Tag: rajnath singh

rajnath singh

  • Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    Hypersonic Glide Missile Test: হাইপারসনিক যুগে ভারতের বড় লাফ! নতুন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তিতে বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। শুক্রবার ওড়িশা উপকূলের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের (Long-Range Anti-Ship Missile বা LR-AShM) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে, যা দেশের সমুদ্র প্রতিরক্ষার পরিসর আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক।

    গতি ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি…

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ম্যাক ৫ (শব্দের পাঁচগুণ বা আনুমানিক ঘণ্টায় ৬১০০ কিমি)-এর বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। ফলে আধুনিক যুদ্ধজাহাজে থাকা ইন্টারসেপশন সিস্টেম বা প্রতিরোধী প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত টার্মিনাল গাইডেন্স সিস্টেমের নির্ভুলতাও যাচাই করা হয়েছে। উৎক্ষেপণ থেকে চূড়ান্ত আঘাত পর্যন্ত সব মিশন উদ্দেশ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল মিড-কোর্স ম্যানুভার এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চগতির ফ্লাইট।

    বিরাট সাফল্য ভারতের…

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি অ্যান্টি-শিপ মিসাইল (LR-AShM) হল একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র, যা স্থির ও চলমান—দুই ধরনের লক্ষ্যবস্তুকেই নিশানা করতে পারে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাভিওনিক্স এবং উচ্চ-নির্ভুলতার সেন্সর। ক্ষেপণাস্ত্রটি আধা-ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ (quasi-ballistic trajectory) অনুসরণ করে এবং সর্বোচ্চ ম্যাক ১০ (শব্দের দশ গুণ) পর্যন্ত গতি অর্জন করতে পারে, যদিও গড় গতি থাকে প্রায় ম্যাক ৫। একাধিক ‘স্কিপ’ কৌশল, কম উচ্চতায় উড়ান এবং দ্রুত গতির কারণে শত্রুপক্ষের রাডারে এটি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

    হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র..

    দুই-ধাপের সলিড রকেট মোটরের সাহায্যে চালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে বুস্টারের মাধ্যমে গতি অর্জন করে। এরপর প্রাথমিক ধাপ শেষে এটি পৃথক হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় ধাপে এটি ইঞ্জিনবিহীন গ্লাইড পর্যায়ে (unpowered glide phase) প্রবেশ করে, তারপর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই সফল পরীক্ষা ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আরও একবার সামনে আনল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দূরপাল্লায় শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সম্পদ ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গেল।

    দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্প….

    চলতি সপ্তাহের গোড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে (National Security Summit) বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডিআরডিও-র (DRDO) প্রধান ড. সমীর ভি কামাত জানিয়েছিলেন, ভারত বর্তমানে দুটি পৃথক হাইপারসনিক প্রকল্পে কাজ করছে— একটি হল হাইপারসনিক গ্লাইড মিসাইল (Hypersonic Glide Missile) এবং দ্বিতীয়টি হাইপারসনিক ক্রুজ মিসাইল (Hypersonic Cruise Missile)। তিনি বলেন, “হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রে এয়ার ব্রদিং স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন (air-breathing scramjet engine) থাকে এবং পুরো উড়ানের সময় সেটি চালু থাকে। অন্যদিকে হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র বুস্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক গতি পেয়ে পরে কোনও প্রোপালসান (ইঞ্জিন) ছাড়াই গ্লাইড করে বা বাতাসে ভেসে যায়।” কামাত আরও জানান, গ্লাইড মিসাইল প্রকল্পটি তুলনামূলকভাবে বেশি উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, “গ্লাইড মিসাইলই আগে আসবে।”

    কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স গঠনের ভাবনা

    একই সঙ্গে তিনি একটি সম্ভাব্য কনভেনশনাল মিসাইল ফোর্স (conventional missile force) গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, স্বল্প, মধ্যম এবং প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলের (ballistic missile) পাশাপাশি ক্রুজ মিসাইল (cruise missile) এবং হাইপারসনিক মিসাইল (hypersonic missile) সহ বহুমুখী অস্ত্রভান্ডার দরকার, যাতে বিভিন্ন কৌশলগত ব্যবহারের (tactical application) প্রয়োজন অনুযায়ী জন্য আলাদা আলাদা আঘাত হানার ক্ষমতা (strike capability) তৈরি হয়।

