Tag: Rail Accident

Rail Accident

  • Indian Railways: কর্মীদের পোশাকে বসবে ক্যামেরা! ট্রেন দুর্ঘটনা এড়াতে বড় পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    Indian Railways: কর্মীদের পোশাকে বসবে ক্যামেরা! ট্রেন দুর্ঘটনা এড়াতে বড় পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেলের (Indian Railways) দুর্ঘটনায় রেল কর্মীদের গাফিলতি রয়েছে কিনা, তা জানতে এবার নিরাপত্তায় নতুন প্রযুক্তি আনছে পূর্ব রেলের শিয়ালদা ডিভিশন। দুর্ঘটনা কমাতে এবং ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার আসল কারণ জানতে ইন্টারঅ্যাকটিভ রিমোট মনিটারিংয়ের মাধ্যমে কন্ট্রোল রুমে বসেই শান্টিং-এর কাজ দেখা যাবে। কেমন ভাবে হবে এই কাজ? অনেক জায়গায় ম্যানুয়াল পয়েন্ট রয়েছে, সেখানে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র নয় কার্যত কর্মীদের হাতে ঘুরিয়ে পয়েন্ট বদল করে এক ট্র্যাক থেকে অন্য ট্র্যাকে ট্রেনকে তুলতে হয়। ফলে নজরদারি বাড়ালে দুর্ঘটনার (Rail Accident) আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।

    ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা (Indian Railways)

    ট্রেন দুর্ঘটনা (Rail Accident) সব সময় যে তীব্র গতিতে চলার সময়ই ঘটবে তা নয়। গতি কম থাকলে ট্রেন অনেক সময় পরিস্থিতির বিচারে বেলাইনও হতে পারে। আবার ট্রেনকে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে তোলার সময় শান্টিং-এর দায়িত্বে থাকা রেলকর্মীদের (Indian Railways) পোশাকে এবার থেকে রাখা হবে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা। কিন্তু একটা চিন্তা থাকে যদি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়! তাহলে সেই ক্ষেত্রে ক্যামেরার সঙ্গে থাকবে পাওয়ার ব্যাঙ্ক। তাই এখন থেকে সরাসরি লাইন বদলের সময় কী ঘটছে তা এখন থেকে কন্ট্রোল রুমে বেসেই দেখা যাবে।

    আরও পড়ুনঃ আরও নামল পারদ, কলকাতায় তাপমাত্রা কত? দক্ষিণবঙ্গের দুই জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

    ইন্টার অ্যাক্টিভ রিমোট মনিটরিং

    নজরদারিতে যাতে কোনও ফাঁক না থাকে তাই একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। রেলের (Indian Railways) ট্র্যাফিক ইনস্পেকটর এবং সুপারভাইজাররা মোবাইল এই অ্যাপ ডাউনলোড করে সরাসরি দেখতে পাবেন শান্টিং-এর কোথাও কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না। পূর্ব রেল জানিয়েছে, এই পদ্ধতিতে ২৪ ঘণ্টাই শান্টিংয়ে নজর রাখা যাবে। এতে দুর্ঘটনার (Rail Accident) আশঙ্কা কমবে। শিয়ালদা ডিভিশনের বেশ কয়েকটি জায়গায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু হয়েছে এই ইন্টারঅ্যাক্টিভ রিমোট মনিটরিং। এই তালিকায় রয়েছে, চিৎপুর ইয়ার্ড, শিয়ালদা গুডস ইয়ার্ডের পাশাপাশি রয়েছে কলকাতা টার্মিনাল, নৈহাটি, রানাঘাট, কোমাগাতা মারু বজবজ, নিউ আলিপুর, কল্যাণী, কৃষ্ণনগর এবং টিটাগড় স্টেশন।   

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • NIA: ভারতের বহু শহরে ‘রেল জিহাদ’-এর চক্রান্ত করছে পাক জঙ্গি, সতর্কবার্তা এনআইএ-র

    NIA: ভারতের বহু শহরে ‘রেল জিহাদ’-এর চক্রান্ত করছে পাক জঙ্গি, সতর্কবার্তা এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘রেল জিহাদ’ (Rail Jihad) চক্রান্ত করছে পাকিস্তানের এক জঙ্গি। তার পর থেকেই পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, সংক্ষেপে এনআইএ (NIA)। সূত্রের খবর, ট্র্যাক পর্যবেক্ষণকারী গ্যাংম্যানদের, নিরাপত্তা কর্মী ও লোকো পাইলটদের এ ব্যাপারে সচেতন করা হয়েছে।

    রেল জিহাদ (NIA)

