Tag: Radha Krishna

Radha Krishna

  • Rash Yatra 2023: শান্তিপুর রাসযাত্রায় রাধাকৃষ্ণের যুগল মিলনের পর হয় বিগ্রহ নিয়ে নগর পরিক্রমা

    Rash Yatra 2023: শান্তিপুর রাসযাত্রায় রাধাকৃষ্ণের যুগল মিলনের পর হয় বিগ্রহ নিয়ে নগর পরিক্রমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনুমানিক ৫০০ বছর আগে অদ্বৈত আচার্যের হাত ধরে প্রথম শুরু হয়েছিল শান্তিপুরের রাসযাত্রা (Rash Yatra 2023)। এখনও প্রাচীন রীতি মেনে ধুমধাম করেই পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী রাধাকৃষ্ণের রাস। এবছরও শান্তিপুরের বিভিন্ন বারোয়ারিতে শুরু হয়েছে মণ্ডপ সজ্জার কাজ। এখানকার রাসযাত্রা দেখার জন্য ভিড় জমান দূর দূরান্তের মানুষও। রেলের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সুবিধার্থে চালানো হয় বিশেষ ট্রেন।

    কী এর ইতিহাস? (Rash Yatra 2023)

    কথিত আছে, অদ্বৈত আচার্য প্রথম কলিযুগে নারায়ণ রূপে রাসযাত্রা শুরু করেন। দ্বাপরে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর গোপিনীদের সঙ্গে নিয়ে রাসলীলা করতেন। সেখানে কোনও পুরুষের প্রবেশ নিষেধ ছিল। কিন্তু মহাদেবের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, কেন সেখানে পুরুষ প্রবেশ করতে পারবে না? তিনি গোপনে সেই রাসযাত্রা দেখার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই কারণে তিনি রাসলীলা দর্শনের জন্য নিজেকে নারী রূপে সাজিয়ে ঘোমটা টেনে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ সেটি বুঝতে পেরে রাসলীলা সমাপ্ত না করেই ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। শ্রীকৃষ্ণ চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে গোপিনীরা বুঝতে পারেন, কোনও কিছু সমস্যা রয়েছে। মহাদেবের স্ত্রী যোগমায়ার সন্দেহ হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর স্বামী নারী রূপে প্রবেশ করেছেন। এরপরই খোঁজাখুঁজি করতে দেখা যায় একটি কোণে এক নারী ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তখন কাছে গিয়ে যোগমায়া তাঁর স্বামীকে চিহ্নিত করেন। পাশাপাশি স্বামী মহাদেবকে ভৎসনা করেন। মহাদেব ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেলে তিনি বলে যান, দ্বাপরের এই রাসলীলা আমি কলিযুগে শুরু করব। প্রভু অদ্বৈত আচার্যকে সে সময় মহাদেবের অবতার হিসেবে ধরা হত। সেই কারণে অদ্বৈত আচার্য প্রথম নারায়ণ পুজোর মধ্যে দিয়ে রাসযাত্রা (Rash Yatra 2023) শুরু করেন।

    রাধাকৃষ্ণের যুগল মিলন (Rash Yatra 2023)

    জানা যায়, গোস্বামী বাড়ির যে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ ছিল, হঠাৎ করে সেখান থেকে রাধা উধাও হয়ে যায়। বিভিন্ন খোঁজাখুঁজির পর শান্তিপুরের পার্শ্ববর্তী এলাকা দিগনগরে রাধার বিগ্রহ খুঁজে পাওয়া যায়। এরপরেই গোস্বামী বাড়ি তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাধাকৃষ্ণকে এক জায়গায় বসিয়ে তাঁদের যুগল মিলন করা হবে।। মূলত রাস পূর্ণিমা তিথিতেই তাঁদের এই যুগলের মিলন ঘটানো হয়। এর পরে শুরু হয় শান্তিপুরের রাধাকৃষ্ণের রাসযাত্রা। রাধাকৃষ্ণের যুগল ঘটানোর একদিন পর বৌভাতের মতো করেই যুগল বিগ্রহ নিয়ে করা হয় নগর পরিক্রমা। এখনও পর্যন্ত সেই রীতি মেনেই চলছে শান্তিপুরের রাসযাত্রা (Rash Yatra 2023)।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Jhulan Purnima 2022: ঝুলন উৎসব পালন করছেন? দোলনা কোন দিক করে রাখতে হবে, জানেন তো?