    “ঐতিহাসিক অর্জন” বলেছেন রাজনাথ

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে ভারত ধারাবাহিক অগ্রগতি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে দীর্ঘ-পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় ডিআরডিও। এর আগে ২০২০ সালে হাইপারসনিক টেকনোলজি ডেমোন্সট্রেটর ভেহিক্যল (Hypersonic Technology Demonstration Vehicle বা HSTDV)-এর সফল পরীক্ষা এবং পরবর্তী স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিনের পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য এনে দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এর আগেই এই ধরনের সাফল্যকে “ঐতিহাসিক অর্জন” বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর কথায়, এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই নির্বাচিত কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, যাদের হাতে উন্নত হাইপারসনিক প্রযুক্তি রয়েছে।

  • Rajnath Singh in Germany: জার্মানি সফরে রাজনাথ, ১ লক্ষ কোটি টাকার সাবমেরিন চুক্তি কি এবার পাকা?

    Rajnath Singh in Germany: জার্মানি সফরে রাজনাথ, ১ লক্ষ কোটি টাকার সাবমেরিন চুক্তি কি এবার পাকা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জার্মানি-র মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের সরকারি সফরে জার্মানি যাচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সি (Rajnath Singh)। এই সফরে তিনি জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস (Boris Pistorius)-সহ সে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে ভারত–জার্মানি সাবমেরিন চুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও গতি দেবে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

    ‘প্রজেক্ট ৭৫আই’ প্রকল্প কী

    ভারত–জার্মানি সাবমেরিন চুক্তি ‘প্রজেক্ট ৭৫আই’ (P-75I)-এর অধীনে ভারতে ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত সাবমেরিন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৭০ হাজার কোটি থেকে ৯৯ হাজার কোটি টাকা (প্রায় ৮–১২ বিলিয়ন ডলার)। এই সাবমেরিনগুলি জার্মান প্রতিরক্ষা সংস্থা থাইসিনক্রাপ মেরিন সিস্টেমের (Thyssenkrupp Marine Systems) সহযোগিতায় নির্মিত হওয়ার কথা। এর ফলে ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তি আরও বাড়বে। এর আগে জার্মানি থেকে শিশুমার শ্রেণির ৪টি ডিজেল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ কিনেছিল ভারতীয় নৌসেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, এ বারও জার্মানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ডিজেল-বিদ্যুৎ ডুবোজাহাজ তৈরি হবে মুম্বইয়ের ‘মাঝগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড’-এ (Mazagon Dock Shipbuilders Limited) তৈরি হবে ডুবোজাহাজগুলি।

    বাড়বে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা শক্তি

    প্রজেক্ট-৭৫আই হল ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) একটি বড় উদ্যোগ, যার লক্ষ্য দেশের সাবমেরিন শক্তিকে আধুনিকীকরণ করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ছয়টি অত্যাধুনিক ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন নির্মাণ করা হবে। এই সাবমেরিনগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (AIP) প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিনগুলো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত জলের নিচে ভেসে থাকতে পারবে, যেখানে সাধারণ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনকে ১-২ দিন অন্তর উপরে উঠতে হয়। এছাড়া, এই সাবমেরিনগুলোতে আধুনিক টর্পেডো এবং ব্রহ্মস (BrahMos)-এর মতো অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল বসানো হবে, যা শত্রু জাহাজ এবং স্থলভাগে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম।

    চিনের সঙ্গে পাল্লা

    এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরে চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একইসঙ্গে, জার্মানির কাছ থেকে এআইপি প্রযুক্তি পাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে ভারত নিজস্ব উন্নত সাবমেরিন তৈরির ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য পাবে। প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় দশক আগে ফরাসি সংস্থা ডিসিএনএস-এর সঙ্গে নকশা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চুক্তির ভিত্তিতে ৬টি কলভরী শ্রেণিক স্করপিন ডুবোজাহাজ বানানো শুরু করেছিল ভারত। সেই প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রজেক্ট ৭৫’। ওই গোত্রের প্রথম স্টেলথ ডুবোজাহাজ আইএনএস কলভরীকে ২০১৫ সালের অক্টোবরে নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ২০২০-র নভেম্বরে এই গোত্রের শেষ ডুবোজাহাজটি হাতে পেয়েছিল নৌসেনা। এবার সামগ্রিকভাবে, প্রজেক্ট-৭৫আই ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