    পাক গোয়েন্দা সংস্থার মদতপুষ্ট ফরহাতুল্লা ঘোরি নামে এক জঙ্গি সম্প্রতি টেলিগ্রাম সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে। সেই পোস্টে বলা হয়, দিল্লি, মুম্বই-সহ ভারতের নানা জায়গায় রেলে নাশকতা ঘটানোর জন্য এ দেশে (ভারতে) তার সমর্থকদের ডাক দেয়। ফিঁদায়ে যুদ্ধের ডাক দিয়ে রেলের মতো দুর্বল জায়গায় আঘাত করার নির্দেশ দেয়। এই ঘটনারই নাম হয়েছে ‘রেল জিহাদ’।

    পাঠানো হয়েছে সতর্কবার্তা 

    গোয়েন্দাদের বক্তব্য, জুলাই মাসে ওই ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই রেলে নাশকতা ঘটানোর চেষ্টা হঠাৎই বেড়ে গিয়েছে। এর পরেই ট্র্যাক পর্যবেক্ষণকারী গ্যাংম্যান, নিরাপত্তা কর্মী ও লোকো পাইলটদের সচেতন করা হয়েছে। সরকারি এক সূত্রের খবর, যদিও হুমকির আশঙ্কা বড় শহরগুলির জন্য, মহারাষ্ট্র এবং অন্যান্য রাজ্যেও যেখানে নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে, সেখানেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, রেলে ছ’টিরও বেশি সন্দেহজনক দুর্ঘটনার পর রেল প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।

    আরও পড়ুন: প্রত্যাঘাত ইজরায়েলের! নিশানায় ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলি, হামলা সিরিয়াতেও

    সম্প্রতি মাইসুরু-দ্বারভাঙা বাগমতী এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। তার পরেই এনআইএ (NIA) এর আধিকারিকরা চেন্নাইয়ের কাছাকাছি দুর্ঘটনাস্থলে যান। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাস্থলগুলি তদন্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফাররুখবাদ এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাও। এ ক্ষেত্রে রেললাইনের ওপর একটি গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখা হয়েছিল। অগাস্টে রাজস্থানের পালি জেলায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস যাওয়ার পথে রেললাইনের ওপর রাখা হয়েছিল সিমেন্টের ব্লক। এক আধিকারিক বলেন, “ট্রেনে এসকর্ট দল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য কোচের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বজায় রাখা হয়েছে।” নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রের খবর, দুষ্কৃতীরা ট্র্যাকে কংক্রিটের পাথর, লোহার রড এবং গ্যাস সিলিন্ডার রেখে বাধা সৃষ্টি করছে, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, “জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি বনভূমি বা পরিত্যক্ত জমির মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ট্র্যাকগুলিকে লক্ষ্যবস্তুতে (Rail Jihad) পরিণত করছে (NIA)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Kanchanjunga Express: মালগাড়ির গতিই দায়ী! কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় কোন পথে চলছে রেলের তদন্ত?

    Kanchanjunga Express: মালগাড়ির গতিই দায়ী! কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় কোন পথে চলছে রেলের তদন্ত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে (Kanchanjunga Express) দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মালগাড়ির গতিবেগ, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এমনই দাবি রেলের। এই দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য সুরক্ষা কমিশনার জনককুমার গর্গের নেতৃত্বে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে তদন্তের কাজ। এদিনই কাটিহার ডিভিশনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করে একটি তদন্ত রিপোর্ট চিফ সেফটি কমিশনারের কাছে জমা পড়ে। সেই রিপোর্টের এই দাবি করা হয়েছে। মালগাড়িটিকে দ্রুত গতিতে যেতে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রাঙাপানির গেটম্যান ‘সতর্ক’ করেছিলেন বলে বুধবার দাবি করেছেন কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার।

    কাঞ্চনজঙ্ঘা ২৮ মিনিট, মালগাড়ি নেয় ১৩ মিনিট

    রেল সূত্রে খবর, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে (Kanchanjunga Express) দুর্ঘটনার তদন্তে এদিন ডেকে পাঠানো হয় রাঙাপানির স্টেশন ম্যানেজার, রেল গেটের গার্ড, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের চালকদের৷ শিলিগুড়ি এনজেপি স্টেশন সংলগ্ন এডিআরএম অফিসে হাজির হন সকলে। সেখানেই একটি প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করা হয়। দুর্ঘটনার সময় কর্তব্যরত কর্মীরা কে, কী দায়িত্ব পালন করছিলেন, তা রয়েছে রিপোর্টে। প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, সোমবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস রাঙাপানি স্টেশনে ঢোকে। ছাড়ে ৮টা ২৭ মিনিট নাগাদ। দুর্ঘটনাটি ঘটে ৮টা ৫৫ মিনিটে। আর মালগাড়িটি ৮টা ৪২ মিনিটে রাঙাপানি স্টেশন ছাড়ে। রাঙাপানি স্টেশন থেকে দুর্ঘটনাস্থলের দূরত্ব আড়াই কিলোমিটারের কাছাকাছি। হিসেব করে দেখা যাচ্ছে, ওই পথ অতিক্রম করতে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস সময় নেয় প্রায় ২৮ মিনিট। অন্য দিকে, মালগাড়ির সময় লাগে ১৩ মিনিট।