    Jhulan Purnima 2022: ঝুলন উৎসব পালন করছেন? দোলনা কোন দিক করে রাখতে হবে, জানেন তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝুলন পূর্ণিমাকে শ্রাবণী পূর্ণিমাও বলা হয়। বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তারপর থেকে যুগ যুগ ধরে এই পর্ব চলে আসছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কৃপা করে দ্বাপরযুগে এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তার বয়ঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃন্দাবন তথা নন্দালয়ে নানারকম লীলাসাধন করেছিলেন। বয়ঃসন্ধিতে কিশোর কৃষ্ণ ও রাধারানীর যে মধূর প্রেমের পরিপূর্ণ প্রকাশ বৃন্দাবনে স্থাপিত হয়েছিল তারই লীলা স্বরূপা এই ঝুলনযাত্রা।

    দোলনা কেন রাখতেই হবে পূর্ব-পশ্চিম দিকে?

    ঝুলনযাত্রায় রাধাকৃষ্ণের মূর্তি দোলনায় স্থাপন করে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ঝোলানো হয়। এখানে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন প্রকৃতি আর রাধারানী হলেন তার পরম ভক্তস্বরূপিনী। সূর্য হলেন পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস, পূর্ব দিকে উদয় ও পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। এই উদয়অস্ত-এর দিক স্বরূপ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে রাধাকৃষ্ণকে দোলানো হয়ে থাকে। রাধাকৃষ্ণের মূর্তিকে দোলনায় স্থাপন করে মূর্তিযুগলকে ঝোলানো থেকে শুরু করে পাঁচদিন তাদের নানারকম সাজে সাজানো, প্রেমভক্তি, নামগান— বৃন্দাবনে তাঁদের বিশুদ্ধ প্রেমপর্ব সমস্তকিছু ভক্তগনের সামনে ঝুলনযাত্রার মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়। এককথায় রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার পাঁচদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান ঝুলন উৎসব নামে পরিচিত।

    আরও পড়ুন: রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ঝুলন উৎসব, জানুন ঝুলনযাত্রার মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    ঝুলনযাত্রার তাৎপর্য

    ঝুলনযাত্রা শুরুর দিন সহজ কিছু উপায়ের মাধ্যমে মনের বাসনা পূর্ণ করুন। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের জন্য ঝুলনযাত্রা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ভূলোকে রাধাকৃষ্ণের লীলা উৎসবই হল ঝুলনযাত্রা। শ্রীকৃষ্ণ পুজোর মাধ্যমে মানুষ শান্তি পেতে পারেন এবং মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন। ঝুলনযাত্রার দিন সঠিক নিয়মে রাধাকৃষ্ণের পুজো করে এবং সহজ কিছু উপায়ের মাধ্যমে অত্যন্ত শুভ ফল লাভ করতে পারবেন।

    পুজোর নিয়ম

    রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি বা ছবি প্রতিষ্ঠা করুন। সঙ্গে অবশ্যই গণেশের মূর্তি বা ছবি রাখবেন। প্রথমে গণেশের পুজো করবেন, তার পর রাধাকৃষ্ণের পুজো করবেন। যথাসাধ্য মিষ্টান্ন নিবেদন করুন এবং হলুদ রঙের ফুল ও ফল অর্পণ করুন। একটা কথা বিশেষ করে মনে রাখতে হবে, এই পুজোর স্থানটি যেন খুব শান্ত হয়।

    • রাধাকৃষ্ণকে হলুদ বস্ত্র দিয়ে সাজান।

    • শ্রীকৃষ্ণের মন্দিরে ময়ূরের পালক ও মুকুট দান করুন।

    • পুজোর সময় ঘিয়ের প্রদীপ অবশ্যই জ্বালতে হবে।

    • পুজো শেষে গীতা পাঠ ও গায়ত্রীমন্ত্র জপতে হবে।

    • রাধাকৃষ্ণের চরণে তুলসীপাতা অর্পণ করতে হবে।

    • দরিদ্রদের দান করতে হবে।

    • বাড়িতে নারায়ণ সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

    • পুজো হলুদ বস্ত্র পরে করতে হবে।

    • পুজোর জায়গায় এক টুকরো চন্দন রাখুন। এতে বাড়িতে শুভ শক্তি প্রবেশ করে।

    • এই দিন জল দান করলে জীবনে সুখ সমৃদ্ধি লাভ হয়।

  • Jhulan Purnima 2022: রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ঝুলন উৎসব, জানুন ঝুলনযাত্রার মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    Jhulan Purnima 2022: রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ঝুলন উৎসব, জানুন ঝুলনযাত্রার মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণ মাসে শুক্লা একাদশী থেকে পূর্ণিমা, এই পাঁচদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয় বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব ঝুলন উৎসব। রাখি পূর্ণিমার মাধ্যমে ঝুলন যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। মথুরা-বৃন্দাবনের মতোই বাংলার ঝুলন উৎসবের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। এটি দোল পূর্ণিমার পর বৈষ্ণবদের আর একটি বড় উৎসব। 