    এই সফরে কী কী নিয়ে আলোচনা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক স্তরে পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার এবং সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ড্রোন প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়াও, দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার একটি রোডম্যাপ এবং রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে যৌথ প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ সাত বছর পর কোনও ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জার্মানি সফর যাচ্ছেন। এর আগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) জার্মানি সফর করেছিলেন। অন্যদিকে, বরিস ২০২৩ সালের জুনে ভারতে এসে রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে ভারত-জার্মান প্রতিরক্ষা চুক্তি সংক্রান্ত বিস্তৃত আলোচনা করেন।

    সমুদ্র-পথে প্রস্তুত ভারত

    সম্প্রতি রাজনাথ জানান, বর্তমানে অস্থির বিশ্বে জলপথেও প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়িয়ে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে চায় দিল্লি।  পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে রাজনাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি ‘ভারত মেরিটাইম ইন্স্যুরেন্স পুল’ গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ১২,৯৮০ কোটি টাকার সার্বভৌম গ্যারান্টি সহ এই প্রকল্প ভারতীয় সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য ধারাবাহিক ও সাশ্রয়ী বিমা সুবিধা নিশ্চিত করবে। অস্থির সামুদ্রিক করিডর দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ভারতীয় বাণিজ্য যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত ও অস্থির। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি শান্ত হলেও বা পুনরায় উত্তেজনা বাড়লেও— উভয় অবস্থার জন্যই ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে”।

  • India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার দিকে নজর দিলে পাকিস্তানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। পাকিস্তানের তরফে কলকাতায় হামলার হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif) মন্তব্য করেছিলেন, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে ইসলামাবাদ কলকাতায় হামলা চালাতে পারে। সেই মন্তব্যেরই জবাবে ব্যারাকপুরে এক জনসভা থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত হয়নি। ৫৫ বছর আগে তারা এর ফল ভুগেছে, যখন পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এবার যদি বাংলার দিকে নজর দেয়, তবে কত ভাগে ভাঙবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন।”

    ইসলামাবাদকে জবাব

    ৫৫ বছর আগে কী হয়েছিল মনে আছে তো? ভোটপ্রচারে ব্যারাকপুরে এসে পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বললেন, ‘৫৫ বছর আগের কথা মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের। কী করে দু’টুকরো হয়েছিল! আবার কিছু করার চেষ্টা করলে পরিণতি কী হবে, সেটা ওরাই বুঝতে পারবে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যখন ভারতের সামরিক পদক্ষেপের পর পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। এদিন তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সর্বদা প্রস্তুত। পাকিস্তান যদি কোনও রকম ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ করে, তবে ভারত নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না।

    কী বলেছিল পাকিস্তান

    গত বৃহস্পতিবার ভোটমুখী কেরালায় দলের প্রচারে গিয়ে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন রাজনাথ। বলেছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান আবার কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হবে। রাজনাথের এই মন্তব্যের পরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের সাজানো হামলার ছক কষছে। তাতে ভারতীয়দের পাশাপাশি ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানিদেরও ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গেই খোয়াজা কলকাতাকে টেনেছেন। সেই সূত্রে তাঁর দাবি, ‘এর পর কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে পাকিস্তান!’ এ বার তার জবাব দিলেন রাজনাথ। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ভারত-পাক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

  • Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত চলছে। ফলে সতর্ক এশিয়া মহাদেশের দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে কূটকৌশল অবলম্বন করে পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না ভারত। প্রতিবেশী দেশকে স্পষ্ট বার্তা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। বৃহস্পতিবার কেরলের সৈনিক সম্মান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফায়দা তুলে পাকিস্তান যদি ভারতের সীমান্তে কোনও অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে, তবে ভারতের জবাব হবে অভাবনীয় এবং চূড়ান্ত। কেরলে জওয়ানদের সম্মেলনে রাজনাথ (Rajnath Singh) বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিবেশী কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া হবে দৃঢ়, নজিরবিহীন।’’