    কী বলছেন ডিআরএম

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, মালগাড়ির চালক এবং সহকারী চালক তিরিশ ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়ার পরে ট্রেনে চেপেছিলেন। ফলে টানা ডিউটির জেরে চালকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, সেই যুক্তি এক্ষেত্রে খাটছে না। দুর্ঘটনাস্থল নির্মলজোত এলাকায় বজ্রপাতের ফলে সোমবার সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে অটোমেটিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে। এর পরে নিউ জলপাইগুড়ি-আলুয়াবাড়ি মেইন রুটের ডাউন লাইন দিয়ে মালগাড়ির আগে মোট সাতটি ট্রেন যায়। চালকেরা সকলেই ম্যানুয়াল মেমো সিস্টেমে গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যান। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসও (Kanchanjunga Express) সেই নিয়ম মেনেই এগোচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে দাবি, ভুল ছিল মালগাড়ির চালকরেই। তবে ডিআরএম বলেন, ‘‘এখনই কোনও তথ্যে সিলমোহর বসাচ্ছে না রেল। সবটাই প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অনুমান।”

    তদন্ত  শেষ হতে কতদিন

    তদন্ত (Kanchanjunga Derailed) শেষ হতে কত দিন লাগবে, তা নিয়ে ডিআরএম বলেন, ‘‘আদৌ কত দিন সময় লাগবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। তবে যে সমস্ত প্রশ্ন উঠে আসছে প্রশিক্ষণ না-দেওয়া বা মালগাড়ির চালকের পর পর তিন দিন নাইট ডিউটি দেওয়া নিয়ে, তা সবটাই তদন্তসাপেক্ষ। চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণই দেওয়া হয়। যখনই কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তখনই প্রশিক্ষণের কথা উঠে আসে। শুধুমাত্র বয়ান নয়, স্পিডোমিটারে মালগাড়ির গতিবেগ কত ছিল, সেটাও দেখা হবে। অন্য দিকে, মালগাড়ির যে ইঞ্জিন রয়েছে, সেটাতেও টেকনিক্যাল ফরেনসিক তদন্ত হবে।’’ 

    আরও পড়ুন: ডাক্তারিতে সুযোগ, পরে আইএএস! চাকরি ছেড়ে ২৬ হাজার কোটির কোম্পানি রোমান সাইনির

    ১০ জনের বয়ান লিপিবদ্ধ 

    উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার বলেন, “দুর্ঘটনার (Kanchanjunga Derailed) সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় দশ জন কর্মীর বয়ান এদিন রেকর্ড করা হয়েছে। তার মধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের চালক রাজু বাল্মিকী, সহকারী চালক শৈলেন্দ্র কুমার, রাঙাপানি স্টেশনের কর্মী, গেটম্যান, লাইনম্যানের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১০ জনের বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। অন্তত ৩০ জনকে তলব করা হয়েছে। তাঁদেরও বয়ান লিপিবদ্ধ করা হবে এবং একের সঙ্গে অন্যের বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Kanchanjunga Accident: শুরু হল ট্রেন চলাচল, লাইনের পাশেই দোমড়ানো-মোচড়ানো কামরা, মৃত্যু বেড়ে ১০

    Kanchanjunga Accident: শুরু হল ট্রেন চলাচল, লাইনের পাশেই দোমড়ানো-মোচড়ানো কামরা, মৃত্যু বেড়ে ১০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের নির্মলজ্যোত। সোমবার সকালে এই নির্মলজ্যোতে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা (Kanchanjunga Accident) ঘটেছিল। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হল ১০। শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক অবোধ সিঙ্ঘল মঙ্গলবার বলেন, মৃত্যুর সংখ্যা ১০। কেননা সোমবার যে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল তা উদ্ধার হওয়া একটি মৃতদেহের। সোমবার রাতের মধ্যে মৃতদেহ শনাক্তকরণ পর্ব শেষ হয়। তখন দেখা যায় একটি মৃত দেহের পা নেই। চিকিৎসকরা সেই পা ওই মৃত ব্যক্তির বলে চিহ্নিত করেন। সোমবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ন’জন। মঙ্গলবার ছ’বছরের এক শিশু মারা গিয়েছে। তাতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা মোট ১০ জন। 

