলছি। কিন্তু শুনলে হয়তো একটু অবাক হবেন, হারমোনিয়াম পাশ্চাত্যের একটি বাদ্যযন্ত্র। যার উৎপত্তি বিদেশের মাটিতে। কিন্তু ভারতীয় সঙ্গীতে এটি যেন মিশে গেছে রক্তের মতো।

    হারমোনিয়ামের ইতিহাস

    হারমোনিয়াম (Harmonium) একটি বিদেশি বাদ্যযন্ত্র, যা ক্যাবিনেট অর্গ্যান’ নামেও পরিচিত। ইউরোপের প্যারিসে ১৮৪২ সালে আলেকজান্ডার ডেবিয়ান এটি আবিষ্কার করেন। সেই হারমোনিয়ামটি ছিল আকৃতিতে অনেক বড় এবং পায়ে পাম্প করতে হত। ১৮৫০ সালের পর ভারতে হাতে পাম্প করা হারমোনিয়ামের উৎপত্তি হয়। 

    ভারতে কবে প্রথম ও কীভাবে হারমোনিয়াম আসে?

    বিভিন্ন তথ্যসূত্র ও ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ভারতবর্ষে প্রথম হারমোনিয়াম (Harmonium) ব্যবহৃত হয় কলকাতাতেই। উনিশ শতকের ষাটের দশকে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর সখের থিয়েটার, যা জোড়াসাঁকোতে স্থাপিত, সেখানে প্রথম হারমোনিয়াম বাজান। শোনা যায়, এখান থেকেই উৎসাহ ও কৌতূহল বাড়তে থাকে হারমোনিয়ামের। এরপর থেকেই হারমোনিয়াম শিক্ষা জোরকদমে শুরু হয় ভারতবর্ষে। এমনকী সেই সময় যাঁরা হারমোনিয়াম শিখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাঁদের জন্য প্রকাশিত হতে থাকে হারমোনিয়াম শিক্ষা সম্পর্কিত নানান বই। সেই সময় এধরনের দুটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলি যথাক্রমে সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর রচিত হারমোনিয়াম সূত্র, যা ১৮৭৪ সালে এবং কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারমোনিয়াম শিক্ষা, যা ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইগুলিতে সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া আছে হারমোনিয়াম বাদন সম্পর্কে। 

    ভারতীয় সঙ্গীতে দশটি শ্রুতি এবং ১২টি স্বর মিলে মোট ২২ টি শ্রুতি আছে। আদিকাল থেকেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বিশারদরা এই শ্রুতিগুলি ব্যবহার করে এসেছেন। কিন্তু পশ্চিমের সঙ্গীতের যে কোনও ধ্বনি সীমাতে ভারতীয় ২২ এর বদলে ১২ রকমের স্বর আছে। যার জন্য এক বিশাল তফাৎ-এর সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভারতীয় সঙ্গীতে হারমোনিয়াম ব্যবহার করলে অনেক অসঙ্গতির সৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ১৯৪০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত হারমোনিয়াম নিষিদ্ধ ছিল। 

    হারমোনিয়াম এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাদ্যযন্ত্র

    শোনা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও হারমোনিয়াম (Harmonium) পছন্দ করতেন না অতটা। ১৯ জানুয়ারি ১৯৪০ তে কবি আকাশবাণী কলকাতার সেই সময়কার স্টেশন ডিরেক্টরকে একটি খোলা চিঠি দেন এবং সেখানে লেখেন, “আমি সর্বদা আমাদের সঙ্গীতজ্ঞদের উদ্দেশে তাদের হারমোনিয়ামের প্রচলিত ব্যবহারের বরাবর বিরুদ্ধে ছিলাম এবং এটি আমাদের আশ্রম থেকেও সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার বন্ধ করা হইয়াছে। আপনি যদি অল ইন্ডিয়া রেডিওর স্টুডিওতে এটির ব্যবহার বন্ধ করেন তবে আপনি ভারতীয় সংগীতের জন্য একটি খুব সুন্দরতম কাজ করিলেন বলে বিবেচিত হবে।” সেই সময় ব্রিটিশ শাসনের যুগে ব্রিটিশ সঙ্গীতজ্ঞরাও মনে করতেন ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সঙ্গে হারমোনিয়াম কখনও তাল মেলাতে পারে না। পরে স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহরু, কবির এই সিদ্ধান্ত মেনে চলারই আদেশ বহাল রাখেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দিলীপকুমার রায়, শচীন দেববর্মণের মতো আরও সঙ্গীতজ্ঞ আকাশবাণীতে গান করা বন্ধ করে দেন। বর্তমানে এত বিতর্কের পরেও হারমোনিয়াম এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাদ্যযন্ত্র হিসাবেই ব্যবহৃত হয়। এর জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতেও কমবে না, এটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Amit Shah: রবীন্দ্রজয়ন্তীতে সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন অমিত শাহ?