    কেন এই আগাম হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তান কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করছে কি না সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দেননি রাজনাথ। তবে তিনি এই মন্তব্য করলেন এমন সময় যখন, পাকিস্তানের মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভারত নাকি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিকল্পনা করছে। তবে, এই বিষয়ে কোনও প্রমাণ নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি করাণ। গত বছরের এক রক্তাক্ত স্মৃতি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ পহেলগাঁও হামলার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর জঙ্গিদের গুলিতে ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর ভারত যে প্রত্যাঘাত করেছিল, ইতিহাসে তা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত।

    ভারতের প্রত্যাঘাত মনে রাখা উচিত

    রাজনাথ সিং এদিন অপারেশন সিঁদুর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দেন যে, মাত্র ২২ মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে ভারতের বীর সেনারা পাকিস্তানকে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। তিন দিনব্যাপী সেই অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা নয়টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের সেনারা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যা এখনও মেরামত করে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ। এরপর পাকিস্তন ১০ মে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়। রাজনাথের কথায়, ‘‘উরি আক্রমণের পর সার্জিক্যাল হামলা থেকে অপারেশন সিঁদুর, আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বারবার প্রত্যাঘাত করেছি। সেই কথা প্রতিবেশী দেশের মনে রাখা উচিত।’’ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এদিন সাফ বলেন, ভারত এখন আর শুধু আত্মরক্ষায় বিশ্বাসী নয়, প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে ঢুকে আঘাত করতেও জানে।

    মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের

    যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাকিস্তান নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করেছে। কিন্তু ইরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। এতে মুখ পুড়েছে ইসলামাবাদের। ধারণা করা হচ্ছে, এর থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান কোনও ধরনের প্রক্সি যুদ্ধ বা সীমান্তে প্ররোচনামূলক কাজ করতে পারে—এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই রাজনাথ সিং আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়ে যায়নি, অর্থাৎ ভারত সবসময় সতর্ক এবং প্রয়োজনে ফের একইরকম কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না।

     

     

     

     

  • All Party Meet: ‘পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয় ভারত’, সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানাল কেন্দ্র

    All Party Meet: ‘পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয় ভারত’, সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভারত কোনওভাবেই পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয়।’ বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে (All Party Meet) সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্র। পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত চলছে, সেখানে পাকিস্তানের কথিত মধ্যস্থতার (Pakistan) প্রসঙ্গে একথা জানিয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আটজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিরোধী দলের একাধিক সদস্য। বৈঠক বয়কট করে তৃণমূল।

    বিরোধীদের প্রশ্ন, জয়শঙ্করের উত্তর (All Party Meet)

    বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে আর ভারত নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “১৯৮১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ব্যবহার করে আসছে। তাই এই ধরনের মধ্যস্থতা নতুন কিছু নয়।” এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা কোনও দালাল রাষ্ট্র নই।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে আলাপচারিতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর জানান, প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। কারণ এই সংঘাত সবার পক্ষেই ক্ষতিকর। সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসের প্রশ্ন ছিল, “সরকার কি এই সংঘাতে নীরবতাকেই কূটনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে?” জয়শঙ্কর বলেন, “নয়াদিল্লি নীরব নয়, বরং আমরা মন্তব্য করছি এবং প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।” সূত্রের খবর, ব্রিটাস উল্লেখ করেন যে কাতার, যেখান থেকে ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তারাও স্বীকার করেছে উৎপাদন স্থিতিশীল করতে তাদের বহু বছর লাগবে (All Party Meet)।

    এনসিপি (এসপি) সাংসদের প্রশ্ন

    এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের প্রশ্ন ছিল, “ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্পর্কের বিশেষ সুবিধা কী?” উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা অংশীদার। ইরানও আমাদের আচরণে সন্তুষ্ট।” বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ভারত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত শোক প্রকাশ করেনি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ইরানি দূতাবাস খোলার পরপরই বিদেশসচিব সেখানে গিয়ে শোকপুস্তকে স্বাক্ষর করেছিলেন (Pakistan)। সরকার এও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করাই প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সরকার এখন পর্যন্ত সফলই হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে (All Party Meet)।