    শুরু হল ট্রেন চলাচল, লাইনের পাশেই দোমড়ানো-মোচড়ানো কামরা (Kanchanjunga Accident)  

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই লাইন পরিষ্কার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। উদ্ধারকাজ কার্যত শেষ। দুর্ঘটনার (Kanchanjunga Accident) স্মৃতি হিসেবে লাইনের পাশে পড়ে রয়েছে ট্রেনের দোমড়ানো- মোচড়ানো বগিগুলি। বাসিন্দারা সোমবার রাতে ঘুমোতে পারেননি। বীভৎস দৃশ্য, চিৎকার হাহাকার, জখম যাত্রীদের কান্না এখনও কানে বাজছে গ্রামবাসীদের। সোমবার ছিল ঈদ। গ্রামের সকলের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। কারও নামাজ পড়া হয়ে গিয়েছিল। নামাজ পড়ে ফেরার পথেই খবর পান ট্রেন দুর্ঘটনার। অনেকে যাত্রীদের চিৎকার, হাহাকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাদ আলি, নাজিম আলি,  মহম্মদ শওকতরা বলেন, চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি ট্রেনের ভেতর থেকেই বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার ভেসে আসছে। এখনও কানে বাজছে সেই চিৎকার। সোমবার সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। কত শিশু পড়ে কাঁদছে। কেউ বাবা-মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। মন শক্ত করে উদ্ধারকাজে হাত লাগাই। তখনও  প্রশাসনের কেউ আসেনি। আমরা সাহসে ভর দিয়ে একে একে সব যাত্রীদের নামিয়ে আনি। ততক্ষনে অ্যাম্বুল্যান্স, বিভিন্ন গাড়ি পৌঁছতে শুরু করেছে। এক এক করে জখম যাত্রী, মৃতদেহ অ্যাম্বুল্যান্স এবং গাড়িতে তুলে দিই। 

    আরও পড়ুন: “সুরক্ষা কবচ কোনও মাদুলি নয়”, রেল দুর্ঘটনায় মন্তব্য নিয়ে মমতাকে তুলোধনা সুকান্তর

    অভিশপ্ত স্মৃতি বয়ে বেড়াবে নির্মলজ্যোত

    এদিন গ্রামবাসীরা বলেন, ঈদের উৎসব ভুলে গিয়েছিলাম। কাল রাত পর্যন্ত আমরা এখানেই ছিলাম। সকলকে বাঁচানই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু, অনেককে বাঁচানো যায়নি। বাবা- না পেয়ে শিশুদের কান্না ভুলতে পারছি না। সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আবার ট্রেন চলবে। কিন্তু, আমরা বয়ে বেড়াব অভিশপ্ত ট্রেন দুর্ঘটনার স্মৃতি। মৃত্যুর মুখে পড়ে থাকা অসহায় মানুষের হাহাকার।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Kanchanjunga Accident: দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে লোকো পাইলট অনিলের জীবন, জানেনই না সহকর্মী মনু

    Kanchanjunga Accident: দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে লোকো পাইলট অনিলের জীবন, জানেনই না সহকর্মী মনু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালে একইসঙ্গে মালগাড়ির ইঞ্জিনের উঠেছিলেন লোকো পাইলট অনিল কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারি লোকো পাইলট মনু কুমার। অভিশপ্ত মালগাড়িটি শিলিগুড়ির রাঙাপানি এলাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে গিয়ে ধাক্কা মারে। আর তাতেই সব কিছু শেষ হয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় (Kanchanjunga Accident) অনিল কুমারের মৃত্যু হয়। আর গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মনু কুমার।

    সহকর্মীর মৃত্যুর খবর কানে পৌঁছয়নি (Kanchanjunga Accident)

    হাসপাতালের বেডে শুয়ে বড় কিছু ঘটেছে তা বুঝতে পেরেছিলেন মনু কুমার। তবে, তাঁর চোট গুরুতর হওয়ায় দুর্ঘটনার (Kanchanjunga Accident) বিষয়ে তাঁকে কেউ খুব বেশি কিছু বলছেন না। তাই, তাঁর সহকর্মীর মৃত্যুর খবর কানে পৌঁছয়নি। কিন্তু, আন্দাজ করেছিলেন। বড় কিছু তো ঘটেইছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তখনও নিজের সহকর্মীর খোঁজ নিচ্ছিলেন মনু। আশঙ্কা করছিলেন কী হয়েছে ঠিক! তবে সেটা বুঝতে পারছিলেন না তিনি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে চোখ বন্ধ করে কিছু একটি চিন্তা করছেন। তবে, তিনি খুব বেশি কথা বলছেন না।