    Amit Shah: রবীন্দ্রজয়ন্তীতে সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন অমিত শাহ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ২৫ বৈখাশ রবীন্দ্রজয়ন্তী। ওই দিন বিজপির (BJP) একটি সংস্কৃতিক কর্মসূচিতে দেখা যাবে শাহকে। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ২৫ বৈশাখ সন্ধ্যায় কলকাতার সায়েন্স সিটি (Science City) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিজেপি। অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক ‘খোলা হাওয়া’। এই অনুষ্ঠানেই যোগ দিতে আবারও কলকাতায় আসছেন শাহ। এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় যোগ দেবেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও।

    ‘খোলা হাওয়া’র অনুষ্ঠানে অমিত শাহ (Amit Shah)…

    রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বিজেপির স্বপন দাশগুপ্তের হাতে তৈরি খোলা হাওয়া। কিছু দিন আগে খোলা হাওয়ারই উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ‘কাশ্মীর ফাইলসে’র পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা অনুপম খেরও। খোলা হাওয়া আয়োজিত সেই অনুষ্ঠান নিয়ে কর্ম বিতর্ক হয়নি। সেই খোলা হাওয়াই ফের আয়োজন করছে রাবীন্দ্রিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার। খোলা হাওয়ার এই অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন শিল্পী তনুশ্রী শঙ্কর, সোমলতা আচার্য, মেধা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। অনুষ্ঠান শুরু হবে ২৫ বৈশাখ, বিকেল ৫টায়।

    আরও পড়ুুন: পুলিশের জালে খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা অমৃতপাল সিংহ

    পদ্মশিবির সূত্রে খবর, ৮ মে কলকাতায় আসবেন শাহ (Amit Shah)। সেদিন জনসভা করবেন মুর্শিদাবাদে। পরের দিন রবীন্দ্রজয়ন্তী। সেদিন সকালে তিনি যেতে পারেন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। এদিন কয়েকটি সাংগঠনিক বৈঠকও করতে পারেন তিনি। সন্ধ্যায় যোগ দেবেন খোলা হাওয়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। থাকবেন স্বপন দাশগুপ্ত স্বয়ং।

    বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। এবার রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়ে দিল্লির মসনদে ফিরতে চাইছে বিজেপি। বাংলায় বর্তমানে বিজেপির সাংসদ রয়েছেন ১৮ জন। গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য, এটাকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা। একের পর এক দুর্নীতিকাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা। তাই শাসকদল তৃণমূলের এ রাজ্যে কার্যত ল্যাজেগোবরে দশা। এমতাবস্থায় শাহকে (Amit Shah) বারংবার কলকাতায় এনে দলীয় কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াতে চাইছে পদ্মশিবির। সেই কারণেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিজেপি শাহকে আনতে চাইছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। তবে এর আগেও একাধিকবার বাতিল হয়েছে শাহের বাংলা সফর। ১২ জানুয়ারি ছিল বিবেকানন্দের জন্মদিন। শেষ মুহূর্তে হাতে কাজ চলে আসায় ওই দিন কলকাতায় স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি তিনি। তবে বড় কিছু না ঘটলে এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তীটা শাহ কাটাবেন কলকাতায়ই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     

  • President Of India: বিশ্বভারতী ঘুরে অভিভূত দ্রৌপদী মুর্মু!  সমাবর্তনে কী বললেন রাষ্ট্রপতি?