    সংসদে আলোচনার দাবি

    বিরোধীরা অবশ্য সরকারের দেওয়া উত্তরকে “অসন্তোষজনক” বলে অভিহিত করেন। তাঁরা লোকসভা ও রাজ্যসভা—সংসদের উভয় কক্ষেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানান। সরকারকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার বলেন, “লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলগুলি সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট নয়।” ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অন্তর্ভুক্ত সকল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এদিনের বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও উপস্থিত ছিলেন। বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি বৈঠকে একটি প্রেজেন্টেশন দেন (All Party Meet)। বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী নেতাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেসের তারিক আনোয়ার ও মুকুল ওয়াসনিক, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব এবং বিজু জনতা দলের সাস্মিত পাত্র প্রমুখ (Pakistan)। তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেননি।

     

  • PM Modi: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র, কারা কারা উপস্থিত থাকবেন?

    PM Modi: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র, কারা কারা উপস্থিত থাকবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট (West Asia Conflict) নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র। বুধবার বৈঠক হবে বিকেল ৫টায়। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। উপস্থিত থাকতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও।

    সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক কেন্দ্রের (PM Modi)

    পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই বৈঠক (PM Modi) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের ওপর। উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। মঙ্গলবারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিআরডিওর চেয়ারম্যান সমীর কামাত-সহ অন্যরা। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির (CCS) বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের পরিস্থিতি এবং তার মোকাবিলায় নেওয়া প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলি পর্যালোচনা করেন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মন্ত্রী ও সচিবদের একটি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশও দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় ভাষণের পর আয়োজিত হচ্ছে এই সর্বদলীয় বৈঠক। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “জ্বালানি, সরবরাহ ব্যবস্থা, সার-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশল তৈরির জন্য সরকার সাতটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী গঠন করেছে, যাতে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাব কমানো যায়।” সোমবার লোকসভায় তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতজনিত কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এজন্য দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রস্তুত থাকতে হবে, যেমনটি কোভিড-১৯ অতিমারির সময় ছিল। পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, ব্যাহত হয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজের অনায়াস যাতায়াত। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে (PM Modi)।

    বৈঠকে থাকছেন না রাহুল

    এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যার ফলে সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচল আরও বিঘ্নিত হয়। এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর (West Asia Conflict)। এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকে হাজির থাকবেন না লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, কেরালায় একটি নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে এই সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। প্রসঙ্গত, এর আগে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেছিল, “সঙ্কট নিয়ে তাঁর বক্তব্য ছিল নিজের প্রশংসায় ভরা আগেভাগেই তৈরি করে দেওয়া একটি লেখা”। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পশ্চিম এশিয়া ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রায় এক কোটি ভারতীয় সেখানে বসবাস ও কাজ করেন। তাছাড়া এই অঞ্চলের সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাবিকও কাজ করেন (PM Modi)।”

    ঐক্যবদ্ধ ও সর্বসম্মত বার্তা দিতেই বৈঠক

    তিনি এও বলেন, “এই বিভিন্ন কারণেই ভারতের উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তাই এই সঙ্কট নিয়ে ভারতের সংসদ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সর্বসম্মত বার্তা বিশ্বে পৌঁছনো অত্যন্ত জরুরি।” ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময়ও হয়েছে তাঁদের মধ্যে। তিনি বলেন, “ভারত দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের এবং শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। হরমুজ প্রণালী খোলা, নিরাপদ এবং সকলের জন্য সহজলভ্য রাখা (West Asia Conflict) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টায় আমরা যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছি (PM Modi)।”

  • BJP: অসমে প্রথম দফায় ৮৮ প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ বিজেপির, কে কোন আসনে?