    আরও পড়ুন: “সুরক্ষা কবচ কোনও মাদুলি নয়”, রেল দুর্ঘটনায় মন্তব্য নিয়ে মমতাকে তুলোধনা সুকান্তর

    দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়ে নিয়েছে লোকো পাইলট অনিলের জীবন

    জানা গিয়েছে, একসঙ্গেই যাত্রা শুরু করেছেন মালগাড়ির অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট মনু কুমার এবং লোকো পাইলট অনিলবাবু। অনেকখানি পথ গিয়েছিলেন একসঙ্গে। কিন্তু, বাধ সাধল দুর্ঘটনা (Train Accident)। গুরুতর আহত অবস্থায় মনু শুয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালের বেডে। আর অনিলবাবু নেই। দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তাঁর প্রাণ। বেডে শুয়ে মনু কুমার বলেন,”‘ড্রাইভার সাহাব ক্যাসে হ্যায়”। অপর প্রান্ত থেকে উত্তর এল, “এখনও ওঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।” এই উত্তর শুনে বাকিটা বুঝতে অসুবিধা হল না হল তাঁর। চোখ বুঝলেন। আর কোনও প্রশ্ন করলেন না। হয়ত তিনি বুঝেই গিয়েছেন, তাঁর সহকর্মী আর নেই। তাই, আর কিছু বললেন না। মনু শুধু বললেন, “আমি কিচ্ছু জানি না। মোবাইল নম্বর মনে নেই। আমার কিছু মনে পড়ছে না।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Kanchanjunga Express Accident: দুই গাড়ির চালকের কাছে ছিল ‘কাগুজে অনুমতি’! কার ভুলে এমন বিপদ?

    Kanchanjunga Express Accident: দুই গাড়ির চালকের কাছে ছিল ‘কাগুজে অনুমতি’! কার ভুলে এমন বিপদ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবারের কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার (Kanchanjunga Express Accident) কারণ নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি রেল কর্তৃপক্ষ। রেল সূত্রে খবর, সোমবার ভোর থেকেই রাঙাপানি এবং চটের হাট অংশে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা বিকল। সেকারনেই ওই অংশে ট্রেন চলাচল হচ্ছিল কাগুজে সিগন্যালে। রেলের ভাষায় যাকে বলে পেপার লাইন ক্লিয়ার টিকিট। রেলকর্মীদের একাংশের মতে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া মালগাড়ির চালক সিগন্যাল মানেননি। যার ফলেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। 

    দুই গাড়ির চালকের কাছে ছিল ‘কাগুজে অনুমতি’

    আগেই জানা গিয়েছিল যে, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে (Kanchanjunga Express Accident) ‘টিএ ৯১২’ অর্থাৎ ম্যানুয়াল মেমো দেওয়া হয়েছিল। তবে রেল সূত্রে খবর, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের মতোই মালগাড়ির চালককেও ‘টিএ ৯১২’ কাগজ দেওয়া হয়েছিল। তাতেই উল্লেখ ছিল, কোন কোন সিগন্যাল ভেঙে গাড়ি চালাতে পারবেন চালক। কোথা থেকে কতটা অবধি এই ছাড়পত্র কার্যকর থাকবে, তারও উল্লেখ ছিল। মালগাড়ির দুই চালক ও গার্ডের কাছেও ছিল সেই ছাড়পত্র। সেই ছাড়পত্রে রাঙাপানি থেকে চটের হাট পর্যন্ত মোট ৯টি লাল সিগন্যাল ভাঙার অনুমতি ছিল মালগাড়ির চালকের কাছে।

    আরও পড়ুন: অভাবনীয় অঘটন! স্লোভাকিয়ার কাছে ০-১ ব্যবধানে হার বেলজিয়ামের

    দুর্ঘটনার পিছনে উঠে আসছে রেলের চূড়ান্ত গাফিলতির ছবি

    জানা গিয়েছে, যে মালগাড়িটি কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে ধাক্কা (Kanchanjunga Express Accident) মারে, সেই মালগাড়িটি মোট ৪টি সিগনাল ফেল করেছে। যার মধ্যে দুটি ছিল রেড সিগন্যাল। অন্যদিকে রাঙাপানি স্টেশন থেকে পেপার ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে। সেই অনুযায়ী কাঞ্চনজঙ্ঘা রাঙাপানি স্টেশন থেকে ছেড়ে জলপাইগুড়ি স্টেশনের দিকে এগোচ্ছিল। আর তখনই সিগন্যাল ভেঙে চলা মালগাড়ির সঙ্গে ঘটে দুর্ঘটনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি দোষ ছিল তাঁর? যদি মালগাড়ির চালকের কাছে কাগুজে অনুমতি থাকে তবে গলদ কোথায় ছিল?