    President Of India: বিশ্বভারতী ঘুরে অভিভূত দ্রৌপদী মুর্মু! সমাবর্তনে কী বললেন রাষ্ট্রপতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Of India) বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এলেন। ঘুরে দেখলেন। আর হিন্দি ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় বক্তব্য রেখে সকল পড়ুয়ার মন জয় করে নিলেন। রাষ্ট্রপতিকে (President Of India)  কাছ থেকে দেখে এবং তাঁর বক্তব্য শুনে অভিভূত পড়ুয়ারা। প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায়, অনসূয়া দে নামে পড়ুয়ারা বলেন, রাষ্ট্রপতিকে (President Of India)  এত কাছ থেকে দেখব ভাবতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়ের সংখ্যা সমান সমান জেনে তিনি খুশি হয়েছেন। মেয়েদের আরও এগিয়ে যাওয়ার তিনি বার্তা দিয়েছেন। আমরা খুব খুশি। এই প্রথম রাষ্ট্রপতি (President Of India)  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন। রাষ্ট্রপতি (President Of India)  আসবেন বলে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের চত্বর কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়া হয়েছিল। নো ফ্লাইং জোন ছিল গোটা এলাকা। হেলিকপ্টারে নামার পর কনভয়ে করে  রাষ্ট্রপতি সোজা বিশ্বভারতী চলে যান। শান্তিনিকেতনে এসে প্রথমে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালায় যান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Of India) । সেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত চেয়ারে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি। সংগ্রহশালায় কবিগুরুর ব্যবহৃত সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি, আঁকা ছবি তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেন। ভিজিটর বুকে নিজের মতামতও লেখেন তিনি। পরে, বিশ্বভারতীর অন্যতম কলাভবন ঘুরে দেখেন দ্রৌপদী মুর্মু। কলাভবনে খোলা আকাশের নীচে নির্মিত ভাস্কর্যগুলি ঘুরে দেখেন তিনি। সেখান থেকে ছাতিমতলায় এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্বভারতীর পরিদর্শক দ্রৌপদী মুর্মু (President Of India) । তারপর আম্রকুঞ্জের জহর বেদীতে সমাবর্তনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। সঙ্গে ছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। প্রথা অনুযায়ী সপ্তপর্ণী (ছাতিম পাতা) তুলে দেন বিভিন্ন ভবনের অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানের হাতে। বিশ্বভারতীর তরফে রাষ্ট্রপতিকে (President Of India)  বিশ্বকবির একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন উপাচার্য।

    সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কী  বললেন রাষ্ট্রপতি? President Of India

    মঙ্গলবার বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Of India) বলেন,”সকল উত্তীর্ণ পড়ুয়াদের আমার অভিবাদন। জীবনে সফল হও। আমি আপ্লুত বিশ্বের একজন প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আমি পরিদর্শক। এটা আমার প্রাপ্তি। আমি গতকাল (সোমবার) গুরুদেবের বাড়িও ঘুরে দেখেছি। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতার মাটিতে এসে আমি খুশি।” ছোটবেলায় শান্তিনিকেতনের কথা শুনতেন দ্রৌপদী মুর্মু, সেই স্মৃতিচারণও করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “আমি ছোটবেলায় শান্তিনিকেতনের কথা শুনতাম। শুনতাম এখানে গাছের তলায় পড়াশুনা করানো হয়। গুরুদেবের সময় থেকেই চলে আসছে। আমি আজ নিজে দেখলাম সেই শান্তিনিকেতন। খুব আনন্দিত। এক কথায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীর শিক্ষা ও পরিবেশের প্রসংশায় পঞ্চমুখ ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Of India) ।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Vande Mataram: জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এর মতো জাতীয় গীত বন্দেমাতরমকেও বিশেষ সম্মান জানানোর পক্ষে সওয়াল কেন্দ্র সরকারের