    BJP: অসমে প্রথম দফায় ৮৮ প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ বিজেপির, কে কোন আসনে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের পর এবার অসমেও প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি (BJP)। অসম বিধানসভার নির্বাচনও হওয়ার কথা এপ্রিলে। সেই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই প্রকাশ হয়েছে প্রার্থী তালিকা (Assam Assembly Polls 2026)।

    ৮৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা বিজেপির (BJP)

    বৃহস্পতিবার মোট ৮৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। তালিকায় বর্তমান মন্ত্রিসভার একাধিক প্রবীণ সদস্যকে রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ফের প্রার্থী হচ্ছেন জলুকবাড়ি থেকে। অর্থমন্ত্রী অজন্তা নিয়োগকে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে গোলাঘাট কেন্দ্রে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন দেমাজি কেন্দ্রের রানোজ পেগু, জাগিরোড কেন্দ্রের পীযূষ হাজারিকা এবং ঢেকিয়াজুলি কেন্দ্রের অশোক সিংহল। প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা তথা বর্তমান নগাঁও কেন্দ্রের সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈকে প্রার্থী করা হয়েছে দিসপুর বিধানসভা কেন্দ্রে। কংগ্রেস থেকে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া আরও এক নেতা ভূপেন কুমার বোড়কে। ভিপুরা কেন্দ্রে পদ্ম প্রতীকে লড়বেন তিনি।

    শহরের আসনে বিশেষ জোর

    বিজেপি শহরের বিভিন্ন আসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। কামরূপ মেট্রোপলিটন ডিস্ট্রিক্টের সব প্রধান আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে জলুকবাড়ি, দিসপুর, গুয়াহাটি সেন্ট্রাল এবং নিউ গুয়াহাটি। এর মাধ্যমে শহুরে ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করার কৌশল স্পষ্ট। উত্তর আসামের উচ্চ অসম অঞ্চলের দুলিয়াজান, তিনশুকিয়া, ডিগবয় এবং ডিব্রুগড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের মনোনীত করেছেন বিজেপির ভোট ম্যানেজাররা। বরাক উপত্যকা অঞ্চলে শিলচর, করিমগঞ্জ উত্তর এবং হাইলাকান্দি আসনে সুপরিচিত স্থানীয় মুখকে প্রার্থী করা হয়েছে (BJP)।

    মহিলা প্রার্থীদের উপস্থিতি

    প্রথম দফার এই তালিকায় মহিলা প্রার্থীদের উপস্থিতি সীমিত হলেও, উল্লেখযোগ্য। প্রথম তালিকায় ৬ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। একুশের নির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন ৭ জন পদ্ম- মহিলা। এঁদের মধ্যে রয়েছেন মাধবী দাস, জ্যোৎস্না কলিতা, নিলীমা দেবী, অজন্তা নেগো, নিশো তেরাংপি এবং রূপালি লাংথাশা। তালিকায় (Assam Assembly Polls 2026) উপজাতীয় এবং সংরক্ষিত আসনগুলিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বোকো-ছায়গাঁও, তামুলপুর, ধেমাজি, মাজুলি, কার্বিআংলং এবং ডিমা হাসাও জেলাগুলিও। প্রথম দফার এই প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতা। অসম বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়াও ছিলেন ওই বৈঠকে (BJP)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে বিজেপি নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করে দিল। এ রাজ্যে তারা ক্ষমতায় রয়েছে। সংগঠনগত শক্তি বাড়িয়ে এবং কৌশলগত অন্তর্ভুক্তির ওপর ভর করে রাজ্যে ক্ষমতার রশি ধরে রাখতে চায় পদ্মশিবির।

     

  • Yogi Adityanath: “সোঁগালে সাধুসন্ত ও ভক্তদের বিশাল সমাবেশ যোগ দিতে পেরে আমি ধন্য”, বললেন যোগী

    Yogi Adityanath: “সোঁগালে সাধুসন্ত ও ভক্তদের বিশাল সমাবেশ যোগ দিতে পেরে আমি ধন্য”, বললেন যোগী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বহু বছর পর হরিয়ানার কাইথল জেলার সোঁগাল গ্রামে সাধুসন্ত ও ভক্তদের বিশাল সমাবেশ হয়েছে। এটি এই জায়গার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।” শনিবার কথাগুলি বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

    কী বললেন যোগী? (Yogi Adityanath)