    এই দুর্ঘটনায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে ধাক্কা (Kanchanjunga Express Accident) মারে মালগাড়িটি। মালগাড়ির ধাক্কায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছন দিকের ২টি পারসেল কামরা ও একটি যাত্রীবাহী কামরা (গার্ড কোচ) লাইনচ্যুত হয়ে যায়। একটি কামরা সোজা মালগাড়ির ইঞ্জিনের উপর উঠে যায়। কিন্তু দুটি ট্রেনের কাছেই যদি কাগজে লেখা অনুমতি থাকে, এবং তারা তা মেনেই চালিয়ে থাকেন, তাহলে এই দায় কার? রয়ে যাচ্ছে ধোঁয়াশা। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Train Accident: মেয়ের জন্মদিনে বালিগঞ্জের বাড়িতে আর ফেরা হল না, শুভজিতের নিথর দেহ শিলিগুড়ির মর্গে

    Train Accident: মেয়ের জন্মদিনে বালিগঞ্জের বাড়িতে আর ফেরা হল না, শুভজিতের নিথর দেহ শিলিগুড়ির মর্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেয়ের জন্মদিন পালনের জন্য বাড়িতে আনন্দ উৎসবের তোড়জোড় চলছিল। মেয়ের কথা মেনে তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁচ্ছাতে অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে চড়ে বসেছিলেন কলকাতার বালিগঞ্জের শুভজিৎ মালি। আর মেয়ের আবদার রাখতে পারলেন না শুভজিৎ। শিলিগুড়িতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার (Train Accident) খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে, মৃত্যু সংবাদ বাড়িতে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে।

    মেয়ের জন্মদিনে আর ফেরা হল না, শুভজিতের নিথর দেহ শিলিগুড়ির মর্গে (Train Accident)

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভজিতবাবু একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কাজের সূত্রে প্রায়শই ভিন রাজ্যে যেতে হয় তাঁকে। সম্প্রতি গিয়েছিলেন নাগাল্যান্ডে। গিয়েছিলেন চার চাকার গাড়ি চালিয়ে। সেখানে গাড়ি সাপ্লাই দিয়ে ফিরছিলেন কলকাতায়। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন। গাড়ি নিয়ে ভিন রাজ্যে যান, সাপ্লাই দিয়ে আবার ফিরে আসেন। কিন্তু, এবার মেয়ের আবদার মেটাতে দ্রুত বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনে চেপেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কারণ, বাড়িতে ১১ বছরের মেয়ে রয়েছে তাঁর। সোমবারই ছিল মেয়ের জন্মদিন। ছোট্ট মেয়েটা আবদার করেছিল, বাবা বাড়ি এলে তবেই কেক কাটবে। সেই টানেই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার জন্য উঠেছিলেন অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে। কিন্তু, আর মেয়ের সঙ্গে দেখা হল না। মেয়ের জন্মদিনও উদযাপন করা হল না। নিউ জলপাইগুড়ি ছেড়ে আসার পর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় (Train Accident) কাড়ল কলকাতার শুভজিৎ মালির প্রাণ। তাঁর নিথর দেহ শিলিগুড়িতে (Siliguri) উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পড়ে রয়েছে। বালিগঞ্জের জামির লেনের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল আর স্বজন হারানোর যন্ত্রণা।

    আরও পড়ুন: “সুরক্ষা কবচ কোনও মাদুলি নয়”, রেল দুর্ঘটনায় মন্তব্য নিয়ে মমতাকে তুলোধনা সুকান্তর

    মেয়ের জন্মদিনে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলেছিল

    স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী। তিনি বলেন, “রবিবার রাতেও ফোন ওর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। মেয়ের জন্মদিন নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জন্মদিনে বাবা আসছে শুনে মেয়েও খুব খুশি ছিল। বাড়িতে ফিরে ঘুরতে যাওয়ার কথাও বলেছিল। তবে, সোমবার সকালে ও ট্রেনে ওঠার পর ফোন করেনি। আমার সঙ্গে আর কথা হয়নি। এরপরই ট্রেন দুর্ঘটনার (Train Accident) খবর পাই। ফলে, সারাক্ষণ টিভির পর্দায় নজর ছিল। অবশেষে সব শেষ।” এরপর কান্নায় চোখ বুজে এল তাঁর।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Rail Accident: “সুরক্ষা কবচ কোনও মাদুলি নয়”, রেল দুর্ঘটনায় মন্তব্য নিয়ে মমতাকে তুলোধনা সুকান্তর