    Vande Mataram: জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এর মতো জাতীয় গীত বন্দেমাতরমকেও বিশেষ সম্মান জানানোর পক্ষে সওয়াল কেন্দ্র সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান বন্দেমাতরমকেও (Vande Mataram) এবার বিশেষ মর্যাদা দেবার জন্য দেশের নাগরিকদের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শনিবার দিল্লি হাইকোর্টে একটি হলফনামা দিয়ে জানাল কেন্দ্র সরকার। অর্থাৎ দুটো সঙ্গীতকেই সমান মর্যাদার পক্ষে কেন্দ্র। উল্লেখ্য, জাতীয় সঙ্গীত বাজানো বা গাওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ভারতের জাতীয় গান বন্দেমাতরমের ক্ষেত্রে তেমন কোনও নিয়ম বা তা অমান্য করলে শাস্তিমূলক বিধান নেই।
    বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই দিল্লী হাইকোর্টে হলফনামায় এই নির্দেশিকা দেয় অমিত শাহের দপ্তর। কেন্দ্রের তরফে দিল্লি হাইকোর্টে জানানো হয়েছে, দেশের শীর্ষ আদালতে এই বিষয়ে একটি মামলা উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে বা রায় জানাতে অস্বীকার করে। কারণ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়, আদালতে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। সেই কারণে এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও মন্তব্য করতে পারে না। পরবর্তীকালে উচ্চ আদালতের তরফে বন্দে মাতরম গান বাজানোর নির্দেশিকার আবেদন করে একটি পিটিশন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জন গণ মন’-এর মধ্যে কোনও বিরোধ থাকতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ কেন্দ্র মেনে চলে।

    প্রসঙ্গত, বন্দেমাতরম হল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসের একটি কবিতা। ১৮৯৬ সালে প্রথমবার গানটি গাওয়া হয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গেও এই গানটি ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। তবে যখন জাতীয় সঙ্গীত নির্বাচনের বিষয় আসে, তখন বন্দে মাতরমের পরিবর্তে জনগণমনকেই বেছে নেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত হয় জনগণমনর মতো একই মর্যাদা দেওয়া হবে বন্দে মাতরমকেও। সেই মতো ১৯৫০-এর ২৪ জানুয়ারি জনগণমনকে (National Anthem) জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করার পাশাপাশি বন্দেমাতরমকে জাতীয় গান (National Song Of India) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

    অপরদিকে,কবিগুরুর রচিত জনগণমন গানটি প্রথম গাওয়া হয়েছিল ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় আয়োজিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ২৬তম বার্ষিক অধিবেশনে। আর তার ঠিক পরের দিন দ্য বেঙ্গলি পত্রিকায় গানটির ইংরেজি অনুবাদসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯১২ সালের জানুয়ারি মাসে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় ভারত-বিধাতা নামে প্রকাশিত হয় গানটি। তারও পরে গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন রবীন্দ্রনাথ। পরবর্তীকালে ১৯৩৭ সালে প্রথম সুভাষচন্দ্র বসু (Subhas Chandra Bose) জনগণমন-কে জাতীয় সঙ্গীত করার প্রস্তাব করেন।

    এরপর কেটে যায় আরও অনেকগুলো বছর। ১৯৪৭-এ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কোনও একটি অনুষ্ঠানে বাজানোর জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতীয় প্রতিনিধিদের থেকে জাতীয় সংগীতের একটি রেকর্ড চাওয়া হয়। তাঁরা বিষয়টি ভারত সরকারকে জানান এবং জনগণমন-কেই (Jana Gana Mana) বাজানোর পক্ষে মত দেন। এরপর সরকারের অনুমতি অনুসারে জাতিসংঘের অর্কেস্ট্রাবাদনের একটি রেকর্ড সেই অনুষ্ঠানে বাজানো হয়। আরও পরে অন্যান্য বিশেষজ্ঞরাও এই গানটিকেই দেশের জাতীয় সঙ্গীত করার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। যার জেরে ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি জনগণমনকেই দেশের জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

  • Visva-Bharati: ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির সহায়ক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করল বিশ্বভারতী