    সোঁগাল গ্রামে এক ধর্মসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই পবিত্র স্থানে সমবেত সাধুসন্ত ও ভক্তদের আশীর্বাদ গ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করছি।” তিনি বলেন, “বহু বছর পর সোঁগালে এমন বিশাল সংখ্যক সাধুসন্ত ও ভক্ত উপস্থিত হয়েছেন। এই পবিত্র ভূমি, যা প্রতিটি যুগে নিজের প্রভাব দেখিয়েছে, সেখানে আজ এই পবিত্র ভাণ্ডারা ও ধর্মসভার মাধ্যমে আপনাদের দর্শন পাওয়ার এবং আপনাদের মাধ্যমে সেই মহান ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।”

    আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

    আদিত্যনাথ সোঁগালের ভূমিকে আধ্যাত্মিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বলেন, “এই জায়গাটি বহু বছর ধরে ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।” তাঁর মতে, সাধুসন্ত ও ভক্তদের এই ধরনের সমাবেশ দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করে এবং মানুষকে ধর্মবিশ্বাস ও সেবার পথে চলতে প্রাণিত করে। তিনি এও বলেন, “এই ধরনের অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে না, বরং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষকে একত্রিত করে ভক্তদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।” তিনি ধর্মসভা ও ভাণ্ডারা আয়োজনের জন্য আয়োজক ও স্থানীয় ভক্তদের প্রশংসা করেন। এই ধর্মসভায় বিপুল সংখ্যক সাধু, আধ্যাত্মিক নেতা ও অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বক্তৃতার পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছিল ভোজের। ভক্তরা একত্রিত হয়ে প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক আলোচনায় অংশ নেন।

    বাজপেয়ীর স্বপ্ন পূরণে কাজ

    মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধুসন্তদের শ্রদ্ধা জানান এবং ফের তুলে ধরেন ভারতের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্বের কথা। এর আগে শুক্রবার, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও লখনউয়ের সাংসদ রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে লখনউয়ে ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রিন করিডর প্রকল্পের দু’টি ধাপের উদ্বোধন করেন। এটি রাজ্যের রাজধানীতে নগর পরিবহণ উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি আসন্ন আরও দু’টি ধাপের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রাজ্য সরকার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে।

     

  • Delhi Police: কীভাবে প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে জেনারেল নারভানের বই? তদন্ত শুরু দিল্লি পুলিশের

    Delhi Police: কীভাবে প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে জেনারেল নারভানের বই? তদন্ত শুরু দিল্লি পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই প্রকাশ্যে চলে আসে ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র একটি কপি (Unpublished Memoir)। অনুমোদন ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ে ওই কপি। বইটি ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের স্মৃতিকথা (Delhi Police)। এই অভিযোগে ৯ ফেব্রুয়ারি মামলা রুজু করে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, আইনি অনুমোদন ছাড়াই বইটির অপ্রকাশিত সংস্করণ অনলাইনে এবং কয়েকটি নির্বাচিত প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।

    অভিযোগ দায়ের পুলিশের (Delhi Police)

    পুলিশ সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং সংবাদ ফোরামে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়। ওইসব তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাধ্যতামূলক অনুমোদন না থাকলেও বইটির প্রি-প্রিন্ট সংস্করণ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তের সময় তদন্তকারীরা কয়েকটি ওয়েবসাইটে একই শিরোনামের একটি টাইপসেট পাণ্ডুলিপির পিডিএফ সংস্করণ খুঁজে পান। নথিটি পেঙ্গুইন রানডম হাউস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড কর্তৃক প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে। তারাই এই স্মৃতিকথার তালিকাভুক্ত প্রকাশক। পুলিশ লক্ষ্য করেছে, কিছু অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্মে বইটির চূড়ান্ত প্রচ্ছদ প্রদর্শিত হচ্ছিল, যা থেকে ইঙ্গিত মিলছিল যে বইটি কেনার জন্য উপলব্ধ, যদিও সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও প্রকাশিত হয়নি (Delhi Police)। অপ্রকাশিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত একটি স্মৃতিকথা ঘিরে এই সম্ভাব্য গোপনীয়তা লঙ্ঘনের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, স্পেশাল সেলে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তথ্য ফাঁসের উৎস চিহ্নিত করা এবং অনুমোদনহীন প্রচারের পরিসর নির্ধারণ করতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

    ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’

    ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’তে জেনারেল নারাভানের প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনের বিবরণ রয়েছে। এতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে শুরু করে চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ যাত্রাপথের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মৃতিকথাটিতে তাঁর সামরিক জীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে চিনের সবচেয়ে গুরুতর সামরিক অচলাবস্থার কথাও (Unpublished Memoir)। এই স্মৃতিকথাকে ঘিরে বিতর্ক সংসদের বাজেট-পরবর্তী অধিবেশনে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন লোকসভায় কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী একটি ম্যাগাজিনের নিবন্ধ থেকে অংশবিশেষ পাঠ করেন, যা নাকি জেনারেল নারাভানের অপ্রকাশিত বইয়ের ওপর ভিত্তি করে লেখা (Delhi Police)।

    বিজেপির তীব্র আপত্তি

    রাহুলের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হলেও, বিজেপি নেতৃত্ব তীব্র আপত্তি জানায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের অভিযোগ, জনসমক্ষে প্রকাশ না পাওয়া একটি বইয়ের বিষয়বস্তু সংসদে উল্লেখ করেছেন রাহুল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও সংসদীয় বিতর্কে অপ্রকাশিত প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় (Unpublished Memoir)।” প্রাথমিক গন্ডগোলের কয়েক দিনের মধ্যেই রাহুল সংসদে ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র একটি মুদ্রিত কপি হাতে নিয়ে ফের হাজির হন। তিনি জানান, বইটি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান। সংসদ ভবন চত্বরে বই হাতে রাহুল গান্ধীর ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে (Delhi Police)। তবে এই পর্যায়ে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরেই রয়েছে (Unpublished Memoir)।

  • Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’-এর (White Collar Terror) প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি সতর্ক করে বলেন, মূল্যবোধহীন উচ্চশিক্ষা সমাজের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুক্রবার রাজস্থানের ভোপাল নোবেলস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ এই মন্তব্য করেন। গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    রাজনাথের বক্তব্য (Rajnath Singh)

    রাজনাথ জানান, ওই হামলায় অভিযুক্তরা সকলেই শিক্ষিত ও যোগ্য চিকিৎসক ছিল। এই ঘটনাকে তিনি এমন এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা প্রমাণ করে যে কেবলমাত্র শিক্ষা থাকলেই নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। রাজনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সংযোগ না থাকলে তা সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধের গুরুত্বের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি (Rajnath Singh)।

    ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’

    দেশে বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’। উচ্চশিক্ষিত হয়েও সমাজ ও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছেন এক শ্রেণির মানুষ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “দিল্লির বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে চিকিৎসকও ছিল, এক হাতে ডিগ্রি, আর পকেটে আরডিএক্স। এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল শিক্ষালাভই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও চরিত্রগঠনও (White Collar Terror) জরুরি।” ১০ নভেম্বর দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িতে। ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের। গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর-উন-নবি নামে এক চিকিৎসক। ঘটনার তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরে একটি তথাকথিত ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর সন্ধান পায় (Rajnath Singh)।

    গ্রেফতার ৩ চিকিৎসক

    এই মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই, আদিল রাদার এবং শাহিনা সইদ-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সাফল্য অর্জন নয়, নৈতিকতা, মূল্যবোধ (White Collar Terror) এবং মানবিক চরিত্র গঠনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যে শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি বিনয়, চরিত্রবোধ ও ধর্ম, অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিতে ব্যর্থ, তা কখনও সম্পূর্ণ হতে পারে না।”

    এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Rajnath Singh)। রাজনাথ বলেন, “জঙ্গিরা সব সময় অশিক্ষিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হলেও নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও প্রজ্ঞার অভাব থাকে। এই মূল্যবোধের ঘাটতিই শেষ পর্যন্ত তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।” ধর্ম প্রসঙ্গে রাজনাথ জানান, ধর্ম মানেই শুধু মন্দির, মসজিদ বা গির্জায় প্রার্থনা করা নয়। তাঁর কথায়, “ধর্ম আসলে কর্তব্যবোধ। শিক্ষা যদি ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা সমাজের কোনও কাজে আসে না। অনেক সময় এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণও হতে পারে।”

    উচ্চশিক্ষিতরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।” ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে দেশ (Rajnath Singh)। এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনাথের মতে, ভবিষ্যতের দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে (White Collar Terror)।

LinkedIn
Share