    Rail Accident: “সুরক্ষা কবচ কোনও মাদুলি নয়”, রেল দুর্ঘটনায় মন্তব্য নিয়ে মমতাকে তুলোধনা সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার রাতেই রেল দুর্ঘটনায় (Rail Accident) জখমদের দেখতে শিলিগুড়ি যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও জখমদের পাশে থাকার বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি গিয়ে রেলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আর এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীকে রীতিমতো তুলোধনা করেন সুকান্ত মজুমদার।

    সুরক্ষা কবচ কোনও মাদুলি নয় (Rail Accident)

    কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় (Rail Accident) রেলকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলকে দুষে মমতা বলেন, ‘আমি অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস তৈরি করে দিয়ে এসেছিলাম। এখন রেলের বাজেট নেই, উঠিয়ে দিয়েছে। রেল কার্যত অনাথ হয়ে গিয়েছে। এখন যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের কোনও খেয়াল রাখা হয় না।’ মমতার এই বক্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “অ্যান্টি কোরাপশন ডিভাইস বা সুরক্ষা কবচ কোনও মাদুলি নয়। যে গলায় পরে নিলেই হয়ে গেল। এটি একটি যথেষ্ট জটিল ব্যবস্থা। সারা দেশেই দ্রুততার সঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা চলছে।” এদিন তিনি আরও বলেন, “হিউম্যান এররের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে, ইচ্ছে করে কেউ দুর্ঘটনা ঘটাননি। কোনও কারণে মালগাড়ির চালক সিগন্যাল মিস করে থাকতে পারেন। তবে, বিস্তারিত তদন্ত হলে দুর্ঘটনার কারণ বিশদে জানা যাবে। রেল সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য সব থেকে বেশি খরচ করা হয়।”

    আক্রান্তদের পাশে রাজ্যপাল

    সোমবার সন্ধ্যায় রেল দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপাল বলেছেন, ‘এই রেল দুর্ঘটনা (Rail Accident) অবশ্যই দুঃখজনক। তবে, পরিস্থিতি এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাঁদেরকে সবরকম চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ একবছরের মাথায় করমণ্ডলের স্মৃতি ফিরল ফাঁসিদেওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘায়। শিলিগুড়ির শিয়ালদামুখী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পিছনে মালগাড়ির ধাক্কায় লাইনচ্যুত হয় এক্সপ্রেস ট্রেনের কামরা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Kanchanjunga Express: আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তি! শিয়ালদা পৌঁছল দুর্ঘটনার কবলে পড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস

    Kanchanjunga Express: আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তি! শিয়ালদা পৌঁছল দুর্ঘটনার কবলে পড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিয়ালদা (Sealdah) স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে রাত ৩টে ২০ মিনিট নাগাদ পৌঁছল দুর্ঘটনার কবলে পড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস (Kanchanjunga Express)। সোমবার এনজেপির কাছে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল এই ট্রেনেরই দু’টি বগি। এদিন ট্রেন যখন শিয়ালদা ঢোকে, প্ল্যাটফর্ম চত্বর রেল পুলিশে ঠাসা। ছিলেন রেলের কর্তারা, ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও স্নেহাশিস চক্রবর্তী। দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে অনুভব করেছেন এই ট্রেনের সুস্থ যাত্রীরা। তাই রাতে শহরে ফিরে আতঙ্কের পাশাপাশি অনেক যাত্রীর মুখেই ছিল স্বস্তির ছাপ।

    রেলের বিবৃতি

    সোমবার রাতে ভারতীয় রেলের তরফে জানানো হয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজন যাত্রী আছেন। সেইসঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের (Kanchanjunga Express) গার্ড এবং মালগাড়ির চালকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন মালগাড়ির সহকারী চালক। নয়জনের গুরুতর আঘাত লেগেছে। অল্পবিস্তর আঘাত লেগেছে ৩২ জনের। সোমবার সকাল পৌনে নটা নাগাদ জলপাইগুড়ির রাঙাপানি স্টেশন পেরোনোর পরেই মালগাড়ির সঙ্গে ধাক্কা হয় ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের। পিছন থেকে এসে ধাক্কা মারে মালগাড়িটি। কাঞ্জনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের তিনটি কামরা দুমড়ে মুচরে গিয়েছিল। মালগাড়ির চালক, লোকো পাইলট এবং কাঞ্জনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ড ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বগিগুলি সরিয়ে বাকি বগিগুলিকে নিয়ে প্রায় বিকেলের দিকে রওনা দিয়েছিল ট্রেনটি। আলুয়াবাড়ি স্টেশনে যাত্রীদের খাবার এবং জল দেওয়া হয়।