    ঝুলনযাত্রার মাহাত্ম্য

    শাস্ত্রমতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সমস্ত ভক্ত নির্বিশেষে সকলকে অনুগ্রহ করবার জন্য গোলকধাম থেকে ভূলোকে এসে লীলা করেন। ঝুলন শব্দটির সঙ্গে ‘দোলনা’ শব্দটি রয়েছে। তাই এই সময় ভক্তরা রাধাকৃষ্ণকে (Radha – Krishna) সুন্দর করে সাজিয়ে দোলনাতে বসিয়ে পুজো করেন।

    বৃন্দাবন, মথুরা আর নবদ্বীপের ইসকন মন্দিরে এই উৎসব মহাসমারোহে পালন করা হয়। এই পবিত্র তিথিতে বাড়িতে নানারকমের শুভ কাজ করা যায়। পুরাণ মতে, ঝুলনযাত্রার দিন শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধার প্রেমের পূর্ণ প্রকাশ ঘটে । তাই এই দিন বাড়িতে বিশেষ কিছু কাজের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের পুজো করতে পারেন। তার ফলে আপনার মনের ইচ্ছেও পূর্ণ হবে।

    আরও পড়ুন: পুজোয় মঙ্গল ঘট কেন স্থাপন করা হয়, জানেন?

    ঝুলন পূর্ণিমাকে শ্রাবণী পূর্ণিমাও বলা হয়। ঝুলন যাত্রা সমাপন হয় রাখির দিন। তাই ঝুলন পূর্ণিমাকে রাখি পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণর শৈশব-স্মৃতি, বিশেষতঃ সখা-সখীদের সঙ্গে দোলনায় দোলার প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল। এর পর থেকে এখনও গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের এটা প্রিয় অনুষ্ঠান। এক এক অঞ্চলে দোল বা দুর্গোৎসবের মতো ঝুলন উৎসবের আকর্ষণও কিছু মাত্র কম নয়। ঝুলনেও দেখা যায় নানা আচার অনুষ্ঠান ও সাবেক প্রথা।

    ঝুলনযাত্রার সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য

    শুধুমাত্র রাধাকৃষ্ণের যুগলবিগ্রহ দোলনায় স্থাপন করে হরেক আচার অনুষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। এই উৎসব হয় মূলত বনেদি বাড়ি এবং মঠ-মন্দিরে। তবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছোটদের ঝুলন সাজানোও এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। 

    নানা ধরনের মাটির পুতুল, কাঠের দোলনা আর গাছপালা দিয়ে ঝুলন সাজানোর আকর্ষণ ছোটদের মধ্যেও রয়েছে। কোথাও কোথাও ঝুলন উপলক্ষে চলে নাম-সংকীর্তন। এই সময় প্রতি দিন ২৫-৩০ রকমের ফলের নৈবেদ্য, লুচি, সুজি নিবেদন করা হয়। বহু বাড়িতে ঝুলন পূর্ণিমার পবিত্র দিনে সত্যনারায়ণ পুজোও অনুষ্ঠিত হয়।

    শ্রীকৃষ্ণের দ্বাদশ যাত্রার কথা শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, কিন্তু আমরা সবগুলো পালন করি না। কিছু কিছু বিশেষ উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়, যেমন- রথযাত্রা, রাসযাত্রা, দোলযাত্রা, স্নানযাত্রা, ঝুলনযাত্রা ইত্যাদি। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা এসব যাত্রাগুলোকে বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত ও তত্ত্বসমৃদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন। অনাদি কাল থেকেই শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহ রূপে মন্দিরে, দেবালয়ে, ভক্তের গৃহে স্থায়ীভাবে পূজিত হয়ে আসছেন।

    আরও পড়ুন: বাড়িতে তুলসী মঞ্চ সঠিক নিয়মে রেখেছেন তো? নয়তো হতে পারে অমঙ্গল!

    ২০২২ সালের ঝুলনযাত্রা কবে?

    আগামী ২১ শ্রাবণ ১৪২৯, ইংরেজি ০৭ অগাস্ট ২০২২, রবিবার সন্ধে ৭টা ৩৪ মিনিটে ঝুলনযাত্রা আরম্ভ হচ্ছে। আর ২৫ শ্রাবণ, ১১ অগাস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধে ৬টা ১১ মিনিটে ঝুলনযাত্রার সমাপ্তি। সেই সঙ্গে শেষ হবে শ্রাবণী পূর্ণিমার উপবাস ও নিশিপালন।

     

LinkedIn
Share