    Visva-Bharati: ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির সহায়ক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করল বিশ্বভারতী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন একটি উপকারী ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করল বিশ্বভারতীর উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ (Visva-Bharati)। এই ব্যাকটেরিয়া মূলত ধান চাষের অত্যন্ত সহায়ক৷ ব্যাকটেরিয়াটির নামকরণ করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ও রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে। এখনও পর্যন্ত লিভিং কোনও কিছুর নাম কবি ও কবিপুত্রর নামে হয়নি। ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতীর এই আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অফ মাইক্রোবায়োলজিস্টস অফ ইণ্ডিয়া (এএমআই)। কৃষিকাজকে সমৃদ্ধ করতে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃষি গবেষণার উপর জোর দিয়েছিলেন৷ তাই তিনি শ্রীনিকেতন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ এমনকী, নিজের ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কৃষিবিদ্যা পাঠ নিতে বিদেশেও পাঠিয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্য হন রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷ তাঁর হাত ধরে শুরু হয় কৃষি গবেষণার নানা কাজ।

    কীভাবে সন্ধান মিলল? (Visva-Bharati)

    কৃষিক্ষেত্রে ফলন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম। এই তিনটি উপাদানকে একত্রে বলে এনপিকে৷ মাটি থেকে উদ্ভিদ এই উপাদান সংগ্রহ করে৷ কিন্তু, অনেক ক্ষেত্রে মাটিতে এর জোগান কম থাকলে বাজার থেকে উপাদানগুলি কিনে দিতে হয় চাষিদের৷ বিশ্বভারতীর উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ একটু নতুন প্রজাতির উপকারী ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছে। নাম ‘প্যান্টোইয়া টেগোরী’ ( Pantoea Tagorei )। উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অণুজীববিদ্যার অধ্যাপক ডঃ বুম্বা দাম তাঁর ৫ পড়ুয়া রাজু বিশ্বাস, অভিজিৎ মিশ্র, অভিনব চক্রবর্তী, পূজা মুখোপাধ্যায় ও সন্দীপ ঘোষকে নিয়ে এই ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন৷ মূলত ধান চাষের অত্যন্ত সহায়ক অণুজীব। এছাড়া, লঙ্কা ও মটর চাষের পক্ষেও উপকারী এই ব্যাকটেরিয়া। এটি মাটি থেকে অতি সহজেই পটাশিয়াম সংগ্রহ করে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে৷ ৬ জনের এই দল গবেষণা করতে করতে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি, পরে ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া কয়লাখনি অঞ্চলের মাটি থেকে এই ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান৷ কৃষিক্ষেত্রে তাঁদের ভাবনা, অবদানকে স্মরণ করে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে ব্যাকটেরিয়াটির নামকরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বভারতীর (Visva-Bharati) এই আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অফ মাইক্রোবায়োলজিস্টস অফ ইণ্ডিয়া (এএমআই)।

    কী বলছেন গবেষকরা? (Visva-Bharati)

    বিশ্বভারতীর উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ বুম্বা দাম বলেন, “এই ব্যাকটেরিয়া চাষের পক্ষে খুবই উপকারী। আমরা আগে পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ করে দেখেওছি৷ সদ্য শান্তিনিকেতন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পেয়েছে। তাই আমরা এই ব্যাকটেরিয়ার নাম গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিশ্বভারতীর প্রথম উপাচার্য রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে রেখেছি। লিভিং কোনও অর্গানিজমের নাম টেগরের নামে। আমার গবেষক পড়ুয়ারাও (Visva-Bharati) খুব মন দিয়ে কাজ করেছে এক্ষেত্রে।” গবেষক পড়ুয়াদের মধ্যে রাজু বিশ্বাস ও অভিজিৎ মিশ্র বলেন, “এটা বিশ্বভারতীর আবিষ্কার। এই ব্যাকটেরিয়া ব্যাবহারের ফলে চাষিরা উপকৃত হবে৷ সারের খরচ অনেকগুণ কমবে৷ এই ব্যাকটেরিয়া মাটি থেকে সহজেই পটাশিয়াম সংগ্রহ করে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে পারে৷ আমরা ঝরিয়ার কয়লা খনি অঞ্চল থেকে এই ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share