    আরও পড়ুন: শিলিগুড়িতে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা, কাঞ্চনজঙ্ঘায় ধাক্কা মালগাড়ির, মৃত ৮, জখম ৬০

    দুর্ঘটনার কারণ

    দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে রেলওয়ে বোর্ডের সিইও রেখা বর্মা সিনহা দাবি করেছেন যে মালগাড়ির চালক সিগন্যাল না মেনেই এগিয়ে গিয়েছিলেন। তার জেরে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে আশ্বাস দিয়েছেন রেলওয়ে বোর্ডের সিইও। মালগাড়ির চালকের অবশ্য মৃত্যু হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের চিফ কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি জনককুমার গর্গের নেতৃত্বে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হবে তদন্ত (Kanchanjunga Express)। কেউ যদি দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনও তথ্য জানাতে চান, তাহলে তাঁরা সেটা করতে পারবেন। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের অফিসে সেই কমিশন কাজ করবে। সেখানে গিয়েও তথ্য জানানো যাবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Rail Accident: শতাব্দী এক্সপ্রেসের কল বুক ফিরিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার ডিউটি নেওয়া কাল! মৃত্যু হল গার্ডের

    Rail Accident: শতাব্দী এক্সপ্রেসের কল বুক ফিরিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার ডিউটি নেওয়া কাল! মৃত্যু হল গার্ডের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বামী আশিস দে-র মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর স্ত্রী গীতিকা দে। রবিবার রাতেও স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে ফুচকা খেয়েছেন। বাড়িতে এসে দুজনে গান করেছেন। সোমবার সকালেই ডিউটি যাওয়ার সময় দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছিলেন গীতিকাদেবী। স্বামী চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব শেষ। শিলিগুড়ির কাছে রাঙাপানি এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় (Rail Accident) কেড়ে নিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ডের জীবন।

    শতাব্দী এক্সপ্রেসের কল বুক ফিরিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার ডিউটি নেওয়া কাল! (Rail Accident)

     অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গার্ড ছিলেন আশিস দে। সোমবার রাঙাপানি এবং নিজ বাড়ির মাঝে ট্রেন দুর্ঘটনাটি (Rail Accident) ঘটে। শিলিগুড়ি পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বলাকা মোড়ে থাকতেন আশিসবাবু। খবরে পেয়ে  উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাগলের মতো ছুটে আসেন তাঁর স্ত্রী গীতিকাদেবী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে। তাঁদেরকে কেউ সামলাতে পারছিলেন না। গীতিকাদেবী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “এদিন সকালে শতাব্দী এক্সপ্রেস নিয়ে যাওয়ার কল বুক এসেছিল। ওই ডিউটি নিলে আর কিছু হত না। সেই ডিউটি ফিরিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের ডিউটি নেয়। পরে, ফোনে আমাকে এসব ও জানিয়েছিল। কে ভেবেছিল এই সিদ্ধান্তে আমার সংসার, স্বপ্ন সবকিছুই তছনছ হয়ে যাবে।”

    আরও পড়ুন: শিলিগুড়িতে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা, কাঞ্চনজঙ্ঘায় ধাক্কা মালগাড়ির, মৃত ৮, জখম ৬০

    দুজনে একসঙ্গে গানও করেছিলেন

    গীতিকাদেবী আরও বলেন, “রবিবার আমরা ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে কত গল্প করলাম। রাতে বাড়ি ফিরে ডিমের ওমলেট বানাই। ও কোনওদিন রান্না করত না। ভালো গান গাইত। গান বলতে পাগল ছিল। অনেকদিন পর আমরা দুজনে বসে রবিবার রাতে অনেক্ষণ গান করি। বাড়িতে একটা সুন্দর আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়ে যাবে ভাবতেও পরিনি। আশিস সকালে ডিউটি যাবে। সেই মতো উঠে সব কিছু ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম। ডিউটিতে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা বাদে সেই মানুষটা আর নেই, তা ভাবতেই পারছি না।” এরপর তিনি ফের কান্নায় ভাসালেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share